বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ শুরু করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। এরমধ্যেই সীমান্তে স্মার্ট বেড়া ব্যবহারের তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা।
বাহিনীটির কর্মকর্তারা নিজ দেশের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে বৈঠক করছেন। তারা গ্রামবাসীকে নির্দেশনা দিয়েছেন, কেউ যেন তাদের গ্রামে প্রবেশ করতে না পারেন। এছাড়া নতুন কাউকে গ্রামে দেখা গেলে তাদের অবহিত করতে বলা হয়েছে।
বিএসএফের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তবাসীদের সহযোগিতার মাধ্যমে সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে।
অপরদিকে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান ঠেকাতে ‘স্মার্ট বেড়া’ ব্যবহার করবে ভারত। বিএসএফের রাজস্থান ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল এম.এল গার্গ গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, স্মার্ট বেড়া সীমান্তে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে ৮৭০ কিলোমিটার পার্শ্বীয় রাস্তা তৈরি করা হবে। এটি সীমান্তের সব চৌকির সঙ্গে ৪০০ কিলোমিটার এক্সি সড়ককে যুক্ত করা হবে। স্মার্ট বেড়া তৈরি হবে সব পার্শ্ব রাস্তার সঙ্গে। এটি কাটাও যাবে না; এছাড়া অনুপ্রবেশকারীরা এটি পারও হতে পারবে না।
তিনি আরও বলেছেন, এটি এমন একটি প্রযুক্তি যখনই কেউ এটি ভাঙার চেষ্টা করবে। সদর দপ্তরে একটি সিগন্যাল চলে যাবে। এতে করে নিকটবর্তী টহল দল নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মারা গেছেন ও তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইসরায়েলি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে, খামেনি মারা গেছেন।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার সম্পর্কে ইরানিদের কোনো বক্তব্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলা করেছে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে বেশ কয়েকদিন ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন বাহিনী। এদিকে ইরানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৩ শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
সিএনএন বলছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবন ও তার কার্যালয়ের কাছে একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, তেহরানের পাস্তৌর জেলায় একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে। উচ্চ নিরাপত্তায় ঘেরা এই এলাকায় খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় রয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন বলছে, অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র এই এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এসব হামলায় খামেনির কিছু হয়েছে কিনা, সেই সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট নিরাপদে আছেন বলে দেশটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ইরানের একজন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির রাজধানীতে নেই। তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৩ শিক্ষার্থী নিহত
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে এক মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকালে মিনাব শহরে ‘শাজারেয়ে তাইয়্যেবাহ’ নামক একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং আরও ৬৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মিনাব প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর এই বর্বরোচিত হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে স্কুল ভবনটি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর মিনাব শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আহত ও নিহতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পুরো অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ইরানের হামলা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত হাফ ডজন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। গতকাল শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফারস নিউজ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।
আমিরাতের আবু ধাবিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি রিয়াদে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গতকাল শনিবার দিনের শুরুতেই বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। বিস্ফোরণের পর মানামা শহরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে এমন দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের উৎস এখনো স্পষ্ট নয়। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জরুরি সাইরেন শোনা যাচ্ছে বলে বারবার সতর্ক করার পর এটি ঘটেছে। তারা জনসাধারণকে শান্ত থাকার ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় ব্ল্যাকআউট পর্যায়ে রয়েছে। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা একটি পোস্টে জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক ডেটা দেখাচ্ছে ইরান এখন ‘প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের’মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগের মাত্রা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তারা আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময়ও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যে ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এরইমধ্যে উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার চেষ্টা চলছে। তবে হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই বলে দেশটির জরুরি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান থেকে কমপক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, ইরান থেকে আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের দিক থেকে আসা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তারা চিহ্নিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অল্প কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের রাষ্ট্রের দিকে ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাধারণ জনগণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হুমকি প্রতিহত ও প্রয়োজন হলে আঘাত হানার মাধ্যমে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাজ করছে।
এতে বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি নির্ভুল বা অপ্রবেশযোগ্য নয়, তাই জনগণের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অব্যাহতভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সব ফ্লাইট স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে টার্কিশ এয়ারলাইনস। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান ও জর্ডানে ফ্লাইট বাতিল করে এই এয়ারলাইনস।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এতে ৫৩ শিশু শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে ইসরাইলি ভূখণ্ড এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বাহিনী।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে।
ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দেশটিতে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপসাগরীয় তেল পরিবহণকারীদের মধ্যে। ধীরে ধীরে কমতে থাকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন। ইতোমধ্যে প্রায় সব বড় কোম্পানি তাদের নৌযানগুলো চলাচল বন্ধ করেছে।
চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় তেল এবং বাণিজ্যিক কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক কোম্পানির এক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন বর্তমান অবস্থানেই স্থির থাকবে।’
আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে যেকোনো ধরনের স্থগিতাদেশ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংকটের হুমকি তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রধান তেল করিডোর। এই পথে পৃথীবিতে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশেরও পরিবহন করা হয়। আবার গ্যাস সরবরাহেরও মূল পথ। বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর এটিই প্রধান মাধ্যম। তাই এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপ ও আমেরিকায় হাহাকার শুরু হয়ে যাবে, যে ঝুঁকি তারা কখনেই নিতে চাইবে না।
গুরুত্বপূর্ণ এই তেল করিডোরে পরিবহন বন্ধ হলে বিপর্যয় নেমে আসবে বিশ্ববাজারে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম।
ইতোমধ্যে হামলার আশঙ্কায় শুক্রবারই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ৬৭ দশমিক ০২ ডলারে থিতু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও লাফিয়ে বাড়তে পারে। এমনকি দাম ১০০-১৩০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা আছে।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তিনটি সূত্রের বরাতে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার নিহতের খবর জানিয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা সকালের হামলায় বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার ও ইরানের গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন।
সকাল থেকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। একপর্যায়ে হামলায় যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা। তবে, হামলার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানের মধ্যে নতুন ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি জনগণকে রাস্তায় নেমে আসতে ও দেশটির ক্ষমতা দখলের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের জনগণের উচিত রাস্তায় নেমে আসা এবং তাদের সরকারের পতন ঘটিয়ে শাসন ব্যবস্থার দখল নেওয়া। তাদের সহযোগিতায় তেহরানের শাসকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
আত্মসমর্পণ করুন, নইলে মৃত্যু নিশ্চিত: ইরানি কর্মকর্তাদের ট্রাম্প
ইরানে ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।
ভিডিওটির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।’
ইরানের প্রশাসনের উদ্দেশে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আত্মসমর্পণ করুন, নইলে মৃত্যু নিশ্চিত।’ একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
অন্যদিকে সিএনএন জানায়, ট্রাম্প ভিডিওতে উল্লেখ করেছেন যে ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইরানের শাসকরা মানুষ হত্যার চেষ্টা করবে। সাহসী আমেরিকান বীরদের হতাহতের আশঙ্কা আছে—যুদ্ধে সাধারণত যা হয়। তবে আমরা এখন তা হতে দিচ্ছি না; ভবিষ্যতের কথা বলছি। এটি একটি মহৎ অভিযান।’
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সিএনএন আরও জানায়, ট্রাম্প বর্তমানে পাম বিচে তার ব্যক্তিগত ক্লাব মার-এ-লাগোয়তে সাপ্তাহিক অবকাশ যাপন করছেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর নিজের প্রথম ভিডিও বার্তায় তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি ‘স্বৈরাচারের জোয়াল’ ঝেড়ে ফেলে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ার আহ্বান জানান। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের এই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ ইরানের সাহসী জনগণের জন্য তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করার পরিবেশ তৈরি করে দেবে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও একইভাবে ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এবারের ভিডিও বার্তার শুরুতেই নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক নেতৃত্বের’ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই খুনি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না, কারণ এর মাধ্যমে তারা সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’
নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে কেবল সামরিক হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সরাসরি তেহরানের মসনদ উল্টে দেওয়ার লড়াই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং ইরান এর তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে রাজধানী তেহরান থেকে সরিয়ে একটি বিশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত তার প্রধান কার্যালয় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। তেহরানের আকাশসীমায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এবং খামেনির সদরদফতরের সন্নিকটে ধোঁয়া উড়তে দেখায় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, “প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তার কোনো সমস্যা নেই।” স্থানীয় আরও কয়েকটি গণমাধ্যম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা তেহরানের আকাশজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন। তবে এই শব্দগুলো সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে হয়েছে নাকি ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে ঘটেছে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে তেহরানের দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি ও এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সরাসরি লড়াই এখন পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী একযোগে হামলা শুরু করার পর এই সংকটের সূত্রপাত হয়। এর পাল্টা জবাব দিতে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিধ্বংসী মিসাইল হামলা শুরু করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, আবুধাবি ও দুবাইয়ের পর এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও সরাসরি আঘাত হেনেছে।
বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি সতর্কবার্তায় সে দেশের নাগরিকদের দ্রুত নিকটতম নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানে চলমান এই বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বনির্ধারিত হামলা’ শুরু করা হয়েছে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহুরি এলাকা ছাড়াও কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ নগরীতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তা ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘‘বড় ধরনের যুদ্ধের অভিযান’’ শুরু হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। এর আগে একই দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েল।
এই সাঁড়াশি অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার প্রশাসন তাদের দেশের সকল বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে এবং সব ধরনের সামরিক স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদরদপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আল-জাজিরা আরও জানায়, কাতারের রাজধানী দোহায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটায় কর্তৃপক্ষ জনগণকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
হামলার পর এক কড়া হুঁশিয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করবো।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা নিশ্চিত করবো, এই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ প্রক্সিগুলো আর অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। আমরা নিশ্চিত করবো, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এটি খুবই সহজ বার্তা—তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই শাসনব্যবস্থা খুব শিগগিরই শিখবে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।”
এদিকে মার্কিন এই অভিযানকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যে পরিণত হবে।” স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, কাতার তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো অঞ্চলটি এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেম পোস্টের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আইডিএফ জানায়, “ইসরায়েলে দিকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র আসার পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য এটি একটি সক্রিয় সতর্কতা।”
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা–র সরাসরি সম্প্রচারে বলা হয়েছে, তেহরানে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। দেশটিতে অবস্থানরত তাদের সাংবাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের জমহৌরি এলাকা ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের জল্পনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ঘটনাটিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ রয়েছে বলে একমত প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে ইসলামাবাদের প্রতি এই অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতকে ইসলামাবাদ ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালালেও তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তালেবান একটি বিশেষভাবে ঘোষিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন কূটনীতিক আলিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালোচের সঙ্গে আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং প্রাণহানির খবরে ওয়াশিংটন গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে যায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পাকিস্তান পরিচালিত বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’-এ এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তালেবানদের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলায় পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে মার্কিন পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তালেবান প্রশাসন বারবার তাদের সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আফগানিস্তানকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে তাদের নৃশংস হামলা পরিচালনা করছে। বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: জিও নিউজ
প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ২২টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী। এই বিধ্বংসী অভিযানে অন্তত ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, 'গজব আল-হক' নামক এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলায় আফগানিস্তানের ৮৩টি সীমান্ত চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ১৭টি দখল করে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১১৫টি ট্যাংক, আর্টিলারি ইউনিট ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ১২ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
এদিকে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সফলভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিপক্ষের সব ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “কূটনৈতিক সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, আফগান তালেবানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকটের সমাধান করতে এখনো প্রস্তুত।
দুই দেশের এই সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে উভয় পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান। অন্যদিকে, ভারত এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গত কয়েক মাস ধরেই দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে দুই দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। ওই সময়কার সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের সীমান্তে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে, যদিও কাবুল কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র : শাফাক নিউজ
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় বিমানবাহিনীর একটি মালবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সান্তা ক্রুজ থেকে ছেড়ে আসা উড়োজাহাজটি রাজধানী লা পাজের নিকটবর্তী এল আলতো শহরের বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পরই এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
নিয়ন্ত্রণ হারানোর একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে পিছলে লাগোয়া একটি ব্যস্ত মহাসড়কে ঢুকে যায়। সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িকে এটি সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই ওই বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের উড়োজাহাজটির মাধ্যমে বলিভিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ কাগুজে মুদ্রা পরিবহন করা হচ্ছিল।
হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে এতে ১৫ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন, অন্যদিকে বিবিসি নিহতের সংখ্যা ১১ বলে দাবি করেছে।
ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি এভাবে বিধ্বস্ত হলো, তা উদ্ঘাটনে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাংক নোটগুলো কুড়ানোর জন্য স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং হোসপাইপের মাধ্যমে জলকামান ব্যবহার করে।
যদিও ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও বা ছবির শতভাগ সত্যতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তবে বেশ কিছু দৃশ্যে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির অস্তিত্ব দেখা গেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওই ব্যাংক নোটগুলোর কোনো বৈধ বিনিময় মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা নেই। এসব মুদ্রা সংগ্রহ করা বা যেকোনোভাবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, “জনসাধারণকে দূরে থাকতে এবং কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে,”।