ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন মাসুদ পেজেশিকিয়ান। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাঈদ জালিলিকে পরাজিত করে এই বিজয় অর্জন করেছেন তিনি।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পেজেশকিয়ান।
নিজ মেয়াদের আড়াই বছরের মাথায় গত ২০মে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তার মৃত্যুর পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দেশটিতে ক্ষমতাসীন কট্টর ইসলামপন্থি সরকার। সেই তারিখ ছিল ২৮ জুন।
ভোটার টার্নআউটের হার নিম্ন হওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট বা রান-অফে গড়ায় নির্বাচন। সেই দ্বিতীয় দফা ভোটের তারিখ ছিল গতকাল ৫ জুলাই।
এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এরা হলেন মোস্তফা পুরমোহাম্মাদী, সাঈদ জালিলি, মোহাম্মদ বাকের কলিবফ, আলী রেজা যাকানি, সাইয়্যেদ আমির হোসেন কাজীজাদেহ হাশেমি ও মাসুদ পেজেশকিয়ান।
নির্বাচনে লড়াই হয়েছে মূলত সাঈদ জালিলি ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জালিলি কট্টরপন্থি এবং মাসুদ সংস্কারপন্থি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তবে উভয়েই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ।
গতকাল ভোটের পর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা গেছে, মাসুদ পেজেশকিয়ান পেয়েছেন ১ কোটি ৬৩ লাখ ভোট এবং সাঈদ জলিলি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পরপরই রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরে বিজয় উদযাপন করতে নেমেছেন পেজেশকিয়ানের সমর্থকরা।
ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অন্যান্য দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের মতো নয়। দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষে অবস্থান করেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। প্রেসিডেন্ট মূলত তার প্রধান সহকারী। তবে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরাধিকারী বাছাই সম্পর্কিত যে রাষ্ট্রীয় কমিটি রয়েছে, পদাধিকার বলে সেই কমিটির প্রধান সদস্য প্রেসিডেন্ট।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে নতুন কৌশল নিচ্ছে ইরান। তেলের দাম চড়া রাখতে ও আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেই কৌশল বদলে ফেলা হচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরি করে আলোচনায় সুবিধা পেতে ইরান এ নৌপথে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ দিয়েছে।
ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দামও। তবে এর মধ্যেও কিছু তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
নতুন কৌশলের বিস্তারিত জানাতে রাজি না হলেও এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরানের বিধিনিষেধ অমান্য করা জাহাজের ওপর প্রায় ১০ দিন আগে থেকে ভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে ইরান। এর ফলেই এ ধরনের জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে।’
কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই কৌশলের আওতায় হামলার ধরন ও তীব্রতা—দুটিতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা। দুই কর্মকর্তার একজন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা নস্যাৎ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘নতুন কৌশল গ্রহণের এই সিদ্ধান্ত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায় থেকেই নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
নাম না প্রকাশের শর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইরান তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। মার্কিন হামলায় ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ার পর বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন ছোট ছোট নৌকায় নিরস্ত্র স্পটার পাঠাচ্ছে। এদের কাজ হলো মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ সম্ভাব্য টার্গেট চিহ্নিত করা।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে একটি ঘটনা ঘটে, যা আগে সংবাদমাধ্যমে আসেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত ইরানের একটি প্রথাগত কাঠের নৌযান থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সরাসরি আইআরজিসির কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এরপর মার্কিন বাহিনী নৌকাটিকে ঘিরে ফেলে, আরোহীদের নৌকা ছেড়ে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেয়; পরে সেটিকে ধ্বংস করে দেয়।
চলমান এই যুদ্ধ ও এর পেছনে মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ভার আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের কাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা বিবেচনা করছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে আর ইরানে হামলা চালাবেন না।
এদিকে সংঘাত অবসানে তেহরানকে যেন চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য করা যায়, সে জন্য তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র; সেই সঙ্গে নতুন করে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। একদিকে হামলার হুমকি, অন্যদিকে জাহাজের অতিরিক্ত ভাড়া ও চড়া বিমা খরচ—সব মিলিয়ে এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ ও আশপাশের অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সংস্থা আইএমওর পরিসংখ্যান অনুসারে, এই হামলার হার গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের হামলার হারের মতোই। এটি পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি ঘটার ইঙ্গিত দেয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার তীব্রতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এটি স্পষ্টতই সুপরিকল্পিত।
কর্মকর্তারা জানান, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে তেহরান তাদের সামরিক তৎপরতার ভৌগোলিক পরিধি শুধু হরমুজ প্রণালীতেই সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং তা ওমান উপসাগর ও এর বাইরের বিস্তৃত সমুদ্রসীমা পর্যন্ত ছড়িয়ে দেবে।
হামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এ প্রক্রিয়া সম্ভবত ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এসব তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দিনে ইরান হরমুজের বাইরেও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলবর্তী জলসীমায় জাহাজগুলোকে নিশানা করছে।
দ্বিতীয় ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে কোনোভাবেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে দেবে না তেহরান।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা যখনই ভাববে যে, তেলের দাম কমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, ঠিক তখনই আমরা তাদের সেই সুযোগ থেকে দূরে ঠেলে দেব। এটা দাবা খেলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের জাহাজগুলো কোথাও নিরাপদ থাকবে না, হরমুজ প্রণালীর বাইরেও নয়।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে পেন্টাগন ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের ৩৭ দিনে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকার দখল নিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এএফপির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছে হুতি বিদ্রোহীদের। সেদিন সৌদির চার শহরে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যদিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত।
তারপর পেরিয়ে গেছে এক মাস ৭ দিন, অর্থাৎ ৩৭ দিন। এই ৩৭ দিনে একদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন বড় শহর এমনকি মক্কা-মদিনাতেও ধারাবাহিকভাবে হামলা অব্যাহত রেখেছে হুতি যোদ্ধারা এবং একই সময়সীমায় ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার কিলোমিটার এলাকা নিজেদের দখলে এনেছে।
ইয়েমেনের থিংক-ট্যাঙ্ক সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডি এই সময়কালকে ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নির্ণায়ক এক পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থার এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, এখানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা হলো খোদ ইয়েমেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ইয়েমেনি নাগরিকরা কেমন সমাজে বসবাস করবেন এবং সেই ভবিষ্যৎ কারা নির্ধারণ করবেন—সেসব বিষয়।
‘এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কিছু লক্ষ্যবস্তু হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ১,২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত চার দিনের মধ্যে অন্তত তিনবার হামলা করেছে হুতিরা, যার জেরে কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে বাধ্য হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিমানবন্দরে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর আবহা, নাজরান এবং জিজানের বিমানবন্দরগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় গত এক মাসে সৌদি আরবের অন্তত নয়টি জ্বালানি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে শোধনাগার, তেল ক্ষেত্র এবং গ্যাস প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্ত।
এই হামলাগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে; কারণ এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশটির নির্ভরতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করে, যখন বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। খামিস মুশাইত, নাজরান, জিজান এবং আবহা শহরে হামলার মধ্যদিয়ে এই উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে; এসব হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন এবং তেল স্থাপনাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর হুতিরা এক ঝটিকা স্থল অভিযান চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কৌশলগত পথ ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালী’র নিকটবর্তী লোহিত সাগরের উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।
এর জবাবে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে; উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর থেকে ওই সরকারের বাহিনীগুলো কিছু এলাকায় সাফল্য অর্জন করেছে।
রাতভর ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় রাজধানী কিয়েভে তিনজন নিহত হয়েছেন। আর দেশজুড়ে প্রায় ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার ভোররাতে এসব হামলা চালানো হয়।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার (১১ অক্টোবর) দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতা কার্যকর হয়েছে। অথচ এ দিকে রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে।’
কিয়েভে তিনজন নিহত হলেও রাশিয়া বলেছে, তাদের ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থায় গতিসীমা আরোপের কারণে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সেরহি বেসক্রেস্তনভ বলেন, ‘ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স রাতারাতি স্টারলিংক টার্মিনালগুলোর ওপর গতিসীমা আরোপ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের সেনাদের এ বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়নি। এটা স্পষ্ট যে, এ পদক্ষেপ কোনো কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।’
ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা ১৬০ কিলোমিটার গতিসীমার কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়েছে বলেও জানান জেলেনস্কির উপদেষ্টা। পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়ার নতুন প্রযুক্তির জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্টারলিংক সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।’
পরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, গত রাতে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে স্টারলিংক সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কত গতির পর এ সীমাবদ্ধতা কার্যকর হচ্ছে, তা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, এ পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে জটিল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রসদ সরবরাহ, চালকবিহীন ব্যবস্থার ব্যবহার, মাঝারি পাল্লার হামলা এবং অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যাটির ‘মূল কারণ’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানায় সূত্রটি। ইউক্রেনের সেনাদের ইন্টারনেট সংযোগ দিতে স্টারলিংক এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এর সাহায্যে সেনারা রুশ লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠানো ড্রোন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনীর জন্য স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইলন মাস্ক। এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয় এবং রুশ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। স্টারলিংকের গতি সীমিত করার খবর নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।
জেলেনস্কি এর আগে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতায় সই না করলে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল। তবে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প অস্বীকার করেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ রেখেছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ৩৯টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৮টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
টানা দ্বিতীয় রাতের মতো রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলো কিয়েভ। এর মধ্যেই গতকাল বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেনস্কি। কিয়েভে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সরবরাহ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত দুই রাতেই কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের রাজধানীতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কসংকেত বাজানোর আগেই এসব হামলা হয়েছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সতর্কসংকেত জারি করা এবং সেগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ইউক্রেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে রাজধানী মস্কো এবং ২০১৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়াও রয়েছে।
ভারতজুড়ে মসজিদের মাইকে আজান দেওয়া বন্ধ নিয়ে সমালোচনার মুখে নতুন করে বিতর্কে জড়াল ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এবার ভারতশাসিত কাশ্মীরের মসজিদগুলোতে জুমার খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে দলটি। এ জন্য অভিন্ন নির্দেশনা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলটির এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, পবিত্র জুমার খুতবার বিষয় নির্ধারণের দায়িত্ব ইসলামি পণ্ডিতদের, প্রশাসনের নয়। এই ধরনের পদক্ষেপ মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ভারতশাসিত কাশ্মীরের মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জুমার খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণে অভিন্ন নির্দেশনা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ওয়াক্ফ বোর্ডের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের জোট মুত্তাহিদা মজলিস-ই-উলামা (এমএমইউ)। সংগঠনটি বলেছে, খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের দায়িত্ব ইসলামি পণ্ডিতদের, কোনো প্রশাসনিক সংস্থার নয়।
সংবাদমাধ্যম বলছে, কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এ প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর ওয়াক্ফ বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিজেপির নিয়োগ দেওয়া চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে তার রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করার এই ভুল উদ্যোগ বাতিল করতে হবে।’
অন্যদিকে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতিও এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। ইমামরা কী বিষয়ে বক্তব্য দেবেন, তা কে নির্ধারণ করবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুফতি বলেন, ‘আমাদের ইমাম ও মাওলানারা জানেন, কী বলতে হবে এবং কখন বলতে হবে।’
জম্মু-কাশ্মীর সরকারকে ওয়াক্ফ বোর্ডের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। কাশ্মীরের সংসদ সদস্য আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি বলেন, ‘ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ করলে মিম্বর তার মূল তাৎপর্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা হারায়। মিম্বর কখনো ক্ষমতার কাছে মাথা নত করে না, ভবিষ্যতেও তা হওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, “ওয়াক্ফ বোর্ডের জুমার খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের পরিকল্পনা ‘সমন্বয়ের’ আড়ালে ধর্মবিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত।”
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা বাতিল করে ভারত। এরপর থেকে অঞ্চলটির পুলিশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকার-নিযুক্ত লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে রয়েছে। বর্তমানে এ পদে রয়েছেন মনোজ সিনহা। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর কর্তৃত্ব নেই। একইভাবে জম্মু-কাশ্মীর ওয়াক্ফ বোর্ডও স্থানীয় নির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সব বিরোধী দলকে একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, আর কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন হবে না। এখন একটাই আন্দোলন, আর তার লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ পদযাত্রার পর এসব কথা বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’র ১৬টি দলের নেতাদের নিয়ে চা-চক্রের আয়োজন করেন তিনি। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। যেমনটা বুধবার (১৪ অক্টোবর) বলেছিলাম, আলাদা আলাদা কোনো আন্দোলন নেই। একটিই আন্দোলন, আর তার একটাই লক্ষ্য—ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।’
রাহুলের অভিযোগ, ভারতে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাও নষ্ট করা হয়েছে এবং সংবিধানকে ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করছি।’
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার দিল্লিতে পদযাত্রা করেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। দিল্লির বারাখাম্বা রোড থেকে শুরু হওয়া ওই পদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে নেতারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ আবেদন জমা দেন।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে পদযাত্রা করতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে রাহুল গান্ধী আকাশবাণী ভবন চত্বরে আট ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরদিন জন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েন বিরোধী নেতারা। তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়। এরপর তারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেন।
দিল্লির জন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরিচিত স্থান। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
বিরোধী জোটের নেতারা গত মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেবেন এবং জন্তর মন্তরকে আবার আন্দোলনের জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দাবি প্রকাশের অন্যতম জায়গা ছিল জন্তর মন্তর। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে আর গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ করা যাবে না। আমরা এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের মানুষকে নিজেদের কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এত সহজ হবে না। যারা এসব করেছেন, তাদের বুঝতে হবে, তাদের চারপাশে চাপ বাড়ছে। দেশের সংবিধান ধ্বংস করে পার পেয়ে যাওয়া যাবে না।’
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গত সোমবারের (১২ অক্টোবর) পদযাত্রা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ছিল না। এটি ছিল ভারতের সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের একটি বড় উদাহরণ।’
তিনি বলেন, ‘বুধবার (১৪ অক্টোবর) আপনারা যা দেখেছেন, তা এখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর একার প্রকাশ ছিল না। এটি ছিল ভারতের মানুষের অভিব্যক্তি। সাধারণ মানুষ ও রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া ওই কর্মসূচি সফল হতো না।’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া দিল্লি ও ভারতের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। রাহুল বলেন, ‘এই আন্দোলন আমাদের নিয়ে নয়। এটি ভারতের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে।’
বিরোধী জোটের বৈঠকে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠেয় সমাবেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ওইদিন পার্লামেন্টের আদলে একটি প্রতীকী অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে। এতে ভোটাধিকার হারানো বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের বক্তব্য শোনা এবং জনশুনানির মতো কর্মসূচি আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে।
ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। তার ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে এক মেডিকেল বুলেটিনে জানিয়েছে ভ্যাটিকান।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রোমের জেমেলি হাসপাতালের বক্ষদেশের অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞদের একটি দল পোপের অস্ত্রোপচার করে। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে এ অস্ত্রোপচার। পরে তার ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়।
পরে সফলভাবে অস্ত্রোপচার শেষ হয় এবং কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। অস্ত্রোপচারের পর পোপ স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ফিরে পান। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে নিজের কক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পোপের ডান ফুসফুসের নিচের পুরো অংশ অপসারণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ভ্যাটিকান।
ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ৭১ বছর বয়সি পোপের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ফুসফুসে পিণ্ডটি ধরা পড়ে। সুস্থ হয়ে উঠতে পোপকে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে ভ্যাটিকানের একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার পোপ নিজেই তার অস্ত্রোপচারের খবর বিশ্ববাসীকে জানান। সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের বারান্দা থেকে ঐতিহ্যবাহী অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা ও আশীর্বাদ দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। পোপ জানান, তার ফুসফুসে যে ছোট পিণ্ড বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ধরা পড়েছে, তা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ এবং ‘খুব প্রাথমিক পর্যায়ে’ শনাক্ত হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন।
ফুসফুসে এ ধরনের পিণ্ড বেশ সাধারণ এবং তা সব সময় ক্যানসারযুক্ত হয় না। তবে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমা। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগের পরীক্ষায় চিকিৎসকরা যে ধরনের ক্যানসারের সন্দেহ করেছিলেন, পরীক্ষায় সেটিই ধরা পড়েছে। ভ্যাটিকান জোর দিয়ে বলেছে, সাধারণভাবে সুস্থ-সবল বলে বিবেচিত পোপের শরীরে সংক্রমণ বা অসুস্থতার কোনো উপসর্গ ছিল না।
টোকিওর কার্ডিনাল কিকুচি তারসিসিও ইসাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গত সোমবার পোপ লিওর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন পোপ শারীরিকভাবে ‘কোনো সমস্যা অনুভব করছেন না’ বলে জানিয়েছিলেন। তবে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পোপের আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
কিকুচি বলেন, ‘আগামী নভেম্বরের শুরুতে পোপের লাতিন আমেরিকা সফরের কথা রয়েছে। সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে আগ্রহী হওয়ায় তিনি যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচার করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে পেরুতে যাবেন পোপ। বহু বছর ধরে সেখানে ধর্মপ্রচারক এবং পরে বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
মাঝ-আকাশে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কায় জার্মানি থেকে দিল্লিগামী বিমানকে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হলো রাজস্থানের জয়পুরে। বিমানে বোমা রাখা আছে, ছিনতাইও হতে পারে— এমন একটি খবর রটতেই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
তারপর সেটিকে জয়পুরে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২০৩০ বিমানটি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে উড়েছিল। গন্তব্য ছিল দিল্লি। কিন্তু মাঝ-আকাশে ছিনতাইয়ের খবর রটতেই হুলস্থুল পড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পুর বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের গুজব রটেছিল। বোমাতঙ্ক নয়। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় বলেই জানান তিনি।
তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। বিমানটি যখন ভারতের আকাশে প্রবেশ করে, সেই সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বার্তা দেওয়া হয়। তারপরই বিমানটিকে জয়পুরে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়।
বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়েছে। যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেটিকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ফ্লাইটরেডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টায় ওড়ে বিমানটি। দিল্লিতে পৌঁছোনোর কথা ছিল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে।
আহমদাবাদ ট্রাফিক কন্ট্রোল সকাল ৯টা নাগাদ জরুরি সিগন্যাল পায় বিমান থেকে। সেটি ৯ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল। তারপরই বিমানটিকে ৯টা ১০ নাগাদ জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ সেটি অবতরণ করে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে সহপাইলট হাম্মাম আল-হামামের বিরুদ্ধে।
ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর হামলা চালান সহপাইলট। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান। বিমানটিকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের শেষ শক্তি দিয়ে সহপাইলটকে আটকান। ককপিটের ভেতরে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। কোনো রকমে ককপিট খুলে দেন স্মিত।
তারপর যাত্রীরাই সহপাইলটকে টেনে ককপিট থেকে বার করেন। বিমানে ১৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা বিশ্ব। ক্যাপ্টেন স্মিত বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন তার সাহসিকতা এবং এতজন যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য। সেই ঘটনার রেশ এখনও ফিকে হয়নি। তার মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা ছড়াতেই হুলস্থুল পড়ে যায়।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করলেই তা ধ্বংস করে সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌ শাখার শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি আজমায়ি এ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বলে জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ইরানি এই সেনাকর্তা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি, কখন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আসবে, যাতে আমরা সেগুলো ডুবিয়ে দিতে পারি’।
একই সঙ্গে এমন সংঘাতের প্রস্তুতিতে তেহরানের সেনারা ‘সময় গুনছে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আলি আজমায়ির দাবি, নিজেদের দুর্বলতার কারণেই কৌশলগত এই জলপথের ধারেকাছে ভিড়তে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ‘সাহস পাচ্ছে না’। তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটনের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বিমানবাহী রণতরি প্রণালি থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি দেখতে চায় হরমুজ প্রণালি খোলা নাকি বন্ধ, তাহলে তারা সরাসরি এখানে এসে দেখুক—কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই সমুদ্রপথ।’
তবে কৌশলগত এ নৌরুটে আধিপত্য কায়েমের বিষয়ে তেহরানের যাবতীয় দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সাফ জানিয়েছে, প্রণালির নিরাপত্তা ও কর্তৃত্ব এখনও তাদের এবং মিত্রদেশগুলোর হাতেই রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডারের কোনো নৌবাহিনীই নেই। হরমুজ প্রণালি স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথের কর্তৃত্ব তেহরানের কাছে থাকার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি সেন্টকম দাবি করে, গত সোমবারই এই প্রণালি অতিক্রম করে উপসাগরীয় অংশীদারদের এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনে সক্রিয় সহায়তা দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে দুই দেশের এমন তীব্র বাকযুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালির জলসীমায় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংঘটিত এই বিস্ফোরণে সৌদির পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের খবর না মিললেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজধানী সানার একটি কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুথি বিদ্রোহীরা তেল স্থাপনার আশপাশের বেসামরিক ও কর্মীদের আগেই সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিলেও, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার পরপরই আগুন লেগে যায়, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর আগে হুথিরা তাদের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়ে আসছিল। সানার আল-সাবাহ এলাকায় অবস্থিত ইয়েমেন তেল কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্থাপনায় সৌদি জোটের বিমান হামলার পর সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি দাবি করেন, হুথিরা ওই স্থাপনাটিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন ড্রোন সংরক্ষণের অস্ত্রভান্ডার এবং ভূগর্ভস্থ জ্বালানি মজুতকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। তবে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জোট বাহিনী।
এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সানায় অব্যাহত হামলা চালানো হলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে আরও কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে। এদিকে হুথিদের নিয়ন্ত্রित তেল কোম্পানির দাবি, আল-সাবাহর ওই মজুতকেন্দ্রগুলো আগে থেকেই খালি করা হয়েছিল, ফলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বড় প্রভাব পড়বে না। তবে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় সানার পেট্রলপাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাস ইসা বন্দর ও হোদেইদা প্রদেশের বিভিন্ন তেল স্থাপনাতেও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। নিরাপত্তার অবনতি হওয়ায় এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম, এয়ার ইন্ডিয়া, ইতিহাদ, লুফথানসা ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো সৌদি আরব ও সংলগ্ন অঞ্চলের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। রিয়াদের উত্তরাংশে বেশ কয়েকটি চালকবিহীন ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি জোট। হুথিদের যেকোনো আগ্রাসনের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সৌদি মন্ত্রিসভা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াতেই হুথিরা সৌদি অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোতে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংকট নিরসনে তিনি প্রয়োজনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সহায়তা চাইতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি জোট সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের দমনে ‘ইয়েমেনের ভোর’ নামের জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিমান ও গোলাবর্ষণ চলছে। স্থানীয় অধিকার সংগঠনের অভিযোগ, তাইজজুড়ে হুথিদের লাগাতার গোলাবর্ষণে পাঁচ বছর বয়সী শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। গত মাসে কৌশলগত মোখা বন্দর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশসহ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বিদ্রোহীরা।
অন্যদিকে আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে একটি অস্থায়ী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। দুই দেশ যৌথভাবে নিরাপদ নৌপথ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থার মতে, ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ধ্বংসযজ্ঞ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে সংঘাতের জেরে ইয়েমেনে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি দুই লাখের অধিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
দিল্লির রাজপথে ব্যারিকেড, প্রতিবাদস্থলে নিষেধাজ্ঞা, ধরপাকড়ের মধ্যেও থামছে না তরুণদের আন্দোলন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; তা নরেন্দ্র মোদি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান, বিরোধীদের ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। মঙ্গলবারও (১৩ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভের চেষ্টা করায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। ফলে দমন-পীড়নে আন্দোলন থামবে, নাকি আরও ছড়িয়ে পড়বে—সেই প্রশ্নই এখন সামনে।
যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা, তবু প্রতিবাদ: রয়টার্স ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরও সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেন সিজেপির নেতাকর্মীরা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্কা শিন্ডে। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে জাতীয় পতাকা হাতে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন তারা।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি বাতিল করে প্রতিরোধের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিধিনিষেধ ও অনুমতির বিষয়টি মেনেই সমাবেশ করতে হবে। বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ডের মতো বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাত হাজারের বেশি আটকের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে আটকের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।
বিতর্কের কেন্দ্রে ভোটার তালিকা: আন্দোলনের মূল কারণ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা কার্যক্রম—বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত ও খুঁজে পাওয়া যায়নি—এমন ভোটারদের নামও রয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের একাংশের দাবি, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, সংশোধনের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা নির্ভুল করা এবং ভুলবশত বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে বিতর্কের নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন স্বচ্ছ তথ্য, বাদ পড়া নামের যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত।
বিরোধীদের আন্দোলন, সরকারের ওপর চাপ: কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের নেতারাও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। গত সোমবার বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ও সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে যাওয়ার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দেয়। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছেন।
এদিকে দিল্লিতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে রাখার উদ্যোগের খবরও এসেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২৭৩টি কোম্পানির মোতায়েন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এতে রাজধানীতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার আশঙ্কা স্পষ্ট হচ্ছে।
গণতন্ত্রের পরীক্ষায় মোদি সরকার: বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা। নির্বিচার নিষেধাজ্ঞা বা ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। আবার বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ঘটলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তবে এই আন্দোলনকে মোদি সরকারের পতন বা বিজেপির অভ্যন্তরীণ ভাঙনের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরএসএস-বিজেপির ভেতরে অসন্তোষের নানা আলোচনা থাকলেও তা থেকে দলীয় বিভাজন বা নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো স্পষ্ট নয়।
আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য জবাব কত দ্রুত আসে এবং আন্দোলনকারীরা কতটা সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন। যন্তর মন্তরের দরজা বন্ধ করা গেলেও রাজনৈতিক বিতর্কের দরজা বন্ধ করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতের পরিণতি নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক কঠোরতায় নয়, বরং ভোটারদের আস্থা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকার ওপর। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
সৌদি আরবসহ ৩১টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকদের ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটে ক্রু হিসেবে নিয়োগ বন্ধ করেছে এয়ার ফ্রান্স। ইসরায়েলের নতুন বিধিনিষেধ মেনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই নীতির কারণে ফরাসি বিমান সংস্থাটি বৈষম্যের অভিযোগে মামলার মুখে পড়তে পারে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী প্রকাশনা মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, নাইজারসহ ৩১টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি আর নেই।
এয়ার ফ্রান্স আল জাজিরাকে এক বিবৃতিতে বলেছে, এয়ার ফ্রান্স অন্য সব বিমান সংস্থার মতো যেসব দেশে সেবা দেয়, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশবিধি গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে মেনে চলতে বাধ্য।
ইসরায়েলের এন১২ সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ১ অক্টোবর বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে জানায়, ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা চলবে না, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজ ছিনতাই করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে। ওই পাইলটের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজটির ভারতীয় পাইলটকে হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এয়ার ফ্রান্স বলেছে, তেল আবিবগামী ফ্লাইটের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের চালু করা নতুন বিধিবিধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের এই নির্দেশনায় দেশটিতে যাতায়াতকারী বা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী কয়েক ডজন বিমান সংস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৫টি বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আল জাজিরা জানতে চেয়েছিল, তারা নির্দেশনাটি পেয়েছে কি না এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগে পরিবর্তন এনেছে কি না।
চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম বিমান সংস্থা স্মার্টউইংস জানিয়েছে, তারা নতুন নির্দেশনা পেয়েছে। বর্তমানে তাদের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েনি, তবে বিধিনিষেধ মেনে চলবে তারা।
স্মার্টউইংসের মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনাটি পেয়েছি। আমরা এটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা প্রযোজ্য সব শর্ত পর্যবেক্ষণ ও মেনে চলছি। বর্তমানে এই নির্দেশনা আমাদের কার্যক্রম, ক্রু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা ইসরায়েল থেকে ও ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ক্রু মোতায়েনে কোনো প্রভাব ফেলেনি।’
মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স শুধু বলেছে, এ বিষয়ে তাদের জানানোর কিছু নেই। মিডিয়াপার্টের দেখা এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে সতর্ক করা হয়, এই নির্দেশনা না মানলে এয়ার ফ্রান্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মী সম্ভাব্য শাস্তির মুখে পড়বেন।
এদিকে প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গানদিন বলেন, এ বিধিনিষেধ ফরাসি শ্রম আইনের সঙ্গে এয়ার ফ্রান্সের সংঘাত তৈরি করতে পারে। তার মতে, বিদেশি সরকারের নিরাপত্তা শর্ত মানতে গিয়ে কর্মীদের প্রতি আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা যায় কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
ক্লারা গানদিন আল জাজিরাকে বলেন, এই পদক্ষেপ একটি সামষ্টিক অনুমানের ওপর দাঁড়ানো, যা বৈষম্যমূলক পক্ষপাতের শামিল। এই ৩১ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে, যাদের বেশির ভাগ আরব বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের, সম্ভাব্য নিরাপত্তাহুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এয়ার ফ্রান্সের এ নির্দেশনা গ্রহণকে সরাসরি ‘বৈষম্যমূলক হয়রানি’ বলে মন্তব্য করেন ক্লারা গানদিন।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে সৌদি আরবের অনুমতি চাওয়া হলেও দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় ইয়েমেনে হুতিবিরোধী যুদ্ধে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন সৌদি যুবরাজ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সৌদি আরবের সমর্থন আদায়। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।
এর আগে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরব এখনো তার অবস্থানে অনড়। দেশটির শর্ত, ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে হবে।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযানে যুক্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়।
গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল দিয়ে অগ্রসর হয়ে হুতি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপ দখল করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবহন করা হয়।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে থাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। তীব্র সংঘর্ষের পর তারা মোখা পুনর্দখল করে।
এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। এসব হামলার মধ্যে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। পরদিন রোববারের (১১ অক্টোবর) আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
শনিবারের (১০ অক্টোবর) হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এবং সৌদি আরবের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
একসঙ্গে তিন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একদিকে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরও ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর নতুন করে চাপ। সব মিলিয়ে মোদি সরকারের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি।
তরুণদের আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শুরু হয়েছিল অনেকটা কৌতুকের মধ্য দিয়ে। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে সংগঠনটি আলোচনায় আসে। এবার তাদের লক্ষ্য ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গত এক দশকের বেশির ভাগ সময় মোদিকে রাজনৈতিকভাবে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে হলেও, একাধিক সংকট একসঙ্গে সামনে আসায় তার সরকারের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে।
রাজধানী নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত মানুষকে আটক করা হয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটে। ভোটার তালিকা পর্যালোচনার সাম্প্রতিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।
গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়া নামের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তির, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে যাওয়া মানুষের এবং ৩ কোটি এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ককরোচ জনতা পার্টি এখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিজেপি স্বাচ্ছন্দ্যে জয় পেয়েছে। তবু তরুণদের এই আন্দোলন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশন্সের একটি বিভাগ বিএমআই গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ককরোচ জনতা পার্টির দ্বিতীয় দফার আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। জুলাইয়ের আন্দোলনকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এবার সিজেপির সংগঠন আগের চেয়ে শক্তিশালী, অভিযোগের পরিধি বিস্তৃত এবং বিরোধী দলগুলোর সমান্তরাল আন্দোলনের সমর্থনও রয়েছে। তবে বড় শহরগুলোর বাইরে আন্দোলনে অংশগ্রহণ সমান না হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ চাপের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কঠিন সময় পার করছে মোদি সরকার। কয়েক মাস ধরে আলোচনায় থাকা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির অগ্রগতি কার্যত থমকে গেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
কেন আলোচনা এগোচ্ছে না, সে বিষয়ে দুই দেশের কেউই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি প্রস্তাবিত আইনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত ও চীনও সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে।
ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, মোদি সরকারের বক্তব্যের ধরনে সাম্প্রতিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে সমঝোতার সুর ছিল, এখন সেখানে আরও কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ভারত সরকারের পক্ষে নীরব থাকা কঠিন হয়ে উঠেছে।
কুগেলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের সমালোচনা নিয়ে দেশটির জনসাধারণের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ।
এদিকে, ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রতিষ্ঠান একসময় এই কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, গত পাঁচ বছরে এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মী পাঠানোর ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা সীমিত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় সম্পদ বিক্রি করে অর্থ তুলে নেওয়ার কারণে রুপি চাপে রয়েছে।