ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাতরাস জেলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিতের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবারের এ ঘটনায় কমপক্ষে ৮৭ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে নারী ও তিন শিশু রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রার্থনা সভা বা ‘সৎসঙ্গ’ চলাকালে কয়েক শ’ মানুষের উপস্থিতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জেলাশাসক আশীষ কুমার জানিয়েছেন, পদদলিতের ঘটনাটি হাতরাস জেলার সিকান্দ্রা রাও থানার ফুলরাই গ্রামে ঘটেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চিকিৎসকরা আমাকে জানিয়েছেন, ৫০-৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি একটি বেসরকারি আয়োজনের অনুষ্ঠান ছিল এবং সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে অন্যান্য ব্যবস্থা আয়োজকদের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তার নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরপ্রদেশ সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য প্রদান করবে।
ইতাহ জেলা কর্মকর্তা ডা. উমেশ কুমার ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, ‘আমরা ২৭টি মৃতদেহ পেয়েছি, যার মধ্যে ২৫ জন নারী ও ২ জন পুরুষ। আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুনেছি সৎসঙ্গ চলাকালে পদদলনের ঘটনা ঘটেছে।’
ইতাহ জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ রাজেশ কুমার জানান, এখন পর্যন্ত ২৭টি মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৩ জন নারী ও তিন শিশু রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা এক নারী বলেছেন, স্থানীয় ধর্মগুরু ভোলে বাবা ওরফে নারায়ণ সাকার হরির সম্মানে এ আয়োজন ছিল। ভিড় বের হতে শুরু করলে পদদলনের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে ‘শিখা ইন’ নামক ওই হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় হোটেলের অধিকাংশ বোর্ডার তখন ঘুমে ছিলেন।
আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ওই এলাকার হোটেলগুলোতে সাধারণত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করেন। যদিও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ বা দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ইন্ডিয়া টুডে দাবি করেছে যে, নিহত নয়জনই বাংলাদেশের নাগরিক। স্থানীয় দমকল কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে উক্ত গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনে ওই ব্যক্তিরা কলকাতায় গিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের উৎপত্তি। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মূলত দম বন্ধ হয়েই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ফায়ার সার্ভিসের ডিজি অনুজ শর্মা। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তিদের দেহে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার তেমন কোনো চিহ্ন নেই। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তারা মূলত শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগকে গুরুত্ব দেয় ভারত। দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের জ্বালানিবিষয়ক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বাড়তি চাহিদার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি; এক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন, তেল শোধন সক্ষমতা এবং আমাদের হাতে থাকা মজুতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে ইরান। দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এমন কথা বলেছেন। জুনে স্বাক্ষরিত স্মারকটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গালিবাফ এমন মন্তব্য করলেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গালিবাফের এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। যেসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পূরণ করতে হবে সেগুলো উল্লেখ করেছেন গালিবাফ। এর মধ্যে আছে- ইরানি সমুদ্রবন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত অর্থ ছাড় এবং সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ও হুমকির অবসান ঘটানো।
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হয় গত ১৭ জুন। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বের জেরে তা দ্রুতই ভেস্তে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৭ জুলাই স্মারকটি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থগিতের কথা জানায়।
স্মারক অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল। আলোচনার ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত নির্ধারণ। বলা হয়েছিল, দুই দেশ চাইলে ৬০ দিনের মেয়াদ আরও বাড়াতে পারবে।
গত সোমবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে গেছে। তেহরান এখন ‘‘সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক’’ অবস্থানে চলে যাবে।’
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে সীমান্তে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মিত্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পিপলস পার্টি অব অরুণাচল প্রদেশের (পিপিএ) একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল অরুণাচলের দুর্গম আপার সুবানসিরি এলাকায় গিয়ে চীনের ‘অনুপ্রবেশের’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেছে।
দলটির দাবি, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় সেনাদের নিয়মিত টহল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং চীনা বাহিনী সেখানে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রেখেছে। এ ঘটনায় নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা সীমান্তে চীনের কথিত দখল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করেছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সীমান্তের বড় অংশই বিতর্কিত। দুই দেশ সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি কোথায়—তা নিয়েও একমত নয়।
পিপিএর চার সদস্যের দলটি আপার সুবানসিরির দুর্গম তাকসিং এলাকায় যায়। দলটির দাবি, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ওই এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহল চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবল বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে অনুসন্ধানী দলের দাবি, এই সময়েও চীনা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় থাকে। এতে সীমান্ত রক্ষায় ভারতের অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলটির প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সংঘাতের পর ভারতীয় সেনারা শেরা-৫ নামে একটি সীমান্ত টহল পয়েন্ট ছেড়ে গেছে।
পিপিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট কালিং জেরাং আলজাজিরাকে বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের পূর্বপুরুষদের শিকারক্ষেত্র হারানো নিয়ে ক্ষুব্ধ।’ তার দাবি, চীনের এই ‘অনুপ্রবেশ’ নতুন নয়; কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে তা বেড়েছে।
গত মাসে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে চীনের অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ জানায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনের অনুপ্রবেশের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘চীনা বাহিনীর কথিত দখল নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ‘‘ভুল ও ভিত্তিহীন’’।’
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেনি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সীমান্তসংক্রান্তবিষয়কে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
চীনের পক্ষ থেকেও নতুন করে কোনো সীমান্ত উত্তেজনার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বর্তমানে চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি ‘‘সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল’’।’
তিনি জানান, গত সপ্তাহে দুই দেশ সীমান্তবিষয়ক ৩৬তম বৈঠক করেছে। কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস বহু পুরোনো। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিমলা কনভেনশনের মাধ্যমে ম্যাকমোহন লাইন নির্ধারণ করা হয়। ভারত স্বাধীনতার পর এটিকেই চীনের সঙ্গে পূর্ব সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করে।
তবে চীন এই সীমারেখা স্বীকার করে না। বেইজিং অরুণাচল প্রদেশের পুরো ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে অভিহিত করে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর দুই দেশ বাস্তবে যার যার নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাকে চিহ্নিত করতে এলএসি মেনে নেয়। কিন্তু এলএসি কোথায়—তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ফলে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় দুই দেশের সেনাদের টহল প্রায়ই পরস্পরের দাবিকৃত এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। এরপর কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমে তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোস এর জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের সাথে আমেরিকার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে—সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকানদের মধ্যে এমন আশঙ্কার কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় এমন পতন ঘটেছে।
চার দিনব্যাপী এই জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে, তারা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট, যেখানে ৬৪ শতাংশই তার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের সমর্থনের হার, যা চলতি মাসের শুরুর দিকের জরিপে ৩৫ শতাংশ ছিল এবং তার বর্তমান মেয়াদের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। এ হার এখন তার আগের মেয়াদের ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পৌঁছানো সর্বনিম্ন স্তরের সমান হয়েছে।
৪৮ শতাংশেরও কম দেশের মানুষের সমর্থনে ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর, চলতি বছরে মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। পরবর্তী এই সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশকে স্তব্ধ করে দেয়, যা পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে তোলে—এবং এটি মার্কিন পরিবারগুলোর পাশাপাশি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষায় নিয়োজিত ট্রাম্পের রিপাবলিকান সহযোগীদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প, যিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, শুরুতে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু ইরান তার প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং সংঘাত শিথিল হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন অনেকটাই বন্ধ করে রেখেছে।
রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান—যার মধ্যে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান—মনে করেন যে ইরানে মার্কিন অংশগ্রহণ ‘দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।’ মাত্র ১৬ শতাংশ বলেছেন যে, এই সংঘাত সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে।
গত শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘পেট্রোলের জন্য সামান্য একটু বেশি অর্থ দেওয়া’ এমন একটি মূল্য, যা পরিশোধ করা সার্থক—যাতে ‘একটি অত্যন্ত দুষ্ট দেশ’ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে। যুদ্ধের পক্ষে দেওয়া তার অন্যতম যুক্তি এটি।
সংঘাতজুড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন, শান্তিচুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে একজন এবং মাত্র অর্ধেক রিপাবলিকান মনে করেন, এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে।
যুদ্ধ এবং পেট্রোলের দাম নিয়ে উদ্বেগ রিপাবলিকানদের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার আশা নিয়েই তারা উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ক্রমেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণও তাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
চলতি মাসে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপগুলোতে দেখা গেছে, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোটাররা অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের বেশি যোগ্য মনে করছেন। সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। বিপরীতে ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের পদ্ধতিকে বেশি পছন্দ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও ডেমোক্র্যাটদের বেশি সক্ষম বলে মনে করছেন ভোটাররা।
ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়েই অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের পদ্ধতি ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি জনপ্রিয় ছিল। এর পেছনে রয়েছে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের নির্দেশে দেশজুড়ে অব্যাহত কঠোর অভিযান। তবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে রিপাবলিকানরা জনসমর্থন হারাচ্ছেন।
সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৪০ শতাংশ বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের পদ্ধতি ভালো। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। দুই শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান ট্রাম্পের পুরো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকানরা ২৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এ নির্দেশের মাধ্যমে তার পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো। কারণ, তারা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন।
২০২২ সালে ক্ষমতা হারানোর পর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। তবে এসব মামলাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
গত বছর ইমরান খানের ছেলেরা তার খারাপ হতে থাকা স্বাস্থ্য নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার আইনজীবীদের মতে, কারাগারে থাকাকালে তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি অনেকাংশে হারিয়েছেন।
পিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক একটি নির্দেশনা যা আরও আগে আসলে ভালো হতো, তাহলে তার চোখ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের এত অবনতি ঘটত না।’ তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালেই রাখা উচিত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টের মাধ্যমে ইমরান খানের মুখপাত্র নাইম হায়দার পাঞ্জুথা জানান, আদালতের পক্ষ থেকে ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালে’ স্থানান্তর এবং আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ইমরান খান রাষ্ট্রীয় উপহার এবং অবৈধ বিয়েসহ একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। কিছু সাজা স্থগিত বা বাতিল করা হলেও আপিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তবে তিনি সব ধরনের অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন।
কারাগারের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে একাধিক কিংবদন্তি ক্রিকেটার তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান।
পিটিআই ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসে এবং দেশটির প্রধান প্রধান প্রদেশগুলোতে তাদের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। ফলে দলটির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হন।
রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার করেছে দুই দেশই। তবে সম্মুখ সারিতে লড়াই প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শান্তি আলোচনা কার্যত হিমঘরে চলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশই একে অপরের প্রতিরক্ষা রেখার অনেক গভীরে দীর্ঘপাল্লার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফলে ২০২২ সালে যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসের পর এখন বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চলতি বছর রাশিয়ার ভেতরে হামলা আরও জোরদার করেছে ইউক্রেন। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে দেশটি রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। রসদ সরবরাহকারী জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন ডিপোতেও ইউক্রেন ক্রমবর্ধমানভাবে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য পুড়ে গেছে। অন্যদিকে রাশিয়াও হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তালের মালিকানাধীন আর্সেলর মিত্তালের মাইনিং ও মেটালার্জিক্যাল কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে অবস্থিত কমপ্লেক্সটি দেশটির সবচেয়ে বড় সমন্বিত ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র। ইউক্রেনের চালানো ব্যাপক ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এতে দুজন নিহত ও ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে দুজন, সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে একজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোনকে স্প্যানিশ এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সের একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। রোমানিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাতি থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে, প্রতিবেশী মলদোভার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
ইউক্রেনকে ড্রোন দেওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করল রাশিয়া
রাশিয়ায় হামলা চালাতে ব্রিটিশ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে—এমন খবর নিশ্চিত হওয়ার পর রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ‘যুক্তরাজ্য জেনেশুনে ইউক্রেন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’
যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে ক্ষোভ জানিয়ে বলেছে, ‘এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা প্রকৃতপক্ষে এই রক্তাক্ত অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশীদার এবং সমান অপরাধীর ভূমিকা পালন করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাজ্যের এসব কর্মকাণ্ডের পরিণাম অনিবার্য এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’ রাশিয়া সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছে, ‘এই যুদ্ধে তারা যত বেশি জড়াবে, ‘তত বেশি চড়া মূল্য তাদের চুকাতে হবে।’
জানতে চাইলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘ইউক্রেনের লড়াইয়ে ব্রিটেন তাদের ‘‘একনিষ্ঠ সঙ্গী’’ হিসেবে পাশে আছে।’
বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র বলেন, ‘ইউক্রেন বা আমাদের মিত্রদের ওপর রাশিয়ার যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমাদের সরকারের যে দৃঢ় সংকল্প রয়েছে, তা নিয়ে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অবৈধ আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে যুক্তরাজ্য ‘অঙ্গীকারবদ্ধ’।
দুটি আলাদা ব্রিটিশ কোম্পানির বানানো ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভেতরে অনেক সামরিক অবকাঠামো ও শিল্পকারখানায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তেল শোধনাগার এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামও রয়েছে।
ইউক্রেন প্রায়শই রাশিয়ার এই ‘আমাজনখ্যাত’ কোম্পানিতে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজের ১০টি বড় সরবরাহ কেন্দ্রের ৭টিই তারা অচল করে দিয়েছে। সামরিক একটি সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে দেশটি।
বিদ্রোহী এমপিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অযোগ্যতা ঘোষণার আবেদনের নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভারতের লোকসভার (নিম্নকক্ষ) স্পিকার ওম বিড়লা, লোকসভার মহাসচিব এবং সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন এমপির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে ওই ২০ এমপি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপিআই) নামে একটি দলে যোগ দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে নথিবদ্ধ হওয়া এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও স্পিকার দলত্যাগবিরোধী আইনের অধীনে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১৯৮৫ সালের লোকসভা সদস্যদের (দলত্যাগের কারণে অযোগ্যতা) বিধিমালার ৬ নম্বর বিধির অধীনে ওই ২০ জন এমপির অযোগ্যতা চেয়ে গত ১৯ জুন প্রথম স্পিকার বিড়লার কাছে গিয়েছিলেন অভিষেক। পরবর্তীতে তিনি ২৭ জুলাই একটি লিখিত স্মারকলিপি পাঠান এবং ১২ আগস্ট স্পিকারের সাথে একটি ফলো-আপ বৈঠক করেন।
আবেদনে লোকসভার আসন বিন্যাসের পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, স্পিকার তাদের দলবদলের দাবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিয়ে কিংবা কোনো শুনানির নোটিশ জারি না করা সত্ত্বেও বিদ্রোহী এমপিদের সামনের আসনে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তৃণমূল সদস্যদের পেছনের আসনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক দাবি করেছেন, বিদ্রোহী এমপিরা সংসদের বাইরে নিজেদের এনসিপিআই সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও সংসদের ভেতরে তারা এআইটিসির সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। সুপ্রিম কোর্টে চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ফল বিপর্যয় ঘটে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৮টি আসন জিতে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য সরকার গঠন করে এবং তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসন লাভ করে।
এই অভাবনীয় ফলাফলের পরই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক ফাটল চরম আকার ধারণ করে। গত ১৪ জুনে লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। তারা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) নামক একটি আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএ (এনডিএ) জোটকে সমর্থনের কথা লোকসভার স্পিকারকে জানান।
দলত্যাগী এই ২০ সাংসদ হলেন- সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ইউসুফ পাঠান, সায়নী ঘোষ, দীপক অধিকারী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার, মালা রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মিতালী বাগ, কালিপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, শর্মিলা সরকার এবং অসিত কুমার মাল। মূলত এই দলত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টে বর্তমান অযোগ্যতা ঘোষণার আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছে।
সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আদালতে উপস্থিত ওয়াসিমকে গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
৪৬ বছর বয়সি ওয়াসিমের বিরুদ্ধে বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। সিরিয়ার প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।
বিচারক ফখর আল-দীন আল-আরিয়ান জানান, ওয়াসিম একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার সঙ্গে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে। এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, ওয়াসিম সাবেক সরকারের প্রতি অনুগত দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করেছিলেন। এসব গোষ্ঠী রাজধানী দামেস্কের আশপাশে প্রাণঘাতী হামলায় অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়া গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া, মানুষকে বেআইনিভাবে আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তবে মাদকপাচার ও চোরাচালানের অভিযোগ থেকে ওয়াসিমকে খালাস দিয়েছে আদালত। এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি আবারও খোলার সুযোগ রেখেছে আদালত।
এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান কাসেশন কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। ওয়াসিম আল-আসাদের বিচার শুরু হয় গত জুনের শেষ দিকে। এর আগে গত বছর লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের কাছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, একটি অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।
তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে ছিলেন না। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। সে সময় ওয়াসিমকে একটি আধাসামরিক বাহিনীর নেতা এবং আঞ্চলিক মাদকপাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
গৃহযুদ্ধের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াসিমকে দামি গাড়ির পাশে ছবি তুলতে দেখা যেত। কখনো তাকে সামরিক পোশাকে ও অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। অন্য সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। এসব পোস্টে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার সিরিয়ার আদালত বাশার আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়। নতুন সরকারের অধীনে এটিই বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে প্রথম এমন রায়।
এ ছাড়া সাবেক ছয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাশারের ভাই মাহের আল-আসাদ, যিনি সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী চতুর্থ ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন।
সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতিফ নাজিব—যিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন—তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান থাকাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয় প্রায় ১৪ বছর আগে। গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ দমনে তৎকালীন সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে, পরবর্তী সময়ে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এ ছাড়া দশ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব জানিয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও গত সপ্তাহে বলেছে, দীর্ঘদিনের বিচার, জবাবদিহি ও সত্য জানার দাবি পূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ মাত্র কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এ সময় তিনি তার অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে পেছনে রেখে যান।
হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তি, অনুমতি ছাড়া অর্থ সংগ্রহ এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরবে নিযুক্ত পাকিস্তানি দূতাবাস এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আগত সব ওমরাহযাত্রী ও কর্মীকে সৌদি আরবের আইনকানুন ও ভিসার যাবতীয় শর্ত পুরোপুরিভাবে মেনে চলার এই জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
দেশটির দূতাবাস স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার, আটক এবং চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাক দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘পাকিস্তান থেকে আগত সব ওমরাহযাত্রী ও কর্মীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ শিরোনামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আইন ভঙ্গের পরিণতি হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তানি দূতাবাস তাদের বার্তায় জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি এবং অনুমতিবিহীনভাবে যেকোনো ধরনের অর্থ বা সহায়তা চাওয়ার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর আশপাশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানি দর্শনার্থীদের অনুমোদনহীন স্থানীয় কোনো সেবা গ্রহণ না করার এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই বৈধ ও অনুমোদিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তার শেষাংশে পাক দূতাবাস সে দেশে গমনকারী সব হজযাত্রী ও কর্মীকে তাদের ভিসার ধরন, শর্ত এবং মেয়াদ কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে সৌদি আরবে অবস্থান করা কিংবা ভিসার আওতায় অনুমোদিত নয় এমন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে নাগরিকদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি জটিলতায় না পড়েন।
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাম্বোয়াঙ্গা সিটিতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ‘আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা’ নামক একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এনবিআই) নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী এবং দুইজন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ম্যানিলা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়েরই চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রটি একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে কোনো ধরণের উসকানি ছাড়াই একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করতে শুরু করে। হামলাকারী ছাত্রের বাবা স্থানীয় কাস্টমস অফিসে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
জাম্বোয়াঙ্গা সিটির মেয়র খাইমার আদান ওলাসো এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে হামলাকারী এবং নিহতদের একজন শিক্ষার্থী—উভয়েই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকের গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শত শত শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ভবন থেকে জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক দৌড়ে পালাচ্ছে।
বর্তমানে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছেন এবং পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এই তরুণ শিক্ষার্থী এমন নৃশংস হামলার পথ বেছে নিল, তার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নিবিড় তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হতাহতদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ভবনের তৃতীয় তলায় আজ মঙ্গলবার ভোরে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের কর্মীরা ভোর ৪টার দিকে ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া নির্গত হতে দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বল্প সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগুন মূলত এটিসি ভবনের তৃতীয় তলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত মূল কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। রানওয়েতে বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণসহ যাবতীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং পাইলটদের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি দেখা দেয়নি। অগ্নিকাণ্ডের ফলে আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত বিমান চলাচল সূচি অপরিবর্তিত ছিল।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ভারতের স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট) উপলক্ষে ভবনটিতে যে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়েছিল, সেখান থেকেই কোনো বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষিতর পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইরান প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের কঠোর মনোভাব পুনরায় ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথ প্রশস্ত করতে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি তেল আবিব সফরকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুশনার এসব মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে আমেরিকার শক্ত অবস্থান ও শর্তগুলোও সামনে আনেন তিনি।
কুশনার জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে তার সিদ্ধান্তে অবিচল। ট্রাম্পের অটল বিশ্বাস হলো, "ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর চুক্তিতে আসার ব্যাপারে আগ্রহী। তবে এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে তেহরানকে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক শর্তাবলি অবশ্যই মেনে নিতে হবে।
কুশনারের বক্তব্যে উঠে এসেছে, একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য ইরানকে এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত হতে হবে যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি করে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, কুশনারের এই সাম্প্রতিক বার্তা সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
সূত্র: এএনআই