শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সিরিয়ায় হামলায় ইসরায়েল ‘শাস্তি’ পাবে : লেবানন

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২৪ ১২:০৭

লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গ্রুপ মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল সিরিয়ার দামেস্কোতে দেশটির কনস্যুলেট ভবনে হামলায় উচ্চ-পর্যায়ের ইরানী বিপ্লবী গার্ডদের (আইআরজিসি) হত্যার জন্য ‘চরম শাস্তি’ পাবে।

গত ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহ তার মিত্র হামাসের সমর্থনে ইসরায়েলের সাথে প্রায় প্রতিদিনই আন্তঃসীমান্তে গুলি বিনিময় করছে।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অবশ্যই, শত্রুদের শাস্তি ও প্রতিশোধ না নিয়ে এই অপরাধকে ক্ষমা করা যাবে না।’

আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদি এবং আরেকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাদি হাজি রাহিমিসহ সাতজন আইআরজিসি সদস্য নিহত হয়েছে।

ব্রিটেন-ভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে আট ইরানি, দু’জন সিরিয়ান এবং একজন লেবানিজ। এদের সবাই যোদ্ধা।

হিজবুল্লাহ বলেছে, জাহেদি ‘লেবাননে প্রতিরোধের কাজকে বিকাশ ও অগ্রসর করার জন্য বহু বছর ধরে সমর্থন, ত্যাগ এবং অধ্যবসায়কারী প্রথম একজন।’

অবজারভেটরি জানিয়েছে, জাহেদি প্যালেস্টাইন, সিরিয়া এবং লেবাননের জন্য ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্সের নেতা হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি তার সহযোগী এবং তিনটি দেশের একই কুদস ফোর্সের প্রধান স্টাফসহ নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল বলেছে, তারা প্রকাশিত রিপোর্ট সম্পর্কে এই মুহুর্তে কোনো মন্তব্য করবে না, তবে ইরানি কর্মকর্তারা গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল এবং ইরানের মিত্রদের সঙ্গে আরও সহিংসতার আশঙ্কায় কঠোর প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


নির্বাচিত

বিশ্বে ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের ২১টি দেশে এক বছরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি অন্তত ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ হিসাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় একজন অনলাইনে কোনো না কোনোভাবে যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতিবেদনে।

‘শিশুদের চোখে: কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশু যৌন নির্যাতনকে সক্ষম করে’ শীর্ষক নতুন এই প্রতিবেদনে ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত সমীক্ষা এবং ভুক্তভোগী ১০০ জন তরুণের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তথ্য সংকলিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় দেড় কোটির বেশি শিশু অনিচ্ছাসত্ত্বেও যৌন উপাদনমুক্ত বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে ৯০ লাখ শিশুকে বাধ্য করা হয়েছে যৌন চ্যাট বা নিজ দেহের ছবি পাঠাতে।

তাদের অনুমতি ছাড়া প্রায় ৪০ লাখ শিশুর সংবেদনশীল ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধের ৬০ শতাংশই ঘটেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর ১৪ শতাংশ ঘটেছে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ৫৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচিত ব্যক্তি (যেমন সমবয়সি, বন্ধু, প্রেমের সঙ্গী বা পরিবারের সদস্য) জড়িত ছিল। আর বাকি ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী অনলাইন ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা প্রাইভেট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অপরাধীর সংস্পর্শে এসেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনভিত্তিক যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা, আত্মহত্যার চিন্তা ও নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা সাধারণ শিশুদের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি। মেক্সিকো ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় এই মানসিক ঝুঁকির মাত্রা আট গুণেরও বেশি এবং পাকিস্তানে সাত গুণেরও বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনলাইনে শিশুরা পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের যে ডিজিটাল পরিসর ব্যবহার করে, সেখানেই অন্তত দুই কোটি শিশু অবাঞ্ছিত যৌন বার্তা বা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। অনেকেই নীরবে কষ্ট সইছে এবং কার কাছে সাহায্য চাইবে তা বুঝতে পারছে না।’


নির্বাচিত

আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক    

আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তালেবান সরকার। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা ইসলামী আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর আবারও আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর তারা আফগানিস্তানকে ইসলামী বা শরিয়া আইনে পরিচালিত দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে বিক্ষোভের ঘটনা খুবই কম ঘটেছে। এর মধ্যেই গত মাসে সরকার নতুন একটি বিধান জারি করে। সেখানে বলা হয়, ‘সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।’

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের অস্তিত্ব নেই।’ তার কথায়, ‘বিক্ষোভ এমন সমাজে দেখা যায়, যেখানে ভিন্ন ধরনের আইন কার্যকর থাকে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন।

মুজাহিদের দাবি, ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় মানুষ বিক্ষোভ না করেই সরকারের কাছে নিজেদের অভিযোগ ও উদ্বেগ জানাতে পারে।

মুজাহিদ আরও বলেন, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ফলে মানুষের সময় নষ্ট হওয়া কমবে। একই সঙ্গে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও ঠেকানো সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

তালেবানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মাসের শেষ দিকে নতুন আইনটির সমালোচনা করে। সংগঠনটি বলেছে, এটি তালেবানের সব ধরনের ভিন্নমত দমনের ‘নিষ্ঠুর প্রচেষ্টার’আরেকটি পদক্ষেপ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও আফগানিস্তানের আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তালেবানের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর সমালোচনা করেছে।

সংগঠনটির মতে, এসব পরিবর্তন আফগানিস্তানে মানবাধিকারের ওপর আরও ব্যাপক আঘাত। তালেবানের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তাদের নেওয়া সবচেয়ে গুরুতর বিধানগুলোর একটি বলেও অভিহিত করেছে অ্যামনেস্টি।

নারীদের বিক্ষোভে গুলির অভিযোগ

আফগানিস্তানে বিক্ষোভের ঘটনা খুব কম হলেও সম্প্রতি নারী অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদ সমাবেশে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারী অধিকার নিয়ে একটি বিক্ষোভ হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হন।


নির্বাচিত

নেপাল-তিব্বতের বন্যায় মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ ৪৭৫৭

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে এক হাজার ২০৪ জন এবং তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৭ জন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পর নতুন এই হিসাব প্রকাশ করা হলো। এরই মধ্যে প্রচলিত ত্রাণ বা মানবিক সহায়তার বদলে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করছে নেপাল।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে নেপালের দায় খুবই সামান্য হলেও এর ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে দেশটিকে। তাই এটি দয়া বা দানের বিষয় নয়, বরং ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি।’

নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খানাল বলেন, ‘বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান প্রায় নগণ্য। অথচ জলবায়ু সংকটের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ গলে যাওয়া, পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয় বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এই বাস্তবতায় নেপাল তার কূটনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনছে। আগে যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ত্রাণ ও সহায়তা চাওয়া হতো, এখন সেখানে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি সামনে আনা হবে।’

খানাল বলেন, ‘নেপাল আর দাতব্য সাহায্যের জন্য হাত পাততে চায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া দেশটির আইনি ও নৈতিক অধিকার।’

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুর্যোগের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাটির নিচে চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গেও উদ্ধার অভিযান চলছে। ত্রিশূলী ৩-এ, চিলিম ও আপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়াদের উদ্ধারে বিভিন্ন দেশের বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

ভারতের বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল চিলিম ও লাংতাং এলাকায় কাজ করছে। চীনের একটি উদ্ধারকারী দল রয়েছে ত্রিশূলী ৩-এ প্রকল্প এলাকায়। আর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দল আপার ত্রিশূলী প্রকল্পে উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ভূমিধস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। এরপরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নেপালের কর্মকর্তারা।

একইসঙ্গে দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ইতোমধ্যে ৫ বিলিয়নের বেশি রুপি জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।


নির্বাচিত

ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতির নিচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেনমার্কের সামরিক প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা সরাসরি নাশকতামূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা (পিইটি) এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পিইটির কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান এমিল গ্রেসহোম স্থানীয় ড্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডিআর এবং বার্লিংস্কেকে জানান, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া সুনির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এটি কেবল ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং রাশিয়া ইতোমধ্যেই এই ধরনের হামলার বাস্তব পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।

ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ ড্যানিশ নাগরিকদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। ছবি তোলা বা তথ্য সংগ্রহের কাজ দিয়ে পরে সেই তথ্য নাশকতার পরিকল্পনায় ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিইটি ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছে। কনফেডারেশন অব ড্যানিশ ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা প্রধান রাসমুস অ্যান্ডারস্কাউ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফ্লেমিং স্প্লিডসবোয়েল এই হুমকিকে একদম নতুন ও উন্নত মাত্রার বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সাবেক সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জ্যাকব কার্সবো জানান, ড্যানিশ কর্তৃপক্ষের এই আগাম সতর্কবার্তা রাশিয়ার কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে।

মস্কোর দিয়ে ধেয়ে আসা ৩৭ ড্রোন ধ্বংস করল রাশিয়া

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা ৩৭টি ড্রোন কয়েকটি ধাপে ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন মধ্যরাতের পর জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিমান প্রতিরক্ষা দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ড্রোনগুলো নির্দেশিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করে। ড্রোনগুলোকে পর পর ১০টি, ১৭টি এবং ১০টির ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত করে ভূপাতিত করা হয়।

সোবিয়ানিন জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার স্থানগুলোতে জরুরি সেবার একাধিক টিম পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও এই ড্রোন হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পঞ্চম বছরে পা দেওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটল।


নির্বাচিত

‘আমাদের নজরদারি এড়িয়ে ইরানিরা বাথরুমেও যেতে পারে না’

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর প্রায় সর্বাত্মক নজরদারি চালাতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানে কী ঘটছে, দেশটির সামরিক বাহিনী কী প্রস্তুতি নিচ্ছে, সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের নজরে রয়েছে। এমনকি, ইরানের কেউ ‘বাথরুমেও যেতে পারে না’ যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি এড়িয়ে- এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে সর্বশেষ উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ইরানে অন্তত ১৮ জন নিহত ও প্রায় ১০৮ জন আহত হয়েছেন।

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালীর কাছের এলাকাও রয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, কুহেস্তাক শহরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের খুব জোরে আঘাত করেছি। তার দাবি, এখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি গত ছয় মাস ধরে ইরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

ট্রাম্প বলেন, প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হচ্ছে ও এর মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব কার্যক্রম কোনো বড় ধরনের বাধা ছাড়াই চলছে। তবে মাঝেমধ্যে ইরান ড্রোনে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তা ভূপাতিত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। খুব শক্ত নিয়ন্ত্রণ। ইরান হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও মাইন ফেলার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান প্রণালীর আশপাশে যে নতুন সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে থাকা সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার দাবি, ইরান এমন একটি রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল, যেটি দিয়ে সমুদ্রে মাইন ফেলা যায়। ট্রাম্প বলেন, কে এমন কাজ করে? আপনি কি কখনো এমন রকেট তৈরি হতে শুনেছেন, যা মাইন ফেলে? আমি কখনো শুনিনি। কিন্তু তারা সেটিই করছিল।

তিনি দাবি করেন, ওই রকেটটি তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে ধ্বংস করে দেয়।

ইরানের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কতটা তথ্য জানে, তা বোঝাতে ট্রাম্প বলেন, ইরান কী করছে, তা যুক্তরাষ্ট্র দেখতে পাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেন, আমরা দেখেছি তারা এটি তৈরি করছে। তারা যা করছে, তার সবই আমরা দেখি। তারা আমাদের নজরদারি এড়িয়ে নড়াচড়া করতে পারে না, এমনকি টয়লেটেও যেতে পারে না।

এরপর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে ও আরও কিছু স্থাপনাও হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক পদক্ষেপেই থেমে নেই। ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।

এর মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল রপ্তানি থেকে আয় কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।


নির্বাচিত

নতুন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি সংবলিত ব্যানারের সামনে দেশটির পতাকা হাতে এক নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রায় এক মাস কার্যত ‘চুপচাপ’ থাকার পর আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই দিনে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে ছয় মাস ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ। এদিকে নতুন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গত রোববার (৩০ আগস্ট) থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে। এতে অন্তত ১৯ ইরানি নিহত হন। একপর্যায়ে হুমকির সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তার সামরিক বাহিনী ‘যখন খুশি তখনই ইরানে হামলা চালাতে পারে’।”

তবে ট্রাম্পের এমন হুমকিতে ভয় না পেয়ে এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে শুরু করে তেহরান। ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধে ইরান একটি ‘নতুন কৌশল’ গ্রহণ করেছে, যা ‘আমেরিকানদের ভিত গুঁড়িয়ে দেবে’।”

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সিরিক এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। এরপরই অঞ্চলজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

এরপরই ইরান দুই দিনের ব্যবধানে কুয়েত, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলাটিকে এই যুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক মানুষের হতাহতের অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার উপকূলীয় শহর কুহেস্তাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গোলার টুকরায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স মন্তব্য করেন, আইআরজিসি বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে অভ্যস্ত হলেও মার্কিন সেনাবাহিনী কখনোই এমন করবে না। বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

এক্সে তিনি লেখেন, কোনো শক্তি যদি শয়তানের মতো আচরণ করে, শয়তানের মতো লক্ষ্যবস্তু বেছে নেয় এবং শয়তানের মতো হত্যা করে, তাহলে তাদের সাক্ষাৎ শয়তান আখ্যা দেওয়া উচিত।

ইরান সরকারের একটি অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কুহেস্তাকের বিয়ের অনুষ্ঠানের স্থানে ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। ভিডিওতে মানুষের চিৎকারও শোনা যায়। কনের বাবা ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির মালিক আলি মাল্লাহি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’ তার এ-সংক্রান্ত ভিডিওটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শুকরিয়া, হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হয়নি।’ গত রোববার থেকে নতুন করে দুই পক্ষের সংঘাত শুরু হয়। সেদিনই তেহরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রাখছে ইরান। তাদের বিরত রাখতেই এই হামলা।

ইরান জানিয়েছে, গত রোববারের হামলায় ‘হতাহতের ঘটনা’ ঘটেছে। এর জবাবে তারা জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। গত ২০ আগস্ট সিএনএনের প্রতিবেদনে ইরানের যুদ্ধকৌশল বদলানোর আভাস দেওয়া হয়েছিল।

ইরানের উদারপন্থি নেতারা আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে উৎসাহী হলেও কট্টরপন্থিরা চান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থাও মেটেনি, আর সংঘাতও বন্ধ হয়নি। যার ফলে উদারপন্থিদের ওপর চাপ বাড়ছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রাখার নিজস্ব কৌশল তৈরি করে তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

একজন ইরানি কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, এই কৌশলে শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি আক্রমণাত্মক অভিযানের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

গত ১৭ আগস্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তি সমঝোতার কারণে হামলা বন্ধ থাকলেও ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা কূটনীতির বদলে গোপনে যুদ্ধের কলেবর বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সামরিক নিয়ন্ত্রণও বাড়িয়েছে।

পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননের মিলিশিয়াদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। অভিজ্ঞ সামরিক জেনারেলদের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে বসানোর কাজও সেরে নিয়েছে ইরান—এমন দাবি করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মোহসেন রেজায়ির ‘নতুন কৌশল’ ঘোষণার পর দুই দিনের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি ভিন্ন স্থানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত হামলা ইরানের সেই কৌশল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও ১৪২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, গত রোববার সন্ধ্যা থেকে গত বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৪৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও একটি শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


নির্বাচিত

ইসরায়েলের জন্য আর হুমকি নয় গাজা-হামাস: নেতানিয়াহু

ছবি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও হামাস আর ইসরায়েলের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ‘সম্পূর্ণ নির্মূল’ এবং গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গাজা উপত্যকার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনে’ অবস্থিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি সামরিক চৌকি পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।

ভাষণের শুরুতে গাজার ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি এখানে গাজা উপত্যকার ভেতরে চিফ অব স্টাফ, সর্বাধিনায়ক এবং আমাদের বীর সেনাপতি ও সৈন্যদের সঙ্গে আছি। এই ভূখণ্ড আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।’

হামাস নেতৃত্বের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পিছু হটছি না, এই নির্ধারিত লাইনেই থাকছি। আমরা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছি। কারণ যারা আমাদের জন্য হুমকি, সেই সন্ত্রাসীদের (হামাস) আমরা প্রতিদিন নির্মূল করছি। গতকালই আমরা হামাসের গোয়েন্দা প্রধানকে আটক করেছি।

গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘গাজা (হামাস) আর কখনো ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না। আমাদের লক্ষ্যটি প্রকৃতপক্ষে অনেকাংশেই অর্জিত হয়েছে। তবে কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, আমরা তা-ও সম্পন্ন করব।’

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে স্থাপিত সেনা চৌকি পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইসরায়েলের চিফ অব স্টাফ ল্যাফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির, সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার এবং বেজেক ডিভিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে মা-বাবার নিজের নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন অবস্থার প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবিত এই নির্দেশনা ট্রাম্পের গত ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে তার দলের প্রথম বিস্তারিত রূপরেখা। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বন্ধ এবং জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোই এই আদেশের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তার প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মর্যাদা পুরোপুরি রক্ষা করবে। পাসপোর্ট দেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়াটি নতুন নিয়মের মধ্যে পড়ে; যাতে যথাযথভাবে এই মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

দেশটির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদনের সময় মা-বাবাকে কেবল সেই নাবালকের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক প্রমাণ এবং সরকার স্বীকৃত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়।

বর্তমান কাঠামোতেও আবেদন ফরমে মা-বাবার নাগরিকত্বের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। তবে অভিবাসন অবস্থা প্রমাণের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনায় এই নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নম্বর উল্লেখ করে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন বিধির অধীন আবেদনকারী ব্যক্তি নির্বাহী আদেশ ১৪৪১৮-এর আওতায় পড়েন কি না, তা নির্ধারণের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তর মা-বাবার তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন সংক্রান্ত প্রমাণের নথি দাবি করবে।

প্রস্তাবিত নতুন আইন চালু হলে, সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় সব মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। এর মধ্যে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ কিংবা তাদের অভিবাসন সংক্রান্ত নথি (যেমন: আই-৯৪ ফরম অথবা স্থায়ী নাগরিকত্বের গ্রিন কার্ড) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়, নতুন আদেশের অধীনে শিশুটি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, সরকার এসব তথ্য যাচাই করে তা নির্ধারণ করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশনার আওতায় যেসব মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য জালিয়াতি বা বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অথবা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত, তাদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে আইনি লড়াই চলার মধ্যেই পাসপোর্ট সংক্রান্ত এই নতুন বিধির প্রস্তাব এল। ট্রাম্পের প্রাথমিক আদেশের কারণে যে শিশুরা নাগরিকত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, তাদের পক্ষে একটি দলগত মামলা বা ‘ক্লাস-অ্যাকশন লসুট’ লড়ছেন আইনজীবীরা। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আদেশের বাস্তবায়ন ঠেকাতে দুটি আলাদা ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

এর মধ্যে একটি মামলা মার্কিন বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে অনুষ্ঠিত শুক্রবারের এক শুনানিতে বোর্ডম্যান ট্রাম্পের আদেশকে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া এটি স্থগিত করা যায় কি না তা বিবেচনায় নিতে বাদীপক্ষকে মামলায় সংশোধনী আনার অনুমতি দেন বিচারক।

তবে বিচার বিভাগের আইনজীবীরা বলেছেন, ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে দেশের সংস্থাগুলো এখনো কোনো নীতি প্রকাশ করেনি। ফলে এ পর্যায়ে বিচারিক স্থগিতাদেশ দেওয়া অনুচিত হবে এবং মামলাটি তড়িঘড়ি করে দায়ের করা হয়েছে।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যাপক কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয় হলো জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব সীমিত করা। যদিও তার আগের এক প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করে বলে রায় দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

ট্রাম্পের প্রাথমিক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কেবল সেই সব শিশু জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে, যাদের মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি অনুমতিপ্রাপ্ত।

তবে ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচার বেঞ্চ বলেছেন, ট্রাম্পের সেই আদেশ বেআইনি ছিল। বিচারকদের একটি বড় অংশ মত দেন, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।


নির্বাচিত

নেপালে দুর্যোগ মোকাবিলায় ১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে  বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১২.৩ কোটি টাকা) জরুরি অনুদান ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

ঢাকা ও কাঠমান্ডুর দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে দেওয়া হচ্ছে এই অর্থ। অনুদানের বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বুধবারের (২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন মানুষ।

অন্যদিকে, চীনের অংশে অন্তত ১৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৬১ জনই বিদেশি নাগরিক।


নির্বাচিত

ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে একাকী কারাবন্দি না রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি। সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দি না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের বিধি অনুযায়ী তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন। বর্তমানে ইমরান খান ও বুশরা বিবি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানকে কথিত একাকী কারাবন্দি রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবির বিষয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ দিতে বলেন। পাশাপাশি তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ এবং কারাগারের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলার সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয় বুশরা বিবিকে। প্রায় নয় মাস পর, ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তার সাজা বাড়ানো হয়। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা কারাগারেই আছেন।

এদিকে ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়েও সম্প্রতি তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে তাকে সেখানে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।


নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি ইরানের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির যে দাবি ইরান করেছে, তার বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অস্বীকার করেছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ব্যবহৃত ড্রোন রাখার স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনাদের অবস্থানেও হামলার দাবি করেছে তারা। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলেও ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরের এলাকায় পড়ে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন একটি সূত্রও জানিয়েছে, জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। ফলে ইরানের দাবি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের দাবি, সেখানে সামরিক অবকাঠামোর কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুয়েতেও ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোনসহ কয়েকটি ‘শত্রু আকাশযান’ মোকাবিলা করেছে। বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার সময় হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ।

বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও রাডার স্থাপনা ছিল হামলার লক্ষ্য। শেখ ইসা ঘাঁটিটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে বাহরাইনের পক্ষ থেকেও হামলার বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার কথা জানানো হয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলার আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডের সামরিক সক্ষমতা, বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল এসব হামলার লক্ষ্য।

অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকা ও উপকূলীয় স্থাপনায় মার্কিন হামলা হয়েছে। এর মধ্যে বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক ও আসালুয়েহের মতো এলাকাও রয়েছে। ইরানের দাবি, সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় শিশুসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।

দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘ বিরতির পর সংঘাতকে আবারও সরাসরি সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় ইরানের পাল্টা হামলা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে আরও হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। জোলফাঘারি বলেন, ‘আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।’

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানের জবাব হবে আরও ‘ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা।

‘মার্কিন বিমানঘাঁটি সরান, নয়তো ধ্বংসের প্রস্তুনি নেন’

আরব দেশগুলো থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানঘাঁটি বিতাড়িত করা না হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গতকাল বুধবার সংস্থাটির রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি জেনারেল এই দাবি জানান। এক বিবৃতিতে যাদুল্লাহ জাভানি নিশ্চিত করেন, আরব দেশগুলোর উচিত তাদের ভূখণ্ড থেকে আমেরিকানদের বের করে দেওয়া এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনঃনিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান বা অন্য যেকোনো দেশের সীমানা ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে সশস্ত্র বাহিনী তার চূড়ান্ত ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে।


নির্বাচিত

ইরানকে অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া গোপনে ইরানকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। মস্কো থেকে তেহরানে কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সহযোগিতাকে। বহু বছর ধরে চলা এই গোপন কর্মসূচির কোডনেম সি৪৩০ এল। এতে রাশিয়ার সবচেয়ে অভিজ্ঞ কয়েকজন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য, ইরানকে এমন এক নতুন ধরনের অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করা, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে এই তথ্যের দাবি করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও চলেছে। ফাঁস হওয়া রুশ চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি এবং সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানতে পেরেছে।

সি ৪৩০ এল-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এটি এমন এক ধরনের ইঞ্জিন, যা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েকগুণ গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

সি ৪৩০ এল-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এটি এমন এক ধরনের ইঞ্জিন, যা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েকগুণ গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, এগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির পাশাপাশি অনেক কম উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য কম সময় পায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের উন্নত স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ইরানের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ইতোমধ্যে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখন পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মার্কিন থিংক ট্যাংক জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজের ইরানবিষয়ক সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, ‘এই প্রযুক্তি ইরানকে এমন এক নতুন ধরনের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।’

ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র থেকে দেখা যায়, এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলতি গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সহযোগিতা রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সামরিক সম্পর্কেরই অংশ। ইরান রাশিয়াকে শাহেদ অ্যাটাক ড্রোন সরবরাহ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে এসব ড্রোন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান রাশিয়াকে নিজ ভূখণ্ডে এসব ড্রোনের উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করেছে।

ইউক্রেন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় রাশিয়া তেহরানকে যুদ্ধক্ষেত্রসংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন সহায়তা এবং অস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান। তবে সি৪৩০ এল আরও গভীর ধরনের সহযোগিতার প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে মস্কো তেহরানকে একটি উন্নত কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা নিজেরাই তৈরি করার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্জনে সহায়তা করছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ বললেন গালিবাফ

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমেরিকাকে ‘শয়তান’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। বার্তাটি এএফপির বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।

গালিবাফ তার বার্তায় মিনাব স্কুল, লামের্দ স্পোর্টস হল এবং কোহেসতাকের বিয়ের অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রাণহানির ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিরপরাধ শিশুদের হত্যা এবং গণহত্যার মতো আচরণ সরাসরি শয়তানের কর্মকাণ্ডের পরিচয় বহন করে।

নিজের বক্তব্য তুলে ধরে গালিবাফ বলেন, ‘যদি কোনো ক্ষমতাধর শয়তানের মতো আচরণ করে, শয়তানের মতো লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করে এবং শয়তানের মতো মানুষ হত্যা করে, তবে সেটিই শয়তান। আর যে একই কাজ করা ছোট শয়তানকে রক্ষা করে, সে-ই হলো ‘মহাশয়তান’।’

‘শত্রুরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে পারবে না’

ইরান তার সামরিক শক্তি আগের চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়িয়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থামানো শত্রুপক্ষের পক্ষে আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিবার যুদ্ধের মুখে পড়ে ইরানের সেনারা আরও নতুন শক্তিতে জেগে উঠেছে এবং আগের চেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে।

শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে গালিবাফ আরও জানান, ভবিষ্যতে লড়াই হলে ইরান অস্ত্রের মান এবং সংখ্যা—উভয় দিক থেকেই শত্রুর চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। ইরান কতটা শক্তিশালী, তা বুঝতে পেরে শত্রুরাও এখন মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র রোখার সাধ্য তাদের নেই।


নির্বাচিত

banner close