ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৪০ আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার এইফল প্রকাশ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অন্যান্য দলের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) পেয়েছে ৩৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি, ডিএমকে ২২টি, তেলেগু দেসম পার্টি (টিডিপি) ১৬টি, জনতা দল (জেডি-ইউ) ১২টি, শিবসেনা (উদ্ভব) ৯টি, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপিএসপি) ৮টি ও শিবসেনা (এসএইচএস) ৭টি আসন।
লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) পাঁচটি আসন পেয়েছে। চারটি করে আসনে জয় পেয়েছে ওয়াইএসআরসিপি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট)-সিপিআই (এম)। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), আম আদমি পার্টি (আপ) ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) তিনটি করে আসন পেয়েছে।
দুটি করে আসন পেয়েছে জনসেনা পার্টি (জেএনপি), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট–লেনিনিস্ট) (লিবারেশন)-সিপিআই (এমএল) (এল), জনতা দল-জেডি (এস), ভিসিকে, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) ও জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএন)। এছাড়া বেশ কয়েকটি দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। চূড়ান্ত ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ জোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৬টি। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে মোট ২০২টি আসন।
এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এককভাবে ৩০৩টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছিল ৩৫২টি আসন। একক দল হিসেবে এবার সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি। তবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনে জিততে পারেনি তারা। তাই সরকার গঠনে এনডিএ জোট মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের।
২০১৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে ৫২টি আসন পেয়েছিল। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ইউপিএ জোট পেয়েছিল ৯৪টি আসন। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গঠনে একটি দলকে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে দিয়ে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে।
অবরোধের প্রেক্ষাপট ও হরমুজ প্রণালির সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালানোর পর থেকেই সংকটের শুরু। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান বিশ্ববাজারের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এরপর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার নৌ অবরোধ আরোপ করলে ইরানের আমদানি-রপ্তানি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা থামেনি। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতি বাতিল ঘোষণা করেন এবং এ সপ্তাহের শুরুতেই পুনরায় নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন।
টানা চতুর্থ রাত হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
নৌ অবরোধের পাশাপাশি গতকাল টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করে দিতেই এই আক্রমণ। এমনকি প্রথমবারের মতো সি-ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের নৌঘাঁটিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে না ফেরে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতেও হামলা চালানো হবে।
ইরানের পাল্টা জবাব
এদিকে বসে নেই ইরানও। দেশটির সেনাবাহিনী আজ বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগারেও হামলা চালিয়েছে। তবে আইআরজিসির এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স এবং পেন্টাগনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ হতে গত মঙ্গলবার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসন্ন আগ্রাসন’ প্রতিহত করতেই ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, “হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ইরান যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। এর সঙ্গে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারটি সরাসরি জড়িত। আমরা আর কোনো ইস্যুতে কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করব না।” মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন তেহরানের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান প্রশাসনের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্ত ছিল ইরান কর্তৃক জাহাজ হামলা বন্ধ এবং বিনিময়ে ওয়াশিংটন কর্তৃক তেল রপ্তানির ওপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
তবে ৫ জুলাই আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি পুনরায় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। সংকটের মাত্রা আরও তীব্র হয় যখন গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন এবং ঘোষণা করেন যে, এখন হতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে কাজ করবে। এমনকি এই জলপথ ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ২০ শতাংশ হারে টোল প্রদানের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা ইরানকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান সমঝোতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন যে, অবরোধ জারির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত একটি বিশাল গম সংরক্ষণ সাইলো বা খাদ্য গুদামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলায় স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যায়নি। খুজেস্তান প্রদেশের উপ-গভর্নর দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপ-গভর্নর জানান, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া একটি শক্তিশালী প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ওই গম সংরক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত হানে। হামলার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কেবল অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও খাদ্য এবং বেসামরিক অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। খাদ্য গুদামের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে ইরানের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য প্রদান করেনি। ফলে হামলার প্রকৃতি ও নেপথ্য কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এক শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ভেতরে হামলা চালিয়ে হত্যা করতে পারে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারারুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম ওই হুমকি দিয়েছেন।
সাবেক এই ইরানি কমান্ডার বলেছেন, যদি ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তা সহজে করতে পারে। যখনই প্রয়োজন হবে, আমরা তা করতে সক্ষম।
এই হুমকির পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন মোকাদ্দাম। তিনি বলেন, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আলোচনার লক্ষ্য কোনও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো নয়।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বর্তমান আলোচনা থেকে তার দেশ শান্তির আশা করছে না এবং যুদ্ধের জন্য আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন তিনি।
মোকাদ্দাম বলেন, ‘আমরা শান্তির জন্য আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনা করছি না। আমরা উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা করছি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দাবিগুলোকে জোরালো করা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রাম্প এবং তার অপরাধী সহযোগীদের সঙ্গে শান্তির জন্য আলোচনা করছি না। আলোচনায় আমরা কেবল আমাদের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।
মোকাদ্দাম বলেন, ‘আর প্রতিশোধ ও পাল্টা জবাবের বিষয়টি আলোচনার টেবিলেই দৃঢ়ভাবে রয়ে গেছে।’
ইরানের সাবেক এই সামরিক কমান্ডার এমন এক সময়ে হোয়াইট হাউসে তেহরানের হামলার সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করলেন, যখন দেশটিতে ফের নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানারও হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তেহরানের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিতর্কিত হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ বা প্রহরী হবে যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘এখন আমরা এটি পাহারা দিতে যাচ্ছি এবং এই পাহারার জন্য আমাদের অর্থ প্রদান করা হবে।’
দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বন্যা, রোগব্যাধি এবং খরার হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। এসব দেশের কয়েকটি ইতোমধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আইআরসির জরুরি পরিস্থিতি-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বব কিচেন বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কয়েকটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখছি। যেসব এলাকার আরেকটি ধাক্কা সামলানোর মতো ন্যূনতম সক্ষমতা নেই, মূলত তারাই এখন নিশানা বা বিপদের মুখে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার ৯ জুলাই জানায়, এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী রূপ নেওয়ার ৮১ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব মূলত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছিল, এল নিনো পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি আরও দ্রুত শক্তিশালী হতে পারে।
জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েন তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, বছরের এই সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি এটিকে ‘বিশ্বের জন্য এক বিশাল পরিণতির এক বিরাট ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর জনগণ ইতিমধ্যেই খরা, সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ বাজেট কমে যাওয়ার কারণে চরম চাপে রয়েছে। ফলে নতুন একটি জলবায়ুগত বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের খুবই সীমিত।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাণিজ্যিক বায়ু উষ্ণ পানিকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে উষ্ণ পানি পুরো প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর ফলে বিশ্বের কোনো অঞ্চলে অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত হয়, আবার কোথাও বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পূর্ব আফ্রিকায় এর অর্থ হলো বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া এবং পরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অতিরিক্ত আর্দ্র ও বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়া। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রার আরেকটি সম্পর্কিত পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
সোমালিয়ায় এ বছর ভারি বৃষ্টির কারণে রাজধানী মোগাদিশুর বিভিন্ন এলাকা ইতিমধ্যেই বারবার প্লাবিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত আগাম সতর্কীকরণ সংস্থা এফইডব্লিউএস নেট জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে যদি ১৯৯৭ বা ২০২৩ সালের মতো বড় ধরনের বন্যা হয়, তবে সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ভিক্ষের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হবে। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ওই সময় এল নিনো এবং ভারত মহাসাগরের সম্মিলিত প্রভাবে কৃষিজমি তলিয়ে গিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
কেনিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও বাড়ছে উদ্বেগ: কেনিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এল নিনো বজায় থাকার ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি শুষ্ক আবহাওয়ার পর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় দেশটি ইতোমধ্যেই জাতীয় দুর্যোগ পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে।
বাংলাদেশে জুলাইয়ের শুরু থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্য দিকে পাকিস্তান একই সঙ্গে খরা ও বন্যার দ্বৈত সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে সামগ্রিকভাবে গড় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরের পার্বত্য এলাকায় হঠাৎ হিমবাহ গলে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
ধানের ফলন কমে যেতে পারে অর্ধেক পর্যন্ত: বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, এল নিনো পুরোপুরি বিকশিত হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধানের ফলন এক-পঞ্চমাংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ধান লাখ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। ফলে খাদ্যের ঘাটতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংক আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একসময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যখন ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সার সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরে সার উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, দুর্যোগ আঘাত হানার জন্য অপেক্ষা না করে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতির জন্য অর্থায়ন করতে হবে। সংস্থাগুলোর মতে, সময়মতো বিনিয়োগ করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভারি বর্ষণের সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে নারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির প্রাদেশিক সরকারের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। খবর আরব নিউজের।
প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলার লাচি তহসিলের মালাগিন এলাকায় গত রাতে তীব্র বর্ষণের একপর্যায়ে একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্যমন্ত্রী শফি জান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় নারীসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
তিনি জানান, দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
পাকিস্তানে বার্ষিক মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রদেশগুলোর অন্যতম এই খাইবার পাখতুনখাওয়া। এখানকার গ্রামীণ এলাকার মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কাদামাটি ও পুরোনো ভাঙাচোরা ইটের তৈরি জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন, যা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সময় সহজেই ধসে পড়ে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুমের বৃষ্টি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন।
সরকারি এই পরিসংখ্যান আরও বলছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসের কারণে। চলমান এই দুর্যোগে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইতিমধ্যে ৭৫টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের হাতে বন্দি দেশটির গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চির কোনো খোঁজ মিলছে না অনেকদিন ধরে। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে উৎখাত করা হয়। এরপর থেকেই কারাবন্দি তিনি। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সি এই নেত্রী আদৌ বেঁচে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—সু চি কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন?
সু চির ছেলে কিম আরিস কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরছেন। তিনি বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের কাছে একটিই দাবি জানাচ্ছেন। তা হলো, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন সু চির বেঁচে থাকার প্রমাণ (প্রুফ অব লাইফ) দেয়।
২০২২ সালের শেষের দিকে সু চির শেষ আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সু চির ১৫ বছর বয়সি প্রিয় কুকুর ‘তাইচিতো’ ইয়াঙ্গুনের বাড়িতে মারা গেছে। সু চি যখন ২০১০ সালে কারামুক্ত হন, তখন ছেলে কিম আরিস তাকে কুকুরটি উপহার দিয়েছিলেন। শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বস্ত কুকুরটি সু চির ফেরার অপেক্ষায় ছিল।
অং সান সু চি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত রাজনৈতিক বন্দি। আশির দশক থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করে দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
২০১৫ সালে তার দল ক্ষমতায় আসার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের পক্ষে সাফাই গাইলে সু চির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়। এরপর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক জান্তা আবার ক্ষমতা দখল করে এবং সু চিকে কারাগারে পাঠায়।
চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করেছিল, সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কূটনীতিকেরা সু চির অবস্থা জানতে চাইলে জান্তা কর্মকর্তারা কেবল বলেন, তিনি ‘ভালো আছেন’।
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং গত মার্চে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ তার সঙ্গে বৈঠকে সু চির প্রসঙ্গ তোলেন। কূটনীতিকদের মতে, সু চির নাম শুনলেই প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন জান্তা প্রধান।
জান্তা প্রধানের এমন প্রতিক্রিয়া দেখে কূটনীতিকদের একাংশের আশঙ্কা, সু চি হয়তো আর বেঁচে নেই অথবা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। যে কারণে জান্তা সরকার তার বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে পারছে না।
অবশ্য লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস ভিন্ন কথা বলছেন। তার মতে, সু চির মৃত্যুর মতো বড় খবর গোপন রাখা অসম্ভব। জান্তা প্রধানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণেই সু চিকে এভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতে পারে।
মিয়ানমারের অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৫১৭ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। চলতি বছরেই কারাগারে চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দি মারা গেছেন।
সু চি কারাগারে অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের মতোই মানবেতর পরিস্থিতিতে রয়েছেন। অন্য বন্দিরা সুবিধা পায় না বলে তিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) সেলে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক জান্তা বাহিনী সশস্ত্র বিদ্রোহের চেয়ে সু চির অহিংস আন্দোলনকে বেশি ভয় পায়। সু চিকে মুক্তি দিলে বা তার খোঁজ মিললে দেশের জনগণের অবাধ্যতা আন্দোলন আবার তীব্র হতে পারে, যা জান্তার ক্ষমতাকে নাড়িয়ে দেবে। এই ভয়ের কারণেই হয়তো সু চিকে পৃথিবীর নজর থেকে পুরোপুরি আড়াল করে রাখা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘জলদস্যু রাষ্ট্রে’ পরিণত করবে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে জ্বালানি-খাদ্যের দাম।
ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় লুলা এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দর অবরোধ পুনর্বহাল করা হবে। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখার খরচ মেটাতে প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
লুলা বলেন, ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেবেন। তবে এর বিনিময়ে প্রতিটি জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার জন্য জাহাজ মালিক বা তেল রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড জলদস্যুতার শামিল।’
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই দেশটির এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যার ফলে তারা নিজেরাই ‘জলদস্যু রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়।
লুলা সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্রাজিলেও জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে শিম, চাল, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিলের ৮০ বছর বয়সি এই বামপন্থি নেতা আগামী অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে তার সরকার এরই মধ্যে কয়েকটি সাময়িক পদক্ষেপ নিয়েছে।
লুলা জানান, মার্চে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর আরোপ করা ১২ শতাংশ কর থেকে পাওয়া অর্থ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও একটি কৌশলগত রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করা হলেও, স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে তা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের নূর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ‘শত্রুর গতিবিধি’ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই বিশাল আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তেহরান এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘চোখের বদলে চোখ’, যা মূলত ইরানে চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুসারে, তাদের এই সমন্বিত অভিযানটি মোট তিনটি স্তরে চলেছে। প্রথম স্তরে জর্ডানের ‘প্রিন্স হাসান’ বিমাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ঘাঁটিটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।
অভিযানের দ্বিতীয় স্তরে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বাহরাইনের ‘শেখ ঈসা’ বিমানঘাঁটিতে জোরালো আঘাত হেনে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, একটি পি-৮ বিমানের একটি হ্যাঙার ও একটি মার্কিন ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করে। আক্রমণের চূড়ান্ত ও তৃতীয় স্তরে কুয়েতের ‘আলী আল-সালেম’ বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ‘আহমেদ আল-জাবের’ বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তারা আর কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না ও তাদের এই প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের এই বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক আগের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে যুদ্ধবিমান, নৌ-রণতরী এবং আত্মঘাতী ড্রোন ও সামুদ্রিক ড্রোনের সাহায্যে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর ও ইরান কোনোভাবেই এটি নিয়ন্ত্রণ করে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ সেন্ট্রাল কমান্ড লেখে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি আদেশে ও নির্দেশনায় ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এবং বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন সময় বিকেল ৫টা থেকে এই হামলা শুরু করা হয়েছিল।
ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় দেশগুলো থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার ইরানের একাধিক শহরে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, ইরানের হরমুজগান কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দুপুরে তাদের অঞ্চলে শত্রুপক্ষের প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই হামলার ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত এবং পরবর্তী সুনির্দিষ্ট তথ্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।
এদিকে বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের পশ্চিমাঞ্চলে পর পর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানা যায়নি।
সোমবার রাতে হরমুজগান প্রদেশে হামলার ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহতের খবর পাওয়া যায়। ওই পরিবারের প্রধান রাঙ্গের হাসানজাদেহ বলেছেন, হামলার সময় তিনি বাইরে কাজে ছিলেন। কিন্তু তার দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূ ঘরে ছিলেন। মার্কিনিদের হামলায় তারা তিনজন নিহত হয়েছেন।
গত মাসে স্বাক্ষরিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এর পর ইরানে একাধিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হামলার জেরে মঙ্গলবার ‘যুদ্ধ, অশুভ শক্তি ও মার্কিন আগ্রাসনের’ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী কখনও খোলা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আকরামিনিয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সুরক্ষার ব্যাপারে দেশের সশস্ত্র বাহিনী কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। আকরামিনিয়া জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার একমাত্র উপায় হলো ইরানি জনগণের বৈধ অধিকারকে পূর্ণ সম্মান জানানো।
ইরানের নৌঘাঁটিতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানবহীন ‘কামিকাজে ড্রোন বোট’ বা আত্মঘাতী সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত ইরানের বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটির সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে তিনটি ড্রোন বোট দিয়ে এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর সমুদ্র ড্রোন ব্যবহারের এটিই প্রথম ঘটনা। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার অংশ হিসেবে এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তুলনামূলক ধীরগতির কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ড্রোন বোট ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান সদর দপ্তর বন্দর আব্বাস ঘাঁটির জেটির দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এটি জেটির গায়ে স্পর্শ করার সাথে সাথেই সেখানে একটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। সেন্টকম এই মিশনটিকে 'সফল' বলে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন বাহিনীর এই হামলা মূলত কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত সামরিক অভিযানের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইউক্রেনই প্রথম রুশ যুদ্ধজাহাজগুলোকে ধ্বংস করতে অত্যন্ত কম খরচের কামিকাজে সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে নৌযুদ্ধের ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছিল। কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের অভাবনীয় সাফল্যের পর বিশ্বের পরাশক্তিগুলোও এই ধরনের মানবহীন যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র গত মার্চ মাসে প্রথম টেক্সাস-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সায়রোনিক টেকনোলজিস’-এর তৈরি ‘সায়রোনিক করসেয়ার ইউএসভি’ তাদের বহরে যুক্ত করে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে এটি মোতায়েন করা হয়েছিল।
সেন্টকম জানিয়েছে, ‘তিনটি করসেয়ার ড্রোন বোট বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক সি-ড্রোন ব্যবহারের এটিই প্রথম ঘটনা। এই হামলার ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ইরানের নৌ-সক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।’
এর আগে গত মাসে ওমান উপসাগরে ইরানের হামলায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই মডেলের ড্রোন বোটটিই সফলভাবে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া দুই মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করেছিল। এটি ছিল কোনো স্বায়ত্তশাসিত সামুদ্রিক যান দ্বারা মার্কিন বাহিনীর প্রথম উদ্ধার অভিযান।
২৪ ফুট দীর্ঘ এই সায়রোনিক করসেয়ার ড্রোন বোটটির সর্বোচ্চ গতি ৩৫ নটস (ঘণ্টায় ৪০ মাইল) এবং এটি ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বিস্ফোরক বা পেলোড বহন করতে পারে। প্রায় ১ হাজার নটিক্যাল মাইল পাল্লার এই ড্রোন বোটটি দূরপাল্লার নিখুঁত হামলায় অত্যন্ত কার্যকরী।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে, যা যুদ্ধ অবসানের চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা। গত সপ্তাহের শেষে তেহরান ঘোষণা করেছিল যে হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্বীকার করেছিলেন।
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন অবস্থান নিয়ে ঘোষণা করেন যে, তিনি ইরানের ওপর আবারও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করবেন এবং এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত জাহাজের ওপর একটি ‘ফি’ বা টোল ট্যাক্স ধার্য করবেন। এটি মূলত ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি সবার জন্য উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত রাখার পক্ষে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন।
ভেনিজুয়েলায় গত মাসে পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৫৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০ হাজার ২৩১ জন অবস্থান করছেন। তবে এখনো ১৭ হাজার ৯০৭ জন স্থায়ী আবাসনের বাইরে রয়েছেন।’
রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, ফলে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫।
ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
‘ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলনে প্রভাব পড়েনি’
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ‘গত মাসে দেশটিতে আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তেল উত্তোলনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি।’
ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেলের মজুত থাকা ভেনিজুয়েলা বর্তমানে প্রতিদিন ১২ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করছে, যা এক বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। চলতি বছর তেল খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলেও সরকার আশাবাদী বলে জানান তিনি। খবর এএফপির।
দেশটির প্রধান রাজস্ব উৎস অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের বড় অংশ উত্তোলন হয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মারাকাইবো হ্রদ এবং পূর্বাঞ্চলের ওরিনোকো বেল্ট এলাকায়। গত ২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্য ও এর কাছে রাজধানী কারাকাস এই দুই তেল উৎপাদন এলাকার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।
গত দুই দশকে ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। ২০০০ সালের শুরুর দিকে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি উত্তোলন থেকে তা ২০২০ সালে নেমে আসে মাত্র ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এর পেছনে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে সাবেক তেলমন্ত্রী রদ্রিগেজ তেল খাতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন, যার লক্ষ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেশটির সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের প্রায় সবকয়টি জেলায় একনাগাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই প্রবল বর্ষণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অঞ্চলটিতে। তিস্তাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে পানি বেড়েছে। একই সঙ্গে, পাহাড়ে বাড়ছে ধসের আতঙ্ক। ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিস্তা নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় এরই মধ্যে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সিকিম ও উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তিস্তাসংলগ্ন প্রায় সব রাস্তায় উঠে এসেছে নদীর পানি। বিশেষ করে তিস্তাবাজারসংলগ্ন এলাকায় পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একাধিক নিচু এলাকা এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা অববাহিকায় পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিস্তার পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে তিস্তাবাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর পানি বেড়ে সমতলে নেমে আসায় বানভাসি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের চাপাডাঙ্গা ব্লকের পঞ্চায়েতের উত্তর বাসুসুবা, মাস্টারপাড়া, কেরানিপাড়াসহ একাধিক এলাকা পানিমগ্ন হয়েছে।
আবাদি জমি পানির তলায় চলে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। পানির স্তর বেড়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে এবং আরও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিস্তাবাজারের সঙ্গে দার্জিলিং ও কালিম্পং সংযোগকারী রাস্তাতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এই রাস্তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে সেবকে বাঘপুলের কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। এর কারণে সব যানবাহন ডুয়ার্স দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিস্তা এলাকায় মাইকিং শুরু হয়েছে। দার্জিলিঙ্গে অবস্থানরত ও আগত পর্যটকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন এই মুহূর্তে হোটেল বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেন। বিশেষ প্রয়োজন না হলে পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে আরও ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়ও।
ভারি বৃষ্টির জন্য তিস্তাসংলগ্ন এলাকায় লাল সতর্কতা জারির পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে।
ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের মূল পরিকল্পনাকারী ও হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বিশ্বাস করতেন, তাদের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট নিজ হাতে লেখা তার একটি নথিতে এমন তথ্য ওঠে এসেছে। গত সোমবার এ নথিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। খবর জেরুজালেম পোস্টের।
মেইর অমিত ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড টেররিজম ইনফরমেশন সেন্টার (আইটিআইসি) নথিটি প্রকাশ করেছে। গাজায় পাল্টা আগ্রাসন চালানোর সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামাসের যেসব নথি উদ্ধার করেছিল, এটি সেগুলোরই অংশ।
গত বছরের অক্টোবরে বা তার আগে আইটিআইসি বা আইডিএফের প্রকাশ করা আগের নথিগুলোও একই ধরনের বিষয়ের ওপর সিনওয়ারের লেখা ছিল। এমনকি এর মধ্যে একটি নথি একই দিনে লেখা হয়েছিল। তবে সদ্য প্রকাশিত এই নথিতে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
অপর একটি নথিতে সিনওয়ার উল্লেখ করেন, ইসরায়েলকে চমকে দিয়ে সফলভাবে হামলা চালানোর জন্য তাদের হাতে সময় থাকবে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ চালানোর ইসরায়েলি সক্ষমতা অকেজো করে দিতে হবে।
নতুন প্রকাশিত নথিতে সিনওয়ার বলেন, ‘ইসরায়েল যেকোনো অবস্থাতেই একটি জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, সেই সম্ভাবনাকেও তিনি উড়িয়ে দেননি।’
সিনওয়ার লেখেছিলেন, ‘প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা: শত্রু তাদের হাতে থাকা সব উপায় ও অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না, তা শুধু আক্রমণ নয়, অন্যান্য উপায়েও হতে পারে।’
তারা এমনকি পারমাণবিক বোমারও ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এর আগে তারা আমাদের হামলায় চমকে যাবে এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে একটি সর্বজনীন অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে মানুষ গ্রামে ফিরে গিয়ে প্রতীকীভাবে সেগুলোর দখল নিতে পারে। এই অভিযান হলো জীবন-মরণের লড়াই, এবং আল্লাহর রহমতে এখানে জীবনেরই জয় হবে।
আইটিআইসি লেখেছে, ‘হামলার জবাবে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে এমন বাস্তব ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, তিনি তার ত্রাণকর্তাসুলভ (মেসিয়ানিক) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসেননি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে এটি হবে ‘জীবন-মরণের লড়াই’, এমনকি যদি এর মূল্য হিসেবে পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংসও হয়ে যায়। নতুন এই নথিতে দুই শতাধিক ইসরায়েলি সম্প্রদায় ও আইডিএফ ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ১০ হাজার পর্যন্ত হামাস যোদ্ধার একটি আক্রমণ বাহিনীর কথা বলা হয়েছে।
যদিও পরবর্তী পরিকল্পনা এবং মূল হামলায় প্রথম ধাপে প্রায় দুই হাজার হামাস যোদ্ধা, দ্বিতীয় ধাপে সমসংখ্যক যোদ্ধা এবং তৃতীয় ধাপে বিশৃঙ্খলভাবে প্রায় ১ হাজার ৬০০ অদক্ষ গাজাবাসী অংশ নেয়।
ইসরায়েলের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে আইটিআইসিকে দেওয়া হামাসের এসব গোপন অভ্যন্তরীণ নথি গত ১৮ জুন দ্য জেরুজালেম পোস্টের হাতে এসে পৌঁছায়।
দ্য পোস্টের দেখা ছয়টি নথি বিশ্লেষণ করে আইটিআইসি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সাল পর্যন্ত হামাসের গোপন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল সুকৌশলে ইসরায়েলকে ধোঁকা দিয়ে আত্মতুষ্টিতে রাখা এবং ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের দিন আইডিএফকে চমকে দেওয়া।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি নথির শিরোনাম ছিল— ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলার ভিত্তি হিসেবে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা।