ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের দোদা জেলায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ঘাঁটিতে হামলায় পাঁচ সেনা সদস্য ও স্পেশাল পুলিশের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
বুধবার সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ‘নির্মূল হয়েছে’ এক সন্ত্রাসী।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ইন্ডিয়া টুডেকে জানান, আহত ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য সাব ডিস্ট্রিক্ট হসপিটাল ভাদেরওয়াহতে নেয়া হয়েছে।
সশস্ত্র সংগঠন দ্য কাশ্মীর টাইগার্স ওত পেতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ ও তাদের ধরতে তল্লাশি অভিযান চলছিল।
হামলার বিষয়ে সীমান্তবর্তী দেশ পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে এডিজিপি আনন্দ জৈন বলেন, ‘আমাদের শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী সবসময় আমাদের দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়। হিরানগরের এ সন্ত্রাসী হামলা দৃশ্যত নতুন অনুপ্রবেশের ঘটনা।’
রিয়াসি ও কঠুয়ার পর বুধবারের হামলাটি ছিল জম্মু অঞ্চলে গত তিন দিনের মধ্যে এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা।
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও অঞ্চলটির পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বের সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার। বুধবার এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই দেশগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর এই জোট গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সমর্থন জানিয়েই এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে।
এদিকে এই বোর্ডে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে পুতিন এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা করছে। পুতিন মন্তব্য করেছেন যে এই উদ্যোগটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এবং রাশিয়া এতে এক বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই বোর্ডকে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তী পুনর্গঠন তদারকির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও প্রস্তাবিত সনদে ফিলিস্তিনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই নতুন জোটের ফলে ওই অঞ্চলে জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও ভিয়েতনামসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই জোটে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম মিত্র কানাডা ও যুক্তরাজ্য এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। অন্যদিকে স্লোভেনিয়া এই উদ্যোগে যোগ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির মতে, এই বোর্ড আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক হামলাগুলোতেও শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই মানবিক সংকটের মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন এই জোট কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের যে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে তিনি সরে এসেছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ট্রাম্প তার সুর নরম করেছেন এবং সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড এবং পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এই অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর যে বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেই সিদ্ধান্ত তিনি আপাতত স্থগিত করেছেন।
দাভোসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যাতে সব পক্ষই খুশি। তিনি এটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং সম্ভবত স্থায়ী চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে এই চুক্তির ফলে সবাই একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। এর আগে তিনি গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের দাবিতে অনড় থাকলেও এবার তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগের ইচ্ছা তার নেই।
অন্যদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট এই আলোচনার প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা বিতর্ক তার আলোচনায় স্থান পায়নি। বরং তাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমশ বাড়তে থাকা প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই কৌশল নির্ধারণ। মূলত ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষাই ছিল এই আলোচনার মুখ্য বিষয়।
এদিকে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ট্রাম্পের সুর নরম করাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ডেনমার্কের অখণ্ডতা রক্ষা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানে বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণার পরপরই মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ করা গেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এখনই পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে চূড়ান্ত কোনো চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল সংকটের অবসান হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সয়দ নির্বাচন ঘিরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবার খোলস পাল্টে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য নিন্দিত এবং এক দশকেরও বেশি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দলটি নির্বাচন সামনে রেখে দলটি নতুন সমর্থকও টানছে। বিষয়টি উদারপন্থি মহল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নারীর অধিকারের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না নারী অধিকারকর্মীরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ছেপেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ও তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর জামায়াত নিজের রাজনীতির নতুন রূপ দেখানোর চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় জামায়াত তথাকথিত ‘দুর্নীতিবিরোধী’ ভাবমূর্তি ও ‘কল্যাণমূলক কার্যক্রমের’ পাশাপাশি কিছু বিশ্লেষকে ভাষায় ‘তুলনামূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অবস্থানে ভর করে ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফল আশা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) ডিসেম্বরের জরিপে জামায়াতকে অন্যতম ‘পছন্দের’ দল হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওই জরিপে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিক্রিয়াশীল নই, কল্যাণমূলক রাজনীতি শুরু করেছি।’ তিনি দলের মেডিকেল ক্যাম্প, বন্যা ত্রাণ কার্যক্রম এবং গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই বিক্ষোভে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এবং এর সহযোগীরা এখন যে গঠনমূলক রাজনীতি করছে, তাতে মানুষ জামায়াতের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখবে।’
১৯৪০-এর দশকের শুরুতে প্যান-ইসলামিক আন্দোলন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উৎপত্তি। দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বহু শীর্ষ নেতা মৃত্যুদণ্ড পান বা কারাবন্দি হন। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা আছে। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ২০১৩ সালে আদালত দলটিকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করে।
সেই নিষেধাজ্ঞা অভ্যুত্থানের পর গত বছর প্রত্যাহার করা হয়। এরপর জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় পায়। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থিত ছাত্র সংগঠনকে পরাজিত করে। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই জামায়াতে সঙ্গেই নির্বাচনী জোট গঠন করেছে এনসিপি। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট জামায়াতের ভাবমূর্তি কিছুটা ‘উজ্জল’ করতে সহায়তা করতে পারে।
ঢাকার ব্যস্ত বাজারে ভ্যানগাড়িতে ডাবের পানি বিক্রি করছিলেন ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ জালাল। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘এবার আমরা নতুন কিছু চাই, আর নতুন বিকল্প হলো জামায়াত। তাদের ভাবমূর্তি পরিষ্কার, তারা দেশের জন্য কাজ করে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ধর্মতত্ত্ববিদ শাফি মো. মোস্তফা রয়টার্সকে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ জামায়াতকে সুবিধা দিয়েছে। তিনি বলেন, আ.লীগের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা ব্যাপক হতাশা তৈরি করেছে। এর ফলে ‘ইসলামই একমাত্র সমাধান’— এই স্লোগান সামনে এনে জামায়াত নিজেকে ‘নৈতিক বিকল্প’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে খোলস বদলের অংশ হিসেবে প্রথম একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে মুখেও সোচ্চার দলটি। জামায়াতের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দলটি ‘ইসলামী মূল্যবোধে পরিচালিত গণতান্ত্রিক’ বাংলাদেশ চায়। নেতারা মুখে নারীদের সমান অধিকারের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে একটিও নারী প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। সংরক্ষিত আসনেই নারীদের প্রতিনিধিত্ব রাখার কথা বলেছেন শফিকুর রহমান।
জামায়াত নেতাদের মুখের কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিগুলোকে ‘নির্বাচনী কৌশল’ হিসেবে দেখছেন নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষের নেত্রী শিরীন হক। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন তারা যা-ই বলুক না কেন, ক্ষমতায় গেলে ফিরে যাবে পুরনো মতাদর্শে, যেখানে নারীদের জীবনে পদে পদে বিধিনিষেধ।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ২৬ বছর বয়সি উমামা ফাতেমাও জামায়াতের দ্বিচারিতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একদিন তারা নারী ক্ষমতায়নের কথা বলে, পরদিনই দলের প্রধান বলেন, নারীরা যেন দিনে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে, যাতে পরিবার সামলাতে পারে।’
জামায়াতের মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রয়টার্সকে বলেন, জামায়াত কখনো ধর্মের নামে সহিংসতা বা অসহিষ্ণুতাকে সমর্থন করেনি। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের অন্যতম প্রার্থী মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, ‘এপ্রিলে জামায়াত আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা আমাকে তথ্য দেখায়, যেখানে বলা হয় যে—মানুষ পুরনো দলগুলোর ওপর বিরক্ত এবং পরিবর্তন চায়। তারা বিশ্বাস করেছিল সুযোগ আছে—আর তাই আমি যোগ দিই।’
আরমান জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হয়। মীর আহমদ নিজেও ৮ বছর গোপন বন্দিত্বে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে মুক্তি পান।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে, যা শেখ হাসিনার সময়ের ভারতকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির বিপরীত হবে।
তবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এ ধারণা নাকচ করে বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার আগ্রহ আমাদের নেই। আমরা সবাইকে সম্মান করি এবং সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চাই।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং বা পরিবার ছাড়া কর্মস্থল হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাচনের প্রাক্কালে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চরমপন্থি ও উগ্রপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে শেষ পর্যন্ত পরিবার ও নির্ভরশীল সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলো।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সতর্কতামূলক এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে অবস্থিত চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার ও নির্ভরশীলদের দ্রুত ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার সরিয়ে নেওয়া হলেও কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়বে না। সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকাসহ সব কটি মিশন খোলা থাকবে এবং কূটনীতিকরা পূর্ণ জনবল নিয়ে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাবেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে কতজন ভারতীয় কূটনীতিক কর্মরত রয়েছেন বা তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া কূটনীতিকদের পরিবার ঠিক কবে নাগাদ ভারত অভিমুখে রওনা হবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বর্তমান বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও আর্থিক নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করেছেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি উল্লেখ করে তিনি জানান, শক্তিশালী দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ও প্রচলিত নিয়মনীতির অবক্ষয় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। কার্নি তার ভাষণে উদ্ভূত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নয়, বরং বড় ধরনের এক ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’ তার মতে, বিশ্ব আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং বর্তমানে বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্য দেশগুলোর ওপর অনৈতিক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে।
কানাডার মতো মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য এই নতুন বাস্তবতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেন মার্ক কার্নি। তিনি উল্লেখ করেন, আগেকার ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ থেকে কানাডা অনেক সুবিধা পেলেও এখন বড় শক্তিগুলোর চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে সেই নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বড় শক্তিগুলোকে এককভাবে খুশি করার চেষ্টা না করে মাঝারি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আলোচনার টেবিলে না থাকলে খাবারের মেনুতে পরিণত হবেন’। কার্নি মনে করেন, মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য এখন আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই এবং তাদের অবশ্যই নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কানাডার মতো মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য এখন প্রশ্নটা এটা নয় যে আমরা মানিয়ে নেব কি না। আমাদের মানিয়ে নিতেই হবে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু নিজেদের চারপাশে উঁচু দেয়াল তুলে মানিয়ে নেব, নাকি আরও বড় কোনো লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব?’
কানাডা ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান উত্তজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কার্নির এই ভাষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে আমেরিকার ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডা ও ভেনেজুয়েলাকে আমেরিকার পতাকায় ঢাকা একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যা এক প্রকার দখলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আশঙ্কার মধ্যেই গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, কানাডার সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলার জন্য গেরিলা কৌশলের বিশেষ প্রতিরক্ষা মডেল বা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের হুমকি এবং বড় শক্তিগুলোর এমন একতরফা প্রভাব বিস্তারের মানসিকতা এবারের দাভোস সম্মেলনের পরিবেশকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।
স্পেনের বার্সেলোনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের দেয়ালে আছড়ে পড়লে এর চালক নিহত হন এবং অন্তত ৩৭ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং বাকি ৩২ জন বিভিন্ন মাত্রায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। গত রোববার দক্ষিণ স্পেনে ৪০ জনের প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে দেশটিতে এটি দ্বিতীয় বড় ট্রেন দুর্ঘটনা।
কাতালুনিয়া আঞ্চলিক ফায়ার ইন্সপেক্টর ক্লাউডি গালার্দো জানিয়েছেন যে, উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে “ট্রেন থেকে সব যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ভেতরে একজন যাত্রী আটকা পড়লেও পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা তাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। একই সময়ে বার্সেলোনায় আরেকটি কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দেশটির রেল কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক প্রবল ঝড় ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে রেললাইনের ওপর পাথর পড়ে থাকায় ট্রেনগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাইনচ্যুত হচ্ছে। বর্তমানে স্পেনের উপকূলীয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উচ্চসতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই পর পর দুটি বড় রেল দুর্ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: বিবিসি।
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী দীর্ঘকালীন বৈরী সম্পর্ক এখন এক নজিরবিহীন উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় রাষ্ট্রই একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। ওয়াশিংটন কর্তৃক তাদের একটি বিশেষ বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে পাঠানোর প্রেক্ষিতে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা তাদের হাতে থাকা সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, তাদের এই অবস্থান কোনো ফাঁকা বুলি নয় বরং এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একটি সর্বাত্মক সংঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং তা ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের দেওয়া কাল্পনিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে।” আরাগচির মতে, এমন যুদ্ধের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ওপর এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক হুঁশিয়ারি। ট্রাম্প নিউজ নেশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুনরায় হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যার অপচেষ্টা চালায় তবে দেশটিকে “পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে”। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে ইরানের জেনারেল আবুলফজল শেকারচি হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো আঘাতের সামান্যতম আভাস পাওয়া গেলে তারা কেবল “আক্রমণকারীর হাত কেটে দেবেন না, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিনদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট রাখবেন না।” এই পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পকে সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
সামরিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়ে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতিমধ্যে মালাক্কা প্রণালী পার হয়ে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে, যেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে মাত্র কয়েক দিন সময় লাগবে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এর সুনির্দিষ্ট গন্তব্য নিয়ে মুখ খোলেনি, তবে ভারত মহাসাগরে এর উপস্থিতি তেহরানের জন্য বড় ধরনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা মূলত যুদ্ধের প্রস্তুতিরই একটি অংশ।
এদিকে বাইরের সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরান অভ্যন্তরীণভাবেও চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে এখন সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলমান রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে এবং ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এই প্রাণহানির জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছে এবং নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার বলে স্বীকার করেছে। বাইরের সামরিক হুমকি এবং ভেতরের বিশাল গণঅস্থিরতার এই দ্বিমুখী চাপে তেহরান এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইরানকে অবিলম্বে নিখোঁজ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে এবং সাম্প্রতিক বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় গ্রোসি সতর্ক করে বলেন, এই অচলাবস্থা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না এবং একটা সময় তাকে স্বীকার করতে হতে পারে যে এই বিপজ্জনক উপাদানগুলো কোথায় আছে, তা তার জানা নেই।
আইএইএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ঘোষিত ১৩টি পারমাণবিক স্থাপনা তারা পরিদর্শন করেছে, যেগুলো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ, ফোর্দো এবং ইসফাহানের মতো তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, এসব স্থাপনায় আসলে কী ঘটেছে এবং সেখানে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থান কী, সে বিষয়ে ইরানকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম যদি আরও সমৃদ্ধ করা হয়, তবে তা দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
গত সাত মাস ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যাচাই করা যায়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে এই পরিদর্শন হওয়ার কথা ছিল। পরিদর্শনে বিলম্বের কারণ হিসেবে গ্রোসি ইরানের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে দেশের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে, ফলে শিগগিরই পরিদর্শকদের কাজ পুনরায় শুরু করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রোসি স্মরণ করিয়ে দেন যে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি মেনে চলা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি বাধ্যতামূলক।
আপাতত পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইরানের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন আইএইএ প্রধান। তিনি জানান, অচলাবস্থা কাটাতে আগামী দিন বা সপ্তাহের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে তার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যার লক্ষ্য হলো নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ছাড়াই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
গাজার যুদ্ধ বন্ধ এবং উপত্যকাটির পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস অদূর ভবিষ্যতে জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন যা বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৮০ বছর আগে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগের কারণে সংস্থাটি এখন অস্তিত্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন যে তার তৈরি করা এই বোর্ড জাতিসংঘের একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রভাবশালী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি এই পদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবেন। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি এই বোর্ডের নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানা গেছে। গাজা সংকট নিরসনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হলেও এর কার্যপরিধি যে ক্রমান্বয়ে আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে যাচ্ছে, তা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই বোর্ডে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক শর্তাবলি নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, বোর্ড অব পিসের স্থায়ী সদস্যপদ লাভের জন্য আগ্রহী দেশকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার অনুদান প্রদান করতে হবে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এই বোর্ডে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অর্থের বিনিময়ে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী পর্ষদের সদস্যপদ পাওয়ার এই প্রক্রিয়া কূটনৈতিক মহলে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প তার এই বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে সতর্কতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যেহেতু পুতিন ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, তাই তাকে এমন একটি শান্তি পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জাপানের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে ৪৫ বছর বয়সী তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) নারা অঞ্চলের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।
২০২২ সালের জুলাই মাসে নারা শহরে এক নির্বাচনী প্রচারণায় ভাষণ দেওয়ার সময় ঘরে তৈরি বন্দুক দিয়ে আবেকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন ইয়ামাগামি, যার ফলে ৬৭ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু হয়। গত অক্টোবরে মামলার প্রথম শুনানিতেই ইয়ামাগামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা এই হত্যাকাণ্ডকে “জঘন্য” বলে অভিহিত করেন। তিনি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, “বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করাটা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নৃশংস অপরাধ, তা স্পষ্ট।” রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা এই অপরাধকে আধুনিক জাপানের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাজা কমিয়ে ২০ বছরের মধ্যে রাখার আবেদন করলেও আদালত তা আমলে নেননি। আসামিপক্ষের যুক্তি ছিল, ইউনিফিকেশন চার্চকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিপর্যয়ই ইয়ামাগামিকে এই চরম পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করেছিল।
তদন্ত ও আদালতের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, ইয়ামাগামির মা ইউনিফিকেশন চার্চে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করায় তাদের পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। শিনজো আবে একবার ওই চার্চের একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা প্রদান করায় ইয়ামাগামি তার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাকেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বানান। এই হত্যাকাণ্ডের পর জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাথে বিতর্কিত ওই ধর্মীয় সংগঠনের সম্পর্কের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে, যা দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মোট ৩ হাজার ১৮৮ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শিনজো আবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার বিশেষ সখ্য ছিল। আবের প্রস্থান জাপানের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে এলডিপিকে এখনো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের ভয়ভীতি, দাদাগিরি বা 'গুণ্ডামি'র কাছে ইউরোপ কখনোই মাথা নত করবে না। গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তর না করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চড়া শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মাক্রোঁ ইউরোপের সার্বভৌমত্ব ও সম্মানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। আটলান্টিকের দুই পাড়ের কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে যখন অন্য ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন, তখন মাক্রোঁ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের সমালোচনা করলেন।
মাক্রোঁ তার বক্তব্যে বলেন, ফ্রান্স ও ইউরোপ কখনোই শক্তির জোরে চাপিয়ে দেওয়া কোনো নিয়ম মেনে নেবে না। তার মতে, এমনটা মেনে নিলে ইউরোপ ধীরে ধীরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়বে। বিশ্ব রাজনীতি নীতিহীনতার দিকে ঝুঁকলেও ইউরোপ তার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বলে তিনি হুশিয়ারি দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্বরতার চেয়ে আইনের শাসন এবং গুণ্ডামির চেয়ে সম্মানই ইউরোপের কাছে বেশি পছন্দের। শারীরিক অসুস্থতার কারণে, বিশেষ করে চোখের রক্তনালী ফেটে যাওয়ায় সুরক্ষার জন্য বক্তব্যের সময় মাক্রোঁকে এভিয়েটর সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হবে। বিশেষ করে ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন তিনি। ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মাক্রোঁ দাভোসে বলেন, ওয়াশিংটনের এই লাগাতার শুল্ক আরোপ এবং একে ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অকার্যকর।
এর আগে ট্রাম্প কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে মাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে দেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এবং জি-৭ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব ছিল। এদিকে, দাভোসে দুই নেতার মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মাক্রোঁ জানিয়েছেন তিনি বুধবারের আগেই দাভোস ত্যাগ করবেন, অথচ ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার কথা বুধবার। তবে ফাঁস হওয়া বার্তায় দেখা গেছে মাক্রোঁ বৃহস্পতিবার প্যারিস সফরের জন্য ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যদিও ট্রাম্প সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন প্রধান শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শ্রমিক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বর্ষপূর্তির দিনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তার অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে মার্কিন এক নারী নাজেহাল হওয়া এবং ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুডকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ওয়াশিংটনসহ নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলের মতো ছোট শহরগুলোতেও শত শত বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে এসেছেন। শহরগুলোর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইসিই, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত লাখ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের বিষয়ে তারা জনম্যান্ডেট পেয়েছে, তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করছেন।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ‘নো হেইট, নো ফিয়ার, রিফিউজিস আর ওয়েলকাম হিয়ার’ স্লোগান তুলে রাজপথে অবস্থান নেন। একই সময়ে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাজ্য ক্যাপিটলে আয়োজিত ‘স্টপ আইসিই টেরর’ সমাবেশে অংশ নেয়। ইন্ডিভিজিবল ও ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও তৃণমূল সংগঠন এসব প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এসব সংগঠন মূলত অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমের ঘোর বিরোধিতা করছে।
টেক্সাসের এল পাসোর একটি কেন্দ্রে গত দেড় মাসে আটককৃত তিন অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা এই বিক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদী আন্দোলন এখন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের নতুন গুঞ্জন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবরের প্রেক্ষিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এবারের পরিস্থিতি আগের মতো হবে না এবং ইরান কোনো ছাড় দেবে না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক মতামত কলামে আব্বাস আরাগচি এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি লিখেছেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘাত চলাকালে ইরান পরিস্থিতি বিবেচনায় যে সংযম প্রদর্শন করেছিল, এবার আর তেমনটি ঘটবে না। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ইরান যদি নতুন করে হামলার শিকার হয়, তবে তাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা না রেখেই সর্বস্ব দিয়ে পাল্টা হামলা চালাবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে দখলদার ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরু হয়, যা ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় শক্তিশালী বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তেহরান আগেভাগেই ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিল।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কলামে উল্লেখ করেছেন যে, তার এই বক্তব্য কোনো ফাঁকা হুমকি নয়, বরং এটাই আসন্ন বাস্তবতা। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রতিপক্ষকে ভালোভাবে জানিয়ে দেওয়া উচিত। আব্বাস আরাগচি লিখেন, একজন কূটনীতিক এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধকে ঘৃণা করেন, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।
সম্ভাব্য যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে আরাগচি লিখেছেন, যদি একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের যে সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি ব্যাপ্তির কথা বোঝাচ্ছে, বাস্তবতা হবে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি ভয়াবহ ও দীর্ঘ। এই যুদ্ধ কেবল নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।