নেপালে শুক্রবার (১২ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড আস্থা ভোটে হেরে গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে নতুন জোট সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। নতুন এ সরকারের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে সরকার গঠন করেছিলেন পুষ্প কমল দহল। তখন তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এরপর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তাকে তিনবার জোট বদলাতে হয়। আর পাঁচবার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হয়। তবে শেষমেশ গতকাল পঞ্চমবারের অনাস্থা ভোটে হেরে যান তিনি।
ইউএমএল পার্টির আইনপ্রণেতা যোগেশ ভট্টরাই শুক্রবার বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে নতুন জোট সরকারের প্রয়োজন ছিল। এর মধ্য দিয়ে নেপালে ২০ মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে নেপালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপর থেকে গণতান্ত্রিক নেপালে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা। কে পি শর্মা ওলি নতুন সরকার গঠন করলে সেটা হবে ২০০৮ সালের পর দেশটিতে ১৪তম গণতান্ত্রিক সরকার। নেপালের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সব সময় বড় দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কড়া নজরদারিতে থাকে।
হিমালয়ঘেঁষা নেপালে এ দুই দেশের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। দিল্লি ও বেইজিং নেপাল ও নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে চায়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের সরকারের ওপর থেকে গত সপ্তাহে সমর্থন তুলে নেয় অন্যতম বৃহত্তম জোটসঙ্গী লিবারেল কমিউনিস্ট ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন কে পি শর্মা ওলি। এরপর পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ৬৯ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের সামনে দুটি বিকল্প খোলা ছিল। হয় তাকে সরকারপ্রধানের পদ ছাড়তে হবে, নতুবা পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। পুষ্প কমল দ্বিতীয় বিকল্প বেছে নিয়ে ব্যর্থ হন।
কে পি শর্মা ওলি এর আগে দুবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত জুনের শেষদিকে তিনি মধ্যপন্থি দল নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। ফলে পার্লামেন্টে এই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ সুগম হয়। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, কে পি শর্মা ওলি নতুন সরকার গড়বেন। তবে গতকাল পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পুষ্প কমল হেরে যাওয়ার পর কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বে নতুন জোট সরকার কবে নাগাদ দায়িত্ব নেবে সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। ভোটাভুটিতে উতরে যেতে সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমলের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে ন্যূনতম ১৩৮টি ভোট দরকার ছিল। গতকাল পার্লামেন্টে হাজির ছিলেন ২৫৮ সদস্য। তাদের মধ্যে পুষ্প কমলের পক্ষে ভোট দেন মাত্র ৬৩ জন। আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯৪টি। বাকি একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। স্পিকার দেব রাজ ঘিমিরি ভোট গণনা শেষে বলেন, আস্থা ভোটে পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের ঝোব জেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলুচিস্থানের শেরানি জেলার ধনাসর এলাকা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার ডেরা ইসমাইল খানে প্রাদেশিক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঝোবের দানাসার এলাকায় বাসটির ব্রেক ফেল করলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে ঝোব জেলা সদর (ডিএইচকিউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা শহীদ রিন্দ নিহতের সংখ্যা ৪০ জন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনাটি বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে।
রিন্দ বলেন, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এ কাজে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ), স্বাস্থ্য বিভাগ, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত সহায়তার জন্য তিনি খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিলেন। এর আগে বিকল হয়ে যাওয়া আরেকটি বাসের যাত্রীরাও এই বাসে উঠে যাত্রা করছিলেন বলে জানান শহীদ রিন্দ।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার কাজও চলছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তিকামনা করেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অধিকারকর্মীদের দাবি, তিব্বতের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দগ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। তাকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের পরিচয় বা নেপথ্যের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব তিব্বত জানিয়েছে, নিহতের নাম লোবগা রাংজেন। তিব্বতের স্বাধীনতা ও জাতীয় সংহতির সপক্ষে সরাসরি আবেদন জানানোর পর তিনি নিজের দেহে অগ্নিসংযোগ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএম নিউইয়র্ক উল্লেখ করেছে, রাংজেন পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে তিনি একটি তিব্বতি পতাকা সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরিচিত লোবসাং পালজর জানান, নিজ ভূমিতে চীনা সরকারের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে রাংজেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।
এই আত্মাহুতির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন চীনে নতুন একটি জাতিগত ঐক্য আইন কার্যকর করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই আইনের মাধ্যমে বেইজিং তিব্বতি ও উইঘুরসহ অন্তত ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট-এর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, চীনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেড় শতাধিক তিব্বতি আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছেন। যার মধ্যে অন্তত ১০টি ঘটনা ঘটেছে নির্বাসনে থাকা তিব্বতিদের মাঝে।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে তিব্বত চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেইজিং এই ঘটনাকে ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নির্বাসিত তিব্বতিরা সেখানে চীনের দমনমূলক নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছে। তবে চীন সরকার সবসময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলাকালে তেহরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা চলছিল, তখন ইসরায়েল এই ছক কষেছিল বলে মনে করেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা ইসরায়েলের রণকৌশলের অংশ ছিল। তবে গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে লক্ষ্যবস্তু করার ইসরায়েলি পরিকল্পনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, ইসরায়েল এই দুই নেতাকে হত্যা করলে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবে এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে। এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কবার্তা পাঠায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েল ইরানের কট্টরপন্থি সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছিল। তখন আরাগচি বা গালিবাফ ইসরায়েলের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারতেন। তবে গত এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানের নৌ ও অন্যান্য বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালালেও ইসরায়েলের অগ্রাধিকার ছিল শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা।
এরই অংশ হিসেবে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজিকে হত্যা করে। অথচ বাস্তববাদী নেতা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সঙ্গেই আলোচনার আশা করেছিল। এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য এক থাকলেও দ্রুতই তা ভিন্ন পথে এগোতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে শান্তি চুক্তি চাইছিল, ইসরায়েল সেখানে শুরু থেকেই সন্দিহান ছিল।
গত এপ্রিলের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরায়েলের সমর্থন ছিল নামমাত্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করে দিচ্ছিল। তারা মনে করেন, ইরান সরকার উৎখাত হওয়ার বদলে আরও কট্টর হয়েছে এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হয়েছে।
গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা। তবে ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা একে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই চুক্তি ইরান সরকারকে উৎখাত, দেশটির ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল বা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তির ফলে ইরান কোটি কোটি ডলার ফেরত পাবে, যা দিয়ে তারা দ্রুত নিজেদের শক্তি বাড়াতে পারবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত মার্চে জানিয়েছিল, আরাগচি ও গালিবাফ ইসরায়েলের ‘হিট লিস্টে’ ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ায় তাদের নাম সাময়িকভাবে তালিকা থেকে সরানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুন এবং চলতি বছরের যুদ্ধে গালিবাফ অন্তত দুইবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দুইবারই তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার পান।
গত এপ্রিলের শেষ দিকে ইসলামাবাদ বৈঠকের পর ইরানি এমপি মহসেন জাঙ্গানে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ গালিবাফ, আরাগচি এবং আলোচক দলের অন্য সদস্যরা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জেনেও তাদের জীবন বাজি রেখেছেন। একে রাজনৈতিক চালবাজি নয়, বরং প্রকৃত ত্যাগ বলা হয়।’
গত এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করেছিল তেহরান। ইরানিরা পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্যারান্টি চেয়েছিল, ইসরায়েল যেন তাদের ওপর কোনো গোপন হামলা না চালায়। সে সময় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলকে পাহারা দিয়ে ইসলামাবাদে নিয়ে যায় এবং পরে ফিরিয়ে দিয়ে আসে।
তবে তেহরানে ফেরার পথে গালিবাফকে বহনকারী বিমানটি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বিমানে থাকা কর্মকর্তাদের জানানো হয়, দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরাক সীমান্ত দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় বিমানটি মাশহাদে জরুরি অবতরণ করে এবং প্রতিনিধিদল সড়কপথে আট ঘণ্টা ভ্রমণ করে তেহরানে ফেরেন। এই ঝুঁকির মধ্যেই গালিবাফ ও আরাগচি গত মে মাসে কাতার এবং গত জুনে সুইজারল্যান্ড সফর করেছেন।
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। শক্তিশালী ওই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর প্রাণহানি বেড়ে ২ হাজার ৫৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ হাজার ৪০০ জন। এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (৩ জুলাই) এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ নিখুঁত ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করছি। সতর্কতার সঙ্গে যাচাইকরণপূর্বক এ তালিকা তৈরি করেছে প্রশাসন।’
পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে মৃত ঘোষণা করে তালিকাভুক্ত করা পাঁচজনকে পরে জীবিত পাওয়া গেছে। দেশের আঙুলের ছাপভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার পর এই তথ্য জানা যায়। নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া সরকার কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বা সংখ্যা প্রকাশ করছে না বলে জানান তিনি।
গত ২৪ জুন উত্তর ভেনিজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানান, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদ জোগাড় করতে তাদের সরকার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এবং ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ভেনিজুয়েলাকে সহায়তার জন্য বড় অঙ্কের অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশের অন্তত ৮৫৫টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ভবনের পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য সরকার প্রাথমিকভাবে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে আন্তর্জাতিক অনুদান ও সাহায্য সরাসরি গ্রহণের জন্য ‘সিএএফ-ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অফ ল্যাটিন আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ক্যারিবিয়ান’-এ একটি বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর স্থায়িত্ব পরীক্ষা এবং অবকাঠামো সংস্কারে সহায়তার জন্য ইসরায়েল থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে ভেনিজুয়েলায় এসে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) র্যাপিড ডিজিটাল অ্যানালাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে করা প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভেনিজুয়েলার ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সরকারের হিসাব মতে, এই দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের আতঙ্কে ও ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার মানুষ।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে নজিরবিহীন আয়োজন শুরু হয়েছে। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইরান। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে এই কর্মসূচিতে এক থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান।
ইরানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজায় পরিণত হতে পারে। এজন্য সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক সংগঠন, ত্রাণকর্মী এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আল জাজিরা, এএফপি ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। সেখানে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশাল শোকযাত্রা। পরদিন মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার কর্মসূচি সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছাবে। এরপর বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন শোকাহত মানুষ। মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার থেকে আনা একটি লাল পতাকা তার কফিনের ওপর স্থাপন করা হয়েছে, যা শিয়া ঐতিহ্যে শহীদত্ব ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। এটিই যুদ্ধ শুরুর পর তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি বলে জানিয়েছে এএফপি।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ইরানি রাষ্ট্রের শক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এই শোকযাত্রা বিশ্বকে দেখাবে যে ইরান নিপীড়নের সামনে মাথা নত করে না এবং তাদের নেতার রক্তের বিচার ভুলে যাবে না।
সিএনএনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট ও ভয়াবহ যুদ্ধের পরও ইরান বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বার্তা দিতে চাইছে যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র টিকে আছে এবং তাদের প্রয়াত নেতাকে প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার প্রতীকে পরিণত করা হবে।
সরকারি হিসেবে, অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ খামেনির শেষযাত্রায় অংশ নিতে পারেন। এ কারণে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তেহরানে ২ হাজার ৫০০ অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং হাজারো উদ্ধারকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০ হাজার শ্রেণিকক্ষ, কয়েক ডজন হাসপাতাল এবং পাঁচ লাখ লিটার স্যালাইন।
রাজধানীর বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শহরজুড়ে ৭০০টির বেশি পার্কিং এলাকা খালি রাখা হয়েছে। শোকাহত মানুষের খাবারের জন্য ৫ কোটি রুটি তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। এ কাজে তেহরানে মোবাইল বেকারিও মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের দাবি, ৩০টির বেশি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিদল এবং ৯০টি দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এই আয়োজনে অংশ নেবেন। পাকিস্তান, রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও পশ্চিমা কোনো রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তবু ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটজন রাষ্ট্রপ্রধান ও ১২ জন পার্লামেন্ট স্পিকার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক, যার মধ্যে ৯০০ জন বিদেশি এ আয়োজন কভার করবেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, যাতে কূটনীতিক ও আলোচকরা এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন।
এদিকে এই জানাজাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসবেন কিনা। ফেব্রুয়ারিতে একই হামলায় তার মা ও স্ত্রী নিহত হন এবং তিনি নিজেও আহত হন বলে জানা যায়। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি এবং কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তার উপস্থিতি নতুন নেতার বৈধতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে অনুপস্থিতি তার শারীরিক অবস্থা এবং প্রকৃত ক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
তবে সব ইরানিই যে এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে সমানভাবে আবেগাপ্লুত, তা নয়। সিএনএনকে তেহরানের এক বাসিন্দা বলেছেন, বিশাল ভিড়ের কারণে দুই দিন ধরে তিনি জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি এবং অনেক মানুষ ছুটির সুযোগে শহর ছেড়ে চলে গেছেন।
তবু ইরানি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য স্পষ্ট—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রাকে আধুনিক ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জানাজায় পরিণত করা এবং বিশ্বমঞ্চে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা।
শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ও প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ফ্লিট অ্যাডমিরাল ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ জুলাই) ৭৩ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে রাজাপাকসে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো নতুন মাত্রা পেল। কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পদের অপব্যবহার করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে যোশিথা রাজাপাকসকে কোনো রকম যোগ্যতা ছাড়াই নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং অবৈধভাবে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
কলম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২০০৬ সালে যোশিথা রাজাপাকসকে নৌবাহিনীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অপরাধে কারান্নাগোদাকে ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (ব্রাইবেরি কমিশন) হেফাজতে নিয়েছে। একই সাথে যোশিথা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্রিটেনের ডার্টমাউথ নৌ কলেজে প্রশিক্ষণ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ব্রাইবেরি কমিশনের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অ্যাডমিরাল কারান্নাগোদা এই নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সরাসরি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।
কারান্নাগোদার অতীত ইতিহাসও বেশ বিতর্কিত। ২০০৯ সালে তামিল গৃহযুদ্ধ সমাপ্তির সময় তিনি নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং ২০১৯ সালে তাঁকে ফ্লিট অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ১১ জন তরুণকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে ২০২৫ সালে ব্রিটেন তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পূর্ববর্তী গোটাবায়া রাজাপাকসে সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে আনা বেশ কিছু অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলেও, বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের দুর্নীতিবিরোধী অনড় অবস্থানের কারণে মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রশাসন রাজাপাকসে পরিবারের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়ম তদন্তে অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা পালন করছে। যোশিথা রাজাপাকসে তাঁর বিপুল সম্পদের উৎস হিসেবে রত্ন বিক্রির যে দাবি করেছেন, তাও এখন তদন্তের মুখে। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের ওপরও ইস্টার সানডে বোমা হামলা সংক্রান্ত তদন্তের জেরে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অ্যাডমিরাল কারান্নাগোদার গ্রেফতারি শ্রীলঙ্কায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অব্যাহত অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড ও নৃশংসতা মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এক বাস্তবসম্মত ও শক্তিশালী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। শুক্রবার (৩ জুলাই) তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা এই গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরানা নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইবনোলরেজা টেলিফোনে তুরস্কের মন্ত্রীকে বলেন যে, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।” জেনারেল ইবনোলরেজা গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সমস্যার সমাধানে কূটনীতির পথ অনুসরণ করার বিষয়ে সমর্থন জানান। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আঙ্কারার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গুলের জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিবেশি দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সংলাপই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনার একমাত্র পথ। দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এই আলোচনা তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের এই প্রস্তাবিত যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো মূলত মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইবনোলরেজা স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত, কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে নয়। ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে একটি বৃহত্তর মুসলিম সামরিক মেরুকরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইরান এখন তুরস্কের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।
সরকারি বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘মোল্ডএটিএসএ’-কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত রাজনৈতিক বাদানুবাদের জেরে মলদোভার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার ৩ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে দেশটির বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে বলে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু সূত্রে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় মুনতিয়ানু উল্লেখ করেন যে, তিনি স্বীয় আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো কাজে জড়িত থেকে আর রাষ্ট্র পরিচালনায় ইচ্ছুক নন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আমি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলাম এবং বিশ্বাস করেছিলাম যে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারব। কিন্তু যখন বুঝলাম আমার নীতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না, তখন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মলদোভার সাংবিধানিক বিধি মোতাবেক, সরকারপ্রধান ইস্তফা দেওয়ামাত্রই গোটা সরকার কাঠামোটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মোল্ডএটিএসএ-র জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা নানাবিধ অভিযোগ সম্প্রতি দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমূল সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মলদোভার পার্লামেন্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং একই ব্যক্তি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন কি না—সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে।
প্রসঙ্গগত, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ মলদোভা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের অপেক্ষায় থাকা একটি দেশ।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর গিরিখাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এবং বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, বাসটি বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দানা সার এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশ থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে প্রবেশ করার ঠিক পরপরই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত আটজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগটি এই বিশাল প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘এল নিনো’ দ্রুত একটি শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে বলে এক জরুরি সতর্কতা জারি করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এবারের এল নিনো পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী হতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম খরা, তাপপ্রবাহ এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডব্লিউএমও বিশ্বের দেশগুলোকে এখনই প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যার প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ডব্লিউএমও এই পরিস্থিতিকে ‘শক্তিশালী’ স্তরে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, যা চারটি স্তরের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সংস্থাটির প্রধান সেলেস্তে সাউলো বলেন, “এল নিনো পরিস্থিতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং এটি দ্রুত একটি শক্তিশালী রূপ ধারণ করবে। এর ফলে অনেক অঞ্চলে খরা ও ভারী বৃষ্টির শঙ্কা তীব্র হবে এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে।” তাঁর মতে, এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় চরম খরা দেখা দিতে পারে এবং বাংলাদেশসহ পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেরু অঞ্চল ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব জনবহুল এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৮৫০-১৯০০ সালের প্রাক-শিল্প যুগের গড়ের চেয়ে তাপমাত্রা ১.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি নিয়ে ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর, আর এই এল নিনোর প্রভাবে ২০২৫ সালেও তাপমাত্রার এই অসহনীয় ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকতে পারে।
যদিও এল নিনোর সরাসরি পুনরাবৃত্তি বা তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে এককভাবে দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই, তবে ডব্লিউএমও বিশ্বাস করে যে উষ্ণ বায়ুমণ্ডল ও সাগর এল নিনোর প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে ঘূর্ণিঝড় বা হ্যারিকেন সৃষ্টির প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো স্পর্শকাতর বিভাগগুলোকে রক্ষায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। শক্তিশালী এল নিনোর হাত ধরে আগত এই বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করা হবে বিশ্ববাসীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
ইন্দোনেশিয়ার অস্থির পাপুয়া অঞ্চলে এক মর্মান্তিক হামলায় এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। হত্যার পর তারা বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে অঞ্চলটির সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী ‘ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিপিএনপিবি)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলে অবতরণের পর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়।
নিহত পাইলটের নাম নিকোলাস এফ. গোসেলিন বলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম দাবি করেছেন, বেসামরিক পাইলটরা ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ওই অঞ্চলে যাতায়াতে সহায়তা করছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের নির্দেশনা অমান্য করে পাপুয়ার আকাশে কোনো বিমান ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করলে একইভাবে আক্রমণ চালানো হবে। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সরকার যদি পাইলটের মরদেহ ফিরিয়ে নিতে চায়, তবে তাদের কোনো সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া সেখানে আসতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটি পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। সাতজন যাত্রী বহনকারী ওই বিমানটির সঙ্গে অবতরণের পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড্ডয়নের আগে বা অবতরণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগের তথ্য তাদের কাছে ছিল না। মূলত ১৯৬৯ সালে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিতে আদিবাসীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও একই সংগঠনের হাতে নিউজিল্যান্ডের এক পাইলট দীর্ঘ ১৯ মাস বন্দি ছিলেন, যাকে দীর্ঘ আলোচনার পর মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, এই সংঘাতে অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিদ্রোহীরা এখন ইন্দোনেশীয় সরকারকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আজ শুক্রবার ভোর থেকে অত্যন্ত শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় এই নেতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। আজ ভোরেই তাঁর মরদেহ মোসাল্লার মূল প্রার্থনা কক্ষে নিয়ে আসা হয়, যেখানে আগামী দুই দিন সাধারণ জনগণ তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনেই মরহুম নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় খামেনির কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী শনি ও রবিবার মোসাল্লায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার তেহরানে মূল জানাজা ও বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ইরানের পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। সর্বশেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে এই মহান নেতার চিরবিদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অধিকারকর্মীদের দাবি, তিব্বতের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতেই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দগ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। তাকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের পরিচয় বা নেপথ্যের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব তিব্বত জানিয়েছে, নিহতের নাম লোবগা রাংজেন। তিব্বতের স্বাধীনতা ও জাতীয় সংহতির সপক্ষে সরাসরি আবেদন জানানোর পর তিনি নিজের দেহে অগ্নিসংযোগ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এএম নিউইয়র্ক উল্লেখ করেছে, রাংজেন পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে তিনি একটি তিব্বতি পতাকা সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরিচিত লোবসাং পালজর জানান, নিজ ভূমিতে চীনা সরকারের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে রাংজেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।
এই আত্মাহুতির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন চীনে নতুন একটি জাতিগত ঐক্য আইন কার্যকর করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই আইনের মাধ্যমে বেইজিং তিব্বতি ও উইঘুরসহ অন্তত ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট-এর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, চীনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেড় শতাধিক তিব্বতি আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছেন। যার মধ্যে অন্তত ১০টি ঘটনা ঘটেছে নির্বাসনে থাকা তিব্বতিদের মাঝে।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে তিব্বত চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেইজিং এই ঘটনাকে "শান্তিপূর্ণ মুক্তি" হিসেবে অভিহিত করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নির্বাসিত তিব্বতিরা সেখানে চীনের দমনমূলক নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছে। তবে চীন সরকার সবসময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।