চলতি বছর ২০২৪ সালের জুন মাসে ৯ দিনের অস্বাভাবিক গরমে ভুগেছে বিশ্বের ৫০০ কোটিরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এর কয়েকজন বিজ্ঞানীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ তথ্য। তাদের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এবছর জুনে অস্বাভাবিক গরমে ভুগেছে বাংলাদেশের ১৭ কোটিরও বেশি লোক।
এই অস্বাভাবিক গরমের কারণ হিসেবে ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’ নামের একটি সংস্থার প্রধান অ্যান্ড্রু পার্সিং বলছেন, ‘গত ১০০ বছর ধরে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর কারণে বিশ্ব এখন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলছেন, ‘এ বছরের গ্রীষ্মে যে তাপপ্রবাহ দেখা গেছে এটি অপ্রাকৃতিক বিপর্যয়। আর যতদিন পর্যন্ত কার্বনের দুষণ বন্ধ না করা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়ে রূপ নেবে।’
ক্লাইমেট চেঞ্জ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসহনীয় গরম পড়েছে। এই গরমে জুন মাসে বিশ্বের ৫০০ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ভারতের ৬১ কোটি ৯০ লাখ, চীনের ৫৭ কোটি ৯০ লাখ, ইন্দোনেশিয়ার ২৩ কোটি ১০ লাখ, নাইজেরিয়ার ২০ কোটি ৬০ লাখ, ব্রাজিলের ১৭ কোটি ৬০ লাখ, বাংলাদেশের ১৭ কোটি ১০ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ কোটি ৫০ লাখ, ইউরোপে ১৫ কোটি ২০ লাখ, মেক্সিকোতে ১২ কোটি ৩০ লাখ, ইথিওপিয়ায় ১২ কোটি ১০ লাখ এবং মিসরে ১০ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে অসহনীয় গরমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ প্রচণ্ড গরমের মুখে পড়েছিল। যেটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৬ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা আরও অন্তত ৩ বার পরিলক্ষিত হয়েছিল।’
রাশিয়ায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পাঠানোর বিষয়ে তেহরানের সম্ভাব্য আগ্রহের কথা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, সম্প্রতি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানির এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবটিকে মূলত ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ)-এর বিধানগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে লারিজানি রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ‘ব্যক্তিগত বার্তা’ পৌঁছে দেন এবং ‘পারমাণবিক সমঝোতার পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে এই ব্যবস্থার প্রতি ইরানের আগ্রহের কথা’ সেখানে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে তেহরানকে নিয়মিত কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ কয়েক মাসের বাণিজ্যিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক ও বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও উড়োজাহাজসহ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে মাত্র ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমঝোতার খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানান, ভারত কেবল জ্বালানি বা প্রযুক্তি নয়, বরং কয়লা ও কৃষিপণ্যের বড় বাজার হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এই শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে ওয়াশিংটন কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো—ভারতকে এখন থেকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ভারতের স্থানীয় বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধাগুলো কমিয়ে আনতে হবে যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে সহজে ব্যবসা করতে পারে। নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর শুল্ক কমিয়ে ওয়াশিংটনের তাৎক্ষণিক দাবি পূরণ করেছে বলে জানা গেছে।
ভারত সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই সমঝোতার ফলে আগামী কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে টেলিকম, ওষুধ শিল্প, প্রতিরক্ষা এবং উড়োজাহাজ খাতের মার্কিন পণ্যগুলো ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করবে। এছাড়া ভারতের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত কৃষি খাতেও যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক বাজার সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা চুক্তির অনুরূপ। দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা কেবল প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং আগামী মাসগুলোতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য চুক্তি সই করার লক্ষ্যে দুই পক্ষ পুনরায় আলোচনায় বসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই চুক্তির ঘোষণার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব অনুরাধা ঠাকুর মন্তব্য করেন যে, এই চুক্তির ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে ভারতের প্রধান পুঁজিবাজার সূচক নিফটি ৫০ প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান ১ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ৯০ দশমিক ৪০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, ভারতের জন্য নির্ধারিত ১৮ শতাংশ শুল্ক হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া ১৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে মার্কিন বাজারে পণ্য রপ্তানি করছে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসবে।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের (এফআইইও) প্রেসিডেন্ট এস সি রালহান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শুল্ক হ্রাসের ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডি’স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানিকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করবে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বছরের প্রথম ১১ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাজেট ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটির শেয়ার বাজারের পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ‘ভারতের ওপর আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এবং খুব শিগগিরই তা কার্যকর করা হবে।’ এই ঘোষণার পরপরই ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার সেনসেক্স এবং নিফটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং সেনসেক্স ৩ হাজার ৬ শতাধিক পয়েন্ট ও নিফটি ১ হাজার ২০০ পয়েন্ট অর্জন করে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে রিয়েল এস্টেট খাতের শেয়ার ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, গাড়ি খাতের শেয়ার ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং আইটি খাতের শেয়ারের দাম গড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে রুপির মান ১ দশমিক ২ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ৯০ দশমিক ৪০-এ দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বছর বিভিন্ন অভিযোগে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল, যার ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ইউরোপের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় শুল্ক হ্রাসের এই বড় ঘোষণাটি প্রদান করলেন।
সূত্র : এনডিটিভি।
আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে সাড়ে তিন হাজার প্রবাসীকে গ্রেপ্তারের পর নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করেছে কুয়েত। মঙ্গলবার কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে কুয়েতের সব গভর্নরেটে অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫০০ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মূলত আবাসন ও শ্রম আইনের প্রয়োগ জোরদার করার অংশ হিসেবেই ওই কঠোর নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রত্যাবাসন করা প্রবাসীদের মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিক, পলাতক কর্মী এবং অন্যান্য আইন লঙ্ঘনকারীরাও ছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে আইনি বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে হাজার হাজার অবৈধ প্রবাসী ও আইনলঙ্ঘনকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং অভিবাসন আইন মেনে চলা নিশ্চিতে কুয়েতের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
সূত্র: গালফ নিউজ।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের শঙ্কা পাশ কাটিয়ে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে চরম বৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দেশ দুটির উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসর, কাতার, তুরস্ক এবং ওমানের দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতা ও নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই ঐতিহাসিক বৈঠক সম্ভব হচ্ছে। মূলত ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সংকট নিরসনই হবে এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।
ইস্তাম্বুলের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পক্ষে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এই আলোচনায় সৌদি আরব, মিসর, তুরস্কসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের যে তিক্ততা চলছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছর জুন মাসে পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বড় ধরণের সামরিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল। টানা ১২ দিনের সেই ভয়াবহ সংঘাত শেষে দেশগুলো যুদ্ধবিরতিতে গেলেও সম্পর্কের বরফ গলেনি। এমনকি গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর মোতায়েন করা হলে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে সুর বদলের আভাস পাওয়া গেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই দিনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও বিষয়টি অত্যন্ত জটিল, তবুও যদি ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে ইরান পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, ইস্তাম্বুলের এই বৈঠক কেবল পরমাণু ইস্যু নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ এখন তাকিয়ে আছে ৬ ফেব্রুয়ারির এই আলোচনার ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করতে পারে আগামী দিনে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির গতিপথ।
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারি ও পাচার সংক্রান্ত তদন্তে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে সশরীরে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। হাউজ ওভারসাইট কমিটির সমন অমান্য করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে 'কংগ্রেস অবমাননার' প্রস্তাব পাসের ঠিক কয়েক দিন আগে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানালেন তারা। উল্লেখ্য যে, ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর এই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসনাল প্যানেলের সামনে সশরীরে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।
রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হাউজ ওভারসাইট কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিল। সোমবার রাতে বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্লিনটন শিবিরের পক্ষ থেকে এই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, ক্লিনটন দম্পতি ইতোমধ্যেই যা জানেন তা শপথের মাধ্যমে জানিয়েছেন, কিন্তু তদন্ত কমিটি এই ইস্যুটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ভিন্নভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। মূলত কংগ্রেস অবমাননার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতেই তারা এই তদন্তে সহযোগিতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতীতের বিভিন্ন সময়ে বিল ক্লিনটন জেফরি এপস্টেইনের সাথে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও তার কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে ক্লিনটনের ভ্রমণের রেকর্ড এবং তাদের একত্রে অবকাশ যাপনের কিছু পুরনো ছবি সামনে আসায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। যদিও ক্লিনটন শিবিরের দাবি—এই সম্পর্ক দুই দশক আগেই ছিন্ন হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে তদন্ত কমিটির সামনে তাদের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং সত্য উদ্ঘাটনে এই সাক্ষ্য বড় ভূমিকা রাখবে। এর আগে ক্লিনটনরা এই তদন্তকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হেনস্তা করার একটি কৌশল হিসেবে বর্ণনা করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা সশরীরে উপস্থিত হয়ে তথ্য দিতে সম্মত হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদী তদন্তে নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এপস্টেইনকাণ্ডে ক্লিনটন দম্পতির এই সরাসরি অংশগ্রহণ মার্কিন রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপের পর ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এক লাফে ৩২ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত জানান। আগে যেখানে ভারতীয় পণ্য আমদানিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর ছিল, এখন থেকে তা মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসবে। মূলত নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত অনুরোধ এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়েই ট্রাম্প এই তাৎক্ষণিক ও প্রভাবশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এই চুক্তির ফলে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' ট্যাগযুক্ত পণ্যগুলো এখন থেকে অনেক কম খরচে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, যা ভারতীয় রপ্তানি খাতের জন্য এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান যে, ১৪০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে তিনি এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। মোদি উল্লেখ করেন, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং শক্তিশালী অর্থনীতি যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে, তখন তা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। এই শুল্ক হ্রাসের ফলে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও পীযূষ গোয়েল এই চুক্তিকে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এর ফলে ভারতের কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
তবে এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে বড় ধরণের কিছু শর্ত ও প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় ভারত আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের জ্বালানি, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি পণ্য এবং কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত এখন থেকে রাশিয়া থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করবে এবং এর বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। যদিও শুল্ক কমানোর বিষয়টি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে রুশ তেল বর্জন এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কেনাকাটার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে বিশাল কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হলেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, এত বড় একটি চুক্তির তথ্য ভারত সরকারের আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রকাশ পাওয়াটি হতাশাজনক। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা দীর্ঘমেয়াদে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক প্রভাব যেমন বাড়বে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করাও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ভয় পাচ্ছে না, বরং উদ্বিগ্ন হচ্ছে তাদের কথা চিন্তা করে— যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধের জন্য মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যেতে ইন্ধন দিচ্ছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন নই, বরং আমার উদ্বেগ হলো ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সার্বিক পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই না করা এবং ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা। এটা নিশ্চিত যে কিছু মহল, গোষ্ঠী অবশ্যই আছে— যারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে চিন্তা-ভাবনা করবেন।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে সিএনএনকে সৈয়দ আরাগচি বলেন, ‘একটি অর্থপূর্ণ আলোচনার ভিত্তি হলো আস্থা এবং দুর্ভাগ্যবশত, আমরা আলোচনার সঙ্গী কিংবা অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। তাই যে কোনো সংলাপের আগে প্রথম কাজ হলো এই আস্থার সংকট দূর করা।’
‘কিছু মিত্রস্থানীয় দেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে— তাহলে ফের আলোচনা হতে পারে।’
‘মানে আমরা চাই— যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর থেকে তার নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘নো নিউক্লিয়ার উইপন’ এবং আমরা তার সঙ্গে, তার এ আহ্বানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমরা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করব না…শুধু তার বিনিময়ে যেন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।’
‘যুক্তরাষ্ট্র যদি চায়, তাহলে এমন একটা সমঝোতা হতে পারে। সেই সুযোগ এখনো ভালোভাবেই আছে।’
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরাকে হামলা করে, তাহলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন সৈয়দ আরাগচি। সিএনএনকে তিনি বলেছেন, ‘গত বছর জুন মাসে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল— সেটি ছিল মূলত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ছিল। পরে শেষ পর্যায়ে এতে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়। এ কারণে সেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।’
‘তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা করে, তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। সেই ক্ষেত্রে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।’
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা বিষয়ক মূল্যায়ন নথির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান এখনো কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। এসব সামরিক স্বার্থের মধ্যে রয়েছে ১০টিরও বেশি ঘাঁটি ও কয়েক দশ হাজার মার্কিন সেনা।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এক মিত্রের প্রস্তুতকৃত মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান গোলাবারুদ, উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এসব সক্ষমতা এই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই সক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প এর আগে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও এখন এই অবস্থান পরিবর্তন করে তেহরানকে পারমাণু বিষয়ক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে সরে যাওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এক ইরানি কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান সম্মানজনকভাবে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যে আলোচনায় বসবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১২ দিনের হামলায় দখলদার ইসরায়েলের পাশে ছিল, যার জবাবে ইরান কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দেখিয়েছে যে, পারস্য উপসাগরে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং নতুন কোনো সংঘাত হলে এসব হামলা সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত থাকবে না।
এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশ ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে ইরান
ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করছে ইরান। গতকাল সোমবার ইরান জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করার পর তারা তেহরানে নিযুক্ত ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। খবর এএফপির।
তেহরানে দূতাবাসে রয়েছেন এমন সব ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য পদক্ষেপ ঘোষণার আগে এটি সবচেয়ে ছোট পদক্ষেপ।
এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরান। গত রোববার ইরানি সংসদের স্পিকার এই তথ্য জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার পর তেহরান পাল্টা সিদ্ধান্ত নেয়।
স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানান, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার পাল্টা আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থার ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সংহতির প্রকাশ হিসেবে তিনি বিপ্লবী গার্ডদের ইউনিফর্ম পরে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
বৃহস্পতিবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের জবাবে আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ইউরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, এই মুহূর্তে বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, অথচ ইউরোপ আগুনে ঘি ঢালছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী। পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে, কানাডা ২০২৪ সালে ও অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ইইউয়ের এই সিদ্ধান্তে এখন চাপ বাড়ছে যুক্তরাজ্যের ওপর, যারা এখনো আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি। তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে দেশটি।
চার বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল ইরান
ইরানে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের পর ‘দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার’ অভিযোগে চার বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে তেহরান প্রদেশে তাদের একটি আড্ডাখানায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঠিক কখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের একজনের ব্যাগ তল্লাশি করে চারটি হাতে তৈরি স্টান গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সম্প্রতি ওই এলাকায় সংঘটিত দাঙ্গা ও অস্থিরতার সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।
গত মাসে দেশজুড়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন জোরদার করেছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় এই বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।
আমিরাতি নারীর সাহায্যে পবিত্র কাবা শরীফের গিলাফের কাপড় পাঠানো হয়েছিল কুখ্যাত ‘যৌন অপরাধী’ জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলসে’র নতুন নথিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।
নথিতে থাকা ই-মেইল অনুযায়ী, মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের (কিসওয়া) কাপড়ের অংশ ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) যোগাযোগ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিভিন্ন তারিখে পাঠানো ই-মেইলগুলোতে দেখা যায়, আমিরাতের নারী ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি এবং আবদুল্লাহ আল-মারি নামে এক ব্যক্তি কিসওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি কাপড় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিসওয়া বা গিলাফ হলো কালো রঙের সোনালি নকশা করা সেই কাপড়, যা সৌদি আরবে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরীফকে আচ্ছাদিত করে।
মুসলিমদের কাছে গিলাফের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিবছর কাবা শরীফ থেকে পুরোনো গিলাফ খুলে নতুন গিলাফ টানানো হয়। পুরোনো গিলাফের অংশগুলো অত্যন্ত মূল্যবান ধর্মীয় নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ই-মেইলগুলোতে দেখা যায়, সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে আকাশপথে কাপড়গুলো ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। চালান প্রক্রিয়ায় ইনভয়েস, কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সরবরাহের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে সমন্বয় করা হয়েছিল।
চিঠিপত্রে তিন ধরনের কাপড়ের কথা উল্লেখ রয়েছে—একটি কাবার ভেতরের অংশ থেকে নেওয়া, একটি ব্যবহৃত বাইরের গিলাফের অংশ এবং আরেকটি একই উপকরণে তৈরি হলেও ব্যবহার করা হয়নি। নথিতে বলা হয়, ব্যবহার না করা কাপড়টিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার উদ্দেশেই পাঠানো হয়েছিল।
এই চালানটি ২০১৭ সালের মার্চে এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছায়। উল্লেখ্য, সে সময়েই তিনি যৌন অপরাধী হিসেবে কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন।
একটি ই-মেইলে এপস্টেইনের উদ্দেশে আজিজা আল-আহমাদি কাপড়টির ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে লেখেন, ‘কালো এই কাপড়টি ন্যূনতম এক কোটি মুসলিম স্পর্শ করেছেন—সুন্নি, শিয়া ও অন্য বিভিন্ন মতের মানুষ। তারা কাবার চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করেন এবং যতটা সম্ভব এই কাপড় স্পর্শ করে নিজেদের দোয়া, আশা ও অশ্রু এতে অর্পণ করেন।’
তবে আহমাদির সঙ্গে কীভাবে এপস্টেইনের পরিচয় হয় কিংবা কেন এই কাপড়গুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল নথিতে তার উল্লেখ নেই।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হারিকেন ইরমা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে আহমাদি তার খোঁজখবর নেন বলেও ই-মেইলে দেখা যায়। কয়েকদিন ধরে তিনি এপস্টেইনের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বীপের পরিস্থিতি জানতে চান।
একটি ই-মেইলে সেক্রেটারি লেখেন, সবাই নিরাপদ থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে অনেক স্থাপনা, গাছ, ডক ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে আহমাদি মজা করে লেখেন, ‘নতুন টেন্ট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি রইলো।’
নথিতে স্পষ্ট নয়, আহমাদি কখনো এপস্টেইনের দ্বীপে গিয়েছিলেন কি না বা সেখানে কী ঘটতো সে সম্পর্কে তিনি কতটা জানতেন। লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপটিই এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আরেকটি ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পাঠিয়েছিলেন। তবে এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
ই-মেইলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এপস্টেইন আহমাদির সঙ্গে সরাসরি খুব কমই যোগাযোগ করেছেন। একবার নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে তার বাড়িতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে চান বলেও তিনি লিখেছিলেন।
এদিকে, গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত এফবিআইয়ের এক স্মারকে দাবি করা হয়েছে, জেফ্রি এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। স্মারকে বলা হয়, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।
সামনেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবে। তার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লিতে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং তার ভাতিজা তথা ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি। এ সময় মমতার সঙ্গে থাকবে ১৫ সদস্যদের এক প্রতিনিধি দল।
এসআইআর (সচিত্র ভোটার তালিকা সংশোধন) সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কথা হতে পারে। এ নিয়ে ইতোপূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছেন। আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে কথা হতে পারে।
মমতা ব্যানার্জি বলেন, এসআইআর আড়ালে কী চলছে আমি তাদের এটাও জানাব। বিজেপি কীভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করতে চায় আমি সব কিছুই উল্লেখ করবো। আমরা কী করেছি সেটাও বলব।
এছাড়াও এসআইআর-এর নামে চালানো প্রচেষ্টা সম্পর্কে তিনি সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
বিজেপিকে পুনরায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের (বিজেপি) বলব যদি সাহস থাকে তাহলে রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধ করুন। আমরা লড়তে প্রস্তুত, এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়ব না।
বিরোধী দলগুলোর সম্ভাবনা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে মমতা আরও অভিযোগ করে বলেন, বাংলা জিতবে, তামিলনাড়ু জিতবে, কেরালা জিতবে, আর আসামেও বিজেপি হারবে। এসআইআর-এ ১১০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এত মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে।
ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর এবার মধ্য আমেরিকার ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ কিউবা-কে আল্টিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে না আসে হাভানা, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে কিউবা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আদেশে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে— তাহলে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প এই আদেশে স্বাক্ষরের পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাসহ কিউবার জনগণের মৌলিক পরিষেবাগুলোতে। এর জেরে অচিরেই দেশটিতে বড় আকারে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রোববার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা কিউবা সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘বেশ, কিউবা যদি আমাদের কাছে আসে এবং একটি সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাহলে আমার মনে হয় না যে কোনো মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে। কারণ সেক্ষেত্রে সব কিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় চলতে থাকবে।’
‘আমাদের একটা ব্যাপার অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি বেশ খারাপ। তাদের অর্থ নেই, তেল নেই…এতদিন তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সে দুটোর কোনোটাই এখন নেই।’
গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর দেশটির জ্বালনি তেলের উত্তোলন, পরিশোধন ও বিক্রয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই কর্তৃত্ব অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে বলে ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
কিউবার কাছ থেকে ঠিক কী চান— তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি কিউবা চুক্তিতে না আসতে চায়— সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবান নাগরিকদের ‘পুশ ইন’ করা হতে পারে।’
‘আমি আশা করছি যে নিকট ভবিষ্যতে কিউবা একটি সমঝোতায় আসতে চাইবে। যদি তা না হয়, তাহলে দেশটির প্রচুর সংখ্যক মানুষ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের আমরা কিউবায় ফেরত পাঠানো শুরু করব।’
দক্ষিণ আমেরিকার খনিজ তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রপ্তানি শুরু করেছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সোমবার এই অভাবনীয় অর্জনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এলপিজি বোঝাই ‘ক্রিসোবিগি লেডি ভেনেজুয়েলা’ নামক একটি জাহাজ সোমবার সকালে ভেনেজুয়েলা উপকূল ত্যাগ করেছে। এই রপ্তানি প্রক্রিয়াকে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি বিশাল বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলা তাদের উৎপাদিত সবটুকু এলপিজি কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর কাজে ব্যবহার করে আসছিল। ফলে বিদেশে রপ্তানি করার মতো অতিরিক্ত কোনো মজুত দেশটির কাছে ছিল না। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি ক্রেতার সাথে গ্যাস বিক্রির একটি গোপন চুক্তি সই করে। যদিও সরকারিভাবে জাহাজটির গন্তব্যস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য রোড আইল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার এই নতুন বাণিজ্যিক পদক্ষেপটি এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছে যখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় মাসখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হন। বর্তমানে তারা মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন রয়েছেন। এই পরিস্থিতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ওপেকের (OPEC) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার কাছে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রায় ৩০৩.৮ বিলিয়ন ব্যারেলের এই মজুত সমগ্র বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ১৯.৪ শতাংশ। জ্বালানি খাতের এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভেনেজুয়েলা এবার এলপিজি রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমেরিকার সাথে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।