ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) একটি উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টার সময় অন্তত ১২৯ জন বন্দি নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিনশাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিআর কঙ্গোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানি লুকো জানান, সোমবার ভোরে সতর্কতামূলক গুলির পর ২৪ জন বন্দি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বাকিরা ম্যাকালা কারাগারে ভিড়ের চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার ভোরে কারাগারের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ বাধা দেয় এবং এলাকায় প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা দাদি সোসো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রাত ১টা বা ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলির শব্দ শোনা গেছে। সেখানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু মানুষ পালিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিচ্ছে।
প্রথমে সরকার দাবি করেছিল, এই ঘটনায় মাত্র দুজন মারা গেছেন। তবে পরে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।
সোমবার সকালে কারাগারের ভেতর থেকে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা নিথর দেহ এবং ভিড়ের মধ্যে মানুষকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা গেছে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানি লুকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় এই ঘটনার ব্যাপকতা এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এটি নিরাপত্তা বাহিনী, জাতীয় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর প্রশংসার সময়। তারা দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, পালানো রোধ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি দুঃখজনক যে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাণহানি, হামলা ও বিশেষ করে সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, প্রশাসনিক এবং নিবন্ধন অফিসে আগুন লেগেছে। আমরা এই জরুরি পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলায় কাজ করছি।
সাত বছর আগে এই ম্যাকালা কারাগার থেকে প্রায় চার হাজার বন্দি পালিয়ে যায়। এটি কঙ্গোর সবচেয়ে বড় কারাগার। এটির ধারণক্ষমতা দেড় হাজার হলেও সেখানে ১৪ হাজারের বেশি বন্দিকে রাখা হয়েছিল বলে এএফপি জানিয়েছে। ২০২০ সালে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কারাগারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সেখানে খাদ্য সংকট এবং স্বাস্থ্যবিধির অভাবে বন্দিরা মৃত্যুর মুখে পড়ছে। তখন অনুমান করা হয়েছিল যে মাত্র ছয় শতাংশ বন্দি তাদের সাজা ভোগ করছে, বাকি সবাই কঙ্গোর জটিল বিচার ব্যবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে আছে।
ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না বলে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতেও দ্বিধা করবে না তেল আবিব।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, ইসরায়েল নিজেদের উদ্যোগেই দেশকে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।’ ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।
চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান খুঁজে বের করা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ ও আপত্তি প্রকাশ করে আসছে ইসরায়েল। দেশটির নেতৃত্বের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগেও একাধিকবার বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা এককভাবেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যকে সেই অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরায়েলের এই বক্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা চলছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, বুধবারের (১ জুলাই) কারিগরি বৈঠকের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে মার্কিন দূত স্টিভ হুইটেকার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে তারা নিজেরা এই আলোচনায় উপস্থিত নেই।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স ভ্যাটাঙ্কা আল জাজিরাকে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। এই সমঝোতা স্মারকটি কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় শোনাচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ নেই।
এদিকে এখনো ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ)। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং দ্রুত সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে ইরাক ও লেবাননের ওপর দিয়েও ফ্লাইট রুট ব্যবহার করা উচিত নয় বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উড্ডয়নের সময় বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ইএএসএ জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের জন্য তাদের সংঘাতপূর্ণ এলাকা সংক্রান্ত সতর্কতা ১ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। কিন্তু এখন তা ৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।
মুখোমুখি বসছেন না শীর্ষ কূটনীতিকরা
কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিক বা মধ্যস্থতাকারীরা এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন না। আল জাজিরার নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রতিনিধি দল এখন কাতারে অবস্থান করছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনার টেবিল প্রস্তুত হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত অবরুদ্ধ বা ফ্রিজড হওয়া ইরানি তহবিল ছাড়করণের বিষয়গুলো নিয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ দল দোহায় কাজ করছে। অন্যদিকে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধিরাও সেখানে অবস্থান করছেন। তবে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের অনাস্থা ও হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং তারা আশা করছেন সমঝোতা স্মারকের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই জটিল বিষয়গুলোর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে বড় আলটিমেটাম দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের পাঁচটি মূল শর্ত ওয়াশিংটন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তেহরান কোনো চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে না। তেহরানে এক বিবৃতিতে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
গালিবাফের এই কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির নাজুক পরিস্থিতিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। মূলত আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে যৌথ কমিটি
গালিবাফের বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় এই সমঝোতা স্মারকের মূল শর্ত অনুযায়ী লেবাননে সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং দেশটির সার্বভৌম স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই আঞ্চলিক চুক্তিটি যেন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান গালিবাফ। এই কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
গালিবাফ বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
চূড়ান্ত আলোচনার আগে ৫ শর্তের আলটিমেটাম
৬০ দিনের এই অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী আইনি চুক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছেন ইরানি স্পিকার। গালিবাফ ঘোষণা করেন, চুক্তির ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তগুলো ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই অনুচ্ছেদগুলোতে মূলত আগ্রাসন বন্ধ করা, নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো চূড়ান্ত খসড়া আলোচনায় অংশ নেবে না।
একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা নিজস্ব অর্থ ফেরত পেতে বিশ্বমঞ্চে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তেহরান। গালিবাফ নিশ্চিত করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই প্রক্রিয়াটি সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের এই বিপুল অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করার আইনি ও লজিস্টিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে খুব শিগগিরই দোহারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। ওই ঘটনার প্রতিবাদে দেশটির একাধিক সশস্ত্র সংগঠন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। পাঁচ বছরব্যাপী এই ‘গৃহযুদ্ধে’ সকল পক্ষ মিলিয়ে মিয়ানমারে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) একটি সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সুচিকে গ্রেপ্তার করে সামরিক জান্তা। সেনাবাহিনীর ক্যুর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বড় শহরগুলোতে দ্রুত গণবিক্ষোভ দানা বেধে ওঠে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী কঠিন হাতে সেই বিক্ষোভ দমন করলে বিক্ষোভকারীরা শহর ছেড়ে চলে যায়।
পরবর্তীতে একাধিক গণতন্ত্রপন্থি গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়। মিয়ানমারের বেশ কয়েক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি) জানিয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংঘাতে মোট এক লাখ ১১৪ জন নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে এই সংখ্যাটি নিরূপণ করেছে। সংঘাতে নিহতের কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। বিশ্লেষকদের মতে, অর্ধ দশক ধরে চলমান মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ এ মুহূর্তে এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত।
গত মাসে রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলায় নিহত হন থেইন আয়ে নু’র স্বামী। তিনি বলেন, ‘আমাদের যাতনার কোনো শেষ নেই। আমি সীমাহীন রাগ ও ঘৃণায় ডুবে আছি। এখন আর বুঝতেও পারি না কার উপর রাগ করা উচিৎ।’ সবকিছুকে নিয়তির হাতে সঁপে দিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।
অভ্যুত্থানের পর সামরিক ডিক্রি জারি করে পাঁচ বছর দেশ শাসন করেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। গত এপ্রিলে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন হ্লাইং। এর আগে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে সেনা সমর্থিত রাজনৈতিক দল জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা ভূখণ্ডে কোনো ভোট হয়নি।
পাশাপাশি, অং সান সুচির দলকেও এতে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। গণতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি মিন অং হ্লাইং-এর শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ।
জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩৭ লাখ মানুষ। প্রতি পাঁচ জনে একজন মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন। দেশটিতে দারিদ্র্যের হার প্রতি বছরই বাড়ছে।
দেশের সবচেয়ে বড় শহর ইয়ানগনে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও অন্যান্য অংশে বড় আকারে যুদ্ধ চলছে। অনেক অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বিমানহামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।
এসিএলইডি জানিয়েছে, গত বছর সর্বোচ্চ মাত্রার সংঘাতের দিক দিয়ে ফিলিস্তিনি অঞ্চলের পরই ছিল মিয়ানমারের নাম। এসিএলইডি-এর মতে, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র সংগঠন অংশ নিয়েছে।
পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সান মন থান্ত বলেন, ‘এটা মারাত্মক। বেসামরিক মানুষের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এই সংঘাত এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’
পবিত্র রমজান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর সুরক্ষায় তারা পবিত্র এই ধর্মীয় উপাসনালয়ের চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
বুধবার (১ জুলাই) জেরুজালেম গভর্নরেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সকালে বেশ কিছু কট্টরপন্থী ইহুদি বসতিস্থাপনকারী দলবদ্ধভাবে আল আকসা মসজিদ চত্বরের ভেতরে ও চারপাশের আঙিনায় প্রবেশ করে। তারা সেখানে অত্যন্ত বিতর্কিত ও উসকানিমূলক টহল দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি পালন করতে শুরু করে।
এই পুরো অনধিকার প্রবেশের সময়টিতে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী ওই বসতি স্থাপনকারীদের চারপাশে অবস্থান নিয়ে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করে এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের উপাসনায় বাধা সৃষ্টি করে। মুসলিমদের জন্য তৃতীয় পবিত্রতম এই ধর্মস্থানে ইসরায়েলিদের এমন ধারাবাহিক উস্কানিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পুরো গাজা দখলে নেওয়ার ঘোষণা ইসরায়েলি মন্ত্রীর
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ বা শতভাগ প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক শীর্ষ মন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন যে গাজা ভূখণ্ডের ওপর তাদের কর্তৃত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১ জুলাই) (ইসরায়েলের নিজস্ব গণমাধ্যম গ্যালেই ইসরায়েল রেডিওর বিশেষ সাক্ষাৎকারের তিনি এ কথা বলেন। ইসরায়েলের জ্বালানি ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী এলি কোহেন ওই রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবরুদ্ধ গাজা নিয়ে তাদের সামরিক অগ্রগতির একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মাত্র দুই মাস আগেও গাজা উপত্যকার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর অধীনে ছিল, যা এক মাস আগে বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছায়। বর্তমানে গাজার নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে এবং এই মুহূর্তে ভূখণ্ডটির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা সরাসরি ইসরায়েলের কব্জায় রয়েছে।
মন্ত্রী কোহেন তার দেশের কঠোর সামরিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে তেল আবিব কোনো অবস্থাতেই ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে গাজায় আর এক মিলিমিটারের জন্যও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগ দেবে না।
হামাসের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক বিলুপ্তি নিশ্চিত করতেই মূলত ইসরায়েল গাজার শতভাগ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার জন্য এই ধারাবাহিক অভিযান ও কৌশলগত অগ্রগতি বজায় রাখছে।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে মেক্সিকোতে। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো মেক্সিকোর নকআউট ম্যাচ জয়ের এই অর্জন উদযাপন করতে রাজধানী মেক্সিকো সিটির রাস্তায় নেমে এসেছিল লাখো মানুষের ঢল। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে দম আটকে এক তরুণীসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিশ্চিত করেছে।
মেক্সিকো সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী এবং ৪৪ ও ৪৮ বছর বয়সী দুজন ব্যক্তি রয়েছেন। রাজধানীর প্রধান কেন্দ্র ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বিশাল সমাগম ঘটেছিল। উদযাপনের একপর্যায়ে ভিড়ের চাপে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রদান করেন। পরবর্তীতে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বিজয় মিছিলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে মেক্সিকো সিটির সরকারপ্রধান ক্লারা ব্রুগাডা মলিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের পাশে থাকার এবং সব ধরণের রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফুটবলের এই মহাউৎসবের মধ্যে এমন করুণ মৃত্যু মেক্সিকো জুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকলেও বিশাল জনস্রোতের চাপে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের রাজধানী লাহোরে একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার লাহোরের খানা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাঞ্জাব সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কেন্দ্রটিতে ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহত অবস্থায় ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করে খানা তহসিল হেডকোয়ার্টার (টিএইচকিউ) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ১৪ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পুরাতন একতলা ভবনটির ওপর দোতলা নির্মাণের কাজ চলছিল। ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ছাদটি ধসে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ভবনটির মালিকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি ৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নেওয়াজ। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ প্রকৌশল পরিকল্পনার কারণে ভবন ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। গত বছরও করাচিতে একটি ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। লাহোরের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও দেশটির আবাসন ও নির্মাণ শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আদালতের বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী’ বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরাও সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী জন্মের সাথে সাথেই মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।
ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানরা সংবিধানের উল্লিখিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীন’ পড়ে না। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি পরিপন্থী এবং ফেডারেল আইনও লঙ্ঘন করে। এই রায়কে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একে ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আবারও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক। তবে আদালতের নয় বিচারপতির মধ্যে তিনজন—বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, নিল গরসাচ ও স্যামুয়েল আলিটো এই রায়ের বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক’ সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব পুরো বিশ্বের জন্মগত অধিকার হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ১৮৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের অধিকার নিশ্চিত করতে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে এই বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। সেই সময় থেকে আজ অবধি দেশটিতে জন্ম নেওয়া যে কেউ নাগরিকত্ব পেয়ে আসছেন। গত এপ্রিলে এই মামলার শুনানিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ছিল মার্কিন বিচারিক ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী পরিকল্পনায় বড় ধরনের আইনি বাধা সৃষ্টি হলো।
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মেক্সিকোর এল প্রোগ্রেসো শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ভ্যালির কাছেও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, মেনডোসিনো কাউন্টির ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫ মাইল গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইউএসজিএস-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৯ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার অন্তত ৯৩টি ভূমিকম্পের রেকর্ড করা হয়েছে, যা ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতার বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ‘ডাবলেট’ ভূমিকম্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেখানে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি প্রলয়ঙ্করী কম্পন হয়েছিল, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। ‘ডাবলেট’ হলো প্রায় একই সময়ে কাছাকাছি মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের ঘটনা, যা সাধারণ ভূমিকম্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার এই সাম্প্রতিক কম্পনগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নবাস (এসি স্লিপার কোচ) ও পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর যাওয়ার পথে উচ্চগতিতে চলা বাসটি একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে মুহূর্তে দুই যানেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে বহু যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন। কয়েকজন জানালা ভেঙে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করলেও ভেতরে আটকা পড়ে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এবং বাকি দুজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। আহত ২২ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসের মালামাল রাখার অংশে প্রচুর সিগারেটের প্যাকেট ছিল, যা দাহ্য বস্তু হিসেবে কাজ করায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি অথবা চালকের তন্দ্রাচ্ছন্নতা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ধীরগতির অভিযোগ তুললেও প্রশাসন জানিয়েছে, দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। রাজস্থান প্রশাসন নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মহাসড়কগুলোতে দূরপাল্লার বাসের নিরাপত্তা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে এই দুর্ঘটনা আবারও বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে এক অলৌকিক আশার আলো দেখা গেছে। ভূমিকম্পের ছয় দিন পর লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে উদ্ধার করে, যার নাম ‘ক্লিয়েবার মোরান’ বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। সাধারণত ভূমিকম্পের প্রথম ৭২ ঘণ্টা উদ্ধারের জন্য ‘গোল্ডেন টাইম’ হলেও, প্রায় ১৪৪ ঘণ্টা পর এই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনাকে ‘আশার মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ডয়েস ভেলে ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুয়াইরা বন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের চারপাশ থেকে এখন লাশের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা উদ্ধারকারীদের জন্য কাজ করা আরও কঠিন করে তুলেছে। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় হাজার হাজার মানুষ এখনও ধসে পড়া ভবনগুলোর সামনে অবস্থান করছেন। তাদেরই একজন মিরেল্লা হেরেরা, যিনি প্রথম দিন থেকেই তার ছেলের ধসে পড়া বাড়ির পাশে অপেক্ষা করছেন। তিনি সিএনএন-কে বলেন, “এই অপেক্ষা পাগল হওয়ার মতো। আমি ভাবি তারা সেখানে কীভাবে আছে। যদি তারা বেঁচে থাকে, তবে তারাও হয়তো বের হওয়ার জন্য ছটফট করছে।” অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই শাবল ও কোদাল দিয়ে স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও জর্ডানসহ ডজন খানেক দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভারী সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তা এসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে রয়েছে জরুরি স্বাস্থ্য কিট ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। তবে জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে খাদ্য ও আশ্রয়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ত্রাণের জন্য মানুষের মধ্যে কাড়াকাড়ি ও মারামারি নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, টিকাদানের হার কম হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। অনেক পরিবার তাদের প্রায় সব সদস্যকে হারিয়ে এখন কেবল প্রিয়জনের নিথর দেহ শনাক্ত করার জন্য অস্থায়ী মর্গের সামনে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে।
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রদ্রিগেজ আরও জানান—এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ জন। একই সঙ্গে এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে—গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোকের প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পরদিন, অর্থাৎ ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দুই গবেষক ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উচ্চ রেজল্যুশনের রাডার চিত্রগ্রহণকারী স্যাটেলাইট সেনটিনেল-১-এর তথ্য উদ্ধৃত করেছেন। গবেষকেরা লিখেছেন, এটি একটি প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন। এতে ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক পরিবর্তনের যে চিত্র দেখা গেছে, তা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এই সংখ্যা কেবল একটি সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং এটি এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। তবে সোমবার হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
নাসা জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো জরুরি সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো থেকে পাওয়া ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের দলগুলো ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন এবং উদ্ধার ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা পাচ্ছে।
এদিকে দ্বৈত ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচ দিন পর সোমবার আবারও শক্তিশালী একটি আফটার শক অনুভূত হয়েছে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরায়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা এই তথ্য জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু পর এই আফটার শক অনুভূত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকল।
এই মামলা করেছিলেন মার্কিন লেখিকা ও কলামিস্ট ই. জেন ক্যারল, যিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ট্রাম্পের আইনজীবী দল মামলাটি বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ওই পিটিশন নাকচ করে দেয়। তবে আদালত কেন এই আবেদন খারিজ করা হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে জেন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। তার অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।
২০২৩ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত মামলার রায়ে জেন ক্যারলের পক্ষে রায় দেয় এবং ট্রাম্পকে দায়ী করে। এরপর সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে আপিল করেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তবে ফেডারেল আদালতও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। সর্বশেষ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সেই আপিল খারিজ করে দেয়, ফলে নিম্ন ও ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যত বহাল থাকল। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আগ্নেয়গিরি থেকে বছরে ছড়াচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার গভীরে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস পৃথিবীর অন্য যেকোনো আগ্নেয়গিরির তুলনায় ব্যতিক্রমী। এই আগ্নেয়গিরি থেকেই প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার সমমূল্যের স্বর্ণ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটি বায়ুমণ্ডলে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্ষুদ্র স্ফটিক নির্গত করে। জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সে ১৯৯১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাউন্ট এরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম আণুবীক্ষণিক স্বর্ণের স্ফটিক নির্গত হয়।
বর্তমান স্বর্ণের দাম অনুযায়ী, এর মূল্য দৈনিক প্রায় ৬ হাজার ডলার। বছরে এর মূল্য দাঁড়ায় ২০ লাখ ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি। ভৌগোলিকভাবে মাউন্ট এরেবাস দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে রস সাগরের রস দ্বীপে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটির লাভা থেকে অবিরাম আগ্নেয় গ্যাস নির্গত হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব গ্যাস বিশুদ্ধ সোনার আণুবীক্ষণিক কণা বহন করে, যা অ্যান্টার্কটিকার বরফে জমা হওয়ার আগে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ভেসে যেতে পারে।
ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করে গবেষকেরা দেখেছেন, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত স্বর্ণ সাধারণ ধূলিকণা নয়। কণাগুলো ক্ষুদ্র হলেও সুগঠিত স্ফটিকের আকার ধারণ করে। এর কোনো কোনোটির ব্যাস ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির গ্যাসে স্বর্ণের উপস্থিতি পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন আগ্নেয়গিরি এবং মেক্সিকোর এল চিচনসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি আগ্নেয়গিরিতেও অল্প পরিমাণে স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লোরিন বা সালফারসমৃদ্ধ যৌগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গরম আগ্নেয় গ্যাসের মাধ্যমে স্বর্ণ ওপরের দিকে উঠে আসে। গ্যাস ঠাণ্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণ আলাদা হয়ে স্ফটিকে পরিণত হয়।
তবে মাউন্ট এরেবাস অন্য সব আগ্নেয়গিরির তুলনায় অনেকটাই ব্যতিক্রম। এর এই বৈশিষ্ট্যের রহস্য এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। গবেষকরা এ বিষয়ে দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লোরিনসমৃদ্ধ আগ্নেয় গ্যাস বাতাসে ঠাণ্ডা হওয়ার সময় সেখান থেকেই সরাসরি স্বর্ণের স্ফটিক তৈরি হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। কারণ এসব গ্যাসে স্বর্ণের পরিমাণ অত্যন্ত কম।
আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, স্বর্ণের স্ফটিক প্রথমে আগ্নেয়গিরির লাভার হ্রদের উপরিভাগে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। পরে আগ্নেয় গ্যাসের সঙ্গে তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ আবিষ্কারের তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিতভাবে এর ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে বিষয়টি এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।