ভারতের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৩ মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। বুধবার দেশটির পুলিশ প্রশাসন একথা জানিয়েছে। অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের ৫০ বছরের দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ে রাজ্যের বিজাপুর জেলার একটি দুর্গম জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের এই ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান পি. সুন্দররাজ এএফপি’কে বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা বিদ্রোহীদের রাইফেল, মেশিনগান, গ্রেনেড লাঞ্চার এবং গোলাবারুদ জব্দ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘গেরিলাদের সঙ্গে পুলিশের প্রায় ১৪ ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ চলে।’
সুন্দররাজ বলেন, ‘বিদ্রোহীদের মৃতদেহগুলোর পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে তিন নারী বিদ্রোহী রয়েছে।’
এ বছর ভারতে ৫০ জনের বেশি মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে-যার মধ্যে ৪৬ জন ছত্তিশগড়ে ও আর চারজন মহারাষ্ট্র রাজ্যে নিহত হয়।
নকশাল হিসেবে পরিচিত বিদ্রোহীরা ১৯৬৭ সাল থেকে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে আসছে।
পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা। এই আলোচনাকে সংঘাতরোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট।
২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বা পারমাণবিক স্থাপনার ওপর প্রাথমিক হামলার কথা বিবেচনা করছিলেন, যাতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ বাড়ানো যায়।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা ব্যর্থ হলে, ইরানের প্রেসিডেন্ট, এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি অভিযান শুরুর নির্দেশও দিতে পারেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনও সতর্ক করেছেন যে ইরানের ওপর হামলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ও এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে জেনারেল ড্যান কেইন বিশ্বাস করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সহজেই জেতা সম্ভব।
এদিকে, ইরান হুমকি দিয়েছে যে যেকোনো হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরানের ওপর হামলা হলে তা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং তারা সতর্ক করেছে যে কেবলমাত্র বিমানশক্তি দিয়ে দেশটির নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কোনো চুক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন, যাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তার সমর্থপুষ্টদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকে।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি এবং ওই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউস সফর করা নেতানিয়াহু ইরান সরকারকে পতনের লক্ষ্যে একটি অভিযানের পক্ষে চাপ বাড়াতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মালিক। ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলেও ধারণা করা হয়, যদিও তারা এ বিষয়ে স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করে না।
এদিকে, আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন ও ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন ফের কেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
এই মাসের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফা আলোচনার মতো, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরীসহ হাজারও সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বহরে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি।
কিন্তু তারপর থেকে, ট্রাম্পের মনোযোগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে চলে যায়, যা পশ্চিমাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে।
অন্যদিকে, ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যদিও দেশটি একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র যারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব এমন স্তরের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
তবে ট্রাম্প কোন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানে এরইমধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা ও এই অঞ্চলে যারা তাদের সমর্থনপুষ্ট, তাদেরকে সমর্থন বন্ধ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই জোটকে তেহরান ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বলে উল্লেখ করে, যার মধ্যে রয়েছে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও ইয়েমেনের হুতিরা।
ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন অনুসারীর মাইলফলক ছুঁয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন অনুসারি অর্জন করা বিশ্বের প্রথম রাজনীতিক ও প্রথম বিশ্বনেতা হলেন মোদি।
২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। গত এক দশকে তার অ্যাকাউন্টটি বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ও আলোচিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
বিশ্বের প্রধান নেতাদের মধ্যে এখন ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ অনুসারী মোদির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার চেয়েও মোদির অনুসারীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিশ্বের পরবর্তী পাঁচজন বড় নেতার মোট অনুসারী যোগ করলেও তা নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত অনুসারীর সংখ্যাকে ছুঁতে পারবে না।
ইনস্টাগ্রামে বিশ্বনেতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অনুসারী ৪৩ দশমিক ২ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ৩২ লাখ।
১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫০ লাখ অনুসারী নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। এরপর চতুর্থ স্থানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, তার অনুসারীর সংখ্যা ১৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪৪ লাখ। ১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন আ ১ কোটি ১৬ লাখ অনুসারী নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। আর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন।
ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার দিকে থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকদের চেয়েও অনেক এগিয়ে আছেন মোদী। ১৬ দশমিক ১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৬১ লাখ অনুসারী নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আর তৃতীয় স্থানে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১২.৬ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২৬ লাখ।
আধুনিক যুগের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এমন বিষয়ে বিল গেটসের নাম আশায় দাতব্য সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেছেন বিল গেটস। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই নারীরা এপস্টেইনের মাধ্যমে কিংবা তার অপহরণের শিকার ছিলেন না।
এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে এক টাউন হল বৈঠকে নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বিল গেটস।
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি যেসব নথি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়-যৌন অপরাধে কারাদণ্ড পাওয়ার পরও এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের একাধিক বৈঠক হয়েছিল। এসব বৈঠক মূলত গেটসের দাতব্য কার্যক্রমকে ঘিরেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন মতে, টাউন হল বৈঠকে গেটস স্বীকার করেছেন যে এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল তার বড় ভুল। এমনকি এপস্টেইনের সঙ্গে কিছু বৈঠকে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের যুক্ত করাও ভুল ছিল বলে তিনি জানান।
পত্রিকাটি একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাতে গেটসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, তিনি বলেছেন, ‘আমি যে ভুল করেছি তার কারণে অন্য যেসব মানুষ এতে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই।’
ফাউন্ডেশনের কর্মীদের উদ্দেশে গেটস বলেন, ‘আমি কোনো অবৈধ কাজ করিনি। আমি কোনো অবৈধ কিছু দেখিনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, স্পষ্ট করে বলছি, ‘আমি কখনোই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সময় কাটাইনি এমনকি এপস্টেইনের আশপাশে থাকা নারীদের সঙ্গেও নয়।’
প্রকাশিত নথির মধ্যে এমন কিছু ছবিও রয়েছে যেখানে গেটসকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে দেখা যায় যদিও ছবিগুলোতে মেয়েদের মুখ আড়াল করা ছিল। বিল গেটস তার কর্মীদের জানান, ছবিগুলোতে থাকা নারীরা এপস্টেইনের সহকারী ছিলেন এবং বৈঠকের পর এপস্টেইনের অনুরোধে তিনি সেসব ছবির জন্য পোজ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধনকুবেরের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত এই পাচারকারীর মামলার ৩০ লক্ষাধিক নথি দেশটির আদালত প্রকাশ করায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন একের পর ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তের মুখে পড়েছেন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী দম্পতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
এপস্টেইন পরিচালিত প্রভাববলয় ও অপরাধের নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হতে চলেছেন ক্লিনটন দম্পতি। সেখানে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। সাবেক এই প্রভাবশালী দুই নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ক্লিনটন দম্পতি বসবাস করেন।
মার্কিন কংগ্রেসনাল তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বাইরে শপথপূর্বক দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণই কংগ্রেসনাল ডিপজিশন। সাক্ষীরা—এক্ষেত্রে ক্লিনটন দম্পতি—শপথ নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কমিটির আইনজীবী এবং তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এই সেশনটি রেকর্ড এবং প্রতিলিপি করা হবে। জেনে বুঝে মিথ্যা বিবৃতি দিলে আইনি পরিণতির সম্ভাবনাও আছে।
ক্লিনটন দম্পতি শুরুতে সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে হাউস যখন তাদের বিরুদ্ধে 'কন্টেম্পট' বা অবমাননার জন্য দ্বিপাক্ষিক ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দেয় (যা ফৌজদারি অভিযোগের দিকে নিয়ে যেতে পারত), তখন তারা শেষ পর্যন্ত হাজির হতে রাজি হন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, কেউ ক্লিনটন দম্পতির কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না। আমাদের কাছে শুধু অনেকগুলো প্রশ্ন আছে। সেগুলোর উত্তর দরকার।
সাক্ষ্যগ্রহণ কখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে
সাক্ষ্যগ্রহণ ক্যাপিটল হিলের পরিবর্তে চ্যাপাকুয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বাড়ির কাছে অনুষ্ঠিত হবে। হিলারি ক্লিনটন স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেবেন এবং এর পর শুক্রবার বিল ক্লিনটন সাক্ষ্য দেবেন। উভয় অধিবেশনই রুদ্ধদ্বার হবে, তবে সেগুলো চিত্রায়িত এবং প্রতিলিপি করা হবে।
সাধারণত এ ধরনের সাক্ষ্যগ্রহণ স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শুরু হয়, তবে কমিটি নির্দিষ্ট সময় জনসমক্ষে নিশ্চিত করেনি। এর আগে তাদের সকাল ১০টায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাক্ষ্য দেওয়ার এই সমঝোতা ক্লিনটন দম্পতি এবং হাউস ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমারের মধ্যে দীর্ঘ কয়েকমাসের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর এসেছে।
বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাওয়া হয়েছিল এবং পরে ডিসেম্বরে পুনঃনির্ধারিত হয়েছিল। তিনি একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অজুহাতে হাজির হতে অস্বীকার করেন। পরে গত ১৩ জানুয়ারি একটি নতুন সমন জারি করা হলেও তিনি উপস্থিত হননি।
হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে গত ৯ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল এবং পরে ১৮ ডিসেম্বরে পিছিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সমনে গত ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও তিনিও উপস্থিত হননি।
ক্লিনটন দম্পতি যুক্তি দিয়েছিলেন যে সমনগুলো আইনিভাবে অকার্যকর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা করা হয়েছে।
তবে চলতি মাসের শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি কেবল সাক্ষ্য দিতে রাজিই হননি, বরং দাবি করেছেন যে এটি জনসমক্ষে হওয়া উচিত। তাদের যুক্তি ছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে যে তাদের লুকানোর কিছু নেই এবং রিপাবলিকানদের দ্বারা তাদের সাক্ষ্যের রাজনৈতিক অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।
অতীতের প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি প্রায় তিন দশক আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পউলা জোনসের যৌন হয়রানির মামলায় ছয় ঘণ্টার ভিডিও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের সেই শপথ নেওয়া সাক্ষ্যে ক্লিনটনকে মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি লিউইনস্কির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন, যা পরে মিথ্যা সাক্ষ্য বা ‘পারজুরি’র অভিযোগে তাকে অভিশংসিত করার দিকে নেওয়া হয়।
হাউস ওভারসাইট কমিটি কী তদন্ত করছে
বর্তমানে কমিটি প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টেইন এবং তার সহযোগীদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। এপস্টেইন ছিলেন একজন মার্কিন অর্থদাতা যিনি তার বিশাল সম্পদ এবং উচ্চপদস্থ সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করে কয়েক ডজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে জড়িত একটি দীর্ঘমেয়াদি সেক্স ট্রাফিকিং রিং পরিচালনা করেছিলেন।
চীন থেকে জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ইরান। এমন একসময়ে এই চুক্তির খবর এলো, যখন ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেশটির উপকূলের কাছে বড় আকারে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্রগুলো বলছে, চীনের তৈরি ‘সিএম-৩০২’ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। সুপারসনিক গতির এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিচু দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যায়। ফলে তা জাহাজে থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
দুজন অস্ত্রবিশেষজ্ঞের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে ইরানের হামলা করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি তা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্তত দুই বছর আগে চীন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনার আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গতবছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এই ছয় ব্যক্তির মধ্যে তিনজন ইরান সরকারের কাছ থেকে ব্রিফিং পেয়েছেন। বাকি তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন জানান, গত গ্রীষ্মে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে ইরানের সামরিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। তাদের মধ্যে ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরায়েইও ছিলেন। তার এই সফরের খবর এর আগে আর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ইরান গবেষক এবং সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ‘ইরান এ অঞ্চলে জাহাজে আক্রমণ করার জন্য সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।’
কতটি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সম্ভাব্য এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে বা ইরান কত অর্থ দিতে রাজি হয়েছে, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া বর্তমান এ অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে চীন শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির বিষয়ে সামনে অগ্রসর হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তি কাজে লাগানোর জন্য এখন উপর্যুক্ত সময়।’
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা এই সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা কিছু জানে না। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে জানতে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সরাসরি কোনো কিছু বলেনি। তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো গতবারের মতো আমাদের কঠোর কিছু করতে হবে।’
হস্তান্তর করা হলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হবে চীন থেকে ইরানে আসা সবচেয়ে উন্নত সামরিক সরঞ্জামগুলোর অন্যতম। এই হস্তান্তর ২০০৬ সালে প্রথম আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির পর এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছিল, যা গত সেপ্টেম্বরে আবার কার্যকর করা হয়েছে।
সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি থেকে চীন ও ইরানের মধ্যকার গভীর সামরিক সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝা যায়, যখন ওই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার মার্কিন প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক আধিপত্য থাকা এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
চীন, ইরান ও রাশিয়া প্রতিবছর যৌথ নৌ মহড়ার আয়োজন করে। গত বছর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অভিযোগ ছিল, তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সরবরাহ করেছে। চীন সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে তারা অবগত নয় এবং বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার (ডুয়েল-ইউজ) করা যায়, এমন পণ্যের ক্ষেত্রে তারা কঠোর রপ্তানি বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি দাবি করেছেন, তার বাহিনী দক্ষিণ প্রতিবেশীকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি তাদের ‘শত্রুতাপূর্ণ’ নীতি পরিহার করার ওপর।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার (ডব্লিউপিকে) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে কিম বলেন, ‘যদি ওয়াশিংটন ‘সংবিধানে বর্ণিত আমাদের দেশের বর্তমান মর্যাদাকে সম্মান করে এবং তাদের শত্রুতাপূর্ণ নীতি প্রত্যাহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক না থাকার কোনো কারণ নেই’।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনে গতকাল বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম তার পারমাণবিক শক্তিচালিত সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
কেসিএনএ জানায়, কিম এমন আন্তঃমহাদেশীয় (আইসিবিএম) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জোর দিয়েছেন, যা পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। এ ছাড়া তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম এমন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র যেমন—আর্টিলারি এবং স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির দ্রুত উন্নয়ন দেশটিকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ‘স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত’ করেছে।’
কিম বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান শত্রুদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ তিনি দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রকে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার ‘নিশ্চয়তা এবং রক্ষাকবচ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ জানায়, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির এই কংগ্রেস গতকাল বুধবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তায় সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শেষ হয়। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কুচকাওয়াজের ছবিতে দেখা গেছে, উজ্জ্বল আলোকসজ্জিত কিম ইল সুং স্কয়ারে একদল সৈন্য মার্চ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিম এবং তার মেয়ে অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন।
কুচকাওয়াজে কিছু সৈন্য ছদ্মবেশী পোশাক এবং বিশেষ যুদ্ধের সরঞ্জাম পরে অংশ নিয়েছিলেন এবং একঝাঁক যুদ্ধবিমান আকাশসীমা প্রদক্ষিণ করে। তবে কোনো সামরিক হার্ডওয়্যার বা ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
কুচকাওয়াজে কিমের মেয়ে কিম জু আয়ের উপস্থিতি আবার এই জল্পনাকে উসকে দিয়েছে যে, তাকে কিমের উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে কিনা।
তবে কিমের হুমকির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কি না তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। ১৯৯২ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮৪ জন ইসরাইলি অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। সিপিজে বলেছে, এই মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ঘটেছে ইসরাইলের অভিযানে এবং দেশটি সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলায় দায়মুক্তির এক স্থায়ী সংস্কৃতি বজায় রেখেছে।
২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী নথিভুক্ত ৪৭টি ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর মধ্যে ৩৮টির জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। এসব ঘটনাকে তারা সরাসরি হত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ, সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ এবং মানবিক সংকটের কারণে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিপিজে। অনেক প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে কতজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরোপুরি জানা নাও যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এর অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আনাস আল শরিফ ও হোসেন শাহাদাত। গাজা সিটিতে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে হামলায় একসঙ্গে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া ২০২২ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত আল জাজিরার প্রবীণ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ নামে নামকরণ করা একটি পর্যবেক্ষণ সাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
ইসরাইল কয়েকজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সিপিজে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে ২০২৫ সালে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় সুদান ও মেক্সিকো শীর্ষে রয়েছে। গৃহযুদ্ধপীড়িত সুদানে ৯ জন এবং সংগঠিত অপরাধ সহিংসতায় জর্জরিত মেক্সিকোতে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক হামলায় চারজন ইউক্রেনীয় সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (বা সাম্প্রতিক সময়ে) কেচ জেলার বুলেদা তেহসিলের মিনাজ এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশি তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদল অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মিনাজ এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কেবল নির্বিচারে গুলিই চালায়নি, বরং বাড়িটি লক্ষ্য করে ভয়াবহ মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। হামলার তীব্রতায় বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ঘটনাস্থলেই পরিবারের ছয়জন প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এই পৈশাচিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মুসলিম, মোল্লা ইউসুফ, ফাজিলা, গুল নাজ, চাঙ্গেইজ ও জাহরা। এছাড়া হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুল গফ্ফার এবং তাঁর দুই মেয়ে সারা ও আয়েশা। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বর্বরোচিত হামলার বিচার দাবি করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ এক বিশেষ ভাষণ দিয়েছেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ সংসদীয় সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’-এ ভূষিত হয়েছেন। বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা এই পদকটি তাঁর হাতে তুলে দেন। ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুসংহত করতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের প্রথম কোনো নেতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদি এই বিরল সম্মাননা লাভ করলেন।
এই পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি এক অনন্য আন্তর্জাতিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের এমন একজন বিরল নেতা, যিনি একই সাথে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন—উভয় দেশ থেকেই তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’ লাভ করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উভয় পক্ষ থেকে এমন সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন তাঁর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ ৯ বছর পর এটিই মোদির প্রথম ইসরায়েল সফর। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাঁর ঐতিহাসিক প্রথম সফরের সময় ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছিল। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নেসেটে দেওয়া ভাষণে মোদি দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইসরায়েলি স্পিকার আমির ওহানা তাঁর বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং এই পদক প্রদানের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সব মিলিয়ে এই সফরটি ভারত-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০ টিরও বেশি সামরিক বিমান মেতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিশাল মেতায়েন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ যুদ্ধবিমানের এই বিশাল বহর মেতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত জানুয়ারির শুরু থেকে, এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) আনুমানিক ২৭০টি সি-১৭ এবং সি-৫ লজিস্টিক বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব ফ্লাইটে প্যাট্রিয়ট এবং টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থার্ড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পরিবহন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান বহরে ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং ৩০ শতাশং সহায়ক বিমান রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬ এবং ৪২টি এফ-৩৫ এ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়াও ট্যাঙ্কার বিমান এবং বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য রয়েছে- ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমান, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।
তবে গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো বি-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।
ইসরায়েলি বিমান উপস্থিতি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এই বিমান বহরের ওপরে সবার নজরে থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ ৩৫ যুদ্ধবিমানের বিশাল বহরও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীর বিমানশক্তিকে কার্যকরভাবে দ্বিগুণ করে তুলবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারই ইসরায়েল ১২টি মার্কিন এফ-২২ র্যাপ্টার স্টিলথ ফাইটারও হাতে পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার আগেই ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানই চান তিনি, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতেও পিছপা হবেন না!
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্টেট অব ইউনিয়নের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধানে আমি প্রাধান্য দেব কূটনীতিকে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত— আমি সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বিশ্বের এক নম্বর রাষ্ট্র ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না।’
ভবিষ্যতে ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ইতোমধ্যে এমন মিসাইল তৈরি করেছে যেগুলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারবে। তারা এখন এমন মিসাইল তৈরির কাজ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ফলে এখন বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩২ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাকোমার উত্তর-পশ্চিমে কী পেনিনসুলা এলাকায় একটি বাড়ির বাইরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পিয়ার্স কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, সকাল ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে তারা খবর পায় এবং ঘটনাস্থলে রওনা হয়।
কিন্তু কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে কয়েকজনের ওপর ছুরিকাঘাত শুরু করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রথম ডেপুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন মিনিট সময় নেন এবং সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায় ।
ছুরিকাঘাতে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। ঘটনার তদন্ত করছে পিয়ার্স কাউন্টি ফোর্স ইনভেস্টিগেশন টিম।
যে বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেটি এমন এক নারীর বলে ধারণা করা হচ্ছে, যিনি তার ছেলের বিরুদ্ধে এক বছরের সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অভিযোগ করেন তার ছেলে হুমকিমূলক মন্তব্য করতেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট করেছেন এবং তার পোষা বিড়ালকে আঘাত করেছেন।
এখনো পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
রমজান মাসে মুসলমানরা এক মাস ধরে রোজা পালন করেন। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো রোজা। তবে ইসলামের আবির্ভাবের আগেও মধ্যপ্রাচ্যে রোজা বা উপবাসের ধারণা প্রচলিত ছিল।
বিবিসি আরবি বিভাগের একটি প্রতিবেদন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতায় রোজার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো।
ফেরাউন বা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা
প্রাচীন মিশরীয়রা দেবতাদের নৈকট্য অর্জন, সন্তুষ্টি লাভ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন। এর মধ্যে উপবাসও ছিল। তারা বসন্ত উৎসব, ফসল উৎসব এবং নীলনদের প্লাবন উৎসব উদযাপন করতেন। এসবের উদ্দেশ্য ছিল আত্মাকে পাপ ও ত্রুটি থেকে শুদ্ধ করা, যাতে দেবতারা অসন্তুষ্ট না হন।
তবে প্রাচীন মিশরীয়দের উপবাসের ধরন নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক ও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, এটি কেবল পুরোহিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আবার কেউ মনে করেন, সাধারণ মানুষও উপবাস পালন করতেন। অন্য কিছু গবেষক আসমানি কিতাবভিত্তিক ধর্মগুলোর রোজার সঙ্গে প্রাচীন মিশরীয়দের উপবাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক খুঁজে পান না।
কিছু গবেষকের মতে, তাদের উপবাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলত। এই উপবাসের মেয়াদ তিন দিন থেকে ৭০ দিন পর্যন্ত হতে পারত। এ সময় তারা খাদ্য, পানীয় ও যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতেন।
মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তির উদ্দেশেও উপবাস পালনের প্রচলন ছিল প্রাচীন মিশরে। আবার এমন উপবাসও ছিল, যেখানে ৭০ দিন ধরে কেবল শাকসবজি ও পানি গ্রহণের অনুমতি ছিল।
জরথুস্ত্রবাদ ও ইয়াজিদি ধর্ম (প্রাচীন পারস্য ও কুর্দিরা)
খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছরেরও বেশি আগে পারস্য ও আশপাশের অঞ্চলে জরথুস্ত্রবাদ প্রচলিত ছিল। বর্তমানে এই ধর্মের অনুসারীরা ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ভারত, আফগানিস্তান ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন।
জরথুস্ত্র নামে এক ধর্মপ্রচারকের শিক্ষা থেকে এই ধর্মের সূচনা। তার চিন্তাধারা দীর্ঘ সময় ধর্মীয় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ধর্মের আবির্ভাবে এই মতবাদের প্রভাব কমে যায়।
জরথুস্ত্রবাদে উপবাসকে নিরুৎসাহিত করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, উপবাস মানুষের শক্তি কমিয়ে দেয় এবং অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়, যা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ইয়াজিদিদের মধ্যে তিন দিনের রোজা রাখার প্রচলন ছিল। তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি মঙ্গলবার শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। ইয়াজিদি ক্যালেন্ডার সৌর ক্যালেন্ডারের তুলনায় ১১ দিন আগে শুরু হয়।
এই রোজা সূর্যোদয়ে শুরু হয়ে সূর্যাস্তে শেষ হয়। প্রাচীন ধর্মযাজকেরা টানা তিন দিন রোজা পালন করতেন এবং ঈদ ইজি' নামের উৎসবের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করতেন।
ইয়াজিদিদের মধ্যে দুই ধরনের রোজা রয়েছে—একটি সাধারণ মানুষের জন্য, অন্যটি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা বিশেষ শ্রেণির জন্য। শিশু, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের এ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা সাধারণত বিশেষ রোজা রাখতেন। দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে যা কোনো মানত করতো তারাও এটি পালন করতো। বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে এই রোজা রাখা যায়। সাধারণ মানুষের জন্য এই বিশেষ রোজা বাধ্যতামূলক নয়, তবে যারা সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য কামনা করেন, তারা পালন করেন।
এছাড়া ইয়াজিদিদের মধ্যে ‘সাওম খুদান’ নামে আরেক ধরনের রোজা প্রচলিত আছে। এটি সাধু, অলিয়া ও আগ্রহী সাধারণ মানুষ পালন করেন। বেশি দিন রোজা রাখলে তা নিয়ে গর্ব করার রীতিও রয়েছে।
ইহুদিধর্ম
মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মানুষ তিনটি আসমানি ধর্ম অনুসরণ করেন, পাশাপাশি হাজার বছরের পুরোনো অন্যান্য বিশ্বাসও রয়েছে।
ইহুদিধর্ম, যা আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম, সেখানে 'ইয়োম কিপুর' বা প্রায়শ্চিত্তের দিনে উপবাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইহুদি ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই নবী মুসা দ্বিতীয়বার সিনাই পর্বত থেকে অবতরণ করেন এবং তার সঙ্গে তাওরাতের ফলক ছিল। ইয়োম কিপুর ২৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এটি ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় দিন হিসেবে বিবেচিত।
এই দিনে ইহুদিরা পার্থিব ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থেকে ইবাদত ও আত্মসমালোচনায় সময় ব্যয় করেন। সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ ও পাপ মোচনের উদ্দেশে তারা সূর্যাস্ত থেকে পরদিন রাত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন।
ইহুদিধর্মে কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়— অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীরা উপবাস থেকে অব্যাহতি পান, সাধারণত শনিবার ও ধর্মীয় উৎসবের দিনে উপবাস পালন করা হয় না (ইয়োম কিপুর ব্যতিক্রম), এছাড়াও নিসান মাসে উপবাস পালন করা হয় না, এটি এপ্রিল মাসের কাছাকাছি সময় হয়ে থাকে সাধারণত।
অবশ্য ইহুদি ধর্মের আধুনিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে আছেন, তাদের কর্মক্ষমতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তারা চাইলে রোজা নাও রাখতে পারেন।
এছাড়া ইহুদি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে স্বেচ্ছা উপবাসেরও প্রচলন রয়েছে, যা পাপের প্রায়শ্চিত্ত, করুণা প্রার্থনা বা নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশে পালন করা হয়।
খ্রিষ্টধর্ম
খ্রিষ্টধর্মে উপবাসের উদ্দেশ্য হলো ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জন।
দানিয়েল গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আমি প্রভু ঈশ্বরের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রার্থনা, মিনতি, উপবাস, ছাই ও শোকবস্ত্রসহ তার কাছে নিবেদন করি।’
খ্রিষ্টানদের কাছে উপবাসের গুরুত্ব অনেক। এটি ঈশ্বরের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক এবং যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের অঙ্গীকারের নিদর্শন।
বাইবেলে উপবাসের নির্দিষ্ট সময় বা মাস উল্লেখ নেই। প্রতিটি গির্জা বা সম্প্রদায় তাদের অনুসারীদের জন্য উপবাসের সময় নির্ধারণ করে। ফলে খ্রিষ্টানদের মধ্যে উপবাস পালনের পদ্ধতি ও সময়ে ভিন্নতা রয়েছে।
ইস্টারের আগে ৪০ দিনের উপবাস পালিত হয়, যা গির্জাগুলোর ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে। এ সময় খ্রিষ্টানরা সাধারণত দিনে অন্তত ১২ ঘণ্টা খাদ্য থেকে বিরত থাকেন। কেউ কেউ আরও দীর্ঘ সময় উপবাস পালন করেন।
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজতে দিনরাত অভিযান চালাচ্ছেন। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর জুইজ ডি ফোরায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সেখানে ধ্বংসস্তূপের স্তূপে দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত কুকুরসহ কয়েক ডজন জরুরি কর্মী তল্লাশি চালান। সোমবার বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী লিভিয়া রোজা জানান, তার কয়েকজন আত্মীয় কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার রাত থেকে আমরা এখানে আছি- তারা বেঁচে আছে কিনা দেখার জন্য। আশাই শেষ ভরসা।
শহরের বিভিন্ন এলাকা কাদা ও পানিতে তলিয়ে গেছে। একটি স্ফীত নদী গতিপথ পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি করেছে।
শহরটি রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪০ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিকটবর্তী উবা শহরেও কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। সেখানে পৃথকভাবে উদ্ধার অভিযান চলছে।
জুইজ ডি ফোরার মেয়র মার্গারিডা সালোমাও জানান, এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে।
তিনি বলেন, চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে তীব্র, ধ্বংসাত্মক ও অবিরাম। এটি আমার প্রশাসনের সবচেয়ে দুঃখজনক দিন।
ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডেমেট্রিয়াস গৌলার্ট জানান, রাতের বৃষ্টির সময় অনেকেই ঘরের ভেতরে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছি। এতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিউ লুলা দা সিলভা এক বার্তায় জানিয়েছেন, সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা এবং পুনর্গঠনে সহযোগিতা করা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা।