বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতিসংঘের স্কুলে হামলা করল ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৪ ১৩:৩৩

মধ্য গাজার নুসেইরাতে জাতিসংঘের একটি স্কুলে হামলা করেছে ইসরায়েল। এতে প্রায় ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ শুক্রবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলটিতে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। ইসরায়েল এই হামলার কথা স্বীকার করেছে।

একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জাতিসংঘের স্কুলটির সবচেয়ে ওপরের তলার দুটি শ্রেণিকক্ষে আঘাত হানে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলের ধ্বংসযজ্ঞ আর রক্ত আর ছিন্নবিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউয়ের স্কুলে ইসরায়েলকে ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

হামলার পর উদ্ধারকারীরা হতাহতদের নিকটস্থ দেইর আল বালাহ শহরের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। হামাস জানায়, নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলটিতে হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৪ শিশু ও ৯ নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ শিশু ও ১৮ নারী রয়েছেন।

এদিকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগ দিচ্ছে স্পেন। এর আগে চিলি ও মেক্সিকো এই মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগ দেয়।

অন্যদিকে গাজায় সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলে ধরা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে একটি মিলিত বিবৃতি তুলে ধরেছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কানাডা, কলম্বিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্পেন, থাইল্যান্ডের নেতারা বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছে।

বিষয়:

যুদ্ধে ইউক্রেনের ক্ষতি ১৯৭ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১৯৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকস (KSE) ইনস্টিটিউট এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেনের আবাসন, অন্যান্য অবকাঠামো, যানবাহন ও মজুত সম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৯৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ করা হিসাবে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৬৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল যা বর্তমানে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে আবাসন খাত। এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪ লাখ ১৬ হাজার আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পরিবহন খাত। এই খাতে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি আনুমানিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের ক্ষতি হয়েছে ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং জ্বালানি খাতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া শিক্ষা খাতে ক্ষতি ১২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং কৃষি ও ভূমি সম্পদের ক্ষতি ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বলে হিসাব করা হয়েছে।

রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় যুক্তরাজ্যের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের অংশগ্রহণকে ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করবে মস্কো। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে জোরালো সতর্ক বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ।

রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় ব্রিটিশ বাহিনীর অংশগ্রহণকে যুদ্ধের অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করার অধিকার মস্কোর রয়েছে বলে রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন ল্যাভরভ।

ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত থাকলে যুক্তরাজ্যের জন্য আমার খারাপই লাগবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগের একটি সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেন ল্যাভরভ। পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়ার স্বার্থ বা সম্পদ হুমকির মুখে পড়লে যেকোনো স্থানে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে মস্কো।

উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাতে ব্রিটেনে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে ইউক্রেন।

দ্য সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলায় যুক্তরাজ্যের দুটি কোম্পানির তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য অবকাঠামো ছিল।


মাতৃত্বাকালীন ছুটি নিয়ে বড় ঘোষণা বিজয় সরকারের

বিজয় থালাপতি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারি নারী কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর বিজয় থালাপতির সরকার। এখন থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের মতো তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেও পূর্ণ এক বছর মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন নারী কর্মীরা।

এর আগে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য ছিল। আর তৃতীয় সন্তানের বেলায় ছুটি কমিয়ে ১২ সপ্তাহ করা হতো। বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভায় রাজ্যের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ডি শরৎকুমার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, সরকার নারী ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়। তাই মাতৃত্বকালীন ছুটির বৈষম্য দূর করতে এই সময়সীমা ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ এই ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও কমে যাওয়া প্রজনন হারকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের মোট প্রজনন হার কমে বর্তমানে ১.৪-এ নেমে এসেছে, যা স্বাভাবিক জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১-এর চেয়ে অনেক কম। একইসঙ্গে রাজ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হারও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশের বয়সই ৬০ বছরের ওপরে।

তামিলনাড়ু সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিধানসভায় করা ঘোষণাটি কার্যকর করার জন্য শিগগিরই একটি গেজেট প্রকাশ করা হবে।

আসন্ন আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) উদ্যোগের কারণে জনসংখ্যা কমে গেলে জাতীয় রাজনীতি ও প্রতিনিধিত্বে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে। ফলে তামিলনাড়ু সরকারের এই পদক্ষেপকে কমে যাওয়া জন্মহার বৃদ্ধি এবং পরিবার গঠনে উদ্বুদ্ধ করার একটি কৌশলগত নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের হামলা

সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বোমা হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে অন্তত আটটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তবে, হামলায় রানওয়ে ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তুরস্কের সীমান্ত থেকে মাত্র ৪৫ মাইল দূরে এই ঘাঁটির অবস্থান।

এ ঘটনাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্প্রসারণবাদী নীতির কঠোর নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক।

অস্বাভাবিক এই হামলার ফলে ইসরায়েল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইসরায়েল প্রথমে হামলার দায় অস্বীকার করে। হামলার প্রায় ২০ ঘন্টা পর নিজেদের করা হামলার তথ্য প্রকাশ করে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই হামলা চালিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, হামলাটি ইসরায়েলই চালিয়েছে।

ব্যারাক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং হামলাটিকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কোনো অবদান রাখে না।

এ হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, আলেপ্পোর কাছে বিমানঘাঁটিতে তুরস্ককে সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে করা চুক্তি লঙ্ঘনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল সিরিয়া। এ হামলার লক্ষ্য ছিল ওই এলাকায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি ঠেকানো।

ইসরায়েলি বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মোতায়েন ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে-এ বিষয়ে সিরিয়াকে বারবার সতর্ক করেছে ইসরায়েল। তবে, এসব সতর্কতা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিরিয়া। ইসরায়েল তার নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি সহ্য করবে না এবং আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়াকে স্বাগত জানাবে।

একটি সূত্র জানায়, বিমানঘাঁটি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগের বিষয়টি সিরিয়ার সরকার আগে থেকেই জানত। রানওয়ে পুনর্নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যা করে এবং এর কোনো শত্রুতামূলক উদ্দেশ্য নেই বলে ইসরায়েলকে বার্তাও পাঠিয়েছিল সিরিয়া। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে অবহিত করেছিল ইসরায়েলি সরকার।

হামলার প্রায় তিন ঘণ্টা আগে ফোনে এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে ওই আলোচনায় বিমানঘাঁটির বিষয়টি উঠেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েল হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিল, হামলার উদ্দেশ্য ছিল তুরস্ককে বিমানঘাঁটিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার একটি চালান পাঠানো থেকে বিরত রাখা এবং ওই ঘাঁটিতে বৃহত্তর সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা গড়ে ওঠা ঠেকানো।

তবে, এক তুর্কি কর্মকর্তা ইসরায়েলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের কোনো উপস্থিতি ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোতে বোমা হামলা ও অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইসরায়েল অজুহাত তৈরি করছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিল সিরিয়ার সরকার। ওই চুক্তির আওতায় জর্ডানে একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানো এবং এমন আকস্মিক হামলা এড়ানো।

ওই কর্মকর্তা বলেন, একই চুক্তির অংশ হিসেবে দুই দেশ সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সমন্বয় কেন্দ্রটি কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরায়েল। এর পরিবর্তে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) অনুপ্রবেশ আরও বাড়ায়।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, একপর্যায়ে সিরিয়ার সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে শুরু করে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকে।

এ ঘটনার পর সিরিয়ার সরকারকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিষয়টি মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।

এদিকে, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ইসরায়েলের অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনও এই হামলার পেছনে আংশিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।


হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান?

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এ নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি ও সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে বেশ স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। নৌবাহিনী দিয়ে প্রণালীটিতে টহল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে, আর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর ইরান তার নিয়ন্ত্রণের বড় অংশ হারাচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার লক্ষ্যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। শুরুতে ওই লক্ষ্যে স্থির থাকলেও প্রায় ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধের মূল লক্ষ্য এ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

ট্রান্সপন্ডার ও স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করে কেপলার। ওই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা ৮০ শতাংশের বেশি জাহাজ ওমানের পথ ব্যবহার করেছে। এটি জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি নৌপথ, যার তীব্র বিরোধিতা করে ইরান।

প্রণালীটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ঘোষণা করে ইরান উত্তর ওমানের উপকূলঘেঁষা জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা কয়েক ডজন জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি বেশির ভাগ জাহাজ ইরানের দাবি উপেক্ষা করে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তার আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রণালীটি পার হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহী বলেন, ‘ক্রমেই মনে হচ্ছে, ইরান প্রণালীটির ওপর অন্তত আংশিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

এক মাস আগের পরিস্থিতির সঙ্গে এর বড় পার্থক্য রয়েছে। তখন কেপলার ওমানের পথ দিয়ে প্রায় কোনো জাহাজ চলাচলই দেখতে পায়নি। ইরানের পছন্দের পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় দেশটি প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারছে না—যেমনটি তারা গত বসন্তে করেছিল।

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে ইরান আবার টোল আদায় শুরু করতে পারে। তবে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি তা করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ড্যান পিকারিং বলেন, ‘ইরানের টোল আদায়ের দাবি মেনে চলতে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মানুষই চায় না এবং তারা তা করছেও না। তাই ওমানের পথ ব্যবহার করাটাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে যুক্তিসংগত।’

লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজ—ভেরি লার্জ ক্রুড অয়েল ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি)-ভাড়া করেছে।

এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে ওমান উপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাইরে গিয়ে ক্রেতাদের জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে। ইরানের হামলা এড়াতে তারা প্রায়ই টানা কয়েক সপ্তাহের জন্য নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে। ফলে কথিত ‘ডার্ক ট্রাফিক’ কেপলারের মতো কিছু তথ্য-ট্র্যাকিং সেবার নজরও এড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিছু জাহাজ শনাক্ত করা গেলেও প্রচলিত পদ্ধতিতে এগুলোর ওপর নজর রাখা কঠিন। ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রায় সব জাহাজের ওপর নজর রাখতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটি তেল পরিবহনের যে পরিমাণের কথা জানিয়েছে, তা আগের সব পূর্বাভাসকে ছাড়িয়েছে। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট গত সপ্তাহে দাবি করেন, এক সপ্তাহে প্রণালীটি দিয়ে যাওয়া এবং জলপথ এড়িয়ে অন্য পথে পাঠানো তেলের সম্মিলিত পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো।

জ্বালানি মন্ত্রীর দাবির ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’রয়েছে। তবে পুরো সংঘাতজুড়েই তিনি এমন বিতর্কিত দাবি বারবার করেছেন।

ইরানের অব্যাহত হামলা এবং যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় তেল পরিবহনের পরিমাণ এখনো কম থাকায় বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রেরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে ইরানেরও যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই, এটাও এখন স্পষ্ট হয়েছে।

পিকারিং বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য যদি ‘নিয়ন্ত্রণে থাকা’ হয়, তাহলে আমি বলব, তাদের হাতে কখনোই ওই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না।’ ‘আমার ধারণা, অন্যদের দূরে রাখার জন্য তারা নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছে। এমন দাবি তুলে তারা ওই পথে জাহাজ চলাচল প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী যদি সত্যিই তেলবাহী জাহাজগুলো প্রণালী দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করতে পারে, তাহলে এক বা দুই মাস আগের তুলনায় হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ কমেছে—এটা বলা যায়। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই তারা প্রণালীতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করছে, যা ট্রাম্পকে বেশ হতাশ করেছে। এসব আলোচনা তেল পরিবহন কিংবা জলপথটির নিয়ন্ত্রণে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইতোমধ্যে ‘পথের কাঁটা হলে ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।


ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী কে এই নাটালি হার্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তালিকায় নাটালি হার্পের উত্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ট্রাম্পের প্রতি তার অসাধারণ আনুগত্য, সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে হোয়াইট হাউসের ভেতরে-বাইরে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

২০২৩ সালের অক্টোবরের এক ঘটনা হার্পের এই ঘনিষ্ঠতারই বিরল উদাহরণ। নিউইয়র্কের একটি আদালতে আইনি বিষয়ে হাজির হওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। ট্রাম্প টাওয়ার থেকে প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর যখন রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন দেখা যায়, নিরাপত্তা বহরের গাড়িতে হার্পের জন্য কোনো আসন নেই। বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বাদানুবাদ হয়। হার্প দাবি করেন, ট্রাম্প নিজেই তাকে আদালতে যেতে বলেছেন।

আসন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হার্প একটি এসইউভির ডিকিতে উঠে বসেন বলে দুই সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন। ঘটনার একটি ছবিও তাদের হাতে এসেছে। ঘটনাটি আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

সাবেক ডানপন্থি টেলিভিশন উপস্থাপক হার্প ২০২২ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তিনি নিজের জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব ট্রাম্পকে দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন প্রচারে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও তিনি প্রায় সবসময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘুরেছেন।

সহযোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের জন্য প্রশংসাসূচক সংবাদ প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, চিঠিপত্র ও অন্যান্য তথ্য জোগাড় করে দেন হার্প। এত বেশি কাগজপত্র ও প্রিন্টআউট তিনি বহন করতেন যে ট্রাম্পের মিত্ররা তাকে ডাকতেন ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে।

একজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জানান, ট্রাম্পের কাছে কোনো বার্তা পৌঁছাতে চাইলে তারা প্রায় সবসময়ই নিশ্চিত করেন যে হার্প বিষয়টি জানেন। কারণ, হার্প দ্রুত সাড়া দেন এবং অনেক সময় প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের কাছে নিজেই প্রতিবেদন বা বার্তা পাঠান।

হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ওভাল অফিসের বৈঠকেও হার্পকে প্রায়ই ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। কোনো কোনো সফরে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা অল্প কয়েকজন সহযোগীর একজন। ট্রাম্প নিজেও নাকি তার দ্রুত কাজ করার প্রশংসা করে বলেন, ‘নাটালি খুব দ্রুত।’

তবে তার এই অতিরিক্ত উপস্থিতি হোয়াইট হাউসের সবাইকে স্বস্তিতে রাখেনি। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, হার্পও সেখানে উপস্থিত। আরেকটি সূত্রের দাবি, ৩৫ বছর বয়সি হার্প প্রায়ই বলেন, ‘তিনি শুধু ট্রাম্পের কাছেই জবাবদিহি করেন। এতে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে কাজ করা অন্য কর্মকর্তারা বিরক্ত হন।’

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এসব অভিযোগ খারিজ করে বলেন, ‘হার্প অধিকাংশ সহকর্মীর সঙ্গে ভালোভাবেই কাজ করেন। মুখপাত্র ডেভিস ইংল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাকে ট্রাম্পের দলের ‘‘অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও কঠোর পরিশ্রমী’’ সহযোগী হিসেবে প্রশংসা করেন।’

সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি বক্তব্যে হার্পের নাম উঠে আসার পর তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া বিমানে ট্রাম্পের ভ্রমণের প্রসঙ্গ টেনে হার্পের নাম উল্লেখ করেন। এ নিয়ে হোয়াইট হাউসের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

হার্পকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তার প্রবেশাধিকার। চলতি বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামাকে নিয়ে একটি বর্ণবাদী ভিডিও পোস্ট করে পরে মুছে দেন ট্রাম্প। তার ঘনিষ্ঠ মহলে তখন গুঞ্জন ওঠে, পোস্টটি হার্প করেছিলেন কি না। কারণ, ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রবেশাধিকার থাকা অল্প কয়েকজন সহযোগীর একজন তিনি বলে ধারণা করা হয়।

তবে সূত্রগুলো বলছে, হার্পের নাম প্রকাশ্যে আনতে অনেকে দ্বিধায় ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন অভিযোগ বরং ট্রাম্পের কাছে হার্পের প্রতি সমর্থন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সমালোচনা যতই হোক, ট্রাম্পের আস্থার বৃত্তে নাটালি হার্পের অবস্থান যে এখনো যথেষ্ট শক্ত—সেটিই তার সাম্প্রতিক উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।


নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান গালিবাফের

বাঘের গালিবাফ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরাক সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের কথা তুলে ধরেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার স্থান পরিদর্শন করে গালিবাফ বলেন, ‘ তার এই সফরের লক্ষ্য হলো অঞ্চলে নতুন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা দ্রুত বাড়ানো।’

তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের ইসলামী দেশগুলোর উচিত দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গভীর নিরাপত্তা সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ গড়ে তোলা।’ গালিবাফ আরও বলেন, ‘এমন একটি আঞ্চলিক মডেল বাস্তবায়নে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। গালিবাফের সর্বশেষ বক্তব্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে একটি স্বনির্ভর আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলার তেহরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পৌঁছেছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের পার্লামেন্টের প্রথম ডেপুটি স্পিকার আদনান ফাইহান।

গালিবাফ বলেন, ‘এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো এবং একটি গভীর ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। ইরান সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’ বাগদাদ সফরকালে তিনি ইরাক সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তেহরান ছাড়ার আগে নিজের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি উল্লেখ করেন, ইরাকি সমকক্ষের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, সমাজ ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।

তিনি ইরান ও ইরাকের সম্পর্ককে আঞ্চলিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক বলে বর্ণনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ জানান, ইরান ও ইরাকের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং অবিচ্ছেদ্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গড়ে ওঠা এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক বিশ্বাস ভবিষ্যতের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।


গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজার ধ্বংসস্তূপ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৭ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল সাতজনের মরদেহ এবং ২৩ জন আহতকে গ্রহণ করেছে। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ খবর প্রকাশ করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও গুলির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত আরও ১ হাজার ২৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ২২৩ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে ধ্বংসস্তূপ ও বিভিন্ন সড়কে এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলি হামলায় গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

গাজা উপত্যকার গাজা সিটিতে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা সিটির বন্দর এলাকার কাছে অবস্থিত একটি ক্যাফে ও আশপাশের স্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন। গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের নয়, বরং গাজায় সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠন হামাসের শীর্ষ কমান্ডার ও নুখবা ফোর্সের একাধিক সদস্যকে নিশানা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে গাজা কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ইসরায়েলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, হামলার শিকার স্থানে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা অবস্থান করছিল। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও অস্ত্রবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলের অব্যাহত এই হামলাকে ‘গণহত্যা ও নির্মম অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।


যুদ্ধের অবসান চায় ইরান, সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়: আরাগচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং বর্তমানে চলমান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী পরিসমাপ্তি প্রত্যাশা করে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে পুনরায় সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার মতো কোনো ভঙ্গুর পরিস্থিতি তারা কোনোভাবেই চায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি এই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরাঘচি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ‘প্রতিবেশী কূটনীতি’ এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অস্থিরতার সময়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ইরানকে যেভাবে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেছে, তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ইরানি নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান এবং ইরানের উড়োজাহাজগুলোকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

চলমান আঞ্চলিক সংকট প্রসঙ্গে তেহরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান নিছক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরান এখন পুরো যুদ্ধের একটি টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, "আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না; আমরা যুদ্ধের অবসান চাই।"

আব্বাস আরাঘচি মনে করেন, এমন কোনো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ইরানের কাম্য নয় যেখানে কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতির পর আবারও নতুন করে সংঘাত শুরু হবে। তেহরান চায় না যে সাময়িক শান্তিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ বা রক্তপাতের পথ উন্মুক্ত হোক। তাই একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানই এখন ইরানের মূল দাবি।


কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে ‘শিখা ইন’ নামক ওই হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় হোটেলের অধিকাংশ বোর্ডার তখন ঘুমে ছিলেন।

আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ওই এলাকার হোটেলগুলোতে সাধারণত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করেন। যদিও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ বা দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে ইন্ডিয়া টুডে দাবি করেছে যে, নিহত নয়জনই বাংলাদেশের নাগরিক। স্থানীয় দমকল কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে উক্ত গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনে ওই ব্যক্তিরা কলকাতায় গিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের উৎপত্তি। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মূলত দম বন্ধ হয়েই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ফায়ার সার্ভিসের ডিজি অনুজ শর্মা। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তিদের দেহে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার তেমন কোনো চিহ্ন নেই। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তারা মূলত শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক আশা করে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

রণধীর জয়সওয়াল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগকে গুরুত্ব দেয় ভারত। দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের জ্বালানিবিষয়ক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বাড়তি চাহিদার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি; এক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন, তেল শোধন সক্ষমতা এবং আমাদের হাতে থাকা মজুতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’


শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে: ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে ইরান। দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এমন কথা বলেছেন। জুনে স্বাক্ষরিত স্মারকটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গালিবাফ এমন মন্তব্য করলেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গালিবাফের এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। যেসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পূরণ করতে হবে সেগুলো উল্লেখ করেছেন গালিবাফ। এর মধ্যে আছে- ইরানি সমুদ্রবন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত অর্থ ছাড় এবং সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ও হুমকির অবসান ঘটানো।

দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হয় গত ১৭ জুন। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বের জেরে তা দ্রুতই ভেস্তে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৭ জুলাই স্মারকটি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থগিতের কথা জানায়।

স্মারক অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল। আলোচনার ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত নির্ধারণ। বলা হয়েছিল, দুই দেশ চাইলে ৬০ দিনের মেয়াদ আরও বাড়াতে পারবে।

গত সোমবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে গেছে। তেহরান এখন ‘‘সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক’’ অবস্থানে চলে যাবে।’


ভারত-চীন সীমান্তে ফের উত্তেজনা

অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চীন সীমান্ত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে সীমান্তে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মিত্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পিপলস পার্টি অব অরুণাচল প্রদেশের (পিপিএ) একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল অরুণাচলের দুর্গম আপার সুবানসিরি এলাকায় গিয়ে চীনের ‘অনুপ্রবেশের’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেছে।

দলটির দাবি, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় সেনাদের নিয়মিত টহল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং চীনা বাহিনী সেখানে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রেখেছে। এ ঘটনায় নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা সীমান্তে চীনের কথিত দখল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করেছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সীমান্তের বড় অংশই বিতর্কিত। দুই দেশ সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি কোথায়—তা নিয়েও একমত নয়।

পিপিএর চার সদস্যের দলটি আপার সুবানসিরির দুর্গম তাকসিং এলাকায় যায়। দলটির দাবি, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ওই এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহল চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবল বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে অনুসন্ধানী দলের দাবি, এই সময়েও চীনা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় থাকে। এতে সীমান্ত রক্ষায় ভারতের অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলটির প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সংঘাতের পর ভারতীয় সেনারা শেরা-৫ নামে একটি সীমান্ত টহল পয়েন্ট ছেড়ে গেছে।

পিপিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট কালিং জেরাং আলজাজিরাকে বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের পূর্বপুরুষদের শিকারক্ষেত্র হারানো নিয়ে ক্ষুব্ধ।’ তার দাবি, চীনের এই ‘অনুপ্রবেশ’ নতুন নয়; কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে তা বেড়েছে।

গত মাসে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে চীনের অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ জানায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনের অনুপ্রবেশের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘চীনা বাহিনীর কথিত দখল নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ‘‘ভুল ও ভিত্তিহীন’’।’

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেনি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সীমান্তসংক্রান্তবিষয়কে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

চীনের পক্ষ থেকেও নতুন করে কোনো সীমান্ত উত্তেজনার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বর্তমানে চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি ‘‘সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল’’।’

তিনি জানান, গত সপ্তাহে দুই দেশ সীমান্তবিষয়ক ৩৬তম বৈঠক করেছে। কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস বহু পুরোনো। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিমলা কনভেনশনের মাধ্যমে ম্যাকমোহন লাইন নির্ধারণ করা হয়। ভারত স্বাধীনতার পর এটিকেই চীনের সঙ্গে পূর্ব সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করে।

তবে চীন এই সীমারেখা স্বীকার করে না। বেইজিং অরুণাচল প্রদেশের পুরো ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে অভিহিত করে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর দুই দেশ বাস্তবে যার যার নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাকে চিহ্নিত করতে এলএসি মেনে নেয়। কিন্তু এলএসি কোথায়—তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ফলে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় দুই দেশের সেনাদের টহল প্রায়ই পরস্পরের দাবিকৃত এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। এরপর কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।


ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমে তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোস এর জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের সাথে আমেরিকার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে—সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকানদের মধ্যে এমন আশঙ্কার কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় এমন পতন ঘটেছে।

চার দিনব্যাপী এই জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে, তারা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট, যেখানে ৬৪ শতাংশই তার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের সমর্থনের হার, যা চলতি মাসের শুরুর দিকের জরিপে ৩৫ শতাংশ ছিল এবং তার বর্তমান মেয়াদের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। এ হার এখন তার আগের মেয়াদের ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পৌঁছানো সর্বনিম্ন স্তরের সমান হয়েছে।

৪৮ শতাংশেরও কম দেশের মানুষের সমর্থনে ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর, চলতি বছরে মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। পরবর্তী এই সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশকে স্তব্ধ করে দেয়, যা পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে তোলে—এবং এটি মার্কিন পরিবারগুলোর পাশাপাশি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষায় নিয়োজিত ট্রাম্পের রিপাবলিকান সহযোগীদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

ট্রাম্প, যিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, শুরুতে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু ইরান তার প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং সংঘাত শিথিল হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন অনেকটাই বন্ধ করে রেখেছে।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান—যার মধ্যে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান—মনে করেন যে ইরানে মার্কিন অংশগ্রহণ ‘দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।’ মাত্র ১৬ শতাংশ বলেছেন যে, এই সংঘাত সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে।

গত শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘পেট্রোলের জন্য সামান্য একটু বেশি অর্থ দেওয়া’ এমন একটি মূল্য, যা পরিশোধ করা সার্থক—যাতে ‘একটি অত্যন্ত দুষ্ট দেশ’ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে। যুদ্ধের পক্ষে দেওয়া তার অন্যতম যুক্তি এটি।

সংঘাতজুড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন, শান্তিচুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে একজন এবং মাত্র অর্ধেক রিপাবলিকান মনে করেন, এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে।

যুদ্ধ এবং পেট্রোলের দাম নিয়ে উদ্বেগ রিপাবলিকানদের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার আশা নিয়েই তারা উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ক্রমেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণও তাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

চলতি মাসে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপগুলোতে দেখা গেছে, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোটাররা অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের বেশি যোগ্য মনে করছেন। সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। বিপরীতে ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের পদ্ধতিকে বেশি পছন্দ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও ডেমোক্র্যাটদের বেশি সক্ষম বলে মনে করছেন ভোটাররা।

ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়েই অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের পদ্ধতি ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি জনপ্রিয় ছিল। এর পেছনে রয়েছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের নির্দেশে দেশজুড়ে অব্যাহত কঠোর অভিযান। তবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে রিপাবলিকানরা জনসমর্থন হারাচ্ছেন।

সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৪০ শতাংশ বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের পদ্ধতি ভালো। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। দুই শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান ট্রাম্পের পুরো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকানরা ২৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।


banner close