বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ২২ সিনেটরের চিঠি

দৈনিক বাংলা ডেস্ক 
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক 
প্রকাশিত : ৩ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১১

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যান।

চিঠিতে তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকার ছাত্রদের বিক্ষোভ দমনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে ব্যবহার করেছে। সহিংসতা ও সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। এই নির্বাচন স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জোরালো সহিংসতা ঘটেছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে পুলিশ, বিক্ষোভকারী, বিরোধীকর্মী ও সরকারপন্থি সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত হয়েছে। এতে ১৭০ জন নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞায় থাকা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে দাঙ্গা পুলিশ। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কঠোর কারফিউ ও ‘দেখামাত্রই গুলি করার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিক্ষোভ দমনের জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়।

এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা চিঠিতে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব সহিংসতার নিন্দা করতে হবে। সেই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিক্ষোভ দমনে যেসব সরকারি কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশের এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয় ওই চিঠিতে। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশীদার হতে হবে, যারা বাংলাদেশি জনগণের একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকারের অধিকারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

চিঠিতে বিরোধী দলের হাজারও নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানরা বলেছেন, আটককৃতদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্ত হলেও এখনো অনেকেই কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মী ও সরকারবিরোধী সমালোচকরা অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে হয়রানি, নজরদারি কিংবা শারীরিক আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি কঠোর ডিজিটাল সেন্সরশিপ অব্যাহত রয়েছে বলেও বলা হয় ওই চিঠিতে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশে শ্রম-আইন ব্যবস্থার উন্নতি করতে ব্যর্থ হওয়া না পারার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ২০২১ সালের বাংলাদেশের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান বা র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় এই চিঠিতে।

চিঠিতে যেসব মার্কিন সিনেটর সই করেছেন তারা হলেন অ্যাডওয়ার্ড জে. মার্কি, ক্রিস ভ্যান হোলান, টাম্মি বাল্ডিন, জেফরি এ মার্কলি, ক্রিস্টোফার এস মারফি, টিম কাইন, রিচার্ড জে ডারবিন। এ ছাড়া মেম্বার অব কনগ্রেসম্যানদের মধ্যে এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন জেমস পি. ম্যাক গভার্ন, উইলিয়াম আর কিয়েটিং, গ্রেস মেঞ্জ, সেথ মল্টান, লরি ট্রাহান, জো উইলসন, জেমস সি. মোলান, ডিনা টিটাস, জিরাল্ড ই কনলি, গাবে আমো, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, ইলহান ওমর, নাইডিয়া ভেলাজকুয়েজ, ডেনিয়েল টি কিলডি ও বারবারা লি।


মার্কিন হামলায় নিহত ৫৭, ভেনিজুয়েলায় ৭ দিনের শোক

ভেনিজুয়েলার নিহত সেনাদের কফিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত সামরিক হামলা ও অভিযানে অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) চালানো হামলাটি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার উদ্দেশে কারাকাসে সংঘটিত হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন ভেনিজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা। এছাড়া দুইজন বেসামরিক নারীও প্রাণ হারিয়েছেন। কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি সংবাদপত্র গ্রানমা, ‘সম্মান ও গৌরব’ শিরোনামে একটি পোস্টে অভিযানে নিহত সেনাদের বিবরণও শেয়ার করেছে।

এদিকে ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শনিবারের (৩ জানুয়ারি) হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের সম্মানে দেশব্যাপী সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বলেন, যে সব তরুণ ও পুরুষ–নারীরা দেশ ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে রক্ষার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সম্মানেই এই শোক।

কিউবান সরকারও তাদের নাগরিকদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে নিহত ৩২ জনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেসা লাতিনা সংস্থা জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলা সরকারের অনুরোধে দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মিশন পরিচালনা করার সময় কিউবার যোদ্ধাদের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল তাদের মহান সাহসিকতা ও মর্যাদার জন্য শ্রদ্ধা জানান এবং দুই দিন জাতীয় শোকের ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ৫ ও ৬ জানুয়ারি দেশটিতে নিহত সেনাদের স্মরণে শোক পালন করা হয়। কিউবা ভেনিজুয়েলার সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বছরের পর বছর ধরে তারা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে অভিযানে সহায়তা করার জন্য সামরিক ও পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে আসছে।


মাদুরো আমার নাচ নকল করে : ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এবার এক বিচিত্র অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের অভিযোগে বর্তমানে আটক মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দাবি, এই নেতা জনসমক্ষে তার বিখ্যাত নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল রিপাবলিকানদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নিজের স্বভাবসুলভ হাত দুলিয়ে নাচের ভঙ্গিমার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, মাদুরো সেখানে দাঁড়িয়ে তাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাদুরোর কিছু নাচের ভিডিও হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানালেন।

মজার ছলে নাচের কথা বললেও বক্তব্যে মাদুরোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার এই নেতা লাখ লাখ মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী এবং কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে তার একটি নিজস্ব নির্যাতন কক্ষ বা টর্চার চেম্বার ছিল যা এখন বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এই বিশাল সংখ্যক মানুষ হত্যার অভিযোগের সপক্ষে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি। একই সমাবেশে তিনি নিজের নাচ নিয়ে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের অস্বস্তির কথা জানিয়ে বলেন যে, মেলানিয়া এই নাচকে প্রেসিডেন্টসুলভ মনে করেন না। মেলানিয়া মনে করেন জনতা কেবল ভদ্রতা বশত হাততালি দেয়, যদিও ট্রাম্পের দাবি সাধারণ মানুষ তার এই নাচ দেখার জন্য সবসময় চিৎকার করে অনুরোধ জানায়।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার মার্কিন বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, মাদুরোকে আটকের পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


গ্রিনল্যান্ড 'দখলের' বিষয়ে যা জানাল হোয়াইট হাউস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আর্কটিক অঞ্চলে নিজ দেশের আধিপত্য নিশ্চিত করতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় দেশ এবং কানাডার নেতারা যখন যৌথভাবে দাবি করছেন যে আর্কটিক অঞ্চলটি সেখানকার স্থানীয় জনগণের মালিকানাধীন, ঠিক সেই সময়েই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমন বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক ঘোষণা এলো। বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে তাঁর দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে দেখছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর প্রভাব প্রতিহত করতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে শেষ অস্ত্র হিসেবে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে এভাবে একটি অঞ্চল দখলের প্রচেষ্টা ন্যাটো জোটের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে এবং ইউরোপীয় নেতাদের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটাতে পারে। মূলত ২০১৯ সালে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন, তবে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সফল সামরিক অভিযানের পর তাঁর এই পুরোনো আগ্রহ নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেছেন যে, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান আধিপত্য এখন অবিসংবাদিত।

গ্রিনল্যান্ড দখলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বর্তমানে দ্বীপটি রাশিয়ান এবং চীনা জাহাজ দ্বারা আবৃত হয়ে আছে এবং ডেনমার্কের পক্ষে এই বিশাল এলাকাটি রক্ষা করার কোনো সামর্থ্য নেই। তিনি কলম্বিয়া ও কিউবার ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডকেও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপে বসবাসকারী প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বারবার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নন। সার্বভৌমত্ব এবং স্থানীয় মানুষের অধিকারের প্রশ্নটি উপেক্ষা করে ট্রাম্পের এই নতুন সামরিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্থিরতা ও প্রতিবাদের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ইরানে বিক্ষোভের দাবানল: ২৭ প্রদেশে ছড়িয়েছে আন্দোলন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দশ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলন দেশটির মোট ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭টিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ)-এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং দুইজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া সহিংসতায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং আন্দোলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের নিহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবে তাঁরা দাবি করেছেন যে সংঘর্ষে তাঁদের অন্তত তিনজন নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের মালেকশাহী এলাকায় এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ওই প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার এলাকায় শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে স্লোগান দিলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে সরাসরি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যায়, যার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই বিশাল বিক্ষোভের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে দোকানিরা প্রথম রাস্তায় নামেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ তরুণ সমাজ এই আন্দোলনে যোগ দিলে তা দাবানলের মতো পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত এক বছরে ইরানি মুদ্রার যে রেকর্ড দরপতন হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একদম তলানিতে ঠেকেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক এই দেউলিয়াত্বই সাধারণ মানুষকে রাজপথে জীবন বাজি রেখে নামতে বাধ্য করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বর্তমানে তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে এক অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

*আলোচনায় প্রাধান্য পেল নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে প্রতিনিধিদলটি। এতে নেতৃত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন।
সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে এবং এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি এরমধ্যে গ্রহণ করেছে। বিএনপি আশা করছে, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমান নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার একটি বড় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে, যারা সারাদেশে কাজ করবে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক না পাঠালেও এবার তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি করবে বলে বিএনপি মনে করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রথম থেকেই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে ফিরে প্রথম জনসভাতেই ‘শান্তি ও সমঝোতা’–এই শব্দ দুটির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আগামী দিনে তারা আরও বেশি পরিমাণে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের কল্যাণে বিএনপির ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়, বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বাংলাদেশে লেবার কোড সংশোধন ও লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছিল। বিএনপি ভবিষ্যতে শ্রম আইনের আরও আধুনিকায়ন ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি নির্বাচনী ব্যস্ততা ও সময়ের ওপর নির্ভর করছে। তবে আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপির সবসময়ই আগ্রহ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।


নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে নজর ভারতের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা এবং তার ধর্মনিরপেক্ষ দল আওয়ামী লীগকে তাদের স্বাভাবিক মিত্র হিসেবেই বিবেচনা করত। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকায় তার জানাজায় যোগ দিতে আসা আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছিলেন অন্যতম। কালো পোশাক পরে জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন; তাদের দুজনের মুখেই ছিল শোকের ছায়া। এসময় জয়শঙ্কর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তুলে দেন তারেক রহমানের হাতে। এরপর সামাজিক মাধ্যম এক্সে বৈঠকের ছবিসহ এক পোস্টে জয়শঙ্কর এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন যা বিএনপির সঙ্গে নয়াদিল্লির অতীত সম্পর্কের তুলনায় এক নাটকীয় পরিবর্তন নির্দেশ করে।

তিনি লেখেন, ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছি। আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছি যে, বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ও আদর্শ আমাদের অংশীদারিত্বের উন্নয়নে পথ দেখাবে। খবর আল জাজিরার।

কয়েক দশক ধরে ভারত প্রকাশ্যে বা গোপনে খালেদা জিয়ার ‘স্বপ্ন ও আদর্শের’ বিরোধিতা করে আসছিল। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ সমর্থকের কাছে তিনি ১৯৮০-র দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ১৯৯১ সালে প্রথম ক্ষমতায় এলেও ভারত তাকে সর্বদা সন্দেহ ও অবিশ্বাসের চোখে দেখেছে। কয়েক দশক ধরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির জোট ছিল, যারা ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষপাতী।

তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আল জাজিরাকে বলেন, ঢাকায় তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠ দলের সঙ্গে জয়শঙ্করের ‘অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ’ বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি ভারত ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি উভয় পক্ষকেই এই পরিবর্তনের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর, ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর প্রতি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের সমর্থন বাংলাদেশের মানুষের মনে কড়া ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি করেছে।

হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন এবং গত বছর বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও ভারত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেই দমন-পীড়নে প্রায় ১,৪০০ মানুষ মারা গেছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত রয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনের একজন কট্টর ভারতবিরোধী নেতার হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে আবারও ভারতবিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধে। অন্যদিকে, এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি গণপিটুনির শিকার হন। এনিয়ে ভারতেও উত্তেজনা ছড়ায়। উভয় দেশকেই সাময়িকভাবে তাদের হাইকমিশনে ভিসা পরিষেবা বন্ধ করতে হয়েছিল।

তবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের ফেলে আসা উদার ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক স্থানটি দখল করার চেষ্টা করছে বিএনপি। দলটি জামায়াতের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছে- যে জামায়াত এখন চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গঠিত দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে বিএনপি এবং জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত জামায়াতের রাজনীতি এবং তাদের পাকিস্তানঘেঁষা অবস্থানের সঙ্গে আপস করতে না পারলেও তারেক রহমান ইদানীং এমন কিছু বক্তব্য দিচ্ছেন, যা নয়াদিল্লির জন্য স্বস্তিদায়ক।

১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঢাকায় ফিরে তারেক রহমান সমর্থকদের বলেন, তিনি এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ চান যেখানে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আল জাজিরাকে বলেন, তারেক রহমানের কথা শুনে মনে হয় তিনি ‘নির্বাসনের বছরগুলোতে পরিণত হয়েছেন’।

তারেক রহমানের মতো বিএনপি নিজেও ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে কার্যত রাজনৈতিক নির্বাসনে ছিল। প্রথমে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরে হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার দলটির নেতাদের একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখে।

বিএনপি যখন শেষবার ক্ষমতায় ছিল (২০০১-২০০৬), তার সিংহভাগ সময় জুড়েই ভারতে মোদির দল বিজেপি ক্ষমতায় ছিল (১৯৯৮-২০০৪)। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। সেই আমলে বাণিজ্য বিরোধ, সীমান্ত সমস্যা, নদীবন্টন, অভিবাসন, সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ছিল।

নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছিল, বাংলাদেশ তাদের ভূখণ্ডে ভারতবিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। ভারত আরও অভিযোগ করেছিল, বিএনপি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আঁতাত করছে। তবে ঢাকা বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শ্রিংলা বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই এই সম্পর্কের প্রেক্ষাপট ছিল পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শত্রুতার। বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ একটি ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিল এবং পাকিস্তানের খুব ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। আর সেই সরকারে তারেক রহমান ছিলেন একজন প্রধান চালিকাশক্তি।

তবে এখন হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। নভেম্বরের শেষের দিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে মোদী দ্রুত তার আরোগ্য কামনা করেন। বিএনপিও সেই বার্তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়।

শ্রিংলা মনে করেন, তারেক রহমান বুঝতে পেরেছেন যে, একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তার ভারতের সমর্থন প্রয়োজন, অথবা অন্ততপক্ষে ভারতের বিরোধিতা তিনি চান না।

জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমান এখন সব সঠিক কথাই বলছেন। লন্ডন থেকে ফেরার পর ঢাকার রাস্তায় তাকে স্বাগত জানাতে যেভাবে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, তাতে বোঝা যায় তিনি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট বা অন্য রাজনৈতিক শক্তির তুলনায় তারেক রহমানই এখন নয়াদিল্লির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ব্যক্তিত্ব।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ভারত ছাত্র বিপ্লবী এবং জামায়াতে ইসলামীকে তাদের স্বার্থের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখে।

সাউথ এশিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বিচ্ছেদ নয়াদিল্লিকে রহমানের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তবে তিনি এও বলেন যে, ভারত সানন্দে নয় বরং প্রয়োজনের তাগিদেই রহমানের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।

সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অনিল ত্রিগুনায়াতে মনে করেন, তারেক রহমান ক্ষমতায় ফিরলে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাংলাদেশে পাকিস্তান বা ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে বিএনপির উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের মতে, তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের যে সম্পর্ক হাসিনার আমলে তলানিতে ঠেকেছিল, তা পুনরুজ্জীবিত করা।


ড্যানিস প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি : যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ‘ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না’

মেটে ফ্রেডেরিকসেন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এবার গ্রিনল্যান্ডের দিকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরই এমন মন্তব্য করেছেন ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজসম্পদের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও বারবার দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

গত রোববার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী ২০ দিনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটা সমাধান করতে হবে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার, খনিজসম্পদের জন্য নয়।’

ট্রাম্পের হুমকির এই প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিভি-২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তবে সেখানেই সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে। অর্থাৎ, ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমরা যে নিরাপত্তা পেয়ে আসছি, তার কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।’

ডেনমার্কের অংশ ও বিশালাকৃতির এই আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২ হাজার মাইল (৩,২০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। দ্বীপরাষ্ট্রটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানও দখল করে আছে, যা ক্রমবর্ধমানভাবে আর্কটিক সার্কেলে প্রবেশাধিকার দেয়। আগামী বছরগুলোতে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় নতুন নৌপথ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আর কোনো চাপ নয়। আর কোনো ইঙ্গিত নয়। সংযুক্তির কল্পনা নয়। আমরা আলোচনায় উন্মুক্ত। আমরা সংলাপে উন্মুক্ত। তবে এটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে হতে হবে’।

প্রসঙ্গত, ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে সেখানে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেখানকার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। দেশটির অধিকাংশ নাগরিক ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।


ভেনিজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়: এরদোয়ান

রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনিজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়— যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এক ফোনালাপে তিনি এই কথা বলেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এরদোয়ান এ সতর্কবার্তা দেন।

মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক শেষে এরদোয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ সমর্থন করি না। অন্য দেশের সার্বভৌম অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ; যা বিশ্বজুড়ে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।’

এরদোয়ান বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে আমি এ বিষয়ে আমাদের দেশের সংবেদনশীলতার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছি যে ভেনিজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।’ সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করে মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেন এরদোয়ান।

এরদোয়ান বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে আমাদের প্রচেষ্টা তুরস্ক ও ভেনিজুয়েলার বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের জন্য যা সবচেয়ে ভালো ও সঠিক, তা করার দিকেই নিবদ্ধ। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও ভেনিজুয়েলার জনগণ বারবার প্রমাণ করেছেন যে তারা আমাদের দেশের অকৃত্রিম বন্ধু।’ তিনি বলেন, তুরস্ক ভেনিজুয়েলার পাশে থাকবে এবং দেশটির স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে তুরস্কে নির্বাসনে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। গত সোমবার ভোরে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সঙ্গে এরদোয়ানের বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

২০১৬ সাল থেকে এরদোয়ান ও মাদুরোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সেই বছর তুরস্কে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর মাদুরো নিজে এরদোয়ানকে ফোন করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তবে সপ্তাহজুড়ে তুরস্ক সরকারের অবস্থান ছিল কিছুটা নীরব থাকলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে শুধু ভেনিজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এমনকি সপ্তাহান্তে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে কথা বললেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন এরদোয়ান।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভেনিজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটিতে মার্কিন হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৮০–তে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

‘হামলার পেছনে রয়েছে ইহুদিবাদী প্রভাব’

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। একই সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোতে বোমা হামলা চালায়। ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার এ ঘটনার পেছনে ‘ ইহুদিবাদীর প্রভাব’ রয়েছে।

মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রদ্রিগেজকে ভেনিজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার স্তম্ভিত যে ভেনিজুয়েলা এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এ হামলার পেছনে নিঃসন্দেহে জায়নবাদী প্রভাব রয়েছে।’


ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানালেন গুতেরেস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনিজুয়েলায় ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) মাদুরোকে ম্যানহ্যাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে গুতেরেস এ উদ্বেগের কথা জানান।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলাকে দখলের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক প্রধান রোজেমেরি ডিকার্লোর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ‘আমি দেশটির (ভেনিজুয়েলা) অস্থিরতার সম্ভাব্য তীব্রতা বৃদ্ধি, ওই অঞ্চলে এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং রাষ্ট্রগুলোর পরস্পরের মধ্যে ও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে সে ক্ষেত্রে এটি যে নজির স্থাপন করতে পারে তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার বিচারের দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় একটি সার্জিক্যাল আইন প্রয়োগকারী অভিযান চালিয়েছে।’

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ‘দুই অভিযুক্ত’ বলতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বোঝানো হয়েছে।

ওয়াল্টজ আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভেনিজুয়েলা বা তার জনগণের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নেই। আমরা একটি দেশকে দখল করছি না।’

তিনি যোগ করেন, আমরা পশ্চিম গোলার্ধকে আমাদের জাতির প্রতিপক্ষদের অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেব না। বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি মজুতকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের নিয়ন্ত্রণে, অবৈধ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে দিতে পারেন না আপনি যা ভেনিজুয়েলার জনগণের উপকারেও আসছে না।

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা মাদুরোকে আটকের জন্য পরিচালিত মার্কিন অভিযানকে ‘একটি অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘এ অভিযানের কোনো ‘আইনি বৈধতা’ নেই।’

নিরাপত্তা পরিষদে মনকাডা জানান, ভেনিজুয়েলার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে এবং রাষ্ট্র তার পুরো ভূখণ্ডের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

গুতেরেস ভেনিজুয়েলার সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

কলম্বিয়ার অনুরোধে আয়োজিত এ বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান না দেখানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ সনদে বলা হয়েছে, সদস্যরা তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেকোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে হুমকি বা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে, যেখানে ‘ব্যক্তিগত বা সম্মিলিত আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার ক্ষুণ্ন না করার’ কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে রাশিয়া, চীন ও কলম্বিয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানায়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা না করে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে।


মাদুরোকে আটকের ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত মার্কিনিরা

নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটকের ঘটনায় আমেরিকার সাধারণ মানুষ প্রায় সমানভাবে পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

রয়টার্স ও ইপসোস প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মাদুরোকে ধরে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকলেও ৩৪ শতাংশ মানুষ এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া ৩২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাননি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই জরিপ থেকে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও বিরোধী। ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের এমন হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়, যেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকরাই মূলত এই সামরিক অভিযানের প্রধান সমর্থক। জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের ৬৫ শতাংশ অভিযানের পক্ষে মত দিলেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে, কারাকাসে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে—ট্রাম্পের এমন আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে উঠেছে। ৪৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চান না যে ওয়াশিংটন সরাসরি ভেনেজুয়েলার শাসনভার গ্রহণ করুক। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’ নিয়ে অন্তত ৭২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সোমবার প্রথমবারের মতো নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকসন্ত্রাস, মাদক পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এবং তাদের ছেলেকেও। আদালতে মাদুরো নিজেকে একজন ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘অপহরণের শিকার’ হিসেবে দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শুনানিতে তিনি নিজেকে এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেন। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে মাদুরো ও তার পরিবারের সদস্যদের আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে আবারও সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে রাখলেও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক নতুন করে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মাদুরোকে ধরতে কতজন সেনা কারাকাসে ঢুকেছিল?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ওই সময়ে ১৫০টিরও বেশি সামরিক বিমান উড়ে এসেছিল।

দ্য ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কারাকাসে মাদুরোকে আটক করার আগে কিছু হেলিকপ্টার ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিটার হেগসেথও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার হেগসেথ বলেন, কোনো মার্কিন সেনা হতাহত না হয়েই অভিযানে মাদুরোকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ওই অভিযানে মার্কিন বাহিনী হেলিকপ্টারযোগে কারাকাসে ঢুকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সহায়তায় কাজ করা হয় এবং মোট ১৫০টির বেশি সামরিক বিমান বিভিন্ন ভূমিকায় অংশ নেয়, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলাও ছিল।

এসময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ২০০ জনের মতো মার্কিন সেনা এই অভিযানে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটিই প্রথমবারের মতো এই অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সেনাসংখ্যা প্রকাশ করা হলো।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মাদুরো ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করেছিলেন এবং মাদক পরিচালনায় জড়িত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযানের মাধ্যমেই তাকে আটক করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়।

সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রী নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ‘নট গিল্টি’ আবেদন জানান। মাদুরো দাবি করেন, তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলায় পুনরায় দূতাবাস চালুর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে এমনটাই জানিয়েছেন। সোমবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, আমরা পুনরায় দূতাবাস খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে, পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এর আগে রোববার কারাকাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে ভাবছি।’২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলায় দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ট্রাম্প, বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতা জুয়ান গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এবং নিকোলাস মাদুরোর ২০১৮ সালের পুনর্নির্বাচনকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর এই পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

তারপর থেকে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন দায়িত্ব প্রতিবেশী কলম্বিয়ার দূতাবাস থেকে পরিচালিত হয়।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ নয়, আমাদের লড়াই মাদকচক্রের বিরুদ্ধে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চালাচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন মূলত মাদক ব্যবসায়ী এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলা তাদের কারাগার থেকে অপরাধী, মাদকাসক্ত এবং মানসিক রোগীদের বের করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছিল, যা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মূলত এই চক্রটিকে দমন করতেই তাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশটির বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে আমাদের দেশটিকে আগে ঠিক করতে হবে। এখন ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ নেই।


ভেনেজুয়েলার পর এবার ট্রাম্পের নিশানায় যে ৫ দেশ

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয়তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন দর্শন ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine) ঘোষণা করেছেন, যার লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য নিশ্চিত করা। এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর এখন বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, কারণ সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পের এই ‘সংযুক্তির কল্পনা’ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তবুও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ন্যাটোর ভেতরেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পেত্রো একজন ‘অসুস্থ মানুষ’ যিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তা করছেন। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুদেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক বৈরিতার সৃষ্টি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে ইরান। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ট্রাম্প আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছেন।

সবশেষে ট্রাম্পের নজর রয়েছে কিউবার ওপর। ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে পতনের মুখে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই ভেঙে পড়বে, তাই সেখানে এখনই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কথাকে যেন তারা কোনোভাবেই হালকাভাবে না নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো এখন ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।


ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫

আপডেটেড ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয় এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা ৯ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্যও এই সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে, যা ২০২২ সালের মাশা আমিনি পরবর্তী পরিস্থিতির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সংঘাতের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছররা গুলি বা পেলেট গান এবং প্লাস্টিক বুলেটের আঘাতে কমপক্ষে ৬৪ জন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ এবং ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক পরিসংখ্যান যাচাই করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সহিংসতার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের বর্তমান বেসামরিক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা নমনীয় মনোভাব বা আলোচনার সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পূর্ববর্তী শাসকদের তুলনায় ভিন্ন অবস্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান ও জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এই বিক্ষোভের মূলে থাকায় কেবল আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজপথের আন্দোলন থামানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা পেজেশকিয়ান প্রশাসনের জন্য এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


যুক্তরাজ্যে চালু হলো ফিলিস্তিনের দূতাবাস

আপডেটেড ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ফিলিস্তিনি দূতাবাস। সোমবার পূর্ব লন্ডনের হামারস্মিথে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই নতুন মিশনের পথচলা শুরু হয়, যা ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে এক বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জুমলুত এই মাহেন্দ্রক্ষণকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, এটি ব্রিটিশ-ফিলিস্তিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করেছে। এই দূতাবাস চালুর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নবউদ্বোধিত এই দূতাবাসটি এখন থেকে পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদা ও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে, যা বিশ্ব দরবারে ফিলিস্তিনি জনগণের সমান অধিকার এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের এক জোরালো প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা এখন সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের সাথে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত হুসাম জুমলুত বলেন, এই দূতাবাস কেবল একটি ভবন নয়, বরং এটি গাজা, পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শরণার্থী শিবিরের লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির অধিকারের এক জীবন্ত নিদর্শন। তিনি আরও যোগ করেন যে, শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যারা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, এই দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব যে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না তা পুনরায় বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণিত হলো। ফিলিস্তিনিদের জীবনের মূল্যকে কেউ আর খাটো করে দেখার সুযোগ পাবে না উল্লেখ করে তিনি এই দিনটিকে স্মরণীয় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। এই দূতাবাস স্থাপনের ফলে ইউরোপীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে এবং ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার লড়াই নতুন গতি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


banner close