বৈরী আবহাওয়ায় হিমালয়ের দেশ নেপালে ভূমিধসে দুটি বাস নদীতে পড়ে আনুমানিক ৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার সকালে ত্রিশূলি নদীতে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানায়, একইদিন পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন। খবর: ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্পা কমল দহল। সুষ্ঠুভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র দান বাহাদুর কারকি বলেন, কাঠমন্ডুর ৮৬ কিলোমিটার পশ্চিমে চিতান জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। কাঠমন্ডু থেকে গরের দিকে যাওয়া বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিল এবং বীরগঞ্জ থেকে কাঠমন্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বাসটিতে আরও ২৪ জন। ত্রিশূলি নদীতে উভয় বাস নিখোঁজ হয়েছে।
কারকি আরও বলেন, কাঠমন্ডু থেকে ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) পশ্চিমের কাসকি জেলায় পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে হিমালয়ের এই দেশটিতে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের এই অভিযানে আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। যদিও এই হামলার বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে আফগান সূত্রগুলো হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত সাতটি গোপন আস্তানা ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এই হামলায় গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ক্যাম্পেও হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলাসহ সাম্প্রতিক সময়ের বড় বড় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আফগানিস্তানে অবস্থানরত সশস্ত্র নেতাদের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শনিবার রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু বিভাগে সংঘটিত একটি আত্মঘাতী হামলার পরপরই পাকিস্তান এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল। বান্নুর ওই হামলায় এক লেফটেনেন্ট কর্নেলসহ দুজন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হন। এর আগে গত সোমবার বাজাউরে নিরাপত্তা চৌকির কাছে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১১ জন সেনা ও এক শিশু প্রাণ হারায়, যার সঙ্গে আফগান নাগরিকের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। মূলত নিজ দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূল করতেই পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে এই বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক চরম অস্থিরতার মুখে পড়ল।
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্তত এর বড় অংশের ওপর ইসরায়েলের ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ রয়েছে। পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ইসরায়েল যদি পুরো ভূখণ্ডও নিয়ে নেয়, তাতেও তার আপত্তি নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা ও আরকানসাসের সাবেক গভর্নর সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের ব্যাখ্যা নিয়েও কথা বলেন।
আলোচনায় বাইবেলের একটি আয়াতের প্রসঙ্গ তোলেন কার্লসন। সেখানে বলা হয়েছে, ঈশ্বর ইব্রাহিমের বংশধরদের জন্য মিসরের নদী থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক মানচিত্রে ওই এলাকা লেভান্ট অঞ্চলসহ ইসরায়েল, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন এবং সৌদি আরব ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
জবাবে হাকাবি বলেন, এটি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে এটিকে তিনি একটি বিশাল ভূখণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, সৃষ্টিকর্তা ইব্রাহিমের মাধ্যমে নির্বাচিত এক জনগোষ্ঠীকে এই ভূমি দিয়েছেন।
কার্লসন সরাসরি জানতে চান, ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের অধিকার আছে কি না। উত্তরে হাকাবি বলেন, তারা যদি পুরোটা নিয়ে নেয়, সেটাই সুন্দর হবে।
এর আগে ইসরায়েল সফরে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ‘অস্বাভাবিক আচরণের’ শিকার হওয়ার দাবি করেছিলেন কার্লসন। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, তিনি নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়েই গেছেন।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কার্লসনের সমালোচনা করেন। একইভাবে হাকাবিও এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ইসরায়েলসহ যেকোনও দেশে ভ্রমণকারীদের নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা ও নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কার্লসন রক্ষণশীল রাজনীতির মূলধারায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, হাকাবি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে মার্কিন প্রশাসন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তাঁর পুত্র ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনাও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই অচলাবস্থা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সরাসরি সামরিক সংঘাতের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি বিশেষ শর্তে ইরানকে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে, তবে তার জন্য দেশটিকে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি পরিত্যাগের অকাট্য প্রমাণ দিতে হবে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী যা তিনি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। তবে তেহরান যদি সময়ক্ষেপণ করে কিংবা শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে পেন্টাগনের হাতে থাকা ‘চরম বিকল্পগুলো’ সক্রিয় করা হতে পারে। এই বিকল্পগুলোর মধ্যেই আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তাঁর ঘনিষ্ট মোল্লাতন্ত্রের শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করার পরিকল্পনাটি কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পেন্টাগন যে কোনো সময় ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং খবর পাওয়া যাচ্ছে যে মার্কিন বাহিনী চলতি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই হামলার নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার চেয়ে সামরিক সংঘাতেরই সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে যৌথ মহড়া তেহরানের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে তাঁরা একটি বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব জমা দেবেন। জেনেভায় আলোচনার সূত্র ধরে তেহরান দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটন তাঁদের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণে’র জন্য বাধ্য করেনি, বরং পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও যুক্ত আছেন। প্রস্তাবিত কারিগরি ব্যবস্থার মধ্যে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ কিংবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য ব্যাপক নজরদারির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, বল এখন ইরানের কোর্টে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তেহরানের লিখিত প্রস্তাবটি কতটা বিস্তারিত এবং আন্তরিক, তার ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। যদি কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প যে কোনো মুহূর্তে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। ২০১৭ সালে শেষবার চীন সফরের পর আবারও বেইজিং যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে যোগাযোগ ইতিবাচক ছিল। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটেই এই সফর চূড়ান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিকল্পিত সফর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি মারাত্মক একটি সফর হতে চলেছে।’
ট্রাম্পের এই সফরের ঘোষণা আসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আগে। ওই রায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর তার আরোপিত শুল্ক বাতিল করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য দেশকে নীতিগত সমর্থনে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবেই ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
বেইজিং বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে শুল্ক ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপের বিষয়ে চীনের প্রতিক্রিয়াও উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি কমানো বা বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে, যা একসময় চীনে মার্কিন রপ্তানির শীর্ষ পণ্য ছিল।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই হামলায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বন্দুকধারীরা। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই তাণ্ডব শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জামফারা রাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুছে গ্রামে অব্যাহত ছিল। মোটরসাইকেলে চড়ে আসা শত শত বন্দুকধারী গ্রামটিতে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। স্থানীয় আইনপ্রণেতা হামিসু এ ফারু এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক গ্রামে আক্রমণ চালিয়েছে।
এই নারকীয় ঘটনার পেছনে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীর চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। গ্রামবাসীদের দাবি, হামলার অন্তত একদিন আগে প্রায় ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র লোকজনকে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল এবং এ বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে এই বিশাল পরিমাণ প্রাণহানি ঘটেছে। জামফারা ও পার্শ্ববর্তী নাইজার অঙ্গরাজ্যগুলোতে গত কয়েক বছর ধরেই সশস্ত্র ডাকাত দল ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই নাইজার অঙ্গরাজ্যে পৃথক এক হামলায় আরও ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্রটিই ফুটিয়ে তোলে।
নাইজেরিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা দমনে সহায়তার লক্ষ্যে সম্প্রতি ১০০ মার্কিন সেনার একটি বিশেষ দল নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছে। নাইজেরীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই মার্কিন সেনারা সরাসরি কোনো সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেবেন না; বরং তাঁরা স্থানীয় বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করবেন। মূলত ড্রোন প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে অপরাধী চক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে এই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় এই সহায়তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না স্থানীয়দের মধ্যে।
থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই প্রদেশের একটি ব্যক্তিগত সাফারি পার্কে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রাণঘাতী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে অন্তত ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আকস্মিক এই বিপুল সংখ্যক বাঘের মৃত্যুতে দেশটির প্রাণী সংরক্ষণ ও পর্যটন খাতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
চিয়াং মাইয়ের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, বাঘগুলো মূলত মারাত্মক সংক্রামক 'ক্যানাইন ডিস্টেম্পার' ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। এর পাশাপাশি তাদের শরীরে এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা শ্বাসযন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতনামুংক্লানন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাঘের মতো বন্য প্রাণীর অসুস্থতা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। বিড়াল বা কুকুরের মতো পোষা প্রাণীর অসুস্থতা সহজে বোঝা গেলেও, বাঘের ক্ষেত্রে লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার আগেই রোগটি চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ফলে যখন কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছে যে প্রাণীগুলো অসুস্থ, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল এবং চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি।
ঘটনাটি ঘটেছে চিয়াং মাইয়ের আলোচিত 'টাইগার কিংডম' সাফারি পার্কে। এই পার্কটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ এখানে দর্শকদের বাঘ স্পর্শ করার এবং তাদের সাথে সরাসরি ছবি তোলার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পার্কের ব্যবস্থাপনা ও বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন আকর্ষণের জন্য বাঘগুলোকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ কতটা বজায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, বাঘের এমন মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংস্থা 'পেটা এশিয়া'। সংস্থাটি দাবি করেছে, এই সাফারি পার্কে বাঘগুলোকে অত্যন্ত প্রতিকূল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতো। বন্দীদশা ও প্রতিনিয়ত পর্যটকদের সংস্পর্শে থাকায় প্রাণীগুলো দীর্ঘকাল ধরে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার শিকার ছিল বলে তাদের অভিযোগ। পেটা এশিয়ার মতে, বন্যপ্রাণীকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বন্দি করে রাখা এমন নেতিবাচক ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের অন্যান্য সাফারি পার্কগুলোতেও প্রাণীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়ি করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। একের পর এক সামরিক মহড়া, রণতরী মোতায়েন এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানোয় পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে দুই দেশ।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি বা মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিতে চাপে পড়ে বসে নেই ইরানও। কূটনৈতিকভাবে সমাধানের কথা বললেও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখার দাবি করছে তেহরান। আলোচনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনা আগের চেয়ে আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছে ইরান।
ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ফাইটার জেট ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ফাইটার জেট সংগ্রহ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি। বিমানঘাঁটিগুলোও দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে, যাতে আকস্মিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা আঘাত হানা সম্ভব হয়।
সেমনান প্রদেশের বৃহত্তম শহর শাহরুদে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ইতোমধ্যে পুনর্গঠিত হয়েছে। যুদ্ধকালীন মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এখন সেখানে আগের তুলনায় দ্রুত ও বেশি পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্ভব।
যুদ্ধের প্রস্তুতির মাঝেই কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। জেনেভায় ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক হয়েছে, যদিও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
ইরান নতুন করে একটি ডিফেন্স কাউন্সিল গঠন করেছে। সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানিকে এই কাউন্সিলের সচিব করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং উদীয়মান হুমকির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ চলছে।
পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী জোরদার মহড়া চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজে সামরিক কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। দেশে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন দমন করা হয়েছে কঠোরভাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কোনো সংঘাত হলে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো অঞ্চলে।
গত সাত বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ বিরতির পর হালনাগাদ করা তথ্যে দেখা গেছে যে গত সাত বছরে দারিদ্র্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিছুটা সফল হলেও গত কয়েক বছরে সেই ধারা পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, দারিদ্র্যের এই ঊর্ধ্বগতি পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আমূল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল গ্রামাঞ্চলেই নয়, পাকিস্তানের শহরগুলোতেও দারিদ্র্যের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, শহর এলাকায় দারিদ্র্যের হার আগে ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে ১৭.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে এই হার ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে দেশটির অধিকাংশ মানুষই জীবনযাত্রার মৌলিক মান ধরে রাখতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করেছে।
প্রাদেশিক পর্যায়ের তথ্যে দেখা যায়, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ বলে পরিচিত পাঞ্জাব প্রদেশেও দারিদ্র্য ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৩ শতাংশ হয়েছে। সিন্ধু প্রদেশে এই হার বর্তমানে ৩২.৬ শতাংশ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ৩৫.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে বেলুচিস্তানে, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পরিকল্পনামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রাদেশিক সরকারগুলোর উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিনগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও বৈষম্যের উচ্চ হার কমানো সম্ভব হয়নি।
দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি পাকিস্তানে অর্থনৈতিক বৈষম্যও আগের চেয়ে প্রকট হয়েছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের মতে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী অভিঘাত এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্তযুক্ত কর্মসূচি এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী। বিশেষ করে পাকিস্তানি রুপির চরম অবমূল্যায়নের ফলে দেশজুড়ে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, দেশকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে আইএমএফ-এর কঠিন শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া সরকারের কাছে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ দেশের নাগরিকদের অতিদ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে সুইডেন। ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্টকহোম। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড এক বিবৃতিতে ইরানে অবস্থানরত সুইডিশ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে দেশটি ছাড়ার এই কড়া আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে যাওয়ার জন্যও সকল নাগরিককে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আকাশপথ ও স্থল সীমান্তগুলো উন্মুক্ত থাকায় এখনও ইরান ত্যাগ করা সম্ভব। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সুযোগ থাকা অবস্থাতেই সকল সুইডিশ নাগরিককে কোনো প্রকার বিলম্ব না করে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানে অবস্থান করবেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিজেদেরই নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে সরকার কোনো বিশেষ উদ্ধার অভিযান বা সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করতে পারবে না।
সুইডেনের এই কঠোর অবস্থান মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সূত্র ধরে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে জেনেভায় চলমান সংলাপের মাঝেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ বাধ্য করতে সীমিত আকারের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে তাঁর প্রশাসন। তেহরান যদি দ্রুত নমনীয় না হয় তবে ‘অপ্রীতিকর কিছু’ ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি সামরিক অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টাও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সুইডেনের এই ত্বরিত পদক্ষেপে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আপাতত সুইডিশ নাগরিকদের নিরাপদ প্রস্থানই স্টকহোমের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী দেশটিকে কড়া ‘কূটনৈতিক চরমপত্র’ প্রদান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় সম্প্রতি এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার জেরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার যদি সন্ত্রাসীদের দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এর ফলাফল ভালো হবে না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা যাদের ইসলামাবাদ বর্তমানে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ হিসেবে অভিহিত করছে, তারা এই হামলার নেপথ্যে ছিল। একটি বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগামী যান নিয়ে সন্ত্রাসীরা বাজাউরের একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকির দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং একজন সাধারণ পথচারী প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করে এবং এতে অন্তত ১২ জন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, বাজাউর হামলায় অংশ নেওয়া আত্মঘাতী সদস্যরা কেবল আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহারই করেনি, বরং তারা সেই দেশের ভেতরেই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। এই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পাকিস্তান সরকার কাবুলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক চরমপত্রে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কাবুলের অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে ‘তাৎক্ষণিক, সুনির্দিষ্ট এবং যাচাইযোগ্য’ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাকিস্তান মনে করে, প্রতিবেশী দেশের নমনীয় অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো সীমান্তে বারবার রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।
পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে ভারতের ওপরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য সক্রিয় কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মদদ ও অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তবে বরাবরের মতোই নয়াদিল্লি পাকিস্তানের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে প্রত্যাখান করেছে। ভারত জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার অন্য দেশের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানকে দেওয়া পাকিস্তানের এই চরমপত্র দুই দেশের মধ্যকার বিরাজমান শীতল সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা তথা ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। টিটিপির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এর আগেও ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে একাধিকবার বাদানুবাদ হয়েছে। বর্তমান এই চরমপত্রের পর তালেবান সরকার কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সীমান্তে সন্ত্রাস দমনে তারা কতটুকু সহযোগিতা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী তৎপরতা নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে যৌথ নৌ-মহড়া চালিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রাশিয়ান নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে এই মহড়ার সমাপ্তি ঘটে।
আইআরএনএ–এর তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক কূটনীতির উন্নয়ন, সামরিক মিথস্ক্রিয়া সম্প্রসারণ এবং আভিযানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবেই এ নৌ-মহড়া পরিচালিত হয়েছে। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্প্রতি আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌবহরের উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং এসব বহর থেকে ইরানে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার সঙ্গে নৌ-মহড়া চালায় তেহরান।
মহড়া শেষ হওয়ার আগের দিন তেহরানে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আইআরএনএ জানায়, উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ বাস্তবায়নে পেজেশকিয়ান দৃঢ় সংকল্পের ওপর জোর দেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই বৈঠকগুলোর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে ইরান জাতিসংঘকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন করে তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা এবং সম্পদগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস–কে লেখা এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দে, চিঠিটি দেখার সুযোগ পেয়েছে এএফপি।
চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। বুধবার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান চুক্তি না করলে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ইরাভানি চিঠিতে লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একটি যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির সংকেত দেয়। এমন আগ্রাসনের ফলাফল এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরের নামকরণ করা হবে। অঙ্গরাজ্যের আইনসভা বৃহস্পতিবার একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নামে একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের নথি অনুযায়ী, রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত ফ্লোরিডা আইনসভা পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ রাখার বিল অনুমোদন করেছে।
গভর্নর রন ডেসান্টিস বিলটিতে স্বাক্ষর করে এটিকে আইনে পরিণত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বালুকাময় সৈকত ও বিলাসবহুল আবাসনের জন্য পরিচিত পাম বিচ শহরের এই বিমানবন্দরটি ট্রাম্পের মার-আ-লাগো বাসভবন থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।
বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভবনে নিজের নাম সংযুক্ত করা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প দেশের ওপর নিজের ছাপ রাখতে নজিরবিহীন ভাবমূর্তি ও স্থাপনা-কেন্দ্রিক প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের নামে নামকরণ হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এটি যুক্ত হবে।
ওয়াশিংটনে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি-এর স্মৃতিতে নির্মিত শিল্পকলা কমপ্লেক্স জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস-এর ট্রাম্প-নিযুক্ত বোর্ড গত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখার পক্ষে ভোট দেয়।
একই মাসে পররাষ্ট্র দপ্তর যুক্তরাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অব পিস-এর সঙ্গে ট্রাম্পের নাম সংযুক্ত করে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পেন স্টেশন এবং ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর নামও নিজের নামে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন, তবে সে প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যাত হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সংবলিত স্মারক এক ডলারের মুদ্রার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে—যদিও দায়িত্বে থাকা বা জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে।
বিচার বিভাগীয় সদরদপ্তরে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মুখাবয়বসংবলিত একটি বড় নীল ব্যানার টাঙানো হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী ভারত।’
তিনি ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং নরেন্দ্র মোদির চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
জয়সওয়াল জানান, ওই চিঠিতে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক ও উষ্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে নয়াদিল্লি আশা করছে।
ব্রিফিংয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির আলোচনা হবে।
এদিকে তিনি জানান, ভারত সরকার ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ‘ইরানে অবস্থানরত আমাদের নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি) জারি করা হয়েছে।’