নেপালে শুক্রবার (১২ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড আস্থা ভোটে হেরে গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে নতুন জোট সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। নতুন এ সরকারের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে সরকার গঠন করেছিলেন পুষ্প কমল দহল। তখন তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এরপর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তাকে তিনবার জোট বদলাতে হয়। আর পাঁচবার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হয়। তবে শেষমেশ গতকাল পঞ্চমবারের অনাস্থা ভোটে হেরে যান তিনি।
ইউএমএল পার্টির আইনপ্রণেতা যোগেশ ভট্টরাই শুক্রবার বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে নতুন জোট সরকারের প্রয়োজন ছিল। এর মধ্য দিয়ে নেপালে ২০ মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে নেপালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপর থেকে গণতান্ত্রিক নেপালে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা। কে পি শর্মা ওলি নতুন সরকার গঠন করলে সেটা হবে ২০০৮ সালের পর দেশটিতে ১৪তম গণতান্ত্রিক সরকার। নেপালের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সব সময় বড় দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কড়া নজরদারিতে থাকে।
হিমালয়ঘেঁষা নেপালে এ দুই দেশের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। দিল্লি ও বেইজিং নেপাল ও নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে চায়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের সরকারের ওপর থেকে গত সপ্তাহে সমর্থন তুলে নেয় অন্যতম বৃহত্তম জোটসঙ্গী লিবারেল কমিউনিস্ট ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন কে পি শর্মা ওলি। এরপর পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ৬৯ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের সামনে দুটি বিকল্প খোলা ছিল। হয় তাকে সরকারপ্রধানের পদ ছাড়তে হবে, নতুবা পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। পুষ্প কমল দ্বিতীয় বিকল্প বেছে নিয়ে ব্যর্থ হন।
কে পি শর্মা ওলি এর আগে দুবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত জুনের শেষদিকে তিনি মধ্যপন্থি দল নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। ফলে পার্লামেন্টে এই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ সুগম হয়। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, কে পি শর্মা ওলি নতুন সরকার গড়বেন। তবে গতকাল পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পুষ্প কমল হেরে যাওয়ার পর কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বে নতুন জোট সরকার কবে নাগাদ দায়িত্ব নেবে সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। ভোটাভুটিতে উতরে যেতে সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমলের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে ন্যূনতম ১৩৮টি ভোট দরকার ছিল। গতকাল পার্লামেন্টে হাজির ছিলেন ২৫৮ সদস্য। তাদের মধ্যে পুষ্প কমলের পক্ষে ভোট দেন মাত্র ৬৩ জন। আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯৪টি। বাকি একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। স্পিকার দেব রাজ ঘিমিরি ভোট গণনা শেষে বলেন, আস্থা ভোটে পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অপসারণ করেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিচালনা পর্ষদ অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস-এর ভোটাভুটিতে তাকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে করিম খানের আইনি দল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র চাপের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ ব্যারিস্টারকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
করিম খানের আইনি দলের প্রধান তাইয়াব আলী জানান, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিষেবা দপ্তরের (ইউএনওআইওএস) প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিল, করিম খান কোনো আইনি কাঠামো বা দায়িত্ব লঙ্ঘন করেননি। আদালতের এই স্বাধীন তদন্তকে উপেক্ষা করেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য দাবি করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা তখন টিকে থাকে যখন এর নির্বাচিত কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বা কার্যপ্রণালীগতভাবে অন্যায্য অপসারণ থেকে সুরক্ষা পান। অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা অবস্থায় তাকে শুনানির ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সামনে আসার প্রায় দুই বছর পর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বরখাস্তের চূড়ান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন করল। এর আগে গত জুনে তদারকি প্যানেল মারাত্মক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানালে তিনি পদ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
আইসিসি জানিয়েছে, আপাতত করিম খানের জায়গায় ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীন খান এবং মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং প্রসিকিউটরের দায়িত্ব সামলাবেন। ‘স্যারা’ ছদ্মনামের এক নারী সিএনএনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ঘুমানোর ভান করে থাকার সময় করিম খান তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছিলেন। করিম খান শুরু থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েন করিম খান। তৎকালীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল এক নিবন্ধে সতর্ক করেছিলেন, করিম খানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আইসিসির ওপর এক বড় ধরনের আক্রমণের অংশ। করিম খানের অপসারণের পর নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও আগামী বছরের আগে সেই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই রদবদলের ফলে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ তা প্রত্যাহারের এখতিয়ার কেবল আইসিসির বিচারকদের রয়েছে।
এদিকে করিম খানের বরখাস্তের খবর সামনে আসতেই আইসিসির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার দাবি করেন, নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা দিতে করিম খান ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তিনি আদালতটিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।
অন্যদিকে, হেগে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশন ইসরায়েলের এই দাবিকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, করিম খান বরখাস্ত হলেও যেকোনো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা সবসময় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিরিয়া সফরে গিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার এ সফরের মাধ্যমে ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব দেশটি সফর করলেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গুতেরেস শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এ সময় তাকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি স্বাগত জানান।
দেশটিতে সফরকালে গুতেরেস রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আল-শারা নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার সাবেক কমান্ডার ছিলেন। গত বছর পর্যন্ত তার ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব সিরিয়া সফর করছেন। এরপর দেশটিতে দীর্ঘ ১৪ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
এ ঘটনাকে আল-শারার জন্য আরও একটি কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ২০২৪ সালে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করে আসছেন।
আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি দেশটিতে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা এবং সিরীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমিও সফর করবেন। সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ইউএনডিওএফের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, গুতেরেসের এই সফর একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে। সিরিয়ার সামনে শুধু সংঘাত থেকে পুনরুদ্ধারেরই নয়, বরং এমন এক ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যা দেশটিকে আগামী দিনে আরও স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
গুতেরেসের সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দেশটিতে কয়েক দিন অবস্থান করবেন। আগামী সোমবার তিনি সিরিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে পারেন।
বাশার আল-আসাদের পতনের পর সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও সিরিয়া সফর করেছেন। তার সফরকালে রাজধানী দামেস্কের একটি এলাকায় দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরই গুতেরেস দেশটিতে সফর করছেন।
সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোমা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী সেলটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলের (আইএসআইএস) সঙ্গে যুক্ত।
ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। তীব্র গরম ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুরু হওয়া এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। দাবানলের কারণে ফ্রান্স ও স্পেনে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকা জিরোন্দ ও লঁদের বাসিন্দাই ২ লাখ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে একটি দাবানল ছড়িয়ে দমকলকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রাজধানীর পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়া তিনটি দাবানল একত্রিত হয়ে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেওয়ার পর তারা এ সতর্কবার্তা দেন।
এ অবস্থায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। দেশটিতে ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
মাদ্রিদ প্রাদেশিয় প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এটিকে ‘অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, তীব্র তাপপ্রবাহ, টানা বাতাস এবং দাবানল থেকে সৃষ্ট একাধিক অগ্নিকাণ্ডের মিলিত প্রভাবে ‘পারফেক্ট স্টর্ম’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্পেনের স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরের রোবলেদো দে চাভেলা ও ফ্রেসনেদিয়াস দে লা অলিভা পৌর এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দাবানল। মাদ্রিদের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো সাংবাদিকদের বলেন, চরম আকার ধারণ করেছে দাবানলটি। এটিকে এখন নিয়ন্ত্রণে আনা দমকলকর্মীদের সক্ষমতার বাইরে। সরাসরি আগুন নেভানোর কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই কেবল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কার্লোস নোভিয়ো আরও জানান, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য এল এসকোরিয়াল শহরের আশপাশের এলাকাগুলোকে রক্ষা করা।
নিকটবর্তী আভিলা প্রদেশে পৃথক আরেকটি দাবানলও পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। সেখানকার বুর্গোন্দোর বিশাল দাবানলটি মাদ্রিদের আগুনের সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, দুটি দাবানল যাতে যুক্ত না হতে পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো মার্তিন সতর্ক করে বলেন, নিহতের বা ক্ষতিগ্রস্তের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ বাতাসে আগুনের ফুলকি কয়েক মাইল দূরে গিয়ে পড়ছে যার ফলে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। আর আভিলার দাবানলে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়েছে।
চাপিনেরিয়া, নাভাস দেল রে, কোলমেনার দেল অরোইও, ফ্রেসনেদিয়াস দে লা ওলিভিয়া, রবলেদো দে চাভেলা, আলদিয়া দেল ফ্রেসনো, নাভালাগামেলা এবং জারজালেজোসহ আটটি পৌরসভার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সান মার্টিন দে ভালদেইগলেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেস এবং ভিলা দেল প্রদোসহ আরও কয়েকটি শহরে বাসিন্দাদের ওপর বাইরে বের না হওয়ার বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
স্পেন সরকারের প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি সমন্বয়কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এর আগে শুক্রবার সানচেজ বলেন, একটি মারাত্মক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বুর্গোহন্দোর দাবানলের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেনের সিভিল গার্ড। আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অবহেলার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের অঞ্চল জিরোন্দ ও লঁদের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জিরোন্দে ১৯ হাজার হেক্টরের (৪৬ হাজার একর) বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এলাকাটিতে সারা বছর প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস হলেও গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে জনসংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়।
আরও দক্ষিণে লঁদ অঞ্চলের বিসকারোসের কাছে আরেকটি দাবানলের কারণে বাড়িঘর, ক্যাম্পসাইট, একটি বৃদ্ধাশ্রম এবং একটি সামার ক্যাম্প থেকে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাখোঁ দেশের দাবানল পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করেছে। সহায়তা হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা আসবে।
স্পেন ও ফ্রান্সে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দক্ষিণ ইউরোপের বড় একটি অংশজুড়ে ক্রমাগত দাবদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরা চলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ।
অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া গাছপালার আর্দ্রতা শুষে নিচ্ছে। ফলে এসব শুকনো গাছপালা দাবানল জ্বলে ওঠার এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তবে আগুনের শুরু একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে হয়, যা সাধারণত অসাবধানতাবশত বা ইচ্ছাকৃত মানবিক কর্মকাণ্ড কিংবা বজ্রপাত থেকে ঘটে।
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টিকে গণতন্ত্র এবং রাজপথের লড়াইয়ের সরাসরি জয় হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি একে শান্তি, ধৈর্য আর অধ্যবসায়ের জয় বলে আখ্যা দেন। হাসপাতালের বিছানা থেকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখানো এক ছবি শেয়ার করে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদে যোগ দেওয়া সাধারণ মানুষকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির আন্দোলনে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। গত বৃহস্পতিবার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে নেট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনার আশ্বাস, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং নেট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানানোর পর তিনি ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এখন আলোচনা শুধু দায়বদ্ধতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা সংস্কারের দিকে এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে সরকারের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় দফার বৈঠকের ঠিক আগে এক্সে দুই পাতার দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। গত দশ দিনের ঘটনায় গভীর বেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি তার কাছে কোনো ব্যক্তিগত অহংকারের বিষয় নয়। নেট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের জেরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতির পুরো দায়িত্ব শুরু থেকেই নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন তিনি। পরীক্ষা মাফিয়ার হাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেবেন না বলেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর ‘লং লিভ স্টুডেন্ট পাওয়ার’ স্লোগান দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে সিজেপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এটিই প্রকৃত গণতন্ত্র। তেলাপোকার শক্তির সঙ্গে কেউ যেন বিশ্বাসঘাতকতা না করে।
থামছে না ককরোচদের আন্দোলন
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজীত দীপকে বলেন, জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলবে যতদিন না অন্য দুইটি দাবি পূরণ হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) জন্তর মন্তরে ভাষণ দেওয়ার সময় দীপকে বলেন, প্রধানের পদত্যাগ প্রমাণ করল যে, যারা ভয় পেতে অস্বীকার করে, তারা জিততে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ না দেয় এবং ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আন্দোলন থামবে না।
এক্সে দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটিই গণতন্ত্র। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমাদের আরও দুটি দাবি রয়ে গেছে। আমরা এভাবে যাব না। ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে তাদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাদের এটি দিতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো গত ২০ জুলাই পুলিশের যেসব গুণ্ডা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখবেন— ককরোচদের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে যাবেন না।’
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসেনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ‘আলোচনার অযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৃহ (২৪ জুলাই) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বিস্তারিত বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অংশ নেন। সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে সৌরভ দাস বলেন, তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না।
তিনি আরও জানান, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।
সিজেপির প্রতিনিধিরা বলেন, সরকার মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা কিছু মেনে নেবেন না।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এ বিষয়ে (শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ) সরকার আমাদের কাছে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে দেবে অথবা তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তাহলে এ সংকটের একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।’
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে শনিবার আবারও আলোচনা হবে।
দ্য হিন্দু বলছে, এটি সিজেপি ও সরকারের মধ্যে তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক (গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল)।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৫৭ বছর বয়সি এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
দিল্লির জন্তর মন্তরে সিজিপির (CJP) নেতৃত্বে অবস্থানরত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকলেও সরকারি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে যে, সরকার মন্ত্রীর পাশেই রয়েছে।
সরকারের মতে, পদত্যাগ করা হলো সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং আমরা কাজ করে দেখাব।
সূত্র আরও জানায়, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সমস্যাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুতই এগুলোর সমাধান করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁসে জড়িত একাধিক চক্রকে ধরা হয়েছে এবং সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ইতোমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করেছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘ আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের সমর্থনে আমরণ অনশনে থাকা অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুক তার অনশন ভঙ্গ করেছেন।
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে পার্লামেন্টমুখী মিছিলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) জানিয়েছে, তারা এ-সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিলেও সিজেপির অবস্থান, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করা।
এদিকে সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সরকারবিরোধী এ আন্দোলনকে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে যুবসমাজের ছুড়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণসমাজের আন্দোলনের প্রতি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও সমর্থন জানিয়েছে। এ আন্দোলনকে ঘিরে চলতি সপ্তাহে ভারতের সংসদে শুরু হওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশন বারবার মুলতবি হচ্ছে।
তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রবল বাতাসে ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এএফপির প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ইউরোপের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
কয়েক দিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ইতালির সিসিলি দ্বীপ। সেখানে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় হাজার সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ইতালি সরকার। পাশের কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের বোর্দো এলাকার কাছে সমুদ্রতীরবর্তী পাইনবনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার (২২ জুলাই) থেকে লে পর্জের দাবানলে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি এবং হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হন।
এদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। যদিও সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরও বড় একটি দাবানল নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের শত শত কর্মী কাজ করছেন। এ দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত আমেরিকার বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ‘আরাশ’ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী এই অভিযানের কথা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের’ মোক্ষম জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহেরের বরাতে শুক্রবার এই সংবাদ প্রকাশ করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি, দোহা ক্যাম্প এবং ক্যাম্প আরিফজানকে লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো পাঠানো হয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সেনাদের অবস্থান, সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম সংরক্ষণাগারে এসব ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা স্পষ্ট করেছে যে, ‘আগ্রাসী শত্রুর’ হামলার প্রতিবাদ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।
বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী আরও জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া হুমকি ইরানের জনগণ বা সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং তা তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে। যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা আরও কঠোর অবস্থান নেবে। ইরান সতর্ক করে বলেছে যে, নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র খোলার বা সামরিক অভিযান চালানোর প্রচেষ্টা হবে প্রতিপক্ষের জন্য একটি ‘কৌশলগত ভুল’ এবং এর ফলে তাদের ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
এর আগে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর ২৪তম পর্যায়ে বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতেও ‘আরাশ’ ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছিল ইরান। সেই সময় বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির জ্বালানি ও সরঞ্জাম গুদাম এবং জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটির বিমান হ্যাঙ্গার ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছিল বলে জানানো হয়। তবে কুয়েত, কাতার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই সাম্প্রতিক দাবিগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলে সৌদি আরবের এক রাজপুত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ প্রকাশ পেয়েছে। ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত মদ্যপান ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি প্রাণ হারান। ২৯ বছর বয়সী মৃত ওই যুবরাজের নাম প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জলাউই আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের সফরে তিনি ওই হোটেলে অবস্থান নেন। মৃত্যুর আগের রাতে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে এবং পরবর্তীতে একাই নিজের কক্ষে ফিরে যেতে দেখা যায়। পরদিন হোটেলের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কক্ষের দরজা খুলে পঞ্চম তলার বাথরুমের মেঝেতে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ময়নাতদন্ত ও বিষবিদ্যা (টক্সিকোলজি) পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুবরাজের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ইংল্যান্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর আইনি সীমার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া তার শরীরে গামা-হাইড্রোক্সিবিউটিরেট (জিএইচবি) নামক এক বিশেষ মাদক, গাঁজা এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধ অ্যালপ্রাজোলাম (জ্যানাক্স) সহ আরও কিছু ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুবরাজের শরীরে আগে থেকে কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর শারীরিক জটিলতা ছিল না। মূলত মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল ও একাধিক মাদকের সংমিশ্রণে সৃষ্ট বিষক্রিয়া থেকেই তার শরীরে হৃদ্রোগের সৃষ্টি হয় এবং তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
অ্যাপল আইফোন অর্ডার করে পার্সেলের ভেতরে দাড়ির তেল পাওয়ার ঘটনায় এক গ্রাহককে সুদ, ক্ষতিপূরণ ও মামলার ব্যয় বাবদ প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার রুপি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি ভোক্তা আদালত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের অতিরিক্ত জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন ফ্লিপকার্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালু রিটেইল প্রাইভেট লিমিটেডকে যৌথভাবে এই অর্থ পরিশোধের আদেশ দিয়েছে।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের পাওয়া এলাকার এক বাসিন্দা ১ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ রুপি খরচ করে ফ্লিপকার্ট থেকে একটি আইফোন ১৪ প্রো (১২৮ জিবি) ক্রয় করেন। চার্জার ও কভার সঠিকভাবে বুঝে পেলেও পরের দিন আইফোনের মোড়ক উন্মোচন করে তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন, ফোনের বদলে সেখানে রয়েছে দাড়ির তেল ও কিছু প্যাকিং উপকরণ।
ভুক্তভোগী গ্রাহক অভিযোগ করেন, ওই বছরের এপ্রিল ও মে মাসে বহুবার ফ্লিপকার্টের গ্রাহকসেবা বিভাগে যোগাযোগ করেও তিনি কোনো ফল পাননি। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার পরেও বারবার অভিযোগগুলো 'সমাধান হয়েছে' বলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে অর্থ ফেরত কিংবা বিকল্প ফোন—কোনোটিই প্রদান করা হয়নি।
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বিক্রির সুযোগ করে দেওয়ার পর নিজেদের দায় অস্বীকার করতে পারে না। গ্রাহক ভিন্ন পণ্য পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করার পরেও সেটি খতিয়ে না দেখা, ভুল পার্সেলটি ফেরত না নেওয়া এবং কার্যকর কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দেওয়া মূলত সেবার ঘাটতি ও অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।
আদালতের রায়ে ফ্লিপকার্ট ও বিক্রেতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন গ্রাহককে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ রুপি ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল থেকে বার্ষিক ৯ শতাংশ সুদসহ ফেরত দেয়। এর পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণার জন্য ৫০ হাজার রুপি এবং আইনি লড়াইয়ের খরচ হিসেবে আরও ২০ হাজার রুপি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
এই মামলায় বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত অ্যাপল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারিক পর্যালোচনায় বলা হয়, এই বিবাদটি মূলত ভুল পণ্য সরবরাহ সংক্রান্ত। পণ্য প্যাকেটজাত করা কিংবা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গাফিলতির সঙ্গে অ্যাপল ইন্ডিয়ার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন এবং তা দমনে প্রশাসনিক কাঠামোর ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোদি সরকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত একটি বিশেষ নিবন্ধে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেত্রী উল্লেখ করেন, দেশের ছাত্র সমাজ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও পুরো শিক্ষাকাঠামোর সংস্কারের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার হয়েছে। তবে তাঁদের এই ন্যায্য দাবির মুখে সরকারের অবস্থান টেনে তিনি বলেন, ‘কিন্তু মোদি সরকার তাদের সাহসিকতার জবাবে কাপুরুষতা ও উদ্দেশ্যহীন নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং জাতির শত্রু হিসেবে গণ্য করেছে।’
কংগ্রেসের এই প্রবীণ রাজনীতিক অভিযোগ তোলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে কর্মরত’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তরুণদের ওপর চালানো এ জাতীয় নিপীড়ন এই সরকারের আমলেই প্রথম নয়। অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে সিএএ-এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভের সময় সশস্ত্র পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা আমাদের সবারই স্পষ্টভাবে মনে আছে। ভারতের নারী কুস্তিগীরদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলোও আমাদের স্মৃতি থেকে কখনোই মুছে যাবে না।’
নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় চরম ধসের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত জুড়ে শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। এ প্রসঙ্গে গত ২০ জুলাইয়ের দিনটিকে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি লেখেন, সেদিন দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী টিয়ার গ্যাসে এবং লাঠিচার্জ চালিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের বর্ণনা দিয়ে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘অসংখ্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এমনকি ঘরে ফিরতে থাকা শিক্ষার্থীরাও রেহাই পাননি। কারণ, পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে।’
শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গানের ব্যবহারের প্রতি আঙুল তুলে তিনি আরও বলেন, ‘জাতি এমন কিছু তরুণের অত্যন্ত হতাশাজনক দৃশ্য দেখেছে, যাদের শরীর পেলেটের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এসবের ব্যবহার নিঃসন্দেহে স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমোদনেই হয়েছে।’
জনগণ ও সরকারের প্রতি নৈতিক আহ্বান জানিয়ে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি লেখেন, ‘সেদিনের ভিডিওগুলো আমাদের স্মৃতিতে গেঁথে আছে এবং আমাদের সম্মিলিত বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এখন উচ্চস্বরে ও স্পষ্টভাবে বলার সময় এসেছে। থামুন, এরা আমাদেরই ছেলেমেয়ে, আমাদেরই তরুণ-তরুণী।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধের শেষাংশে সোনিয়া গান্ধী কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে সরকারের কপটতা জনসমক্ষে উন্মোচিত করে দিয়েছে, তাই এই উদীয়মান তরুণদের অধিকার ও ভবিষ্যতের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানো এখন জাতীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
দীর্ঘ ২৬ দিন পর অনশন ভেঙেছেন লাদাখের প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। রাজধানী দিল্লির অদূরে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে তিনি রাজপথে নেমেছিলেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, আন্দোলন ও সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক জরুরি বৈঠক করেন। উক্ত বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং উপস্থিত ছিলেন এবং সরকার সোনম ওয়াংচুকের দাবিগুলোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সোনম ওয়াংচুকের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাসপত্র তুলে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক জানান, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ লাদাখ অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অবশেষে আমি অনশন ভেঙেছি। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এসে কিংবা চিঠির মাধ্যমে আমাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান। মূলত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত।’
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক এক্স পোস্টে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, ‘আমি সোনমজিকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার এবং দ্রুত আগের ওজন ফিরে পাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। সোনমজির সুস্থতার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।’
এদিকে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘২৬ দিন পর সোনম স্যার অনশন ভাঙায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ। স্যারের এ অসাধারণ সাহস ও আত্মত্যাগের জন্য ধন্যবাদ। নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি পুরো জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। এ দেশের জন্য তার জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’ তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দিপকে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে সরিয়ে পঞ্চায়েত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন শিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নরেশ পাল গঙওয়ারকে, যিনি ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস, পশুপালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে শিক্ষা সচিব পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের যথাযথ তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে গত ৬ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলন শুরু করে ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে বসেন ভারতের প্রখ্যাত জলবায়ু ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মর্মাহত ও হতাশ হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জন মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের পর বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভেঙেছেন সোনাম ওয়াংচুক এবং বর্তমানে তিনি মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই পদক্ষেপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত 'রেসিপ্রোক্যাল' শুল্ক গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছিলেন। সেই রায়ের পর আইনি ঝুঁকি এড়াতে এবার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের 'সেকশন ৩০১'-এর অধীনে এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে, তবে তেল, গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এই তালিকার বাইরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্য অংশীদাররাও একই কাজ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, “এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বের শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।”
ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো। অন্যদিকে চীনসহ অন্য ৩৮টি দেশের জন্য শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কহারের সাথে সমন্বয় করে কার্যকর হার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হবে। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই নিয়ম কার্যকর হলেও আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত পথিমধ্যে থাকা পণ্যগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া চীন সরকারের বিরুদ্ধে উইঘুর শ্রমশিবিরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বেইজিংয়ের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আলোকে চীনা পণ্যের শুল্ক সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে না।