বাবা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট, মায়ের সঙ্গেও রয়েছে রাজনৈতিক যোগসূত্র। কিন্তু তারপরও, কখনোই রাজনীতির ময়দানে দেখা যাবে না বারাক ওবামার দুই মেয়েকে। এই কথা নিজেই জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলসে জো বাইডেনের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বারাক ওবামা। সেখানে তিনি এক আলোচনা প্যানেলেও যোগ দেন।
আলাপকালে ৬২ বছর বয়সি এ ডেমোক্র্যাট নেতা জানান, তার দুই মেয়ে কখনোই বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেবে না।
তিনি বলেন, এটি এমন এক প্রশ্ন, যা আমার উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। কারণ, মিশেল (ওবামা) অনেক আগেই ওদের রাজনীতিতে প্রবেশের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। এটি কখনোই ঘটবে না।
কী করছেন ওবামার দুই মেয়ে
বারাক ওবামার দুই মেয়ের নাম মালিয়া এবং সাশা। তাদের একজনের বয়স ২৫, অন্যজনের ২২। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায়, দুই মেয়েই মায়ের আদেশ মেনে রাজনীতির বাইরে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ায় মন দিয়েছেন।
সম্প্রতি ২০২৪ সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রেড কার্পেটে অভিষেক হয়েছে মালিয়ার। সেখানে তিনি তার শর্ট ফিল্ম ‘দ্য হার্ট’র প্রিমিয়ারে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ মিনিটের শর্ট ফিল্মটি লেখা এবং পরিচালনা করেছেন মালিয়া।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, শর্ট ফিল্মের ক্রেডিটে তিনি নিজের নামের ‘ওবামা’ অংশটি বাদ দিয়ে নিজেকে মালিয়া অ্যান হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২১ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন মালিয়া। তিনি ডোনাল্ড গ্লোভার নির্মিত প্রাইম ভিডিও সিরিজ সোয়ার্মের লেখক হিসেবে কাজ করছেন। এইচবিও সিরিজ গার্লসে ইন্টার্ন এবং হ্যালি বেরি অভিনীত টিভি সিরিজ এক্সট্যান্টে প্রোডাকশন সহকারী হিসেবেও কাজ করছেন ওবামার বড় মেয়ে।
ছোট মেয়ে সাশাও রয়েছেন রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ইয়েমেনে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। এতে একদিকে রয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, অন্যদিকে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মূল পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরব। এই যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতিদের পুরোপুরি ‘নির্মূল’ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানায় তারা। তবে লক্ষ্য হিসেবে এটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী।
একসময় স্যান্ডেল পায়ে পিকআপ ভ্যানে চড়ে যুদ্ধ করা একদল বিশৃঙ্খল যোদ্ধা আখ্যা দিয়ে হুতিদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। তারাই এখন নিজেদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ সক্ষমতা ও শক্তির জানান দিচ্ছে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর বর্তমানে তারা এমন সব ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যেখানে ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ মানুষের বসবাস।
অতীতে হুতিদের উৎখাত করতে সৌদি আরব দীর্ঘদিন সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। তবে সেই অভিযান ব্যর্থ হয়। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ইসরায়েলে হুতিদের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালায়। হুতিরা সেই হামলাও সফলভাবে প্রতিহত করে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পেয়ে আসছে হুতিরা। তবে তারা অস্ত্র সংগ্রহের বিকল্প পথও খুঁজে নিয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে গোষ্ঠীটি। এর বড় প্রমাণ অক্টোবরে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে তাদের চালানো বিমান হামলা। ওই হামলায় এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হন। আহত হন শত শত মানুষ।
‘আনসারুল্লাহ’ নামে পরিচিত হুতিরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী। ‘আনসারুল্লাহ’ শব্দের অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’। গোষ্ঠীটির উত্থান ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে। তারা শিয়া ইসলামের জাইদি শাখার অনুসারী। ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই শাখার অনুসারী।
উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন এক হওয়ার পর ১৯৯০-এর দশকে হুতি আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিদ্রোহ করে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। সেই সংঘাতের প্রভাব এখনো পুরো দেশে রয়ে গেছে।
হুতিরা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলেরও কট্টর বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। হুতিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) নামে পরিচিত জোটের অংশ। এই জোটে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের গাজার হামাসও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ইরান হুতিসহ এই জোটের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সামরিক সহায়তা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সহায়তার মধ্যে অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুতিরা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যও এক। তবে হুতিরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। ইরান হুতিদের অস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে অস্ত্র সংগ্রহের জন্য তারা শুধু ইরানের ওপর নির্ভর করে না।
ইয়েমেনের ভেতরে বিভিন্ন উপজাতির চোরাচালান নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেও তারা অস্ত্র সংগ্রহ করে। পাশাপাশি চীনসহ দূরের বিভিন্ন দেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য সরঞ্জাম ও কাঁচামাল কিনছে তারা। এসব উপকরণ অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
হুতিরা এখন নিজেরাই অস্ত্র তৈরি ও সংযোজনের চেষ্টা বাড়িয়েছে। ফলে ইরানে তৈরি সম্পূর্ণ অস্ত্রের ওপর তাদের নির্ভরতা কমছে। এতে প্রতিপক্ষের জন্য হুথিদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২২ সাল নাগাদ ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষের কাছে যথার্থ কারণ ছিল। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে সৌদি আরব এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে হুতিরা নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল। তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছিল।
যুদ্ধবিরতি হুতিদের কিছু সুবিধা আদায়ের সুযোগ করে দেয়। এর মধ্যে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং সানার বিমানবন্দর থেকে সীমিতসংখ্যক বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর অনুমতি পাওয়ার মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এর ফলে সীমান্ত পেরিয়ে দুই পক্ষের হামলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। ছয় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়। তবে এরপরও প্রায় চার বছর ধরে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ছিল। যদিও এই শান্ত পরিস্থিতি নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল না এবং যেকোনো সময় আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এরপর চলতি বছরের ১৩ জুলাই সৌদি যুদ্ধবিমান সানার বিমানবন্দরে হামলা চালায়। হুতি প্রতিনিধিদের বহনকারী একটি ইরানি বিমানকে অবতরণ করতে বাধা দেওয়াই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।
প্রতিনিধিদলটি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা থেকে ফিরছিল। ইরান যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিহত হন। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ব্যবহার করে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠায়। সৌদি আরবের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিমান কার্যত অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পরিবহনের ‘আকাশপথের সেতু’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে টানা তৃতীয় দিনের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সোমবার রিয়াদ লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের দিকে ধেয়ে আসা আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলায় দেশটিতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে ঠেকেছে। উদ্ভূত নিরাপত্তা সংকটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার মেয়াদ আগামী শনিবার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিবৃতি দিয়েছেন হুথি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী। তিনি জানান, রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি ইয়েমেন সীমান্তঘেঁষা খামিস মুশাইতের একটি সৌদি সামরিক বিমানঘাঁটিকে নিশানা করে যৌথভাবে ড্রোন ও রকেট ছোড়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা ও সাধারণ যাত্রীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের বাকি সব আকাশসীমা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা আন্তর্জাতিক রুটের পরিকল্পনা প্রণয়নে বিবেচনা করা উচিত।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে। তবে একের পর এক হামলায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও জনসমক্ষে না এসে নিরাপদ বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ ও পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরকে বারবার নিশানা করায় হুথিদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; তিনি বিদ্রোহীদের এই আগ্রাসী আচরণকে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতির মাইক্রোইকোনমিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘোষণা দেয় রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।
রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, দুই অর্থনীতিবিদের তৈরি নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার কার্যকর নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব মডেলের সাহায্যে সঠিক সময়ে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির পদক্ষেপ নিয়ে অর্থনীতির উত্থান-পতন কমানো সম্ভব।
অর্থনীতিতে কখনো মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনো দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। প্রায় এক শতাব্দী আগে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের তত্ত্বের পর থেকেই অর্থনীতির এই ওঠানামা সামাল দিতে স্থিতিশীলতা রক্ষার নীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মন্দার সময় সুদের হার কমিয়ে এবং বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করা হয়। অপরদিকে, অর্থনীতি অতিরিক্ত গতিতে বাড়তে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপরীত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলের সংকটের সময় দেখা যায়, কখন ও কীভাবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নির্ধারণে প্রচলিত কেইনসীয় মডেলগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বেকারত্ব কমানোর বদলে এসব নীতি অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি তৈরি করে। পশ্চিমা বিশ্বে তখন এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম, বেকারত্ব বেশি এবং মূল্যস্ফীতি উঁচু পর্যায়ে ছিল। ফলে অনেকে মনে করতে শুরু করেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার নীতি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে। তাই এ নীতি বাদ দেওয়ার কথাও ওঠে।
রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড দেখিয়েছেন, অর্থনৈতিক মডেল নতুনভাবে তৈরি করে কীভাবে স্থিতিশীলতা রক্ষার নীতিকে আরও কার্যকর করা যায়। তারা মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যকার পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে মডেলগুলো তৈরি করেছেন ব্যক্তিপর্যায়ের অর্থনৈতিক আচরণের ভিত্তিতে। অর্থাৎ, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কীভাবে পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা তারা বিবেচনায় নিয়েছেন।
এই মডেলগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সঞ্চয় কিংবা পণ্যের দাম নির্ধারণের সময় ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অর্থনৈতিক নীতির পরিকল্পনা জানালে মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা বদলাতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত পথে এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব।
নতুন এই মডেলগুলো চালুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেখা দেওয়া অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ বছর অর্থনীতিতে পুরস্কার পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।
নোবেলজয়ীরা পাবেন একটি মেডেল, একটি সনদপত্র এবং মোট ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। যা প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সমান। যেসব বিভাগে একাধিক নোবেলজয়ী থাকবেন, তাদের মধ্যে এই অর্থ ভাগ হয়ে যাবে। বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হামলা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্ব জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সম্মেলনে অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে। ইয়েমেনের ইরান-ঘনিষ্ঠ হুতি আন্দোলন সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতাও সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর রিয়াদ কীভাবে এর জবাব দেবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা একের পর এক হামলা চালিয়ে সৌদিকে চাপে ফেলছে। পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ, স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—সব মিলিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে রিয়াদ। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গত ছয় দিন ধরে বাঙ্কার সুবিধাসম্পন্ন, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন প্রাসাদে অবস্থান পরিবর্তন করে চলেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে তার বাছাই করা বিশেষ নিরাপত্তা দল। তবে তার অবস্থান পরিবর্তন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, আধুনিক সমরাস্ত্রে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও সৌদি আরব সব হামলা ঠেকাতে পারছে না। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনে হুতিরা দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে।
কারা এই হুতি আন্দোলন: হুতিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে জাইদি শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শিকড় থাকা আন্দোলনটি ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়। ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় হুতিরা নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রশাসনিক কাঠামো, স্থানীয় সমর্থন ও সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিতে সহিংসতা কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি।
কেন সৌদিকে লক্ষ্যবস্তু করছে হুতিরা: ইয়েমেনের ক্ষমতার লড়াই, সৌদি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা দুই পক্ষের বিরোধের মূল কারণ। রিয়াদ হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মনে করে। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরে।
কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনোর মতে, হুতিরা সংঘাতের প্রচলিত হিসাব বদলে দিতে চাইছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে সৌদি জোটের হামলার জবাবে রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করে তারা বার্তা দিচ্ছে—ইয়েমেনে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখলে সৌদি আরবকেও মূল্য দিতে হবে।
নেপথ্যে ইরান, তবে নিয়ন্ত্রণ কতটা: হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে তাদের অস্ত্র, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন হুতিদের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তবে হুতিদের প্রতিটি হামলা ইরানের নির্দেশে পরিচালিত হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। ইরানের সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থের মিল থাকলেও হুতিদের নিজস্ব নেতৃত্ব, স্থানীয় জনভিত্তি ও ইয়েমেনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে। তেহরানের জন্য তারা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
হুতিদের শক্তির উৎস কী: হুতিদের শক্তির ভিত্তি চারটি—উত্তর ইয়েমেনে স্থানীয় সমর্থন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের অবস্থান তাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এ নৌপথ দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন চলে।
হুতিদের লক্ষ্য সৌদির পুরো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করা। লন্ডনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মিনা অ্যানালিটিকার বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে বারবার আঘাত হানার সক্ষমতাই হুতিদের জন্য বড় কৌশলগত অর্জন।
বিপুল অস্ত্রেও কেন নিরাপদ নয় সৌদি আরব: সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং উন্নত সেন্সর সংগ্রহ করেছে। কিন্তু প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা কঠিন। তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, বন্দর ও পবিত্র নগরীগুলোর নিরাপত্তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হয়।
ক্রিগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এত বড় ভূখণ্ডে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোনো অভেদ্য দেয়াল তৈরি করতে পারে না। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ইন্টারসেপ্টরের মজুত, আগাম সতর্কতা, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সীমাবদ্ধতার কারণে সৌদিকে বিদেশি অস্ত্র, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও ছিলেন। পরদিন একই বিমানবন্দরে আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব ঘটনায় বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণসূচি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
জ্বালানি সম্মেলনেও নিরাপত্তার ছায়া: রিয়াদে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনে নিরাপত্তা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে। রয়টার্সের গতকাল সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি বিপি জানিয়েছে, ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ায় তাদের প্রধান নির্বাহী সরাসরি সম্মেলনে অংশ নিতে পারছেন না। এক্সনমোবিল, শেল, টোটালএনার্জিস ও শেভরনের শীর্ষ নির্বাহীদের নামও হালনাগাদ সূচিতে ছিল না। তবে সবার অনুপস্থিতির কারণ একই বলে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সম্মেলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় পর্যটন, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতের বাইরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে সৌদি আরব। এ অবস্থায় হামলার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও ব্যবসায়িক আয়োজনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সম্মেলনে নির্বাহীদের অনুপস্থিতিকে সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ: লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্য, পণ্য পরিবহনের ব্যয় এবং জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরবের বন্দর বা জ্বালানি স্থাপনা আক্রান্ত হলে সেই ঝুঁকি আরও বাড়বে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা সংঘাতের বিস্তার ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, হুতিদের হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং হুতিদের অভিযোজনক্ষমতা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটের কার্যকর সমাধান এবং আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি।
রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন নিষিদ্ধ করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য। লিখিত নির্দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের বিকল্প স্থান হিসেবে রাজধানীর তিনটি জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ জায়গাগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল এক লিখিত নির্দেশে দিল্লি পুলিম যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ, মিছিল-সমাবেশের স্থান হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। ১২ অক্টোবর নতুন নির্দেশের মাধ্যমে কার্যত আগেকার আদেশ বাতিল করা হলো।
সোমবারের (১২ অক্টোবর) নির্দেশে পুলিশ জানিয়েছে, নতুন এই তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি বা এসওপি আলাদাভাবে জারি করা হবে।
সম্প্রতি ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক প্ল্যাটফরম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সুবাদে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের নিকটবর্তী যন্তর মন্তর এলাকাটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন এই যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ শুরু করেছিল সিজেপি এবং সেই বিক্ষোভ সফলও হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছিল সিজেপি। কিন্তু রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই কর্মসূচি করতে পারেনি সিজেপি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে আটক সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে ‘এক বছর শান্ত থাকার’ মুচলেকা দিয়ে গত কাল রোববার মুক্তি পেয়েছেন।
এদিকে রোববার সিজেপির অন্যতম শীর্ষ মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, ১০ তারিখের কর্মসূচি ভেস্তে যাওয়ার পর ফের তারা যন্তর মন্তরে ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য পুলিশকে ‘২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ককরোচ পার্টির
ভারতের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দিতে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ কোনো জবাব না দিলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরেক সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাসকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান রানকা। সেখানে তারা বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণের দাবি জানান। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস বলেছেন বলেন, ‘যন্তর মন্তর বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান। সেখানে আমরা কবে বিক্ষোভ করতে পারব, সেই তারিখ জানতে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোথায় বিক্ষোভ করব? আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে জানাতে হবে, কীভাবে আমরা বিক্ষোভ করতে পারি। অন্যথায় আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বল্প সময়ের নোটিশ দেওয়া, আগের বিক্ষোভে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা, যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আকস্মিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতকে নতুন মোড় দিয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরুর পর উপসাগরীয় কোনো দেশে এটিই সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা, যা রক্তাক্ত সামরিক জবাবের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এক বছর ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল এমন এক অস্থিতিশীলতার মধ্যে, যেখান থেকে ফেরার পথ পাওয়া যাচ্ছে না। গাজা ও ইরানের তুলনায় এখানে হতাহতের সংখ্যা হয়তো কম, তবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিরাপত্তার যে ক্রমাবনতি— তা এই অঞ্চলের নেতাদের স্বীকার করতেই হবে। অনেকটা নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে সবকিছু।
প্রথম ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ঠিক এক বছর আগে, যখন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে কাতারের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। সেখানে তখন মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। সেই দৃশ্য কাতারের নাগরিকদের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশার। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে আসছিলেন।
তবে সেই সময়ও কিছুটা পূর্ব সংকেত ছিল। বোঝা গিয়েছিল, সেটি ছিল ইরানিদের মুখরক্ষার প্রতীকী পদক্ষেপ। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে কোনো ধরনের সতর্কতা বা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি ও এক কাতারি নিহত হন। আর সেটাই ছিল দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি ধারণা ও প্রত্যাশার অন্তিম মুহূর্ত। ধারণাটি ছিল এমন- ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ নিরাপদ।
এরপর আসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইরান যুদ্ধ, যা উপসাগরীয় অঞ্চলকে সংঘাতের আবর্তে টেনে আনে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তার অভিযোগ তুলে তেহরান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানে হামলা চালায়। ইরান মূলত দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা ও পানিশোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করে। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, মাসের পর মাস স্কুল বন্ধ থাকে, বিমানবন্দর এবং আকাশসীমাও বন্ধ হয়ে যায়।
উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের দৃষ্টিতে হামলাগুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সুসংহত ও আধুনিক যোগাযোগকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। পর্যটন, উদ্যোক্তা, খেলাধুলা এবং বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে তারা কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ফর্মুলা ওয়ান, গলফ ও বক্সিংয়ের মতো প্রতিযোগিতার যেসব আয়োজন তারা করেছিল, কম দামের কিছু ড্রোনের এলোপাতাড়ি হামলায় আজ সেগুলো অনিশ্চয়তার মুখে।
এরমধ্যেই আবার পুরোনো দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়, যখন শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট হুতিদের হটাতে সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়। এই যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এরপর ২০২২ সালে হুতি ও সৌদি সরকারের সমর্থক দেশগুলোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বিভাজনে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পায়। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ কৌশলগত নতুন পরিস্থিতি তৈরি করে, যার মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের সমীকরণ পাল্টে যায়। ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রাভিযান তীব্র হয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইয়েমেনের উপকূলীয় জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পায়। আর এই সুযোগে লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবে আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে হুতিরা বিভিন্ন অঞ্চল দখল করতে শুরু করে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার ভীত, তার ঘুম হচ্ছে না। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিল করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের মধ্যে সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ‘ভীরুতা’ নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে পদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সঙ্গে জাতীয় পতাকা রাখবেন।’
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের জানিয়েছেন, তারা সঠিক কাজ করছেন। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো ভাবছেন আমাদের জন্য বিষয়টি কঠিন, কারণ পুলিশ আমাদের মারধর করছে। আপনারা যেমন ক্লান্ত, আমরাও তেমনই ক্লান্ত। পুলিশও প্রশ্ন তুলছে— জ্ঞানেশ কুমারের মতো একজন চোরকে আমরা কেন রক্ষা করছি? তাই এখন আসল বিষয় হলো অটল থাকা। আমরা থামব না। এতে কত সময় লাগবে—দিন, সপ্তাহ, মাস নাকি বছর—তা কোনো বিষয় নয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া এসআইআর পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এই বিক্ষোভ চলছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলতে চাই, তার সরকারের ২০০ জন কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আমাদের তথ্য দিচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে ‘অবিলম্বে কার্যকর’ যুদ্ধবিরতির দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া রাজি হলে কিয়েভও এ উদ্যোগে সমর্থন দেবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি মস্কো। এর মধ্যেই ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলার অভিযোগ তুলেছেন জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। একই ধরনের প্রস্তুতি রাশিয়ার কাছ থেকেও প্রত্যাশা করছে কিয়েভ।’ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সম্মতিও চেয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিয়েভের মতে, এসব হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমানো। অন্যদিকে, রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার এই ডিজেল চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সমালোচনা চলছে। জেলেনস্কি চুক্তিটিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনীতিবিদও চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্পের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর আগে ইরানকেন্দ্রিক যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় তাকে দীর্ঘ সময় চাপের মুখে থাকতে হয়েছে। ওই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের, বিশেষ করে ডিজেলের দাম বেড়েছে। উচ্চ জ্বালানিমূল্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্পের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্পের আহ্বানকে ব্রিটেন জোরালোভাবে সমর্থন করে। ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে এর আগে গত রোববার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসিকে জানান, যুক্তরাজ্য বিষয়টি সমর্থন করে না। গত শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও এ বিষয়ে জেলেনস্কির সমালোচনার সঙ্গে একমত হন।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও রাশিয়া কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার পরই এসব ঘটনা ঘটেছে।’
গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের যেসব স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে, সেগুলো দেশটির সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছিল এবং তাই বৈধ লক্ষ্যবস্তু। অন্যদিকে, রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলাকে জেলেনস্কি রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নের সক্ষমতা কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এসব হামলায় উভয় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
ডিজেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছে। তিনজন ডেমোক্র্যাট ও চারজন রিপাবলিকানসহ সাতজন সিনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্পের চুক্তি রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী আইনের ‘সরাসরি পরিপন্থি’।
সিনেটররা বলেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ এবং ন্যাটো মিত্রদের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি না করার বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট।’ ট্রাম্প প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা। ওই সাত সিনেটরের একজন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস এনবিসি নিউজকে বলেছেন, এই চুক্তি নিশ্চিতভাবেই মার্কিন নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
গত শনিবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ডিজেল চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করার পরও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার অনুমোদন অব্যাহত রেখে জেলেনস্কি ‘বিশ্বের জন্য সমস্যা সৃষ্টি’ করতে চাইছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য এখন নতুন একজন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় হয়েছে।’
জবাবে জেলেনস্কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি ৬০ দিনের জন্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তবে তিনি ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করবেন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশটির সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। এর আগে নতুন নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান
প্রত্যাখ্যান করে জেলেনস্কি বলেছিলেন, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র ও রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকায় ভোট আয়োজন করা অত্যন্ত জটিল। তবে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন, ইউক্রেনীয় নেতা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন।
এদিকে, চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে স্থলভাগে হামলা ও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত রোববার ইউক্রেনের দুটি শহরে হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও প্রস্তুত তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনালাপে এ কথা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। আলোচনায় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই। আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে একই ধরনের বক্তব্য দেন আরাঘচি। তিনি বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনা ছাড়া এই সংঘাতের অবসান সম্ভব নয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে ইরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’ গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নতুন করে বিবেচনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলা চালানো হবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার আগের অবস্থানের তুলনায় ভিন্ন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না।
ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে সাত বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।
সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরও বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব ও তেহরানের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
ইরান ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে সংলাপের প্রস্তাব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে কি না, কিংবা এ উদ্যোগে বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিকে তীব্র আক্রমণ করে মুসলিম এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়গুলোর মধ্য থেকে স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়াইসি ভোটারদের প্রথাগত রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর উচিত প্রতিনিধিত্বের জন্য অন্য বড় দলগুলোর ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নেতৃত্ব নিজেরাই তৈরি করা।
রাজনৈতিক বিরোধিতার ওপর বাধানিষেধের দিকে ইঙ্গিত করে ওয়াইসি বলেন, ‘আমাদের আর কোনো গান্ধী বা নেহরুর প্রয়োজন নেই; আমাদের এখন নিজেদের নেতা দরকার। মুসলিমদের কেবল প্রতিষ্ঠিত নেতাদের সমর্থন করে যাওয়ার একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে কোনো সঠিক প্রতিনিধিত্ব আসেনি। আমাদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে কেউ কথা বলে না। অথচ আজকাল পুলিশ মানুষকে আটক করে বছরজুড়ে আন্দোলন না করার নির্দেশ দিচ্ছে।’
যেসব রাজনৈতিক গোষ্ঠী মুসলিমদের প্রথাগত দলগুলোকে সমর্থনের পরামর্শ দেয়—এই আশায় যে সেখান থেকে জওহরলাল নেহরু বা মহাত্মা গান্ধীর মতো নেতাদের আবির্ভাব ঘটবে—তাদের দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র বিরোধিতা করেন ওয়াইসি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তারা বলে ‘তাদের সমর্থন কর’। আর আমি বলি, ‘তুমি নিজেই নেতা হও’। আমরা কারও দাস নই।”
এআইএমআইএম প্রধান সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবকে নিশানা করে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী কংগ্রেসের ভেতরের নানা রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে বর্তমানের মিল তুলে ধরেন।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতারা সবসময়ই মুসলিমদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু মুসলিম নেতাদের ক্ষমতায়ন করেননি। তিনি ১৯৪৬ সালে কংগ্রেসের সভাপতি পদ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার উদাহরণ দেন, যেখানে গান্ধীজি আবুল কালাম আজাদের পরিবর্তে নেহরুকে সভাপতি করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
ওয়াইসি যুক্তি দেন, এই ঘটনাটি এক দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন—যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পেছনে দাঁড়াতে বলা হয়, অথচ তাদের নিজস্ব নেতৃত্বকে বড় রাজনৈতিক প্রভাব গড়ে তুলতে দেওয়া হয় না। গান্ধীর সেই সময়ের আচরণের সঙ্গে বর্তমানের অখিলেশ যাদবের রাজনীতির তুলনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, সমাজবাদী পার্টিও একই পথ অনুসরণ করছে।
আজমগড় দীর্ঘদিন ধরে সমাজবাদী পার্টির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে ওয়াইসির এই ভাষণ ইঙ্গিত দেয় যে, এআইএমআইএম মুসলিম ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি পৌঁছে উত্তরপ্রদেশের প্রথাগত রাজনৈতিক সমীকরণকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছে।
তার স্বাধীন নেতৃত্বের এই আহ্বান মূলত কেবল প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে, সম্প্রদায়ের ভেতর থেকেই নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। ওয়াইসি প্রতিনিয়ত দাবি করে আসছেন যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কেবল ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাদের বড় ভূমিকা দেওয়া উচিত।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে সমাবেশ ও বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। রবিবার দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত এক স্থায়ী আদেশে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিলের পূর্ববর্তী নির্দেশনা সংশোধন করে এই ঘোষণা কার্যকর করা হয়। নতুন নীতিমালার আওতায় যন্তর মন্তরের পরিবর্তে প্রতিবাদ ও সমাবেশের বিকল্প হিসেবে পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড, রামলীলা গ্রাউন্ড এবং বুরারি গ্রাউন্ডকে মনোনীত করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবনির্ধারিত তিনটি স্থানে যেকোনো ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের শর্তাবলি স্পষ্ট করতে একটি সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পরবর্তীতে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে চলমান উত্তাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
দিল্লি পুলিশের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় স্থানটিকে ইতিমধ্যেই একটি “যুদ্ধক্ষেত্রে” রূপ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশের ঘোষণাকে তুচ্ছ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ওরা যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ, এটা আর প্রতিবাদস্থল নয়, কারণ কাপুরুষ স্বৈরশাসক তো এমনিতেও এটাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে!”
অতিবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওন (এনসিআর) জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী নয়ডা, গুরুগ্রাম ও গাজিয়াবাদে ব্যাপক বৃষ্টি ও বজ্রঝড় শুরু হয়।
আবহাওয়ার বুলেটিনে আইএমডি জানায়, সকাল ৯টা পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই সতর্কতাকালে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ প্রচণ্ড বজ্রপাত বয়ে যেতে পারে। সকালের অফিসযাত্রার সময়ে আকস্মিক এই বর্ষণে মধ্য দিল্লির করোলবাগের ঝান্ডেওয়ালান মন্দির সংলগ্ন এলাকাসহ রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং তীব্র যানজটের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে সকালের এই ভারী বর্ষণ সাময়িক উল্লেখ করে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ছয় দিন দিল্লিতে বড় কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই এবং আকাশ প্রধানত আংশিক মেঘলা থাকবে। একই সঙ্গে আসন্ন দিনগুলোতে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের বিতর্কিত নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশসহ ৩১টি মুসলিম দেশের নাগরিক কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা বৈমানিক ও কেবিন ক্রুদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা ‘এয়ার ফ্রান্স’। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘মিডিয়াপার্ট’-এর প্রতিবেদনের সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে সুনির্দিষ্ট কিছু দেশের কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন না করার বিষয়ে তেল আবিবের দেওয়া শর্ত মেনে নিয়েছে এই ফরাসি উড়োজাহাজ সংস্থা।
ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, ইরান ও পাকিস্তানের মতো ৩১টি রাষ্ট্রের নাগরিক কিংবা দ্বৈত পাসপোর্টধারী ফরাসি কর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় কোনো বিশেষ ধর্মের নাম উল্লেখ না থাকলেও, জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত এই বিধিনিষেধের কারণে কার্যত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরা প্রত্যক্ষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোনো কর্মীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা অবিলম্বে সংস্থাকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে ‘এয়ার ফ্রান্স’ এবং এই নিয়ম লঙ্ঘনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ফ্রান্সে সংস্থাটি বৈষম্যবিরোধী আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর বরাতে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। এর পূর্বে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ফ্লাইদুবাই’য়ের একজন ওমানি কো-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমানকে ইসরায়েলি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তার অজুহাতে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইসরায়েল এবং একটি স্থানীয় এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে তাদের প্রায় আড়াই হাজার ক্রুর অতীত তথ্য পুনঃপরীক্ষা শুরু করেছে। তবে ‘মিডিয়াপার্ট’-এর এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ‘এয়ার ফ্রান্স’।