অস্ট্রেলিয়ায় হোটেলের ছাদে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় হেলিকপ্টারটির পাইলট নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। তারা ওই হোটেলের গেস্ট। আজ সোমবার (১২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কুইন্সল্যান্ড শহরের কেয়ার্নসের একটি হোটেলের ছাদে তাদের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর একজন পাইলট মারা গেছেন। সোমবার স্থানীয় সময় গভীর রাত ১টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারটি হিলটন হোটেলের ডাবলট্রিতে আঘাত হানে।
এতে করে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং হোটেলের শত শত অতিথিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ বলছে, পাইলটই ছিলেন হেলিকপ্টারটির একমাত্র আরোহী এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া দুর্ঘটনায় হোটেলের দুই অতিথি আহত হয়েছেন। আহত ওই দুই অতিথি বয়স্ক নারী ও পুরুষ এবং তাদেরকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কুইন্সল্যান্ড পুলিশ এবং এভিয়েশন সেফটি ওয়াচডগ দুর্ঘটনার পরিস্থিতির তদন্ত করছে। এই কোম্পানি বলেছে, হেলিকপ্টারটি ‘অননুমোদিত’ উড্ডয়নে ছিল।
কেয়ার্নসের প্রধান এসপ্ল্যানেডের হোটেলে থাকা আমান্ডা কে বৃষ্টির আবহাওয়ায় আলো ছাড়াই ওই হেলিকপ্টারকে ‘অতিরিক্ত নিচুতে’ উড়তে দেখার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘(এটি) ঘুরতে ঘুরতে বিল্ডিংয়ে আঘাত করে এবং ‘বিস্ফোরিত হয়’।
অপর এক পথচারী বলেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে তিনি হেলিকপ্টারটিকে হোটেলের পাশ দিয়ে দুবার উড়তে দেখেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। একের পর এক সামরিক মহড়া, রণতরী মোতায়েন এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানোয় পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে দুই দেশ।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি বা মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিতে চাপে পড়ে বসে নেই ইরানও। কূটনৈতিকভাবে সমাধানের কথা বললেও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখার দাবি করছে তেহরান। আলোচনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনা আগের চেয়ে আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছে ইরান।
ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ফাইটার জেট ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ফাইটার জেট সংগ্রহ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি। বিমানঘাঁটিগুলোও দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে, যাতে আকস্মিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা আঘাত হানা সম্ভব হয়।
সেমনান প্রদেশের বৃহত্তম শহর শাহরুদে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ইতোমধ্যে পুনর্গঠিত হয়েছে। যুদ্ধকালীন মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এখন সেখানে আগের তুলনায় দ্রুত ও বেশি পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্ভব।
যুদ্ধের প্রস্তুতির মাঝেই কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। জেনেভায় ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক হয়েছে, যদিও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
ইরান নতুন করে একটি ডিফেন্স কাউন্সিল গঠন করেছে। সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানিকে এই কাউন্সিলের সচিব করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং উদীয়মান হুমকির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ চলছে।
পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী জোরদার মহড়া চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজে সামরিক কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। দেশে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন দমন করা হয়েছে কঠোরভাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কোনো সংঘাত হলে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো অঞ্চলে।
গত সাত বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ বিরতির পর হালনাগাদ করা তথ্যে দেখা গেছে যে গত সাত বছরে দারিদ্র্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিছুটা সফল হলেও গত কয়েক বছরে সেই ধারা পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, দারিদ্র্যের এই ঊর্ধ্বগতি পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আমূল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল গ্রামাঞ্চলেই নয়, পাকিস্তানের শহরগুলোতেও দারিদ্র্যের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, শহর এলাকায় দারিদ্র্যের হার আগে ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে ১৭.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে এই হার ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে দেশটির অধিকাংশ মানুষই জীবনযাত্রার মৌলিক মান ধরে রাখতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করেছে।
প্রাদেশিক পর্যায়ের তথ্যে দেখা যায়, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ বলে পরিচিত পাঞ্জাব প্রদেশেও দারিদ্র্য ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৩ শতাংশ হয়েছে। সিন্ধু প্রদেশে এই হার বর্তমানে ৩২.৬ শতাংশ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ৩৫.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে বেলুচিস্তানে, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পরিকল্পনামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রাদেশিক সরকারগুলোর উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিনগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও বৈষম্যের উচ্চ হার কমানো সম্ভব হয়নি।
দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি পাকিস্তানে অর্থনৈতিক বৈষম্যও আগের চেয়ে প্রকট হয়েছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের মতে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী অভিঘাত এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্তযুক্ত কর্মসূচি এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী। বিশেষ করে পাকিস্তানি রুপির চরম অবমূল্যায়নের ফলে দেশজুড়ে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, দেশকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে আইএমএফ-এর কঠিন শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া সরকারের কাছে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ দেশের নাগরিকদের অতিদ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে সুইডেন। ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্টকহোম। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড এক বিবৃতিতে ইরানে অবস্থানরত সুইডিশ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে দেশটি ছাড়ার এই কড়া আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে যাওয়ার জন্যও সকল নাগরিককে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আকাশপথ ও স্থল সীমান্তগুলো উন্মুক্ত থাকায় এখনও ইরান ত্যাগ করা সম্ভব। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সুযোগ থাকা অবস্থাতেই সকল সুইডিশ নাগরিককে কোনো প্রকার বিলম্ব না করে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানে অবস্থান করবেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিজেদেরই নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে সরকার কোনো বিশেষ উদ্ধার অভিযান বা সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করতে পারবে না।
সুইডেনের এই কঠোর অবস্থান মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সূত্র ধরে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে জেনেভায় চলমান সংলাপের মাঝেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ বাধ্য করতে সীমিত আকারের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে তাঁর প্রশাসন। তেহরান যদি দ্রুত নমনীয় না হয় তবে ‘অপ্রীতিকর কিছু’ ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি সামরিক অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টাও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সুইডেনের এই ত্বরিত পদক্ষেপে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আপাতত সুইডিশ নাগরিকদের নিরাপদ প্রস্থানই স্টকহোমের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী দেশটিকে কড়া ‘কূটনৈতিক চরমপত্র’ প্রদান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় সম্প্রতি এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার জেরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার যদি সন্ত্রাসীদের দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এর ফলাফল ভালো হবে না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা যাদের ইসলামাবাদ বর্তমানে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ হিসেবে অভিহিত করছে, তারা এই হামলার নেপথ্যে ছিল। একটি বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগামী যান নিয়ে সন্ত্রাসীরা বাজাউরের একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকির দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং একজন সাধারণ পথচারী প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করে এবং এতে অন্তত ১২ জন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, বাজাউর হামলায় অংশ নেওয়া আত্মঘাতী সদস্যরা কেবল আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহারই করেনি, বরং তারা সেই দেশের ভেতরেই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। এই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পাকিস্তান সরকার কাবুলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক চরমপত্রে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কাবুলের অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে ‘তাৎক্ষণিক, সুনির্দিষ্ট এবং যাচাইযোগ্য’ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাকিস্তান মনে করে, প্রতিবেশী দেশের নমনীয় অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো সীমান্তে বারবার রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।
পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালে ভারতের ওপরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য সক্রিয় কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মদদ ও অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তবে বরাবরের মতোই নয়াদিল্লি পাকিস্তানের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে প্রত্যাখান করেছে। ভারত জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার অন্য দেশের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানকে দেওয়া পাকিস্তানের এই চরমপত্র দুই দেশের মধ্যকার বিরাজমান শীতল সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা তথা ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। টিটিপির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এর আগেও ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে একাধিকবার বাদানুবাদ হয়েছে। বর্তমান এই চরমপত্রের পর তালেবান সরকার কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সীমান্তে সন্ত্রাস দমনে তারা কতটুকু সহযোগিতা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী তৎপরতা নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে যৌথ নৌ-মহড়া চালিয়েছে ইরান ও রাশিয়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রাশিয়ান নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে এই মহড়ার সমাপ্তি ঘটে।
আইআরএনএ–এর তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক কূটনীতির উন্নয়ন, সামরিক মিথস্ক্রিয়া সম্প্রসারণ এবং আভিযানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবেই এ নৌ-মহড়া পরিচালিত হয়েছে। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্প্রতি আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌবহরের উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং এসব বহর থেকে ইরানে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার সঙ্গে নৌ-মহড়া চালায় তেহরান।
মহড়া শেষ হওয়ার আগের দিন তেহরানে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আইআরএনএ জানায়, উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ বাস্তবায়নে পেজেশকিয়ান দৃঢ় সংকল্পের ওপর জোর দেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই বৈঠকগুলোর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে ইরান জাতিসংঘকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন করে তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা এবং সম্পদগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস–কে লেখা এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দে, চিঠিটি দেখার সুযোগ পেয়েছে এএফপি।
চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। বুধবার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান চুক্তি না করলে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ইরাভানি চিঠিতে লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একটি যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির সংকেত দেয়। এমন আগ্রাসনের ফলাফল এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরের নামকরণ করা হবে। অঙ্গরাজ্যের আইনসভা বৃহস্পতিবার একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নামে একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের নথি অনুযায়ী, রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত ফ্লোরিডা আইনসভা পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ রাখার বিল অনুমোদন করেছে।
গভর্নর রন ডেসান্টিস বিলটিতে স্বাক্ষর করে এটিকে আইনে পরিণত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বালুকাময় সৈকত ও বিলাসবহুল আবাসনের জন্য পরিচিত পাম বিচ শহরের এই বিমানবন্দরটি ট্রাম্পের মার-আ-লাগো বাসভবন থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।
বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভবনে নিজের নাম সংযুক্ত করা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প দেশের ওপর নিজের ছাপ রাখতে নজিরবিহীন ভাবমূর্তি ও স্থাপনা-কেন্দ্রিক প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের নামে নামকরণ হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এটি যুক্ত হবে।
ওয়াশিংটনে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি-এর স্মৃতিতে নির্মিত শিল্পকলা কমপ্লেক্স জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস-এর ট্রাম্প-নিযুক্ত বোর্ড গত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখার পক্ষে ভোট দেয়।
একই মাসে পররাষ্ট্র দপ্তর যুক্তরাষ্ট্র ইনস্টিটিউট অব পিস-এর সঙ্গে ট্রাম্পের নাম সংযুক্ত করে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পেন স্টেশন এবং ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর নামও নিজের নামে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন, তবে সে প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যাত হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সংবলিত স্মারক এক ডলারের মুদ্রার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে—যদিও দায়িত্বে থাকা বা জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে।
বিচার বিভাগীয় সদরদপ্তরে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মুখাবয়বসংবলিত একটি বড় নীল ব্যানার টাঙানো হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী ভারত।’
তিনি ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং নরেন্দ্র মোদির চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
জয়সওয়াল জানান, ওই চিঠিতে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক ও উষ্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে নয়াদিল্লি আশা করছে।
ব্রিফিংয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির আলোচনা হবে।
এদিকে তিনি জানান, ভারত সরকার ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ‘ইরানে অবস্থানরত আমাদের নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি) জারি করা হয়েছে।’
প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন পুনরায় তাদের পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম সচল করেছে। আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সেখানে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের ভিসা প্রদান শুরু হয় বলে ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি পরিলক্ষিত হলো। বাংলাদেশ হাই কমিশনের বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ‘শুক্রবার সকাল থেকে ভারতীয়দের জন্য সব ধরনের ভিসা পরিষেবা শুরু হয়।’ এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল যে, তারা ‘শিগগিরই’ বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম চালু করবে।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত ডিসেম্বর মাসে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে উভয় দেশই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ঢাকায় বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে মিশনে ঢিল ছোড়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং এর পরদিনই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমতে শুরু করে। নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসার আগেই গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বিবৃতিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং পরবর্তীতে টেলিফোনে কথা বলে নতুন সরকারের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। যদিও পূর্বনির্ধারিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই কূটনৈতিক ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান যে, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগিরই ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরবে। তাঁর এই ঘোষণার ঠিক পরের দিনই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন তাদের কনস্যুলার সেবা পুনরায় সচল করার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন গতির সঞ্চার করল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলা করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১০ থেকে ১৫ দিনই যথেষ্ট। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য এর বেশি সময় দেওয়া হবে না।
ওয়াশিংটনে এক সভায় ট্রাম্প বলেন, “হয় আমরা চুক্তি করব, না হলে তা ইরানের জন্য দুঃখজনক হবে।” তার দাবি, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে কি না। তিনি আরও বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করছে এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে সরে আসতে হবে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, চুক্তি না হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যেতে পারে। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।
এদিকে ইরান জাতিসংঘ-এ পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন হলে তারা প্রস্তুত থাকবে। তেহরানের ভাষ্য, তারা যুদ্ধ চায় না; কিন্তু হামলা হলে নীরব থাকবে না। পাশাপাশি অঞ্চলে ইরানের বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।
উভয় পক্ষের এমন অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির গতিপথ কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। বাহিনীতে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কসোভোসহ পাঁচটি দেশ সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইএসএফের কমান্ডার।
হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বাহিনী যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম সমন্বয়ে কাজ করবে। এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের বৈঠকে। বোর্ডটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আইএসএফের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেল জ্যাসপার জেফারস। গত বৃহস্পতিবার তিনি জানান, গাজায় প্রাথমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে মিশনের প্রথম লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার একটি কন্টিনজেন্ট এই বাহিনীতে ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। তিনি জানান, তাঁর দেশ সর্বোচ্চ আট হাজার সদস্য পাঠাতে প্রস্তুত। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতে অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই বাহিনী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন, তাঁর দেশ চিকিৎসা ইউনিটসহ অনির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা পাঠাবে। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা জানিয়েছেন, গাজায় পুলিশ সদস্য মোতায়েনে প্রস্তুত রয়েছে তাদের সরকার।
সম্প্রতি ইসরায়েল সফর শেষে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীও গাজায় সেনা পাঠানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এছাড়া মিশর ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই মিশনে সহযোগিতা করবে।
প্রস্তাবিত আইএসএফ কার্যকর হলে গাজায় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা এবং পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করার পথ সুগম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পাকিস্তানের করাচি শহরে সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনি এলাকার একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। খবর দ্যা ডনের।
সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন বলেছেন, ১৩টি মৃতদেহ এবং ১৮ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে- গ্যাস পাইপলাইনে লিকের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, যার ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।
পুলিশ আরও জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশাল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে, উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ঘটনার খবর নিয়েছেন এবং এক বিবৃতিতে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ‘সর্বোত্তম’ চিকিৎসা সহায়তা প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ।
একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং করাচি কমিশনারকে ঘটনার কারণ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার প্রচেষ্টার গতি ত্বরান্বিত করতে এবং আহত নাগরিকদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের গাজায় ৩৫০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে ৫ হাজার সদস্যের একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস এর বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এটি হবে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) অপারেশন বেস, যা নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে কাজ করবে।
তবে আইএসএফের কার্যপরিধি, হামাস নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা এবং জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনি সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ঘাঁটি নির্মাণ দখলদারির শামিল হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই স্থাপনাটি ভবিষ্যৎ ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)-এর জন্য একটি সামরিক অপারেটিং বেস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আইএসএফ হবে বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুত সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক বাহিনী। এটি নবগঠিত বোর্ড অব পিস-এর অংশ, যার লক্ষ্য গাজা শাসন করা।
গার্ডিয়ান যে পরিকল্পনা নথি দেখেছে, তাতে ধাপে ধাপে একটি সামরিক আউটপোস্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এর চূড়ান্ত আয়তন হবে ১,৪০০ মিটার × ১,১০০ মিটার। ঘাঁটির চারপাশে থাকবে ট্রেইলার-মাউন্টেড ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার, ছোট অস্ত্রের প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, বাঙ্কার এবং সামরিক সরঞ্জামের গুদাম। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকবে।
দুর্গ-সদৃশ এই স্থাপনাটি দক্ষিণ গাজার শুষ্ক সমতলভূমিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে লবণাক্ত ঝোপঝাড় ও সাদা ব্রুম গাছ রয়েছে এবং বছরের পর বছর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে বিকৃত ধাতব আবর্জনায় এলাকা ভরা। গার্ডিয়ান ওই এলাকার ভিডিওও পর্যালোচনা করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া সরকার সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চার নেতার একজন যাদের ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বোর্ড অব পিসকে গাজায় একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের অনুমোদন দিয়েছে।
জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, আইএসএফ গাজার সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং যাচাইকৃত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের।
২০টির বেশি দেশ বোর্ড অব পিসের সদস্য হিসেবে যুক্ত হলেও বিশ্বের বড় অংশ এতে অংশ নেয়নি। জাতিসংঘের অনুমোদনে এটি গঠিত হলেও সংগঠনটির সনদে ট্রাম্পকে স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।
রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক আদিল হক বলেন, বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পকাহিনি—নামমাত্র এটি জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা একটি আন্তর্জাতিক আইনি সত্তা, কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের জন্য একটি খালি কাঠামো মাত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোর্ড অব পিসের নানা পরিকল্পনার অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো অস্পষ্ট। গার্ডিয়ানকে কয়েকজন ঠিকাদার জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাগুলো প্রায়ই সরকারি ইমেইলের বদলে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপে করা হচ্ছে।
গাজায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে হামাস
যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধবিরতি গত অক্টোবর গাজা যুদ্ধ থামালেও হামাসের লড়াই থামেনি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টিকে থাকার যুদ্ধ থেকে এবার তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
যুদ্ধে হামাসের শৃঙ্খলাবদ্ধ সামরিক ইউনিটগুলো ভেঙে গেরিলা বাহিনীতে পরিণত হয়। অধিকাংশ নেতা নিহত হন। গাজার ভবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়, জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়, অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারের বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।
চার মাস পর গাজার বাসিন্দারা বলছেন, নিরাপত্তা, কর রাজস্ব ও সরকারি সেবায় আবারও নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে হামাস। এতে সংগঠনটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে অস্ত্র ও কর্তৃত্ব ছাড়ার শর্ত সামনে থাকায়।
গাজার এক কর্মী মোহাম্মদ দিয়াব বলেন, যেসব এলাকায় হামাস উপস্থিত, তার ৯০ শতাংশের বেশি জায়গায় তারা আবার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রাস্তায় ফিরেছে। তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে, যাদের সহযোগী বা ভিন্নমতাবলম্বী বলে চিহ্নিত করছে তাদের পিছু নিচ্ছে। পরিচয়পত্র বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাজে নাগরিকদের হামাস কর্তৃপক্ষের কাছেই যেতে হচ্ছে। বিচারব্যবস্থা ও আদালতেও তারা আবার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।
গাজার বিভিন্ন বাজারে দোকানিরা নিয়মিত পুলিশ টহলের কথা বলছেন। একই সঙ্গে সরকারি ফি ও কর আদায়ে ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণ’ ফিরেছে। এক দোকানি বলেন, বাজার শান্ত, কিন্তু পৌরসভা ভাড়া আদায়ে চাপ দিচ্ছে। গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাদের সঙ্গে বিবিসর কথা হয়েছে, সবাই পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন।
তাদের একজন বলেন, প্রতিদিন তারা আসে। একই দাবি, একই দৃঢ়তা। বলে টাকা না দিলে আমাদের আর পণ্য রাস্তায় ফেলে দেবে। ৭০০ শেকেল চাচ্ছে, যা আমাদের কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
গাজা সিটিতে কথা বলা ওই দোকানি জানান, শহরের পূর্বের শুজাইয়া এলাকা থেকে তিনি ও তার ১২ সদস্যের পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে তার দোকান ছিল। এখন শুজাইয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত সমতল ভূমি।
পাশেই সিগারেট বিক্রি করা আরেক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিন পৌরসভার লোকেরা আসে। তারা পণ্য আর বিক্রি গুনে দেখে। বলুন তো, আমি তাদের টাকা দেব, নাকি সন্তানদের খাওয়াব?
যুদ্ধবিরতির পর গাজায় খাদ্য ও কিছু নিত্যপণ্য তুলনামূলক সহজে প্রবেশ করছে। ইসরায়েল থেকে আমদানির লাইসেন্সধারী কয়েকজন প্রধান ব্যবসায়ী বলছেন, আমদানির ওপর আবারও কঠোর কর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে হামাস।
ইসরায়েলে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরপরই দখলদার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ও উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তার টিমের সদস্যদেরও আটক করা হয়। এসময় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ব্যাপক জেরার মুখে পড়েছিলেন কার্লসন ও দল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কার্লসন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রায়ই মতবিরোধে জড়িয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হাকাবির সাক্ষাৎকারের জন্য ইসরায়েল সফর করেছিলেন।
হাকাবি দাবি করেছেন, ইহুদিদের ফিলিস্তিনি ভূমিতে বসতি স্থাপনের ঐশ্বরিক অধিকার রয়েছে এবং তিনি ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয় অস্বীকার করেন।
সাক্ষাৎকারের আগে সামাজিক মাধ্যমে কার্লসন ও হাকাবির মধ্যে প্রকাশ্য বাগ্বিতণ্ডা হয়। কার্লসন ইসরায়েলে খ্রিস্টানদের সঙ্গে চমকপ্রদ আচরণের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইহুদি সেটলারদের হামলার মুখে থাকা খ্রিস্টানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাকাবি ব্যর্থ হয়েছেন।
খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে থুতু নিক্ষেপ, শারীরিক ভীতি প্রদর্শন, কবরস্থানসহ সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান ব্যাহত করা।
ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান কার্লসন বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তাদের পাসপোর্ট জব্দ করেছেন এবং তার এক সহকর্মীকে আলাদা কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
কার্লসন বলেন, যারা নিজেদের বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল তারা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে নিয়েছে, আমাদের নির্বাহী প্রযোজককে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং আমরা রাষ্ট্রদূত হাকাবির সঙ্গে কী কথা বলেছি তা জানতে চায়। বিষয়টি অদ্ভুত ছিল। আমরা এখন দেশটির বাইরে আছি।
সাক্ষাৎকারের আগে কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তার ব্যাবসায়িক অংশীদার নিল প্যাটেলের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ইসরায়েল থেকে শুভেচ্ছা।
লক্ষাধিক অনুসারী থাকা তার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্লসন ডানপন্থীদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব, বিশেষ করে ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক শত্রুদের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে লবিংয়ের সমালোচনা করে আসছেন।
তিনি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে হাকাবি প্রকাশ্যে জবাব দিয়ে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে কথা বলার বদলে, কেন আমার সঙ্গে এসে কথা বলছেন না?’ কার্লসন সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রো-ইসরায়েল লবিং গ্রুপ গাজায় ইসরায়েলের কথিত গণহত্যার বিরোধিতা করার কারণে কার্লসনকে ‘বছরের ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দেয়।
ডেইলি মেইলে উদ্ধৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রথমে কার্লসনকে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছিল, যা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়।
চ্যানেল ১৩ জানায়, ‘কূটনৈতিক সংকট’ এড়াতে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস পুরো প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেছে এবং তেল আবিবের আচরণকে সমর্থন করে।
দূতাবাসের এক প্রতিনিধি বলেন, কার্লসন ‘ইসরায়েলে প্রবেশ ও প্রস্থানকালে রাষ্ট্রদূত হাকাবি ও অন্যান্য কূটনীতিকসহ অসংখ্য দর্শনার্থীর মতোই স্বাভাবিক পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সাক্ষাৎকারের জন্য ইসরায়েল কার্লসনকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল-এ তথ্য সঠিক নয়। অন্য যেকোনো দর্শনার্থীর মতোই তিনি ইতিবাচক আচরণ পেয়েছেন।
মার্কিন রক্ষণশীল ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে সমালোচনামুখর এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার বিরোধিতা করছেন।
কার্লসন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি)-এর প্রভাবেরও সমালোচনা করে এটিকে মার্কিন আইনপ্রণেতা ও দেশের জন্য চলমান অপমানজনক প্রক্রিয়া বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ইসরায়েল নিয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও কার্লসন ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ রয়েছেন এবং সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন কার্লসনের আটক হওয়ার ঘটনায় বলেন, মার্কিন নাগরিক ও সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে ইসরায়েলে আটক করা হয়েছে… আমরা এটি সহ্য করব না। আপনারা বিষয়টি আরও খারাপ করে তুলেছেন।