বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল: কার ঝুলিতে কত আসন

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৪ ২১:৫৬

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৪০ আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার এইফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অন্যান্য দলের মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) পেয়েছে ৩৭টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি, ডিএমকে ২২টি, তেলেগু দেসম পার্টি (টিডিপি) ১৬টি, জনতা দল (জেডি-ইউ) ১২টি, শিবসেনা (উদ্ভব) ৯টি, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপিএসপি) ৮টি ও শিবসেনা (এসএইচএস) ৭টি আসন।

লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) পাঁচটি আসন পেয়েছে। চারটি করে আসনে জয় পেয়েছে ওয়াইএসআরসিপি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট)-সিপিআই (এম)। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), আম আদমি পার্টি (আপ) ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) তিনটি করে আসন পেয়েছে।

দুটি করে আসন পেয়েছে জনসেনা পার্টি (জেএনপি), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট–লেনিনিস্ট) (লিবারেশন)-সিপিআই (এমএল) (এল), জনতা দল-জেডি (এস), ভিসিকে, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) ও জম্মু অ্যান্ড কাশ্মির ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএন)। এছাড়া বেশ কয়েকটি দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। চূড়ান্ত ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ জোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৬টি। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে মোট ২০২টি আসন।

এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এককভাবে ৩০৩টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছিল ৩৫২টি আসন। একক দল হিসেবে এবার সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি। তবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনে জিততে পারেনি তারা। তাই সরকার গঠনে এনডিএ জোট মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের।

২০১৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে ৫২টি আসন পেয়েছিল। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ইউপিএ জোট পেয়েছিল ৯৪টি আসন। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গঠনে একটি দলকে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হয়।


হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ইরান: রুবিও

মার্কো রুবিও
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার গ্রীসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ইরানকে বারবার সুযোগ দেওয়া হলেও দেশটি তা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।


এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।


সংঘাত নিরসনে নমনীয়তার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রেরদীর্ঘ আট মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে নতুন শর্ত সামনে এনেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ কমাতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের মতো ইরানকে সম্পূর্ণভাবে সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।


রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইরান যদি সত্যিই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তবে তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানির প্রয়োজন কোথায়? এটি চুক্তির জন্য অত্যন্ত মৌলিক একটি শর্ত।’ বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।


তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের বিপরীতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আহ্বায়ককে ‘অপ্রয়োজনীয় ও নিরর্থক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা যখনই আলোচনার টেবিলে বসি, তখনই আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ নয়, বরং ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থার পতন চায়।’


অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কেবল ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হলেই সংঘাতের অবসান ঘটা সম্ভব। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের পেশ করা সমঝোতা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল—যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার ও অর্থ ফ্রিজ মুক্ত করার এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।


গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চলছেই

৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন
ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা শহর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল ৭ অক্টোবর। গত বছরের ১০ অক্টোবর ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হলেও, সেখানে ইসরায়েলি বর্বর হামলা ও নিরীহ মানুষদের হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতেও নীরব থাকতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে।

ইসরায়েলের টানা তিন বছর ধরে চালানো গণহত্যায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু। এটি গাজার যুদ্ধপূর্ব জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ—অর্থাৎ প্রতি ৩০ জনের মধ্যে একজন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এই পরিসংখ্যানে কেবল হাসপাতাল বা সরকারিভাবে নিবন্ধিত মৃত্যুর সংখ্যাই গণনা করা হয়েছে। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বা নিখোঁজ থাকা হাজার হাজার মানুষের হিসাব এই তালিকায় নেই।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি শুধু নিহতের সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গাজায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অর্থাৎ সেখানে প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী—আহতদের প্রায় ২৪ শতাংশই এমন গুরুতর যে তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রয়োজন। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশই শিশু।

ইসরায়েলি হামলার পরও গাজায় বর্তমানে যে কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র টিকে আছে, সেগুলো অনেক বেশি রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটের মধ্যে সেগুলো চালাতে হচ্ছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৩৬১ দিনের মধ্যে ৩২৫ দিনই ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়েছে। অর্থাৎ, এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৩৬ দিনে কোনো হামলা, মৃত্যু বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। এতকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে যে, গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর রয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে—২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর দুপুর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১১৬ জন আহত হয়েছেন।

গাজার প্রায় সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর যুদ্ধের পর গাজার ৯৪ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গাজায় আগে ৬৬৬টি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪২টি চালু রয়েছে। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুসারে—কোনো হাসপাতালে হামলা চালানো নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী চিকিৎসক দল ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজার নাজুক পানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা সেখানকার কূপ, পাইপলাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজার অধিকাংশ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, পাইপলাইনগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং পানির কূপগুলো হয় পয়ঃবর্জ্যের কারণে দূষিত হয়ে পড়েছে, অথবা যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে সেগুলো অকেজো হয়ে আছে।

বর্তমানে গাজার প্রায় অর্ধেক মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন গড়ে ছয় লিটারেরও কম পানি পাচ্ছেন। এ দিয়ে তাদের পান করা ও রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে। অথচ জরুরি প্রয়োজনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ২০ লিটার পানির প্রয়োজন।

ইসরায়েল ও মিসর সীমান্তে প্রায় ৩৬৫ বর্গকিলোমিটারের গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানকার মোট স্থাপনার ৮২ শতাংশই বিধ্বস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, পুরো এলাকা বা মহল্লাগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ফলে ১৯ লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এটি গাজার মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ।

গাজার শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, গাজার ৯৩ শতাংশ স্কুলই নতুন করে তৈরি করতে হবে। এর ফলে ৭ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাজায় অন্তত ৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। যেসব ভবন এখনো টিকে আছে, সেগুলোকে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শিরিন আবু আকলেহ অবজারভেটরির তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আল জাজিরার ১২ সাংবাদিক রয়েছেন।

ইসরায়েল গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। তবে হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিককে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তারা কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হন।


কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় তেলের ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ড, ২৩ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটিতে কর্মরত নাবিকদলের সবাই ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, আগুনের তীব্রতা অত্যধিক হওয়ায় তা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি, তবে জাহাজে থাকা ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটির ওপর মূলত "নৌ-ড্রোন" দিয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং বিস্ফোরণের ফলে "কৃষ্ণসাগরের পানিতে অপরিশোধিত তেল খোলা অবস্থায় জ্বলছে"। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আগুনের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলে দমকলকর্মীরা নতুন করে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করবেন। ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সোচি শহরের উপকূলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে সমুদ্রপৃষ্ঠে সুবিশাল অগ্নিকুণ্ড এবং সোচি শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার ঘন মেঘ উড়তে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সোচি শহরের মেয়র উপকূলবর্তী সৈকত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাত্র একদিন আগেই রোমানিয়া উপকূলে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে ডুবে যাওয়ার এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ইউক্রেনীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই ড্রোন হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক আহত হয়েছেন।

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ উভয় পক্ষের সংঘাতের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কিয়েভের দাবি, ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার চালানো ধারাবাহিক নৈশ বিমান হামলার পাল্টাজবাব হিসেবেই তারা রুশ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই সংঘাত আরও জোরদার করেছে; যার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান সেতু ও কেন্দ্রস্থলে রাশিয়া যেমন আক্রমণ চালাচ্ছে, তেমনি দক্ষিণ রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনীয় হামলার ফলে জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মতো সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।


শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ৫০০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শোচনীয় পরিবেশের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, নান্তেস ও রেনের মতো প্রধান প্রধান শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। মঙ্গলবার দেশব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচির বেশ কিছু স্থানে রায়ট পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন, যার মধ্যে এককভাবে প্যারিসের রাজপথেই ছিলেন প্রায় ৫৬ হাজার আন্দোলনকারী। তবে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা সাড়ে চার লাখে পৌঁছেছিল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে মোট আটকের সংখ্যা ৬ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে, যাদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং দেড় সহস্রাধিক কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই অস্থিরতায় উদ্বেগ জানিয়ে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ল্যকরনু উল্লেখ করেন, দুই সপ্তাহের এই অচলাবস্থায় অন্তত ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৮৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী আহত হয়েছেন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি। সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এলিসি প্রাসাদে শীর্ষ মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ দাবি করেছেন, অনেক জায়গায় বিক্ষোভ দাঙ্গার রূপ নেওয়ায় জননিরাপত্তা রক্ষার্থে পুলিশ আনুপাতিক শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ পুলিশি দমন’ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগ ইতিমধ্যে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অন্তত ১০টি ঘটনা তদন্ত করছে। আন্দোলনে পুলিশের গ্রেনেড ও অস্ত্রের আঘাতে উত্তর ফ্রান্সে এক কিশোরের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, টুর্স শহরে এক শিক্ষার্থীর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং প্যারিসে এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরের চোয়াল ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো একাধিক গুরুতর আহতের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে শিক্ষক সংকট এবং শ্রেণিকক্ষের বেহাল দশার অবসানে কোনো কার্যকর সমাধান না পেয়েই তারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র সাত মাস আগে ছড়িয়ে পড়া এই ছাত্র-গণবিক্ষোভ ক্ষমতাসীন সরকারকে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ফেলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকার বামপন্থি বিরোধী দল 'লা ফ্রান্স ইনসোমিজ'-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উসকানির অভিযোগ তুললেও দলটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি অব্যাহত রেখেছে।


পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপনির্বাচনের ভোট নিয়ে বিরোধীরা মারধর, বাধাদান, গ্রেফতার ও ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। এদিন সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। শাসকদলের দাবি, দুই বিধানসভায় উপনির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভোটদানের পর বলেন, উপনির্বাচনে সাধারণত কম ভোট পড়ে। তবে নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমি নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলাম। আমার বিশ্বাস এবারও রেকর্ড ভোটে জিতবে বিজেপি।

তবে নন্দীগ্রামে কারচুপির অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। রেজিনগরে ভোট লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। দুই আসনেই পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছেন তারা।

পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। রেজিনগর থানার সামনে অবস্থানে বসেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। উপনির্বাচন বাতিল করে পুনর্র্নিবাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনিও।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের নামে প্রহসন হচ্ছে। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, কোথাও তাদের এজেন্ট নেই, সকলকে তাড়িয়ে অবাধে ছাপ্পা চলেছে নন্দীগ্রামে। অভিযোগ, পুরো বিধানসভায় রিগিং করে ভোট করেছে বিজেপি। একই অভিযোগে রেজিনগরে সরব হয়েছেন বিরোধীরাও। যদিও দুই জায়গাতেই সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপি।

এদিন সকালেই রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হুমায়ুন প্রার্থী নন, তিনি এজেন্টও নন। তাই বুথে বুথে ঘুরতে পারেন না। সেই কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতিকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভোটে অশান্তি করার অভিযোগ।

এর আগে সকালে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে হুমায়ুন কবীর যে অভিযোগ করেছিলেন, বেলা গড়াতে সেই অভিযোগে একসঙ্গে সরব মমতা তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সিপিআইএম। একত্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে মমতা তৃণমূল এবং কংগ্রেস।


পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

ছবি: ফ্রান্সিস হালজেন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’নামেও পরিচিত।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। হালজেনের জন্ম বেলজিয়ামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

নিউট্রিনো হলো একটি মৌলিক উপ-পারমাণবিক কণা। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। ভর অত্যন্ত সামান্য, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কণা চারপাশের সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু সেগুলো দেখা যায় না। কোনো উপস্থিতি জানান না দিয়েই এগুলো পৃথিবী ও মানুষের শরীর ভেদ করে চলে যেতে পারে।

একেবারে ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে একটি নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। পরে তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি বা মানমন্দির হলো এক ঘন কিলোমিটার আয়তনের বরফে স্থাপিত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সেখানে আলো শনাক্ত করার সেন্সর আছে। এটি ব্যবহার করে গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই মহাবিশ্বে প্রাকৃতিক কণা ত্বরক থাকার বিষয়ে ধারণা করছিলেন। এসব ত্বরকগুলো মানুষ নির্মিত যেকোনো কণা ত্বরকের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু ত্বরকগুলোর উৎস এখনো রহস্যময়। এগুলো কী, কোথায় আছে এবং এর ভেতরে প্রধানত কী ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই কণাকে শনাক্ত করার জন্য ফ্রান্সিস হালজেন ১৯৮৮ সালে একটি রূপকল্প তুলে ধরেন। সেটি অনুযায়ী, যখন একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি আলোর ঝলকানি তৈরি হয়। হিমবাহের স্বচ্ছ বরফে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে সেই আলোর ঝলকানি শনাক্ত করা যায়।

বরফের সুবিধাজনক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এখানকার বরফগুলো অন্য কিছুর উপস্থিতিতে প্রভাবিত হয় না বললেই চলে। এলাকাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় ভূমিকম্পও হয় না।

হালজেন তার রূপকল্প প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত অন্য গবেষকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। কয়েক বছর পরই বরফের মধ্যে সেন্সর বসিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হয়।

নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। এজন্য দক্ষিণ মেরুতে এক ঘন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘আইসকিউব’ মানমন্দির তৈরি করা হয়।

মানমন্দিরটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর গবেষকরা অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেন। কয়েক বছর পর তারা সৌরজগতের অনেক বাইরে থেকে আসা নিউট্রিনো আবিষ্কারের তথ্যও প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎস সন্ধানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়।

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা একটি চমৎকার যন্ত্র উপহার দিয়েছেন। এটি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছে। দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবের মাধ্যমে ক্রমাগত নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা মহাকাশের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন।


ফ্রান্সজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি, বন্ধ দুই হাজার স্কুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নজিরবিহীন ছাত্রআন্দোলনে ফ্রান্সজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইস্কুলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা।

দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ১ হাজার ৮৯১টি হাইস্কুল অবরুদ্ধ রয়েছে অথবা সরকার সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ও বিক্ষোভের কারণে অবরুদ্ধ রয়েছে।

ফ্রান্সের ল ইউনিয়ন এটুডিয়ান্টের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, নিস, নান্তেস ও লিয়োঁসহ ৩০টিরও বেশি শহরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

নিক বিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিলি শহরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি ময়লার ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। প্যারিসের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই ভীত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার যখন জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে, তখন বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহেও শত শত স্কুল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলনে অন্তত ২১৫ জন আহত হন এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।


কেনিয়ায় ইবোলা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি একজন কেনীয় নাগরিক, যিনি গত সাত বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) বসবাস করছিলেন।

কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত শনিবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত জনস্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এক স্বজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডিআর কঙ্গো থেকে প্রথমে সড়কপথে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান ওই ব্যক্তি। সেখান থেকে বিমানে নাইরোবি আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৈরি একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা, গিলতে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

রোগীর উপসর্গ ও ভ্রমণ ইতিহাস বিবেচনায় চিকিৎসকরা ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের সন্দেহ করেন। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাস শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্তত ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। একই বিমানে ভ্রমণ করা আরও ২৩ যাত্রী এবং চারজন ক্রুর সন্ধানেও কাজ চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৮ হাজার ৪৬৩টি সংক্রমণের মধ্যে ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতেই এ পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গত মে মাসে ডিআর কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। পরে উগান্ডাতেও রোগটি শনাক্ত হয় এবং সেখানে দুজনের মৃত্যু ঘটে। তবে আগস্টে উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। এরপর নতুন শনাক্ত সব সংক্রমণই ডিআর কঙ্গোয় পাওয়া গেছে।

বান্দিবুগিও ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল একটি ধরন। বর্তমানে এ প্রজাতির বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের দ্রুত শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর জনস্বাস্থ্যবিধি অনুসরণকে গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।


পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণাদানকারী হুমায়ুন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণাদানকারী বিধানসভার মুসলিম বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রেজিনগরে উপনির্বাচনের কেন্দ্র থেকে তাকে গতকাল মঙ্গলবার আটক করে। পুলিশের বিরুদ্ধে সকাল থেকেই সুর চড়াচ্ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর।

ভোট দিয়ে বেরিয়ে পুলিশের উদ্দেশে দফায় দফায় ‘অশালীন’ বলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ওই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয় হুমায়ুনকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভোটে দিতে যাওয়ার সময় থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্য করে যাচ্ছিলেন হুমায়ুন। দিনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তিনি। ভোট দেওয়ার পরও বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে এবং আরও পরে দলীয় কার্যালয় থেকে ফের পুলিশকে তোপ দাগেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা।

এসবের মাঝে রেজিনগরে হুমায়ুনের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে যায় পুলিশ। বাহিনী সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা।

সেখানেও পুলিশের উদ্দেশে হুমায়ুন বলতে থাকেন, ‘দালালি করবেন না, দালালি করবেন না।’ এ সময় পুলিশের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তিও হয়। শেষে জামা ধরে টানতে টানতে হুমায়ুনকে গাড়িতে তোলেন পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

হুমায়ুনের দাবি, মঙ্গলবার সকাল থেকেই রেজিনগরে তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তা নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই পুলিশকে নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়েও পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। তার কথায়, ‘প্রত্যেকটা বুথে অ্যালসেশিয়ান ছেড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।’

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা বলেন, ‘পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব না কি!’ রেজিনগরবাসীকে ‘মুগুর নিয়ে’ রুখে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন।

‘পুলিশ ধোয়া তুলসিপাতা না কি! শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ ভোটের নামে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেবে? আমাদের ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেও শান্তি হয়নি। আজ সকালে পুলিশ যে ধরনের আচরণ করছে, মানুষকে বলব এদের বিরুদ্ধে মুগুর নিয়ে দাঁড়াতে। পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব নাকি?’ বলেন হুমায়ুন।

এরপরে তিনি চলে যান নিজের দলীয় কার্যালয়ে। হুমায়ুন সেখানে পৌঁছোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের একটি দলও পৌঁছোয় সেখানে।

বাগবিতণ্ডা পর্ব শেষে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচীন মক্কর জানিয়েছেন, হুমায়ুন উপনির্বাচনের প্রার্থী নন, তিনি এজেন্টও নন। তাই তিনি এভাবে ঘুরতে পারেন না। সেই কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সক্রিয় হচ্ছে মক্কা জোট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হুতিদের সঙ্গে ইয়েমেন সরকারের চলমান সংঘাত মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে 'যৌথ ব্যবস্থা' সক্রিয় করতে এবং সৌদি আরবে দ্রুত সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান।


রিয়াদে ৩ দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকে গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত হয় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। গত ৭ আগস্ট এই তিন দেশ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি সইয়ের পর এই প্রথমবারের মতো তারা সক্রিয় কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে গেল।


চুক্তিতে বলা হয়, এই ৩ দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোতে বর্বর হামলা মোকাবিলায় জোট সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।’


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের সম্মতিতে দ্রুত সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এতে আরও বলা হয়, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও অনুমোদিত ব্যবস্থার অধীনে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।


ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বাহিনী গত মাসে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ায় এবং ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব, মোখা বন্দরসহ বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়।


তবে, সম্প্রতি ইয়েমেনি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং গতকাল ওই এলাকাগুলো পুনর্দখল করে নেয়। এর মধ্যেই ‘মক্কা জোটের’ সেনা মোতায়েনের ঘোষণার কথা জানা গেল। সৌদি জোট ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সৌদি ইতোমধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান দিয়েছে ইয়েমেন সরকারকে।


ইরানে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই আগস্টে আত্মপ্রকাশ হয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’। ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী, জোটের ৩ সদস্য দেশের সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩ হাজার ৪০০ যুদ্ধবিমান, ৬ হাজার ট্যাংক ও ৩৪০টির বেশি যুদ্ধযান রয়েছে।


চুক্তির শুরুতে দেশগুলোর সামরিক সহায়তা নিয়ে বাধ্যবাধকতার বিষয়ে তেমন কিছু বলা না হলেও পরে ধীরে ধীরে এর সামরিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সামনে আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুতিরা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদিতে আক্রমণ করায় এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে।


ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবদুল আজিজ আলঘাশিয়ানের মতে, মক্কা চুক্তি সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত এ অঞ্চলের নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।


আল জাজিরাকে তিনি বলেন, হুতি হামলাই প্রকৃতপক্ষে মক্কা জোটকে সক্রিয় হতে ত্বরান্বিত করেছে। সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি নতুন কাঠামোর স্পষ্ট রূপরেখা দিচ্ছে।


ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন ট্রাম্পের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

ক্যারোলিন লেভিট
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে গত আগস্টে সরে দাঁড়ানো ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। গত সোমবার মার্কিন এই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে অন-এয়ার কনট্রিবিউটর হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য বিভাগে কাজ করবেন তিনি।


ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি সারা হাকাবি স্যান্ডার্স ও কেলি ম্যাকএনানিও দায়িত্ব ছাড়ার পর ফক্স নিউজে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে লেভিটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পথ বেছে নেওয়া অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল।


ফক্স নিউজের প্রধান নির্বাহী সুজান স্কট লেভিটের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা লেভিটকে বর্তমান মার্কিন রাজনীতির বিষয়ে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।


ফক্স নিউজে যোগ দেওয়ার বিষয়ে লেভিট বলেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবার নেটওয়ার্কটির দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে তিনি আগ্রহী। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময়কার উদ্যম ও স্পষ্টবাদিতাও ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।


২৯ বছর বয়সি লেভিট ছিলেন হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি প্রেস সেক্রেটারি। চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।


এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে নিজের দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবর প্রকাশ করে লেভিট ইতিহাসের প্রথম দায়িত্ব পালনরত হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে গর্ভধারণের ঘোষণা দেওয়ার নজির তৈরি করেন।


প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হোয়াইট হাউসের গণমাধ্যম ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন লেভিট। প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড কাভার করা সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত ‘প্রেস পুল’-এর ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।


এ ছাড়া ব্রিফিং রুমে ‘নিউ মিডিয়া’র জন্য আলাদা আসন চালু করা হয়। সেখানে প্রায়ই রক্ষণশীল ভাষ্যকার ও ট্রাম্প-সমর্থকদের দেখা যেত। সাংবাদিকদের সঙ্গে লেভিটের একাধিক প্রকাশ্য বিরোধও হয়েছিল।


ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও দৃঢ় সমর্থক হিসেবে লেভিট প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফক্স নিউজের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও নেটওয়ার্কটির সমালোচনা থেকে তিনি কখনো বিরত থাকেননি। গত রোববার এক দীর্ঘ ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ফক্স নিউজের সকালের অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের সমালোচনা করেন তিনি। নিজের সাম্প্রতিক সমাবেশগুলো অনুষ্ঠানটিতে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প।


এ ছাড়া ফক্স নিউজের বামঘেঁষা হিসেবে পরিচিত ভাষ্যকার জেসিকা টার্লভেরও সমালোচনা করেন তিনি। দীর্ঘদিনের উপস্থাপক মারিয়া বার্টিরোমোর সঙ্গে নেটওয়ার্কটির সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।


তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা এখনো ফক্স নিউজের সঙ্গে যুক্ত। তার পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পও নেটওয়ার্কটির নিয়মিত মুখ। এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক ল্যারি কুডলো সম্প্রতি বার্টিরোমোর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফক্স নিউজে যোগ দেওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত রোববারের সকালের অনুষ্ঠানগুলোতে তাকে দেখা যাবে।


রাশিয়ার সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ায় নিউমোনিক প্লেগের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার এখনো কোনো কথা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।


গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এক্সিওস এই খবর জানিয়েছে।
সাইবেরিয়ার রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কর্মরত মারিয়া শিপিলোভা নামের এক গবেষণাগার কর্মীর সম্ভাব্য প্লেগ ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়। যদিও শিপিলোভার মৃত্যু নিউমোনিক প্লেগে হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্কতা হিসেবে স্থানীয় পাঁচটি হাসপাতাল এবং ইনস্টিটিউটের বহু কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।


রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শিপিলোভা ‘অজ্ঞাত কারণে সৃষ্ট নিউমোনিয়ায়’ মারা গেছেন এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জীবাণুর উপস্থিতি মেলেনি। তা ছাড়া এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অসুস্থতা বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কেবল এটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমরা তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করব।’ রোগটি আগে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হলেও বর্তমানে অনুজীব ও জীবাণু শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে নিউমোনিক প্লেগ অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য।


এক্সিওসের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউরোপীয় কমিশন এই সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


মোখা দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর

ইয়েমেনি বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশ থেকে হুতি যোদ্ধাদের হটিয়ে দিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনি বন্দর শহর মোখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলেও দাবি করেছে সশস্ত্র বাহিনী।


গত সোমবার লোহিত সাগরের উপকূল ধরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয়। এ সময় তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের বেশ কয়েকটি অবস্থান থেকে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হটিয়ে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার দিকে এগিয়ে যায়।


সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোচা সরকারি বাহিনীর দখলে এসেছে; সরকারি আরেকটি সূত্রের তথ্যানুসারে, সৌদি বিমান বাহিনীর ব্যাপক সহায়তায় সৈন্যরা শহরটির উপকণ্ঠে পৌঁছেছে। খবর পাওয়া গেছে যে হুতি যোদ্ধারা পাহাড়ি এলাকার দিকে পিছু হটছে।


এই দাবির সত্যতা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আর হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনি সরকারের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইয়েমেনি বাহিনী অবশ্য সোমবারের আগেই বাব আল-মান্দেব প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবস্থান দখল করে নিয়েছিল, যার মধ্যে ধুবাব জেলার একটি বিমানঘাঁটিও রয়েছে। বাব আল-মান্দেবের প্রবেশমুখ এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রণালী লোহিত সাগরের সাথে এডেন উপসাগরের সংযোগ স্থাপন করেছে এবং একই সঙ্গে এটি বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান পথ।


সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে. তাদের নৌবাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদেইদাহ অঞ্চলে একটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।


এর জবাবে পাল্টা এক বিবৃতিতে হুতিরা দাবি করেছে যে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিঘে অবস্থিত সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি সামরিক ঘাঁটি।


এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরবের সরকার বা আরামকো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। হুতিরা সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী যানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান অবরোধ জারি করায় বন্ধ আছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বৈশ্বিক বাজারের ২০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।


বাব আল-মান্দেব প্রণালীও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় যুদ্ধের গত কয়েক মাসে ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্বও বেড়েছে।


গত ১১ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মাঝখানে অবস্থিত ময়উন বা পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে কৌশলগত এ প্রণালীর দখল নেয় হুতি বাহিনী। তবে এই প্রণালীকে ঘিরে নতুন সংঘাত উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ ইয়েমেনি সরকারের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারলেও, হুতিরা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য এলাকা থেকে বাব আল-মান্দেব কিংবা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম।


ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের আশপাশেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। সরকারি সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, হুতিরা একটি পাহাড়ি রাস্তার কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে, ফলে শহরের ভেতরে থাকা সরকারি বাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে সরকারি অপর একটি সূত্র এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।


সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, হুতিরা তাইজ প্রদেশের কিছু অংশেও অগ্রসর হয়েছে এবং তাইজ-আদেন সড়কের একটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছে, এতে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব পরস্পরবিরোধী তথ্যের সত্যতা অবশ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


banner close