পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সাত দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পাঞ্জাব সরকার এ ধারা জারি করেছে।
আজ শুক্রবার জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দ্য নিউজের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ভোটের পবিত্রতা রক্ষার জন্য পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দেশজুড়ে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর পাঞ্জাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে ২১ থেকে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকল ধরনের সমাবেশ, র্যালি, মিছিল, বিক্ষোভ, বৈঠক এই সময় নিষিদ্ধ। এ ছাড়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা হুমকির কারণে জনসমাগম হলে তা সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের চেয়ারম্যান সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানকে কারাগারে আটকে রেখে কিছুদিন আগে দেশটিতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কেউ-ই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বরং ভোটের আগে দলের প্রতীক কেড়ে নেওয়ায় ইমরান খানের দলীয় প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিযোগিতা করে ৯১টি আসনে জয় পান। তবে নানা মারপ্যাঁচে তারাও সরকার গঠন করতে পারেনি। পরে নওয়াজ শরিফ ও তার ভাই শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পিপিপি নেতা আসিফ আলী জারদারি ও বিলওয়াল ভুট্টোর বৈঠক ফলপ্রসূ হলে আরও কিছু শরিককে নিয়ে জোট সরকার গঠন করেন তারা। ওই জোটের সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট পদ পান আসিফ আলী জারদারি আর প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেন শাহবাজ শরিফ। তবে জেলখানায় থেকেও দেশজুড়ে প্রভাব রেখে চলেছেন অন্তরীণ নেতা ইমরান খান। একাধিক মামলায় জামিন পেলেও এখনো বেশ কয়েকটি মামলায় রায় পক্ষে না আসায় কারামুক্ত হতে পারেননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক একটি নথি প্রকাশ করেছেন, যেটিকে প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের লেখা সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিরকুট বলে অভিহিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) এই নথি প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।
কুখ্যাত এই অর্থ লগ্নিকারী ও যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের আগস্টে ম্যানহাটনের জেলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পরে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত নথি অনুসারে—এতে লেখা আছে, পৃথিবীকে ‘বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়।’
হাতে লেখা এই নোটটি এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট (একই কক্ষে থাকা বন্দি), খুনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন খুঁজে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই নোটটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টারটাগ্লিওনের মামলা তদারককারী মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস এটি প্রকাশ করেন।
বিচারক কারাস রায় দেন, নোটটি একটি ‘বিচার বিভাগীয় নথি’ হিসেবে গণ্য এবং এটি জনগণের দেখার অধিকার রয়েছে। কারণ, এটি টারটাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেওয়া হয়েছিল। টারটাগ্লিওন মাদক সংক্রান্ত খুনের ঘটনায় টানা চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
বিচারক এটিকে সিলমোহর করে রাখার কোনো আইনি কারণ খুঁজে পাননি। তবে তিনি এই নোটের সত্যতা নিশ্চিত করেননি কিংবা এটি কার কার হাত ঘুরে এসেছে (chain of custody) তাও মূল্যায়ন করেননি।
বরং নথিটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করেছেন। বিচারক তার রায়ে বলেন, ‘এমন কোনো পাল্টা বিবেচনা শনাক্ত করা যায়নি যা নোটটি সিলমোহর করে রাখাকে সমর্থন করে।’
হলুদ লিগ্যাল প্যাডে লেখা এই নোটটি টারটাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে জমা দিয়েছিলেন। টারটাগ্লিওন ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ম্যানহাটন জেলে এপস্টেইনের সেলমেট ছিলেন।
আদালতের নথিতে প্রকাশিত ছবির তথ্য অনুযায়ী, নোটটিতে লেখা আছে, ‘তারা আমার ব্যাপারে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি!!! যার ফলাফল হলো ১৫ বছর আগের এই অভিযোগগুলো। বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়। তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব!! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়!!’
এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে সেই মামলা বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তির কারণে তার স্বল্পমেয়াদী জেল হয়।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সংগ্রহ ও নির্যাতনের অভিযোগে যৌন পাচারের মামলা দেওয়া হয়। নোটটি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রথম সামনে আসে। তার কয়েকদিন আগেই এপস্টেইনকে তার ম্যানহাটন জেলের কক্ষে গলায় দাগসহ জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ সেটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছিল। টারটাগ্লিওনের জনসমক্ষে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, নোটটি তাদের কক্ষের একটি বইয়ের ভেতরে লুকানো ছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ২০১৯-এ এপস্টেইন একটি পৃথক ঘটনায় মারা যান, যা পরে আত্মহত্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়।
টারটাগ্লিওন গত বছর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই নোটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমসে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল তদন্তকারীরা এই নোটটি কখনও দেখেননি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথির মধ্যেও এটি ছিল না।
নথিটি উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো খারিজ করে দেন। তিনি এপস্টেইনের মৃত্যু এবং এই কথিত নোটটি নিয়ে জনসমক্ষে চলমান ব্যাপক আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন পর্যালোচনা করছে তেহরান। সবশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে। তবে দুই দেশের অবস্থান, দাবিদাওয়ার ভিন্নতা এবং আঞ্চলিক সমীকরণ এখনো চুক্তির পথে বড় বাধা।
চুক্তিতে রাজি না বলে তীব্র বোমাবর্ষণ হবে বলে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিজেই এখন চুক্তিতে আসতে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বায়ার এক লাইভ অনুষ্ঠানে জানান, ইরানের সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রেট বায়ার বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। আমি তাকে সময়সীমার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সব ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।’
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে ট্রাম্প তার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে হুমকিও দিয়েছেন। তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিতে আগের চেয়েও তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের সতর্ক অবস্থান
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবটি এখনো বিবেচনাধীন। পর্যালোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান তাদের অবস্থান জানাবে।
তবে ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি মার্কিন প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবিদাওয়ার তালিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইব্রাহিম রেজায়ি আরও বলেন, রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায়ের অপচেষ্টা করছে। ইরান কোনো ‘চাপের মুখে’ নতি স্বীকার করবে না। প্রয়োজনে পাল্টা আঘাতের জন্য দেশটির সেনারা প্রস্তুত আছেন।
অন্যদিকে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনে আলাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ বন্ধে ইরান প্রস্তুত। তবে ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ফোনে আলাপে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসও প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালেই ইরানকে লক্ষ্য করে দুবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পেছন থেকে ছুরি মারার শামিল।
সমঝোতা স্মারকে কী থাকছে
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা সব বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়ে এখন মূল দর–কষাকষি চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এই মেয়াদ হবে অন্তত ১২ বছর। তবে একটি সূত্র জানায়, এটি ১৫ বছর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের দাবিতে অটল ছিল।
সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে এমন একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যাতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিয়ম ভাঙলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বেড়ে যাবে। আর এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।
সমঝোতা স্মারকে ইরান অঙ্গীকার করবে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ–সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াবে না তারা। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যেন কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করে, এমন একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করছে।
ওই কর্মকর্তার মতে, ইরানকে কঠোর তদারকি ব্যবস্থার আওতায় থাকতেও রাজি হতে হবে। ফলে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যেকোনো সময় ইরানি স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবেন।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৭ মে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইব্রাহীম আল জারওয়ান।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য।
ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, জিলহজ মাসের চাঁদ আগামী ১৭ মে রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইউএই সময়) জন্ম নেবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ওইদিন সূর্যাস্তের প্রায় ৫৮ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে এবং দিগন্ত থেকে প্রায় ১০ ডিগ্রি উচ্চতায় অবস্থান করবে। ফলে অনুকূল আবহাওয়ায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে সোমবার ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। সে হিসাবে ২৬ মে মঙ্গলবার পবিত্র আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, এসব তারিখ বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ঈদের তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।
রাশিয়ার একতরফা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইউক্রেনে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ বোমার আঘাতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। একটি গাড়ি মেরামতের কারখানা এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনে এই বোমা আঘাত হানে। চলতি বছরে ওই শহরে এটি অন্যতম বড় হামলা।
আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, এই হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বে দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি ক্রামাতোরস্কে রুশ হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিপ্রো শহরে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন।
রাতের আঁধারে পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেরহি কোরেটস্কি জানান, হামলায় তাদের তিন কর্মী এবং দুজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
কোরেটস্কি বলেন, ‘আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এটি ছিল ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের একটি সমন্বিত হামলা।’ তিনি আরও জানান, এই হামলার কারণে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
‘নিষ্ঠুর ও অর্থহীন হামলা’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, একদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে অন্যদিকে দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানোটা রাশিয়ার ‘চরম নিষ্ঠুরতা’।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি লেখেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর ও অর্থহীন সন্ত্রাসী হামলা, যার কোনো সামরিক যৌক্তিকতা নেই। আমাদের শহর ও গ্রামে রুশদের এমন হামলা এক দিনের জন্যও থামে না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের স্মরণ এবং মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজ উপলক্ষে ৮ ও ৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল রাশিয়া। এর জবাবে ইউক্রেন বুধবার মধ্যরাত থেকে একটি উন্মুক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে রাশিয়াকে এতে সম্মতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
তবে মস্কোর কর্মকর্তারা ইউক্রেনের এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
এদিকে এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবীণ সেনাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনে লড়াই করা রুশ সেনাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা তাদের পূর্বপুরুষদের যোগ্য উত্তরসূরি এবং নির্ভরযোগ্যভাবে দেশ রক্ষা করছেন।’
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ১১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১৬৪টি ড্রোন ছুড়েছে। কিয়েভ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অড্রে ম্যাকআলপাইন জানান, রাশিয়ার মিসাইল হামলাগুলো ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন নিয়মিত ড্রোন ভূপাতিত করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা তাদের এখনো নেই। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চাচ্ছেন। কারণ, ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকাতে শুধু এই অস্ত্রগুলোই সক্ষম।’
ইউক্রেনের হামলায় নিহত ৭
২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করেছিল রাশিয়া। সেখানে মস্কোর নিয়োগ দেওয়া প্রধান সের্গেই আকসিওনভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, জাঙ্কয় শহরে ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার চুভাশ প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, সেখানে এক ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের প্রধান ওলেগ নিকোলায়েভ সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের কিরিশি শহরে ইউক্রেন হামলা চালায়। ওই অঞ্চলে রাশিয়ার অন্যতম বড় একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় বলে জানান গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো।
গভর্নর দ্রোজদেনকো বলেন, ‘শত্রুদের মূল লক্ষ্য ছিল কিনেফ তেল শোধনাগার।’ তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হননি বলে জানান তিনি।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্রিমিয়া ও রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের ৯৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে তিন দিন আগে শুরু করা বিতর্কিত নৌমিশন স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপের পর বুধবার ইরান জানিয়েছে, তারা কেবল একটি ‘ন্যায্য’ শান্তি চুক্তিই গ্রহণ করবে। ট্রাম্পের এই নৌঅভিযান মূলত যুদ্ধের মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধবিরতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল।
গত রোববার ঘোষিত ট্রাম্পের 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' ওই নৌপথে উল্লেখযোগ্য কোনো যান চলাচল শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো এটি হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নতুন করে হামলার ঢেউ উসকে দিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায়, একটি ফরাসি শিপিং কোম্পানি বুধবার জানিয়েছে যে, আগের দিন তাদের একটি কন্টেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়েছে এবং আহত ক্রু সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নৌঅভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনায় 'বিশাল অগ্রগতির' কথা উল্লেখ করেন, যদিও এর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, "আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি যে, যদিও অবরোধ পুরোপুরি বলবৎ থাকবে, তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা এবং স্বাক্ষর করা যায় কি না তা দেখার জন্য 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' (হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল) স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত করা হবে।"
ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প এই নৌ-অভিযান শুরু করেছিলেন। গত সপ্তাহে দেওয়া ইরানের ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং নৌ-চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হোক।
বুধবার চীন সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান একটি ‘ন্যায্য ও ব্যাপক সমঝোতার’ জন্য অপেক্ষা করছে। আরাকচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও জানান যে, তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং উত্তেজনা রোধে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইরান মূলত নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আলাদাভাবে নিজস্ব নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
মার্কিন নৌবাহিনীকে ব্যবহার করে প্রণালী খুলে দেওয়ার ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মিশন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো এটি ইরানের পক্ষ থেকে নতুন হামলার পথ খুলে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিধি বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালীর অপর প্রান্তে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করছে।
এই মিশন চলাকালীন ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বেশ কয়েকটি জাহাজে আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরীয় মালবাহী জাহাজ তাদের ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণের খবর দেয়। এছাড়া তেহরান বারবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে ফুজাইরার তেল শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়াম কেন্দ্রও রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী সোমবার দাবি করেছিল যে তারা বেশ কয়েকটি ছোট ইরানি বোট ধ্বংস করেছে।
আলোচনায় ঠিক কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে বা এই স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পুরো যুদ্ধজুড়ে ট্রাম্প যখনই তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন, তখনই কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইরানের সাথে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া যাবে না।
আরব সাগরে গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া একটি ভারতীয় জাহাজের পাঠানো বিপদ সংকেতে সাড়া দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। তারা খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আটকে পড়া নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তাদের উদ্ধারও করে এনেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এমভি গৌতম’ নামের জাহাজটি ওমান থেকে ভারতের পথে যাত্রাকালে গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে পড়ে সাগরের মাঝখানে আটকা পড়ে। মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চাইলে পাকিস্তান নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা অভিযান শুরু করে। জাহাজটিতে ছয়জন ভারতীয় ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক ছিলেন।
অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান নৌবাহিনী ‘পিএমএসএস কাশ্মীর’ নামের একটি জাহাজ পাঠায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। পাকিস্তানি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এমভি গৌতমের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও সহায়তা অভিযানে পাকিস্তান নৌবাহিনীকে সহায়তা করে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (পিএমএসএ)।
আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমস এই উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও টুইট করে প্রকাশ করেছে, যেখানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর নৌযানকে এমভি গৌতমের নাবিকদের সহায়তা করতে দেখা যায়।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তান জানায়, উত্তর আরব সাগরে পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর তাদের নৌবাহিনী ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার ও সরিয়ে নেয়। সে সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দ্রুত মানবিক অভিযানে পাকিস্তান নৌবাহিনী সফলভাবে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার ও সরিয়ে নেয়।
তাদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ছিলেন। জাহাজটি (এমভি গোল্ড অটাম) পাকিস্তানের উপকূল থেকে প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার) দূরে উত্তর আরব সাগরে অবস্থান করছিল।’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অন্তত চারজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) তিনজন জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত নিরাপত্তা কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
সহিংসতার প্রথম ঘটনায় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে জয় উদযাপনের সময় ৪৮ বছর বয়সী বিজেপি কর্মী যাদব বরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে নিউটাউনের বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মধু মণ্ডল নামে অপর এক বিজেপি কর্মী। অন্যদিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় নিখোঁজ তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয় এবং বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘটনায় নিহতের পরিবার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের দায়ী করে মামলা দায়ের করেছে।
রাজ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে। তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে তাদের শতাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বিজেপি দাবি করেছে, তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ছড়াচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু রাজধানী শহর থেকেই ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকেও আটক করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে এবং পরমাণু ইস্যুতে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য কাঠামো নির্ধারণে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই মনে করছে হোয়াইট হাউস। এই বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং আরও দুটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দুই পক্ষ কোনো সমঝোতার এতটা কাছাকাছি এসেছে।
চুক্তির অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ (এনরিচমেন্ট) স্থগিতাদেশে সম্মত হবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করে দেবে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ওপর উভয় পক্ষের আরোপিত সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হবে।
তবে এই স্মারকে উল্লেখ করা অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। ফলে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা কিংবা এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও মূল সমস্যার সমাধান হবে না। হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনো সন্দিহান যে, প্রাথমিক কোনো চুক্তিও আদৌ হবে কি না।
এর আগেও একাধিক দফা আলোচনায় এবং চলমান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে ঘোষিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মূলত আলোচনায় অগ্রগতির কারণে।
এই এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার এমওইউটি নিয়ে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা। আলোচনা হচ্ছে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও। বর্তমান খসড়ায় এমওইউটি অঞ্চলটিতে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘোষণা করবে এবং ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
এই আলোচনাগুলো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ওই ৩০ দিনের সময়কালে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া হবে। যদি আলোচনা ভেঙে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জারি করতে বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশের মেয়াদ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এটি কমপক্ষে ১২ বছর হতে পারে, আর একটি সূত্র ১৫ বছরকে সম্ভাব্য সমঝোতার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরান প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বছরের স্থগিতাদেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে ২০ বছর।
যুক্তরাষ্ট্র একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যেখানে ইরান যদি সমৃদ্ধকরণ চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে। মেয়াদ শেষ হলে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমাত্রার সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে। এমওইউতে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে—তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা অস্ত্রায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম চালাবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এমন একটি ধারা নিয়েও আলোচনা চলছে, যেখানে ইরান ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে।
এ ছাড়া, ইরান আরও কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থায় সম্মত হবে, যার মধ্যে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের হঠাৎ (স্ন্যাপ) পরিদর্শনের সুযোগও থাকবে। এমওইউর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেবে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এত দিন তেহরান এটি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। একটি সূত্র বলেছে, এই উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের একটি বিকল্প নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, ‘আমাদের এক দিনেই পুরো চুক্তির লিখিত রূপ তৈরি করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’ তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত জটিল এবং কারিগরি একটি বিষয়। তবে আমাদের একটি কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে—কোন বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং শুরুতেই কী ধরনের ছাড় দিতে রাজি, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থবহ হয়।’ তবে রুবিও ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ‘মাথায় সমস্যা আছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন এবং তারা আদৌ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সামনে আসছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজেপি সরকার গঠনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকেই অধিকারীকে বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে। জানা গেছে, দলের রাজ্য সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্য তার নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ তা ঘোষণা করবেন।
বৈঠকের পর অধিকারীসহ শীর্ষ নেতারা রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। পরদিন শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে, যা ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’র দিন অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
শুভেন্দু অধিকারী এর আগে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে তার ভূমিকা বিজেপির বড় জয়ের অন্যতম কারণ।
মুখ্যমন্ত্রী হতে শুভেন্দুকে পার হতে হবে আরও এক ধাপ
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপির শীর্ষ পছন্দ হয়ে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’র সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ গুরুত্ব থাকছে।
অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
এর আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন, যিনি বাঙালি, বাংলায় জন্মেছেন, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সেই মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যান।
বিজেপির সবচেয়ে বড় ভরসা শুভেন্দু
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। মাঠপর্যায়ের শক্ত অবস্থান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে এবারের নির্বাচনে তাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি আরও বড় চমক দেখিয়ে মমতার শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনও দখল করেন।
২০২০ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তৃণমূল ছাড়েন শুভেন্দু। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন, অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হন।
তৃণমূলে থাকাকালে তিনি বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী ছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সে সময় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’ প্রকাশ্যে এনেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনী ‘সাহা ২০২৬’-এ এই মারণাস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্মোচন তুরস্কের সামরিক শক্তিতে এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ম্যাক ২৫ গতিতে চলতে সক্ষম। এর পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার হওয়ায় এটি তুরস্কের মাটি থেকে ইউরোপের সিংহভাগ, এশিয়ার বড় অংশ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারবে। কারিগরি দিক থেকে উন্নত এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে জ্বালানি হিসেবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর শক্তিশালি চারটি রকেট ইঞ্জিন একে তুরস্কের সর্বাধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্মে উন্নীত করেছে।
উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এই সামরিক অর্জনের প্রশংসা করেন। সাহা ২০২৬ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা খাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন বা মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঙ্কারার ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফল হিসেবে এই নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি আত্মপ্রকাশ করল।
ইস্তাম্বুলের এই মেগা ইভেন্টটি বর্তমানে অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা শিল্প মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো অংশ নিচ্ছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তুরস্ক কেবল তাদের সামরিক সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, বরং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিশ্ববাজারে বড় ধরনের রপ্তানি অংশীদার হওয়ার এবং প্রতিরক্ষা খাতে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যও পূরণ করছে।
ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ চালু করেছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। এ তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই বিরতি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’। ট্রাম্প বলেন, “আমরা পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছি যে, অবরোধ পূর্ণমাত্রায় কার্যকর থাকলেও, চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হতে পারে কি না তা খতিয়ে দেখতে স্বল্প সময়ের জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত রাখা হবে।”
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রোজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।
এ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যুদ্ধে ‘ধারাবাহিক ব্যর্থতার’ কারণে হরমুজ থেকে ‘পিছু হঠছেন’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস ও জ্বালানি পরিবহন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবরোধ জারি করে ইরান, যার ফলে প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় শতাধিক জাহাজ আটকা পড়ে।
পরবর্তীতে এসব জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের লক্ষ্যে ৪ মে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা এখন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সহিংসতা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে কলকাতায় এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড় এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনে বিজয়ী আইএসএফ নেতা-কর্মীরা রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। বিশেষ করে নিমকুড়িয়া গ্রামে তৃণমূল সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
ফিরোজ মোল্লা নামে এক ভুক্তভোগী তৃণমূল কর্মী জানান, আইএসএফ-এর বুথ সভাপতির নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ফিরোজের মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া বেঁওতা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ ওই পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইএসএফ বা বিজেপি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক নামে এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবক নির্বাচনের দিন তৃণমূলের বুথ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পরিবারের দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হলে বাড়ির সামনেই তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ জানায়, বিশ্বজিতের পকেট থেকে একটি ভাঙা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বেলেঘাটা থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং কললিস্ট যাচাই করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোট চলাকালীন বড় কোনো প্রাণহানির খবর না থাকলেও ফলাফল পরবর্তী এই সহিংসতা পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির পুরোনো সংঘাতময় চিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজেপির কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ
ভোটের ফলপ্রকাশের পর হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্ত।
স্থানীয় এবং বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বয়স ৪৮ বছর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাকে তৃণমূল আশ্রিত ব্যক্তিরা খুন করেছে বলে অভিযোগ।
উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন যাদব। পরিবার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিজেপির সমর্থক। রাজ্যজুড়ে বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপন করছিলেন যাদব। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েক জন। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় যাদবকে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন ছুটে যান ঘটনাস্থলে।
এরপর রক্তাক্ত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে উদয়নারায়ণপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা এলাকায়। ইতিমধ্যে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এক জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে তার নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
চীনের মধ্যাঞ্চলে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৬১ জন আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (৫ মে) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে হুনান প্রদেশের লিউয়াং এলাকার লিউয়াং হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, পাহাড় ঘেরা একটি গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছে এবং আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে।
ঘটনার পর সিসিটিভির ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, যেখানে আগে ভবন ছিল সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা এক্সকাভেটর দিয়ে সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন।
অক্ষত থাকা কিছু ভবন থেকেও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই ছাদ উড়ে গেছে।
সিসিটিভি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ৪৮০ জনেরও বেশি উদ্ধারকারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলের আশেপাশের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই পুলিশ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আটক করেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
লিউয়াং চীনের একটি প্রধান আতশবাজি উৎপাদনকেন্দ্র। এখানে চীনের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া আতশবাজির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং বিদেশে রপ্তানি করা আতশবাজির ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।
গত বছর হুনানের অন্য একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালে উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরের আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হুবেই এবং জিয়াংসু প্রদেশের আতশবাজির দোকানে পৃথক দুটি বিস্ফোরণে যথাক্রমে ১২ জন এবং ৮ জন নিহত হন।