শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে শকুন কমে যাওয়ায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৪ ২১:১৩

ভারতে শকুনের সংখ্যা কমার ফলে মানুষের মৃত্যুর হারও বেড়েছে বলে দাবি গবেষকদের। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে বিবেচিত এই পাখি না থাকায় মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ২০০০-২০০৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছেন। তাই উপকারী এ পাখিগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা।

আমেরিকান ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, এসব পাখি কমে যাওয়ায় খুব সহজেই মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটছে। ফলে এ সময় অতিরিক্ত পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতে একসময় ৫০ মিলিয়ন শকুন ছিল। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি এ সংখ্যা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এর কারণ গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক নামে ব্যথানাশক একটি ওষুধ। সস্তা এই ওষুধ শকুনের জন্য প্রাণনাশক ছিল। এ ওষুধ খাওয়ানো গবাদিপশুর মৃতদেহ খেয়ে কিডনি নষ্ট হয়ে বহু শকুন মারা যায়।

স্টেট অব ইন্ডিয়াস-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পশুর চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে কিছু এলাকায় শকুনের মৃত্যু কমতে থাকে। তবে শকুনের তিনটি প্রজাতি (সাদা শকুন, ভারতীয় শকুন, লাল মাথার শকুন) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের জনসংখ্যা ৯১ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আর শকুন কমে যাওয়ায় দেশটিতে মানুষের মৃত্যুর হারও বেড়েছে বলে জানান গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের যেসব জেলায় শকুনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে, সেসব জেলায় মানুষের মৃত্যুর হারও আগের তুলনায় চার শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া যেসব শহরে মৃত গবাদিপশু ভাগাড়ে ফেলা হতো, সেখানে মানুষের মৃত্যুর হারও বেশি।

গবেষকদের ধারণা, শকুন কমে যাওয়ায় পাঁচ বছরে (২০০০-২০০৫ সাল) রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় প্রতি বছর অতিরিক্ত এক লাখ মানুষ মারা গেছেন। গবেষণার সহলেখক ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোস হ্যারিস স্কুল অব পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক আইয়াল ফ্র্যাঙ্ক। তিনি বলেন, পরিবেশ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও রোগ-জীবাণুযুক্ত মৃত প্রাণীগুলো অপসারণে শকুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব পাখিকে প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলা হয়। তারা না থাকলে অসুখ ছড়াতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

বাব আল-মান্দেব পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান চালাবে সৌদি

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মানদেব প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইয়েমেনের এক লাখের বেশি সেনা অংশ নিতে পারেন। তাদের সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।


আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে। তবে অভিযানের সময় ও পরিধি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় সীমিত অভিযান অথবা ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় একযোগে হামলা—দুই ধরনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে রিয়াদ।


এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৪০ বিদ্রোহীকে হত্যা বা আহত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি এ তথ্য জানান। তবে হুতিদের হতাহতের এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সরকারি বাহিনীর কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কিছু জানাননি।


দুটি ঘটনার মধ্যে এমন এক সময়ে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, যখন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প নৌপথ হিসেবে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের গুরুত্বও বেড়েছে।


বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এ পথ দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। প্রণালীটি ইয়েমেনের উপকূল, আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।


হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগত অবস্থান পুনরুদ্ধার করা সৌদি অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ পাবে গোষ্ঠীটি।

পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় না সৌদি আরব।


সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, সৌদি অভিযান ২০১৫ সালের বৃহৎ সামরিক অভিযানের তুলনায় সীমিত পরিসরে হতে পারে। তার মতে, হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করার পাশাপাশি সৌদি আরবের লক্ষ্য উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা।


রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। প্রথমটি হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। দ্বিতীয়টি হলো ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সমন্বিত আক্রমণ চালানো। এ পরিকল্পনায় আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেট অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে অংশ নিতে পারেন। স্থল অভিযানের নেতৃত্বে থাকবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাদের সহায়তা দেবে সৌদি বিমানবাহিনী।


অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির দেওয়া ধারণা অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা শুরু হতে পারে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকার, হুতি গোষ্ঠী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।


ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। তাদের অগ্রযাত্রার মুখে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছেড়ে এডেনে আশ্রয় নেয়। ২০১৫ সালে ওই সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নেয়।


গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরনগরী এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসংলগ্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হুতিবিরোধী বাহিনী মূলত সম্মুখসারির অবস্থান স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আল-নাজিলি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় বেশিরভাগ হতাহত হয়েছে তাইজ গভর্নরেটে। সেখানে সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি তার। সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


গতকাল শনিবার ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা আম্মার আল-সামি আল জাজিরাকে জানান, তাইজের আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
বিরোধী দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এর আগে নয় বছর বন্ধ ছিল। মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়।


আল-সামি বলেন, এ সড়ক দিয়ে তাইজে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আশপাশে হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় ইয়েমেনের মানবিক সংকট। নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


নির্বাচিত

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ভারত, দিল্লিতে আটক সাত শতাধিক

* এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ * ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ * মুম্বাইয়েও ‘ককরোচ’ পার্টির কর্মসূচি
রয়েছেন। শুক্রবারের (২ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া—স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর—নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশ ৭০০-এর বেশি মানুষকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) একাধিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। শুক্রবারের (২ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী এবং রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ও অন্য সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে।

তবে এসব অভিযোগকে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআরের উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকা থেকে মৃত, একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত বা অন্যভাবে অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা।

বিক্ষোভের আগে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং নিউ দিল্লি এলাকায় জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। বিভিন্ন স্থান থেকে আটক ব্যক্তিদের পুলিশ বাসে করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। এআইএসএর নেত্রী নেহা বোরাও আটক হন। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ আরও কয়েকজন পরিচিত মুখকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

নেহা বোরাকে আটকের পর তাকে পুলিশি হেফাজত থেকে বিক্ষোভকারীরা মুক্ত করে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ: দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দেয়। দলটির নেতা অভিজিৎ দীপকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।

তবে মুম্বাই পুলিশ শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। এরপরও বিক্ষোভকারীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করলে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি নেয়।

সিজেপির দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। দলটি ভোটার তালিকা নিয়ে চলমান বিতর্কেরও অবসান চায়।

এসআইআর নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের ক্ষোভ এখন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যার মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত ও বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকার প্রশাসনিক সংশোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক আস্থা এবং প্রতিবাদের অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। খবর দ্য হিন্দু।


নির্বাচিত

জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মস্কোর জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

বার্ষিক ভালদাই ফোরামে এক প্রশ্নের জবাবে পুতিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, দেওয়া হবে।’

গত মাসে পুতিন সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য জায়ান্ট নেসলে, ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওশাঁ, সাবেক লেরয় মারলিন ডিআইওয়াই চেইন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন।

পুতিন বলেন, রাশিয়া ‘কারও কাছ থেকে কিছু নেয় না, চুরি করে না বা জাতীয়করণ করে না।’

তিনি বলেন, আমরা কিছু প্রতিষ্ঠানকে বাহ্যিক ব্যবস্থাপনার অধীনে এনে থাকি। কিন্তু কিছু ইউরোপীয় দেশ কোনো নিয়মনীতির ধার না ধারে সরাসরি আমাদের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিয়েছে।

তিনি রাশিয়ার শীর্ষ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম, রসনেফ্ট এবং লুকঅয়েলের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রেমলিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর অধিকাংশ পশ্চিমা কোম্পানি দ্রুত রাশিয়ায় থাকা তাদের ব্যবসা ও শেয়ার বিক্রি করে দেয়—কিংবা অন্তত নিজেদের সেগুলোর থেকে আলাদা করে নেয়। কারণ নিষেধাজ্ঞার ফলে বেশিরভাগ পণ্যের ব্যবসা বাণিজ্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যান্য কোম্পানিগুলো কর্মী বা স্থানীয় নাগরিকদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে রাশিয়াতেই অবস্থান করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাপক মাত্রায় সংকুচিত করে ফেলে।

এরপর রাশিয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর দেশটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করে তোলে। এজন্য চুক্তির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পদ সরাসরিও জব্দ করা হয়।


নির্বাচিত

ইউক্রেন প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ‘আরও ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেন যদি উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবন্দিদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর তথ্য একতরফাভাবে প্রকাশ করার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা না চায়, তাহলে সিউল ‘আরও ব্যবস্থা’ নেবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে জানান, তার দেশ দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের জীবিত অবস্থায় আটক করা সহজ ছিল না।

জাতিসংঘে জেলেনস্কির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সিউলের দাবি, তথ্য গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তা উত্তর কোরিয়ায় ওই যুদ্ধবন্দিদের স্বজনদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বা হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারত।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

শুক্রবার লি বলেন, ‘ইউক্রেন যদি তথ্য স্বীকার করতে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করতে থাকে, তাহলে আমরা আরও ব্যবস্থা নেব।’

তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের আচরণের কারণে তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লি বলেন, ‘এটি কোরিয়া প্রজাতন্ত্র ও এর জনগণের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয় এবং এটিকে উপেক্ষা করা যায় না।’

লি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার একটি সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার আরবিসি-ইউক্রেনসহ দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

সিবিহা বলেন, তিনি বিষয়টিকে ‘ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করতে চান না; বরং এটিকে তিনি ‘কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আমরা তাদের সঙ্গে যে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছি, তা অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে আরও গতি ও বাস্তব ফলাফল অর্জিত হবে—এটাই আমি আশা করি।’


নির্বাচিত

নেপালে বন্যায় মৃতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিখোঁজ ছেলের একটি ছবি হাতে নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর আশায় বুক বেঁধে আছেন রাজেশ রাম। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া স্বজনদের খুঁজতে থাকা হাজারো মানুষের মতো তিনিও অপেক্ষা করছেন কোনো উত্তর পাওয়ার জন্য।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

৫৩ বছর বয়সী রাম এএফপিকে বলেন, ‘আমি তাকে সব জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু তার মরদেহ পাইনি।’ তার ছেলে সুরোজ কুমার বেত্রাবতীতে একটি গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। বন্যায় ওই এলাকা পুরোপুরি প্লাবিত হয়।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর বরফঠান্ডা পানি ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢল নেমে আসে। এতে নেপালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়।

এখন নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাজার হাজার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে খণ্ডিত মরদেহ, সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জনবলের সংকট। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মরদেহের সঙ্গে স্বজনদের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খণ্ডিত দেহাবশেষ।

এখন পর্যন্ত মাত্র ১১২টি মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নেপালে আরও ৫ হাজার ২৮৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৪৩ জনের প্রাণহানি এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ এবং নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার ৮০০ জন।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে থাকা দুটি ফরেনসিক গবেষণাগারে বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ নমুনার প্রোফাইল তৈরি ও একটি বড় ডেটাবেস তৈরির কাজ করছেন। এর আগে এত বড় পরিসরে এমন কাজ তাদের করতে হয়নি।

ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুকুল প্রধান বলেন, ‘এক বছরে আমরা সাধারণত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি নমুনা পরীক্ষা করতাম। এর মধ্যে পিতৃত্ব নির্ধারণ বা অপরাধস্থলের নমুনাও থাকত। এখন আমরা হাজার হাজার নমুনা পরীক্ষা করছি।’

‘ব্যথাটা আমরা বুঝতে পারছি’

মোট ৩ হাজার ৬৮৫টি ফরেনসিক নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার করা মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সংখ্যা ১ হাজার ৩০০-এর বেশি।

রক্তের নমুনা থেকে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি তুলনামূলক সহজ। তবে দাঁত বা হাড় থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

নেপাল ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০টির বেশি মরদেহ দাফন করেছে। প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে নম্বর ও পরিচিতিচিহ্ন যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরে ডিএনএ পরীক্ষায় কোনো স্বজনের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে মরদেহটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নেপালের পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, ‘অনেক মানুষ নিখোঁজ এবং যেসব মরদেহ পাওয়া গেছে, সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন। মানুষ যে কী যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, আমরা তা বুঝতে পারছি।

আমাদের দলগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান নিরাজন থাপা বলেন, বন্যার পানিতে কিছু মরদেহ অনেক দূরে ভেসে যাওয়ায় শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট একটি এলাকায় মরদেহ পাওয়া যায়। ফলে তুলনামূলক সীমিত সংখ্যক নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে দেখা যায়। কিন্তু এবার সেই পরিসর অনেক বড়।’

শুধু মরদেহ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করলেই পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। এজন্য কোনো নিকটাত্মীয়ের ডিএনএ নমুনার প্রয়োজন হয়।

থাপা বলেন, ‘শুধু কারও ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করলেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তার স্বজনদের কাছ থেকেও ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে সেটির সঙ্গে তুলনা করতে হবে।’

অর্থাৎ, পরিচয় নিশ্চিত করতে একদিকে অজ্ঞাত মরদেহের নমুনা এবং অন্যদিকে হাজারো স্বজনের নমুনা—দুটিই পরীক্ষা করতে হবে।

নেপালের এই কাজে সহায়তা করতে প্রতিবেশী ভারত ও চীন, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞরাও সহায়তা করছেন।

থাপা জানান, এসব সহায়তার ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মরদেহ ও স্বজনদের ডিএনএ মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

তবে ফলাফল না আসা পর্যন্ত নিখোঁজদের পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তা ও গভীর মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের কয়েকটি পরিবার এরই মধ্যে প্রতীকীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।

রাজেশ রামও জানেন না, শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর পাবেন কি না।

তিনি বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছি, যদি আমার ছেলের কোনো দেহাবশেষ খুঁজে পাই।’


নির্বাচিত

কৌশলগত ঐক্যের পথে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেন সংঘাত, ওপেক তেলনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের নীতিগত দূরত্ব ভুলে আবারও বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমঝোতার পথে হাঁটছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই শীর্ষ শক্তি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’ এই সফরকে রিয়াদ ও আবুধাবির গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক সামরিক হুমকি, তেলের পাইপলাইনে আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার মুখে অঞ্চলটির অভিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দুই মিত্র ফের ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিগত বছরগুলোতে আঞ্চলিক নানা বিষয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরবর্তীতে আমিরাত বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি)’ সমর্থন দেয়, অন্যদিকে সৌদি আরব মূল সরকারকে টিকিয়ে রাখতে অনড় থাকে। এ ছাড়া সুদান সংকট, নিজস্ব স্বার্থে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে আমিরাতের দূরত্ব তৈরি এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে আবুধাবির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তও সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল। তবে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের ঠিক পরদিনই আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌদি সফরে যান। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে ইরান ও হুথিদের যৌথ হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আঞ্চলিক আকাশ ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সৌদি আরব সম্প্রতি নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ ‘মক্কা চুক্তি’র মতো প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করলেও তা হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরোপুরি থামাতে পারেনি। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করায় এবং বেইজিংয়ের মাধ্যমে ইরানকে নিবৃত্ত করার প্রচেষ্টাও পুরোপুরি সফল না হওয়ায় রিয়াদ এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর জোর দিচ্ছে। গত বুধবার সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলে দেওয়া নীতিগত ভাষণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অবিচ্ছেদ্য এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অখণ্ডতা জোরদারে যৌথভাবে কাজ করছে তাঁর দেশ।

ঐতিহাসিক ও আদর্শিক দিক থেকেও সৌদি আরব ও আমিরাতের নীতিতে গভীর মিল রয়েছে; অতীতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিয়ন্ত্রণ, সিরিয়া ও কাতার সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিকায়নে উভয়েই একযোগে কাজ করেছে। এমনকি যুবরাজ সালমানের শুরুর রাজনৈতিক জীবনে মোহাম্মদ বিন জায়েদকে একজন অভিজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বরফ গলার অংশ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইতিবাচক বার্তা বিনিময় এবং আগস্টে সৌদি বাদশাহ সালমানকে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানি সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর গঠিত জিসিসির সম্মিলিত শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে একক দাবির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সমন্বিত চাপ সৃষ্টি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে; একই সঙ্গে সৌদি আরব প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি না করেও আমিরাতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে, যা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক ঐক্যেরই সূচনা করছে।


নির্বাচিত

ফের মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও আঘাতের পরিকল্পনা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে কেবল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতেও একযোগে জোরালো আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরার পর থেকেই তেহরানের সামরিক কমান্ডাররা এই সম্ভাব্য বিস্তৃত সামরিক জবাবের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছেন। যদিও কূটনৈতিক মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের পরোক্ষ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে কোনো কার্যকর সমঝোতার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন ইরানি নীতিনির্ধারকেরা। ফলে নতুন মার্কিন হামলা প্রতিহতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিই নয়, বরং মার্কিন অভিযানকে সমর্থনকারী মিত্র দেশগুলোর স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থকেও নিজেদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে দেশটি।

সম্ভাব্য সর্বাত্মক সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে ইরান ইতিমধ্যে লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা নিজেদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সতর্কাবস্থায় থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে একযোগে সমন্বিত পাল্টা আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের কোনো অভিযান চালাবে নাকি পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত হামলা করবে তা নিয়ে তেহরান পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তারা আর কোনো প্রতীকী জবাবে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়; বরং সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ডিটারেন্স পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই তারা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। যদিও নিউইয়র্কে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান—যেখানে যুদ্ধ বন্ধ, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খোলার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে তা নাকচ করলেও পরবর্তীতে কাতারের মাধ্যমে একটি মার্কিন জবাব তেহরানে পৌঁছেছে; তবে ওয়াশিংটন পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার পূর্বশর্ত করায় এবং তেহরান নিজেদের সাত শর্তে অনড় থাকায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ইরানের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপের নেপথ্যে বড় এক সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশটির রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস। ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মন্তব্য করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এমন শ্বাসরুদ্ধকর অর্থনৈতিক অবরোধ সহ্য করার মতো আর্থিক সক্ষমতা ইরানের নেই। ইতোমধ্যে চলমান সংঘাতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অপর দিকে পেন্টাগনের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও হ্রাস পেয়েছে। সংঘাতের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে, তা নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

বাইরের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের সমান্তরালে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব। দেশটির সংস্কারপন্থী সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবনতিশীল অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে যে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করছে সরকার। তিনি সতর্ক করেন যে, একদিকে বাইরে থেকে মার্কিন বোমাবর্ষণের ঝুঁকি এবং অন্যদিকে ভেতরে তীব্র অর্থনৈতিক অসন্তোষ একসঙ্গে দেখা দিলে তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বৈধতার জন্য বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকট তৈরি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে জানুয়ারির বিক্ষোভের বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার মুখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হচ্ছে এবং ভিন্নমত দমনের পাশাপাশি সরকারের অনুগত সমর্থকদের রাতের সমাবেশগুলোতে নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান।


নির্বাচিত

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরেই তাইওয়ানে মার্কিন এফ-১৬ভি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের ক্রমাগত সামরিক চাপ ও নিয়মিত আকাশসীমা লঙ্ঘনের মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা ৬৬টি নতুন এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি বিমান গ্রহণ করেছে তাইওয়ান। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০৪:০০ টা) বিমান দুটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল হাওয়াই ও গুয়াম হয়ে তাইওয়ানের পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুংয়ে অবস্থিত চিহাং বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো তাইপের কাছে হস্তান্তর করা হলো।

২০১৯ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তৈরি এসব উন্নত যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য তাইওয়ানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি অনুমোদিত হয়েছিল। তবে সফটওয়্যার জটিলতাসহ বিভিন্ন কারিগরি কারণে বিমানগুলোর সরবরাহ এতদিন বিলম্বিত হচ্ছিল; পুরো চালান সম্পন্ন হলে তাইওয়ানের বিমানবাহিনীতে মোট এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে। বিমানগুলো অবতরণের কিছুক্ষণ আগে তাইপের সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানান, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধবিমানের আরও চালান তাইওয়ানে পৌঁছাবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কেবল এই দুটি বিমানের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে তাইপের রাজনৈতিক মহলে নানামুখী সংশয়ের মাঝেই এই সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছাল। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা অনুমোদন দিলেও চলতি বছরের মে মাসে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৮ সালের শুরুতে তাইওয়ানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বেইজিংয়ের সামরিক আক্রমণের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন; তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কু স্পষ্ট করে বলেছেন যে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটি দখল করার যে দূরভিসন্ধি চীনের রয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

নতুন সরবরাহ করা এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলোতে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক এভিয়েনিক্স, শক্তিশালী সমরাস্ত্র এবং সর্বাধুনিক রাডার সিস্টেম; যা আকাশে নজরদারি এবং চীনা বিমানবাহিনীর দূরপাল্লার ‘জে-২০’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে তাইওয়ানকে কৌশলগত সুবিধা দেবে। ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে নিজেদের সবচেয়ে উন্নত এফ-২২ কিংবা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে সম্মত না হওয়ায় এফ-১৬ভি সরবরাহকেই দ্বীপটির প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার পাশাপাশি তাদের পুরোনো এফ-১৬ বিমানগুলোর আধুনিকায়ন ২০২৩ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল। তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও আইনের বাধ্যবাধকতায় আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করে আসা বেইজিংয়ের আপত্তির মুখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ রক্ষায় ওয়াশিংটন তাইওয়ানসহ তার মিত্রদের পাশে অবিচল থাকবে।


নির্বাচিত

ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের, ইউরোপকে মজুত ছাড়ার তাগিদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিজেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে অবিলম্বে অতিরিক্ত ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটের কারণে আমেরিকান কৃষক, ট্রাকচালক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপতে দেওয়া যায় না; ফলে ইউরোপের উচিত তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মজুত থেকে দ্রুত বাজারে ডিজেল সরবরাহ উন্মুক্ত করা।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে এমন অর্থনৈতিক সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ভোটারদের কাছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একটি বড় ইস্যু হয়ে ওঠায় দেশের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত ডিজেল রেখে পাম্পে দাম কমানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে থাকে এবং দেশটি প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি তথ্যসংক্রান্ত সংস্থা আর্গাস মিডিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ফাইফ সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে নতুন করে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, সেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তেলজাত পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজেলের অপর বৃহৎ আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার ওপর বিদ্যমান বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঘাটতিকে আরও গভীর করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যালোচনা করতে গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মার্টিন ম্যাকক্লাসকি এবং ইউরোপীয় কমিশনও মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বছরের শুরুতে সমন্বিতভাবে মজুত ছাড়ার পরও ইউরোপের হাতে এখনো কিছু জরুরি তেল অবশিষ্ট রয়েছে, তবে আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটারে ১৯৯ দশমিক ৭৯ পেন্সে উঠে প্রায় ২০০ পেন্সের সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা পূর্বে ছিল ১৪২ দশমিক ৩৮ পেন্স। অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল উৎপাদিত না হওয়া এবং দেশটির সড়কে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ডিজেলচালিত যানবাহন সচল থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ বন্ধ হলে ব্রিটেনসহ ইউরোপজুড়ে পরিবহন ও শিল্প খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি এবং প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আন্তর্জাতিক আশঙ্কার মাঝেই ‘ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট’ নামের এই বিশালাকার রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, থিওডর রুজভেল্ট এবং এর সঙ্গে থাকা সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ও সেনাবহর আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় গিয়ে পৌঁছাবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামের দুটি বিমানবাহী রণতরি আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরে দায়িত্ব পালনকারী জর্জ ওয়াশিংটন রণতরিটিকে সম্প্রতি অন্য একটি জাহাজের সেনাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মূলত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কারণে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরির ক্রু ও সেনারা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে বাধ্য হন; ফলে তাঁদের মধ্যে তীব্র মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি দেখা দিলে সামরিক চাপের মুখে আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাহার করে নেয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

থিওডর রুজভেল্ট যুক্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় দায়িত্ব পালনরত মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে, যা সাম্প্রতিক সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ও অস্বাভাবিক এক জমায়েত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক এই সেনার পাশাপাশি কয়েকটি নৌবহরে মোতায়েন থাকবে কয়েক শ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তেহরানের ওপর যেকোনো সম্ভাব্য বড় ধরনের অভিযানের সক্ষমতা নিশ্চিত করতেই নৌবহরের এই শক্তি বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে।

সামরিক এই প্রস্তুতির সমান্তরালে কূটনৈতিক অঙ্গনেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত সপ্তাহে তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পর্যুদস্ত হওয়ার কারণেই এখন কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে একটি শান্তি চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।


নির্বাচিত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সীমান্তসংলগ্ন দুটি প্রদেশে গভীর রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত আস্তানা ও প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ২২ জন ‘যোদ্ধা’ নিহত হয়েছেন। তবে কাবুলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন বেসামরিক নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলা ও হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে তালেবান শাসিত সরকার অভিযোগ তোলে, আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে বেসামরিক বসতিতে ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের দেওয়া এই হতাহতের দাবি আলজাজিরা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

আফগান সরকারের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, গত বুধবার গভীর রাতে সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই হামলা পরিচালনা করে। এতে অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে পরিচালিত এই হামলায় সাধারণ মানুষের অন্তত তিনটি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে।

তিনি লেখেন, আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটিকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমস্ত নীতি ও নিয়মের বরখেলাপ বলে মনে করি।

প্রায় তিন মাস সীমান্ত এলাকা তুলনামূলক শান্ত থাকার পর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আবারও চরম উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ল। পাকিস্তানের দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় ও নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে তালেবান সরকার। এসব গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে নিয়মিত পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে।

তবে আফগান তালেবান সরকার সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বসতবাড়িতে হামলা চালাচ্ছে, যার বলি হচ্ছে নিরপরাধ নারী ও শিশুরা।


নির্বাচিত

তুরস্কে সিরিয়া ও হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদের গোপন বৈঠক

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ার পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সিরিয়া সরকার ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা তুরস্কে গোপনে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন। দীর্ঘদিনের দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে গত মাসে অন্তত একবার এ বৈঠক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ৬টি সূত্র জানিয়েছে।

রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তা এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুই সিরীয় কর্মকর্তা, একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একজন জ্যেষ্ঠ লেবাননি নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

স্পর্শকাতর এই বৈঠক নিয়ে কথা বলার সময় সব সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছেন। বৈঠকটির খবর এর আগে প্রকাশিত হয়নি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারকে রক্ষায় বহু বছর ধরে যোদ্ধা পাঠিয়েছিল হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার নতুন সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

দামেস্কের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহ করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সামরিক বাহিনীকে লেবাননে সেনা পাঠিয়ে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসাহিত করেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, গত মাসের বৈঠকে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুরস্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আমন্ত্রণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকটি কোথায় হয়েছে, কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল এবং এর আগে বা পরে আরও বৈঠক হয়েছে কি না; এসব তথ্য রয়টার্স স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম কার্যালয়ও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার বিভিন্ন কারণ নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং আলোচনা ভালোভাবে এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তা, সিরিয়ার কর্মকর্তারা এবং লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্রটি।

সিরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উভয় পক্ষই একে অপরের প্রতি কোনো শত্রুতা পোষণ করে না বলে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়া হিজবুল্লাহকে আশ্বস্ত করেছে যে, লেবাননে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করতে তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে না।’

এর বিনিময়ে সিরিয়ার কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে সীমান্তপথে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে সহযোগিতা এবং সিরিয়ায় থাকা সংগঠনটির অবশিষ্ট গোপন সেল, বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ার সেলগুলো, ভেঙে দিতে সহায়তার আহ্বান জানান।

গত মঙ্গলবার সিরিয়া জানিয়েছিল, দক্ষিণাঞ্চলে রকেট হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল; এমন একটি হিজবুল্লাহ সেল তারা আটক করেছে। তবে গত বুধবার হিজবুল্লাহ এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছে, সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের ‘কোনো উপস্থিতিই নেই’ এবং সেখানে কোনো নিরাপত্তা বা সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা নেই।

সিরিয়ার ওই কর্মকর্তা জানান, অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ এবং সিরিয়াভিত্তিক সেলগুলো ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

বৈঠক ও এর ফলাফল সম্পর্কে সরাসরি অবগত লেবাননি নিরাপত্তা সূত্রটি জানায়, নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে দুই পক্ষ অনেক অগ্রগতি করেছে। তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ নিজেদের দিকটি নিরাপদ রাখতে চায়।’ তার মতে, লেবাননের ভেতরে সিরিয়ার কোনো হামলার আশঙ্কা নিয়ে সংগঠনটির উদ্বেগ রয়েছে।

তবে সিরিয়ার কর্মকর্তা ও লেবানিজ সূত্র দু’জনই জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং বৈঠক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল না। লেবাননি সূত্রটি আরও জানায়, তুরস্কের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছিল প্রায় দুই মাস আগে।


নির্বাচিত

আমেরিকার সাথে আলোচনায় রাজি ইরান: পেজেশকিয়ান

মাসুদ পেজেশকিয়ান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আমেরিকার সাথে আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানের দরজা কখনই বন্ধ করেনি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মন্তব্য করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতা চলাকালেই তিনবার হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের সাথে সংলাপে বসতে তার দেশ ‘কখনই পিছপা হয়নি এবং হবেও না’।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সাথে এক যৌথ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন।


বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতের সংবেদনশীল বিষয় এবং সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে আমাদের সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।’ আমেরিকার আগ্রাসী পদক্ষেপের পরও তেহরান তাদের কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানান তিনি।


রাষ্ট্র পরিচালনা প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের মধ্য অত্যন্ত চমৎকার সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে। দেশের বিদ্যমান সংকট ও ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে আমরা সবাই এক হয়ে পথ চলছি।’
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রতিবেশী দেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, সামুদ্রিক রুটে নানামুখী ‘বাধা ও সীমাবদ্ধতা’ সত্ত্বেও ইরান তার স্থল পথ ব্যবহার করে ব্যবসা বিস্তারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে তেহরান বর্তমানে প্রতিবেশী পাকিস্তান, ইরাক, তুর্কমেনিস্তান এবং আজারবাইজানের সাথে স্থলভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি রুট নতুন করে সাজাচ্ছে ও জোরদার করছে।


নির্বাচিত

banner close