বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১২ জুন, ২০২৪ ১৮:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৪ ১৮:৩৪

কুয়েতে দক্ষিণাঞ্চলে আহমাদি গভর্নরেটের মানগাফ এলাকায় বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওনমানোরামার তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ ভারতীয় নাগরিক আছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই কেরালার বাসিন্দা। ওই ভবনে ১৯৫ শ্রমিক ছিলেন; যাদের বেশিরভাগই কেরালা ও তামিলনাড়ুর বাসিন্দা।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার ভবনটি মালয়ালি ব্যবসায়ী কেজি আব্রাহামের মালিকানাধীন এনবিটিসি গ্রুপের বলে জানিয়েছে ওনমানোরামা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডের খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। সেখানে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধ-শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। আমাদের রাষ্ট্রদূত ক্যাম্পে গেছেন। আমরা বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।’

কুয়েতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘আজকের অগ্নিকাণ্ডে আহত ৩০ জনেরও বেশি ভারতীয় শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইদ আল ওয়াইহান প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ৩৫ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে আহতদের মধ্যে আরও ছয়জন একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির জেনারেল ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একটি সূত্র বলছে, ভবনটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে আগুন লাগার পর ধোঁয়া ওপরের দিকে উঠে যায়। যে কারণে সেখানে ঘুমিয়ে থাকা শ্রমিকরা দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘটনার পর মানগাফ ও তার আশপাশের এলাকার সব হাসপাতালে উচ্চ-সতর্কতা জারি করেছে।

অগ্নিকাণ্ডে আহত অন্তত ৪৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।


এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্তের মুখে ক্লিনটন দম্পতি

বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জেফরি এপস্টেইন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধনকুবেরের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত এই পাচারকারীর মামলার ৩০ লক্ষাধিক নথি দেশটির আদালত প্রকাশ করায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন একের পর ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তের মুখে পড়েছেন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী দম্পতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

এপস্টেইন পরিচালিত প্রভাববলয় ও অপরাধের নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হতে চলেছেন ক্লিনটন দম্পতি। সেখানে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। সাবেক এই প্রভাবশালী দুই নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ক্লিনটন দম্পতি বসবাস করেন।

মার্কিন কংগ্রেসনাল তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বাইরে শপথপূর্বক দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণই কংগ্রেসনাল ডিপজিশন। সাক্ষীরা—এক্ষেত্রে ক্লিনটন দম্পতি—শপথ নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কমিটির আইনজীবী এবং তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এই সেশনটি রেকর্ড এবং প্রতিলিপি করা হবে। জেনে বুঝে মিথ্যা বিবৃতি দিলে আইনি পরিণতির সম্ভাবনাও আছে।

ক্লিনটন দম্পতি শুরুতে সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে হাউস যখন তাদের বিরুদ্ধে 'কন্টেম্পট' বা অবমাননার জন্য দ্বিপাক্ষিক ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দেয় (যা ফৌজদারি অভিযোগের দিকে নিয়ে যেতে পারত), তখন তারা শেষ পর্যন্ত হাজির হতে রাজি হন।

হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, কেউ ক্লিনটন দম্পতির কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না। আমাদের কাছে শুধু অনেকগুলো প্রশ্ন আছে। সেগুলোর উত্তর দরকার।

সাক্ষ্যগ্রহণ কখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে

সাক্ষ্যগ্রহণ ক্যাপিটল হিলের পরিবর্তে চ্যাপাকুয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বাড়ির কাছে অনুষ্ঠিত হবে। হিলারি ক্লিনটন স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেবেন এবং এর পর শুক্রবার বিল ক্লিনটন সাক্ষ্য দেবেন। উভয় অধিবেশনই রুদ্ধদ্বার হবে, তবে সেগুলো চিত্রায়িত এবং প্রতিলিপি করা হবে।

সাধারণত এ ধরনের সাক্ষ্যগ্রহণ স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শুরু হয়, তবে কমিটি নির্দিষ্ট সময় জনসমক্ষে নিশ্চিত করেনি। এর আগে তাদের সকাল ১০টায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সাক্ষ্য দেওয়ার এই সমঝোতা ক্লিনটন দম্পতি এবং হাউস ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমারের মধ্যে দীর্ঘ কয়েকমাসের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর এসেছে।

বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাওয়া হয়েছিল এবং পরে ডিসেম্বরে পুনঃনির্ধারিত হয়েছিল। তিনি একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অজুহাতে হাজির হতে অস্বীকার করেন। পরে গত ১৩ জানুয়ারি একটি নতুন সমন জারি করা হলেও তিনি উপস্থিত হননি।

হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে গত ৯ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল এবং পরে ১৮ ডিসেম্বরে পিছিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সমনে গত ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও তিনিও উপস্থিত হননি।

ক্লিনটন দম্পতি যুক্তি দিয়েছিলেন যে সমনগুলো আইনিভাবে অকার্যকর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা করা হয়েছে।

তবে চলতি মাসের শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি কেবল সাক্ষ্য দিতে রাজিই হননি, বরং দাবি করেছেন যে এটি জনসমক্ষে হওয়া উচিত। তাদের যুক্তি ছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে যে তাদের লুকানোর কিছু নেই এবং রিপাবলিকানদের দ্বারা তাদের সাক্ষ্যের রাজনৈতিক অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।

অতীতের প্রেক্ষাপট

ঘটনাটি প্রায় তিন দশক আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পউলা জোনসের যৌন হয়রানির মামলায় ছয় ঘণ্টার ভিডিও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের সেই শপথ নেওয়া সাক্ষ্যে ক্লিনটনকে মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি লিউইনস্কির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন, যা পরে মিথ্যা সাক্ষ্য বা ‘পারজুরি’র অভিযোগে তাকে অভিশংসিত করার দিকে নেওয়া হয়।

হাউস ওভারসাইট কমিটি কী তদন্ত করছে

বর্তমানে কমিটি প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টেইন এবং তার সহযোগীদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। এপস্টেইন ছিলেন একজন মার্কিন অর্থদাতা যিনি তার বিশাল সম্পদ এবং উচ্চপদস্থ সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করে কয়েক ডজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে জড়িত একটি দীর্ঘমেয়াদি সেক্স ট্রাফিকিং রিং পরিচালনা করেছিলেন।


চীন থেকে জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীন থেকে জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ইরান। এমন একসময়ে এই চুক্তির খবর এলো, যখন ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেশটির উপকূলের কাছে বড় আকারে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্রগুলো বলছে, চীনের তৈরি ‘সিএম-৩০২’ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। সুপারসনিক গতির এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিচু দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যায়। ফলে তা জাহাজে থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

দুজন অস্ত্রবিশেষজ্ঞের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে ইরানের হামলা করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি তা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্তত দুই বছর আগে চীন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনার আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গতবছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এই ছয় ব্যক্তির মধ্যে তিনজন ইরান সরকারের কাছ থেকে ব্রিফিং পেয়েছেন। বাকি তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন জানান, গত গ্রীষ্মে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে ইরানের সামরিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। তাদের মধ্যে ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরায়েইও ছিলেন। তার এই সফরের খবর এর আগে আর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।

চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ইরান গবেষক এবং সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ‘ইরান এ অঞ্চলে জাহাজে আক্রমণ করার জন্য সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।’

কতটি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সম্ভাব্য এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে বা ইরান কত অর্থ দিতে রাজি হয়েছে, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া বর্তমান এ অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে চীন শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির বিষয়ে সামনে অগ্রসর হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তি কাজে লাগানোর জন্য এখন উপর্যুক্ত সময়।’

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা এই সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা কিছু জানে না। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে জানতে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সরাসরি কোনো কিছু বলেনি। তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো গতবারের মতো আমাদের কঠোর কিছু করতে হবে।’

হস্তান্তর করা হলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হবে চীন থেকে ইরানে আসা সবচেয়ে উন্নত সামরিক সরঞ্জামগুলোর অন্যতম। এই হস্তান্তর ২০০৬ সালে প্রথম আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির পর এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছিল, যা গত সেপ্টেম্বরে আবার কার্যকর করা হয়েছে।

সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি থেকে চীন ও ইরানের মধ্যকার গভীর সামরিক সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝা যায়, যখন ওই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার মার্কিন প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক আধিপত্য থাকা এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

চীন, ইরান ও রাশিয়া প্রতিবছর যৌথ নৌ মহড়ার আয়োজন করে। গত বছর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অভিযোগ ছিল, তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সরবরাহ করেছে। চীন সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে তারা অবগত নয় এবং বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার (ডুয়েল-ইউজ) করা যায়, এমন পণ্যের ক্ষেত্রে তারা কঠোর রপ্তানি বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।


দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দিলেন কিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি দাবি করেছেন, তার বাহিনী দক্ষিণ প্রতিবেশীকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি তাদের ‘শত্রুতাপূর্ণ’ নীতি পরিহার করার ওপর।

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার (ডব্লিউপিকে) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে কিম বলেন, ‘যদি ওয়াশিংটন ‘সংবিধানে বর্ণিত আমাদের দেশের বর্তমান মর্যাদাকে সম্মান করে এবং তাদের শত্রুতাপূর্ণ নীতি প্রত্যাহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক না থাকার কোনো কারণ নেই’।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনে গতকাল বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম তার পারমাণবিক শক্তিচালিত সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

কেসিএনএ জানায়, কিম এমন আন্তঃমহাদেশীয় (আইসিবিএম) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জোর দিয়েছেন, যা পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। এ ছাড়া তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম এমন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র যেমন—আর্টিলারি এবং স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির দ্রুত উন্নয়ন দেশটিকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ‘স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত’ করেছে।’

কিম বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান শত্রুদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ তিনি দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রকে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার ‘নিশ্চয়তা এবং রক্ষাকবচ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ জানায়, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির এই কংগ্রেস গতকাল বুধবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তায় সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শেষ হয়। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কুচকাওয়াজের ছবিতে দেখা গেছে, উজ্জ্বল আলোকসজ্জিত কিম ইল সুং স্কয়ারে একদল সৈন্য মার্চ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিম এবং তার মেয়ে অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন।

কুচকাওয়াজে কিছু সৈন্য ছদ্মবেশী পোশাক এবং বিশেষ যুদ্ধের সরঞ্জাম পরে অংশ নিয়েছিলেন এবং একঝাঁক যুদ্ধবিমান আকাশসীমা প্রদক্ষিণ করে। তবে কোনো সামরিক হার্ডওয়্যার বা ভারী অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

কুচকাওয়াজে কিমের মেয়ে কিম জু আয়ের উপস্থিতি আবার এই জল্পনাকে উসকে দিয়েছে যে, তাকে কিমের উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে কিনা।

তবে কিমের হুমকির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কি না তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।


বিশ্বজুড়ে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, হত্যার শীর্ষে ইসরাইল: সিপিজে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। ১৯৯২ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮৪ জন ইসরাইলি অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। সিপিজে বলেছে, এই মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ঘটেছে ইসরাইলের অভিযানে এবং দেশটি সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলায় দায়মুক্তির এক স্থায়ী সংস্কৃতি বজায় রেখেছে।

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী নথিভুক্ত ৪৭টি ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর মধ্যে ৩৮টির জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। এসব ঘটনাকে তারা সরাসরি হত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

গাজায় চলমান যুদ্ধ, সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ এবং মানবিক সংকটের কারণে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিপিজে। অনেক প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে কতজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরোপুরি জানা নাও যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এর অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আনাস আল শরিফ ও হোসেন শাহাদাত। গাজা সিটিতে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে হামলায় একসঙ্গে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া ২০২২ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত আল জাজিরার প্রবীণ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ নামে নামকরণ করা একটি পর্যবেক্ষণ সাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।

ইসরাইল কয়েকজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সিপিজে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে ২০২৫ সালে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় সুদান ও মেক্সিকো শীর্ষে রয়েছে। গৃহযুদ্ধপীড়িত সুদানে ৯ জন এবং সংগঠিত অপরাধ সহিংসতায় জর্জরিত মেক্সিকোতে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক হামলায় চারজন ইউক্রেনীয় সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (বা সাম্প্রতিক সময়ে) কেচ জেলার বুলেদা তেহসিলের মিনাজ এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশি তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদল অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মিনাজ এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কেবল নির্বিচারে গুলিই চালায়নি, বরং বাড়িটি লক্ষ্য করে ভয়াবহ মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। হামলার তীব্রতায় বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ঘটনাস্থলেই পরিবারের ছয়জন প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এই পৈশাচিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মুসলিম, মোল্লা ইউসুফ, ফাজিলা, গুল নাজ, চাঙ্গেইজ ও জাহরা। এছাড়া হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুল গফ্ফার এবং তাঁর দুই মেয়ে সারা ও আয়েশা। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বর্বরোচিত হামলার বিচার দাবি করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত নরেন্দ্র মোদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ এক বিশেষ ভাষণ দিয়েছেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ সংসদীয় সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’-এ ভূষিত হয়েছেন। বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা এই পদকটি তাঁর হাতে তুলে দেন। ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুসংহত করতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের প্রথম কোনো নেতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদি এই বিরল সম্মাননা লাভ করলেন।

এই পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি এক অনন্য আন্তর্জাতিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের এমন একজন বিরল নেতা, যিনি একই সাথে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন—উভয় দেশ থেকেই তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’ লাভ করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উভয় পক্ষ থেকে এমন সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন তাঁর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ ৯ বছর পর এটিই মোদির প্রথম ইসরায়েল সফর। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাঁর ঐতিহাসিক প্রথম সফরের সময় ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছিল। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নেসেটে দেওয়া ভাষণে মোদি দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইসরায়েলি স্পিকার আমির ওহানা তাঁর বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং এই পদক প্রদানের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সব মিলিয়ে এই সফরটি ভারত-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


মধ্যপ্রাচ্যে ৩ শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০ টিরও বেশি সামরিক বিমান মেতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিশাল মেতায়েন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে।

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ যুদ্ধবিমানের এই বিশাল বহর মেতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত জানুয়ারির শুরু থেকে, এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) আনুমানিক ২৭০টি সি-১৭ এবং সি-৫ লজিস্টিক বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব ফ্লাইটে প্যাট্রিয়ট এবং টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থার্ড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পরিবহন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান বহরে ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং ৩০ শতাশং সহায়ক বিমান রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬ এবং ৪২টি এফ-৩৫ এ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়াও ট্যাঙ্কার বিমান এবং বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য রয়েছে- ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমান, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।

তবে গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো বি-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

ইসরায়েলি বিমান উপস্থিতি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এই বিমান বহরের ওপরে সবার নজরে থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ ৩৫ যুদ্ধবিমানের বিশাল বহরও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীর বিমানশক্তিকে কার্যকরভাবে দ্বিগুণ করে তুলবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারই ইসরায়েল ১২টি মার্কিন এফ-২২ র‍্যাপ্টার স্টিলথ ফাইটারও হাতে পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার আগেই ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানই চান তিনি, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতেও পিছপা হবেন না!

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্টেট অব ইউনিয়নের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধানে আমি প্রাধান্য দেব কূটনীতিকে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত— আমি সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বিশ্বের এক নম্বর রাষ্ট্র ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না।’

ভবিষ্যতে ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ইতোমধ্যে এমন মিসাইল তৈরি করেছে যেগুলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারবে। তারা এখন এমন মিসাইল তৈরির কাজ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ফলে এখন বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।


ওয়াশিংটনে ছুরিকাঘাতে চারজন নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩২ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাকোমার উত্তর-পশ্চিমে কী পেনিনসুলা এলাকায় একটি বাড়ির বাইরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পিয়ার্স কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, সকাল ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে তারা খবর পায় এবং ঘটনাস্থলে রওনা হয়।

কিন্তু কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে কয়েকজনের ওপর ছুরিকাঘাত শুরু করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রথম ডেপুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন মিনিট সময় নেন এবং সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায় ।

ছুরিকাঘাতে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। ঘটনার তদন্ত করছে পিয়ার্স কাউন্টি ফোর্স ইনভেস্টিগেশন টিম।

যে বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেটি এমন এক নারীর বলে ধারণা করা হচ্ছে, যিনি তার ছেলের বিরুদ্ধে এক বছরের সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অভিযোগ করেন তার ছেলে হুমকিমূলক মন্তব্য করতেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট করেছেন এবং তার পোষা বিড়ালকে আঘাত করেছেন।

এখনো পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


ইসলাম আসার আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতায় রোজার ইতিহাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রমজান মাসে মুসলমানরা এক মাস ধরে রোজা পালন করেন। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো রোজা। তবে ইসলামের আবির্ভাবের আগেও মধ্যপ্রাচ্যে রোজা বা উপবাসের ধারণা প্রচলিত ছিল।

বিবিসি আরবি বিভাগের একটি প্রতিবেদন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতায় রোজার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো।

ফেরাউন বা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা

প্রাচীন মিশরীয়রা দেবতাদের নৈকট্য অর্জন, সন্তুষ্টি লাভ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন। এর মধ্যে উপবাসও ছিল। তারা বসন্ত উৎসব, ফসল উৎসব এবং নীলনদের প্লাবন উৎসব উদযাপন করতেন। এসবের উদ্দেশ্য ছিল আত্মাকে পাপ ও ত্রুটি থেকে শুদ্ধ করা, যাতে দেবতারা অসন্তুষ্ট না হন।

তবে প্রাচীন মিশরীয়দের উপবাসের ধরন নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক ও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, এটি কেবল পুরোহিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আবার কেউ মনে করেন, সাধারণ মানুষও উপবাস পালন করতেন। অন্য কিছু গবেষক আসমানি কিতাবভিত্তিক ধর্মগুলোর রোজার সঙ্গে প্রাচীন মিশরীয়দের উপবাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক খুঁজে পান না।

কিছু গবেষকের মতে, তাদের উপবাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলত। এই উপবাসের মেয়াদ তিন দিন থেকে ৭০ দিন পর্যন্ত হতে পারত। এ সময় তারা খাদ্য, পানীয় ও যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতেন।

মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তির উদ্দেশেও উপবাস পালনের প্রচলন ছিল প্রাচীন মিশরে। আবার এমন উপবাসও ছিল, যেখানে ৭০ দিন ধরে কেবল শাকসবজি ও পানি গ্রহণের অনুমতি ছিল।

জরথুস্ত্রবাদ ও ইয়াজিদি ধর্ম (প্রাচীন পারস্য ও কুর্দিরা)

খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছরেরও বেশি আগে পারস্য ও আশপাশের অঞ্চলে জরথুস্ত্রবাদ প্রচলিত ছিল। বর্তমানে এই ধর্মের অনুসারীরা ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ভারত, আফগানিস্তান ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন।

জরথুস্ত্র নামে এক ধর্মপ্রচারকের শিক্ষা থেকে এই ধর্মের সূচনা। তার চিন্তাধারা দীর্ঘ সময় ধর্মীয় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ধর্মের আবির্ভাবে এই মতবাদের প্রভাব কমে যায়।

জরথুস্ত্রবাদে উপবাসকে নিরুৎসাহিত করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, উপবাস মানুষের শক্তি কমিয়ে দেয় এবং অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়, যা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ইয়াজিদিদের মধ্যে তিন দিনের রোজা রাখার প্রচলন ছিল। তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি মঙ্গলবার শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। ইয়াজিদি ক্যালেন্ডার সৌর ক্যালেন্ডারের তুলনায় ১১ দিন আগে শুরু হয়।

এই রোজা সূর্যোদয়ে শুরু হয়ে সূর্যাস্তে শেষ হয়। প্রাচীন ধর্মযাজকেরা টানা তিন দিন রোজা পালন করতেন এবং ঈদ ইজি' নামের উৎসবের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করতেন।

ইয়াজিদিদের মধ্যে দুই ধরনের রোজা রয়েছে—একটি সাধারণ মানুষের জন্য, অন্যটি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা বিশেষ শ্রেণির জন্য। শিশু, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের এ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা সাধারণত বিশেষ রোজা রাখতেন। দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে যা কোনো মানত করতো তারাও এটি পালন করতো। বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে এই রোজা রাখা যায়। সাধারণ মানুষের জন্য এই বিশেষ রোজা বাধ্যতামূলক নয়, তবে যারা সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য কামনা করেন, তারা পালন করেন।

এছাড়া ইয়াজিদিদের মধ্যে ‘সাওম খুদান’ নামে আরেক ধরনের রোজা প্রচলিত আছে। এটি সাধু, অলিয়া ও আগ্রহী সাধারণ মানুষ পালন করেন। বেশি দিন রোজা রাখলে তা নিয়ে গর্ব করার রীতিও রয়েছে।

ইহুদিধর্ম

মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মানুষ তিনটি আসমানি ধর্ম অনুসরণ করেন, পাশাপাশি হাজার বছরের পুরোনো অন্যান্য বিশ্বাসও রয়েছে।

ইহুদিধর্ম, যা আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম, সেখানে 'ইয়োম কিপুর' বা প্রায়শ্চিত্তের দিনে উপবাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইহুদি ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই নবী মুসা দ্বিতীয়বার সিনাই পর্বত থেকে অবতরণ করেন এবং তার সঙ্গে তাওরাতের ফলক ছিল। ইয়োম কিপুর ২৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এটি ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় দিন হিসেবে বিবেচিত।

এই দিনে ইহুদিরা পার্থিব ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থেকে ইবাদত ও আত্মসমালোচনায় সময় ব্যয় করেন। সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ ও পাপ মোচনের উদ্দেশে তারা সূর্যাস্ত থেকে পরদিন রাত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন।

ইহুদিধর্মে কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়— অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীরা উপবাস থেকে অব্যাহতি পান, সাধারণত শনিবার ও ধর্মীয় উৎসবের দিনে উপবাস পালন করা হয় না (ইয়োম কিপুর ব্যতিক্রম), এছাড়াও নিসান মাসে উপবাস পালন করা হয় না, এটি এপ্রিল মাসের কাছাকাছি সময় হয়ে থাকে সাধারণত।

অবশ্য ইহুদি ধর্মের আধুনিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে আছেন, তাদের কর্মক্ষমতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তারা চাইলে রোজা নাও রাখতে পারেন।

এছাড়া ইহুদি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে স্বেচ্ছা উপবাসেরও প্রচলন রয়েছে, যা পাপের প্রায়শ্চিত্ত, করুণা প্রার্থনা বা নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশে পালন করা হয়।

খ্রিষ্টধর্ম

খ্রিষ্টধর্মে উপবাসের উদ্দেশ্য হলো ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জন।

দানিয়েল গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আমি প্রভু ঈশ্বরের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রার্থনা, মিনতি, উপবাস, ছাই ও শোকবস্ত্রসহ তার কাছে নিবেদন করি।’

খ্রিষ্টানদের কাছে উপবাসের গুরুত্ব অনেক। এটি ঈশ্বরের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক এবং যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের অঙ্গীকারের নিদর্শন।

বাইবেলে উপবাসের নির্দিষ্ট সময় বা মাস উল্লেখ নেই। প্রতিটি গির্জা বা সম্প্রদায় তাদের অনুসারীদের জন্য উপবাসের সময় নির্ধারণ করে। ফলে খ্রিষ্টানদের মধ্যে উপবাস পালনের পদ্ধতি ও সময়ে ভিন্নতা রয়েছে।

ইস্টারের আগে ৪০ দিনের উপবাস পালিত হয়, যা গির্জাগুলোর ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে। এ সময় খ্রিষ্টানরা সাধারণত দিনে অন্তত ১২ ঘণ্টা খাদ্য থেকে বিরত থাকেন। কেউ কেউ আরও দীর্ঘ সময় উপবাস পালন করেন।


ব্রাজিলে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় নিহত ২৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজতে দিনরাত অভিযান চালাচ্ছেন। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর জুইজ ডি ফোরায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সেখানে ধ্বংসস্তূপের স্তূপে দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত কুকুরসহ কয়েক ডজন জরুরি কর্মী তল্লাশি চালান। সোমবার বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী লিভিয়া রোজা জানান, তার কয়েকজন আত্মীয় কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার রাত থেকে আমরা এখানে আছি- তারা বেঁচে আছে কিনা দেখার জন্য। আশাই শেষ ভরসা।

শহরের বিভিন্ন এলাকা কাদা ও পানিতে তলিয়ে গেছে। একটি স্ফীত নদী গতিপথ পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি করেছে।

শহরটি রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪০ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিকটবর্তী উবা শহরেও কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। সেখানে পৃথকভাবে উদ্ধার অভিযান চলছে।

জুইজ ডি ফোরার মেয়র মার্গারিডা সালোমাও জানান, এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে।

তিনি বলেন, চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে তীব্র, ধ্বংসাত্মক ও অবিরাম। এটি আমার প্রশাসনের সবচেয়ে দুঃখজনক দিন।

ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডেমেট্রিয়াস গৌলার্ট জানান, রাতের বৃষ্টির সময় অনেকেই ঘরের ভেতরে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছি। এতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিউ লুলা দা সিলভা এক বার্তায় জানিয়েছেন, সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা এবং পুনর্গঠনে সহযোগিতা করা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা।


রমজানে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক কলকাতায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিলেন কলকাতার ফল ব্যবসায়ীরা। গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার কলকাতার মেছুয়া ফলপট্টি। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যে দেশ মানবতার শত্রু এবং নিরীহ মানুষের রক্তে হাত রাঙিয়েছে, তাদের উৎপাদিত পণ্য এই রমজান মাসে বাজারে স্থান পাবে না।

পাইকারি ফল বিক্রেতা আনাস আলী জানান, কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ইসরায়েলি খেজুর পাওয়া যাবে না। এখানকার ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বয়কট আন্দোলনে নেমেছি। এই বয়কট আন্দোলন সফল করা হয়েছে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন, কেউ ইসরায়েলি খেজুর বিক্রি না করে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু চক্র কৌশলে প্যাকিং বা মোড়ক বদল করে ইসরায়েলি খেজুর বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করেছিল। সেসব খেজুরের প্যাকেটে নাম দেওয়া হয়েছিল কিং সলেমান, রিচ কান্ট্রি, জর্ডানের খেজুর। কিন্তু আমরা নজরদারি চালিয়ে সেই প্রচেষ্টাকে ধরে ফেলি।

আনাস আলী আরও বলেন, আগামীতে যাতে কেউ এই নিষিদ্ধ সামগ্রী বিক্রি করতে না পারে তার জন্য ফলপট্টির পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মুম্বাই থেকে আসা ইসরায়েলের শত শত খেজুরের কার্টন ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তে খুশি মুসলিমরা। ইসরায়েলি খেজুরের বদলে রোজাদাররা ভারতীয় এবং ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া থেকে আসা খেজুর কিনছেন।

মেছুয়া ফলপট্টিতে খেজুর কিনতে আসা এক ক্রেতা সাহেব উদ্দিন আহমেদ বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এই উদ্যোগ সমর্থন করার মতো বিষয়। আমরা ব্যবসায়ীদের পাশে আছি। রমজানে আমরা বিদেশি খেজুরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শুনছি, ভিন্ন নামে ইসরায়েলি খেজুর বিক্রি হচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই পবিত্র রমজান মাসে ভারতীয় খেজুরের বাইরে কিছু কিনবো না। এছাড়া বিদেশি খেজুরের দামও অনেকটাই বেশি।


ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করছে ব্রিটেন-ফ্রান্স: রাশিয়ার অভিযোগ

জেলেনস্কি এবং স্টারমার, মাঁখো ও ফ্রিডরিখ মের্জ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গুরুতর এই অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর) এই দাবি করার পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যার ফলাফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করছে ইউরোপের এই দুই দেশ। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেনি এসভিআর। মস্কোয় নিযুক্ত ফ্রান্সের দূতাবাস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিণাম পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করায় ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভকে পরিত্যাগ না করার অঙ্গীকার করেছেন। যদিও কিয়েভের মিত্রদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হাঙ্গেরি সম্প্রতি ইউক্রেনের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন ইইউ নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন কিয়েভ সফরে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইইউ যেকোনো উপায়ে এই ঋণ সহায়তা পৌঁছে দেবে।

ইউক্রেন আক্রমণের চতুর্থ বার্ষিকীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই জি-৭ নেতাদের প্রথম যৌথ ঘোষণা।

নেতারা ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার এবং দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসানোর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তারা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়া সদুদ্দেশ্যে আলোচনার মাধ্যমেই একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে এবং রণক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি অর্জন করছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চলের শেষ ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক আবেগঘন ভাষণে বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া মাতৃভূমি তারা কখনোই শত্রুর হাতে তুলে দেবেন না। বর্তমানে কিয়েভের রাস্তায় যুদ্ধক্লান্ত মানুষের মধ্যে এক বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে নীরবতার মধ্য দিয়ে তারা নিহত সৈনিকদের স্মরণ করছেন।

চলতি বছরও ইউক্রেন যুদ্ধ অনায়াসে চালিয়ে যেতে পারবে রাশিয়া

অর্থনৈতিক চাপ ও জনবল সংকট সত্ত্বেও রাশিয়া ২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে যেতে পারবে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি বাড়ছে। এমনটাই জানিয়েছে প্রভাবশালী সামরিক থিংকট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক বাস্টিয়ান গিগেরিশ বলেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পঞ্চম বছরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন ইঙ্গিত খুবই সামান্য।’

থিংকট্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ক্রেমলিন প্রতিরক্ষায় অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বাস্তব হিসাবে এটি ৩ শতাংশ বৃদ্ধি। যা দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এই অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

সংস্থাটির প্রতিরক্ষা অর্থ বিশেষজ্ঞ ফেনেলা ম্যাকগার্টি বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি ধীর গতির হচ্ছে। এতে ২০২৬ সালে বাস্তব হিসাবে সামরিক ব্যয়ে ‘সম্ভাব্য হ্রাস’ আসতে পারে। তবে এর আগে কয়েক বছর ধরে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে সামরিক ব্যয় বাস্তব হিসাবে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম ও নিয়োগে বেশি খরচ করতে পারছে। এতে তারা নিকট ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অবিরাম হামলা চালিয়ে যেতে পারবে।

চার বছর আগে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করেন। তবে রাশিয়ার তুলনায় ছোট এই দেশটি ভেঙে পড়েনি। এরপর, ক্রেমলিন যুদ্ধ অর্থনীতিতে নিজেদের ঢেলে সাজায়। ব্যাপক হতাহত ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তারা উচ্চমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যায়। গিগেরিশ বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব টেকসই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করলেও রাশিয়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা বাড়াচ্ছে। তারা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করছে।

থিংকট্যাংকের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ নাইজেল গোল্ড ডেভিস বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে মাসিক ক্ষতির তুলনায় রাশিয়ার নিয়োগের হার কমে যাওয়ার ইঙ্গিত বাড়ছে।’ তবে তিনি বলেন, ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে আক্রমণের গতি কমালে মস্কো তাদের হতাহতের হার কমাতে পারবে।

বেলারুশে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোল্ড ডেভিস বলেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে একসময় ক্রেমলিনকে ‘সত্যের মুহূর্তে’ পড়তে হতে পারে। তখন তাদের দ্বিতীয় দফা বাধ্যতামূলক সমাবেশের ঝুঁকি নিতে হবে। এতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের নিয়োগের সময় দেখা সামাজিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

রাশিয়া প্রতি মাসে আনুমানিক ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার মানুষ নিয়োগ দিচ্ছে। তবে গোল্ড ডেভিসের ধারণা, বাহিনীর মান কমছে। কারণ নিয়োগকারীরা এখন ‘মদ্যপ, মাদকাসক্ত এবং খোলাখুলি অসুস্থ’ ব্যক্তিদেরও নিতে বাধ্য হচ্ছে।

রুশ হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। এই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ৩৫ হাজার ৩০ জন এবং জানুয়ারিতে ৩১ হাজার ৭১৩ জন হতাহত হয়েছে।


ইসরায়েল সফরে মোদি, ভাষণ দেবেন নেসেটে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত আট বছরের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর।

এই সফরে তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে মোদিকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে এই সফরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক সফরের পর দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মোদির এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভারত। ইসরায়েলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৩৪ শতাংশই কিনেছে ভারত, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ১৩ শতাংশ। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ইসরায়েলের ওপর ভারতের এই বিশাল নির্ভরতা দুই দেশের কৌশলগত জোটকে আরও গভীর করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই সফরের মাধ্যমে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। নিরাপত্তা ছাড়াও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। তবে মোদির এই সফরকে ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

দেশটির একটি বড় অংশ এই জোটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করলেও, অন্য একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।

ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যকার এই বিশেষ সম্পর্ক কেবল অস্ত্রের লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ। ২০১৮ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফরের সময় নেওয়া বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগগুলো এই সফরে নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন নেসেটে মোদির দেওয়া ভাষণের দিকে, যেখানে তিনি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান শক্ত করতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


banner close