রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

আফগানিস্তানে মার্শাল আর্ট নিষিদ্ধ করল তালেবান

আপডেটেড
৩১ আগস্ট, ২০২৪ ১২:১০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৪ ১২:১০

আফগানিস্তানে মিক্সড মার্শাল আর্ট (এমএমএ) নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। সরকারের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ কথা বলেছেন। ইসলামি আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ওই ক্রীড়া কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজকে বলেছেন, খেলাটি কেবল ধর্মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণই নয়, এটি যথেষ্ট নৃশংস। এতে মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে।

আফগানিস্তানের নৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের অধীন নীতি পুলিশ এই আইন পাস করিয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তালেবানের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘শরিয়া আর ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে এই খেলাটি সংঘর্ষপূর্ণ। এ কারণেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।’

এমএমএ বর্তমান বিশ্বের আর সব দেশের মতো আফগানিস্তানেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে এই খেলার অসংখ্য ভক্ত তৈরি হয়েছিল। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এমএমএ কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়ছিল। ২০২১ সালে ‘মুখে ঘুষি মারা হয়’ এমন খেলা আইনত দণ্ডনীয় বলে ঘোষণা করে সরকার।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে এমএমএ খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেছে, তালেবানের কর্মকর্তারা তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।


মিয়ানমারে বিমান হামলা, নিহত ১৭০

ক্যাপশন: মিয়ানমারে বিমান হামলায় বিধ্বস্ত স্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সমর্থিত বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালীন দেশটির বিমান বাহিনীর ভয়াবহ অভিযানে অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে সামরিক সরকার।

শনিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় চলা এই নির্বাচনের সময়কালে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০৮টি ছোট-বড় বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এই হামলায় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি কয়েকজন প্রার্থীরও মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনকে সামরিক বাহিনীর সাজানো একটি ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী গত ২৫ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্ত গণনায় জান্তা সমর্থিত দল ইউনিয়ন অ্যান্ড সলিডারিটি পার্টি (ইউএসডিপি) নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে। তবে দেশের ১২১টি আসনে ভোট গ্রহণের কোনো পরিবেশ না থাকায় সেসব এলাকায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছিল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের মিয়ানমার শাখার প্রধান জেমস রোডেহ্যাভের জানিয়েছেন যে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই বিমান অভিযান ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত একটানা অব্যাহত ছিল। মূলত বিরোধী কণ্ঠরোধ এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে ভীতি প্রদর্শন করতেই এই রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নিয়েছে সেনাবাহিনী। এই সামরিক অভিযানের ফলে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন যে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে এটি মূলত সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি প্রহসন মাত্র। সঠিক ভোটার তালিকা বা বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া আয়োজিত এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক কোনো মানদণ্ডই পূরণ করতে পারেনি।

সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জোরপূর্বক ভোট আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিমান হামলায় হতাহতের যে সংখ্যা পাওয়া গেছে তা কেবল নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি, তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মিয়ানমারের এই একতরফা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা পাওয়ার এই চেষ্টা বিশ্বজুড়ে মিয়ানমার জান্তাকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। অধিকাংশ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষ করে বিমান হামলায় এত বিশাল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি মিয়ানমারের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে। জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এই জয়কে স্বাগত জানানো হলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

জান্তার বিমান হামলার রসদ যোগাচ্ছে ইরান?

আর অল্প কয়েকদিন পরেই মিয়ানমারে জেনারেল মিন অং হ্লাইং এর নেতৃত্বে সামরিক জান্তা সরকারের পাঁচ বছর পূরণ হতে চলেছে। ২০২১ সালে তৎকালীন বেসামরিক সরকার প্রধান অং সান সুচিকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকে একদণ্ডও শান্তিতে থাকতে পারেনি জান্তা।

প্রায় এক দশক গণতন্ত্রের সুখছায়ায় থাকা মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ 'কারচুপির' অতিরঞ্জিত দায় দেখিয়ে ঘটানো ক্যু মেনে নেয়নি। শুরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হলে তা দমন-পীড়নের মাধ্যমে বন্ধের চেষ্টা চালায় জান্তা। কিন্তু তাতেও দমেনি গণতন্ত্রকামী জনগণ।

এরপর বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়গুলো একতাবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে নেমে পড়ে। একের পর এক শহরের দখল হারিয়ে নাস্তানাবুদ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সেনাবাহিনী।

এক পর্যায়ে দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার দখল জেনারেল মিন অং হ্লাইং-এর হাত থেকে ছুটে যায়।

বিদ্রোহীদের নিরবচ্ছিন্ন হামলায় পিছু হটতে বাধ্য হয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার ঘটনার মোড় ঘুরতে শুরু করে। নবোদ্যমে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের ওপর নির্বিচারে বিমান হামলা শুরু করে সামরিক জান্তা। এই 'ঘুরে দাঁড়ানোর' বিষয়টি নিয়ে চলে ব্যাপক আলোচনা।

পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের জান্তার কাছে অস্ত্র ও তেল সরবরাহের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করলেও কোনো এক অলৌকিক উপায়ে তারা রসদ পেতে থাকে। নতুন করে আবারও বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় সামরিক শাসক।

এর মাঝে নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের ‘ভুতুড়ে জাহাজে’ করে তেল আসছে মিয়ানমারে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্সের এক যৌথ তদন্তে জানা গেছে, মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী জনগণ ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য, উভয়ের ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলার তেল যোগাচ্ছে তেহরান।

মিয়ানমারের সর্বশেষ নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের সাবেক সদস্যদের নিয়ে গঠিত ছায়া-সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) -এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জান্তা দুই হাজার ৫০০টি বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় এক হাজার ৭০০ জন নিহত হন।

২০২৫ সালে আকাশপথে আসা হামলার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায়। গত বছর পাঁচ হাজার ৬০০ হামলায় মিয়ানমারের দুই হাজার ২০০ নাগরিক নিহত হন।

অ্যামনেস্টি বলছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল ধার নিয়েছে।

ইরান থেকে ‘ভুতুড়ে জাহাজে’ করে উড়োজাহাজের জ্বালানি আসছে মিয়ানমারে। এসব নৌযাত্রা চলাকালীন সময় জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ রাডার (এআইএস) বন্ধ রাখে। যার ফলে নৌযান চলাচলের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে তাদের কোনো হদিস থাকে না।

তদন্ত প্রতিবেদন মতে, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বেশ কয়েক দফায় মিয়ানমারে উড়োজাহাজের জ্বালানি আসার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।


অস্থায়ী কর্মী ভিসা দ্বিগুণ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্থায়ী কর্মী ভিসা দ্বিগুণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মৌসুমি ও অস্থায়ী শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ৬৫ এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা দেবে বলে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে যে ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়া হতো, তা প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। নির্মাণ, পর্যটন ও আতিথেয়তা, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো ব্যবসাগুলো এই ভিসার আওতায় উপকৃত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমিকের অভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান গুরুতর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ভিসা উন্মুক্ত করা হবে।

২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরেই ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসীদের অপরাধী এবং সমাজের ওপর বোঝা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করে—যার মধ্যে রয়েছে বিস্তৃত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন পুনর্বিবেচনা।

শ্রমঘাটতির কারণে এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা অতীতেও বাড়ানো হয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমল এবং ট্রাম্পের আগের মেয়াদে (২০১৭–২০২১) নির্দিষ্ট সময়ে এই ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়।

মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নিয়োগকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই আরও বেশি ভিসার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে হোটেল ও নির্মাণ খাতের মালিকরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে তারা প্রয়োজনীয় কর্মী পাচ্ছেন না।

যদিও অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এই ভিসাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের মজুরি কমিয়ে দেয় এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে. প্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় কর্মী নিতে চাইলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এক লাখ ডলার অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে, যা এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকর করতে একটি অস্থায়ী বিধি আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।


ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর যাচ্ছে : ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের একটি বিশাল ‘নৌবহর’ এখন ইরানের দিকে যাচ্ছে। আশা করি, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। যদি চুক্তি হয়, তবে ভালো, আর না হলে কী হয়, তা দেখা যাবে।’

গত শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয়ে ইরান বরং আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইবে। তবে তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়।’

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দিয়েছি।’ তবে সেই সময়সীমা ঠিক কবে, তা তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা আশা করি, যা–ই ঘটুক না কেন, তা যেন স্থিতিশীলতা বয়ে আনে। ইরানিরা সঠিক কাজটি করলে এই ফলাফল অর্জন সম্ভব এবং আমরা সেটিই আশা করছি।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ‘কখনোই’ আলোচনার টেবিলে বসা হবে না। তেহরান সমমর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

পশ্চিমাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে সর্বশেষ বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকারের হিসাবমতে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তেহরান কিছু বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটিকে ট্রাম্প তেহরানের আলোচনার প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ওই অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর যেকোনো মার্কিন হামলা অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এরদোয়ানই কি ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় রাজি করিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা কমাতে আলোচনা করতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে তেহরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অবশ্যই ছাড় দিতে হবে—তুর্কি কূটনীতিকেরা ইরানকে এমনটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্সের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতি মার্কিন নেতার পছন্দ হতে পারে। কিন্তু ইরানের সতর্ক কূটনীতিকদের কাছে এটি একেবারেই অপছন্দনীয়। উল্লেখ্য, গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।

এমন এক সময় আরাগচির এ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। এটি এমন সময় হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইস্যুতে আলোচনার জন্য ইসরায়েল ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।


গাজায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। শনিবার দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াাইনেট নিউজসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিহতের পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসলেও, এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেই প্রায় একই ধরনের একটি হিসাব মেনে নিয়েছে। এর আগে তেল আবিব দাবি করেছিল যে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়, যদিও জাতিসংঘ শুরু থেকেই ওই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছিল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন যে, তাদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই সংখ্যার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি আরও জানান যে, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন এবং কতজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, তা নিরূপণ করতে বর্তমানে সেনাবাহিনী কাজ করছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরে প্রকাশ করা হবে। ইসরায়েলের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়া অসংখ্য ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের এই নিহতের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে নিহতদের নাম ও বয়সের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে আসছে।

বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা গাজায় শত শত কবর ধ্বংস করার মতো ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খোদ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিশাল সংখ্যক প্রাণহানির এই তথ্যটি বেরিয়ে এল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকা পড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সহায়তার অভাব এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।


যুক্তরাষ্ট্রে ফের আংশিক সরকারি শাটডাউন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও শেষ মুহূর্তের আলোচনার ভিত্তিতে মার্কিন সিনেটে একটি তহবিল চুক্তি গৃহীত হলেও কারিগরি ও আইনি জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আংশিক সরকারি শাটডাউন বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই অচল অবস্থা কার্যকর হয়। যদিও সিনেট এই বিলটি পাশ করেছে, তবে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বর্তমানে অধিবেশনে না থাকায় বিলটি চূড়ান্ত আইনি রূপ পায়নি, যার ফলে সরকারি তহবিলের এই সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যেকার এই সমঝোতার ফলে অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তহবিল বরাদ্দ করা সম্ভব হলেও মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে অভিবাসন বিভাগ বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দে অস্বীকৃতি জানায়। এই পরিস্থিতিতে সমঝোতা অনুযায়ী অভিবাসন বিভাগকে পুরোপুরি সচল না রেখে কেবল দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি তহবিল প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে এই সময়ের মধ্যে নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে।

উল্লেখ্য যে, এক বছরের ব্যবধানে এটি যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়বারের মতো শাটডাউনের ঘটনা; এর মাত্র ১১ সপ্তাহ আগে দেশটির ইতিহাসের দীর্ঘতম ৪৩ দিনের শাটডাউনের সমাপ্তি ঘটেছিল। তবে আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকায় এবং সেখানে বিলটি পাশের সম্ভাবনা থাকায় এবারের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগকে শাটডাউন পরিকল্পনা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার এই অভিবাসন ইস্যুতে তাঁর দলের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে এবং তাদের ‘গোপন পুলিশি’ কায়দা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটরা অনড় অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে মিনিয়াপলিসে আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেত্তি ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং বিচার বিভাগ ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় একটি নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুত এই সংকটের অবসান ঘটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দলের আইনপ্রণেতাদের এই চুক্তির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি।


উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে নৌ মহড়ার ঘোষণা ইরানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌ মহড়ার ডাক দিয়েছে ইরান। আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, রোববার থেকে এই মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ শক্তিশালী নৌবহর মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের এই ঘোষণার পর ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরানকে সতর্ক করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ সহ্য করবে না ওয়াশিংটন। বিশেষ করে মার্কিন রণতরীর ওপর দিয়ে ইরানি ড্রোন বা বিমানের উড্ডয়ন এবং স্পিডবোটের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনকে তারা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছে।

সেন্টকম তাদের এক বিবৃতিতে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে অনিরাপদ আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।’ নিজেদের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তারা আরও দাবি করে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বাহিনী। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এরও একই আচরণ করা উচিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের এই মহড়া যেন হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের জন্য এই পথটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া এবং তার বিপরীতে আমেরিকার পাল্টা হুঁশিয়ারি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বন্দ্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।


পাকিস্তানে একযোগে ১২ স্থানে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪৭

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একযোগে ১২টি স্থানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আজ শনিবার পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান এবং প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেলুচিস্তানজুড়ে এই সমন্বিত হামলাগুলো চালিয়েছে ভারতের মদতপুষ্ট ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামক একটি গোষ্ঠী। তবে সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের সময়োচিত এবং কার্যকর পদক্ষেপের ফলে সন্ত্রাসীদের অধিকাংশ পরিকল্পনাই নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে ৩৭ জন সন্ত্রাসীকে ‘খতম’ করার কথা জানিয়ে সামরিক বাহিনী একে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। বর্তমানেও প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর চিরুনি অভিযান ও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যেখানে আরও বেশ কিছু সন্ত্রাসী হতাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাদেশিক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় মোট ৮৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার হারনাই ও পাঞ্জগুর জেলায় চালানো এক বিশেষ অভিযানেই ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তা শাহিদ রিন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন যে, গত দুই দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোরের (এফসি) সদস্যরা সাহসিকতার সাথে ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

ভয়াবহ এই হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেলুচিস্তানের কুয়েটা, সিবি এবং চামান এলাকায় মোবাইল ফোন সেবা সচল থাকলেও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বেলুচিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী মীর জহুর আহমেদ বুলেদি সরকারি সম্পদের ক্ষতি এবং সাধারণ নাগরিকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা কোনোভাবেই বেলুচিস্তানকে জিম্মি করতে পারবে না এবং জনগণের সমর্থনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরণের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে পুরো প্রদেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গে ২ গুদামে আগুন লেগে ২৮ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উপকণ্ঠ আনন্দপুরের নাজিরাবাদে গত ২৫ জানুয়ারি রবিবার রাতে সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত জনাকীর্ণ এলাকার পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গুদামে লাগা এই বিধ্বংসী আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করার তথ্য নিশ্চিত করা হলেও পরবর্তীতে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুড়ে যাওয়া মরদেহের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, সাধারণ পদ্ধতিতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাজিরাবাদের ওই দুটি গুদামের একটি ডেকোরেটরসের সামগ্রী রাখার কাজে ব্যবহৃত হতো এবং অন্যটি মোমো ও কোমল পানীয় তৈরির কারখানা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় ডেকোরেটরসের গুদামে শ্রমিকেরা নৈশভোজ ও বনভোজনের আয়োজন করেছিলেন। অন্যদিকে, মোমো কারখানাতেও শ্রমিকেরা নিয়মিত কাজ করছিলেন। কারখানাটিতে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন লাগার পর তা মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পুরো এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উৎস নিয়ে দুই কারখানার মালিকপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ থাকলেও পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ঠিক কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় গুদাম দুটিতে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও অনিশ্চিত। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এত বড় দুটি গুদাম চললেও তাদের কোনো অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র বা বৈধ অনুমোদন ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই কীভাবে বছরের পর বছর এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলছিল, তা নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর গা ঢাকা দিলেও মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গঙ্গাধর দাসের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে এবং তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই ডেকোরেটরস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মোমো কারখানা থেকে আগুন লেগেছে বলে দাবি করেছেন। তবে অনুমোদনহীন ও অনিরাপদভাবে গুদাম পরিচালনার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বড় ধরণের আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি করে প্রদান করা হবে। বর্তমানে পুরো আনন্দপুর এলাকায় এই ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।


আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘ এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যা সংস্থাটিকে চূড়ান্ত স্থবিরতা বা অচল হয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সদস্য দেশগুলো যদি তাদের বকেয়া চাঁদা দ্রুত পরিশোধ না করে এবং জাতিসংঘের প্রচলিত আর্থিক নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনা না হয়, তবে অচিরেই এই বিশ্ব সংস্থাটি তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা হারাবে। মহাসচিবের এই বার্তায় বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, সংস্থাটির তহবিলের অবস্থা এখন এমন এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এখনই তাদের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর মতো প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বা তারল্য শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান যে, বিগত বছরগুলোতে যে ধরণের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁদা বকেয়া হিসেবে জমা পড়েছে।

এই তীব্র আর্থিক সংকটের মূলে বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ চালুর বিষয়টি এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, বড় রাষ্ট্রগুলোর এমন অনীহা ও অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও ঋণের সক্ষমতা বিবেচনা করে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে।

মহাসচিব তাঁর চিঠিতে জাতিসংঘের একটি প্রাচীন ও প্রচলিত নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দেওয়ার যে নিয়মটি বর্তমানে চালু আছে, তা বর্তমান বাস্তবতায় অবাস্তব ও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে সংস্থার হাতে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে অর্থ ফেরত দেওয়ার এই আইনি প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘকে এক অদ্ভুত ও প্রতিকূল আর্থিক চক্রে আটকে ফেলেছে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের চাঁদা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিশোধ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রধান এই সংস্থাটি তার অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মূলত বড় দেশগুলোর রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আর্থিক অনিচ্ছাই আজ জাতিসংঘকে পঙ্গুত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


‘চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা হবে বোকামি’: ট্রাম্পের নীতির বিপরীতে অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বর্তমান অস্থির বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাজ্যের জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার চীনের সাংহাই সফরকালে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা দূরত্ব বজায় রাখা হবে চরম বোকামি। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব সরাসরি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বিশ্বমঞ্চে চীনের সঙ্গে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনবিরোধী কঠোর অবস্থান ও বাণিজ্যিক হুশিয়ারির বিপরীতে স্টারমারের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীনের সঙ্গে ব্যবসা করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কিয়ার স্টারমার জানান, চীন সফরের আগে তাঁর প্রতিনিধি দল ট্রাম্পের টিমের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প নিজেও আগামী এপ্রিলে চীন সফরে আসতে পারেন। স্টারমারের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অস্থিরতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফরকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বরফ গলার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কিয়ার স্টারমার বর্তমানে যা করছেন তা সঠিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিগুলোর কারণে বিশ্ব সম্ভবত তিনটি বড় পরাশক্তির ব্লকে বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পিসারিদিসের মতে, এমন বিভক্তি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য শুভকর নয়। লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদন প্রদানকেও তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কিয়ার স্টারমার তাঁর সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল আদর্শিক বিরোধের কারণে একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তিকে এড়িয়ে চলা কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না। বরং বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমেই যুক্তরাজ্যের ঘরোয়া পরিস্থিতি উন্নয়ন সম্ভব। ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও চীনবিরোধী মনোভাবের মাঝেও স্টারমারের এই সাহসী চীন সফর লন্ডনের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পথে হাঁটছে বর্তমান ব্রিটিশ সরকার।


কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি ধস: দুই শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনি ধসে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। এতে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় গত বুধবার এই দুর্ঘটনাটি ঘটলেও ওই অঞ্চলটি বিদ্রোহীদের দখলে থাকায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য আসতে সময় লেগেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, প্রাদেশিক রাজধানী গোমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই খনিটি গত বুধবার প্রচণ্ড বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ধসে পড়ে। বিদ্রোহী সমর্থিত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা জানিয়েছেন, ভূমিধসের সময় খনিটি পুরোপুরি চালু ছিল। নিহতদের মধ্যে খনিশ্রমিকদের পাশাপাশি ওই এলাকায় বাজারে কর্মরত নারী ও শিশুরাও রয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে বর্ষাকাল চলায় মাটি অত্যন্ত নরম ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে পাহাড়ের একটি বড় অংশ খনির ওপর আছড়ে পড়ে।

এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রাদেশিক গভর্নরের এক উপদেষ্টা। এম২৩ (M23) বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এই দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বর্তমানে বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়োজিত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা জানিয়েছেন, বেশ কিছু মরদেহ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। খনিজ সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও এবারের প্রাণহানির সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খনি খননই এই বিশাল ট্র্যাজেডির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


পাকিস্তানে ‘ভারতসমর্থিত’ ৪১ সন্ত্রাসী নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ৪১ জন ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদদপুষ্ট বলে দাবি করা সংগঠন ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়। খবর ডন, জিও টিভির।

আইএসপিআর জানায়, হরনাই জেলার উপকণ্ঠে ‘ফিতনা আল-খারিজ’-এর উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে আঘাত হানে। তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ জন ‘ভারতসমর্থিত খারিজ’ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে সেখানেই ধ্বংস করা হয়েছে।

আরেকটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয় পাঞ্জগুর জেলায়। সেখানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয় এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ জন ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত এক ব্যাংক ডাকাতির লুটের টাকাও নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, এলাকায় অন্য কোনো ‘ভারতসমর্থিত’ সন্ত্রাসী আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে স্যানিটাইজেশন অভিযান চলমান রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে, যাতে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে জানানো হয়। আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ও বালুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে কেপিতে ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্য অংশে ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, গত বছর সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেপিতে ৩ হাজার ৮১১টি, বেলুচিস্তানে ১ হাজার ৫৫৭টি এবং অন্যান্য এলাকায় ২৯টি ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গত বছরে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চৌধুরীর দাবি, দেশের ১০টি বড় সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নরম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং এসব হামলায় আফগান সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।


গাজাবাসীর জন্য ফের রাফাহ সীমান্ত খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজাবাসীর জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে যাচ্ছে ইসরায়েল। আগামী রোববার গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দিতে যাচ্ছে দেশটি। ক্রসিং খুলে দিলেও তা দিয়ে চলাচল হবে সীমিত পরিসরে।

শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা সিওগ্যাট শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, মিসরের সঙ্গে গাজাকে সংযুক্ত করা এই সীমান্ত দিয়ে কেবল ‘সীমিত সংখ্যক মানুষের চলাচল’ অনুমোদন দেওয়া হবে।

রাফাহ ক্রসিং গাজার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার। এ ক্রসিং প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও ওষুধসহ মানবিক সহায়তা প্রবেশের একমাত্র পথ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে এই ক্রসিং পুনরায় খোলার কথা বলা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।

চুক্তির প্রথম ধাপের মূল অংশ সম্পন্ন হয়েছে চলতি সপ্তাহে গাজায় আটক শেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর হামাস এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানায়। এতে বিশেষ করে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া উভয় দিক থেকে খুলে দেওয়ার দাবি তোলা হয়।

তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ক্রসিংটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। সিওগ্যাটের বিবৃতিতে বলা হয়, রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ ও প্রস্থান মিসরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে। ইসরায়েলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানে এটি অনুমোদিত হবে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা ব্যবস্থার অনুরূপ।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে গাজা থেকে মিসরে চলে যাওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে যারা ফিরতে চান, তাদের কেবল ইসরায়েলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর এবং মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নির্দিষ্ট করিডোরে অতিরিক্ত পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়াও চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।


banner close