রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল: কার ঝুলিতে কত আসন

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৪ ২১:৫৬

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৪০ আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার এইফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অন্যান্য দলের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) পেয়েছে ৩৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি, ডিএমকে ২২টি, তেলেগু দেসম পার্টি (টিডিপি) ১৬টি, জনতা দল (জেডি-ইউ) ১২টি, শিবসেনা (উদ্ভব) ৯টি, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপিএসপি) ৮টি ও শিবসেনা (এসএইচএস) ৭টি আসন।

লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) পাঁচটি আসন পেয়েছে। চারটি করে আসনে জয় পেয়েছে ওয়াইএসআরসিপি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট)-সিপিআই (এম)। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), আম আদমি পার্টি (আপ) ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) তিনটি করে আসন পেয়েছে।

দুটি করে আসন পেয়েছে জনসেনা পার্টি (জেএনপি), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট–লেনিনিস্ট) (লিবারেশন)-সিপিআই (এমএল) (এল), জনতা দল-জেডি (এস), ভিসিকে, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) ও জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএন)। এছাড়া বেশ কয়েকটি দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। চূড়ান্ত ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ জোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৬টি। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে মোট ২০২টি আসন।

এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এককভাবে ৩০৩টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছিল ৩৫২টি আসন। একক দল হিসেবে এবার সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি। তবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনে জিততে পারেনি তারা। তাই সরকার গঠনে এনডিএ জোট মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের।

২০১৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে ৫২টি আসন পেয়েছিল। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ইউপিএ জোট পেয়েছিল ৯৪টি আসন। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গঠনে একটি দলকে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হয়।


গুলিতে দুই পাকিস্তানি নিহত, ভারতীয় কূটনীতিককে তলব করল ইসলামাবাদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও একজন আহত হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাঞ্জাবের বেডিয়ান সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, বিএসএফ নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘বিনা উসকানিতে প্রাণঘাতী শক্তি’ প্রয়োগ করেছে এবং এ ব্যবহার ছিল ‘অন্যায্য ও চরম মাত্রায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ’।

ইসলামাবাদ নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তাৎক্ষণিক, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল এবং গৃহীত পদক্ষেপ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

তবে ঘটনাটি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্যে ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। ভারতীয় পক্ষের দাবি, সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের একটি কথিত চেষ্টা প্রতিহত করার সময় বিএসএফ গুলি চালায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের থামার জন্য সতর্ক করা হলেও তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় গুলি চালানো হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতরা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ছিলেন এবং তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ঘটনার পরিস্থিতি ও গুলির কারণ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য ভারতকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা ও সীমান্তসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।


‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে ছয়টিরও বেশি দেশের আগ্রহ’

ইসহাক দার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে অন্তত ছয়টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে কৌশলগত কারণে দেশগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করেননি তিনি। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইসহাক দার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।


ইসহাক দার বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এর কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।


গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটিতে হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এ ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।


সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। ইসহাক দার দাবি করেন, সৌদি আরব ইতোমধ্যে ১৭ থেকে ১৮টি হামলার শিকার হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ জাতিসংঘ সনদ এ ধরনের জোট গঠনের অনুমতি দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং এ প্রসঙ্গে ন্যাটোর উদাহরণ টানেন।


মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে মনোনীত করা হয়েছে। ইসহাক দার তাকে ‘অত্যন্ত ভালো ও ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তা’ বলে উল্লেখ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালী নিয়েও কথা বলেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রমের জন্য কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ থাকা উচিত নয়।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শুভকামনা রয়েছে। তবে কাবুলকে নিশ্চিত করতে হবে, দেশটির ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আফগানিস্তানকে প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ফের ট্রিলিয়নিয়ার হচ্ছেন ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত শুক্রবার একদিনেই তার সম্পদ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মূলত মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।


ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় শুক্রবার এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান।


শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।


অন্যদিকে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।


ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় মাস্ক এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।
স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত জুনে মাস্কের সম্পদ দ্রুত বেড়ে যায়। ওই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।


তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি আবার সেই অবস্থান হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।


এরপর ২৯ জুন মাস্ক আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে গেলে তিনি আবার সেই সীমার নিচে নেমে যান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে।


তেলাপোকাদের এবার ‘দিল্লি চলো’ ডাক, যন্তর মন্তরে ফের সমাবেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ককটরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচির পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা অভিজিৎ দীপকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে এসে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন। তিনি কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ রাখার কথাও জানিয়েছেন।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সিজেপির অভিযোগ, গত দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, ২০২৪ সালে ভারতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন প্রায় ৯৭ কোটি। লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২ শতাংশ—এমন দাবিও করেছেন দীপকে। তাঁর অভিযোগ, ব্যবধান বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই লোকসভা নির্বাচনের ১৫ দিন আগে জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

দীপকে আরও দাবি করেন, দিল্লিতে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিধানসভা আসনে ৪০ হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ৪ হাজার ভোটে পরাজিত হন। তামিলনাড়ুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের আসন থেকেও প্রায় ১ লাখ ভোটার বাদ দেওয়ার পর তিনি ১০ হাজার ভোটে হেরে যান বলে অভিযোগ করেন দীপকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের মতপার্থক্য নিয়েও বিতর্ক চলছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনার গত কয়েক মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তাদের কার্যক্রম আইনসম্মত। কমিশনের ভাষ্য, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো মৃত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।

এদিকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের ইসিআইনেট (ECINet) পোর্টালে প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন। তাঁর দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের এ-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগে পৌঁছেছিল। রমেশ আরও অভিযোগ করেন, যাঁর বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ওই কর্মকর্তা এখন নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধান করছেন।

তবে রমেশের এসব বক্তব্য কংগ্রেসের অভিযোগ। এ বিষয়ে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর অভিযোগের সবগুলো দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির নেতৃত্বে বড় বিক্ষোভ হয়। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। এরপর দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।


এরদোয়ানকে খুশি রাখার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলব। তিনি আমার বন্ধু এবং আমি সবসময় তাকে খুশি রাখব।’

শুক্রবার (২ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তবে তুরস্কের ওপর ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট’ (সিএএটিএসএ) অনুযায়ী আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।

এর আগে জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি তুরস্কের ওপর সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলেছিলেন তিনি।

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, রুশ নির্মিত এস-৪০০ ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এটি ন্যাটোর সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর সিএএটিএসএ-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্স ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধও ছিল।

তুরস্কের বক্তব্য, জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করতেই তারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা কিনেছিল। আঙ্কারা ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গেও একমত নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরে আসার বিষয়টি বর্তমানে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, এস-৪০০ নিয়ে আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলো সমাধানে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।


বাব আল-মান্দেব পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান চালাবে সৌদি

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মানদেব প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইয়েমেনের এক লাখের বেশি সেনা অংশ নিতে পারেন। তাদের সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।


আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে। তবে অভিযানের সময় ও পরিধি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় সীমিত অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় একযোগে হামলা—দুই ধরনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে রিয়াদ।


এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৪০ বিদ্রোহীকে হত্যা বা আহত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি এ তথ্য জানান। তবে হুতিদের হতাহতের এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সরকারি বাহিনীর কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কিছু জানাননি।


দুটি ঘটনার মধ্যে এমন এক সময়ে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, যখন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প নৌপথ হিসেবে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের গুরুত্বও বেড়েছে।


বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এ পথ দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। প্রণালীটি ইয়েমেনের উপকূল, আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।


হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগত অবস্থান পুনরুদ্ধার করা সৌদি অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ পাবে গোষ্ঠীটি।

পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় না সৌদি আরব।


সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, সৌদি অভিযান ২০১৫ সালের বৃহৎ সামরিক অভিযানের তুলনায় সীমিত পরিসরে হতে পারে। তার মতে, হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করার পাশাপাশি সৌদি আরবের লক্ষ্য উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা।


রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। প্রথমটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। দ্বিতীয়টি হলো ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সমন্বিত আক্রমণ চালানো। এ পরিকল্পনায় আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেট অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে অংশ নিতে পারেন। স্থল অভিযানের নেতৃত্বে থাকবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাদের সহায়তা দেবে সৌদি বিমানবাহিনী।


অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির দেওয়া ধারণা অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা শুরু হতে পারে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকার, হুতি গোষ্ঠী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।


ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। তাদের অগ্রযাত্রার মুখে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছেড়ে এডেনে আশ্রয় নেয়। ২০১৫ সালে ওই সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নেয়।


গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরনগরী এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসংলগ্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হুতিবিরোধী বাহিনী মূলত সম্মুখসারির অবস্থান স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আল-নাজিলি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় বেশিরভাগ হতাহত হয়েছে তাইজ গভর্নরেটে। সেখানে সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি তার। সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


গতকাল শনিবার ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা আম্মার আল-সামি আল জাজিরাকে জানান, তাইজের আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
বিরোধী দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এর আগে নয় বছর বন্ধ ছিল। মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়।


আল-সামি বলেন, এ সড়ক দিয়ে তাইজে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আশপাশে হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় ইয়েমেনের মানবিক সংকট। নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


সিইসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ভারত, দিল্লিতে আটক সাত শতাধিক

* এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ * ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ * মুম্বাইয়েও ‘ককরোচ’ পার্টির কর্মসূচি
রয়েছেন। শুক্রবারের (২ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া—স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর—নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশ ৭০০-এর বেশি মানুষকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) একাধিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। শুক্রবারের (২ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী এবং রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ও অন্য সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে।

তবে এসব অভিযোগকে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআরের উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকা থেকে মৃত, একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত বা অন্যভাবে অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা।

বিক্ষোভের আগে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং নিউ দিল্লি এলাকায় জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। বিভিন্ন স্থান থেকে আটক ব্যক্তিদের পুলিশ বাসে করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। এআইএসএর নেত্রী নেহা বোরাও আটক হন। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ আরও কয়েকজন পরিচিত মুখকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

নেহা বোরাকে আটকের পর তাকে পুলিশি হেফাজত থেকে বিক্ষোভকারীরা মুক্ত করে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ: দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দেয়। দলটির নেতা অভিজিৎ দীপকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।

তবে মুম্বাই পুলিশ শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। এরপরও বিক্ষোভকারীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করলে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি নেয়।

সিজেপির দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। দলটি ভোটার তালিকা নিয়ে চলমান বিতর্কেরও অবসান চায়।

এসআইআর নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের ক্ষোভ এখন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যার মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত ও বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকার প্রশাসনিক সংশোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক আস্থা এবং প্রতিবাদের অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। খবর দ্য হিন্দু।


জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মস্কোর জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

বার্ষিক ভালদাই ফোরামে এক প্রশ্নের জবাবে পুতিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, দেওয়া হবে।’

গত মাসে পুতিন সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য জায়ান্ট নেসলে, ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওশাঁ, সাবেক লেরয় মারলিন ডিআইওয়াই চেইন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন।

পুতিন বলেন, রাশিয়া ‘কারও কাছ থেকে কিছু নেয় না, চুরি করে না বা জাতীয়করণ করে না।’

তিনি বলেন, আমরা কিছু প্রতিষ্ঠানকে বাহ্যিক ব্যবস্থাপনার অধীনে এনে থাকি। কিন্তু কিছু ইউরোপীয় দেশ কোনো নিয়মনীতির ধার না ধারে সরাসরি আমাদের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিয়েছে।

তিনি রাশিয়ার শীর্ষ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম, রসনেফ্ট এবং লুকঅয়েলের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রেমলিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর অধিকাংশ পশ্চিমা কোম্পানি দ্রুত রাশিয়ায় থাকা তাদের ব্যবসা ও শেয়ার বিক্রি করে দেয়—কিংবা অন্তত নিজেদের সেগুলোর থেকে আলাদা করে নেয়। কারণ নিষেধাজ্ঞার ফলে বেশিরভাগ পণ্যের ব্যবসা বাণিজ্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যান্য কোম্পানিগুলো কর্মী বা স্থানীয় নাগরিকদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে রাশিয়াতেই অবস্থান করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাপক মাত্রায় সংকুচিত করে ফেলে।

এরপর রাশিয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর দেশটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করে তোলে। এজন্য চুক্তির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পদ সরাসরিও জব্দ করা হয়।


ইউক্রেন প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ‘আরও ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেন যদি উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবন্দিদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর তথ্য একতরফাভাবে প্রকাশ করার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা না চায়, তাহলে সিউল ‘আরও ব্যবস্থা’ নেবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে জানান, তার দেশ দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের জীবিত অবস্থায় আটক করা সহজ ছিল না।

জাতিসংঘে জেলেনস্কির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সিউলের দাবি, তথ্য গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তা উত্তর কোরিয়ায় ওই যুদ্ধবন্দিদের স্বজনদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বা হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারত।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

শুক্রবার লি বলেন, ‘ইউক্রেন যদি তথ্য স্বীকার করতে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করতে থাকে, তাহলে আমরা আরও ব্যবস্থা নেব।’

তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের আচরণের কারণে তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লি বলেন, ‘এটি কোরিয়া প্রজাতন্ত্র ও এর জনগণের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয় এবং এটিকে উপেক্ষা করা যায় না।’

লি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার একটি সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার আরবিসি-ইউক্রেনসহ দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

সিবিহা বলেন, তিনি বিষয়টিকে ‘ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করতে চান না; বরং এটিকে তিনি ‘কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আমরা তাদের সঙ্গে যে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছি, তা অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে আরও গতি ও বাস্তব ফলাফল অর্জিত হবে—এটাই আমি আশা করি।’


নেপালে বন্যায় মৃতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিখোঁজ ছেলের একটি ছবি হাতে নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর আশায় বুক বেঁধে আছেন রাজেশ রাম। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বজনদের খুঁজতে থাকা হাজারো মানুষের মতো তিনিও অপেক্ষা করছেন কোনো উত্তর পাওয়ার জন্য।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

৫৩ বছর বয়সী রাম এএফপিকে বলেন, ‘আমি তাকে সব জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু তার মরদেহ পাইনি।’ তার ছেলে সুরোজ কুমার বেত্রাবতীতে একটি গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। বন্যায় ওই এলাকা পুরোপুরি প্লাবিত হয়।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর বরফঠান্ডা পানি ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢল নেমে আসে। এতে নেপালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়।

এখন নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাজার হাজার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে খণ্ডিত মরদেহ, সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জনবলের সংকট। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মরদেহের সঙ্গে স্বজনদের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খণ্ডিত দেহাবশেষ।

এখন পর্যন্ত মাত্র ১১২টি মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নেপালে আরও ৫ হাজার ২৮৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৪৩ জনের প্রাণহানি এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ এবং নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার ৮০০ জন।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে থাকা দুটি ফরেনসিক গবেষণাগারে বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ নমুনার প্রোফাইল তৈরি ও একটি বড় ডেটাবেস তৈরির কাজ করছেন। এর আগে এত বড় পরিসরে এমন কাজ তাদের করতে হয়নি।

ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুকুল প্রধান বলেন, ‘এক বছরে আমরা সাধারণত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি নমুনা পরীক্ষা করতাম। এর মধ্যে পিতৃত্ব নির্ধারণ বা অপরাধস্থলের নমুনাও থাকত। এখন আমরা হাজার হাজার নমুনা পরীক্ষা করছি।’

‘ব্যথাটা আমরা বুঝতে পারছি’

মোট ৩ হাজার ৬৮৫টি ফরেনসিক নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার করা মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সংখ্যা ১ হাজার ৩০০-এর বেশি।

রক্তের নমুনা থেকে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি তুলনামূলক সহজ। তবে দাঁত বা হাড় থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

নেপাল ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০টির বেশি মরদেহ দাফন করেছে। প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে নম্বর ও পরিচিতিচিহ্ন যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরে ডিএনএ পরীক্ষায় কোনো স্বজনের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে মরদেহটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নেপালের পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, ‘অনেক মানুষ নিখোঁজ এবং যেসব মরদেহ পাওয়া গেছে, সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন। মানুষ যে কী যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, আমরা তা বুঝতে পারছি।

আমাদের দলগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান নিরাজন থাপা বলেন, বন্যার পানিতে কিছু মরদেহ অনেক দূরে ভেসে যাওয়ায় শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট একটি এলাকায় মরদেহ পাওয়া যায়। ফলে তুলনামূলক সীমিত সংখ্যক নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে দেখা যায়। কিন্তু এবার সেই পরিসর অনেক বড়।’

শুধু মরদেহ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করলেই পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। এজন্য কোনো নিকটাত্মীয়ের ডিএনএ নমুনার প্রয়োজন হয়।

থাপা বলেন, ‘শুধু কারও ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করলেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তার স্বজনদের কাছ থেকেও ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে সেটির সঙ্গে তুলনা করতে হবে।’

অর্থাৎ, পরিচয় নিশ্চিত করতে একদিকে অজ্ঞাত মরদেহের নমুনা এবং অন্যদিকে হাজারো স্বজনের নমুনা—দুটিই পরীক্ষা করতে হবে।

নেপালের এই কাজে সহায়তা করতে প্রতিবেশী ভারত ও চীন, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞরাও সহায়তা করছেন।

থাপা জানান, এসব সহায়তার ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মরদেহ ও স্বজনদের ডিএনএ মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

তবে ফলাফল না আসা পর্যন্ত নিখোঁজদের পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তা ও গভীর মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের কয়েকটি পরিবার এরই মধ্যে প্রতীকীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।

রাজেশ রামও জানেন না, শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর পাবেন কি না।

তিনি বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছি, যদি আমার ছেলের কোনো দেহাবশেষ খুঁজে পাই।’


কৌশলগত ঐক্যের পথে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেন সংঘাত, ওপেক তেলনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের নীতিগত দূরত্ব ভুলে আবারও বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমঝোতার পথে হাঁটছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই শীর্ষ শক্তি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’ এই সফরকে রিয়াদ ও আবুধাবির গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক সামরিক হুমকি, তেলের পাইপলাইনে আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার মুখে অঞ্চলটির অভিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দুই মিত্র ফের ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিগত বছরগুলোতে আঞ্চলিক নানা বিষয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরবর্তীতে আমিরাত বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি)’ সমর্থন দেয়, অন্যদিকে সৌদি আরব মূল সরকারকে টিকিয়ে রাখতে অনড় থাকে। এ ছাড়া সুদান সংকট, নিজস্ব স্বার্থে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে আমিরাতের দূরত্ব তৈরি এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে আবুধাবির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তও সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল। তবে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের ঠিক পরদিনই আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌদি সফরে যান। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে ইরান ও হুথিদের যৌথ হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আঞ্চলিক আকাশ ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সৌদি আরব সম্প্রতি নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ ‘মক্কা চুক্তি’র মতো প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করলেও তা হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরোপুরি থামাতে পারেনি। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করায় এবং বেইজিংয়ের মাধ্যমে ইরানকে নিবৃত্ত করার প্রচেষ্টাও পুরোপুরি সফল না হওয়ায় রিয়াদ এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর জোর দিচ্ছে। গত বুধবার সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলে দেওয়া নীতিগত ভাষণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অবিচ্ছেদ্য এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অখণ্ডতা জোরদারে যৌথভাবে কাজ করছে তাঁর দেশ।

ঐতিহাসিক ও আদর্শিক দিক থেকেও সৌদি আরব ও আমিরাতের নীতিতে গভীর মিল রয়েছে; অতীতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিয়ন্ত্রণ, সিরিয়া ও কাতার সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিকায়নে উভয়েই একযোগে কাজ করেছে। এমনকি যুবরাজ সালমানের শুরুর রাজনৈতিক জীবনে মোহাম্মদ বিন জায়েদকে একজন অভিজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বরফ গলার অংশ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইতিবাচক বার্তা বিনিময় এবং আগস্টে সৌদি বাদশাহ সালমানকে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর গঠিত জিসিসির সম্মিলিত শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে একক দাবির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সমন্বিত চাপ সৃষ্টি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে; একই সঙ্গে সৌদি আরব প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি না করেও আমিরাতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে, যা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক ঐক্যেরই সূচনা করছে।


ফের মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও আঘাতের পরিকল্পনা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে কেবল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতেও একযোগে জোরালো আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরার পর থেকেই তেহরানের সামরিক কমান্ডাররা এই সম্ভাব্য বিস্তৃত সামরিক জবাবের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছেন। যদিও কূটনৈতিক মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের পরোক্ষ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে কোনো কার্যকর সমঝোতার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন ইরানি নীতিনির্ধারকেরা। ফলে নতুন মার্কিন হামলা প্রতিহতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিই নয়, বরং মার্কিন অভিযানকে সমর্থনকারী মিত্র দেশগুলোর স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থকেও নিজেদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে দেশটি।

সম্ভাব্য সর্বাত্মক সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে ইরান ইতিমধ্যে লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা নিজেদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সতর্কাবস্থায় থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে একযোগে সমন্বিত পাল্টা আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের কোনো অভিযান চালাবে নাকি পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত হামলা করবে তা নিয়ে তেহরান পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তারা আর কোনো প্রতীকী জবাবে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়; বরং সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ডিটারেন্স পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই তারা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। যদিও নিউইয়র্কে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান—যেখানে যুদ্ধ বন্ধ, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খোলার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে তা নাকচ করলেও পরবর্তীতে কাতারের মাধ্যমে একটি মার্কিন জবাব তেহরানে পৌঁছেছে; তবে ওয়াশিংটন পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার পূর্বশর্ত করায় এবং তেহরান নিজেদের সাত শর্তে অনড় থাকায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ইরানের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপের নেপথ্যে বড় এক সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশটির রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস। ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মন্তব্য করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এমন শ্বাসরুদ্ধকর অর্থনৈতিক অবরোধ সহ্য করার মতো আর্থিক সক্ষমতা ইরানের নেই। ইতোমধ্যে চলমান সংঘাতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অপর দিকে পেন্টাগনের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও হ্রাস পেয়েছে। সংঘাতের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে, তা নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

বাইরের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের সমান্তরালে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব। দেশটির সংস্কারপন্থী সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবনতিশীল অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে যে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করছে সরকার। তিনি সতর্ক করেন যে, একদিকে বাইরে থেকে মার্কিন বোমাবর্ষণের ঝুঁকি এবং অন্যদিকে ভেতরে তীব্র অর্থনৈতিক অসন্তোষ একসঙ্গে দেখা দিলে তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বৈধতার জন্য বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকট তৈরি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে জানুয়ারির বিক্ষোভের বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার মুখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হচ্ছে এবং ভিন্নমত দমনের পাশাপাশি সরকারের অনুগত সমর্থকদের রাতের সমাবেশগুলোতে নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান।


ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরেই তাইওয়ানে মার্কিন এফ-১৬ভি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের ক্রমাগত সামরিক চাপ ও নিয়মিত আকাশসীমা লঙ্ঘনের মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা ৬৬টি নতুন এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি বিমান গ্রহণ করেছে তাইওয়ান। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০৪:০০ টা) বিমান দুটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল হাওয়াই ও গুয়াম হয়ে তাইওয়ানের পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুংয়ে অবস্থিত চিহাং বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো তাইপের কাছে হস্তান্তর করা হলো।

২০১৯ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তৈরি এসব উন্নত যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য তাইওয়ানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে সফটওয়্যার জটিলতাসহ বিভিন্ন কারিগরি কারণে বিমানগুলোর সরবরাহ এতদিন বিলম্বিত হচ্ছিল; পুরো চালান সম্পন্ন হলে তাইওয়ানের বিমানবাহিনীতে মোট এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে। বিমানগুলো অবতরণের কিছুক্ষণ আগে তাইপের সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানান, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধবিমানের আরও চালান তাইওয়ানে পৌঁছাবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কেবল এই দুটি বিমানের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে তাইপের রাজনৈতিক মহলে নানামুখী সংশয়ের মাঝেই এই সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছাল। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা অনুমোদন দিলেও চলতি বছরের মে মাসে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৮ সালের শুরুতে তাইওয়ানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বেইজিংয়ের সামরিক আক্রমণের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন; তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কু স্পষ্ট করে বলেছেন যে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটি দখল করার যে দূরভিসন্ধি চীনের রয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

নতুন সরবরাহ করা এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলোতে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক এভিয়েনিক্স, শক্তিশালী সমরাস্ত্র এবং সর্বাধুনিক রাডার সিস্টেম; যা আকাশে নজরদারি এবং চীনা বিমানবাহিনীর দূরপাল্লার ‘জে-২০’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে তাইওয়ানকে কৌশলগত সুবিধা দেবে। ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে নিজেদের সবচেয়ে উন্নত এফ-২২ কিংবা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে সম্মত না হওয়ায় এফ-১৬ভি সরবরাহকেই দ্বীপটির প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার পাশাপাশি তাদের পুরোনো এফ-১৬ বিমানগুলোর আধুনিকায়ন ২০২৩ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল। তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও আইনের বাধ্যবাধকতায় আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করে আসা বেইজিংয়ের আপত্তির মুখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ রক্ষায় ওয়াশিংটন তাইওয়ানসহ তার মিত্রদের পাশে অবিচল থাকবে।


banner close