ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কাল্লাকুরচি জেলায় বিষাক্ত মদ্যপানে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
গতকাল বুধবার তামিলনাড়ুর কাল্লাকুরচি জেলায় মদ পানে অসুস্থ হয়ে পড়েন লোকজন। এ ঘটনায় অসুস্থ ব্যক্তিরা একের পর এক মারা যেতে থাকেন। এর জেরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তামিলনাড়ুর রাজ্য সরকার। এতো মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ও গাফিলতির অভিযোগে কাল্লাকুরচির জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে জেলার পুলিশ সুপারকে। এছাড়াও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাও সাসপেন্ড হয়েছেন। পাশাপাশি অবৈধ মদের দোকানে অভিযান চালিয়ে এর মালিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কয়েকশো লিটার মদ জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন সরকার। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেন, বিষাক্ত মদ খেয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি মর্মাহত ও দুঃখিত। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না; শক্ত হাতে তা দমন করা হবে।
দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি বা লিকার পলিসি মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির একটি আদালত সিবিআইয়ের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দিয়েছে।
কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া ছাড়াও তেলেঙ্গানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা কে. কবিতাসহ আরও ২১ জনকে এই মামলায় ক্লিন চিট দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রায়াল কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তাদের দাবি, তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এই রায়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানি চলাকালীন বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই এবং মনীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধেও প্রাথমিক কোনো মামলা গঠন করার মতো উপাদান পাওয়া যায়নি।
বিচারক জানান, সিবিআইয়ের দাখিল করা বিশাল চার্জশিটে অনেক অসংগতি ও ত্রুটি রয়েছে, যা কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। আদালতের মতে, এই অভিযোগগুলো আইনের শাসনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কেজরিওয়ালকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এছাড়া মনীশ সিসোদিয়ার কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার হয়নি বা তার সম্পৃক্ততার কোনো দালিলিক প্রমাণও নথিতে নেই।
আদালতের এই রায়ের পর রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বাইরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, আদালত আজ প্রমাণ করে দিয়েছে তিনি এবং মনীশ সিসোদিয়া দুজনেই সৎ এবং আম আদমি পার্টি একটি ‘কট্টর ইমানদার’ দল।
কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, যা আজ ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে কে. কবিতাও এই জয়কে সত্যের জয় হিসেবে বর্ণনা করে টুইট করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই অব্যাহতি আপ নেতাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানে বিপুল সংখ্যক তালেবান যোদ্ধা নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের ঘটনাটি ঘটে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের হামলায় ২২৮ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে সামরিক মুখপাত্র জানান, আফগানিস্তানে চালানো এই হামলায় তালেবান যোদ্ধাদের ৭৪টি চৌকি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১৮টি চৌকি বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও ২৭ জন ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান নিয়ে আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পাকিস্তানের হামলায় ৮ জন আফগান যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় চলমান এই উত্তেজনার ফলে পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ থমথমে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আফগানিস্তানকে বিশ্বের সকল সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিহিত করে দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যেই এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন যে, তালেবান সরকার বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপকে মদত দিয়ে পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। গত রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই অভিযানে অন্তত ৮০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করলেও কাবুল এই সংখ্যা ১৮ বলে জানিয়েছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনীও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার মাত্র দুই জন সেনা নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে খাজা আসিফ বলেন, "তালেবান সরকার পৃথিবীর যাবতীয় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন দেয়। ভারতের বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানে নাশকতা তৈরি করছে তারা। আফগানিস্তান প্রতিবেশী হওয়ায় দেশটিকে খুব ভালোমতো চেনে ইসলামাবাদ। এটি এখন পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে খোলা যুদ্ধ।" এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ইউরোপভিত্তিক একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে এই খবরটি সামনে এসেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক তথ্যে জানা যায়, কাবুলে পরিচালিত পাকিস্তানের বিশেষ সামরিক অভিযানে আখুন্দজাদাসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবানের পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকে আখুন্দজাদা দল ও প্রশাসনের প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে পুরো শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় টিটিপি দমনের লক্ষ্যে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালায়।
ওই অভিযানে আশি জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জেরে তালেবান প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সেনাচৌকি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় আফগান বাহিনী। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক কঠোর বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, "পাকিস্তানের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং এখন থেকে কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।" তালেবান প্রধানের মৃত্যুর এই সংবাদ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নয়ন’ এবং ‘উত্তেজনা কমানোর উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্ত্রণালয়ের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। ইসহাক দার বর্তমানে সরকারি সফরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে। তার ভাষ্য, অভিযানে তালেবানের ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও অস্ত্রবাহী সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, গত বুধবার ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
সূত্রঃ বিবিসি।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে বাড়তে থাকা সংঘর্ষ ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি দুই দেশকে উত্তেজনা প্রশমিত করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আন্তোনিও গুতেরেস সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন।
গুতেরেসের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কয়েক দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালিয়ে সেনা হত্যা ও কয়েকজনকে অপহরণের ঘটনার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদ ডিপোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে পারস্পরিক বিরোধ সংলাপ ও সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মাধ্যমে মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বার্তা দেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
রমজান মাসের সংযম ও ইসলামের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দুই দেশকে উত্তেজনা না বাড়ানোর পরামর্শ দেন। একই পোস্টে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় ইরান পূর্ণ সমর্থন দেবে।
আরাগচি বলেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ এগিয়ে নিতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করতে এবং সহযোগিতা বাড়াতে তেহরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগানিস্তান। আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, এতে কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৩৩ আফগান সেনা নিহত এবং প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আফগান সেনাবাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংসের কথাও বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি।
তিনি লেখেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছেন পিএএফ। অভিযানের আওতায় রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের একটি সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। সেই ঘোষণার অংশ হিসেবেই শুরু হয়েছে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে...পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”
এই বার্তা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান বিমান হামলা শুরু করে। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন গজব-লিল হক’।
আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া আরেক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে পিএএফ ও স্থলবাহিনী আফগানিস্তানে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহারের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
তার দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
মোশাররফ জাইদি আরও জানান, পিএএফের বোমাবর্ষণে আফগান বাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, দু’টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টির বেশি ট্যাংক এবং বিপুলসংখ্যক আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। সংক্ষিপ্ত সেই অভিযানের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর জানায়, তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে এবং নিহতরা সবাই টিটিপি সদস্য।
তবে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার দাবি করে, জঙ্গি ঘাঁটি নয়, বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে। তারা সতর্কবার্তায় বলে, “এর বদলা আমরা নেবো।”
গত বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলোতে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন সেনা নিহত এবং কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এক্সে লেখেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”
সীমান্তে ওই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’।
সূত্র : ডন, এনডিটিভি
পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা। এই আলোচনাকে সংঘাতরোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট।
২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বা পারমাণবিক স্থাপনার ওপর প্রাথমিক হামলার কথা বিবেচনা করছিলেন, যাতে দেশটির নেতাদের ওপর চাপ বাড়ানো যায়।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা ব্যর্থ হলে, ইরানের প্রেসিডেন্ট, এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি অভিযান শুরুর নির্দেশও দিতে পারেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনও সতর্ক করেছেন যে ইরানের ওপর হামলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ও এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে জেনারেল ড্যান কেইন বিশ্বাস করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সহজেই জেতা সম্ভব।
এদিকে, ইরান হুমকি দিয়েছে যে যেকোনো হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরানের ওপর হামলা হলে তা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং তারা সতর্ক করেছে যে কেবলমাত্র বিমানশক্তি দিয়ে দেশটির নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কোনো চুক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন, যাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তার সমর্থপুষ্টদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকে।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি এবং ওই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউস সফর করা নেতানিয়াহু ইরান সরকারকে পতনের লক্ষ্যে একটি অভিযানের পক্ষে চাপ বাড়াতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মালিক। ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলেও ধারণা করা হয়, যদিও তারা এ বিষয়ে স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করে না।
এদিকে, আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন ও ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন ফের কেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
এই মাসের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফা আলোচনার মতো, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরীসহ হাজারও সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বহরে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি।
কিন্তু তারপর থেকে, ট্রাম্পের মনোযোগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে চলে যায়, যা পশ্চিমাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে।
অন্যদিকে, ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যদিও দেশটি একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র যারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব এমন স্তরের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
তবে ট্রাম্প কোন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানে এরইমধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা ও এই অঞ্চলে যারা তাদের সমর্থনপুষ্ট, তাদেরকে সমর্থন বন্ধ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই জোটকে তেহরান ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বলে উল্লেখ করে, যার মধ্যে রয়েছে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও ইয়েমেনের হুতিরা।
ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন অনুসারীর মাইলফলক ছুঁয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন অনুসারি অর্জন করা বিশ্বের প্রথম রাজনীতিক ও প্রথম বিশ্বনেতা হলেন মোদি।
২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। গত এক দশকে তার অ্যাকাউন্টটি বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ও আলোচিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
বিশ্বের প্রধান নেতাদের মধ্যে এখন ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ অনুসারী মোদির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার চেয়েও মোদির অনুসারীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিশ্বের পরবর্তী পাঁচজন বড় নেতার মোট অনুসারী যোগ করলেও তা নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত অনুসারীর সংখ্যাকে ছুঁতে পারবে না।
ইনস্টাগ্রামে বিশ্বনেতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অনুসারী ৪৩ দশমিক ২ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ৩২ লাখ।
১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫০ লাখ অনুসারী নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। এরপর চতুর্থ স্থানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, তার অনুসারীর সংখ্যা ১৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪৪ লাখ। ১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন আ ১ কোটি ১৬ লাখ অনুসারী নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। আর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন।
ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার দিকে থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকদের চেয়েও অনেক এগিয়ে আছেন মোদী। ১৬ দশমিক ১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৬১ লাখ অনুসারী নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আর তৃতীয় স্থানে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১২.৬ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২৬ লাখ।
আধুনিক যুগের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এমন বিষয়ে বিল গেটসের নাম আশায় দাতব্য সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেছেন বিল গেটস। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই নারীরা এপস্টেইনের মাধ্যমে কিংবা তার অপহরণের শিকার ছিলেন না।
এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে এক টাউন হল বৈঠকে নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বিল গেটস।
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি যেসব নথি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়-যৌন অপরাধে কারাদণ্ড পাওয়ার পরও এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের একাধিক বৈঠক হয়েছিল। এসব বৈঠক মূলত গেটসের দাতব্য কার্যক্রমকে ঘিরেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন মতে, টাউন হল বৈঠকে গেটস স্বীকার করেছেন যে এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল তার বড় ভুল। এমনকি এপস্টেইনের সঙ্গে কিছু বৈঠকে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের যুক্ত করাও ভুল ছিল বলে তিনি জানান।
পত্রিকাটি একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাতে গেটসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, তিনি বলেছেন, ‘আমি যে ভুল করেছি তার কারণে অন্য যেসব মানুষ এতে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই।’
ফাউন্ডেশনের কর্মীদের উদ্দেশে গেটস বলেন, ‘আমি কোনো অবৈধ কাজ করিনি। আমি কোনো অবৈধ কিছু দেখিনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, স্পষ্ট করে বলছি, ‘আমি কখনোই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সময় কাটাইনি এমনকি এপস্টেইনের আশপাশে থাকা নারীদের সঙ্গেও নয়।’
প্রকাশিত নথির মধ্যে এমন কিছু ছবিও রয়েছে যেখানে গেটসকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে দেখা যায় যদিও ছবিগুলোতে মেয়েদের মুখ আড়াল করা ছিল। বিল গেটস তার কর্মীদের জানান, ছবিগুলোতে থাকা নারীরা এপস্টেইনের সহকারী ছিলেন এবং বৈঠকের পর এপস্টেইনের অনুরোধে তিনি সেসব ছবির জন্য পোজ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধনকুবেরের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত এই পাচারকারীর মামলার ৩০ লক্ষাধিক নথি দেশটির আদালত প্রকাশ করায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন একের পর ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্তের মুখে পড়েছেন মার্কিন রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী দম্পতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
এপস্টেইন পরিচালিত প্রভাববলয় ও অপরাধের নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হতে চলেছেন ক্লিনটন দম্পতি। সেখানে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হবে। সাবেক এই প্রভাবশালী দুই নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ক্লিনটন দম্পতি বসবাস করেন।
মার্কিন কংগ্রেসনাল তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বাইরে শপথপূর্বক দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণই কংগ্রেসনাল ডিপজিশন। সাক্ষীরা—এক্ষেত্রে ক্লিনটন দম্পতি—শপথ নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কমিটির আইনজীবী এবং তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এই সেশনটি রেকর্ড এবং প্রতিলিপি করা হবে। জেনে বুঝে মিথ্যা বিবৃতি দিলে আইনি পরিণতির সম্ভাবনাও আছে।
ক্লিনটন দম্পতি শুরুতে সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে হাউস যখন তাদের বিরুদ্ধে 'কন্টেম্পট' বা অবমাননার জন্য দ্বিপাক্ষিক ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দেয় (যা ফৌজদারি অভিযোগের দিকে নিয়ে যেতে পারত), তখন তারা শেষ পর্যন্ত হাজির হতে রাজি হন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, কেউ ক্লিনটন দম্পতির কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না। আমাদের কাছে শুধু অনেকগুলো প্রশ্ন আছে। সেগুলোর উত্তর দরকার।
সাক্ষ্যগ্রহণ কখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে
সাক্ষ্যগ্রহণ ক্যাপিটল হিলের পরিবর্তে চ্যাপাকুয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বাড়ির কাছে অনুষ্ঠিত হবে। হিলারি ক্লিনটন স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেবেন এবং এর পর শুক্রবার বিল ক্লিনটন সাক্ষ্য দেবেন। উভয় অধিবেশনই রুদ্ধদ্বার হবে, তবে সেগুলো চিত্রায়িত এবং প্রতিলিপি করা হবে।
সাধারণত এ ধরনের সাক্ষ্যগ্রহণ স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শুরু হয়, তবে কমিটি নির্দিষ্ট সময় জনসমক্ষে নিশ্চিত করেনি। এর আগে তাদের সকাল ১০টায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাক্ষ্য দেওয়ার এই সমঝোতা ক্লিনটন দম্পতি এবং হাউস ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমারের মধ্যে দীর্ঘ কয়েকমাসের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর এসেছে।
বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাওয়া হয়েছিল এবং পরে ডিসেম্বরে পুনঃনির্ধারিত হয়েছিল। তিনি একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অজুহাতে হাজির হতে অস্বীকার করেন। পরে গত ১৩ জানুয়ারি একটি নতুন সমন জারি করা হলেও তিনি উপস্থিত হননি।
হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে গত ৯ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল এবং পরে ১৮ ডিসেম্বরে পিছিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সমনে গত ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও তিনিও উপস্থিত হননি।
ক্লিনটন দম্পতি যুক্তি দিয়েছিলেন যে সমনগুলো আইনিভাবে অকার্যকর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা করা হয়েছে।
তবে চলতি মাসের শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি কেবল সাক্ষ্য দিতে রাজিই হননি, বরং দাবি করেছেন যে এটি জনসমক্ষে হওয়া উচিত। তাদের যুক্তি ছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে যে তাদের লুকানোর কিছু নেই এবং রিপাবলিকানদের দ্বারা তাদের সাক্ষ্যের রাজনৈতিক অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।
অতীতের প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি প্রায় তিন দশক আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পউলা জোনসের যৌন হয়রানির মামলায় ছয় ঘণ্টার ভিডিও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের সেই শপথ নেওয়া সাক্ষ্যে ক্লিনটনকে মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি লিউইনস্কির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন, যা পরে মিথ্যা সাক্ষ্য বা ‘পারজুরি’র অভিযোগে তাকে অভিশংসিত করার দিকে নেওয়া হয়।
হাউস ওভারসাইট কমিটি কী তদন্ত করছে
বর্তমানে কমিটি প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টেইন এবং তার সহযোগীদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। এপস্টেইন ছিলেন একজন মার্কিন অর্থদাতা যিনি তার বিশাল সম্পদ এবং উচ্চপদস্থ সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করে কয়েক ডজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে জড়িত একটি দীর্ঘমেয়াদি সেক্স ট্রাফিকিং রিং পরিচালনা করেছিলেন।
চীন থেকে জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ইরান। এমন একসময়ে এই চুক্তির খবর এলো, যখন ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেশটির উপকূলের কাছে বড় আকারে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্রগুলো বলছে, চীনের তৈরি ‘সিএম-৩০২’ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। সুপারসনিক গতির এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিচু দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যায়। ফলে তা জাহাজে থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
দুজন অস্ত্রবিশেষজ্ঞের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে ইরানের হামলা করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি তা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্তত দুই বছর আগে চীন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনার আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গতবছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। এই ছয় ব্যক্তির মধ্যে তিনজন ইরান সরকারের কাছ থেকে ব্রিফিং পেয়েছেন। বাকি তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন জানান, গত গ্রীষ্মে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে ইরানের সামরিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। তাদের মধ্যে ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরায়েইও ছিলেন। তার এই সফরের খবর এর আগে আর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ইরান গবেষক এবং সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, ‘ইরান এ অঞ্চলে জাহাজে আক্রমণ করার জন্য সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।’
কতটি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সম্ভাব্য এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে বা ইরান কত অর্থ দিতে রাজি হয়েছে, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া বর্তমান এ অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে চীন শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির বিষয়ে সামনে অগ্রসর হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তি কাজে লাগানোর জন্য এখন উপর্যুক্ত সময়।’
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা এই সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা কিছু জানে না। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে জানতে এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সরাসরি কোনো কিছু বলেনি। তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো গতবারের মতো আমাদের কঠোর কিছু করতে হবে।’
হস্তান্তর করা হলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হবে চীন থেকে ইরানে আসা সবচেয়ে উন্নত সামরিক সরঞ্জামগুলোর অন্যতম। এই হস্তান্তর ২০০৬ সালে প্রথম আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির পর এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছিল, যা গত সেপ্টেম্বরে আবার কার্যকর করা হয়েছে।
সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি থেকে চীন ও ইরানের মধ্যকার গভীর সামরিক সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝা যায়, যখন ওই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার মার্কিন প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক আধিপত্য থাকা এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
চীন, ইরান ও রাশিয়া প্রতিবছর যৌথ নৌ মহড়ার আয়োজন করে। গত বছর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অভিযোগ ছিল, তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সরবরাহ করেছে। চীন সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে তারা অবগত নয় এবং বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার (ডুয়েল-ইউজ) করা যায়, এমন পণ্যের ক্ষেত্রে তারা কঠোর রপ্তানি বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।