নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেপি শর্মা অলি নিয়োগ পেয়েছেন। আজ রোববার তাকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওডেল। এর মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন একটি জোট সরকার পেতে যাচ্ছে নেপাল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে এটি অলির চতুর্থ মেয়াদ। তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন ২০১৫ সালের অক্টোবরে। সেবার তিনি ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মে এবং ২০২১ সালের মে থেকে সে বছরের জুলাই পর্যন্ত নেপাল সরকারের প্রধান ছিলেন।
নেপালি কংগ্রেসের ৮৮ জন, ইউএমএল-এর ৭৮ জনসহ ১৬৬ জন আইন প্রণেতার সমর্থনের পর প্রেসিডেন্ট পাউডেল অলিকে সংবিধানের ৭৬(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নিয়োগ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল ১১টায় নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা শপথ নেবেন।
এর আগে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট পাউডেল একজন সংসদ সদস্যকে আজ রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে জোট সরকারের নেতৃত্ব দাবি করার আহ্বান জানান। ২৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি পরিষদে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় আসনের সংখ্যা ১৩৮। সেদিন সন্ধ্যায় পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রীর বালুওয়াটার বাসভবন ত্যাগ করার পর প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ৭৬(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানান।
নিম্নকক্ষের আস্থা চেয়ে শুক্রবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রচণ্ড প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। তবে এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে সরকার থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
অনুচ্ছেদ ৭৬(২) অনুসারে, প্রেসিডেন্ট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সেই সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন, যিনি দুই বা ততোধিক দলের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন। অলিকে এখন সাংবিধানিক আদেশ অনুযায়ী নিয়োগের ৩০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জিততে হবে।
ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আগামী ১৩ ও ১৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর ১৫ জুলাই তেহরানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জুলাই ধর্মীয় শহর হিসেবে খ্যাত কোমে দ্বিতীয় দফায় শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে আরেকটি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের পর তাকে সেখানেই সমাহিত করা হবে। বিশ্বস্তরে পরিচিত এই প্রভাবশালী নেতার বিদায়ে শোক পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান সরকার। আল জাজিরায় প্রকাশিত এই তথ্যটি খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। আগামী ৩০ জুন বিকেল থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই দিন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করবেন বলে ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) নিশ্চিত করেছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং তিনি মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির একজন সাবেক শিক্ষার্থী। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ ও গৌরবময় সামরিক জীবনে তিনি অপারেশনাল কার্যক্রম, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সামরিক মহলে তাঁর বিশেষ স্বীকৃতি রয়েছে।
দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন অঞ্চলের কমান্ড ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা রয়েছে ধীরাজ শেঠের। তিনি মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন ‘সুদর্শন চক্র কোর’-এর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সামরিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করেন তিনি।
আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর ধীরাজ শেঠ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগত সামরিক অঞ্চলগুলোতে তাঁর এই সফল তদারকি ও অভিজ্ঞতা এবার তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন করতে যাচ্ছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে শুক্রবার সশস্ত্র বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় ১৭ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। কৃষি মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের লক্ষ্য করে এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’ হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো মূলত মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গবাদিপশু লুট এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে থাকে। এমনকি কৃষকদের নিজেদের জমিতে চাষাবাদের অনুমতি পেতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হয়।
জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকরা যখন জমিতে কাজ করছিলেন, তখন মোটরসাইকেলে আসা একদল বন্দুকধারী নিজেদের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘২০২৬ সালের কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত নোংরা হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৭ জনকে ইতিমধ্যে দাফন করা হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ আগে স্থানীয়দের প্রতিরোধে ১৩ জন বন্দুকধারী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রবিবারও এই এলাকার ৩৯ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছিল।
নাইজেরিয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশজুড়ে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা দেশের রাজস্ব ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। কৃষকরা তাদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় সরকারের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ভারতের আসাম রাজ্যে অবতরণের আগমুহূর্তে বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। শনিবার জোরহাট বিমান ঘাঁটির অভ্যন্তরেই এএন-৩২ মডেলের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে যে, পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তবে এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তোনভ এএন-৩২ মূলত ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান শক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে সুপরিচিত। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এই বিমানগুলো দুর্গম পাহাড় ও বৈরী আবহাওয়ায় রসদ সরবরাহে অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ভারতের বিমানবহরে এই ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান যুক্ত রয়েছে যা একসাথে ৫০ জন যাত্রী বা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহনে সক্ষম।
এর আগে গত মার্চ মাসেও আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দুইজন পাইলট নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ৫ মার্চ জোরহাট থেকে উড্ডয়নের পর একটি বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমান দুর্ঘটনাটি সেই স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে আবুধাবি। বিশেষ করে ইরানে ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে দেশটি।
এর আগে রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম চারটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল যে, ইরান আর হামলা করবে না—এমন শর্তে আমিরাত তাদের জন্য প্রায় ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) থেকে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড কোরের কর্মকর্তাদের সাথে আবুধাবিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই প্রক্রিয়া গতি পায় বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের কোনো জব্দকৃত তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর বা এ ধরনের কোনো লেনদেন করা হয়নি।’
আমিরাতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমগুলোকে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে যে, ভিত্তিহীন বা যাচাইবিহীন খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এর আগে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ এই আলোচনার মাধ্যমে অবমুক্ত করা হতে পারে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেখানে দেশটি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তবে আবুধাবি এই পুরো প্রক্রিয়া এবং তাদের জড়িয়ে করা অর্থ স্থানান্তরের দাবিকে অস্বীকার করেছে। তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য এবং এ ধরনের কোনো আর্থিক লেনদেনের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির সম্ভাবনা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রবল হয়ে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি পৌঁছায়নি। সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলে নিজ নিজ দেশ থেকে ডিজিটাল স্বাক্ষর করবে উভয় পক্ষ। পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এই দাবি করেন। তবে এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, চুক্তির গোপন শর্তগুলো ইরানি গণমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে। ট্রাম্পের এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জবাবে আরাগচি তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি (স্বাক্ষরের) যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি রয়েছে।’ তবে স্পর্শকাতর এই বিষয় নিয়ে আগাম জল্পনা রুখতে তিনি আরও বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের উচিত এর বিষয়বস্তু নিয়ে যেকোনো ধরনের অনুমাননির্ভর প্রতিবেদন বা জল্পনা করা থেকে বিরত থাকা।’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অবরোধ প্রত্যাহার ও উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ওপর একটি পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের মতে, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একটি চমৎকার সমঝোতার খুব কাছে রয়েছেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, তার দেশ এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বর্তমানে শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সমঝোতা কোনো মৌখিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ইরানের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর শুরু হবে ৬০ দিনের একটি নতুন আলোচনা পর্ব, যেখানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস বা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় উভয় পক্ষ অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা করছে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে শর্তগুলো নিয়ে এখনো কিছু মতপার্থক্য বিদ্যমান, তবে আরাগচির আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে এই চুক্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি ফেরাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে ইসরায়েল এই আলোচনায় সরাসরি যুক্ত না থাকলেও পুরো পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যা সফল হলে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটার পথ প্রশস্ত হবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেন তাদের হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার নিজনেকাস্ক অঞ্চলে অবস্থিত একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ভয়াবহ হামলার খবরের পরপরই পুতিনের এমন বিরল মন্তব্য সামনে আসে। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের হামলা রুশ সমাজে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না এবং দেশটির অর্থনীতি দ্রুতই এই সাময়িক ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইউক্রেনীয় বাহিনীর মূল লক্ষ্য এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পাইপলাইনগুলো। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করতে কিয়েভ এখন মস্কোর ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘এসব হামলা ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানকে কোনোভাবেই থামাতে পারবে না। তারা আমাদের অর্থনীতির কিছুটা ক্ষতি করছে ঠিকই, তবে আমরা এটি দ্রুতই কাটিয়ে উঠব। মূলত আমাদের সমাজে বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরি করাই এই হামলার মূল লক্ষ্য। তবে তারা যেভাবে চাচ্ছে, সেভাবে সফল হতে পারবে না।’
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের একের পর এক জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে। এর জবাবে রাশিয়ার মাটিতে এই পাল্টা হামলাগুলো সম্পূর্ণ ন্যায্য ও মোক্ষম প্রতিশোধ।
রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপেও ইউক্রেন তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে। বিশেষ করে উপদ্বীপটির সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি তেলবাহী ট্রাকগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় সেখানে স্মরণকালের ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ক্রিমিয়ায় চলমান এই তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ (আইএসডব্লিউ) তাদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, ইউক্রেন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের দূরপাল্লার ও মধ্যপাল্লার হামলাগুলোর সমন্বয় ঘটাচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি উৎপাদিত জ্বালানি পরিবহনের পথগুলোও পঙ্গু হয়ে পড়ছে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, গত মে মাসে রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ডের চেয়েও বেশি এলাকা সফলভাবে উদ্ধার করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এর ফলে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার গত কয়েক মাসের একতরফা অগ্রগতির ধারাটি পুরোপুরি বদলে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ট্রলি ব্যাগে করে বিপুল পরিমাণ উচ্চ মানের মাদক পাচারের সময় ভারতের মুম্বাই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক মডেল। হর্ষা সানি নামের ওই মডেলের কাছ থেকে প্রায় ১১ কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার করেছে মুম্বাই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৮২ লাখ রুপি বা বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা।
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে চড়ে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিয়মিত নজরদারির সময় আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করে এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এআইইউ) এবং কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে হর্ষা সানির ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে ভেতরে ভ্যাকুয়াম-সিলড ১২টি প্লাস্টিকের প্যাকেট পাওয়া যায়, যা সবুজ রঙের উপাদানে ঠাসা ছিল। মাদক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত এনডিপিস কিট ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উপাদানগুলো আসলে উচ্চ মূল্যের হাইড্রোপনিক গাঁজা।
নিষিদ্ধ মাদক পাচারের এই অপরাধে কাস্টমস বিভাগ তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (এনডিপিস) আওতায় গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া হর্ষা সানি ২০২৫ সালের ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগিতার একজন সাবেক প্রতিযোগী ছিলেন।
আটকের পর তাকে মুম্বাইয়ের ফোর্ট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদকের এই বিশাল চালানটি মুম্বাই বা ভারতের অন্য কোনো অঞ্চলে কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে আর কে কে জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে জোর তদন্ত চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি
উভয় সীমান্তে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। পাশাপাশি উন্নত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ।
শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। তথাকথিত অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এল। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার অভিযোগ, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অভিবাসীদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা এবং ভারতে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যে বিষয়টি সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) আলোচনাকে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎমুখী’ উল্লেখ করা হয়।
নিয়মিত আয়োজিত এই বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় ‘অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত এবং জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রমের’ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি ক্রমেই একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর একটি। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যারা ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো শাসন করে, তথাকথিত অনথিভুক্ত অভিবাসন মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত বছর থেকে দলটি ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত তথাকথিত ‘বাংলাভাষী মুসলমানদের’ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা নয়াদিল্লির কাছে এক ডজনের বেশি চিঠি পাঠিয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তারা এ ধরনের একাধিক কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, কথিত জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত মে মাসে জানিয়েছিল, তারা আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র ছাড়া ভারতে বসবাসরত ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের জাতীয়তা যাচাই করতে ঢাকার সহায়তা চেয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ মানব পাচার, সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, প্রশান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার দুই পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে।’ পাশাপাশি সমন্বিত টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের শীর্ষ সীমান্ত কর্মকর্তাদের পরবর্তী বৈঠক আগামী নভেম্বরে ঢাকায় হবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাকে ভিত্তিহীন এবং ‘নিছক কল্পনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয়ে ওয়াশিংটন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘায়েই বলেন, “চুক্তির খসড়ার একটি বড় অংশ চূড়ান্ত হলেও শুরু থেকেই মার্কিনীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকতে পারছে না। তারা প্রতিনিয়ত অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান তার ঘোষিত ‘রেডলাইন’ বা মূল স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপস করবে না। বাঘায়েই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির ব্যাপারে ইরান এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যদিও কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিতিশীল পদক্ষেপের কারণে কূটনৈতিক অগ্রগতির পরিবর্তে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে চুক্তির কথা বলাটা স্রেফ কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক নাটকীয় ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে হামলার নির্দেশ তিনি প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছি। খুব সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষেই একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়ে যাবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আশাবাদী বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এল। তেহরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।
সূত্র: সিএনএন ও ইরনা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে তেহরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে অংশ নিয়ে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
টেলিফোনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, "আপনারা সম্ভবত এখনো শোনেননি, তবে আজ আমি ঘোষণা দিচ্ছি যে ইরানের সঙ্গে আমাদের লড়াইয়ের ইতি ঘটেছে। তারা সম্মত হয়েছে যে তারা আর কখনোই পরমাণু অস্ত্র রাখবে না। এই বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম।"
আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, "আজ আমরা ইরানের সঙ্গে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করেছি। আমরা একটি দারুণ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান নেই। আমরা যা চেয়েছিলাম, তার সবই অর্জন করেছি।"
সংঘাতের অবসান ঘটায় সৈন্যরা দ্রুত ফিরে আসবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "সবকিছু প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে। খুব দ্রুতই মানুষজন তাদের ঘরে ফিরতে শুরু করবে।"
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমগুলো এই চুক্তির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর কড়া বার্তার একদিন পরে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি দেশে ফের হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জর্ডানেই ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানঘাঁটিগুলোতে অবস্থিত ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরেরও ফের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিহত করা ইরানি ড্রোন থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হামাদ শহর এবং রাজধানী মানামায় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী সামান্য আহত হয়েছে এবং এতে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত জানায়, ইরানি হামলার কারণে তারা আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে। এর আগে জিসিসির মন্ত্রিপরিষদ এক বিবৃতিতে বলে, ইরানের এসব হামলা এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার তেহরানের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনো একটির বিরুদ্ধে হামলা মানে তাদের সবার বিরুদ্ধে হামলা।
একইসঙ্গে জিসিসি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
টানা এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত বছর বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হিসেবে অনেক মানুষ অনিরাপদ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার। এক বছর আগের তুলনায় এটি ৫৪ লাখ কম। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে- যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনো অগ্রহণযোগ্যভাবে বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি কমাতে আগামী দশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইউএনএইচসিআর তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হ্রাসের প্রধান কারণ হলো শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) বড় একটি অংশের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছে। এর মধ্যে ৪৪ লাখ শরণার্থী তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রধান বারহাম সালেহ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে আফগানিস্তান, সুদান ও সিরিয়ায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব প্রত্যাবর্তনের অনেকগুলোই নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে হয়নি, বরং চাপের মধ্যে হয়েছে। তিনি বলেন, তারা এমন দেশে ফিরে গেছে যেখানে নিরাপত্তাহীনতা এখনো বিদ্যমান, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং মৌলিক সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত। যেসব প্রত্যাবর্তন নিরাপদ নয়, সেগুলো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি নতুন বাস্তুচ্যুতির চক্র শুরু করতে পারে।
২০২৫ সালের শেষে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ১৬ লাখকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ ওই বছরের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী হয়েছে। নতুন শরণার্থীদের ৬০ শতাংশ এসেছে মাত্র আটটি দেশ থেকে। এর মধ্যে সুদান থেকে প্রায় ১০ লাখ এবং ইউক্রেন থেকে প্রায় ৮ লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি আরও বলেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েকটি বড় সংকট নতুন বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরানে ৩২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া লেবাননে মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। ইরান ও লেবাননের সংঘাতের কারণে সেখানে আশ্রিত অনেক শরণার্থীও বছরের শুরু থেকে নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে সিরিয়া ও আফগানিস্তানও রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর শরণার্থী পুনর্বাসনের সুযোগ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় শরণার্থীর সংখ্যা ২৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে পুনর্বাসনের জন্য স্থান ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০টি, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু গত বছর তা অর্ধেকেরও বেশি কমে ৮১ হাজার ৮০০-এ নেমে আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণ কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত বড় এবং তা আরও বাড়ছে।
বারহাম সালেহ নিজেও একসময় শরণার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এখন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর এমনকি দশকজুড়ে চলতে থাকে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭০ শতাংশ শরণার্থী দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে, যা টেকসই নয়। তিনি দেশগুলোকে একটি নতুন উদ্যোগে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান, যার লক্ষ্য আগামী দশকে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুত শরণার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন এবং মানবিক ভিসার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশগুলো বুঝবে যে একটি আরও টেকসই পরিস্থিতি গড়ে তোলার পথ রয়েছে।