তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই শেষ হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের হজে আরাফাত ময়দানে ১৫ লাখেরও বেশি মুসলমান জড়ো হন। গতকাল শনিবার সৌদির তাপমাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তীব্র গরমের মধ্যেই মহান আল্লাহতায়ালার কাছে চোখের জল ফেলে নিজ নিজ জীবনের সব পাপ মুছে ফেলার আকুতি নিয়ে হাজিরা প্রার্থনায় ছিলেন মশগুল।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে অবস্থিত পাথুরে আরাফাত পর্বত। ৭০ মিটার (২৩০ ফুট) উচু এই পাহাড়টিতে আরোহণ করে প্রার্থনা করেন হাজিরা। সেখানে নবী মোহাম্মদ (সা:) তাঁর শেষ ভাষণ দিয়েছিলেন।
এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। নিজের পাপের বোঝার কথা স্মরণ করে লাখ লাখ মুসল্লির অবিরল অশ্রুধারায় ভিজেছে ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দান। তাঁদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আরাফাত ময়দান প্রকম্পিত হয়েছে।
এসময় হাজিদের কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তাঁরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির আকুল বাসনার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মহান আল্লাহর কাছে অঝোরে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। নামাজ আদায় করার পাশাপাশি অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থেকেছেন।
মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় সার্বক্ষণিক জিকির করেছেন। প্রায় সারাক্ষণ তালবিয়া পড়েছেন। আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য প্রকাশ করছেন।
এর আগে, পবিত্র হজ পালনের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে সৌদি আরবে আসা বিশ্বের ২৫ লাখ মুসল্লি হজের দ্বিতীয় রুকন আদায়ের জন্য শনিবার সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানেই অবস্থান করেন তাঁরা। আরাফাতের দিনকে মনে করা হয় বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। এদিন মহান আল্লাহ বান্দাদের পাপ মাফ করে দেন।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় মূলত পরদিন ঈদুল আজহায় কোরবানির মধ্য দিয়ে। আজ রোববার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। খুব সকালে ঈদের জামাত আদায়ের পর কোরবানি দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা ঈদের আনন্দে মেতে উঠবেন। দিনটি বরকতময়। এদিন হাজিরা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে কাটাবেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ব্যয়ের পরিমাণ গত ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।
গত আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে।
সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে।’
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে।
সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে।
পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। গত ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে।
এদিকে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
পৃথিবীর কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মোতায়েন করেছে—এমন ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কী ধরনের অস্ত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে? মহাকাশে সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এই অস্ত্রের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত অস্ত্রটির বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে থাকা এই অস্ত্র প্রয়োজনীয়। তবে অস্ত্রটির ক্ষমতা কী, কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে বা কীভাবে এটি কাজ করে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) সহযোগী গবেষক এবং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোপলিটিকস বিশেষজ্ঞ ড. ব্লেডিন বোয়েন মনে করেন, এটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও সংকেত বাধাগ্রস্ত করার কোনো ব্যবস্থা হতে পারে।
বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, ‘এমন একটি অস্ত্র হলে সেটি তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাত্মক উপায়ে শত্রুর কৃত্রিম উপগ্রহের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে পারে। পৃথিবীতে এ ধরনের প্রযুক্তি আগে থেকেই রয়েছে। কোনো উপগ্রহের সঙ্গে মাটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারলে সেটি কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।’
তবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বোয়েনের মতে, এর মধ্যে থাকতে পারে এমন কোনো ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’, যা অন্য একটি উপগ্রহের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খেয়ে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে। আরেকটি সম্ভাবনা হতে পারে এমন কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ, যা অন্য উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে পর্যবেক্ষণ, আঁকড়ে ধরা বা তার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
মহাকাশে সামরিক কার্যক্রম অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। মহাকাশ যুগের শুরুর দিক থেকেই বিভিন্ন দেশ সেখানে সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ইস্ত্রেবিতেল স্পুতনিকভ’ বা ‘স্যাটেলাইট ডেস্ট্রয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এমন কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছিল, যেগুলো অন্য উপগ্রহের দিকে ধাতব টুকরো বা প্রজেক্টাইল ছুড়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারত।
বর্তমানে সামরিক শক্তিধর দেশগুলো মহাকাশে নানা ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপদ যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজে এসব উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহারও তত বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাশিয়া ও চীনের কাছেও কক্ষপথে একই ধরনের অস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
রুসির সাবেক গবেষক জুলিয়ানা সুয়েস বিবিসিকে বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন—দুই দেশই মহাকাশে এমন কিছু কার্যক্রম চালিয়েছে, যা তাদের সম্ভাব্য মহাকাশ অস্ত্র সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।’
রাশিয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা কক্ষপথে থাকা দুটি উপগ্রহের মধ্যে অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। কোনো একটি পরীক্ষায় কক্ষপথে প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে।
গত এক দশকে রাশিয়া ও চীন মহাকাশে ‘রেন্ডেভু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বা আরপিও বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে একটি উপগ্রহ অন্য একটি উপগ্রহের খুব কাছে গিয়ে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা অনুসরণ করতে পারে।
কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক ড. রড থর্নটনের মতে, এ ধরনের উপগ্রহ ভবিষ্যতে ‘হান্টার-কিলার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো অন্য উপগ্রহের সঙ্গে ধাক্কা দিতে পারে কিংবা সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
চীনের ‘স্পেস টাগ’ প্রযুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রযুক্তিতে একটি মহাকাশযান অন্য একটি উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে আঁকড়ে ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে।
এ ধরনের প্রযুক্তি মহাকাশের আবর্জনা সরানোর মতো শান্তিপূর্ণ কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। আবার একই প্রযুক্তি সক্রিয় সামরিক উপগ্রহ অচল করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস জাঙ্ক তৈরি হওয়া।
কিংস কলেজ লন্ডনের মহাকাশ নিরাপত্তা ও অস্ত্রায়ন বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক হিলবোর্ন বলেন, ‘সরাসরি ভূমি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে।’
২০০৭ সালে চীনের একটি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদাহরণও সামনে এসেছে। ওই পরীক্ষার ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষের অনেক অংশ এখনও কক্ষপথে রয়েছে এবং বিপজ্জনক হয়ে আছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
মহাকাশে সামান্য একটি বস্তুতেও বড় ক্ষতি হতে পারে। কারণ কক্ষপথে বস্তুগুলো অত্যন্ত বেশি গতিতে চলাচল করে। ফলে ছোট একটি ধাতব বা প্লাস্টিকের টুকরোও কোনো উপগ্রহে আঘাত করলে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। থর্নটনের মতে, রাশিয়ার হাতে এমন স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা মহাকাশে উঠে নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহে আঘাত করতে পারে। উচ্চতা থেকে বিমান থেকেও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামাবাদের কূটনীতিককে তলব করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সাদ আহমদ ওয়ারাইচকে ডেকে এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
ভারতের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণ’ করেছে। ফলে ভারতীয় জাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তবে এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নৌযানের এই আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি পরিপন্থি। ওই চুক্তিতে সামরিক মহড়া, সামরিক গতিবিধি ও সেনা চলাচলের বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে।
পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিবাদ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সব সামরিক ইউনিটকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং দুদেশের মধ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানাতে বলা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি সামনের সারির যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে একটি পাকিস্তানি নৌযান ভারতীয় জাহাজটির খুব কাছে চলে আসে।
সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানি জাহাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে অনিরাপদ ও অপেশাদার কায়দায় গতিপথ পরিবর্তন করছিল। একপর্যায়ে সেটি ভারতীয় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
তবে সংঘর্ষে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনার পর দুদেশের জাহাজই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যায়। ঘটনায় কোনো ধরনের ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌযান জড়িত ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ বাবর এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ গোদাবরী একই ধরনের একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘটনাটি দুদেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমুদ্রপথে চলাচল ও সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় দেশের ভেতরেই এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিরাপত্তার সন্ধানে আরও হাজারো মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে বাব আল মানদাব প্রণালি পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।
ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক পরিবার অল্প সময়ের নোটিশে খুব সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। এরই মধ্যে স্থানীয় আশ্রয়স্থল ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে নিবন্ধিত ৬৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও চলমান সংঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
ইরানসমর্থিত হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার পর এই বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাব আল মানদাবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল মানদাব একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প নৌপথ হিসেবেও এ জলপথের গুরুত্ব বেড়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুজনই ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং উপজেলা আহত জুলাই যোদ্ধা সমিতির নেতা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মাহমুদুল হাসান (৩৪)।
জেলা ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বৃষ্টি হোটেলের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাছান আলী ও মাহমুদুল হাসানকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
জেলা ডিবির উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁরা ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে এলেঙ্গায় এসেছিলেন। সেখানে ক্রেতার কাছে ইয়াবা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হাছান আলী ও মাহমুদুল হাসান নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাদক কারবার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা এবং মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’
আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’
ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালাল চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।’
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই; কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালাল চক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হব’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী মার্কেট থেকে মিরপুর-২ নম্বরের সনি স্কয়ার পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে গতকাল বুধবার এক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বুধবার সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই মোবাইল কোর্ট অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী।
অভিযান চলাকালে রাস্তা ও ফুটপাতের উভয় পাশে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া ঝুলিয়ে রাখা বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড এবং ইউনিপোল সাইনও অপসারণ করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত দোকানপাটের বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগর আনসার পশ্চিম জোন কমান্ডারের নির্দেশে ঢাকা মহানগর আনসার ব্যাটালিয়ন (৪১ বিএন)-এর বিভিন্ন পদবির ৩০ জন সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন ছিলেন। থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা (মিরপুর)-এর উপস্থিতিতে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এই অভিযানে অংশ নেয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানটি শেষ হয়।
জনভোগান্তি রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। এই অভিযানের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হওয়া ফুটপাতগুলো অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সৌদি আরব। হুথিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা পেতে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মধ্যস্থতা করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম ও দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সেন্টকমের সহায়তা চেয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদারে ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। হুথিদের অবস্থান, সক্ষমতা ও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়াই এ যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু ইসরায়েল নয়, মিসর এবং উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশের কাছেও একই ধরনের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ড, তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের নিরাপত্তা জোরদার করতেই রিয়াদ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চাইছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একইভাবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি সেন্টকমের কাছ থেকেও।
তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে ইসরায়েলের ভেতরেও সতর্ক অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দেশটির সরকারকে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আইডিএফের আশঙ্কা, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতে ইসরায়েল যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পরিধি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
সৌদি আরব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মানদেব প্রণালি থেকে হুথিদের সরিয়ে দেওয়া এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ব্রিটেনের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে রিয়াদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
বাব আল-মানদেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই অঞ্চলে হুথিদের তৎপরতা বাড়লে শুধু সৌদি আরব নয়, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সৌদি-ইসরায়েল যোগাযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আলোচনার বিস্তারিত দিক এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
আদা, মরিচ, টমেটো ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি এসব পণ্য রপ্তানির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে।’ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার জনবল, কার্যাবলি, উল্লেখযোগ্য অর্জন, কৃষিক্ষেত্রের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে কৃষিজমি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কৃষিতে গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। টেকসই কৃষি উৎপাদনের জন্য মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষির উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা জরুরি। এজন্য কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে।
বৈঠকে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।
কৃষিমন্ত্রী জানান, সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং আরও জোরদার এবং কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে কৃষির বহুমুখীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন এবং চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম চাষ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে পাট খাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাটকে কৃষি ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করছে। কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষির আধুনিকায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় অধিকতর গতিশীল হয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম এমপি, মো. মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল এমপি, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি, মোছা. সাবিরা সুলতানা এমপি, মো. গোলাম রছুল এমপি এবং মো. আব্দুল বারী সরদার এমপি অংশ নেন।
এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, লেখক ও শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
অভিযুক্তদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর পাঁচজন পলাতক বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
বুধবার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের হামলার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।
প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের পর তারা সেটিকে অনুসরণ করে অধীনস্থদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক থাকায় ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর সব আসামির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।
এদিন আরও একটি মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিলের কথা জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের একটি সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন যুবকদের সরকারের সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে গুম করত এবং তাদের বিভিন্ন ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখা হতো।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কাউকে পরবর্তী সময়ে হত্যার পর ঘটনাকে ‘জঙ্গি নাটক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। আবার কিছু ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যেত না এবং তাদের লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। কাউকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।
এদিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশন জানায়, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও ওই ৩০ আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। পরে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের মক্কার কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করার খবরে সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে আনোয়ার বলেন, ‘মক্কা আল-মুকাররামার কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করার খবর গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামের পবিত্রতম শহরের নিরাপত্তা ও পবিত্রতার জন্য যেকোনো ধরনের হুমকির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ মক্কার বাসিন্দা ও হজযাত্রীদের সুরক্ষায় সৌদি আরব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
আনোয়ার বলেন, ‘এ ঘটনা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।’ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত সংযম দেখানো এবং দেরি না করে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া।’
এর আগে বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার কাছে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। তবে ড্রোনটি উৎক্ষেপণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।
জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি প্রতিহত করা হয়। মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ শহরটির দক্ষিণে গিয়ে পড়ে।
আগামী বছর ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়ন (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে বিমানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুসহ বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে এফএএর আইএএসএ ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বমানের লিগ্যাসি এয়ারলাইনস হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। তবে বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ দ্রুত করা জরুরি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে রাষ্ট্রদূতের সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভর করে আসছে উপসাগরীয় দেশগুলো। কিন্তু ছয় মাসের যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিলাসবহুল হোটেলে আগুন লাগার পাশাপাশি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতিতে ইরান ও তার মিত্রদের হামলা এড়াতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁজছেন উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা।
তবে সেই উদ্যোগও বাধার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সোমবারের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হয়। উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। ফলে এসব দেশের সামনে নতুন নিরাপত্তা বিকল্প খোঁজা ছাড়া উপায় নেই। কুয়েত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বাদর আল-সাইফ বলেন, পুরোনো ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন কিছু গড়ে তুলতে হবে এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বাহরাইনসহ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা ইরানের তুলনায় কম। গত কয়েক দশকে শত শত কোটি ডলার ব্যয়ে উন্নত অস্ত্র কিনলেও তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিকল্প নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো কোনও একক শক্তি নেই। চীন ও রাশিয়াও এসব দেশকে রক্ষায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি।
আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান উঠলেও সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো উদ্যোগগুলো এখনো পরীক্ষিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো মার্কিন নিরাপত্তার ছায়াকে সরিয়ে না দিয়ে তার পাশাপাশি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিমানবন্দর, বন্দর ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় মার্কিন সহায়তা ও অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে এসব হামলা দেশগেুলোকে অস্থিতিশীল অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাদের ভাবমূর্তি নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে তারা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আল-বুসাইদি উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরান ও ইরাককে নিয়ে বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সৌদি আরব, আমিরাত ও কাতারও ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
এক সম্মেলনে আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনোয়ার গার্গাশ বলেন, ইরান তাদের প্রতিবেশী এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুঁজতেই হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতা তাদের সামনে এ ছাড়া আর কোনও বিকল্প রাখে না।