মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজায় আবারও ইসরায়েলের হামলা, ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৪ ১০:৫২

গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় অন্তত আরও ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হবার ঘটনা ঘটেছে। এই ভূখণ্ডজুড়ে চালানো পৃথক কিছু হামলায় তারা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি হামলার কারণে এখন পর্যন্ত রাফা ছেড়ে পালিয়েছেন ৮ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি।

আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজায় আকাশ ও স্থলপথ জুড়ে চালানো হামলায় কমপক্ষে ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাফায় হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের ব্যাপক লড়াই চলছে বলেও জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এবং হামাসের সশস্ত্র শাখা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ট্যাংকগুলো রাফার আরও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে, শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ইবনার দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং তিনটি পূর্ব শহরতলিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী আরও পশ্চিমে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা ইবনার প্রান্তে রয়েছে, যা ঘনবসতিপূর্ণ। তারা এখনও এটি আক্রমণ করেনি।’

তিনি রয়টার্সকে আরও বলেন, ‘আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাচ্ছি, এবং আমরা দেখছি যে সেনারা আক্রমণ করেছে এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে।’

এই মাসে গাজার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে একযোগে ইসরায়েলি হামলার ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী সাহায্য প্রবেশের প্রধান প্রবেশ পথও বন্ধ করে দিয়েছে, যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা ছাড়াই রাফাতে স্থল হামলা শুরু করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা গাজার দক্ষিণের এই শহরটিতে হামলার জন্য ইসরায়েলকে ব্যাপকভাবে সমালোচনাও করেছে। তবে ইসরায়েল বলেছে, সেখানে হামাস যোদ্ধাদের বেশ কয়েকটি ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে তাদের অবশ্যই অগ্রসর হতে হবে।

গাজায় পরিচালিত প্রধান সাহায্য সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস বলছে, চলতি মে মাসের প্রথম দিকে ইসরায়েল রাফা শহরটিতে হামলা শুরু করার পর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ৮ লাখেরও বেশি মানুষ রাফা থেকে পালিয়ে গেছেন।

গাজায় নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের জরুরি প্রতিক্রিয়া নেতা সুজে ভ্যান মিগান বলেছেন, অনেক বেসামরিক নাগরিক এখনও সেখানে আটকে আছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাফা শহরটি এখন তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিশ্বের সমন্বয়ে গঠিত: পূর্ব দিকটি মৌলিক যুদ্ধ অঞ্চল, মাঝামাঝি অঞ্চলটি ভৌতিক শহরে পরিণত হয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানরত জনবহুল জনগোষ্ঠী শোচনীয় পরিস্থিতিতে বসবাস করছে।’

নৃশংস হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল খাবার পানীয়, খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং গাজাজুড়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতালও বন্ধ করতে বাধ্য করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে বিদ্যুৎ জেনারেটরে ‘কয়েক মিনিটের’ জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে। জ্বালানি শেষ হলে ১৩০০ জন রোগীর সেবাও শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, গত বুধবার যুদ্ধে তাদের আরও তিন সৈন্য নিহত হয়েছে। এতে করে গত ২০ অক্টোবর থেকে গাজায় স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের সংখ্যা বেড়ে ২৮৬ জনে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে ৩৫ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৮০ হাজার মানুষ।

বিষয়:

নির্বাচিত

ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিরা

যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে তারা সেখানে গেছেন বলে জানা গেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ বর্তমানে দোহায় রয়েছেন। তবে তারা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না।

তিনি বলেন, কুশনার ও উইটকফ মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া ইরানের জব্দ থাকা ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলেও জানান ওই মুখপাত্র।

জব্দ অর্থ ছাড়ের দাবিতে দোহা যাচ্ছেন কর্মকর্তারা: ইরান

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার জন্য কাতারের রাজধানী দোহায় প্রতিনিধি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার সাথে এমন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই; দোহা সফরে ইরানি দল দেশটির অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি উত্থাপন করবে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহা যাচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’

তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনার সূচি নির্ধারিত নেই।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ইরানের একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল এ সপ্তাহে কাতার সফর করবে ঠিকই, তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দোহা সফরের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইরানের ভাষ্য, এই প্রতিনিধি দলের সফরের উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা নয়। বরং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ইরানের অভিযোগ, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত প্রথম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের নানা আপত্তি, সমালোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে।

এছাড়া সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন নিয়েও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

ইরানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ৬০ দিনের আলোচনাকালে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। ওয়াশিংটনের মতে, ইরানকে নৌচলাচলে কোনো বাধা না দিয়ে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালীর ওমান-সংলগ্ন জলসীমা দিয়ে নতুন নৌপথ চালু করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেহরান। তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল প্রথম ধাপে কাতারে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছে ইরান।

চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

ইরান জানায়, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পুনরায় চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে আরও ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়া হবে।

কাতারে বৈঠকের ঘোষণা ট্রাম্পের, অস্বীকার ইরানের

কাতারের দোহায় ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তিবৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ ঘোষণা অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলছে, এমন কোনো কিছুর পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে!

ইরান সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ দাবি অস্বীকার করেছেন। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদির উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ইরান করছে না।

তাসনিম বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলোআপসহ কাতারের সঙ্গে যথারীতি পরামর্শ চলমান থাকলেও দোহায় ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই দুটি বক্তব্য আপাতদৃষ্টে সাংঘর্ষিক মনে হলেও, গরিবাবাদীর মন্তব্যের পর বৈঠকটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, দোহায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলমান থাকর এই সময়ে বিশেষ দূত উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দোহা যাচ্ছেন। উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার পাশাপাশি মূল বৈঠকের ফাঁকে কারিগরি আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান লেভিট।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে জটিল বিষয়, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়। তবে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবির মুখে এই চুক্তিটি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।


নির্বাচিত

ইতালি ও বলকান অঞ্চলে রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতালি, ফ্রান্স ও বলকান অঞ্চলসহ সমগ্র ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া রেকর্ড-ভাঙা তীব্র দাবদাহে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একই সঙ্গে পুরো মহাদেশজুড়ে তীব্র দাবানল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ফ্রান্সে।

ফরাসি জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মাত্র তিন দিনে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগই বয়স্ক নাগরিক, পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে হ্রদ ও নদীতে গোসল করতে নেমে অন্তত ৭৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ইতালি, স্পেন ও জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। এই দেশগুলো থেকেও তাপপ্রবাহ-জনিত কারণে বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে ইতালির রাজধানী রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স এবং পালেরমোসহ ২২টি শহরে রেড অ্যালার্ট বা সর্বোচ্চ তাপ-সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত লোডের কারণে ইতোমধ্যেই ফ্লোরেন্স ও বারগামো শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে, যা জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

ইতালীয় বিমান বাহিনীর আবহাওয়াবিদ দানিয়েলে মোসিও বলেছেন, দেশটিতে আগামী আরও বেশ কয়েকদিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বলকান অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে ছিল এবং ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও হাঙ্গেরির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর উপরে রয়েছে।

তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আলবেনিয়া এবং বুলগেরিয়ার বনাঞ্চলগুলোতে বিশাল আকারের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের হাজার হাজার কর্মী হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলবেনিয়া ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা গরম বাতাস এবং শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় বা ‘হিট ডোম’-এর কারণে ইউরোপজুড়ে এই তীব্র গরম আটকে রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই তীব্র দাবদাহ হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। গত ২০ বছরের তুলনায় ইউরোপে রাতের তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি এখন ১০০ গুণ বেড়ে গেছে।

এদিকে ইতালীয় আবহাওয়া সমিতির সভাপতি লুকা মেরকালি রয়টার্সকে বলেছেন, আগামী ৫ বা ৬ জুলাই থেকে তাপপ্রবাহের আরেকটি ঢেউ আসার আশঙ্কা রয়েছে, যা ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের কিছু অংশকে প্রভাবিত করবে।


নির্বাচিত

ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চরম সংকট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সময় বয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও হাল ছাড়েননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির অনেক দুর্গম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের ফিরে আসা এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে।

সবচেয়ে বিপর্যস্ত লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা তাদের স্বজন প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে শাবল, হাতুড়ি কোদাল ব্যবহার করছেন। এদিকে কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। কৃষক অন্যান্য বাসিন্দাদের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই এখন দুর্গত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসেরসবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগবলে অভিহিত করেছেন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের শুরু গত বুধবার, যখন দেশটির উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে . . মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানান, মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৫০০টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যাতে প্রায় হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে, যা নির্দেশ করে যে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।

সর্বশেষ সোমবার ভোরবেলা কারাকাস লা গুয়াইরায় . মাত্রার আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, তবে এতে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানান, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সেনাসদস্য বর্তমানে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, “এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই আমাদের জন্য বড় অর্জন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ারগোল্ডেন আওয়ারবা ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছালেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর উদ্ধার তৎপরতায় তাদের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপনের কাজ চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, নিহত ৩৬

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, নিহত ৩৬ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৩৬ বেসামরিক নিহত ও আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির তালেবান সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে বলেছেন, ‘গত রোববার রাতে (২৮ জুন) চালানো এই হামলার ফলে ৩৬ বেসামরিক শহীদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। আর আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।

আল জাজিরা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্সের শিবিরে বোমা ও বন্দুক হামলায় আধাসামরিক বাহিনীটির তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর স্থল অভিযান ও আকাশ হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করেছে।

সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অনেকগুলো হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এক্স এ করা পোস্টে তারার বলেন, ‘আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনারে তিনটি লক্ষ্যস্থল নির্ভুল আঘাত ধ্বংস করা হয়েছে।’

কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হামলার অধিকাংশের জন্য পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায় দিচ্ছে।

শনিবার রাতে পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধু রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বোমা ও বন্দুক হামলায় বাহিনীটির তিন সদস্য নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় তিন আক্রমণকারী নিহত ও আরেকজন গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

এক বিবৃতিতে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালেবানের উপদল জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার।পাকিস্তান এই হামলার দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালাবে,’ তখনই বলেছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।

তারার দাবি করেন, আফগান সীমান্তের এই প্রদেশগুলোতে পাকিস্তান তালেবানের গোপন ও সুরক্ষিত আস্তানাগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়। পাকিস্তান তালেবান আফগান তালেবান থেকে পৃথক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে এই দুই তালেবানের মধ্যে মিত্রতা আছে।

জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের নিরাপদ আস্তানায় থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তারা কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে না বলে পাল্টা দাবি করেছে।


নির্বাচিত

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০ মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ জুন, ২০২৬ ২২:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলার বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের পর চার দিনে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস, এবং লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন শহরের ধ্বংস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেই দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

‘ধ্বংসস্তূপগুলোতে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। গত রোববার (২৮ জুন) ধ্বংস্তূপে আটকে পড়া মরদেহগুলো যেমন উদ্ধার করা হয়েছে, তেমনি জীবিতদেরও উদ্ধার কর হচ্ছে। আমাদের অভিযান শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের তলায় আমাদের স্বজনার জীবিত আছেন— এমন আশনিয়ে আমাদের এগোতে হবে’, বিবৃতিতে বলেছেন দেলসি।

বুধবার (২৪ জুন) ভেনিজুয়েলার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনিজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)।

বুধবারের (২৪ জুন) ভূমিকম্পকে ভেনিজুয়েলার এ যাবৎকালের ইতিহাসের সবচেয়ে সবচাইতে ভয়াবহ, বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির অজস্র ভবন, বাসাবাড়ি আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এই জোড়া ভূমিকম্পে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মোট নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে বাড়িঘর ও ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উদ্ধারের জন্য দিশেহারা অবস্থায় আছে উত্তর ভেনিজুয়েলার হাজার হাজার পরিবার।

ভূমিকম্পের পর ভেনিজুয়েলার বহু এলাকা বিদুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেলসি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্তত ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এর আগে ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্টের স্পিকার জর্জ রদ্রিগুয়েজ বলেছিলেন, বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫০ জনের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় ৩ হাজার ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় এ পর্যন্ত ৭৭৪টি ভবন ধসে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন জর্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভেনিজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নিখোঁজদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি; তবে দেশটির বিরোধী দলের দাবি, এখনও নিখোঁজ আছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।


নির্বাচিত

জার্মানিতে বন্দুক হামলায় নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তর জার্মানির শহর স্টাডেতে একটি যুব কল্যাণ কেন্দ্রে বন্দুক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্দরনগরী হামবুর্গের কাছে অবস্থিত যুব কল্যাণ কেন্দ্রে হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি পলাতক নেই। তিনি বলেন, ঠিক কতজন আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামবুর্গের পশ্চিমে অবস্থিত স্টাডেতে প্রায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বন্দুক হামলার পর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকা থেকে এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


নির্বাচিত

বেড়েই চলছে নিহতের সংখ্যা, স্বজনদের আহাজারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ভেনিজুয়েলায় উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে দেশটির বাতাস। এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার (২৪ জুন) রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প লা গুয়াইরার আশেপাশের উপকূলীয় এলাকাকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এলাকাটিতে প্রবেশ সীমিত করার পদক্ষেপ নেয় কারণ যানজটের বিশৃঙ্খলা উদ্ধারকাজকে বাধাগ্রস্ত করছিল।

সরকারি উদ্ধারকারী দলের অপ্রতুলতার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং তারা হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে। সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, লা গুয়াইরার আশেপাশের এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে এখন থেকে যে কাউকে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। তবে কাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সরকারি প্রতিক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরলেও, মানুষ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খুব কম সংখ্যক সরকারি উদ্ধারকারী দল দেখেছে বলে জানিয়েছে। সরকারি বাহিনী লা গুয়াইরায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের মধ্যে খাদ্য ও পানি বিতরণ করছে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, জীবিত মানুষ উদ্ধারের এই সংকটময় মুহূর্তে তার সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

তিনি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী ও মানবিক সহায়তার আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। রদ্রিগেজ বলেছেন, লা গুয়াইরাকে ‌সামরিকীকরণ করা হয়েছে এবং আরও সাহায্য আসছে। যদিও বাসিন্দারা বলেছেন, এটি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার ১১ বছরের শিশু

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে দেশটির লা গুয়াইরা অঞ্চলে এ উদ্ধার অভিযান সফল হয়, যা চলমান দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রমে আশার নতুন আলো এনে দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কারাবায়েদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটি জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট ও বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের স্তূপ বেয়ে একজনকে নিচে নামিয়ে আনছেন। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের অন্ধকারে ফ্লাডলাইট ও টর্চের আলোয় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রদ্রিগেজ বলেন, কিছুক্ষণ আগে কারাবায়েদায় ১১ বছর বয়সি একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি জীবনই ভেনিজুয়েলার জন্য আশার প্রতীক। এর আগে শনিবার একই অঞ্চলে মোইসেস নামের আরেক ১১ বছর বয়সি শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট (UNGRD) জানায়, শিশুটি উদ্ধারে প্রায় ছয় ঘণ্টার অত্যন্ত সতর্ক ও নিখুঁত অভিযান চালানো হয়।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলে, মোইসেসকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং সে এখন নিরাপদে রয়েছে। ছয় ঘণ্টার সূক্ষ্ম উদ্ধার অভিযানের পর আমাদের উদ্ধারকর্মীরা মাটির প্রায় তিন মিটার নিচে আটকে থাকা শিশুটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং তাকে নিরাপদে বের করে আনেন।

বুধবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশুদের ঘটনা স্বজনহারাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


নির্বাচিত

ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ১১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলেনে একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন যাত্রী ও ১ জন পাইলট।

এএফপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে, ফ্রান্সের মেউর্থ-এ-মোজেল বিভাগের প্রিফেক্ট ইভ সেগি জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি প্লেনটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে ও ঘটনার পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মুর্ত-এ-মোজেল বিভাগের বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার (২৮ জুন) টম্বলেন শহরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি একটি প্যারাশুট প্রশিক্ষণ স্কুলের ছিল। দুর্ঘটনায় পাইলটসহ বিমানে থাকা ১০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী এবং পাঁচজন প্রশিক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


নির্বাচিত

ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

* স্পেন ও ফ্রান্সে মৃত্যু সাড়ে ৩ শতাধিক * মৃত্যু বাড়ার শঙ্কায় প্যারিসের হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু * জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসে রেকর্ড ভাঙল আগের সব তাপমাত্রা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফুটন্ত কড়াইয়ে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘এল নিনো’র বিধ্বংসী জ্বালানি। বিশ্বজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এক ভয়ংকর এই জলবায়ু দানব ধেয়ে আসার খবর দিচ্ছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে এশিয়া থেকে ইউরোপ প্রকৃতির এই চরম রূপের আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী। এশিয়া ও ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে চলছে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, বাড়ছে মৃত্যুও। জাতিসংঘও এটিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর এই প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন পারদ চড়াবে অস্বাভাবিক মাত্রায়, অন্যদিকে ডেকে আনবে রেকর্ডভাঙা বন্যা ও খরার মহাবিপর্যয়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের ৮৫০টি বড় শহরের প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ‘হিট স্ট্রেস’ বা তাপীয় চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বা ঠাণ্ডা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এই তাপপ্রবাহ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ইউরোপে দাবদাহের মধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সে মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে; আর জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে গত শুক্রবারের (২৬ জুন) তাপমাত্রা জুনের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কনসার্ট, ম্যারাথন ও বড় বড় গণজমায়েত বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্পেনের মোমো মনিটরিং সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, দাবদাহের কারণে দেশটিতে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্সেলোনার একটি বনে ভয়াবহ আগুন লাগার কারণে ১৬ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতর আটকে থাকতে হয়েছে।

ফ্রান্সে চরম তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। সেখানে তপ্ত গাড়ির ভেতর আটকে বেশ কয়েকজন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। তা ছাড়া দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সে অনিরাপদ এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্রান্সের সীমান্তঘেঁষা জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সারব্রুকেনে রেকর্ড ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

তবে ফ্রান্সে টানা তিন দিন ধরে নজিরবিহীন গরম অনুভূত হওয়ার পর বর্তমানে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগীর ভিড়ের চেয়ে এখন বাড়িতে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই চরম পরিস্থিতির সঙ্গে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এখন মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ইউরোপের এই মারাত্মক দাবদাহ ধীরে ধীরে উত্তর ও পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওলন্দাজ সীমান্তের কাছে ক্লাইন ব্রোগেলে বেলজিয়ামের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ লিমবার্গে সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকের ক্যাভেন্ডিশে রেকর্ড ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) ইউরোপ মহাদেশের অন্তত ১৫ কোটি মানুষকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই গরমের তীব্রতা আগামী দিনগুলোতে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে চেক আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, ২০১২ সালের ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রার রেকর্ড শনিবার (গতকাল) ভেঙে যেতে পারে। আর অস্ট্রিয়ার আবহাওয়াবিদরা বলছে, রোববার (২৮ জুন) দেশটির তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে।

বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতেও চরম গরম দেখা যাচ্ছে। সার্বিয়ায় সপ্তাহান্তে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পারদ চড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও। সুইজারল্যান্ডের বেজনউ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টরই গত শুক্রবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ আর নদীর পানি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, যা রিয়্যাক্টর ঠাণ্ডা করার জন্য উপযোগী নয়।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিক মৌসুমি গড়ের চেয়ে ৫-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি চড়ছে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে। তবে ইউরোপের গতি সবচেয়ে বেশি, এটি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে।

তীব্র দাবদাহে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন ব্রাসেলসের আগে প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বিকল হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া তিন যাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ফ্রান্সে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিসের হাসপাতালব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাপে সপ্তাহ শেষে অনুষ্ঠেয় প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভালসহ বেশ কিছু বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

একই কারণে জার্মানিতেও ম্যারাথনসহ বহু আয়োজন বাতিল হয়েছে। তবে শার্লেটি স্টেডিয়ামের ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকস মিট বাতিল না করে বিকালে রোদের তীব্রতা কমলে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গবেষণা দল সতর্ক করেছে, তীব্র গরমের কারণে সোমবার (২৯ জুন) থেকেই হিমবাহগুলো গলতে শুরু করবে, যা সাধারণত আগস্টে ঘটে থাকে। ২০২২ সালের পর এবারই হিমবাহ গলে যাওয়ার গতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

একদিকে যখন খরায় পুড়ছে কিছু দেশ, ঠিক তখনই জাপানে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল এখন কাঁপছে ভয়াবহ বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কায়।

ডব্লিউএমওর আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এল নিনো নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

আগামী আগস্টের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। নভেম্বরের মধ্যে এটি পূর্ণ শক্তি সঞ্চয় করার আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। এর ফলে আগামী তিন মাস পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এল নিনো আসলে কী? সহজ কথায়, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ‘এল নিনো’ বলা হয়।

প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসে এবং এটি প্রায় ৯-১২ মাস স্থায়ী হয়। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের চেনা ছক সম্পূর্ণ উল্টে যায়।

এর আগে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যার কারণে ২০২৪ সালটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল এবং ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল।

আঞ্চলিক প্রভাব: ‘কোথাও খরা, কোথাও বন্যা’- ডব্লিউএমওর মডেল অনুযায়ী, এবারের এল নিনোর প্রভাব বিশ্বকে দুটি চরম ভাগে ভাগ করে ফেলবে।

পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এই চরম আবহাওয়া সরাসরি আঘাত হানবে মানুষের স্বাস্থ্য, বৈশ্বিক বাস্তুতন্ত্র, কৃষি এবং জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংকটকে আরও জোরালো ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, এল নিনো মূলত উষ্ণায়নশীল বিশ্বের আগুনে ঘি ঢালবে। এর বিধ্বংসী গতি হবে কল্পনাতীত।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো জীবাশ্ম জ্বালানির অবসানে উদ্যোগ নেওয়া। কয়লা, তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

সবুজ রূপান্তর: নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে যাত্রা দ্রুততর করা। আসন্ন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্বনেতৃত্বকে কেবল আলোচনার টেবিলে না থেকে, এখনই মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।


নির্বাচিত

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ জুন, ২০২৬ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তু (প্রজেক্টাইল)’ আঘাত হেনেছে। চার মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানে দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের পর দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে শনিবার (২৭ জুন) এই ঘটনা ঘটল।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ট্যাংকারটির ব্রিজ (জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্রু দলের সকল সদস্য নিরাপদে আছেন এবং আপাতত পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি এই ঘটনার তদন্ত করছে।

চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলো একে অপরকে দুষছে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ওয়াশিংটন ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। ‘এভার লাভলি’ নামক একটি মালবাহী জাহাজে (কার্গো ভেসেল) ইরানি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনার জবাবে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার (২৬ জুন) মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান তদারকিকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, তারা বৃহস্পতিবারের ওই ড্রোন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’ দিয়েছে।

জবাবে ইরান শনিবার মার্কিন বাহিনীর সাথে যুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর অবস্থিত বাহরাইনেও একটি ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

জ্বালানি পরিবহনের এই রুটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস অননুমোদিত জাহাজ লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছুঁড়ছে, ফলে অন্য জাহাজগুলোকে প্রণালী পার হওয়ার আগে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মালবাহী (কার্গো) জাহাজে ড্রোন হামলার পর শনিবার ট্যাংকারে আঘাতের জেরে নৌচলাচল সুরক্ষায় নিয়োজিত জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার তাদের নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে।


নির্বাচিত

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারেরও বেশি 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এএফপি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো যোগ দিলেও উদ্ধারকাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় শহর লা গুইরা। সেখানে একের পর এক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এএফপিকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত জটিল একটি জরুরি পরিস্থিতি। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।’

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টা থেকে দুর্গত এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে বলে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো।

লা গুইরার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে চিলির উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। চারটি বহুতল ভবনের ওই কমপ্লেক্সে শত শত পরিবার বাস করত, যার অধিকাংশই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভবনগুলো সম্পূর্ণ ধসে গেছে। জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন আমাদের চেষ্টা মূলত মরদেহ উদ্ধার করা।’

অন্যদিকে বহু এলাকায় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবীরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাব নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

৪০ বছর বয়সী মারহোসলি সালাজার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার ছোট্ট গায়েলকে খুঁজছি। তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস। আমার ১৬ বছরের মেয়েটিও ভূমিকম্পে মারা গেছে। আর এক আত্মীয় এখনও নিখোঁজ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সহায়তা দরকার। ধ্বংসস্তূপ সরাতে যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দেখিনি।’

কারাকাসের একটি অভিজাত এলাকায় অন্তর্বর্তী নেতা দেলসি রদ্রিগেজ পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের উদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, ‘সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।’

শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প: ১৯০০ সালের পর এটিই ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সেসময় উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত ভেনিজুয়েলায় ১৯৯৭ সালের পর আর বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি।

দেশটির এক দশকেরও বেশি সময়ের অর্থনৈতিক সংকট হাসপাতাল ও জনসেবাকে দুর্বল করে দিয়েছে। লাখো মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কিন সমর্থিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাস পরও দেশটি নাজুক এক রূপান্তর পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে: জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, অন্তত ১৭টি দেশের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় মোতায়েন করা হচ্ছে।

স্পেন, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

অন্তর্বর্তী নেতা দেলসি রদ্রিগেজ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উদ্ধারকর্মী, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ২৫০ জনের বেশি সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ভেনিজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত কুকুরসহ তিনটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট রয়েছে।

ওয়াশিংটনের ত্রাণ তৎপরতা তদারকির জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কারাকাসে পৌঁছেছেন।

জাতিসংঘ ও অন্য সহায়তা সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভূমিকম্পের আগেই ভেনিজুয়েলায় লাখো মানুষ খাদ্য সংকট, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক সেবার অভাবে ভুগছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নয় এই সংকটকে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে দেওয়া।’

বিদেশি নাগরিকও নিহত: ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৮ জন পর্তুগিজ, পাঁচজন স্প্যানিশ, দুইজন ব্রাজিলীয়, সাতজন চীনা, একজন চিলিয়ান এবং একজন ইতালীয়-ভেনিজুয়েলীয় নাগরিক।

এ ছাড়া, ৮৫ জন পর্তুগিজ ও ১১৯ জন স্প্যানিশ নাগরিক এখনো নিখোঁজ বা তাদের অবস্থান অজানা বলে নিজ নিজ সরকার জানিয়েছে।

এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলো শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন রূপরেখা চুক্তি: বৈরুতে হিজবুল্লাহর বিক্ষোভ ও গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অবশেষে একটি ‘রূপরেখা চুক্তিতে’ পৌঁছেছে ইসরায়েল ও লেবানন। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা যৌথভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেন। তবে এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহ সমর্থকদের তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।

চুক্তির মূল লক্ষ্য ও শর্তাবলী

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই নতুন কাঠামোগত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের ওপর দেশটির রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’ নামে একটি সমন্বয়কারী সংস্থা গঠন করা হবে, যা দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সমন্বয় নিশ্চিত করবে।

চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ ও মার্কিন সহযোগিতায় লেবাননকে ১৩ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে মানবিক সহায়তা প্রকল্পে এবং ৩০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হবে। তবে হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও নিজেদের সেনা উপস্থিতি বজায় রাখবে।

রাষ্ট্রদূতদের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নাদা হামাদাহ বলেন, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এই রূপরেখা চুক্তিটি একটি প্রথম পদক্ষেপ।’ অন্যদিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটার একে ‘প্রকৃত শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘উভয় দেশই নিরাপদে বসবাস করবে এবং পরস্পরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান ও রক্ষা করবে।’

হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যান ও গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারি

এই চুক্তি ঘোষণার পরপরই হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করবে এবং নিজেদের অস্ত্র আরও দৃঢ়ভাবে ধরে রাখবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে এই চুক্তি জোরপূর্বক কার্যকর করার চেষ্টা করা হলে তা লেবাননে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।’ ফাদলাল্লাহর দাবি, হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

বৈরুতের রাজপথে সহিংস বিক্ষোভ

চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার গভীর রাতে বৈরুতের রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হিজবুল্লাহ সমর্থকরা শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থল ও বিমানবন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা টায়ার জ্বালিয়ে প্রধান সড়ক ও বিমানবন্দর সংযোগ সড়ক অবরোধ করে এবং চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে লেবাননের সেনাবাহিনী অস্থায়ী চেকপয়েন্ট বসিয়েছে। অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বিমানবন্দর সড়ক পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এবং বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ সমর্থকদের এই বিক্ষোভ পুরো শহরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। গত মার্চ থেকে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও মাঠ পর্যায়ে তা কার্যকর হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে একটি ‘দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামনে এখনো অনেক কঠিন পথ ও চ্যালেঞ্জ বাকি রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর অনড় অবস্থান এবং বৈরুতের রাজপথে বর্তমান উত্তজনা চুক্তির মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়নকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।


নির্বাচিত

ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বুরকিনা ফাসো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বর্তমান সামরিক সরকার সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, ফ্রান্স নিরবচ্ছিন্নভাবে বুরকিনা ফাসোর জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার শুরু থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রতি কঠোর ও বৈরী অবস্থান গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির বর্তমান প্রশাসন অভ্যন্তরীণ সমালোচনামূলক কণ্ঠ দমনেও অত্যন্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুরকিনা ফাসোর জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয় যে, গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছে দেশটি। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ফ্রান্স এখনও ‘নব্য-ঔপনিবেশিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ লালন করছে, যা মূলত বুরকিনা ফাসোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সরকারের দাবি, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোই বুরকিনা ফাসো এবং সমগ্র সাহেল অঞ্চলে নিরন্তর সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে ফ্রান্স বুরকিনা ফাসোর এই সিদ্ধান্তকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও ভিত্তিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, এটি বুরকিনা ফাসো প্রশাসনের ‘উদ্বেগজনক পরিবর্তনশীল আচরণ’ এরই একটি নেতিবাচক বহিঃপ্রকাশ। প্যারিস আরও জানিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে তারা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে। উল্লেখ্য যে, গত এক দশক ধরে বুরকিনা ফাসো এবং এর প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ সহিংসতার মোকাবিলা করে আসছে।

বুরকিনা ফাসো সরকার অবশ্য স্পষ্ট করেছে যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত মূলত দুই দেশের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এটি ‘বুরকিনা ফাসো ও ফ্রান্সের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে না।’ বর্তমান সময়ে আফ্রিকার অনেক সাবেক ফরাসি উপনিবেশেই ফ্রান্সবিরোধী মনোভাব তীব্র হচ্ছে। সেই সুযোগে এই মহাদেশে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আফ্রিকাকে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

একসময় উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী দেশ হিসেবে ফ্রান্স মহাদেশটির উপনিবেশ-পরবর্তী রাজনীতি ও ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছিল। এমনকি ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে তারা অসংখ্যবার সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল। তবে বুরকিনা ফাসোর এই নতুন ঘোষণা সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মূলে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close