নেপালে রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের সময় একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস। জানা যায়, এই সময় বিমানটিতে ১৯ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন দুর্ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
হিমালয়ান টাইমসে বলা হয়, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) সৌর্য এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে পোখারার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই ফ্লাইটটি উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে।
বিমানটিতে শুধু এয়ারলাইন্সের কারিগরি কর্মীরাই ছিলেন বলে জানা গেছে। পৃথক এক প্রতিবেদনে নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বুধবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টেকঅফের সময় সৌর্য এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
পোখারাগামী এই ফ্লাইটটি টেকঅফের সময় রানওয়ের বাইরে ছিটকে পড়ার পর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (টিআইএ) মুখপাত্র সুবাস ঝা জানিয়েছেন। বিমানটিতে ক্রু সদস্যসহ ১৯ জন আরোহী ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন এমআর শাক্যকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিমানটি রানওয়ের দক্ষিণ প্রান্ত (কোটেশ্বর পাশ) থেকে উড্ডয়নের সময় হঠাৎ উল্টে মাটিতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। তারপরে বিমানটি বুদ্ধ এয়ার হ্যাঙ্গার এবং রাডার স্টেশনের মধ্যে রানওয়ের পূর্ব দিকে একটি নিচু অংশে পড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন সামরিক বাহিনী পরিচালনার মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটি জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন সাহায্য আসছে। এমন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের অবস্থান জানতে চাইলে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, জাতিসংঘ অবশ্যই, ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে সামরিক বাহিনীর মতো বক্তৃতা বৃদ্ধির বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামরিক বক্তব্যের পরিবর্তে সকল সদস্য রাষ্ট্রের কূটনীতির উপর জোর দেওয়া অপরিহার্য।’
ডুজারিক উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের বর্তমানে ইরান থেকে তার কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরবর্তীতে লিখিত জবাবে তিনি আরো জানান যে ইরানে ৪৬ জন আন্তর্জাতিক কর্মী এবং ৪৪৮ জন স্থানীয় নাগরিক কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরানের অর্থনীতির অবনতি এবং ইরানি রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়নের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছে।
বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ঘটনাসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই জনবল স্থানান্তরের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি এবং দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কাতারের আল উদেইদে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই সেনা সরানোর খবরটি প্রকাশ্যে এলো। এর আগেও গত বছর মার্কিন বিমান হামলার কয়েকদিন আগে কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সেনা ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টায় কাতারের এই ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।” মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটন তাদের এই কৌশলগত স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তেহরানের ওপর যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেখানেও পাল্টা আক্রমণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ওই দেশগুলোকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তারা যেন তাদের ভূমি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন তৎপরতা চালাতে না দেয় এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ভূমিকা রাখে।
গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সেখানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে আন্দোলন বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানি জনগণকে তাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর যারা নির্যাতন চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, ইরানে এই ‘নির্বোধ হত্যা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশটির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকে বসবেন না। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি আশাপ্রদ বার্তা দিয়ে বলেন, ‘সহায়তা আসছে’ এবং তিনি ইরানকে পুনরায় একটি মহান রাষ্ট্রে পরিণত করার (মিগা) অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সূত্র: আলজাজিরা ও রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি সেখানে আটককৃত বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে থাকবে না। এর আগে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন যে তাদের জন্য সাহায্য আসছে।
অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তাকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সামরিক অভিযানের অজুহাত হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানের জাতিসংঘ মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই কৌশল আবারও ব্যর্থ হবে। তারা অভিযোগ করেছে যে, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির মূল ভিত্তি হলো শাসন পরিবর্তন। এ জন্য তারা নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা দেশটির বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে এবং গত পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বিক্ষোভের পর তারা বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে তেহরানের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে আটক হওয়া সন্দেহভাজনদের অনেককে আল্লাহর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের আইনে এই অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের করা হবে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার ক্রমাগত হুমকি ও আগ্রহের মুখে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে দ্বীপরাষ্ট্রটির সরকার। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এবং ডেনমার্কের সঙ্গেই থাকবেন। মঙ্গলবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যে কোনো একটি দেশকে বেছে নিতে বলা হয়, তবে তারা নিঃসন্দেহে ডেনমার্ককেই বেছে নেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি নিকটতম মিত্র দেশের কাছ থেকে এ ধরনের চাপ মোকাবিলা করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এর আগে গত সোমবারও গ্রিনল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এমন আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময়ও গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে পুনরায় সরব হয়েছেন। তিনি এমনও মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবেই হোক এই দ্বীপটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থান এবং সাম্প্রতিক হুমকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কারণে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং ঐক্য নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সাধারণ জনগণ তাদের নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকির মুখেও স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড সরকার যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তাকে ওয়াশিংটনের প্রতি একটি শক্তিশালী প্রত্যাখ্যান ও নিজেদের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক চাপ জোরদার করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, এই সংগঠনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের এসব শাখা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সব ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করা হবে। তিনি এই ঘোষণাকে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রচেষ্টার সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে, মুসলিম ব্রাদারহুডের এই শাখাগুলো নিজেদের বৈধ নাগরিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও পর্দার আড়ালে তারা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন জোগায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বা ট্রেজারি বিভাগ জর্ডান ও মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে, লেবাননের শাখাটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের শাখাটিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ বা এফটিও হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই ঘোষণার ফলে সংগঠনগুলোকে যেকোনো ধরনের বস্তুগত সহায়তা প্রদান করা এখন থেকে অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। তাদের আয়ের উৎস বন্ধ করতে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এফটিও তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে লেবাননের এই গোষ্ঠীর সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এদিকে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা সালাহ আবদেল হক যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক চাপের মুখে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ১৯২৮ সালে হাসান আল-বান্নার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দাবি করে আসছে। মিসরে ২০১২ সালের নির্বাচনে তারা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে জর্ডান ও লেবাননের রাজনীতিতেও বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লেবাননে ‘আল-জামা আল-ইসলামিয়া’ নামে এই গোষ্ঠীটি পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে এবং গাজা ইস্যুতে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে জর্ডানে তাদের রাজনৈতিক শাখা ‘ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩১টি আসন লাভ করেছিল। তবে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়েছে। ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নররা এই সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় মুসলিম সিভিল রাইটস সংস্থা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন এবং তাদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও সিএআইআর মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। একটি চলন্ত ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন বিশাল একটি ক্রেন ভেঙে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলার বান থানন খোট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানুগামী ছিল। নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের পুলিশ সুপার থাচাপোন চিন্নাওং জানান, লাওস সীমান্ত থেকে ব্যাংকক পর্যন্ত একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। সেই কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত একটি বিশাল ক্রেন হঠাৎ করে চলন্ত ট্রেনটির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায় এবং সংঘর্ষের তীব্রতায় কিছু সময়ের জন্য বগিটিতে আগুন ধরে যায়।
থাইল্যান্ড পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় আরও ৭৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া বগিটিতে আরও যাত্রী আটকা পড়ে থাকতে পারেন এবং সেখানে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগিগুলো থেকে যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মিরে (পিওকে) সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে গত বছর শুরু হওয়া বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। চলতি বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। জেনারেল দ্বিবেদী ইসলামাবাদকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে পাকিস্তান যদি কোনো ধরণের ‘দুঃসাহস’ দেখানোর চেষ্টা করে, তবে ভারত তা অত্যন্ত কার্যকর ও কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় সেনাবাহিনী এমন এক যুদ্ধংদেহি অবস্থায় মোতায়েন ছিল যে পাকিস্তান সামান্যতম কোনো ভুল করলেই সরাসরি স্থল অভিযান বা ইনভেশনের জন্য সৈন্যরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।
এই সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়, যার দায় স্বীকার করে লস্কর-ই-তৈয়বার অনুসারী গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। ওই হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতেই ৭ মে থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। জেনারেল দ্বিবেদী জানান, টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে পরিচালিত এই নিখুঁত অভিযানে পাকিস্তানের অনেক গভীরে আঘাত হানা হয়েছিল এবং এতে শতাধিক সন্ত্রাসীকে নির্মূল করার পাশাপাশি তাঁদের শক্তিশালী অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতের সামরিক বাহিনী মূলত পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হুমকির বাগাড়ম্বরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন যে, অপারেশন সিঁদুর ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনার ভিত্তিতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর বা ‘ত্রি-সেবা’র এক অনন্য সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত। তাঁর মতে, প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমেই ভারত জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও গত বছরের ১০ মে উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, তবে পশ্চিম সীমান্ত এবং কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতি এখনও বেশ সংবেদনশীল রয়েছে। জেনারেল দ্বিবেদী তথ্য দেন যে, ২০২৫ সালে মোট ৩১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এছাড়া ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মাধ্যমে পেহেলগাম হামলায় সরাসরি জড়িত তিন ঘাতককেও নির্মূল করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে কাশ্মিরে সক্রিয় স্থানীয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা এক অংকের ঘরে নেমে এসেছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করছে।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন আরও জোরালো এবং সহিংস হয়ে ওঠার আশঙ্কায় নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস থেকে এক জরুরি ভ্রমণ সতর্কবার্তা বা ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং যেকোনো সময় ব্যাপক ধরপাকড়, সংঘর্ষ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিক্ষোভের কারণে দেশটির সড়ক যোগাযোগ ও গণপরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরণের বাধার মুখে পড়ায় সাধারণ জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বিদেশি নাগরিকদের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মার্কিন দূতাবাস বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জানিয়েছে যে, বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক অনেক বিমান সংস্থা ইতিমধ্যে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ইরানে তাঁদের সকল ফ্লাইট বাতিল অথবা স্থগিত ঘোষণা করেছে। এই অবস্থায় আকাশপথে দেশ ত্যাগের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিকল্প উপায় বাতলে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে নাগরিকরা দেরি না করে দ্রুত সড়কপথে প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া অথবা তুরস্কে চলে যান। নির্দেশনায় বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানে যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হতে পারে, তাই যোগাযোগের জন্য যেন তাঁরা আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে রাখেন।
সতর্কবার্তায় আরও একটি কঠোর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরাসরি কোনো সহায়তার ওপর যেন তাঁরা নির্ভর না করেন। অর্থাৎ, বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি কোনো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে পারবে না, ফলে নাগরিকদের নিজ দায়িত্বেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা কোনো কারণে এই মুহূর্তে ইরান ছাড়তে সক্ষম নন, তাঁদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদেরকে নিজ নিজ আবাসস্থলে বা নিরাপদ কোনো ভবনে অবস্থান করার এবং বাইরের কোলাহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আটকে পড়া নাগরিকদের প্রতি দূতাবাস থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা নিজেদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী জরুরিভিত্তিতে মজুত করে রাখেন। এছাড়া যেখানে গণজমায়েত বা আন্দোলন চলছে, সেই সকল এলাকা থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বর্তমানে তেহরানসহ ইরানের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মার্কিন এই সিদ্ধান্তের পর অন্য দেশগুলোও তাঁদের নাগরিকদের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ায় আফগান সীমান্তের কাছে এক ভয়াবহ নাশকতার ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পৃথক দুটি স্থানে পুলিশের যানবাহন লক্ষ্য করে এই পৈশাচিক বোমা হামলা চালানো হয়। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি ঘটে ট্যাঙ্ক জেলার গোমাল বাজার সড়কে। সেখানে পুলিশের একটি শক্তিশালী সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে রিমোট কন্ট্রোল চালিত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে ঘটনাস্থলেই ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। একই দিনে লাকি মারওয়াত জেলায় পুলিশের একটি টহল ভ্যান লক্ষ্য করে অন্য একটি হামলা চালানো হলে আরও তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পরপরই পুরো প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রদেশের পেশোয়ার, বান্নু এবং খাইবার জেলায় বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগ (সিটিডি)। এই বিশেষ অভিযানে কমপক্ষে আটজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ বেশ কিছু নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকভি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে নিরাপত্তা বাহিনীর এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।
এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তের দুই পাশে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত বছরের অক্টোবর থেকেই সীমান্ত রেখা নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) আফগানিস্তানের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে এ ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান আরও অভিযোগ করছে যে, এই বিদ্রোহী সংগঠনটিকে প্রতিবেশী দেশ ভারত নিয়মিত অর্থ ও রসদ দিয়ে মদত দিচ্ছে। যদিও আফগান তালেবান সরকার এবং ভারত উভয় পক্ষই ইসলামাবাদের এই অভিযোগগুলো শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে হামলার শিকার হওয়া এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। লুণ্ঠিত বা ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চেকপোস্টে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্কের ক্রমাগত অবনতি এবং অভ্যন্তরীণ জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরণের নৃশংস হামলা কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল কমাতেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলে এক ধরণের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথমবারের মতো ভারতে এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নিয়োগ দিয়েছে দেশটিতে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। দিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নূর আহমদ নূরকে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে পাঠানো হয়েছে। যদিও ভারত সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি প্রদান করেনি, তবে দিল্লির এই পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের একটি জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মূলত ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার বর্তমান শীতল সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আফগানিস্তানের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইছে ভারত।
দিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, নূর আহমদ নূর ইতিমধ্যে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। সোমবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানায়, উভয় পক্ষই আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার গুরুত্বের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছে। এই আনুষ্ঠানিকতা দুই দেশের মধ্যে মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদানের নতুন পথ প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই নিয়োগ বা বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আফগান দূতাবাস নূর আহমদ নূরের সাথে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনন্দ প্রকাশের একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। এই নিয়োগটি মূলত তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা পাওয়ার একটি নিরন্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা আফগান মিশনগুলোর নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ক্রমে নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ভারতও কাবুলে তাদের ‘টেকনিক্যাল মিশন’কে একটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল, যা দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার প্রথম ধাপ ছিল।
বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কেবল রাশিয়াই আফগান তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এমতাবস্থায় ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক দেশের সাথে তালেবানের এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবান সরকারের এই প্রতিনিধি নিয়োগ দিল্লির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কাবুলের জন্য এটি একটি বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য। উভয় পক্ষই এখন আগামী দিনগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে একটি বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে এক বৈপ্লবিক ও কঠোর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মূলত ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই বিশাল সংখ্যক ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বাতিল হওয়া এই বিশাল তালিকার মধ্যে প্রায় আট হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার ৫০০ জন বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি অনুযায়ী, অধিকাংশ ভিসা বাতিলের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা’কে চিহ্নিত করা হয়েছে। দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন যে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গণবাতিলের প্রধান চারটি কারণ হলো—নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা ওভারস্টে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, শারীরিক হামলা এবং চুরির মতো অপরাধ। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে যে, তাদের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ইতিমধ্যে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা অথবা সরাসরি বহিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে, যা তারা একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসন এখন ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ নামক একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিকের কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কেবল অপরাধীই নয় বরং ভিন্নমত পোষণকারী এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সাথে জড়িত থাকা বা মার্কিন স্বার্থবিরোধী লেখালেখি করার কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করার খবর পাওয়া গেছে। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর কেবল একটি সম্পাদকীয় লেখার কারণে ভিসা বাতিল হওয়ার ঘটনাটি এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযান ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাক-স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সমালোচকরা। অনেকেই মনে করছেন, অপরাধ দমনের আড়ালে মূলত সাধারণ ও নিরপরাধ বিদেশিদের ওপর ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। সম্প্রতি মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন অভিযানের সময় তিন সন্তানের জননী রেনে নিকোল গুড তাঁর নিজের গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাটি পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এমন সহিংসতা ও আইনি প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড় থেকে ‘নিরাপদ আমেরিকা’ গড়ার লক্ষ্যে এই অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে অবস্থানরত লক্ষ লক্ষ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে এখন এক ধরণের চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ কার্যত অচল করে দেওয়ার নজির গড়েছে ইরান। অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে দেশটি স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে লিপ্ত থাকা আন্দোলনকারী ও অধিকারকর্মীদের জন্য এক বড় ধরণের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ ইন্টারনেট সেবা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রিত থাকলেও স্টারলিংক ছিল অনেকর কাছে বিকল্প পথ, যা এখন বন্ধ করে দেওয়া হলো। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট এখন মহাকাশ থেকে আসা স্যাটেলাইট সিগন্যালকেও কবজা করতে শুরু করেছে।
ইরান ওয়্যার-এর তথ্যমতে, ইরানে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার স্টারলিংক ইউনিট সক্রিয় থাকার খবর পাওয়া গেলেও সরকারের এই আগ্রাসী পদক্ষেপে সেগুলোর ব্যবহার এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল, তবে সময়ের সাথে সাথে এই বিঘ্নের মাত্রা বেড়ে ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদিও ইরান সরকার স্টারলিংক ব্যবহারের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি এবং এটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, তবুও আগের চেয়ে বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করার মাধ্যমে রিসিভারগুলোকে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বাধা দিচ্ছে ইরান। বিশেষ করে গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই ইরান সুপরিকল্পিতভাবে জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করে আসছে।
ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সাইবার গবেষণায় এক নতুন এবং ভীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। মিয়ান গ্রুপের গবেষক আমির রাশিদি জানিয়েছেন, গত দুই দশক ধরে ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিয়ে গবেষণারত থাকাকালীন তিনি এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনো দেখেননি। স্টারলিংকের ডাটা প্যাকেট হঠাৎ করে কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে যে স্যাটেলাইট সংযোগটি অত্যন্ত সুচারুভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। এদিকে, গবেষক সাইমন মিগলিয়াও জানিয়েছেন যে ইরানের এই ‘কিল সুইচ’ কৌশল কেবল ভিন্নমত দমনই করছে না, বরং দেশটির অর্থনীতিকেও খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর হিসেবে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে নেটব্লকস-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগহীনতা ইতিমধ্যে ৬০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে পুরো দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশের আশেপাশে স্থির হয়ে রয়েছে। এর অর্থ হলো পুরো দেশ এখন বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারছে না, যা তাঁদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের তথ্য সংগ্রহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রযুক্তিগত কঠোরতা অন্যান্য একনায়কতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্য একটি বিপজ্জনক উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে ইরানের সাইবার জগৎ এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।