মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

এবার হজে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭৭ জন

 বেশির ভাগেরই মৃত্যু প্রচণ্ড গরমে
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২৪ ২১:৪৯

সৌদি আরবে এবারের হজের সময় প্রচণ্ড গরম ও দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছেন হজযাত্রীরা। খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে হজ পালনরত অবস্থায় মারা গেছেন অন্তত ৫৭৭ জন হজযাত্রী। বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য সমন্বয় করে বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি হাজিদের মৃত্যুর এই সংখ্যাটি জানিয়েছে।

দুই আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন, মক্কার পার্শ্ববর্তী আল-মুয়াইসেম এলাকার মর্গে ৫৫০ জন হজযাত্রীর মরদেহ রাখা হয়েছে। এটি মক্কার সবচেয়ে বড় মর্গগুলোর অন্যতম। মৃতদের মধ্যে অন্তত ৩২৩ জন মিসরের নাগরিক। তাদের বেশির ভাগই প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।

একজন কূটনীতিক জানান, মিসরের যেসব হজযাত্রী মারা গেছেন, তাদের প্রায় সবাই প্রচণ্ড গরমের কারণে অসুস্থ হয়েছিলেন। একজন সামান্য ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়েছিলেন।

কূটনীতিকরা আরও জানান, মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে জর্ডানের অন্তত ৬০ জন নাগরিক আছেন। এর আগে মঙ্গলবার জর্ডান জানিয়েছিল, এবারের হজে তাদের ৪১ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

সৌদি আরবে এবারের হজের সময় প্রচণ্ড গরম ও দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছেন হজযাত্রীরা। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সোমবার মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকার তাপমাত্রা ৫১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল।

গত বছর পবিত্র হজ মৌসুমে সৌদি আরবে অন্তত ২৪০ জন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। তাদের বেশির ভাগ ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ছিলেন।

এ বছর হজে অংশ নেন প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে ১৬ লাখই সৌদি আরবের বাইরে থেকে এসেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থাটিকে জানায়, মিসর থেকে অসংখ্য অনিবন্ধিত হজযাত্রী এসেছিলেন। এ কারণে মৃতের সংখ্যা এত বেশি।

মিসরের হজ মিশনের দেখভাল করেন এমন এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘অনিয়মিত ও অনিবন্ধিত হজযাত্রীরা মিসরের হজ ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তাদের কারণে সব সেবা মুখ থুবড়ে পড়ে।’

‘হজযাত্রীরা দীর্ঘসময় খাবার, পানি অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছাড়া থাকতে বাধ্য হন’, যোগ করেন তিনি।

কর্মকর্তা আরও জানান, বেশির ভাগ হজযাত্রী তাপের কারণে মৃত্যুবরণ করেন, কারণ তাদের ‘আশ্রয় নেওয়ার জায়গা ছিল না।’


কারামুক্ত হলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা

আপডেটেড ১১ মে, ২০২৬ ১২:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর অবশেষে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লংপ্রেম সেন্ট্রাল কারাগার থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন। এ সময় কারাগারের প্রধান ফটকে পরিবারের সদস্য, ফিউ থাই পার্টির কর্মী এবং তাঁর অনুগত ‘রেড শার্ট’ সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় থাকসিনকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। সমর্থকদের ভালোবাসার জবাবে তিনি হাত জোড় করে অভিবাদন জানান এবং জাতীয় সংগীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি মার্সিডিজ-মেবাখ গাড়িতে করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে কারাগার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

থাইল্যান্ডের সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ প্যারোল সুবিধার আওতায় যে ৮৫৯ জন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে থাকসিন অন্যতম। তবে তাঁর এই মুক্তি পুরোপুরি শর্তহীন নয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে। এছাড়াও তিন দিনের মধ্যে প্রবেশন অফিসে রিপোর্ট করা এবং প্যারোল চলাকালীন প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে ১৫ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলেন, তবে আদালত দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই কারামুক্তি থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ৩১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবাননে ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) এই বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা ২৫৮৬ জন ছাড়িয়েছে। হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন সিভিল ডিফেন্স সদস্যও রয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরেক দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৪ ও ১৫ মে বৈঠকটি হবে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটি দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় এবং পরে ১৭ মে পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যে বহুবার তা লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।

এনএনএ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, টাইর জেলার তাওরা শহরে পৃথক এক হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক কিশোরীকে উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।

এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মারজাইউন, হাসবাইয়া, বিনত জবেইল, নাবাতিয়াহ, সাইদন ও জেজিন এলাকায় একাধিক ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনী। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায় ইসারায়েল। এরপর ২ মার্চ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের দুই মাস পার হলেও এখনো কোনো যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন এবং তেহরান। সর্বশেষ তথ্য মতে, তেহরানের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রশমনে সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেন, একটি শান্তি চুক্তি খুবই সম্ভব। তবে তার মতে, দুই সরকারের সরাসরি বিরোধ নয় বরং হিজবুল্লাহই এখন প্রধান বাধা।


সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতে বন্ধ লিবিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লিবিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার জাওয়িয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শোধনাগারটির চারপাশে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাতের শুরু হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়।

ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া শোধনাগার। দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের। এটি দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনকারী শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।

ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) এবং জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি জানিয়েছে, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কার্যক্রম স্থগিত করে তেল কমপ্লেক্স ও বন্দর এলাকা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে এনওসি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘শুক্রবার ভোরে তেল কমপ্লেক্সের চারপাশে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সেখানে বিপৎসংকেত (অ্যালার্ম সাইরেন) বাজানো হয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংঘর্ষ চলাকালে তেল কমপ্লেক্সের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ভারী অস্ত্রের গোলা এসে পড়ে।’ তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এতে বলা হয়, ‘সংঘর্ষ তীব্র হয়ে শোধনাগারসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাটি এখন ভারী গোলাবর্ষণের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।’

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাওয়িয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে একটি ‘বড় ধরনের অভিযান’ শুরু করেছে। এ সময় সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

জাওয়িয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘চিহ্নিত অপরাধীদের গোপন আস্তানা’ লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অপরাধী হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের মতো ‘গুরুতর অপরাধের’ সঙ্গে জড়িত।

আল-জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, শোধনাগারের ভেতর বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি চলছে এবং বেশ কিছু গাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোধনাগারের ভেতরে গোলা পড়ার পর সেখানে সাইরেনের শব্দ শোনা যায়।

জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় লিবীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করেছে তারা।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় সহিংসতা লেগেই আছে। বর্তমানে দেশটি দুই ভাগে বিভক্ত। ত্রিপোলিকেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী সরকার (জিএনইউ) পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দ্বিবাহ। অন্যদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছেন সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন সরকার, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।

ঠিক কী কারণে এই লড়াই শুরু হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান শুরু হওয়ার পরই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।


ন্যাটোর সমালোচনা করলেন পুতিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত বিজয় দিবস প্যারেডে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী স্মরণে এই প্যারেডের আয়োজন করা হয়। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তার কারণে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও কঠোর গোপনীয়তায় এই বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম মস্কোর বিজয় দিবসের প্যারেডে কোনো সাঁজোয়া যান, ভারী ট্যাংক কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি। রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আয়োজন সীমিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সম্মুখ সমরে রুশ সেনাদের ব্যস্ত থাকাকে ভারী অস্ত্র প্রদর্শন না করার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ দিন মস্কোজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। রুশ এমপি ইয়েভজেনি পপভ বলেন, ‘আমাদের ট্যাংকগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত। রেড স্কয়ারের চেয়ে সেগুলোর প্রয়োজন ফ্রন্টলাইনে বেশি।’

শত শত সেনাসদস্য ও অল্প কয়েকজন বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া ইউক্রেনে একটি ‘ন্যায়সংগত’ যুদ্ধ লড়ছে। ইউক্রেনকে একটি আগ্রাসী শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনকে ন্যাটোর পুরো সামরিক জোট অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মদদ জোগাচ্ছে। তবে তারা যতই রণকৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ এ দেশের মানুষই নির্ধারণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজয়ীদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের বর্তমান বীর সেনারা আজ বিশেষ সামরিক অভিযানে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বেলারুশের নেতা আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিওয়েভ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র প্রতিনিধি রবার্ট ফুকো।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। গত বছরের আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ ২৭ জন নেতা অংশ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এই প্যারেডকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের (৯ থেকে ১১ মে) একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার বন্দি বিনিময় হবে।

কিন্তু প্যারেড শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য মস্কোর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। ইউক্রেনও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।


পারস্য উপসাগরে ফের সংঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পারস্য উপসাগরে সাময়িকভাবে সংঘর্ষ থেমে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার ইরানি জাহাজে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক সামরিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি ইরানের তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপের’ জবাবে ইরানি নৌবাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।

ওই সূত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানি জাহাজে মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সামরিক সূত্রটি জানায়, ‘কিছু সময় গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পর বর্তমানে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আপাতত সংঘর্ষ বন্ধ আছে এবং অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।’

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে কিংবা ইরানি জাহাজে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে আগের মতোই কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়া হবে।

ইরানি সূত্রের ভাষ্য, ‘এ কারণে ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক তেলের বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন অঞ্চলটি আগেই একাধিক নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত।

সিআইএ রিপোর্টে উঠে এলো নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালীতে সামরিক তৎপরতার মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

সিআইএর এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলেও ইরান অন্তত চার মাস বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট ছাড়াই টিকে থাকতে সক্ষম। রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর ও জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ বাড়লেও দেশটির অর্থনীতি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে নেই। ফলে তেহরানের ওপর দ্রুত চাপ সৃষ্টি করে কূটনৈতিক ছাড় আদায়ের কৌশল ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই বিশ্লেষণকে আংশিক বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। তার মতে, চলমান অবরোধ ইতোমধ্যে ইরানের বাণিজ্য, রাজস্ব ও আর্থিক কাঠামোয় গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে আবারও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানি বাহিনী ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া ইরান-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি যুদ্ধবিমান জাহাজ দুটির ধোঁয়া নির্গমন অংশে আঘাত করলে সেগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। এরপর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হতো।

সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ওপরে উঠেছে। যদিও সাপ্তাহিক হিসাবে দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে, তবুও বাজারে অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগে রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

এদিকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ নেয়।’ তার এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার আস্থাহীনতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনীকে শাহেদ ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম ও কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান এই সংঘাত দ্রুত নিরসন না হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স


পদত্যাগের চাপে কিয়ার স্টারমার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইংল্যান্ডে কাউন্সিল এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ২০-এর বেশি এমপি প্রধানমন্ত্রীকে তার পদত্যাগের সময়সীমা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্টারমার এখনও দৃঢ়—তিনি পদত্যাগ করবেন না। তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বার্তা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্টে এমন ভরাডুবিকে লেবার পার্টির জন্য অশনি সঙ্কেত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিবিসি লিখেছে, ওয়েলসের পার্লামেন্টে ঐতিহাসিক পরাজয়ের দেখা পেয়েছে স্টারমারের দল। ২৭ বছর পর ক্ষমতা হারিয়েছে তারা।

এবারের ভোটের ফলে ওয়েলসের স্বাধীনতাপন্থি মধ্য-বাম প্লাইড কামরি সেখানে সর্ববৃহৎ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, ৯৬ আসনের পার্লামেন্টে তারা জিতেছে ৪৩ আসন। এক ধাক্কায় ৩৪ আসন নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে জনতুষ্টিবাদী ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে। লেবার ৯টি, কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীরা ৭টি আসনে জিতেছে। লেবার ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পেয়েছে যথাক্রমে ২টি ও ১টি।

স্কটল্যান্ডে টানা পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি। আগের বারের চেয়ে ছয়টি কমে এবার তাদের আসন সংখ্যা ৫৮। ১৭টি আসন নিয়ে চমক দেখিয়েছে রিফর্ম ইউকে। স্কটিশ গ্রিন ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদেরও আসন বেড়েছে। কমেছে লেবার আর কনজারভেটিভদের।

ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলের মধ্যে ১৩১টির ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এতে রিফর্ম ইউকের হাতে লেবাররা পুরোপুরি ধরাশায়ী হয়েছে। আগের বারের চেয়ে এক হাজার ৪৪২টি বেড়ে তাদের কাউন্সিলর সংখ্যা হয়েছে এক হাজার ৪৪৪। লেবার হারিয়েছে এক হাজার ৪০৬ কাউন্সিলর, তাদের হাতে আছে মাত্র ৯৯৭টি।

৫৫৭ কাউন্সিলর খুইয়ে কনজারভেটিভদের অবস্থান চতুর্থ; তাদের টপকে তৃতীয় হওয়া লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি গ্রিন এবং স্বতন্ত্ররাও এবার বেশ ভালো ফল করেছে। লেবার পার্টির উপপ্রধান লুসি পাওয়েল বিবিসিকে বলেছেন, নির্বাচনে এ ভরাডুবি দায় নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, তবে তিনি পদত্যাগ করছেন না।

‘তিনি দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন। তিনি বলেছেন—আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে। লোকজন যা বলছে তিনি তা শুনতে পেয়েছেন। ভোটারদের বার্তা দল শুনতে পেয়েছে। আমাদের অনেক বেশি ভালো করতে হবে।

‘স্টারমার পরিষ্কার করেছেন—তিনি একটা দায়িত্বে রয়েছেন এবং তিনি তা চালিয়ে যেতে চান,’ বলেছেন পাওয়েল।


চীনা যুদ্ধবিমানের চাহিদা বাড়ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে অনেক দেশ চীনা যুদ্ধবিমানকে পশ্চিমা বা রুশ বিমানের সস্তা বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করত। কিন্তু সেই ধারণা বদলে যায়, যখন গত বছর পাকিস্তান চীনা প্রযুক্তির জে-১০সি বিমান ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম সেরা মাল্টিরোল ফাইটার জেট রাফালসহ ভারতের বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করে।

শুধু তাই নয় রাফাল বিমানকে ভূপাতিত করতে চীনের পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। যার পাল্লা বা রেঞ্জ এত দূর পর্যন্ত হতে পারে- এমন ধারণা ছিল না ভারতের। বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রযুক্তির এই সাফল্যের গল্প বদলে দিয়েছে প্রচলিত ধারণা। যা এখন আধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির কৌশলে একটি বড় বিজ্ঞাপন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে বাস্তব যুদ্ধের পারফরম্যান্স অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত মূলত চীনের জে-১০সি বিমানকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিতের মর্যাদা দিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা অস্ত্রের সুনাম পেয়েছে নতুন মাত্রা।

আর সেই ধারাবাহিকতায় আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে চীনা যুদ্ধবিমানের চাহিদা। গত শুক্রবার এশিয়া-প্যাসেফিকভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ডিপলোম্যাটের প্রতিবেদনে উঠে আসে চীনা যুদ্ধবিমানের বাড়ন্ত বিক্রির নানা তথ্য।

জে-১০ সিরিজের প্রস্তুতকারক সংস্থা চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন (সিএসি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের আয় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের বিক্রি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। যদিও সব নতুন অর্ডারই পাকিস্তানের সাফল্যের কারণে এসেছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়, তবে সময়ের এই কাকতালীয় মিল চাইলেও উপেক্ষা করা যায় না।

অবশ্য জে-১০সি যুদ্ধবিমানের প্রকৃত কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। ওই সংঘাতে বিমান হারানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত জানায়নি ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানের বড় ধরনের দাবিগুলোও বিভিন্নভাবে বিতর্কিত। তবুও, অস্ত্রবাজারে প্রমাণের চেয়ে ধারণা ও ভাবমূর্তিই অনেক সময় বড় প্রভাব ফেলে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) ২০২৫ সালের অস্ত্র কেনা-বেচার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২৫ সময়কালে প্রধান অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। এ সময় দেশটির সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বেড়েছে আগের তুলনায় ৬৬ শতাংশ।

আর পাকিস্তানের আমদানি করা অস্ত্রের ৮০ শতাংশই সরবরাহ করেছে চীন। শুধু ক্রেতা হিসেবে নয়, বরং চীনের অস্ত্র বাণিজ্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান সাফল্যের পেছনেও রয়েছে পাকিস্তান।

২০২৫ সালের জুনে রয়টার্স জানায়, ব্যয়, সামঞ্জস্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সহায়তার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে চীনের জে-১০ সিরিজের যুদ্ধবিমান কেনার কথা মূল্যায়ন করছে ইন্দোনেশিয়া। পরে অক্টোবরে এপি জানায়, ইন্দোনেশিয়া অন্তত ৪২টি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে, যার বাজেট ৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা।

রাফালকে অবশ্য খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে পছন্দনীয় বহুমুখী যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ২০২৫ সালে ভারত ফ্রান্সের সঙ্গে ২৬টি রাফাল-মেরিন বিমান কেনার চুক্তি সই করে। এগুলো ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে থাকা ৩৬টি রাফালের সঙ্গে যুক্ত হবে।

তবে অস্ত্র বাণিজ্যে সুনাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর রাফালের ক্ষতিই চীনের লাভে পরিণত হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি গোয়েন্দারা মনে করেন ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পর চীন রাফালের বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের উপরও এমন অভিযোগের কথা জানিয়েছে রয়টার্স। স্বভাবতই চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এই বিতর্ক ইঙ্গিত দেয়, আধুনিক আকাশযুদ্ধ এখন তথ্য যুদ্ধ বা ইনফরমেশন ওয়ারে রূপ নিচ্ছে।

সব জায়গায় জে-১০সি পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের জায়গা নিতে পারবে না। কেননা ক্রেতাদের এখনো উদ্বিগ্ন থাকতে হবে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ, সমন্বয় ও রাজনৈতিক নির্ভরতার ওপর। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসের পর চীন আরও জোর গলায় বলতে পারবে, তাদের যুদ্ধবিমান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বিমানের তুলনায় সস্তাই নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রেও পরীক্ষিত।

এ কারণেই সিএসির বিক্রি বৃদ্ধি শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির হিসাবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে জে-১০সির দেখানো সাফল্য, চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকে বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।


নাটকীয়তার অবসান, অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত কয়েক দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অবসান হলো অবশেষে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিরাগা ভেট্টরি কাঝাগামকে (টিভিকে) সমর্থন দিয়েছে থল তিরুমাভালাভানের দল ভিসিকে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন সুপারস্টার বিজয়।

২৯৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়ের টিভিকে ১০৮ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে কিছুটা দূরে ছিল। তবে গতকাল শনিবার দুপুরে ভিসিকে (২ আসন) এবং আইইউএমএল (২ আসন) নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ায় বিজয়ের জোটের আসন সংখ্যা এখন ১২০-এ পৌঁছেছে।

রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে পাঠানো চিঠিতে ভিসিকে জানিয়েছে, তামিলনাড়ুতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করার স্বার্থেই তারা বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছে। এর আগে কংগ্রেসের পাঁচজন এবং বাম দলগুলোর চারজন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিয়েছিলেন।

ডিএমকে-এআইএডিএমকে যুগের অবসান

বিজয় ও তার দল টিভিকের এই জয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করল। গত ৬২ বছর ধরে রাজ্যটির ক্ষমতায় পর্যায়ক্রমে ছিল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে। মাত্র দুই বছর আগে দল গঠন করে বিজয় সেই দীর্ঘ আধিপত্য ভেঙে দিলেন। এবারের নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়েছে।

তামিলনাড়ুর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন তার মিত্র দলগুলোর (ভিসিকে ও বাম দল) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে চলমান রাজনৈতিক সংকট এড়াতেই তারা বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যোগাযোগ না করেই ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজয়কে সমর্থন দেওয়া ‘পেছন থেকে ছুরি মারার’ শামিল।

পর্দার আড়ালের নাটক

গত বুধবার থেকেই সরকার গঠনের দাবি নিয়ে কয়েক দফায় রাজভবনে গিয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপাল আর এন রবি ১১৮ জন বিধায়কের সই করা শারীরিক চিঠির দাবিতে অনড় ছিলেন। শুক্রবার রাতে এএমএমকের এক বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত আজ দুপুরে ভিসিকে প্রধান তিরুমাভালাভান সরাসরি বিজয়ের হাতে সমর্থনপত্র তুলে দেওয়ায় সব বাধা দূর হলো।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন জোসেফ বিজয়। এর মাধ্যমেই দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।


এইচআইভি সংক্রমণে বিপর্যস্ত পাকিস্তান: ১৫ বছরে সংক্রমণ বেড়েছে ২০০ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে পাকিস্তানেই এই ভাইরাস সবথেকে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। গত ১৫ বছরে দেশটিতে নতুন সংক্রমণের হার প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চরম ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। ২০১০ সালে যেখানে বার্ষিক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজারে। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ঘাটতি এবং সুরক্ষা কৌশলগুলোর ব্যর্থতাকেই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্বাস্থ্যবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পেশ করা এক প্রতিবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। দেশটিতে এইচআইভি চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত ৮৪ হাজার রোগীর মধ্যে অন্তত ২০ হাজার জন বর্তমানে ‘নিখোঁজ’ বা চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছেন। জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) শুরু করার পর তাঁরা আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। ফলে তাঁরা বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটিতে প্রকৃতপক্ষে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার।

সংক্রমণের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক বা মাদক সেবনের সিরিঞ্জ নয়, বরং অপচিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে গণহারে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অনিরাপদ ইনজেকশন, জীবাণুমুক্ত না করা রক্ত সঞ্চালন এবং ভুয়া চিকিৎসকদের অসতর্কতার ফলে নিরপরাধ গৃহিণী ও শিশুরা এই মরণব্যাধির শিকার হচ্ছে। সংক্রমণের সবথেকে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে লারকানা, তৌনসা ও হায়দরাবাদ এলাকায়, যেখানে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের ৮০ শতাংশের বেশি শিশু। ২০১০ সালে শিশুদের মধ্যে নতুন সংক্রমণ ছিল ৫৩০ জন, যা বর্তমানে বেড়ে বার্ষিক ১ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতির এই দ্রুত অবনতির পেছনে সরকারি নজরদারির অভাব এবং চরম তহবিল সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। বাজারে এখনো নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ সরাবরাহ হচ্ছে এবং ব্লাড ব্যাংকগুলোর ওপরও প্রশাসনের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নেই। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পাকিস্তানের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এখন স্থবির হওয়ার পথে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক সহায়তা কমানোর নীতির প্রভাবে দেশটির চিকিৎসা ও সচেতনতা কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। একই সাথে স্থানীয় পর্যায়ে বিশাল অংকের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ এই স্বাস্থ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দু অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিজেপি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় ১২টা ৩০) দিকে হয়েছে এই শপথ অনুষ্ঠান।

গত ৪ মে রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষিত হয়েছে। ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবে তা নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সেই প্রশ্নই বার বার ধেয়ে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বার বারই বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, কোনও বাঙালি এবং বাংলামাধ্যমে পড়াশোনা করা নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে।

বিজেপি যে ক্ষমতায় এলে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা এবং জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। গতকাল শুক্রবার বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, “পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।”

শুভেন্দুর পাশাপাশি শপথ নিয়েছেন আরও ৫ জন। তারা হলেন—দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দুর পর শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। তার পর অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।


দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তীব্র তাপ প্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে তাপজনিত জটিলতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতেও হিটস্ট্রোক ও অতিরিক্ত গরমে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চরম গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল বর্ষা-পূর্ব বৃষ্টি এবং এল নিনো পরিস্থিতির কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উচ্চচাপ বলয়ের কারণে গরম বাতাস ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মেঘ তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গুজরাটে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের আকোলা শহরে ৪৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

পাকিস্তানের করাচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নাগরিকদের দিনের বেলায় বাইরে না বের হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেশে ২৪ দিন তাপপ্রবাহ ছিল, যা গত ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এখন আর সাময়িক আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; এটি ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত গরমে কাজের সময় কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন ও তীব্র হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা, নগর পরিকল্পনা, শ্রমিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও তাপসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।


বাংলাদেশে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে চীন: চীনা রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে চীন। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেছেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং প্রথমবারের মতো দু’দেশের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে চীন।

সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় বেইজিং।

দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন ইয়াও ওয়েন জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং বছর শেষে এ সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের কর্মমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকতে চায়। বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সুশাসনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।

রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী হবে।


শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন তুরস্কে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্ক প্রথমবারের মতো তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘ইয়িলদিরিমহান’ প্রদর্শন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গায়ে একদিকে রয়েছে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম, অন্যদিকে খোদাই করা হয়েছে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক।

ইস্তাম্বুলে ৫ মে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সাহা এক্সপোর প্রথম দিনেই এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শনের জন্য আনা হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ৯ মে পর্যন্ত। তুর্কি ভাষায় ‘ইয়িলদিরিম’ শব্দের অর্থ ‘বজ্র’ এবং ‘ইয়িলদিরিমহান’-এর অর্থ ‘বজ্রের শাসক’।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানিয়েছেন, এটি দেশটির প্রথম তরল জ্বালানি-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যাতে হাইপারসনিক প্রযুক্তির বৈশিষ্ট রয়েছে। তার দাবি, এটিই তুরস্কের তৈরি সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রদর্শনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়িলদিরিমহানের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির কারণে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

গত বছরের জুলাইয়ে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা শিল্প মেলায় তুরস্ক ‘টাইফুন ব্লক-৪’ নামে ১০ মিটার দীর্ঘ ও সাত হাজার ২০০ কেজি ওজনের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করে। এটিকে দেশটির সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকেটসানের তথ্যমতে, টাইফুন সিরিজের অন্যান্য সংস্করণের ন্যূনতম পাল্লা ২৮০ কিলোমিটার। তবে ধারণা করা হচ্ছে, টাইফুন ব্লক-৪ এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।

এছাড়া রকেটসানের তৈরি ‘জাংক’ নামের আরেকটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি অনুযায়ী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তুরস্কও এসব চুক্তির কয়েকটিতে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা এড়াতে অনেক সময় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা প্রকাশ করা হয় না।

আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম এমন ধরনের অস্ত্র, যা অত্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্রেই একাধিক ওয়ারহেড বহন করা যায়, যা ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।

বর্তমানে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ কয়েকটি দেশ এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, উত্তর কোরিয়া, ইসরায়েল ও ইরানের কাছেও সীমিত সংখ্যায় আইসিবিএম রয়েছে।


banner close