রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখোরিত আরাফাতের ময়দান

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৪ ১১:৫২

মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছেন মক্কায়। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান।

আজ শনিবার (১৫জুন) মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ৯ই জিলহজ ইয়াওমুল আরাফা বা হাজিদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন। এটিই হজের অন্যতম প্রধান রোকন বা ফরজ। এই দিনকেই হজের দিন বলা হয়।

আরাফাত দিবসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ নামিরা থেকে হজের খুতবা ও নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে পালিত হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাতে এ দিনের আনুষ্ঠানিকতাকে মূল হজ বলা হয়।

এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। এদিন রাতে পবিত্র মিনায় অতিবাহিত করেছেন হজযাত্রীরা। সেখান থেকে আজ দলে দলে আরাফাতের ময়দানে যাচ্ছেন হজযাত্রীরা।

হজের নিয়ম অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন হজযাত্রীরা। এরপর সেখানে অবস্থান করেন তারা।

এবার হজের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়েখ মাহের আল মুয়াইকিল। তিনি আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে হাজিদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেবেন। এ ছাড়া এই মসজিদে জোহর এবং আসরের নামাজের ইমামতিও করবেন তিনি।

এরপর সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন। ওই সময় প্রতীকি শয়তানকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করার জন্য তারা নুড়ি পাথরও সংগ্রহ করবেন।

মুজদালিফায় হজযাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। এরপর ফজর নামাজ পড়ে তারা আবারও চলে যাবেন তাঁবুর শহর মিনায়।


নির্বাচিত

নেপালে প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণহানি বেড়ে ৬২৩, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপাল ও চীনের হিমালয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী এই দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এক হাজার পাঁচশ’র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নদীগুলোর ভাটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্যানুসারে, তারা এ পর্যন্ত ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে গত বুধবারের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় দেশটির বাগমতী প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে তিব্বতের শিগাৎসে প্রদেশের গিরং জেলায় ভূমিধস ও বন্যায় চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চলার সময় হিমালয় থেকে উৎপন্ন হওয়া ভোটেকোশী ও ত্রিশূলি নদীর উপচে পড়া পানিতে ভেসে যাওয়া বহু মানুষের লাশ গোর্খা, ধাদিং ও নুয়াকোট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মরদেহ সীমান্ত পেরিয়ে ভারত পর্যন্ত ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। গণমাধ্যম-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নেপাল অংশে ৫১১ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৬৩৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, দেশটির তিব্বত অংশে সাতজনের মৃত্যু ছাড়াও আরও ৫৫৪ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ও উদ্ধার অভিযানে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় জেলাগুলোতে ৪ হাজার ৮১১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ হওয়ার তথ্যও নেপাল পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

বিপর্যয়ের মুখে নেপালের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে কয়েক শ মানুষ আটকা পড়েন। বন্যাকবলিত একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। কাদার পুরু স্তরে পুরো এলাকা ঢেকে যাওয়ায় সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পেতে ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ভেতরে আটকে থাকা আরও প্রায় ১০০ জনকে বের করে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নেপালের উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ২ হাজার ৩০১ জন মানুষকে উদ্ধার বা আহত অবস্থায় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নুয়াকোট ও রসুয়া জেলার বাসিন্দা। এছাড়া হেলিকপ্টারের সাহায্যে ৩ হাজার ২৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিদেশি আর্থিক সহায়তাকে স্বাগত জানালেও আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সরাসরি সহায়তা নিচ্ছে না। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী এই বিষয়ে বলেন, ‘দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তাদের এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।’ ‘প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত সহায়তা বা দক্ষতার জন্য বিদেশি সহযোগিতা চাওয়া হবে’ বলেও জানান তিনি।

উদ্ধার তৎপরতার মাঝেই নতুন করে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের নেপাল প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, এই দুর্যোগে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ জমে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা হ্রদ উপচে পড়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে নেপাল ও চীনের কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের স্তর ধসে পড়ার মাধ্যমেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার প্রশস্ত একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ভেঙে পড়েছিল, যার আঘাতের শক্তি ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বরফ, পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত লেন্দে নদী থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ত্রিশূলী নদীর দিকে নেমে গিয়ে এই ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।


নির্বাচিত

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঐতিহাসিক চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন। এই সমঝোতার ফলে ভেনেজুয়েলার বিশাল অপরিশোধিত তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অভাবনীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এ চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমঝোতা সম্পন্ন করেছেন। ট্রাম্প তার বার্তায় লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।’

ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন সাধন করা হবে, যেখানে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের প্রমাণিত মজুত রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে ভেনেজুয়েলা সরকার কর বাবদ ২০৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আয় করতে পারবে। রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে আশা ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও দেশ পুনর্গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চুক্তি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি নতুন কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই কোম্পানিটি তেলক্ষেত্রগুলোর মজুত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে এবং রদ্রিগেজের সরকার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটিকে তেলক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার প্রদান করেছে। চুক্তি অনুসারে, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, যার মধ্যে মালিকানার অংশীদারত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল ক্রয়ের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওই কর্মকর্তার দাবি, এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।

এমন এক সময়ে এই ঘোষণাটি এল যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। অথচ এই সংঘাতের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পারাপার করা হতো। গত শুক্রবারের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৩ দশমিক ২১ ডলার।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে দেশটির জরাজীর্ণ ও পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার করতে হবে। এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলের মজুত থাকলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিশ্ব তেল উৎপাদনে দেশটির অবদান মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই চুক্তিকে উভয় দেশের জনগণের জন্য একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য, এই চুক্তিটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির পুনর্গঠনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। সংবাদটি এনডিটিভি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

পাঁচ বছরে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনাম-হংকংকে ছাড়াবে বাংলাদেশের অর্থনীতি: আইএমএফ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মাত্র পাঁচ বছর পরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস মিলেছে। আর এই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ। একই সঙ্গে বলা হচ্ছে, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এর আকারে যা মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোর অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। এ হিসেবে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৩২তম অর্থনীতির দেশ। কানাডার গণমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।

আইএমএফএর পূর্বাভাসে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপি ৬৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৬৬৭ দশমিক ৫, ডেনমার্ক ৫৮৯ দশমিক ২ ও হংকংয়ের অর্থনীতি ৫৩৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। দেশগুলোর জিডিপির ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়।

বিশ্বের ১৮০টি দেশ নিয়ে এ তালিকায় পাঁচ বছর পরে মালয়েশিয়া (৩৩তম), ভিয়েতনাম (৩৪তম), ডেনমার্ক (৪০তম) ও ও হংকং (৪২তম) হবে। এই ক্রমে বাংলাদেশের ঠিক আগেই অবস্থান ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া। ২০৩০ সালেও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট জিডিপি বেড়ে প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন। যার অর্থনীতির আকার হতে পারে প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় স্থান নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতার আভাস মিলেছে রিপোর্টে। ২০৩০ সালে জার্মানি ও ভারত— এই দুই দেশের অর্থনীতির ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার হবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়। জার্মানি, ভারত ও যুক্তরাজ্যের জিডিপি হবে যথাক্রমে ৬ হাজার ১৭৮, ৬ হাজার ১৭৩ ও ৫ হাজার ১৪৮ বিলিয়ন ডলার। পাঁচটি দেশ বৈশ্বিক জিডিপির ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদন করে। এর মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। আর জাপান, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইতালি ও কানাডা- এই পাঁচটি দেশ হবে বিশ্বের ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির।

আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার প্রায় ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির মোট আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়।


নির্বাচিত

স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরছে মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের প্রায় ৫ হাজার নাগরিককে (রোহিঙ্গা) নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমার নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যাবেন। গত ১৩ আগস্ট মিয়ানমার সরকারের পাঠানো কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে এদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায় এই তারিখ অনুমোদন লাভ করে।

প্রথম দফার প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে লজিস্টিক সহায়তা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কাজটি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যৌথভাবে সম্পন্ন করেছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৬ সালে বিশেষ শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ৪ হাজার ৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ (ডিপিপি) বা শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর পাশাপাশি আরও ৫ হাজার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন।

তবে গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করবে না দেশটি। তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন অবস্থা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ। ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।

সরকার মূলত দুটি সম্পূরক কৌশলে এগোচ্ছে- একটি হলো মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা এবং অপরটি হলো তথ্যভাণ্ডার তৈরির মাধ্যমে নিবন্ধন পরিচালনা করা। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিবন্ধিত ব্যক্তিরা ‘ডিপিপি কার্ড’ পাবেন, যা দিয়ে সরকারি নজরদারিতে সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে উপযুক্ত ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

মালয়েশিয়া সরকারের তথ্যমতে, সে দেশে থাকা ৯৫ শতাংশের বেশি শরণার্থী মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা, চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে। সমস্যাটির একতরফা সমাধান অসম্ভব হওয়ায় মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের সম্মতিতে এই কার্যক্রম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।


নির্বাচিত

তিব্বতের বাঁধে ভাঙন, নেপাল সীমান্তে ফের বন্যা-ভূমিধসের শঙ্কা

* মৃত্যু বেড়ে ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার * ৪ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার  * ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৯৩ হাজার   
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তিব্বতের একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালে বন্যাকবলিত এলাকার উজানে হিমালয় পর্বতশ্রেণিতে আরও দুটি হ্রদে পানি জমে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তার বরাতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চীনের একটি উদ্ধারকারী দল গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে একটি হ্রদ তৈরির বিষয় দেখতে পায়। ভিডিওতে একটি অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ পানি জমতে দেখা যায়। তবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ওই হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে।

ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের ছবিতে উজানে আরও একটি হ্রদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি প্রথম হ্রদটির চেয়ে আয়তনে বড় এবং এর আকারও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত হ্রদটির পানি বের হওয়ার কোনো দৃশ্যমান পথ দেখা যায়নি। ফলে সেখানে পানির চাপ এখনো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, হ্রদ দুটির পানি পুরোপুরি কমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে। তবে স্যাটেলাইট ছবি পাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির গতিপথে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী শহর তিমুরের কাছে ক্যামেরা ও সেন্সর স্থাপনের পরিকল্পনা করছে নেপাল। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম স্থাপনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে আরও ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।

দুর্যোগের পর ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান চলছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে নটা পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

গত বুধবার সকালে হিমবাহ ধসে পড়ার পর হিমালয়ের নদীগুলো দিয়ে প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও কাদা নেমে আসে। এর ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির প্রবল স্রোত গ্রাম ও উপত্যকাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু।

নেপাল কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় জীবিতদের খুঁজছে এবং দুর্গম শহর ও উপত্যকায় আটকে পড়া হাজারো মানুষের কাছে জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যেও তল্লাশি চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে স্রোতে ভেসে সমতল এলাকায় যাওয়া কয়েক ডজন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে দিবগা তামাং নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।

তামাং বলেন, আমাদের সব মানুষ চলে গেছে। তারা মারা গেছে। আমার জন্য অপেক্ষা করার মতো আর কেউ নেই।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানিবিষয়ক গবেষক ঝু জিনফেং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, পানির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।

অন্যদিকে, বন্যায় আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)।

নেপালে সংস্থাটির প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, দেশটিতে নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।

আইএফআরসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেপালে জরুরি সহায়তায় জন্য তারা আড়াই কোটি সুইস ফ্রাঁ (প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বা তিন কোটি ১০ লাখ ডলার) অর্থায়নের আবেদন জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিশ্বজুড়ে থাকা নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো হচ্ছে।

নতুন করে বিপদের শঙ্কা: নেপালি পুলিশ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সব উদ্ধারকর্মীকে ‘অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে’ নির্দেশ দেয়। পুলিশের ভাষ্য, তিব্বতের অংশে আবার একটি পানির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তথ্য তারা পেয়েছে। এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিব্বতের অংশেও উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।

গত বুধবার পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে যে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছিল, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সেটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছিল। যেকোনো মুহূর্তে হ্রদের বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে প্রাণঘাতী কাদা-পাথরের ধস কিংবা তীব্র পানির তোড় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে জানিয়েছে, নতুন তৈরি হওয়া এই হ্রদটি উপচে পানি পড়তে শুরু করেছে। ফলে পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে উদ্ধারকারী দলগুলোর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে থাকা সিসিটিভির এক প্রতিবেদক বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের এখানে থেমে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সামনের সারির দলগুলোর কাছ থেকে আমরা মাত্রই একটি জরুরি নির্দেশনা পেয়েছি। সেখানে সব উদ্ধারকারী দলকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, সব উদ্ধারকারী দলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় পৌঁছানো জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে এক কিলোমিটার পেছনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদ্ধারকারী দলের সিংহভাগ সদস্য এখন জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৩৫ মাইল বা প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

প্রাণঘাতী ঢলে বিপর্যস্ত সীমান্ত: গত বুধবার হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় হঠাৎ নেমে আসে সুনামির মতো পানি, কাদা, বরফ ও পাথরের বিশাল ঢল। মুহূর্তের মধ্যে নদী ও উপত্যকার স্বাভাবিক চেহারা পাল্টে যায়। বাড়িঘর, সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে যায় বা কাদার নিচে চাপা পড়ে।

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্যোগে বহু সেতু ও সড়ক ধ্বংস হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোই উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। হিমালয়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়া পর্যটক এবং তিব্বতের পবিত্র তুষারাবৃত কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বীও এই দুর্যোগের কবলে পড়েছেন।

চীনা প্রেসিডেন্টের বৈঠক: এমন পরিস্থিতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উদ্ধার অভিযান নিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশপাশে হিমবাহ, বরফাবৃত হ্রদ এবং ভূমিধসজনিত দুর্যোগের অনেক সুপ্ত ঝুঁকি এখনো রয়েছে।

বৈঠকে আশপাশের এলাকায় ‘হিমবাহ, বরফের হ্রদ ও ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের ঝুঁকি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তারা সতর্ক করে বলেন, উদ্ধার অভিযান বড় ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় চীনা উদ্ধারকারী দলগুলোকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছিল। পরে হ্রদ থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে বিবেচিত হলে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু করা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হ্রদের পানি উপচে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেপাল ও তিব্বত—দুই পাশেই নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়। উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে পানির স্তর বৃদ্ধির হার তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে হওয়ায় উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, হ্রদে জমে থাকা পানির পরিমাণ একপর্যায়ে ২৫ লাখ ঘনমিটারের বেশি হয়ে গিয়েছিল।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, মূল দুর্যোগ কেটে গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলে বিপদ শেষ হয়নি। একটি ভূমিধস কীভাবে নদীর গতিপথ আটকে দিয়ে হ্রদ তৈরি করতে পারে এবং সেই হ্রদ আবার নতুন বন্যার উৎস হয়ে উঠতে পারে—বর্তমান পরিস্থিতি তারই ভয়াবহ উদাহরণ।


নির্বাচিত

ইউরোপে যাওয়ার পথে সমুদ্রে ডুবে ৩৭ অভিবাসীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উন্নত জীবনের আশা আর নিজ দেশে চলামান নৃশংসতা থেকে বাঁচতে সমুদ্রে পথে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছিলেন কয়েক ডজন অভিবাসন প্রত্যাশী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন তারা। লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় এই নির্মম পরিণত ভোগ করেছেন অন্তত ৩৭ সুদানি নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশটির স্থানীয় একটি ত্রাণ কমিটি এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।

‘এল-ফাশের প্রতিরোধ সমন্বয়’ নামে একটি তৃণমূল মানবাধিকার ও ত্রাণ কমিটি বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের মধ্যে বহু নারী, শিশু এবং পুরো পরিবার রয়েছে। তারা উন্নত জীবনের আশা ও প্রাণ রক্ষায় সুদান ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।

নিহত ৩৭ জনের বিস্তারিত তালিকায় দেখা যায়, হতাহতদের মধ্যে একটি সাত মাস বয়সি নবজাতকসহ ৩, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৩ ও ১৬ বছর বয়সি বেশ কয়েকজন শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগীরা সুদানের এল ফাশের, এল জেনেইনা, নিয়ালা, গেদারেফ, পূর্ব নীল ও বাবানুসাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন। এর মধ্যে উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরের অধিবাসীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

সংস্থাটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘মৃত্যু এল ফাশেরের বাসিন্দাদের পিছু ছাড়েনি; এটি তাদের শহরের ভেতরে, বাস্তুচ্যুতির পথে, অভিবাসনের পথ ধরে এমনকি সমুদ্রেও তাড়া করে বেড়াচ্ছে।’

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এই গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সতর্কতা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ সত্ত্বেও ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর আরএসএফ বাহিনী এল ফাশের শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয়। ফলে লাখ লাখ সুদানি নাগরিক জীবন বাঁচাতে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপের মতো বিপজ্জনক অভিবাসন পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।


নির্বাচিত

ট্রাম্পের আমলে আইসিইর রেকর্ড গ্রেপ্তার, অর্ধেকের বেশি অভিবাসীর নেই অপরাধের রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা এক নতুন ও কঠোর রূপ লাভ করেছে। সাম্প্রতিক ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) গত জুলাই মাসেই প্রায় ৫০ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যা পূর্ববর্তী জুন মাসের ৪৩ হাজার গ্রেপ্তারের তুলনায় অনেক বেশি। বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তির অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে কোনো দণ্ডাদেশ বা কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন ছিল না। অভিবাসন আইনের এই নজিরবিহীন প্রয়োগের ধরনে আসা বড় পরিবর্তনটি এখন সাধারণ অভিবাসীদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক পর্যালোচনা অনুযায়ী, জুলাই মাসে আইসিইর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর বা সহিংস অপরাধে জড়িতদের হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য এখন কেবল অপরাধী অভিবাসীরাই নন, বরং যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা যারা কেবল প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে রয়েছেন, তাদেরকেও সমহারে আটক করা হচ্ছে। বর্তমানে কেবল কারাগার থেকে অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়াই নয়, বরং কর্মস্থল, বাসভবন এমনকি রাস্তাঘাটে গাড়ি থামিয়েও সরাসরি গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়ছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে, বর্তমান গ্রেপ্তারের প্রায় ৬৩ শতাংশই সরাসরি এ ধরনের মাঠপর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

এই অভিযানকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের পুলিশের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তার সুযোগ দেওয়া ২৮৭(জি) কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ শতাংশ ব্যক্তি আইসিইর হেফাজতে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিরা, যেমন যাদের গ্রিন কার্ড বা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তারাও আইসিইর কড়া নজরদারি ও গ্রেপ্তারের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর সময় এমন জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদের সাধারণত আটক করা না হলেও বর্তমান সরকারের নীতিতে তা আমূল বদলে গেছে।

প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন বড় আকারের নির্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে। আইসিই কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরের মধ্যে তারা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নির্বাসিত করার এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে অন্তত ৯৯ হাজার মানুষকে আটক কেন্দ্রে রাখার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাসন প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে আটক ব্যক্তিদের স্থানান্তরের জন্য ১ হাজার ৩৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যা ২০২০ সালের পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া অন্তত ৩২৯টি নির্বাসন ফ্লাইটের মাধ্যমে অভিবাসীদের বিশ্বের ৩৭টি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তবে বিনা অপরাধে বা গুরুতর রেকর্ডহীন ব্যক্তিদের ওপর এমন ব্যাপক ধরপাকড় ও দ্রুত নির্বাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যথাযথ আইনি সুযোগ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্বাসিত করার ফলে এসব মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা তৃতীয় কোনো দেশে প্রেরিত হচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা ও জীবনঝুঁকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলী এক অভিযানে রূপ নিয়েছে যা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

পাকিস্তানের পাশাপাশি মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে এতকাল পাকিস্তান এককভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও এখন সেই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র কাতার। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি তেহরান সফর করেন। তবে আলোচনার এই নতুন আবহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো প্রকার কূটনৈতিক সংলাপে বসার আগ্রহ বর্তমানে ওয়াশিংটনের নেই। গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামক অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন। ওই দিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

অবশ্য আলোচনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ওভাল অফিসে তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।” উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে পাকিস্তান কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চালালেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করে সরাসরি সামরিক অভিযানের পরিবর্তে ইরানের অর্থনীতির ওপর ‘সীমাহীন চাপ’ প্রয়োগের কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণার চার দিনের মাথায় তেহরানে পৌঁছে কাতার প্রতিনিধিদল ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে পুনরায় কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান জানালে ঘালিবাফ তেহরানের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পেশ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই তেহরান পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে পারে। এই বৈঠকে উপস্থিত ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইরান খুব দ্রুতই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায় তবে তা ইরানের এই পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই শুরু করতে হবে। আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে কঠোর হামলার হুমকিও দেন তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পদক্ষেপটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। তেহরান সফর শেষে কাতারের প্রধানমন্ত্রী আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান যে, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌযানের অবাধ চলাচল এবং ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অস্থায়ী নৌ-পরিবহন করিডোর স্থাপন ও মাইন অপসারণ প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে উপযুক্ত সময় নির্ধারণের আগে কোনো সংলাপ শুরু হবে না। তিনি বলেন, “আমরা অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে তাদের সামরিক শক্তিকে ধ্বংস করেছি। এখন আমরা অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট শুরু করেছি। এ অভিযান চলমান থাকবে। বর্তমানে কোনো আলোচনা তাদের সঙ্গে হচ্ছে না এবং প্রেসিডেন্ট যতদিন পর্যন্ত উপযুক্ত সময় নির্ধারণ না করছেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সংলাপ হবে না।”


নির্বাচিত

দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে একটি বহুমাত্রিক যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের পথ প্রশস্ত করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন সম্প্রতি সিউলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত বার্ষিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও এই ত্রিপাক্ষিক সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে এল। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, পিয়ংইয়ংয়ের গতিবিধিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘ফ্রিডম এজ’ নামক এই মহড়াটি আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জেসিএস তাদের এক বিবৃতিতে এই মহড়ার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিন দেশ প্রতিবছর এই প্রতিরক্ষামূলক মহড়া আয়োজন করে।’ দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুসারে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত এই মহড়ায় সমুদ্রপথে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আকাশ ও আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সাইবার প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মূলত ২০২৩ সালে ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক সমঝোতার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রথমবার এই বিশেষ মহড়াটি শুরু হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ক্লোয়ি মরগান এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ বহুমাত্রিক মহড়ার মাধ্যমে আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হবে, পারস্পরিক সমন্বয় ও সক্ষমতা বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে— যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’ তবে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথ সুগম করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিয়মিত ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা ১১ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র পাঁচ দিনে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সেই সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জন্য ‘খুবই অপমানজনক’ এবং কিম ‘খুবই ভালো আচরণ’ করছেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় ‘সাংইয়ং’ নামক আরেকটি দ্বিবার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া বাতিল করার কথা সোমবার সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উত্তর কোরিয়া একদিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও সিউলের কমিয়ে আনা সামরিক মহড়ারও কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নজরদারি করার কর্মসূচিতে মার্কিন অর্থায়নের পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করেছে কিম জং উনের প্রশাসন।


নির্বাচিত

ওআইসির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হলেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। মৌরিতানিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রখ্যাত কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ সংস্থাটির নতুন মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ওআইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক দাপ্তরিক বার্তায় এই নতুন নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৬৬ বছর বয়সী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিজ দেশ মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাঁর রয়েছে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। বিশেষ করে ইয়েমেনে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া লিবিয়া ও সিরিয়ায় জাতিসংঘের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানবিক মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন মহাসচিবের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের মতো একজন ঝানু কূটনীতিকের নেতৃত্বে ওআইসি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। ওআইসির সদর দপ্তর থেকে জানানো বার্তায় এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংস্থার কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আসার সম্ভাবনা ব্যক্ত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

অ্যানথ্রোপিকের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অবৈধ: মার্কিন আদালত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের নীতির সমালোচনা করায় প্রতিশোধমূলকভাবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে জনসমক্ষে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দেওয়া ৫৯ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ রায়ে বিচারক রিটা লিন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ফাঁকা যুক্তি দেখিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি বা প্রতিশোধ নেওয়ার অবাধ ক্ষমতা পাওয়া যায় না।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আদালতের এই রায়ের ফলে ফেডারেল সংস্থাগুলো এখন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত আদেশ কার্যকর করতে পারবে না। ইতিপূর্বে ট্রাম্পের আদেশে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি জনপ্রিয় এআই মডেল ‘ক্লড’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া বিচারক লিন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে দেওয়া তকমাটিও বাতিল করে দিয়েছেন। সাধারণত বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ধরনের তকমা ব্যবহার করা হলেও অ্যানথ্রোপিকের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে আদালত। এই রায়ের মাধ্যমে গত মার্চে দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞাটি স্থায়ী রূপ পেল, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এই সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ছিল, আদালতের এমন রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এআইকে কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার ওপরই আমরা মনোযোগ রাখছি, যাতে সব আমেরিকান এই প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হতে পারেন।’

মূলত প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘ক্লড’ এআই ব্যবহার করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালনা কিংবা সাধারণ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানোর অনুমতি চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই সিদ্ধান্তের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অ্যানথ্রোপিক-কে ‘চরম বামপন্থী’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে জনসমক্ষে বিষোদগার করেন।

বৃহস্পতিবারের রায়ে বিচারক লিন স্পষ্ট করেছেন যে, অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা ছিল না। বরং সরকারের সমালোচনা করার ‘ঔদ্ধত্য’ দেখানোর কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দেওয়াই ছিল প্রশাসনের মূল অভিপ্রায়। অথচ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মতো অত্যন্ত গোপন ও স্পর্শকাতর সামরিক অভিযানেও সফলভাবে ক্লড ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সফলতার পরও মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যাবতীয় সামরিক চুক্তি বাতিল করে পেন্টাগন এবং অন্যান্য ঠিকাদারদের ওপরও এর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

তবে এই রায়টি অ্যানথ্রোপিকের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বস্তি নিয়ে আসেনি। পেন্টাগন একই সময়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত পৃথক বিধিমালার অধীনে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে, যা এখনো কার্যকর। ওয়াশিংটনের অন্য একটি আদালতে ওই বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চলছে, যেখানে এপ্রিল মাসে আদালত নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করায় হোয়াইট হাউস তাঁর ওপর আগে থেকেই বিরক্ত ছিল বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

কুয়েতের সঙ্গে এবার যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করলো পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে শক্তিশালী ‘মক্কা প্যাক্ট’ গঠনের ধারাবাহিকতায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে ওই দিন কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল সাবাহ পাকিস্তানে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে এই সহযোগিতা স্মারক সই হয়।

কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে দু’দেশের সহযোগিতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা। প্রতিরক্ষা খাতের এই সমঝোতা কেবল সামরিক প্রশিক্ষণ বা মহড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। পাকিস্তান ও কুয়েত—উভয় দেশই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের পর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে কুয়েত উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর কঠিন দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব এবং তুরস্কের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেয় পাকিস্তান। পবিত্র মক্কায় এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে এটি ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই জোটের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সৌদি আরবের বিশাল অর্থভাণ্ডার, তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের দক্ষ সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতা। মক্কা জোটের সদস্য হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়াতে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিদ্যাপীঠগুলোতে শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অধিকতর মনোযোগী করে তোলা, শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের মধ্যে পারস্পরিক সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। মূলত পর্দার আসক্তি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সামাজিক বিকাশের পথ প্রশস্ত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিল ২০২৬ সালের শুরুতেই, যখন ফরাসি পার্লামেন্টে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের লাগাম টানার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস করা হয়, যেখানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি হাইস্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ এই সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানান যে, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হবে। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ বলেন, ‘নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ‘

তবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করবে শিক্ষার্থীদের ফোনগুলো কোথায় এবং কীভাবে জমা রাখা হবে। কোনো কোনো স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাগেই ফোন বন্ধ করে রাখার নির্দেশনা দিচ্ছে, আবার অনেকে বিশেষ লকার বা বক্স ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল কিংবা বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই নিজস্ব কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীনও হতে হচ্ছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মন্ড-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে অনেক স্কুল পরিচালনা পর্ষদ সময়মতো সভা করতে না পারায় ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছে।

জাতীয় এই বিধিনিষেধের মধ্যেও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনে স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ বা সাময়িকভাবে ফোন জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। উল্লেখ্য যে, ফ্রান্সে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সময়সূচি থেকে শুরু করে বাড়ির কাজ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক নোটিশ—সবই এখন ডিজিটাল পোর্টালে পাওয়া যায়। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ফরাসি সরকার।


নির্বাচিত

banner close