সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
৯ চৈত্র ১৪৩২

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল: কার ঝুলিতে কত আসন

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৪ ২১:৫৬

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৪০ আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার এইফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অন্যান্য দলের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) পেয়েছে ৩৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি, ডিএমকে ২২টি, তেলেগু দেসম পার্টি (টিডিপি) ১৬টি, জনতা দল (জেডি-ইউ) ১২টি, শিবসেনা (উদ্ভব) ৯টি, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপিএসপি) ৮টি ও শিবসেনা (এসএইচএস) ৭টি আসন।

লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) পাঁচটি আসন পেয়েছে। চারটি করে আসনে জয় পেয়েছে ওয়াইএসআরসিপি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট)-সিপিআই (এম)। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), আম আদমি পার্টি (আপ) ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) তিনটি করে আসন পেয়েছে।

দুটি করে আসন পেয়েছে জনসেনা পার্টি (জেএনপি), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট–লেনিনিস্ট) (লিবারেশন)-সিপিআই (এমএল) (এল), জনতা দল-জেডি (এস), ভিসিকে, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) ও জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএন)। এছাড়া বেশ কয়েকটি দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। চূড়ান্ত ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ জোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৬টি। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে মোট ২০২টি আসন।

এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এককভাবে ৩০৩টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছিল ৩৫২টি আসন। একক দল হিসেবে এবার সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি। তবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনে জিততে পারেনি তারা। তাই সরকার গঠনে এনডিএ জোট মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের।

২০১৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে ৫২টি আসন পেয়েছিল। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ইউপিএ জোট পেয়েছিল ৯৪টি আসন। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গঠনে একটি দলকে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হয়।


ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা আপাতত বন্ধ: ট্রাম্প

আপডেটেড ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আপাতত কোনো সামরিক হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার (২৩ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে কাজ করতে পারে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও জানান, বর্তমানে চলমান এই আলোচনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা প্রশমনের একটি অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এই সাময়িক বিরতি এবং আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে।


যাত্রীবাহী বিমান ও গ্রাউন্ড ভেহিকেলের সংঘর্ষে সাময়িকভাবে বন্ধ বিমানবন্দর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় মন্ট্রিল থেকে আসা এয়ার কানাডা এক্সপ্রেস এর একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সঙ্গে একটি গ্রাউন্ড ভেহিকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, রানওয়েতে একটি বিমান ও একটি যানবাহনের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ এর তথ্য অনুযায়ী, এয়ার কানাডার আঞ্চলিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘জ্যাজ এভিয়েশন’ পরিচালিত সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমানটি অবতরণের সময় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার (২৪ মাইল) বেগে ওই যানবাহনটিকে আঘাত করে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লা গার্ডিয়া অভিমুখে সব ধরনের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করে ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি করে। প্রাথমিকভাবে গ্রিনউইচ মান সময় ০৫৩০ পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে এই সময়সীমা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু অসমর্থিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সংঘর্ষে বিমানটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সামান্য উপরের দিকে হেলে আছে। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে অবতরণের অপেক্ষায় থাকা অনেক ফ্লাইটকে বিকল্প গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে কিংবা তাদের যাত্রারম্ভস্থলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও যানবাহন রানওয়ে থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়েতে গ্রাউন্ড ভেহিকেল উপস্থিত ছিল। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এফএএ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় হুমকির আশঙ্কা: আইইএ প্রধানের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব মূলত তেল ও গ্যাস বিপর্যয়ের একটি সম্মিলিত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি "একটি বড় হুমকির" মুখে পড়েছে। বিরোল বর্তমান অবস্থাকে ১৯৭০-এর দশকের ভয়াবহ জ্বালানি সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পরবর্তী প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্ববাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

উদ্ভূত সংকট নিরসনে সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, "আজ বৈশ্বিক অর্থনীতি একটি বড় হুমকির মুখে রয়েছে এবং আমি আশা করি যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের সমাধান হবে।" তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে আরও জানান যে, এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। জানা গেছে, চলমান সংঘাতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা অত্যন্ত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইইএ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের মূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সমান্তরালভাবে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও প্রায় একই হারে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৩ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রগুলোও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোটের উদ্যোগ, এক টেবিলে চার দেশ

চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গঠনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রিয়াদে ইসলামিক দেশগুলোর এক সম্মেলনের সাইডলাইনে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত বছর থেকেই তুরস্ক একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রথমে পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে মিসরকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক প্রভাবসম্পন্ন দেশ হিসেবে আমরা কীভাবে নিজেদের শক্তিকে একত্র করে সমস্যার সমাধান করতে পারি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই জোট ন্যাটোর মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে না। বরং এটি একটি নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাত ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো যাবে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলা ছিল বেশ তীব্র। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করেছে ইরান, যা থেকে ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য ছোট বিস্ফোরক। অন্তত আটটি স্থানে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন, আবার অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন বাংকারে, তবুও নিরাপত্তাহীনতা কাটছে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। সেখানে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে।

একই সঙ্গে অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবিও করেন তিনি। যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ধরন নিয়েও সমালোচনা করে বেসেন্ট বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের সামনে ‘সঠিক চিত্র’ তুলে ধরা হচ্ছে না।


ইরানের প্রতিরক্ষা স্থাপনা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত হরমুজে অভিযান চলবে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বেসেন্ট বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো দুর্বল করতে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে একটি অভিযান শুরু হয়েছে। এসব স্থাপনা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।’

যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ধরণ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, মার্কিন কর্মকর্তারা কী করছেন, সে বিষয়ে জনগণের সামনে ‘সঠিক চিত্র’ তুলে ধরা হচ্ছে না।

এর আগে একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং তারা ‘বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে’। এ মন্তব্যের জবাবে বেসেন্ট বলেন, ‘সিনেটরের এই দাবি ভুল। আমরা ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছি।’

সূত্র: আল জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংসের হুমকি ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হলে অঞ্চলের জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যেই রবিবার (২২ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা এল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, দেশের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে চিরতরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধূলিসাৎ করে দেবে। এর পাল্টা জবাবে ঘালিবাফ সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর হামলা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময়ের জন্য আকাশচুম্বী হয়ে যাবে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, যেকোনো আক্রমণের মুখে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি ও পানি শোধন কেন্দ্রে পাল্টা আঘাত করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান হরমজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে, যা ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্বে ভয়াবহতম তেল সংকট তৈরি করেছে।

সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ইরান-বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ান।

দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ শহরে ইরানি হামলার স্থল পরিদর্শনকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের গভীরেও আঘাত হানতে সক্ষম। অন্যদিকে, এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও থেমে নেই। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইরান, মিসর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে।


সন্দেহভাজন বিদ্রোহী হামলায় কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ৫০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডি আর কঙ্গো) ৫০ বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সন্দেহভাজন এডিএফ বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, গত ৯ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে ইতুর প্রদেশের মাম্বাসা অঞ্চলের মুচাচা ও বাবেসুয়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মুচাচা স্বর্ণ খনি এলাকায় ৩৫ জন এবং বাবেসুয়া এলাকায় ১৫ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বা দায়েশ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

হামলার শিকার এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীরা কেবল হত্যাকাণ্ডই চালায়নি, বরং ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগও করেছে। তারা অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মূল্যবান সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে।

এই সহিংসতার ফলে ৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে কয়েক ডজন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। ২০২১ সাল থেকে উগান্ডা ও কঙ্গোর সরকারি বাহিনী এই এডিএফ বিদ্রোহীদের দমনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করলেও এখন পর্যন্ত সেখানে পূর্ণ শান্তি ফিরে আসেনি। খনি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কঙ্গোর সুশীল সমাজ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতুরি প্রদেশের নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা দ্রুত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন যাতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কঙ্গো সরকার পূর্বাঞ্চলের খনি এলাকাগুলোতে এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে বিদ্রোহীদের দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দফতর (ওসিএইচএ) গত ১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে ইতুরি প্রদেশের অব্যাহত সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, ইতুরিতে ঘরবাড়ি হারানো মানুষের আশ্রয় শিবিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

ক্রমবর্ধমান এই বিশৃঙ্খলার ফলে ওই অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্রোহীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ইরানের হামলায় ইসরায়েলের ২০০ জন নিহত, দাবি আইআরজিসির

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে ধ্বংস হওয়া একটি ভবন/ ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বিরশেবা ও কিরিয়াত গাত শহরের সামরিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

একইসঙ্গে আইআরজিসি কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

তবে ইসরায়েল কোনো নিহতের খবর নিশ্চিত করেনি। দেশটির অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, আরাদ শহরে ৮৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ডিমোনা থেকে আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানি কূটনীতিকদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করল সৌদি আরব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজ ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি হামলার’ অভিযোগে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। তাদের 'পার্সোনা নন গ্রাটা' বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবে শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর বেশিরভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং দুই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে 'বড় ধরনের পরিণতি' আসবে।

বুধবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের প্রতি সব আস্থা ভেঙে গেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর বৈরিতার পর ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করেছিল। সেই সম্পর্ক এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর তেহরানের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত করেছে এবং উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।

এর আগে গত বুধবার কাতারও দোহায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা অ্যাটাশে এবং তাদের কর্মীদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।


হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

শনিবার স্থানীয় সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে একে একে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে এবং সেগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।”

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘটনার পর হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান। বর্তমানে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও পুরোপুরি চালু করা হয়নি।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাও করছে তেহরান।

সূত্র: বিবিসি


ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নিজেদের আকাশসীমায় ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৬ ০০:১৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে যে, তেহরান তাদের আকাশসীমায় ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটি এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইতিপূর্বে স্বীকার করেছিল যে ইরানের আকাশসীমায় তাদের একটি যুদ্ধবিমান বিমান-বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে পড়েছিল। তবে তাদের দাবি অনুসারে, বিমানটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী’ অভিযান শেষ করেছে। এদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, রিফুয়েলিং বা জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানসহ ২০০-এর বেশি আকাশযান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ফারসি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ইরানের পাশে থাকার বার্তা পুতিনের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৬ ০০:১৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের নেতাদের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মস্কো সবসময় তেহরানের পাশে রয়েছে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন ইরানি জনগণের প্রতি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্মানের সঙ্গে মোকাবিলা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কো ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। শর্ত ছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে রাশিয়া-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবে রাশিয়াও ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও ক্রেমলিন এই তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কারণে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় রাশিয়া একটি মিত্র হারিয়েছে। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি চুক্তি রয়েছে, যদিও প্রকাশিত নথিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধারা অন্তর্ভুক্ত নেই। পাশাপাশি রাশিয়া বরাবরই জানিয়ে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করুক তা তারা চায় না। কারণ তাদের আশঙ্কা, ইরান এমন অস্ত্র তৈরি করলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


banner close