শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

পদত্যাগপত্র জমা দিলেন মোদি

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৪ ১৫:৫৮

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আজ বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। একই দিনে পদত্যাগপত্র জমা দেন তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদও।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মুর্মু মোদি ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

সংবাদমাধ্যমটির খবর থেকে আরও জানা যায়, আগামী শনিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো শপথ নিতে পারেন মোদি। একই দিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ভারতের ১৭তম লোকসভার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৬ জুন।

ভারতে সাত ধাপে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয় গতকাল মঙ্গলবার। এতে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এককভাবে পায় ২৪০টি আসন। অন্যদিকে বিজেপির বাইরে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) অন্য দলগুলো পায় আরও ৫৩টি আসন। এ নিয়ে ২৯৩টি আসন পায় এনডিএ জোট।

বিষয়:

নির্বাচিত

পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ড্রোন হামলা ও অতর্কিত আক্রমণে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে আফগান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলায় এই হামলাটি ঘটে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

হামলার বিষয়ে প্রাদেশিক পুলিশ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা আধুনিক কোয়াডকপ্টার ড্রোনে হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) সংযুক্ত করে তা দিয়ে প্রথমে পুলিশের ওই চেকপোস্টে সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরবর্তীতে অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ নিশ্চিত করেছেন, কয়েক ঘণ্টার তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে সাম্প্রতিক এই হামলার দায় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

তবে এর মাত্র কয়েক দিন আগেই নিকটবর্তী টাংক জেলায় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।

ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে এই গোষ্ঠীটি।

অন্যদিকে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে নাশকতা, হামলা পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য আফগানিস্তানের ভূমিকে ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, সীমান্ত সংঘাত ও জেনুইন সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের সম্পূর্ণ নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার মোদির ছেড়ে দেওয়া উচিত: অভিজিৎ দীপকে

অভিজিৎ দীপকে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ভালো করছেন। এ কারণে তার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দেওয়া উচিত। মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

অভিজিৎ দীপকে এ সময় যুবকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিওগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তার ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি এতে বেশ ভালোই করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যদি এত ভালো ইনফ্লুয়েন্সারই হন তাহলে তার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং অন্য কাউকে এ কাজ করতে দেওয়া উচিত।’

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কংগ্রেস এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওগুলো নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিও করলেই আপনি জেন-জিদের ভোট পাবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে তার হৃদয়ের অ্যাঙ্গেল বদলাতে হবে।’

গত বুধবার (২৯ জুলাই) প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন নিয়েও মন্তব্য করেন ককরোচ জনতা পার্টির সভাপতি। অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমি মনে করি, এরকম আইন হতেই থাকবে। কিন্তু এদের লক্ষ্য সঠিক না হলে পরিবর্তন সম্ভব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে অনেক ভালো আইন তৈরি হয়েছে। একের পর এক শুধু আইন তৈরি হতেই থাকে।’

অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করলেন অভিজিৎ দীপকে

ভারতে চলমান আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ শাহ’র নির্দেশেই করা হয়েছিল।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দীপকে বলেন, ‘যেভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরানো হয়েছে, তা অমিত শাহের নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়।’

দীপকের এই দাবি আসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একই অভিযোগ তুলে অমিত শাহ’র পদত্যাগ দাবি করার একদিন পর। দীপকে বলেন, ‘আমিও মনে করি, তার (অমিত শাহের) পদত্যাগ করা উচিত।’

সিজেপি বিদেশি অর্থায়ন পেয়েছে— এমন অভিযোগও তিনি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই আমরা বিদেশি অর্থ পেয়ে থাকি, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও অমিত শাহ তা আটকাতে না পারেন, তবে সেটাও তার ব্যর্থতা। তাহলে নিজেকে কী ধরনের ‘চাণক্য’ বলবেন? সেক্ষেত্রেও তার পদত্যাগ করা উচিত।”

দীপকের আরও অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত তৈরি করেছিল। তার দাবি, গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙাচোরা গাড়ি আনা হয়েছিল, যাতে পুলিশি অভিযানের যৌক্তিকতা দেখানো যায়।

তিনি বলেন, ‘পাথর নিক্ষেপের পুরো ঘটনাই দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। বিজেপির লোকজন এসে পাথর ছুঁড়ে, অথচ দোষ চাপানো হয় ছাত্রদের ওপর।’ দীপকে আরও অভিযোগ করেন, তাকে এবং তার পরিবারকে বিজেপিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

আবারও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছেন ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

কিন্তু এবার ট্রাম্পের ঘোর বিপদে আবারও এগিয়ে এসেছেন এই মার্কিন ধনকুবের। ইরান যুদ্ধ শুরু করে ব্যাপক চাপে আছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন মাস্ক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘আমেরিকা প্যাক’ (America PAC) আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন মাস্ক। সে সময় সংগঠনটি রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারে ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল।

এবারের পরিকল্পনায় রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যাপক প্রচারণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এবং ডাকযোগে প্রচারণা পরিচালনা করবে আমেরিকা প্যাক।

বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়—এমন বছরগুলোতে সাধারণত ভোট দিতে কম আগ্রহী। তাদের ভোটদানে উৎসাহিত করাই হবে এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।

এবার এই উদ্যোগে মাস্ক কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার বড় অঙ্কের অর্থায়নের নজির বিবেচনায় বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতে পারে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের সংগঠিত করে রিপাবলিকানদের প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মাস্কের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নির্বাচিত

ইসরায়েলি বাহিনীতে বিদ্রোহ

সদে তেইমান ঘাঁটি থেকে যাওয়ার সময় সিনিয়র অফিসারদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ইসরায়েলি সেনারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান শেষে ঘাঁটিতে ফিরেই বিদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তীব্র বিরোধ ও বাগবিতণ্ডার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) অভিজাত গিভাতি ব্রিগেডের সাবার ব্যাটালিয়নের শত শত সেনাসদস্য ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা। ঘটনাটি সদে তেইমান ঘাঁটির। এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত প্রধান সামরিক ঘাঁটিটি গাজার ফিলিস্তিনিদের বন্দি ও নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাটালিয়নের সিনিয়র কমান্ডাররা সৈন্যদের ব্যারাক ও কোম্পানিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রথাগত প্রতীক, চিহ্ন ও ঐতিহ্যবাহী পতাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও অপসারণের নির্দেশ দিলে এই শৃঙ্খলা ভঙ্গের সূত্রপাত ঘটে। সাধারণ সেনাসদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সত্ত্বেও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার একতরফাভাবে প্রতীকগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যাটালিয়নের এক সদস্য ওয়ালাকে বলেন, ‘বিবাদের একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একজন পাঁচ কেজির একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে সেনাদের সংরক্ষিত প্রথাগত প্রতীকগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।’

সংবাদ মাধ্যমে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ সেনারা অফিসার, শীর্ষ কমান্ড স্টাফদের বিরুদ্ধে অশালীন ও অপমানজনক স্লোগান দিতে দিতে দল বেঁধে ঘাঁটি ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে কয়েক ডজন সেনা ঘাঁটি ছাড়লেও একপর্যায়ে পুরো ব্যাটালিয়ন চত্বর যোদ্ধা শূন্য হয়ে পড়ে। সেখানে কেবল কমান্ডাররাই অবস্থান করছিলেন।

ইসরায়েলি সেনারা ঘাঁটি ছেড়ে পালানোর সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা বিদ্রুপাত্মক স্লোগান দিতে থাকেন। ‘সব অফিসার জাহান্নামে যাক’ বলেও স্লোগান দেন কেউ কেউ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গিভাতি ব্রিগেড সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে একটি দীর্ঘ ও জটিল সামরিক অভিযান শেষ করে ঘাঁটিতে ফিরেছিল। বিউফোর্ট রিজ ও বিন্ট জাবালসহ একাধিক রণাঙ্গনে অভিযানের জন্য সেনাসদর থেকে তাদের প্রশংসাও করা হয়েছিল। অভিযান শেষে জেনারেল স্টাফ পুরো বাহিনীকে নতুন করে সাজানো এবং তাদের একাংশকে অন্যান্য রণাঙ্গনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ব্রিগেডটির বিরোধীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কমান্ড স্টাফরা ব্যাটালিয়নে তথাকথিত ‘প্রবীণ ও তরুণ’ সেনাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, অনানুষ্ঠানিক চিহ্নগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। কমান্ডাররা প্রতীক ও পতাকা নামিয়ে ফেলার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

আইডিএফ মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, একটি যুদ্ধ ব্যাটালিয়নের বেশ কিছু সেনাসদস্য তাদের কমান্ডারদের পূর্বানুমতি ছাড়াই ঘাঁটি ত্যাগ করেছেন। ব্যাটালিয়নের অনানুষ্ঠানিক ‘তরুণ ও প্রবীণ’ প্রথা সম্পর্কিত অপ্রচলিত চিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটি বর্তমানে সেনা কমান্ডারদের দ্বারা উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এই ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ কোনোভাবেই সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ ও সেনাসদস্যদের পেশাদার আচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


নির্বাচিত

ইরানে শক্তিশালী হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

* জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা * মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলা
ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে শক্তিশালী হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরান যে হামলা চালিয়েছিল, এই পাল্টা হামলা তারই কড়া জবাব।

ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের প্রথম যৌথ হামলার একদিন পরেই এই নতুন সংঘাত শুরু হলো। গত ফেব্রুয়ারিতে যখন আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন এই যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলবে; কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

গত বুধবার (২৯ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ট্রাম্প সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রিন্স জানান, সৌদি আরব এই উত্তেজনা প্রশমন করতে চায়। তবে এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

কূটনৈতিক সমাধানের আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই গত কয়েক দিন হামলা বন্ধ রেখেছিল। এর মধ্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করলেও তেহরান কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) হামলা শুরু করার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টার জবাব তিনি কড়াভাবেই দেবেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি, কারণ এখন আঘাত করার পালা আমাদের। তারা জানে যে হামলা হতে যাচ্ছে। তারা আমাদের অনুরোধ করেছিল যেন আমরা এটা না করি।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে তারা জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছিল।

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ‘সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে’ এবং ‘অনিরাপদ ও অবৈধ পথে’ চলাচলের কারণে নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় বলেও জানায় আইআরজিসি।

গত শুক্রবার ট্রাম্প ১৩ দিনের টানা বোমা হামলা বন্ধ করেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইরানের অস্ত্র ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে এই হামলা চালিয়েছিল। মঙ্গলবার সেন্টকম জানায়, গত তিন দিনে ইরান ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলা করেছে, যার জবাবে আমেরিকা ও সৌদি আরব মিলে ইরাকের কিছু অস্ত্র ও রসদকেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ইরাকের ইরান-ঘনিষ্ঠ বাহিনী পিএমএফ জানিয়েছে, তাদের অন্তত ২০ জন সদস্য এই হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরাকের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় পিএমএফ ঘাঁটিতে হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই হামলা মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জর্ডানের ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তেহরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেট্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের বরাতে পেট্রা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আটকানো হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, টানা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে খুব কঠোরভাবে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলা

মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় একটি বিস্ফোরণের পর মার্কিন মালিকানাধীন একটি প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকারসহ দুটি জাহাজে আগুন লেগে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনটি সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা এই ঘটনার খবর দিয়েছে।

একটি নজরদারি সংস্থা জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি ড্রোন হামলায় ঘটেছে, যদিও মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজগুলোর মালিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে এর কারণ নিশ্চিত করেননি। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল এটা দেখানো যে ইরান যদি সংঘাত বাড়িয়ে তোলে, তাহলে বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

অ্যাম্ব্রের তথ্যমতে, কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডের এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিচালিত মার্কিন মালিকানাধীন স্টোরেজ ট্যাংকার ‘এনারগোস উইন্টার’-এ আগুন লেগে যায়, এবং গ্রিস পরিচালিত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজে অন্তত একটি ড্রোন হামলা চালায়। এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জোনাথন চিয়া জানিয়েছেন, জাহাজের সকল নাবিকের খোঁজ পাওয়া গেছে এবং কেউ আহত হননি।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নির্বাচিত

ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে ভারত

মোদি ও নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ভারত। এসব অস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান ‘গণহত্যায়’ ব্যবহৃত হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পরও ভারত থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।

‘দ্য সাপ্লাই অব উইপনস অ্যান্ড অ্যামুনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির তদন্তকারীরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ভারত থেকে ইসরায়েলে পাঠানো ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের চালান বিশ্লেষণ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরায়েলের সামরিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান—যার মধ্যে ড্রোনের ওয়ারহেড ও আর্টিলারি শেলের খোলস রয়েছে—এবং সামরিক যানবাহনের ২৯৮টি যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, বাণিজ্যিক চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন চালানগুলো তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছর আল জাজিরাও ২০২৪ সালে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্র-সম্পর্কিত ৯১টি ভারতীয় কাস্টমস নথি সংগ্রহ করে। ওই নথিতে দেখা যায়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলের কয়েকটি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের যন্ত্রাংশ রপ্তানি করেছে।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ তুলে আসছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ‘গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতার পরও ভারত ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’ তার দাবি, ভারত শুধু অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থই হয়নি, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে।

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা ছিল ভারত। একই সময়ে ভারতের অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ছিল তৃতীয়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। ওই সময় দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ভবিষ্যতে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও ২০২৪ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার মোদীর ছেড়ে দেওয়া উচিত: অভিজিৎ দীপকে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবেই বেশি সফল। তাই তার উচিত প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়া।

বুধবার (২৯ জুলাই) মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি যদি এত ভালো ইনফ্লুয়েন্সারই হন, তাহলে তার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং অন্য কাউকে এ কাজ করতে দেওয়া উচিত।

এর আগে মঙ্গলবার কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও নরেন্দ্র মোদির ইনস্টাগ্রাম ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নতুন নতুন অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিও করলেই জেন-জি প্রজন্মের ভোট পাওয়া যাবে না। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীকে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল নয়, নিজের হৃদয়ের অ্যাঙ্গেল বদলাতে হবে।

এদিকে বুধবার প্রশ্নফাঁস নিরোধী আইন নিয়েও মত দেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের আইন হতেই থাকবে। কিন্তু লক্ষ্য যদি সঠিক না হয়, তাহলে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, এই দেশে অনেক ভালো আইন তৈরি হয়েছে। একের পর এক শুধু আইনই তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


নির্বাচিত

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির হামলা, নিহত ২০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এই হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্র-অনুমোদিত এই সংগঠনের বেশিরভাগ সদস্যই শিয়া। তারা জানিয়েছে—বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বিভিন্ন ভবন, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জামেরও বিভিন্ন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে রাতভর চালানো প্রাণঘাতী যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি আজ মন্ত্রিপরিষদের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠক শেষে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে।

সৌদি আরবের ভাষ্য, তাদের ভূখণ্ডে, বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী এলাকায়, ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে তেল উৎপাদনকারী এসব অঞ্চল ধারাবাহিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। সৌদি আরবের দাবি, তেলের দাম বাড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো ইরানের কৌশলের অংশ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ড্রোন হামলার সময়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কারণ, যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিনের বিরতির মধ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো এবং জর্ডান যৌথভাবে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, ‘ইরান-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর’ পথ বেছে নিয়েছে। সৌদি আরব বলেছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় সময়ে যথাযথ জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।

এদিকে জর্ডানে হামলার বিষয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সেখানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জিসিসির অন্যান্য দেশ এবং জর্ডানের পক্ষ থেকেও একই ধরনের আরও বিবৃতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভারত ও চীনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে একটি দ্বিদলীয় বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দুটি রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা। পাশাপাশি বিলটিতে রাশিয়া ও ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন পাওযা বিলটি মার্কিন সিনেটে ৮৬-১২ ব্যবধানে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়। যেখানে প্রায় সব রিপাবলিকান ও অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য একজোট হয়ে ভোট দেওয়ায় বিলটি অনায়াসেই প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের শর্ত অতিক্রম করে।

সিনেটে বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করা প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থিত দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ প্রশস্ত হলো। আইনটি কার্যকর হলে ট্রাম্প ভারত, চীনসহ রাশিয়ার তেল-গ্যাসের বড় ৫ ক্রেতা দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পাবেন।

কী আছে বিলে

অনুমোদিত বিলটিতে সরাসরি রুশ সরকারি কর্মকর্তা, অলিগার্ক, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মস্কোর তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি ট্রাম্পকে রুশ জ্বালানির প্রধান ক্রেতা বিশেষ করে চীন ও ভারতের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিশেষ প্রশাসনিক ক্ষমতা দেবে।

তবে বিলে কিছু নির্দিষ্ট ছাড় বা ব্যতিক্রমের বিধানও রাখা হয়েছে। যেসব দেশ তাদের মোট ক্রয়কৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম অংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে এবং সেই আমদানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধে বিলটিতে ইরানের জ্বালানি ও সামরিক অস্ত্র খাতে অর্থায়ন সীমিত করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার এখতিয়ার আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই আইনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামানুসারেই। আইনটি পাসের জন্য তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দ্বিদলীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

চলতি মাসের শুরুতে আকস্মিক মৃত্যুর কিছুদিন আগে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিলটির একটি সংশোধিত খসড়া সংস্করণে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন তিনি।

বিলটির সমর্থক আইনপ্রণেতারা দাবি করেন, পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়নের ক্ষেত্রে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অর্থনীতি ধ্বসে দিতে মস্কোর জ্বালানি খাত থেকে আসা আয় পুরোপুরি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।

ছয়জন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সর্বসম্মত দ্বিদলীয় চুক্তির মাধ্যমে বিলটি পাস করার চেয়ে সিনেটর গ্রাহামের স্মৃতি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানোর আর কোনো মহত্তর উপায় হতে পারে না।’

তবে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার ব্যাপারে সিনেটে ব্যাপক নীতিগত সমর্থন থাকলেও, কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা শুল্ক সংক্রান্ত বিধানগুলো নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আইনটি চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানোর আগে মার্কিন নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদ’-এর অনুমোদন পেতে হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ইতোমধ্যে তাদের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে চলে যাওয়ায় আগামী সেপ্টেম্বরের আগে বিলটি সেখানে বিবেচনার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

অনলাইন প্রতারণা চক্রের হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারে অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে মানুষকে অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি আইন পাস করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্ট। দেশটিতে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এই আইন করা হয়েছে।

বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংশোধনী অনুমোদনের পর ‘অ্যান্টি-অনলাইন স্ক্যাম বিল’ পাস হয়। ইউনিয়ন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন ডুয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে আইনটি পাসের কথা জানান।

নতুন আইনে সাইবার প্রতারণায় জড়িত কোনো ব্যক্তি যদি সহিংসতা, নির্যাতন বা বেআইনি আটকের মাধ্যমে কাউকে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেন, তাহলে তার ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এ ধরনের নির্যাতনের ফলে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মে মাসে আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিলেন।

কোভিড-১৯ মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র দ্রুত বিস্তার লাভ করে। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় এবং অনেক মানুষকে পাচার বা জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করানো হয়।

মিয়ানমারের নতুন সরকারের অধীনে পাস হওয়া এটিই প্রথম আইন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে সামরিক সরকার একদিকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থান কাটিয়ে উঠতে চাইছে। তবে দেশটির বড় অংশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করা ১৪ হাজার ৭১৮ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্বে কোক্কো ও কে কে পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ জুয়া ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ৭৭টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্ক্যাম-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৮.৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল। একই বছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতারণায় প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে—কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মেকং অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার কেন্দ্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সতর্ক করেছে, এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে আসা এবং পরে রাস্তায় পরিত্যক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা এখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।


নির্বাচিত

শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র চালানোর জবাব দিতে হবে মোদি-শাহকে: প্রিয়াঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্যামেরার কোণ বদলে নয়, হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেই তরুণদের আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব। শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র চালানোর জবাব দিতে হবে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহকে।

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে, শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসী ছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান আর অস্ত্র ব্যবহার করা হলো?

সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ মেটানোর বদলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাব দিয়েছে শক্তি প্রয়োগ করে, এমন অভিযোগও করেন তিনি। প্রতিটি লাঠির আঘাত শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারের ভাবমূর্তিরই বেশি ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রিয়াঙ্কা।

রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণরা এমন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়মই বেশি গুরুত্ব পায়। গত এক দশকে ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখনো কোনো ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত খরচ অনেক বেশি হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রিয়াঙ্কা।

এদিকে কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় মহারাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সি নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের রেখে যাওয়া একটি চিঠি পড়ে শোনান। মাত্র ১১ নম্বর কম পড়ায় কাট-অফে পৌঁছাতে না পেরে গত ২৫ জুলাই আত্মহত্যা করেন অঙ্কিতা। ভেনুগোপাল জানান, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ২০১৪ সালের ৮ হাজার ৬৮ থেকে বেড়ে এখন ১৪ হাজার ৪৮৮ হয়েছে। এটিকে শুধু সংখ্যা নয়, এক ভয়াবহ সংকট বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কার ‘প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের কোণ বদলানো দরকার’ মন্তব্যে সংসদে কিছুক্ষণ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যদের আপত্তির পর স্পিকার ওম বিড়লা কিছু মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভেনুগোপাল আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়। যারা তাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।


নির্বাচিত

যৌন নিপীড়ন মামলা: রায় বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন লেখিকা-কলামিস্ট ই. জেন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে রায় বাতিল চেয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তারা দাপ্তরিকভাবে আপিল করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত জুন মাসেও এ আবেদন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তবে সর্বোচ্চ আদালত সেবার তা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

মার্কিন লেখিকা-কলামিস্ট ই. জেন ক্যারল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন ২০১৯ সালে। মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান নামের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্পের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে মামলার রায় প্রদান করেন নিম্ন আদালত, সেই রায়ে ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ট্রাম্প ফেডারেল আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল করলে ফেডারেল আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ট্রাম্প। সেখানে তার আইনজীবীরা জানান, ২০১৯ সালে মামলা দায়েরের পর থেকে এখন পর্যন্ত জেন ক্যারল ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রায় ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার আদায় করেছেন।

এই যুক্তি দেখিয়ে নিম্ন আদালতের ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন জানান তারা। তবে আপিলের রায়ে আদালত বলেন, ট্রাম্প মোট ক্ষতিপূরণের একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রদান করেছেন এবং বাকি অর্থ তাকে প্রদান করতে হবে।

এই রায় বাতিল চেয়ে গত মাসে আপিল করেছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবরা, তবে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিলেন। তারপর মঙ্গলবার ফের রায় বাতিল চেয়ে আবেদন করলেন তার আইনজীবীরা।

এদিকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো মুখপাত্র এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


নির্বাচিত

হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। প্রণালীটির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় হরমুজের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে ইরানের হাতে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, ‘ওমানের প্রস্তাব ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি। তাই তেহরান নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।’

হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই মতবিরোধ শুধু ইরান ও ওমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নও।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যেত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও সেখানে হরমুজ পরিচালনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় নতুন বিরোধ তৈরি হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। যদিও গত সপ্তাহে সেই সংঘাত আপাতত থেমেছে, তবে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো চলছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওমান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই পরিকল্পনায় ইরানের উপকূলসংলগ্ন নৌপথ পরিচালনা করবে তেহরান এবং ওমানের উপকূলঘেঁষা অংশ পরিচালনা করবে মাসকাট।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছা ভিত্তিতে ফি নেওয়া হবে। সেই অর্থ দুই দেশ যৌথভাবে ব্যবহার করবে নৌ-চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায়।

ওমানের পরিকল্পনাটি মালাক্কা প্রণালীর ব্যবস্থাপনা থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে নৌপথ পরিচালনার ব্যয় বহন করে।

এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওমানের প্রস্তাবটি ওই দেশগুলোরও সমর্থন পেয়েছে।

ওমানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি তেহরান। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি নৌপথ পুরোপুরি ইরানের জলসীমার মধ্যে থাকবে। অন্য পথেরও একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে, যাতে প্রবেশ ও প্রস্থান—উভয় দিকের জাহাজ চলাচলের ওপর কার্যকর নজরদারি রাখতে পারে তেহরান।

গারিবাবাদি বলেন, ‘ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর হবে।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘ওমান যদি ইরানের প্রস্তাব না মানে, তাহলে হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। পাশাপাশি যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মতো বিনা ফিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থায় আর ফিরে যাওয়া হবে না’ বলেও জানান তিনি।

ওমান এখন নতুন আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সেই পরিকল্পনায় তিনটি পৃথক নৌপথ রাখার ধারণা রয়েছে—একটি পুরোপুরি ইরানের জলসীমায়, একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং আরেকটি ওমানের জলসীমায়। ইরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আলোচনায় তেহরান আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে।

শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

কোন পথে জাহাজ চলবে।

প্রণালী ব্যবহারের জন্য কী ধরনের ফি নেওয়া হবে।

সেই ফি কে নির্ধারণ ও সংগ্রহ করবে।

যুদ্ধ চলাকালে পাতা থাকতে পারে এমন সমুদ্র-মাইন অপসারণের দায়িত্ব কার হবে।

যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ইরান হরমুজে মাইন পেতেছে। যদিও তেহরান এ অভিযোগ স্বীকার করেনি। তবে যুদ্ধের সময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অনুমোদিত জাহাজ চলাচলের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে বলা হয়, যাতে সম্ভাব্য মাইন এড়িয়ে চলা যায়।

হরমুজ ব্যবহারের জন্য কত টাকা নেওয়া হবে, সেটিও বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মালাক্কা প্রণালীতে স্বেচ্ছা অনুদান থেকে বছরে প্রায় সাত কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত সেবা ফি নেওয়ার চিন্তা করছে। তেহরান এর আগে জানিয়েছিল, এই অর্থ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে থাকলেও প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের নিয়ম নিয়ে মতবিরোধ এখনো কাটেনি। ফলে সামরিক সংঘাত আপাতত কমলেও কূটনৈতিক লড়াই যে এখনো শেষ হয়নি, সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এদিকে প্রেসটিভি গত মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের আটকে রাখা অর্থ থেকে কোনো দেশ বা কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে সেই দেশের কোনো জাহাজকে আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন প্ররোচনায় বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সুবিধা নেওয়া গোষ্ঠীগুলোকে এই কৌশলগত জলপথ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।


নির্বাচিত

banner close