সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
ইউরোপীয় ইউনিয়ন

হিজবুল্লাহ বা ইরান কেউই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়

জোসেপ বোরেল। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:০৯

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে প্রাণঘাতী হামলার প্রতিশোধ নিতে কয়েক দিন আগে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলে এটিই ছিল ইরানের সরাসরি প্রথম কোনো হামলা।

যদিও কনস্যুলেটে হামলা চালানোর কথা ইসরায়েল স্বীকার করেনি। তবে এই হামলার পর এখন ইসরায়েলও প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় খুঁজছে। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় যুদ্ধের সূচনা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে হিজবুল্লাহ বা ইরান কেউই বর্তমানে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এমনকি আঞ্চলিক সংঘাত সৃষ্টি হলে তা ‘কারও স্বার্থেই ভালো হবে না’ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ বা ইরান কেউই বর্তমানে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয় বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান মঙ্গলবার ফরাসি দৈনিক লে মন্ডেকে বলেছেন। সপ্তাহান্তে ইসরায়েলে ইরানের হামলা সম্পর্কে জোসেপ বোরেল বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েক দিন আগে সতর্ক করা হয়েছিল।’

জোসেপ বোরেল আরও বলেছেন, ‘আক্রমণের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন- তারা শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তিনি আমাকে বুঝিয়েছেন- এটি ছিল কেবল নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া। আপনি যখন ক্ষতি করতে চান, তখন আপনি এমন কোনো ড্রোন পাঠাবেন না, যেটি আঘাত হানতে ছয় ঘণ্টা সময় নেয়।’

তার ভাষায়, ‘বর্তমানে হিজবুল্লাহ বা ইরান কেউই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়।’

ইইউ পররাষ্ট্র নীতির এই প্রধান জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো উত্তেজনা এড়ানো। তিনি উল্লেখ করেছেন, আঞ্চলিক সংঘাত ‘কারও স্বার্থে, বিশেষ করে গাজার স্বার্থে ভালো কিছু নয়’।

জোসেপ বোরেল জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতি এবং ঐক্য ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমতা নেই, যদিও জার্মানিসহ কিছু সদস্য দেশের ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমেরিকানরা চাইলে অন্য উপায় ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েলে তাদের অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে। তারা অতীতে অপরিবর্তনীয় নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আজ, আমি মনে করি, তাদের যে সুবিধা আছে তা তারা ব্যবহার করতে চায় না।’

তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সম্পর্কে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ‘স্পষ্ট এবং গভীর বিভাজন’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে কিছু দেশ- যেমন ফ্রান্স অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে শুরু করেছে।

বোরেল জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি সর্বদা পারস্পরিক সম্মতিসূচক অবস্থান উপস্থাপনের চেষ্টা করি: যদি ইউক্রেনের অবরুদ্ধ জনসংখ্যার জন্য পানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য বন্ধ করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি হয়, তাহলে গাজাতেও তা একই।’

তার ভাষায়, ‘যদি আমরা এই সার্বজনীনতাবাদী অবস্থান গ্রহণ না করি, তাহলে আমাদেরকে দ্বিচারিতা বা ভণ্ডামির জন্য অভিযুক্ত করা হবে।’

এর আগে সিরিয়ার রাজধানীতে তেহরানের কনস্যুলেটে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে শনিবার গভীর রাতে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইরান এ হামলা চালায়। যদিও বেশিরভাগ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারপরও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি হতে পারে বলে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

মূলত গত ১ এপ্রিল সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েলে রাতারাতি ৩০০টিরও বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে তেহরান। এর বেশিরভাগই ইরানের অভ্যন্তর থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রবাহিনী।

এদিকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আর না বাড়ানোর বিষয়ে বোঝাতে ইসরায়েল সফরে গেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন। এই সফরে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ইরানের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। যদিও এখনো পাল্টা আক্রমণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি তেল আবিব।

তবে এই উত্তেজনা যাতে আঞ্চলিকভাবে বড় পরিসরে ছড়িয়ে না পড়ে সেই উদ্যোগ নিতে ডেভিড ক্যামেরুনের এই হঠাৎ সফর।

তিনি ইসরায়েল সরকারকে স্মার্ট ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার জেরুজালেমে পৌঁছে ক্যামেরুন বলেছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রতি সংহতি জানাতেই সেখানে গিয়েছেন। পরবর্তীতে কী ঘটবে সে বিষয়ে ভাবার এখনই উপযুক্ত সময়। কিন্তু এটা পরিষ্কার ইসরায়েল আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেবে।

ক্যামেরুন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, উত্তেজনা যতটা সম্ভব কমের মধ্যে রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, ইসরায়েলের হামাসকেই মূল ফোকাসে রাখতে হবে। তাদের হাতে থাকা জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে হবে।


নির্বাচিত

ব্রাজিলে চলছে দ্বিতীয় দফার ভোট

বামপন্থি লুলা দা সিলভা আরও চার বছর থাকবেন নাকি ফ্লাভিও বলসোনারোর নেতৃত্বে ডানপন্থিরা ক্ষমতায় ফিরবে- তা এই ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো ও লুলা দা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। বামপন্থি লুলা দা সিলভা আরও চার বছর থাকবেন নাকি ফ্লাভিও বলসোনারোর নেতৃত্বে ডানপন্থিরা ক্ষমতায় ফিরবে- তা এই ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলছে, ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। প্রথম দফার ভোটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে লুলার তুলনায় ফ্লাভিও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত জনমত জরিপেও দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

লুলা দা সিলভার জন্য এটিই শেষ নির্বাচনী লড়াই। আগামী সপ্তাহে তিনি ৮১ বছরে পা দেবেন। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর তার নেতৃত্বাধীন বামপন্থিরা ব্যাপক সমাবেশের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব সমাবেশে করোনাকালে জাইর বলসোনারোর বিশৃঙ্খল ভূমিকা, আমাজন বনাঞ্চলের ক্ষতিসহ সরকারি কর্মসূচিতে কাটছাঁটের সমালোচনা হয়।

জাইর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তার ছেলে সরকার গঠন করলে দক্ষিণ আমেরিকায় আরেকটি ডানপন্থি দেশে পরিণত হবে ব্রাজিল। তবে ট্রাম্প এখনো ফ্লাবিওকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি।

অপরদিকে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে নিজেকে মার্কিন হস্তক্ষেপের ঢাল হিসেবে তুলে ধরেন লুলা। চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় গেলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও অপরাধ দমন ও সরকারি ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলকে ‘যিশুখ্রিষ্টের হাতে’ তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের শাসন ও মূল্যবোধকে তিনি খ্রিস্টধর্মভিত্তিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পরিবর্তনের এই বার্তা অনেক ব্রাজিলীয়দের আকৃষ্ট করেছে। ৬৭ বছর বয়সী ভোটার ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এদুয়ার্দো ভিয়ানা এএফপিকে বলেন, ‘এটি পরিবর্তনের প্রশ্ন। সেই পুরোনো বিষয় আর কত?’ লুলার সমালোচনা করে ভিয়ানা বলেন, ‘লুলার দাবি তিনি গরিবদের জন্য দেশ চালান। অথচ, মানুষ সুপারমার্কেটেও যেতে পারছে না।’

ব্রাজিলে এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় ২০২২ সালে। এতে জাইর বলসোনারো হেরে যান। পরে তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ মামলায় তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড (গৃহবন্দি অবস্থায়) ভোগ করছেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

বেলুচিস্তানে সেনা অভিযানে টিটিপির শীর্ষ কমান্ডার নিহত

আদিলের মাথার দাম ২৫ লাখ রুপি ঘোষণা করেছিল পাকিস্তানের সরকার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের কিলা সাইফুল্লাহ জেলায় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে নিহত হয়েছেন পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার আদিল শাহ ওরফে দরবেশ। আদিলের মাথার দাম ২৫ লাখ রুপি ঘোষণা করেছিল পাকিস্তানের সরকার।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সূত্র।

টিটিপিকে পাকিস্তানে প্রশাসনিকভাবে ‘ফিৎনা আল খারিজ’ নামে সম্বোধন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত আদিল ওরফে দরবেশ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে টিটিপিতে যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে সক্ষম হন। ২০২৪ সালে টিটিপির আর্থিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করার দায়িত্ব পান আদিল, পাশাপাশি বেলুচিস্তানের ঝোব, শেরানি ও শাবান জেলায় বাইরের এলাকা থেকে আসা জঙ্গিদের থাকার ব্যবস্থাও করে দিতেন তিনি।

নিহত এই জঙ্গি কমান্ডার ২০২২ ও ২০২৩ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সূত্র। আরও জানা গেছে, এই জঙ্গি কমান্ডারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া তাকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের বিনিময়ে ২৫ লাখ রুপি পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, এই অভিযানটি ছিল বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অপারেশন রাদ্দ-উল-ফিতনা ৩’-এর অংশ।

২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানে গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ইসলামাবাদ বারবার কাবুলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে না পারে।

পাকিস্তানের দাবি, আফগান তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বেশ কয়েক দফা আলোচনার পরও ইসলামাবাদ ও কাবুল তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করতে পারেনি। আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো বড় বিরোধের কারণ হয়ে রয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

বিক্ষোভে উত্তাল অরুণাচল

ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশ। সেখানে প্রস্তাবিত আপার সিয়াংয়ে বহুমুখী বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে কয়েকটি বাড়ি ও আবাসিক ভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীন সীমান্তবর্তী আপার সিয়াংয়ে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে। শুক্রবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আপার সিয়াং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ছয় নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটে স্থানীয় এনএইচপিসি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাতটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পাসিঘাট থানার কিছু অংশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সিয়াং অঞ্চলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছিল। সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ ধর্মঘটের বেশ প্রভাব পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেকে শ্বাসকষ্টেও ভুগতে শুরু করেন।

ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের একাধিক সংগঠন, যেমন– আদি বানে কেবাং, সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফারমার্স ফোরামের যুব শাখা ও অন্যান্য যৌথ সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তাদের মূল দাবি চারটি। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ১০ আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, বরখাস্ত হওয়া গাওঁ বুড়াদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে এবং বাঁধের আগাম সমীক্ষার সব কাজ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব সদস্যকে সরানোর দাবিও করেছেন আন্দোলনকারীরা। গত শনিবারও পরিস্থিতি থমথমে ছিল।

প্রস্তাবিত বাঁধের বিরুদ্ধে ডাকা বন্ধ কর্মসূচি চলাকালে আপার সিয়াং জেলার গেকু এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চার নারী আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে পাসিঘাটে সহিংসতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন আটক হয়েছেন, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে– সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আপার সিয়াং বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন বিরোধিতা করে আসছে। প্রকল্পটি নির্মাণের প্রতিবাদে শুক্রবার বন্ধ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সমাবেশের ডাক

১ নভেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিজেপিবিরোধী ২৮টি ভারতীয় রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইনডিয়া’
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিজেপিবিরোধী ২৮টি ভারতীয় রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইনডিয়া’। সেই কর্মসূচিতে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ইনডিয়া জোটের প্রধান শরিক কংগ্রেসের হরিয়ানা রাজ্য শাখার সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং এবং সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দত্তের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই।

হরিয়ানা রাজ্য কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা পিটিআইকে বলেছেন, ভোটার তালিকার শুদ্ধতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এ বিষয়ে কংগ্রেস কোনো আপস করবে না।

তাদের দাবি, কংগ্রেস এবং বিরোধী জোট ইনডিয়ার দেশব্যাপী ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি এখন দেশব্যাপী এক নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরিয়ানার প্রতিটি জেলা, ব্লক, গ্রাম এবং ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পর্যন্ত এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

রাও নরেন্দ্র সিং এবং সঞ্জয় দত্ত পিটিআই-কে জানান, দলের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য গরমিলগুলো নথিবদ্ধ করেন, যোগ্য ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ান এবং ১ নভেম্বরের সমাবেশে হরিয়ানা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইনডিয়া’ জোটের এই সমাবেশকে ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতিতে অনিয়ম এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস জানিয়েছে, যেটিকে তারা ‘ভোট চুরি’ বলে অভিহিত করছে, তার প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশ গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার ক্ষেত্রে ঐক্যের একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঞ্জয় দত্ত বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, যোগ্য নাগরিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যেসব গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে, সেসব খুব গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সঞ্জয় দত্ত ও রাও নরেন্দ্র সিং বলেন, কংগ্রেস মনে করে, জ্ঞানেশ কুমার পদে বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর যথাযথ সমাধান সম্ভব নয়। তাই তাকে অপসারণ করা জরুরি। তারা আরও বলেন, তদন্তে যদি তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য বা আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে গ্রেপ্তারসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

পিটিআইকে সঞ্জয় বলেন, ‘ভোটাধিকার হলো গণতন্ত্রের ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিকের ভোট রক্ষা করা মানেই হলো সংবিধান ও জনগণের রায়কে রক্ষা করা।’ ‘আমাদের এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সেই সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য—যার মাধ্যমে তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সরকার বেছে নিতে পারেন।’

বিষয়:

নির্বাচিত

ট্রাম্পকে কড়া সমালোচনা ওবামার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল ও নানা অবকাঠামোগত সংস্কার নিয়ে বেশ কড়া কড়া কথা বলেন তিনি
বারাক ওবামা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি তীক্ষ্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মন্তব্য সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড শহরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল ও নানা অবকাঠামোগত সংস্কার নিয়ে বেশ কড়া কড়া কথা বলেন তিনি। মজার ছলে করেন সমালোচনাও।

জনসভায় ট্রাম্পের সংস্কার কাজ নিয়ে রসিকতা করে ওবামা বলেন:

‘আপনারা বিষয়টি খেয়াল করেছেন কি না জানি না, তবে মনে হচ্ছে তিনি (ট্রাম্প) বাড়িঘরের নানা কিসিমের সংস্কার কাজ নিয়েই খুব বেশি ব্যস্ত। তার তো এইচজিটিভি-তে একটা শো করা উচিত! তিনি এমন একটা বলরুম বানাচ্ছেন যা খোদ হোয়াইট হাউসের চেয়েও বড়। রোজ গার্ডেন বা গোলাপ বাগান পাকা করে সেখানে হেলিকপ্টার নামার প্যাড বানিয়েছেন। আর সব জায়গায় শুধু সোনা আর সোনা, ব্যাপার কী বলুন তো?’

এরপরই উপস্থিত জনতার করতালির মধ্যে ট্রাম্পের সংস্কার করা হোয়াইট হাউসের সাথে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের রাজপ্রাসাদের তুলনা টেনে ওবামা তার সেই আলোচিত মন্তব্যটি করেন:

‘হোয়াইট হাউসকে তিনি এমন এক দশায় এনে দাঁড় করিয়েছেন, যেন মনে হচ্ছে, সাদ্দাম হোসেন বুঝি একটা চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন—চারদিকে শুধু সোনা আর সোনা!’

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন এবং শেরোড ব্রাউনের পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে ওবামা এই তীর্যক মন্তব্যগুলো করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতি ও হোয়াইট হাউসের বিলাসবহুল সংস্কারের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ সাড়া ফেলেছে।


নির্বাচিত

ইসরায়েলে সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাজপথে ইসরায়েলিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে গত শনিবার তেল আবিবে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন দিন আগে তেল আবিবের ‘হোস্টেজ স্কয়ার’ বা বন্দিদের চত্বরে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি গোষ্ঠী এ সমাবেশের আয়োজন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবার নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি দাবি করছে।

সমাবেশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, নির্বাচনের তিন দিন আগে তারা তিন বছরের সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ের আয়োজন করছে। তাদের লক্ষ্য সত্য উন্মোচন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির অন্যান্য স্থানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জন্য মানুষ জড়ো হন।

তেল আবিবের সমাবেশে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার দলের গাডি আইজেনকোট, যিনি নেতানিয়াহুর প্রধান মধ্য-ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে আইজেনকোটকে স্বাগত জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!’ স্লোগান দেন। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলানও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলি নাগরিক ও আইনজীবী ড্যান আদিন এক্সে দেওয়া পোস্টে বিক্ষোভে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা জানান। তিনি লেখেন, ডেমোক্র্যাটস দলের মিছিলে রবিন স্কয়ার থেকে হোস্টেজ স্কয়ার পর্যন্ত মানুষের ঢল নেমেছে। তাঁর ভাষায়, এই সমাবেশ পরিবর্তন, আশা ও বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এবং আইজেনকোটের জোট প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। কোনো জোটই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে তুলনামূলক কম আগ্রহী হতে পারেন। তবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাসহ পররাষ্ট্রনীতির বেশ কিছু বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

বিক্ষোভের আগে অক্টোবর কাউন্সিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করে জানায়, সরকারপন্থি কিছু পক্ষ সমাবেশে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে যুক্ত কিছু পক্ষ ওই রাতের সমাবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

অক্টোবর কাউন্সিলের মূল দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকার একটি রাজনৈতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ করবে সরকার এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগ করবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে গঠিত এমন কমিশন তারা বয়কট করবেন।

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের?

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পরিবর্তে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল- সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরায়েল সফর এবং অঞ্চলটির কিছু কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার খবর নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা সামরিক অভিযান চালানোর দিকে এগোচ্ছে।

দোহা থেকে আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, ‘অনেক সংকেত ও শক্তি প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে, যা থেকে মনে হচ্ছে, আমরা আরেক দফা লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি অঞ্চলটির কিছু কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

এলমাসরি বলেন, ‘এসব ঘটনাই ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শিগগিরই- হয়তো খুব শিগগিরই- ইরানের ওপর আরেক দফা হামলার পরিকল্পনা করছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি। তার বক্তব্য মূলত সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ভিত্তিতে করা মূল্যায়ন।

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলমাসরি।তিনি বলেন, ‘আশঙ্কার একটি দিক হলো, এবারের লড়াই আগের দফার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ও ভয়াবহ হতে পারে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

মক্কা-মদিনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ভূপাতিত করার পর সেগুলোর বিভিন্ন ভাঙা অংশ পশ্চিমাঞ্চলীয় একাধিক শহরে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কার ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগের একটি জনমানবহীন প্রান্তরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন।

পবিত্র নগরীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সৌদি অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেছেন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। এ অভিযোগকে ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে মক্কা ও মদিনার দিকে কোনো ধরনের আক্রমণ পরিচালনা করা হয়নি।

তবে হুতিদের পক্ষ থেকে পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শুক্র ও শনিবার সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোতে তারা ধারাবাহিক আক্রমণ পরিচালনা করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের সামরিক বিমানঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনেও লক্ষ্যভেদ করার দাবি করেছে তারা। অবশ্য রিয়াদ কর্তৃপক্ষ এসব হামলার ফলাফল বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি।

এদিকে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর (কোস্টগার্ড) একটি কেন্দ্র নিশানা করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়:

নির্বাচিত

ইসরায়েলকে বসবাসের অযোগ্য করার হুঁশিয়ারি ইরানের

হঠকারী পদক্ষেপের জবাবে মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গোটা ইসরায়েলকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের জবাবে মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গোটা ইসরায়েলকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হিব্রু, ইংরেজি ও ফারসি—এই তিন ভাষায় কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে আজিজি লেখেন, “একটি ভুল হিসাবই যথেষ্ট- এক ঘণ্টারও কম সময়ে অধিকৃত ভূখণ্ড বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।” দুই দেশের মধ্যে চলমান চরম বৈরী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর এ বক্তব্যকে তেহরানের আগ্রাসী পাল্টা কৌশলের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিজের হিব্রু ভাষার পোস্টটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করেন আজিজি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সমাপনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, “এই হুমকি চিরতরে দূর করার একটিই পথ- ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। সেনাবাহিনী, মোসাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রতি এটাই আমার নির্দেশ।”

তেহরানের বর্তমান শাসনকাঠামো ধ্বংসের ডাক দিয়ে নেতানিয়াহুর করা সেই মন্তব্যের জের ধরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান আজিজি। তবে এক ঘণ্টার মধ্যে এমন নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর দাবির সপক্ষে তিনি কোনো সুস্পষ্ট সমরাস্ত্র বা সামরিক পরিকল্পনার বিবরণ প্রকাশ করেননি।

উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এমন প্রকাশ্য বাগ্‌যুদ্ধ এবং সামরিক আগ্রাসনের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। বিশেষ করে সরাসরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইসরায়েলি হুমকি এবং এর বিপরীতে ইরানের ধ্বংসাত্মক পাল্টা সতর্কবার্তা আঞ্চলিক সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

সহিংস বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক সহস্রাধিক

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার দুরবস্থার প্রতিবাদে লাখো মানুষের রাজপথ অবরোধে আবারও চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার দুরবস্থার প্রতিবাদে লাখো মানুষের রাজপথ অবরোধে আবারও চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস ছাড়াও লিওঁ, লিল, তুলুজ, নঁত, মার্সেই এবং বোর্দোর মতো প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভের মুখে প্যারিসের ল্যুভরসহ প্রধান জাদুঘরসমূহ, ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন এবং বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আগের সপ্তাহের সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে ছিল প্রশাসন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে নামানো হয় প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ, আধা-সামরিক জেন্ডার্ম ও সেনাসদস্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়ে দেশব্যাপী প্রায় ১ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ধাতব বল, সিসার ছররা, আতশবাজি, গুলতি, ধারালো অস্ত্র ও এয়ারসফট বন্দুক উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না।’

ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় প্যারিসের ব্যবসায়ীরা দোকানপাটের কাচে কাঠের পাটাতন লাগিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন এবং অনেকেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। প্যারিসের মূল মিছিলটি তুলনামূলক শান্তভাবে পোর্ত দ্য ভিনসেনে পৌঁছালেও মিছিলের পথ নির্ধারণ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজকদের চরম মতবিরোধ দেখা দেয়। বিগত সপ্তাহে লুটপাট হওয়া বাণিজ্যিক এলাকা এড়াতে পুলিশ রুট পরিবর্তন করলেও বামপন্থী দলগুলোর দাবি, আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এমন বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে।

রাজধানীর চেয়ে প্রাদেশিক শহরগুলোতে সংঘাতের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টাকালে নঁত নগরীতে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে দাঙ্গা পুলিশ। এছাড়া লিওঁ, লিল ও তুলুজে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় এবং বোর্দোয় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপ ও ব্যারিকেড তৈরির ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে সরকার ও আয়োজকদের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশব্যাপী প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিলেও প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন সিজিটির দাবি, সারা দেশে জমায়েত হওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল আট লাখেরও বেশি। একইভাবে প্যারিসের উপস্থিতি নিয়ে পুলিশ ১ লাখ ১০ হাজার দাবি করলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে তা ছিল আড়াই লাখের কাছাকাছি।

চলমান এই সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শামিল হয়েছেন ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা। শিক্ষা খাতের সংকট ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে আন্দোলনকারীরা আগামী ৩১ অক্টোবর ফের দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকার দাবি না মানলে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘটের আলটিমেটাম দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ।

বিষয়:

নির্বাচিত

বদলে যাচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সমীকরণ

* ইতিহাসে প্রথমবার আমেরিকার কাছ থেকে গ্যাস কিনছে কাতার * তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছুঁইছুঁই
ছবি: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলা এবং বাণিজ্যিক নৌপথের চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতার এখন তাদের প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

​মার্কিন গ্যাসের ওপর নির্ভরতা ও চেনিয়ারের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি-

​বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ৪০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি। এতদিন গ্যাস বিক্রিতে শীর্ষে থাকা কাতার এবার নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে আমেরিকার মুখোমুখি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘চেনিয়ার এনার্জি’র সঙ্গে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’র একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

​চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ মিলিয়ন (৪০ লাখ) মেট্রিক টন এলএনজি কিনবে কাতার। ‘হেনরি হাব’-এর বাজারদরের সঙ্গে নির্দিষ্ট ফি যোগ করে গ্যাসের দাম নির্ধারিত হবে এবং ২০৩০-এর দশক থেকে এর সরবরাহ শুরু হবে। এছাড়া কাতারএনার্জি মার্কিন অপর প্রতিষ্ঠান ‘ভেঞ্চার গ্লোবাল’-এর কাছ থেকে বছরে আরও ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন গ্যাস কেনার আলোচনা চালাচ্ছে এবং সম্প্রতি পাওয়া ৩০০ কোটি ডলারের চীনা ঋণ দিয়ে আরও মার্কিন গ্যাস কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

​রাস লাফানে ইরানি হামলা ও অবরুদ্ধ কাতার-

​মূলত কাতারের উৎপাদন কেন্দ্রে ইরান যুদ্ধের সরাসরি আঘাত লাগাতেই এই সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রধান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র ‘রাস লাফান’-এ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় কাতারএনার্জির দুটি প্রধান উৎপাদন লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।

​কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। বর্তমানে কাতার আন্তর্জাতিক আইনের ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) নীতির আওতায় দায় মুক্তির আবেদন করছে। তার ওপর বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এবং বিকল্প কোনো সমুদ্রপথ না থাকায় ভৌগোলিক কারণে কাতার এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে।

​জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য-

​মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট মার্কিন এলএনজি খাতের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বৈশ্বিক এই অচলাবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিশাল মুনাফা অর্জন করছে মার্কিন কোম্পানিগুলো। সংকট শুরুর পর থেকে মার্কিন কোম্পানি ‘চেনিয়ার এনার্জি’ ও ‘ভেঞ্চার গ্লোবাল’-এর শেয়ারের দাম যথাক্রমে ২৬ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘ইউবিএস’ চেনিয়ার এনার্জির শেয়ারের সম্ভাব্য মূল্য ৩১৪ ডলারে উন্নীত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবায়নাধীন বিশাল এলএনজি প্রকল্পগুলোর কারণে আগামী দিনে বিশ্ব গ্যাস বাজারে তাদের একক রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

​তেলের দামে আগুন: ব্রেন্ট ক্রুড ১১৭ ডলারের কোঠায়

​গ্যাস সংকটের পাশাপাশি তেলের বিশ্ববাজারেও আগুন লেগেছে। মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা এবং তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

​গতকাল, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.১৪ শতাংশ বা ৩.৫৫ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ৭২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৯ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ২৭ সেন্ট হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মোট ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২.৩ শতাংশ বেড়েছে।

​সৌদি আরামকোয় সতর্কতা ও লোহিত সাগরে জাহাজ আক্রান্ত-

​তেলের দাম হু-হু করে বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ। গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তেল জায়ান্ট ‘সৌদি আরামকো’ ধাহরানে অবস্থিত তাদের প্রধান কার্যালয় থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

​অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গত ৯ অক্টোবর ‘জেম নম্বর ২’ নামের একটি সুপারট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি লিবিয়ার হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্রের পাইপলাইনের ভালভ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহসংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

​সংকট মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে জরুরি পদক্ষেপ

​জ্বালানি সংকট সামাল দিতে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ লুইজিয়ানার শোধনাগারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৌশলগত মজুত থেকে চার লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছে, যা দেশটির মজুতকে ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।

​জি-৭ দেশগুলোর সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জার্মানিও তাদের জাতীয় মজুত থেকে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলেও সংঘাত কীভাবে প্রশমিত হবে তা এখনো বিবেচনাধীন।

​মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতির কালো ছায়া নামতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।


নির্বাচিত

রিয়াদে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইয়েমেনি হুতির । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি হুতি গোষ্ঠী। প্রায় কাছাকাছি সময়ে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নাজারানে দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনও নিক্ষেপ করেছে তারা। তবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে সেই ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উভয়কেই ধ্বংস করেছে সৌদি-ইয়েমেন প্রতিরক্ষা জোট। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের কাছ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এবং সৌদি দৈনিক আরব নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৪টার কিছু পরে, সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ‘আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করে। বার্তায় রিয়াদ, নাজরান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়াদি আল-দাওয়াসিরে আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সতর্কবার্তা জারির কয়েক মিনিট পরই রাজধানী রিয়াদে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এক্সপোস্টে সৌদি-ইয়েমেন জোট বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’

এর আগে এক পোস্টে ব্রিগেডিয়ার আল-মালকি বলেছিলেন, ‘পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো একটি বড় ধরনের হামলাও রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণগুলোর একটি।

ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত নাজরান শহরটি বারবার সীমান্ত পেরিয়ে আসা রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ওয়াদি আল-দাওয়াসির অঞ্চলটি রিয়াদের একেবারে দক্ষিণে, ‘রুব আল-খালি’ (এমটি কোয়ার্টার বা বিশাল মরুভূমি) এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত।

যদিও হুতিরা মাঝেমধ্যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট কিছু হামলার দায় অস্বীকার করে থাকে, তবুও সীমান্ত পেরিয়ে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চার বছর ধরে চলে আসা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি।

সৌদি আরবের সঙ্গে হুতি বাহিনীর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে। সে বছর হুতি যোদ্ধারা পুরো উত্তর ইয়েমেনে ও রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি পালিয়ে যান। আবদারাব্বুহ মনসুর হাদিকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি- আমিরাত সামরিক জোট। তবে ২০১৯ সাল থেকে এই জোট থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে আমিরাত এবং ২০২৫ পুরোপুরি এ জোট থেকে সরে দাড়ায়। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আছে আর দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুতিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।

সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক, ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে হুতি বিদ্রোহীরা এবং সৌদির বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধনেও সক্ষম হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূল এবং এ সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী গত মাসে দখল করেছে হুতিরা। এর ফলে বিদেশে সৌদির তেল রপ্তানি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।


নির্বাচিত

ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী এবং দেশটির ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী এবং দেশটির ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খেরসনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনও এ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছে।

যুদ্ধের কারণে ওলেশকি বাসিন্দারা শরটিতে আটকা পড়েছেন এবং যুদ্ধের কারণে শহরটিতে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছাতে পারছে না। ফলে বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দ্বারপ্রান্তে আছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এ শহরটি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ফার্স্টলেডির দপ্তর থেকে একটি মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘ওলেশকির বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। যুদ্ধের সম্মুখসারির এ শহরটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আছে।’

আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ওলেশকি শহরে ‍যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। আরও বলা হয়েছে, এ যুদ্ধবিরতি হবে স্থানীয়, অর্থাৎ আপাতত শুধু ওলেশকিতেই এটি সীমিত থাকবে।

‘এটি এখন স্পষ্ট যে আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হতো’, বিবৃতিতে বলেছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই মানবিক কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ মুখপাত্র ডেভিড আরাখামিয়া গতকাল জানিয়েছেন, মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর অংশগ্রহণে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত এই চুক্তির আওতায় একটি মানবিক করিডোর তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে বাসিন্দারা শহর ছেড়ে যেতে পারবেন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এদিকে ক্রেমলিন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এখন এই চুক্তি বাস্তবায়নের তারিখ নির্ধারণের জন্য কাজ করছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ওলেশকি থেকে যেসব বেসামরিক নাগরিক চলে যেতে ইচ্ছুক, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এই স্থানান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

পেসকভ এই চুক্তি অর্জনে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে পেসকভ বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই; তিনি মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’

এর আগে এক বছর আগে মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গোপন মাধ্যম (ব্যাক চ্যানেল) তৈরি করেছিলেন।

মেলানিয়ার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এরপর থেকে স্লোভেনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই সাবেক ফ্যাশন মডেল যুদ্ধের কারণে বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৩৪ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন।

সর্বশেষ এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দিক থেকে সরে এসে পুতিনের দিকে ঝুঁকেছেন।

মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ‘ওলেশকি পরিকল্পনা’ (ওলেশকি প্ল্যান) বাস্তবায়নের জন্য তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘উভয় দেশের বেসামরিক নেতারা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং মানবিক প্রয়োজনগুলো মূল্যায়নের জন্য বিধ্বস্ত শহরটিতে যাবেন।’

শুক্রবারের (২৩ অক্টোবর) বিবৃতিতে মার্কিন ফার্স্টলেডি বলেছেন, ‘যেসব বাসিন্দা অন্যত্র চলে যেতে ইচ্ছুক, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হবে। আমার ধারণা, তাদের কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইবেন, আবার কেউ ইউক্রেনে যেতে চাইবেন।’


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদে ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব

ছবি: মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বিলিয়নেয়ারদের নিট সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘প্রপোজিশন ৪০’ নামের এই প্রস্তাবে প্রায় ২০০ বিলিয়নেয়ারের সম্পদের ওপর কর আরোপ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অর্থসংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এ বিষয়ে ভোট দেবেন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা। সমর্থকদের দাবি, এতে সম্পদ বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এই করের কারণে ধনকুবেররা অঙ্গরাজ্য ছেড়ে চলে গেলে বিনিয়োগ ও রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির অধিকারী। এখানে অপরাহ উইনফ্রে, মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, রিয়ালিটি টিভি তারকা কিম কারদাশিয়ান ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ লুকাসের মতো ধনী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের বসবাস। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটিতে গৃহহীন মানুষের সংখ্যাও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সম্পদ বৈষম্যও ব্যাপক। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির পাবলিক পলিসির অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কো ট্রেব্বি বলেন, প্রস্তাবটি সম্পদ বণ্টনের সর্বোচ্চ স্তরে থাকা অতি-ধনীদের লক্ষ্য করে আনা প্রথম বিলিয়নেয়ার কর। তার মতে, এটি ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পদ বৈষম্য কমাতে সহায়তা করতে পারে।

প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, অতি-ধনীরা তাদের সম্পদের ন্যায্য অংশ কর হিসেবে দিলে অঙ্গরাজ্যের বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলা সহজ হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বিস্তৃত বিলের কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ফেডারেল তহবিল কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে প্রচারণা চালানো সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন-ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্টের চিফ অব স্টাফ সুজান হিমেনেজ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাব্য অর্থসংকট মোকাবিলায় এই কর একটি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তিনি বিবিসিকে বলেন, কোনো পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবটির পক্ষে বিলিয়নেয়ারদের মধ্যেও সমর্থন রয়েছে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং কর দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আয় যত বেশি হবে, করও তত বেশি দিতে হবে—এতে আমার সমস্যা নেই। ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন। ব্যবসায়ী টম স্টেয়ারও করটির পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হওয়া স্টেয়ার বলেন, প্রস্তাবটির খসড়া তৈরির পদ্ধতিতে সমস্যা থাকলেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দাদের সুরক্ষায় এটি প্রয়োজনীয়। ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও প্রস্তাবটির পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক সমাবেশে তিনি বলেন, বিলিয়নেয়াররা ঊনবিংশ শতাব্দীর রাজাদের মতো শাসন করার অধিকারকে ঈশ্বরপ্রদত্ত বলে মনে করে। ৩ নভেম্বর আমরা বড় ধরনের বার্তা পেতে পারি।

তবে প্রস্তাবটি বিলিয়নেয়ার ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধিতার মুখেও পড়েছে। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন সম্পদ করের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক উদ্যোগে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন বলে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছেন। তার আশঙ্কা, কর আরোপ করা হলে ধনী ব্যক্তিরা অঙ্গরাজ্য ছেড়ে চলে যেতে পারেন এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ আয়কর রাজস্ব হারাবে সরকার। বার্কলে ইনস্টিটিউট অব গভর্নমেন্টাল স্টাডিজ ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ভোটারদের ৪৫ শতাংশ প্রস্তাবটির পক্ষে, ৪২ শতাংশ বিপক্ষে এবং ১৩ শতাংশ তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। প্রস্তাবটি পাস করতে অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন।


নির্বাচিত

banner close