রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সের্গেই শোইগুকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। একযুগ পর শোইগুকে সরিয়ে দেওয়া হলো। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আন্দ্রেই বেলোসভ নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। খবর- বিবিসির।
সের্গেই শোইগু ২০১২ সাল থেকে একটানা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান নিযুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী শোইগুর স্থলাভিসিক্ত হওয়া বেলোসভ একজন অর্থনীতিবিদ, যার সামান্য সামরিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কাজেই এমন একজন ব্যক্তিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী করার কথা শুনে হয়তো অনেকে অবাক হতে পারেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুশ প্রসিডেন্টের পুতিনের এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাশিয়ার অর্থনীতিকে তিনি তার যুদ্ধ প্রচেষ্টার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত করতে চাচ্ছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘উদ্ভাবনের’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জিডিপির একটি বড় অঙ্ক সামরিক খাতে ব্যয়ে শুরু করার পর রাশিয়া অনেকটা ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো হয়ে উঠেছিল। কাজেই সামরিক ব্যয়কে রাশিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও ভালভাবে সংহত করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দরকার বলে মনে করেন তিনি।
‘আর যে ব্যক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বেশি খোলামনের, তিনিই যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ী হবেন,’ বলেন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। বিবিসি রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ বলেন, শোইগুর জায়গায় নতুন কেউ আসার বিষয়টি তেমন আশ্চর্য হওয়ার মতো কোনো কিছু নয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে শোইগুর অবস্থান বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমনকি এটাও শোনা যাচ্ছিলো যে, তাকে পদচ্যুত করানো হতে পারে।
বস্তুত রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানে সামরিক বিপর্যয় এবং শক্তি ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, যার জন্য শোইগুকে অনেকটাই দায়ী করে থাকেন। এক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে একজন অর্থনীতিবিদ থাকাটা ক্রেমলিনের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার নীতিরই প্রতিফলিত বলে মনে করছেন রোজেনবার্গ। কেননা রাশিয়ার অর্থনীতি এখন যুদ্ধকালে পার করছে। তাই যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যথেষ্ট অর্থ থাকা অত্যাবশ্যক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুশ সরকারের সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে স্বাধীন রুশ ওয়েবসাইট দ্য বেল বলেছে, বেলোসভকে ‘রাষ্ট্রের একজন কঠোর রক্ষক হিসেবে দেখা হয়, যিনি বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়া শত্রু দিয়ে ঘেরা’।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া শর্ত না মানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গালিবাফ বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী আগের অবস্থায় ফিরবে না। একই কারণে আলোচনাও আগের পর্যায়ে ফিরবে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ আমাদের শর্তগুলো পূরণ না হবে, ইরানিদের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া হবে এবং মার্কিনিরা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করবে, ততক্ষণ হরমুজ তার পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাবে না।’
গালিবাফ আরও বলেন, একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশটি তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ওই চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত মেনে আগের অবস্থানে ফিরলে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনেই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা নির্মূলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘শিক্ষা ব্যবস্থা : কুমিল্লা কনসেপ্ট’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বড় সমস্যা তৈরি করছে। এই সমস্যা দূর করতে শিক্ষাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রতিটি এলাকার শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদের একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. মিলন।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরম অভিভাবকতুল্য। প্রতিটি শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ ও যত্নে আগলে রাখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা সভায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম ‘কুমিল্লা কনসেপ্ট’-এর মূল রূপরেখা তুলে ধরেন। এ ধারণায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘কুমিল্লা কনসেপ্ট’-এর লক্ষ্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষামুখী না করে বাস্তবজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তোলা এবং কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারসহ ‘কুমিল্লা কনসেপ্ট’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই ক্যাম্প ডেভিডের সফর সংক্ষিপ্ত করে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে মেরিল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে গিয়েছিলেন। সেখানে তার শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাত ৮টার ঠিক আগে ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি এলিপসে অবতরণ করে। পরে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের মেরিন ওয়ানে ওঠার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
কেন তিনি নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ক্যাম্প ডেভিড ছেড়ে ফিরেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার ক্যাম্প ডেভিড থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার কথা ছিল।
ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে ফেরার সময়ের সঙ্গে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা নতুন নিরাপত্তা সতর্কতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। শনিবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ‘বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন’ করার ও সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে নতুন হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই সামরিক সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অঞ্চলটিতে যাওয়া ও সেখান দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যারা মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া বা সেখান থেকে ফেরার জন্য ভ্রমণ করবেন, তাদের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছে, ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর ইয়ানবুতে থাকা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের এই হামলার চেষ্টা চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর রিয়াদকে লক্ষ্য করে তাদের প্রথম হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে এমনিতেই উদ্বেগের মধ্যে হুতিদের নতুন হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা পরিস্থিতির ঝুঁকিকে আরও সামনে এনেছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে ফিরে আসার কারণ হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ করেনি।
রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী পার্লামেন্ট নির্বাচনে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেষদিনের মতো ভোটগ্রহণ চলছিল। এদিন ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকা। এতে দুজন নিহত ও একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় ১ হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানির দাবি, নির্বাচন ব্যাহত করার লক্ষ্যে ইউক্রেন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু শত্রুরা সফল হয়নি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ায় প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। শক্ত কোনো বিরোধী দল না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় ব্যবধানে জয়ী হবে।
দখলকৃত ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলেও ভোটের আয়োজন করেছে মস্কো। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেননি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘গত (গতকাল) রাতে মস্কো অঞ্চলে চালানো দূরপাল্লার হামলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে রাশিয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে যুদ্ধ সচল রেখেছে।’
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল কাপোতনিয়া জেলায় অবস্থিত গাজপ্রমনেফত-মস্কো তেল শোধনাগার। উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার।
মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাশিয়াজুড়ে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০টি রাজধানীর দিকে আসছিল। কয়েকটি ড্রোন মস্কো তেল শোধনাগারের এলাকায় পৌঁছায় এবং একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে করে তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই-তিন বছর বয়সি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ।
জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, একটি বাড়িতে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে মা ও তার দুই শিশুসন্তান নিহত হন। পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় আহত এক কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো।
তিনি জানান, এক দিনের বেশি সময় ধরে কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। পাঁচটি জেলার ৩১টি স্থাপনা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফাস্তিভ জেলা। সেখানে ২৪টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বসতবাড়ি, শিল্প ও ইউটিলিটি স্থাপনা, একটি কৃষি প্রতিষ্ঠানের জায়গা এবং বিভিন্ন যানবাহন।
সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। ইয়েমেনের হুতিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুর্কি সরকার। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত বিষয়ে সহায়তা চাইলে তা দিতে আঙ্কারার কোনো আপত্তি নেই।
ফিদানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব-তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
গত ৭ আগস্ট তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল কথা হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ব্যবস্থা ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সৌদিকে কী সহায়তা দিতে পারে তুরস্ক
গত শনিবার তুর্কি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হুতিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে সৌদি আরব সহায়তা চাইতে পারে।
এসব প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি। তবে তুরস্ক ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি ফিদান। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী তুরস্ক এরই মধ্যে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। হামলা দ্রুত বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে তারাটি।
সৌদি আরবের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মিত্রদেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে বলে দাবি করেছেন কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবেইদ। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, হুথিদের হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়া গড়ে উঠছে।
তার দাবি, এই প্রতিক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোবে। এতে স্থল, নৌ ও আকাশ—তিন ধরনের সামরিক সক্ষমতাই থাকতে পারে। সৌদি আরবে অস্ত্রব্যবস্থা সরানো এবং লোহিত সাগরে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওবেইদ। তিনি তুরস্ককে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। মিশরও সীমিত ভূমিকায় যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা তার।
অন্যদিকে, দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি মনে করেন, সৌদি আরব মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা পেলেও তারা সরাসরি যুদ্ধের অংশ হতে আগ্রহী কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
তার মতে, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র ও রসদসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর বা যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় যুক্ত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থাকে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে পরিচিত করে। ইস্তাম্বুলে বৈঠকের পর তিন দেশ রিয়াদে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রথম পর্যায়ে এর মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যৌথ প্রতিরক্ষা। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তির সময় ফিদান বলেছিলেন, পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই এই জোটের ভিত্তি। অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে।
এদিকে হুতিদের হামলার পর পাকিস্তানও সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, সৌদি আরবের পাশে ‘কূটনৈতিক ও শারীরিকভাবে’ থাকবে পাকিস্তান। ‘শারীরিকভাবে’ থাকার বিষয়টিতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছে, হুতিদের হামলার পর মক্কা চুক্তির আওতায় সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তারপরও চুক্তির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে বলেছিলেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে। তবে কোন পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদিতে বাড়ছে হুতিদের হামলা
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, শনিবার ভোরে হুথিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশা, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ইয়েমেনের ভেতরেও লড়াই তীব্র হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর দাবি, দক্ষিণ মারিবের আল-ফুলিয়াহান এলাকায় হুথিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে ১২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। মারিব ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল। লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখলের পর হুতিরা মারিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম লেভি বা জ্বালানিতে বাড়তি শুল্ক বাতিল করা না হলে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সরকার হটানোর আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। এমনটাই সতর্ক করেছেন দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে জামায়াতের সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি ট্রেনমার্চ নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্দেশে দলটির প্রতিবাদ মিছিলে রওনা হন।
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘মিছিলটি হায়দরাবাদ, লান্ডি, নওয়াবশাহ, রোহরি ও সুক্কুর হয়ে যাবে। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর সেখানে ‘‘আমাদের বোনদের’’ ও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হব’ বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি ও জাতিকে এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তিনি এই বিক্ষোভকে একটি ‘‘বিপ্লবী সংগ্রাম’’ হিসেবে বর্ণনা করেন।’
সমর্থকদের উদ্দেশে নাঈমুর রহমান বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন রুট দিয়ে মানুষ ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই মিছিলের উদ্দেশ হলো সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করা।’ যেসব মানুষ অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না, তারাও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের খারাপ শাসনের মূল্য জাতিকে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি করছি, লেভির নামে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তাহলে পেট্রোলের দাম দ্রুত কমে প্রতি লিটারে প্রায় ২০০ রুপিতে নেমে আসবে। তখন অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারবে।’ নাঈমুর রহমানের দাবি, এই অঞ্চলের অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের তুলনায় পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম বেশি বাড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংকটের সময়ে সরকার সাধারণ মানুষকে লুট করতে চায়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর উচ্চমূল্যের সমালোচনা করে তিনি পেট্রোলিয়াম, গম ও চিনিশিল্পকে ‘মাফিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কার্টেল পাকিস্তানের মানুষকে লুট করছে। আমরা যদি এটা সহ্য করতে থাকি, তাহলে তারা আমাদের আরও লুট করবে।’
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই।’ অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষকে ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান তিনি। নাঈমুর রহমান বলেন, ‘গত ৩৬-৩৭ দিন ধরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে হায়দরাবাদ, সুক্কুর, মিরপুর খাস, লারকানা, নওশাহরো ফিরোজ, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাট এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী পুরো পাকিস্তানকে সংগঠিত করেছে।’
নাঈমুর রহমান আরও বলেন, ‘কোনো বাধাই বিক্ষোভকারীদের থামাতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘লেভি চালু রাখা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে এবং তা শেষ পর্যন্ত সরকারকে হটানোর আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যখন ইসলামাবাদে পৌঁছাব, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ সরকার আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জ্বালানি লেভির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে বিক্ষোভ করে আসছে। বর্তমানে এই লেভির পরিমাণ প্রতি লিটারে ১০০ রুপিরও বেশি।
ইসরায়েলের কাছে অতিমাত্রায় সংহারক ও একেকটি প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০৭ কেজি ওজনের মোট ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কয়েক শ কোটি ডলারের এ সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে প্রাথমিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৮০ কোটি ডলার মূল্যের এ বিশাল অস্ত্র চুক্তির ব্যয়ের সিংহভাগই মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে, যার মূল জোগানদাতা দেশটির সাধারণ করদাতারা। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক সহিংসতা এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের তীব্রতার মধ্যেই এত বিপুলসংখ্যক প্রাণঘাতী বোমার চালান পাঠানোর এই বিতর্কিত উদ্যোগ সামনে এলো।
প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন মূলত তিন ধরনের ভারী যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা এবং ভূগর্ভস্থ শক্ত অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা, যা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত। এর মধ্যে এমকে-৮৪ বোমাটি লক্ষ্যস্থলের শত শত মিটার দূর পর্যন্ত যেকোনো মজবুত স্থাপনা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। বিএলইউ-১১৭ বোমাটি নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এবং সমুদ্রবাহী জাহাজে নিরাপদে সংরক্ষণে বিশেষ তাপপ্রতিরোধী প্রলেপযুক্ত। অপরদিকে আই-২০০০ বোমাটির পুরু ধাতব আবরণ ভূগর্ভস্থ সুদৃঢ় কংক্রিট ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারদর্শী। প্রাতিষ্ঠানিক নীতির কথা উল্লেখ করে প্রস্তাবিত এ অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে বেসামরিক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে জো বাইডেন প্রশাসন ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও হোয়াইট হাউসে ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন এবং কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ছাড়াই শত শত কোটি ডলারের ধারাবাহিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে ইরাকে ‘অপারেশন অপেরা’ অভিযানে এই ভারী বোমা প্রথম ব্যবহারের পর লেবানন, সিরিয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ঘন ঘন এ মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণী সংস্থাগুলোর মতে, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরিত হলে তার ১১৫ ফুটের ভেতরের সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং মাটির গভীরে বিশাল গহ্বর তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, থার্মাল ও রাসায়নিক সংমিশ্রণে প্রস্তুত এসব বোমা বিস্ফোরণের সময় আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা তৈরি করে, যার প্রভাবে গাজায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ বোমার তাপে মুহূর্তে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন।
প্রস্তাবিত ৬০ হাজার বোমার সম্মিলিত ওজন প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন, যা নিউইয়র্কের সুবিশাল এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের কাঠামোগত মোট ইস্পাতের সমান কিংবা আইফেল টাওয়ারের মূল কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ ভারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টোকিওতে চালানো হামলায় ব্যবহৃত মোট বোমার তুলনায় এটি প্রায় ৩৫ গুণ বেশি এবং এটি বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়ে জার্মানির বার্লিনের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের সমপরিমাণ। এমন এক সময়ে ওয়াশিংটন এই বিপুল সমরাস্ত্র সরবরাহ করছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতে টান পড়েছে বলে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক নজরদারি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও মার্কিন অস্ত্রের পর্যাপ্ততা নিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এ আধুনিক অস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
এদিকে করদাতাদের অর্থে ইসরায়েলকে এই বিপুল পরিমাণ বিধ্বংসী বোমা সরবরাহের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার টাকার কার্লসন একে নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের হাতিয়ার বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন প্রস্তাবিত অস্ত্র চালানটি কংগ্রেসে আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন তহবিলের এমন ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সাবেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মার্জোরি টেলর গ্রিনও এই সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে এমন মারণাস্ত্রে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে আনুষ্ঠানিক আলোচনার লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দফা শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন যদি তেহরানের এসব প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে সরাসরি ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ মুখোমুখি হওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছে দেশটি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানান, তাদের দেওয়া শর্তগুলো কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে পৌঁছানো হয়েছে এবং তেহরান এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। মূল প্রস্তাবগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই উল্লেখ করেন যে, আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরানের বার্তা সুস্পষ্ট ও অনড়; নিজ সৃষ্ট জটিল সংকট থেকে ওয়াশিংটন যদি নিষ্কৃতি পেতে চায়, তবে ইরানের ন্যায্য অধিকার ও দেওয়া শর্তগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প নেই।
আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে মহসিন রেজাই আরও সতর্ক করে বলেন, ‘এই শর্তগুলো মেনে নেওয়াই ওয়াশিংটনের স্বার্থে ভালো হবে। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না, আমরা যে কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য শতভাগ প্রস্তুত।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী সমঝোতার মেয়াদ সমাপ্তির পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় সংলাপ শুরুর জন্য কাতার ও পাকিস্তান জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে যে বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা নিরসনে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোও সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে রেজাই জানান, নতুন করে মার্কিন বিমান হামলার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে অতীতের সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে ইরান তাদের সামরিক কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরজুড়ে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যস্থল করে এই নতুন প্রতিরোধ কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি মার্কিন রণতরীর সন্নিকটে একাধিক ওয়ারহেডবাহী দূরপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও তাদের বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা ও স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার নিরিখে যুদ্ধ এখনো চলছে।’ তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে তেহরান কৌশলগত নীতি অনুসরণ করছে। অপরদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি; যদিও ওয়াশিংটনের বৈরী আচরণ তাদের এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য করতে পারে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানের পরমাণু নীতি এখনও আগের জায়গায় বহাল রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের বিষয়ে তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ফতোয়ার বিধান তারা কঠোরভাবে মেনে চলছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলবর্তী বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাজধানী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি রিয়াদ। এর আগে শনিবার সৌদি রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের পর কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়, যার ফলে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা ব্যাহত হয়। গত জুলাই থেকে হুথিদের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শনিবার প্রথমবারের মতো রিয়াদজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও ভ্রমণের বিঘ্ন নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বেসামরিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং এই সামরিক সংঘাত যেকোনো সময় আরও বড় পরিসরে রূপ নিতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের তা গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘শত্রুতামূলক হামলার চেষ্টা’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নস্যাৎ করা হয়েছে।
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া অনলাইনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা নিশানা করে বহুসংখ্যক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় সৌদি হামলার চেষ্টার জবাবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া গেল এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনজুড়ে অন্তত তিনশত আক্রমণ চালিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের যুদ্ধ চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে হুথিদের আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই ইয়েমেনের আকাশসীমায় একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল আসিম মুনিরের কাছে বিশ্বটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। দেশটির সেনাপ্রধান সেখানে ছিলেন সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হতে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করে এই চুক্তির আয়োজন করেছিলেন তিনি।
আসিম মুনিরের কাছে বিষয়টি ছিল অত্যন্ত কৌশলগত একটি সাফল্য। নগদ অর্থের সংকটে থাকা পাকিস্তানকে সৌদি কয়েক বিলিয়ন ডলারের জরুরি বিনিয়োগ ও ঋণ দেবে। বিনিময়ে পাকিস্তান সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। পাশাপাশি সৌদির ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তখন পাকিস্তান ধরে নিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক শিগগিরই আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম থাকবে। কিন্তু এরপর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য কার্যত যুদ্ধের আগুনে জ্বলতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইরান সৌদিসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এরপর সৌদির সঙ্গে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের সংঘাতও দ্রুত আবার জ্বলে ওঠে। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়ে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা ইয়েমেনে নজিরবিহীনভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা বাড়ায় এবং সৌদি ভূখণ্ডে আঘাত হানে। এর জবাবে সৌদিও ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন পাকিস্তান, বিশেষ করে জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর চাপ বাড়ছে।
এর মধ্যে গত আগস্টে সৌদির সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে তুরস্ককেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এর নাম দেয়া হয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’। তিন দেশই সম্মত হয়, তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সিনিয়র ফেলো আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, আমি মনে করি না, আসিম মুনির ওই অঞ্চলের মুখোমুখি হওয়া হুমকিগুলো যথাযথভাবে হিসাব করেছিলেন।
সৌদির হাতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের নেই। অন্যদিকে, হুতিরা কঠিন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি যদি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পাকিস্তানের সামনে সেনা পাঠানো ছাড়া খুব বেশি বিকল্প থাকবে না। সৌদিতে প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনাও এর আওতায় পড়তে পারেন।
প্রতিরক্ষা অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে সৌদির ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। সম্প্রতি সৌদি দেশটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল ও বিনিয়োগ দিয়েছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সরকারি মন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ক্রমেই কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিতে থাকেন। তারা চুক্তির প্রতি নিজেদের ‘নিঃশর্ত’ অঙ্গীকারের কথা নিশ্চিত করেন এবং সৌদিকে রক্ষায় ইসলামাবাদ ‘যেকোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত বলেও জানান।
তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অন্তহীন যুদ্ধে দেশটি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত। আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জঙ্গিবাদও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি।
অনেকের আশঙ্কা, ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় হলে ইসলামাবাদ ইরানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে- এমন বার্তা যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তেহরানে হামলার আগে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ভালো সম্পর্ক ছিল। যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় আসিম মুনির তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতেও এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়েছিলেন।
কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হয়েছে, পাকিস্তান ততই ইরানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। একই সময়ে ইসলামাবাদের ওপর তেহরানের আস্থাও অনেকটাই কমে গেছে। আয়েশা সিদ্দিকা জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিলে এর ‘বড় ধরনের পরিণতি’ হতে পারে।
ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠী পাকিস্তানে বসবাস করে। ফলে হুতিদের ওপর হামলায় পাকিস্তান জড়িয়ে পড়লে দেশটির শিয়া জনগোষ্ঠী প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে পারে।
এদিকে আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গেও ইরানের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের অন্যতম বড় নিরাপত্তা হুমকি আরও উসকে যেতে পারে। এতে ইরান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের অস্থিতিশীল অঞ্চল বেলুচিস্তানের পরিস্থিতিও আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি বিদ্রোহ চলছে।
পাকিস্তানের সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, ‘মক্কা চুক্তি’তে কী কী শর্ত ও সমঝোতা হয়েছে, তা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের খুব অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ জানেন না।
আব্বাস বলেন, পাকিস্তান যদি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাহলে তা দেশের জন্য বিপর্যয় হবে। আমরা যদি এই সংঘাতে সৌদির পক্ষ নিই, তাহলে দেশ বিশৃঙ্খলা, অস্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় বিভাজনের মুখে পড়বে।
পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে বলেন, তার মনে হয় না সৌদি যুবরাজ এখনই চুক্তিটি সক্রিয় করতে চান। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি না, সৌদি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া হুতিদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, তা আপনি অনুমান করতে পারবেন না।
ইউক্রেন যুদ্ধ আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের জন্য নতুন করে সেনা নিয়োগের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ‘হাইব্রিড’ হামলা বাড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর ‘গোপন সেনা সমাবেশ’ বা স্টেলথ মোবিলাইজেশনের প্রস্তুতি চলছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও তিন লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তবে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নতুন গণনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন বলছে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে মস্কো।
ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় নেতারা। হাইব্রিড যুদ্ধের মধ্যে সাইবার হামলা, ড্রোন হামলা, নাশকতা, তথ্যযুদ্ধ ও অন্যান্য গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ গত শুক্রবার বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাব্য নাশকতা থেকে রক্ষার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ম্যাক্রোঁর ভাষ্যমতে, ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন কমাতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে রাশিয়ার।
এর মধ্যে পোল্যান্ডও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। টাস্কের আশঙ্কা, রাশিয়া কোনো হামলাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করতে পারে।
তিন লাখ সেনা নিয়োগের প্রস্তুতি
ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই রাশিয়ার নতুন সেনা নিয়োগের প্রস্তুতির কথা বলে আসছে। গত আগস্টে জেলেনস্কি বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর রাশিয়া অতিরিক্ত তিন লাখ সেনা নিয়োগ করতে পারে।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা ও বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা পরে দাবি করে, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মোট ছয় লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে মস্কোর। পশ্চিমা কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন, তিন লাখ নতুন সেনাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ার হাতে আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তাদের মতে, প্রকাশ্য ও বড় আকারের গণনিয়োগের বদলে ‘গোপন সেনা নিয়োগ’ বা স্টেলথ মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে জনবল বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউরোপ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ খবর অস্বীকার করেছে। এরপর ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন ভবিষ্যতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও আরও প্রকাশ্য পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে।
ব্রিটিশ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুর হুমকি
ইউক্রেনকে দূরপাল্লার হামলায় সহায়তা করা হলে ইউক্রেনে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মস্কোয় ব্রিটিশ দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। এর আগে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ১০ কোটি পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য।
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অর্থবহ শান্তি আলোচনার বদলে সামরিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে মস্কো।
এক দশকের বেশি সময় পর আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিরল খনিজসহ দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংয়ের বিমান অবতরণের সময় তাকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের বিদেশি কোনো নেতাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর ঘটনা বিরল। সফরকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের স্টেট ফ্লোরে তাদের জন্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর রোজ গার্ডেনে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন দুই নেতা। পরে তারা বৈঠকে বসবেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে শি জিনপিং ও পেং লিয়ুয়ানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করবেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। দুই নেতাই সেখানে বক্তব্য দেবেন। নৈশভোজে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, গুগলের সুন্দর পিচাই, ডেল টেকনোলজিসের প্রধান মাইকেল ডেল, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, সিটিগ্রুপের প্রধান জেন ফ্রেজার এবং অ্যাপলের সদ্য সাবেক প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এরপর আগামী শুক্রবার শি জিনপিং ও পেং লিয়ুয়ান আবার হোয়াইট হাউসে যাবেন। সেখানে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে ব্যক্তিগত চা-আড্ডার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন। এরপর শি জিনপিং জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে বাণিজ্য, শুল্ক, কৃষিপণ্য, বিরল খনিজ ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তাইওয়ান ও দেশটির জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজও আলোচনায় আসতে পারে। ইরান ও দেশটির তেল রপ্তানি নিয়েও কথা হতে পারে। শির সঙ্গে বিওয়াইডি, শাওমি, সিএটিএলসহ বড় চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। ২০১৫ সালের পর প্রায় ১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন শি।
ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে গেছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। হুতিরা অভিযোগ করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সৌদি আরব ২৬টি হামলা চালিয়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হুতিরা আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব ৩০০টি হামলা চালিয়েছে।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার জানিয়েছে, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হামলায় ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে সংঘাত তীব্র হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী সানায় হাজার হাজার মানুষ ইরান-সমর্থিত হুতিদের সমর্থনে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। হুতিরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উভয় পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘর্ষ ও হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, হুতিদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর তায়েফ অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানির খবর দিয়েছে।
সংঘাতের তীব্রতা বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হুতিদের দ্রুত এলাকা দখলের প্রেক্ষাপটে সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হুতিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে না।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হুতিদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত তা থেকে বিরত রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস শুক্রবার বলেছেন, ওই অঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতির কারণে লোহিত সাগরে জোটের নৌ-অভিযান ‘অপারেশন অ্যাসপিডিস’-এর সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্যালাস বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করছে। তিনি আরও জানান, ইয়েমেনে সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন।
সৌদির রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করার পর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা ঘটছে।
এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, ভোর তিনটার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের মোবাইলে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘এলাকাটি শত্রুপক্ষের আকাশপথের হুমকির মধ্যে রয়েছে।’ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর এএফপির সাংবাদিকেরা দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত গত জুলাইয়ে তীব্র হওয়ার পর এই প্রথম সৌদি রাজধানী রিয়াদ সরাসরি এমন সতর্কতার আওতায় পড়ল।
হুতিরা ইয়েমেনের জনবহুল বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। চলতি মাসে তারা দেশটির পুরো লোহিত সাগর উপকূল দখলের লক্ষ্যে দ্রুত অভিযান শুরু করেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপরও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নৌপথ ব্যবহার করে আসছিল।
হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তবে তারা দাবি করেছে, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ।
সামুদ্রিক পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কমেছে। তবে গত এক সপ্তাহে পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে।
সৌদি আরবকে রক্ষায় যে কোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান
সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘যে কোনো পর্যায়’ পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র বলেছেন, রিয়াদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইসলামাবাদের অঙ্গীকার পুরোপুরি ‘শর্তহীন’। মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাও এই প্রতিশ্রুতির আওতাভুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরি এসব কথা বলেন। আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান যেকোনো দিক থেকেই সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’