সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৭ মাঘ ১৪৩২

ড. ইউনূসকে সমর্থন দিতে বাইডেনকে অনুরোধ সিনেটর ডারবিনের

ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল, অর্থনৈতিক সংলাপের পরিকল্পনা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৫০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪৯

মার্কিন সিনেটর ডিক ডারবিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। গত সোমবার সিনেটে এক বক্তৃতায় তিনি এ অনুরোধ জানান।

এক বিবৃতিতে ডিক ডারবিনের দপ্তর জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। সিনেটে বক্তৃতায় তিনি ড. ইউনূসের ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেন, যা উন্নয়নশীল দেশে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দেয়।

বক্তৃতায় ডারবিন বলেন, ‘আমি তাকে (ড. ইউনূস) পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। আমি তাকে বিশ্বাস করি, ২০ বছর আগেও করেছি এবং আজও করি। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতিও তাকে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করছি। আমি জানি ড. ইউনূসের হৃদয়ে বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয় রয়েছে এবং এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন।’

ডারবিন তার বক্তব্য শুরু করেন বাংলাদেশে সফরের কথা (২০ বছর আগে) স্মরণ করে। তখন তিনি ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। তিনি বলেন, ড. ইউনূস এমন একটি তত্ত্ব নিয়ে আসেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের সাহযোগিতা করার কথা ভেবেছিলেন। এটি ক্ষুদ্রঋণ নামে পরিচিত এবং তিনি ‘গ্রামীণ ব্যাংক, জনগণের ব্যাংক’ নামে কিছু তৈরি করেন।

ডারবিন আরও বলেন, ড. ইউনূসের ধারণা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে এবং তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে সাহায্য করেছে। দুঃখজনকভাবে তার ধারণাগুলোর কারণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আক্রোশেরও শিকার হন। তাকে বছরের পর বছর ধরে সন্দেহজনক আইনি অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে জেলহাজতের হুমকি দেওয়া হয়।

ডারবিন বলেন, ‘গত মাসে আমার বিস্ময়ের কথা কল্পনা করুন... জনগণের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে হাসিনা অবশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং যে ছাত্ররা বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা দাবি করেন যে তাদের দেশের নেতা হবেন কেবল ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

‘আমি তার সৌভাগ্যের কথা শুনে তাকে (ড. ইউনূস) ফোন করি। তিনি উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে দেশের মানুষ এখন এই ঐতিহাসিক সুযোগে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।’

ডারবিন জুলাই মাসে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানির নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশে তিন সহকর্মীর নেতৃত্ব দেন। এতে তিনি তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ডক্টর ইউনূসের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে এবং তার বিরুদ্ধে আনা সন্দেহজনক অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল, অর্থনৈতিক সংলাপের পরিকল্পনা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংলাপ শুরুর পরিকল্পনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার কাজে সহায়তার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে এই সংলাপের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ গণসংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর ও ইউএসএইডের কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সংলাপে বাংলাদেশের আর্থিক ও মুদ্রানীতির পাশাপাশি আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তারা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

মার্কিন রাজস্ব ও অর্থ দপ্তরের আন্তর্জাতিক অর্থায়নবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক দুর্বলতা মোকাবিলা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন নিশ্চিতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, আইএমএফ এবং অন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততার জন্য মার্কিন সমর্থন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। কারণ বাংলাদেশ আর্থিক খাতের সংস্কার গভীরতর করে আর্থিক টেকসইমূলক উন্নতি এবং দুর্নীতি হ্রাস করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে চায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত
বাসস জানায়, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করতে ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে দেশটির সম্পৃক্ততার জল্পনা-কল্পনা দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দিয়েছে।

সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল ওয়াশিংটনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এ সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ও আগ্রহী।’

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে তিনি দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বিদেশি প্রভাব সম্পর্কিত দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
ছাত্র বিক্ষোভে চীনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্যাটেল জবাব দেন, ‘আমি শুধু শুধু অনুমান করতে যাচ্ছি না।’

এ সময় একজন সাংবাদিক বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক মৈত্রী তুলে ধরে কিছু ভারতীয় মিডিয়া আউটলেট সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছে বলে উল্লেখ করেন।

জবাবে প্যাটেল দৃঢ়ভাবে এ দাবিগুলো নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি সেই প্রতিবেদনগুলো দেখিনি; কিন্তু আমি যা দ্ব্যর্থহীনভাবেই বলতে পারি তা হলো, সেগুলো (প্রতিবেদনগুলো) সত্য নয় আর সম্ভবত সে কারণেই আমি সেগুলো দেখিনি।


ইউক্রেনকে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দু’জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবুধাবির সেই বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনকে দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছেন।

রয়টার্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বলেছি যে আমরা দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাই। আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।’

এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, তবে কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে চাননি

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের মে মাসের নির্বাচনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলেনস্কি। তার সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের মে মাসে।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একের পর এক ডিক্রি জারি করে সামরিক শাসনের মেয়াদ বাড়িয়ে এখনও ক্ষমতায় আছেন তিনি।

৩১৪ বন্দি বিনিময় করল রাশিয়া- ইউক্রেন

তিন মাসেরও বেশি সময় পর আবারও বন্দি বিনিময় করেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার উভয় দেশই ১৫৭ জন করে মোট ৩১৪ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সাধারণ নাগরিকরাও রয়েছেন। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনার দ্বিতীয় দিনে বন্দি বিনিময়ের এই ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরইমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ভেতরে ড্রোন হামলার জন্য রাশিয়া যে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করছিল, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই পরিসংখ্যানের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এর আগে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তখন তিনি নিহতের সংখ্যা ৪৩ হাজার বলে জানিয়েছিলেন।

ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা, পেশাদার কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তসহ ৫৫ হাজার।

শুধু ট্রাম্পই যুদ্ধ থামাতে পারেন’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের মুখোমুখি বৈঠকে বসতে হবে, যাতে শান্তি আলোচনায় বাকি থাকা সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর সমাধান করা যায়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই যুদ্ধে অবসান ঘটাতে পারেন।

সিবিহা বলেন, ইউক্রেন চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান দ্রুত ঘটাতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার গতি কাজে লাগাতে চায়। কারণ, নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় সামনে এলে আলোচনায় প্রভাব পড়তে পারে। সিবিহা বলেন, শুধু ট্রাম্পই যুদ্ধ থামাতে পারেন।

তিনি জানান, শান্তির জন্য তৈরি ২০ দফা পরিকল্পনার মধ্যে এখন মাত্র কয়েকটি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। তবে সেগুলোই সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং কঠিন, যা কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব।

ভূখণ্ড ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি ২০ শতাংশ এলাকা ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে, যা কিয়েভ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ, যা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

এই সপ্তাহে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফায় বড় কোনো অগ্রগতি না হলেও, বৃহস্পতিবার ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দির বিনিময় হয়েছে—গত অক্টোবরের পর এটি প্রথম বন্দিবিনিময়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে মায়ামিতে নতুন দফা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ইউক্রেন এতে সম্মত হয়েছে।

সিবিহা বলেন, আমাদের কাছে গতি আছে, এটা সত্য। এখন শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত ও জোরদার করতে হবে, এবং আমরা দ্রুত এগোতে প্রস্তুত।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া মাত্র প্রায় ১.৩ শতাংশ নতুন এলাকা দখল করতে পেরেছে।

ইউক্রেন চায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলোর শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

সিবিহা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে এবং শান্তিচুক্তিকে সমর্থন দিতে একটি ‘ব্যাকস্টপ’ ব্যবস্থা থাকবে। তবে ইউক্রেনে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, কিছু দেশ এরই মধ্যে ইউক্রেনে প্রতিরোধমূলক বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুতি জানিয়েছে, যদিও তিনি তাদের নাম প্রকাশ করেননি।


জাতীয়তাবাদের জোয়ারে থাইল্যান্ডে ভুমজাইথাই পার্টির বড় জয়

আপডেটেড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল চেতনার অভাবনীয় জয়জয়কার পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশটিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। সেনাবাহিনী সমর্থিত এবং রাজতন্ত্রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই দলটির জয় মূলত থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, তা ভোটারদের রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী শক্তির দিকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করেছে। বিজয়ী দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন এখন একটি শক্তিশালী জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০টি আসনের মধ্যে ভুমজাইথাই পার্টি প্রায় ২০০টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা পায়নি, তবে বৃহত্তম দল হিসেবে জোট গঠনের ক্ষেত্রে তারাই এখন মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী ‘পিপলস পার্টি’ ১২০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফেউ থাই পার্টি’-র নজিরবিহীন বিপর্যয়। গত নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার করলেও এবার তারা তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি এই রাজনৈতিক পতনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের সাধারণ ভোটাররা এবার বড় ধরনের সংস্কারের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পরিচিত অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিরত আলীর ভাষ্যমতে, আগামী কয়েক মাস থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী মেজাজ এবং কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের ভেতরে সক্রিয় থাকা বিশাল সাইবার অপরাধ চক্রকে নির্মূল করা। এছাড়া দুর্নীতির দায়ে বর্তমানে এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করা থাকসিন সিনাওয়াত্রার আগাম মুক্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টিও আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বে থাইল্যান্ডে আবারও একটি স্থিতিশীল কিন্তু রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে রয়েছে।


৩৭ বছরের প্রথা ভেঙে বিমান বাহিনীর সভায় অনুপস্থিত খামেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক অনন্য নজির ভেঙে দেশটির বিমান বাহিনীর বার্ষিক সভায় অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে আসছিলেন খামেনি। এমনকি বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির চরম সংকটের সময়েও তিনি এই ঐতিহ্যবাহী দিবসটি পালন থেকে বিরত থাকেননি। তবে গত রবিবার অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সভায় খামেনির আকস্মিক অনুপস্থিতি এবং তাঁর পরিবর্তে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভির অংশগ্রহণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি দিনটি ইরানি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বিমান বাহিনীর একদল সদস্য ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন, যা দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণে প্রতি বছর বিমান বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ও কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করেন। টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই প্রথায় প্রথমবারের মতো খামেনির অনুপস্থিতি ইরানি প্রশাসনের ভেতরে বড় কোনো পরিবর্তনের বা আসন্ন কোনো সংকটের আভাস দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এই অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে বর্তমানে নানা গুঞ্জন চাউর হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বর্তমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এই জল্পনার মূলে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইরানের ওপর তুমুল হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলও ইরানে সরকার পতনের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খামেনির জনসম্মুখে না আসা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় খামেনিকে হয়তো অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আবার খামেনির বয়স ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই অনুপস্থিতিকে নিছক স্বাস্থ্যগত কারণের চেয়ে কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিষয়ে সরাসরি কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করায় ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। যুদ্ধের দামামা এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে খামেনির এই প্রথাভঙ্গ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সর্বোচ্চ নেতার এমন রহস্যজনক নীরবতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।


ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়াতে এক বিশাল চুক্তির পথে হাঁটছে ভারত। ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ লক্ষ কোটি রুপি। এই চুক্তিটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা এবং বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠিতব্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফরের আগেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমরাস্ত্র ক্রয় বিষয়ক সর্বোচ্চ অঙ্গসংস্থা 'ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল' (ডিএকে)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। জানা গেছে, ১১৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম ১৮টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি অবস্থায় বা ‘ফ্লাইং কন্ডিশনে’ সরবরাহ করা হবে। অবশিষ্ট ৯৬টি বিমান ভারতের মাটিতেই দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে যৌথভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার করবে। এই বিশাল বহরের মধ্যে ৮৮টি যুদ্ধবিমান হবে একক পাইলটবিশিষ্ট এবং বাকি ২৬টিতে দুই জন পাইলটের বসার ব্যবস্থা থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বহুমুখী যুদ্ধবিমান হিসেবে স্বীকৃত রাফাল ইতিমধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের এই যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এবং এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সফল অপারেশন চালাতে পারে। এর আগে ২০২০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল ভারত, যার কার্যকারিতা ও কারিগরি সক্ষমতায় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী’ (সিসিএস) আরও বড় পরিসরে এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সবুজ সংকেত দেয়। ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম রাফালের এই নতুন অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আকাশসীমার নিরাপত্তাকে এক অভেদ্য স্তরে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সামরিক বিশ্লেষকরা। এই চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশের নির্বাচনে সম্পর্কের পরীক্ষায় ভারত, কৌশলী চীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে রূপ দিতে পারে। এই নির্বাচন ঘিরে বেইজিং প্রভাব সুসংহত করতে চাইছে আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক টালমাটাল হয়ে উঠছে। এবারের এই ভোট ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশের প্রথম নির্বাচন। খবর এএফপির।

এএফপি লিখেছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতকে নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যে কারণে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা জোরদার করা হয়েছে।

১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিমপ্রধান এই দেশ শেখ হাসিনার শাসনামলে চীনের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিই ছিল ঢাকার প্রধান অংশীদার, যে সমীকরণ এখন বদলাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, ‌‌‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার প্রকৃত অর্থেই চীনের দিকে ঝুঁকছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর সম্পর্কিত চীনের কৌশলগত চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এই কৌশলে চীনপন্থী ভূমিকা পালন করবে—এ ব্যাপারে চীন ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসী।’

ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল চীনে; যা কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত জানুয়ারিতে দুই দেশ ভারতের কাছে প্রস্তাবিত একটি উত্তরাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটির কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার একটি অপরিবর্তনীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

লাগামহীন বৈরিতা: এর বিপরীতে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে নিয়মিত টানাপোড়েন চলছে। গত ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে

‘সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অবিরাম বৈরিতা’ চলছে অভিহিত করে এর নিন্দা জানায়।

পুলিশ বলেছে, বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৭০ জন সদস্য নিহত হন। ঢাকা এই সহিংসতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করার অভিযোগে ভারতকে দোষারোপ করেছে। তবে সম্পর্ক মেরামতের বিচ্ছিন্ন কিছু প্রচেষ্টাও হয়েছে।

জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে এগিয়ে আছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি জিতলে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়ার ৬০ বছর বয়সী ছেলে তারেক রহমানের প্রতিও সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী ডানপন্থীদের বিক্ষোভের পর এক বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর জেরে ভারতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

অস্থিতিশীলতা নয়, স্থিতিশীলতায় প্রাধান্য: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রবীণ দোন্থি বলেন, উভয় পক্ষেরই বাস্তববাদী অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দু’পক্ষই সম্পর্কের অবনতির সমাধান না করার মূল্য সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।

ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে ঢাকা। এক দশকের বেশি সময় পর জানুয়ারিতে দুই দেশের মাঝে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকার নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের আর অবনতি না ঘটিয়েই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারা অব্যাহত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দোন্থি বলেন, নতুন প্রশাসন সম্ভবত অস্থিতিশীলতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দেবে। তবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে—বিশেষ করে বিএনপি জিতলে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, একসময় ভারতের সঙ্গে তীব্র বিরোধে থাকা ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রচারে ‘এক ধরনের বাস্তববাদী বাস্তবতা’ তুলে ধরেছে।

তীব্র বাগাড়ম্বরের পরও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বাস্তব ভিত্তি অটুট রয়েছে। বাণিজ্য স্থিতিশীল আছে এবং শেখ হাসিনা আমলের কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি—ভারতীয় টাগবোট সংক্রান্ত; বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক উপ-হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভারতীয় কূটনীতিক দিলীপ সিনহা বলেন, চীন এমনভাবে অবকাঠামো সরবরাহ করছে; যা ভারত পারে না।

তিনি বলেন, কিন্তু ভারত এমন কিছু জিনিস সরবরাহ করে; যা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন, বিদ্যুৎ এবং পোশাকশিল্পের জন্য সুতা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়া মানেই ভারতের সঙ্গে বৈরিতা; বিষয়টি এমন নয়। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটি একটি না হলে আরেকটি’ ধরনের পরিস্থিতি নয়। দুই সম্পর্কই একই সঙ্গে বিকশিত হতে পারে।’


নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ২০০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা এবং উত্তরাঞ্চলীয় কাতসিনা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বন্দুকধারীদের পৃথক হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। স্থানীয় আইনপ্রণেতা, বাসিন্দা এবং পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর নিশ্চিত করেছে। খবর সিএনএনের।

মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা রাজ্যের ওরো এবং নুকু গ্রামে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদু বাবা আহমেদ জানান, বন্দুকধারীরা বাসিন্দাদের ঘেরাও করে তাদের হাত পেছনে বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পরে হামলাকারীরা গ্রামবাসীর বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গবাদি পশু লুট করে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা মূলত উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘক্ষণ ধরে গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন চালায়। গ্রামবাসী তাদের ‘শরিয়া আইন’ মেনে চলার ও নাইজেরীয় সরকারের প্রতি আনুগত্য ত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তারা নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে।

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় কাতসিনা রাজ্যেও বন্দুকধারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালিয়ে অন্তত ২১ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই হামলার মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সশস্ত্র চক্রের মধ্যে গত ছয় মাস ধরে চলা একটি শান্তি চুক্তি ভেঙে পড়ল।

নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রায়ই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে চাঁদা ও খাবার দিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই ব্যবস্থাও এখন হুমকির মুখে।

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর নাইজেরীয় সরকারকে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনী নাইজেরিয়ায় একটি বিমান হামলাও পরিচালনা করে।

বর্তমানে নাইজেরীয় সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বলে দাবি করলেও, সাম্প্রতিক এই গণহত্যাকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ভঙ্গুরতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।


জাপানে জাতীয় নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ শুরু

জাপানে ভোটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানে জাতীয় নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট দেওয়া শুরু করেন সাধারণ মানুষ।

সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় এ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গত ২৩ জানুয়ারি দেশটির সংসদ ভেঙে দেন প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাচি। দ্রুত জনগণের সমর্থন পেতে ওই সময় তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।

এ নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনের জন্য ১ হাজার ২৮৪ প্রার্থী লড়াই করছেন। অগ্রিম ভোটে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

জরিপ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তাকাচির ক্ষমতাসীন এলডিপিই সংসদের সর্বোচ্চ আসনে জয়ী হতে পারেন।। তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপানিজ ইনোভেশন পার্টির জোট নিম্নকক্ষে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০০টি আসন পেতে পারে।

দুর্নীতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে পুরনো জোটসঙ্গীদের পাশাপাশি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এই নির্বাচনকে এলডিপির জন্য নতুন করে ফেরার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে এর আগে এলডিপির দুই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। এবার তাকাইচি ভোটারদের সামনে তুলনামূলক জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়ছেন।

তাকাইচি করছাড় এবং ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে দেশটির সরকারি ঋণ অন্যান্য উন্নত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ হওয়ায় তার অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি জাপানের ধীরগতির অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে কি না, তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এই নির্বাচনে এলডিপির জন্য ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তবে তুষারপাতের কারণে ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাহত হতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে।

দেশটিতে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শেষ হতে হতে সারারাত লাগতে পারে।

এদিকে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপানে শীতকালে নির্বাচন হচ্ছে। এরমধ্যে জাপান সাগরের উপকূলে তুষারপাত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ভোট দিতে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যেতে পারে।

জাপানের নিইগাতাসহ অনেক অঞ্চলে রোববার ভারী তুষারপাত হয়েছে। জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত ৩৭টি ট্রেন লাইন ও ৫৮টি ফেরি রুট বন্ধ ছিল এবং ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।


পদ ছাড়ছেন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী

উইলিয়াম লুইস । ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন বিখ্যাত সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন উইলিয়াম লুইস। পত্রিকাটি নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছে। ব্যাপক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত তদারক করার কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিদায়ের খবর এল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা মোট কর্মীর এক-তৃতীয়াংশ ছাঁটাই করছে। এর ফলে ক্রীড়া সংবাদ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ কাভারেজ বড় আকারে কমিয়ে আনা হচ্ছে। লুইস বলেছেন, এখনই সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়। কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, পত্রিকার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কিছু ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হয়েছে। সেই বার্তাটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন অনেক সাংবাদিক। একই সঙ্গে পত্রিকার ধনকুবের মালিক জেফ বেজোসের দিকেও সমালোচনার তির ধেয়ে যাচ্ছে। তবে নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বলেছেন, এই ছাঁটাই পত্রিকায় ‘স্থিতিশীলতা’ আনবে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, উইলিয়াম লুইসের বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন জেফ ডি’ অনোফ্রিও। তিনি গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

উইলিয়াম লুইস আগে ডাও জোন্সের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে তাকে ওয়াশিংটন পোস্টের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দৈনিক পত্রিকাটির আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে লুইসকে গ্রাহক ও কর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

ব্যাপক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে পত্রিকার সদর দপ্তরের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। এই ছাঁটাইয়ের মধ্যে ছিল পত্রিকার পুরো মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক এবং কিয়েভভিত্তিক ইউক্রেন সংবাদদাতার পদও। ২০২১ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন মার্টি ব্যারন। তিনি বলেছেন, এই ছাঁটাই ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলোর একটি।’

লুইসের বিদায় ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক অস্থিরতার আরেকটি অধ্যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পত্রিকাটি একের পর এক কর্মী ছাঁটাই এবং বিতর্কিত সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে সিদ্ধান্ত নেন, ওয়াশিংটন পোস্ট কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সমর্থন দেবে না।

প্রসঙ্গত, ১৯৭০-এর দশক থেকে অধিকাংশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পত্রিকাটি কোনো না কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে আসছিল। যাদের সবাই ছিলেন ডেমোক্র্যাট দলের। এই সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়। একই সঙ্গে পত্রিকাটি কয়েক হাজার গ্রাহক হারায়। এর মধ্যেই গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মতামত সম্পাদক পদত্যাগ করেন। কারণ, বেজোস সিদ্ধান্ত নেন যে পত্রিকার মতামত বিভাগে ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মুক্ত বাজার’কেন্দ্রিক লেখা বেশি গুরুত্ব পাবে।

এরপর ২০১৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট কিনে নেওয়া জেফ বেজোস বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধী লেখা আর প্রকাশ করা হবে না।


ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বে তীব্র ফাটল, চাপে নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক কমান্ডারদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বক্তব্য আসার পর তেল আবিবে গভীর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিভাজন প্রকাশ পেয়েছে। এই মতবিরোধ গাজা যুদ্ধ পরিচালনার ধরন থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর প্রচেষ্টাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।

গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরুর দুই বছরেরও বেশি সময় পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন করে সমালোচনার ঢেউ উঠেছে। সাবেক যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডাররা প্রধানমন্ত্রীর বয়ান প্রত্যাখ্যান করে তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে গোপন নথির রাজনৈতিক অপব্যবহারেরও অভিযোগ এনেছেন তারা।

নেতানিয়াহু মিথ্যা বলছেন

ইসরায়েলের সাবেক যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ইওয়াভ গালান্ত দেশটির গণমাধ্যমে দেওয়া এক স্পষ্ট সাক্ষাৎকারে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব এড়াতে প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে একটি ভুয়া বর্ণনা তৈরি করেছেন। গালান্ত জোর দিয়ে বলেন, গত ৭ অক্টোবরের হামলার পর সামরিক ও নিরাপত্তা কমান্ডারদের সমর্থন দেওয়ার বদলে নেতানিয়াহু তাদের রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানান এবং নিজের ব্যর্থতা সেনাবাহিনী ও শিন বেটের (ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেন।

ইয়ার ল্যাপিড ও বিরোধী শিবিরের অভিযোগ

ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মহা হিসাবরক্ষকের কাছে পাঠানো ৫৫ পৃষ্ঠার নথির প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরের আগে পাওয়া গোয়েন্দা সতর্কবার্তাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অভিযানের বহু মাস আগেই তিনি ব্যাপক সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এরপর তিনি প্রশ্ন করে বলেন, যদি বিরোধী দলের নেতা বিষয়টি জানতেন, তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে অজ্ঞতার দাবি করেন?

তদন্তের চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহুকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ৭ অক্টোবরের আগের সব বৈঠকের কার্যবিবরণী সম্পূর্ণভাবে প্রকাশের দাবি জানান।

তদন্ত কমিশনের ধরন নিয়ে বিরোধ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্ত স্থগিত হওয়া তেল আবিবের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে, যে সংকটকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সর্বোচ্চ স্তরে আস্থা ভাঙনের স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ইসলামাবাদ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি নিশ্চিত করেছেন, ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলার মাস্টারমাইন্ড বা মূল পরিকল্পনাকারী বর্তমানে পাকিস্তানের হেফাজতে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন দায়েশের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তির সঙ্গে হামলার সহায়তাকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, এই মাস্টারমাইন্ডের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ আছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন—হামলার পরপরই খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ার ও নওশেরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের আটক করা হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদের এক ইমামবাড়ায় নামাজ চলাকালে ভয়াবহ এই হামলা ঘটে। এতে অন্তত ৩৩ জন শহীদ হন। আহত হন আরও অনেকে। ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত ওই ইমামবাড়ার প্রবেশপথে হামলাকারী প্রথমে গুলি চালায়। এরপর সে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।

সংবাদ সম্মেলনে মোহসিন নকভি বলেন, তিনি আবারও স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ‘এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুরো অর্থায়ন ভারত থেকে করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, তাদের সব লক্ষ্যও ভারত থেকেই ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট বা সিটিডি হামলার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় সিটিডি ও অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে দলগতভাবে কাজ করেছে।

এই অভিযানের সময় খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের এক সদস্য নিহত হন। আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলাকারীকে কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে তাকে এখানে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ আফগানিস্তানে সম্পন্ন করা হয়েছিল।

মোহসিন নকভি অভিযোগ করেন, ভারত দায়েশসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, আগে একজন জঙ্গিকে ৫০০ ডলার দেওয়া হতো। এখন তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার করা হয়েছে। তার দাবি, মে মাসে পরাজয়ের মুখে পড়ার পর ভারত তার সন্ত্রাসী বাজেট তিন গুণ বাড়িয়েছে। তবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা তাদের বাজেট দশ গুণ বাড়ালেও পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমন করবে।

পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণটি ছিল আত্মঘাতী হামলা, নিহত বেড়ে ৩১পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণটি ছিল আত্মঘাতী হামলা, নিহত বেড়ে ৩১

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানকে সব জঙ্গির ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শত্রু মানেই শত্রু। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যারা লড়ছে, তাদের আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব যদি এখনই আওয়াজ না তোলে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।’

তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে, সেগুলো বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে জানানো হয়েছে। যদি তারা ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অন্য বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।


তোশাখানা দুর্নীতি মামলা: ইমরান খান ও তার স্ত্রীর ১৭ বছরের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের একটি আদালত তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এই রায় দেয় বিশেষ আদালত। খবর এনডিটিভির।

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তোশাখানা-২ মামলাটি ২০২১ সালে সৌদি সরকারের কাছ থেকে এই দম্পতি যে রাষ্ট্রীয় উপহার পেয়েছিলেন, তাতে কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় ঘোষণা করেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে সেখানেই বন্দি।

ইমরান খান এবং বুশরা বিবিকে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা (বিশ্বাসভঙ্গ) অনুযায়ী ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও করেছে।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত ইমরান আহমেদ খান নিয়াজির বার্ধক্য এবং বুশরা ইমরান খান একজন নারী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে। এই দুটি কারণ বিবেচনা করেই কম সাজা প্রদানের মাধ্যমে একটি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে।’

রায়ে আরও যোগ করা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার সুবিধা (কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে হাজতবাসের সময়কাল বিবেচনা করা) দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। বিচার চলাকালীন মোট ২১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। রায় ঘোষণার সময় ইমরান খান এবং বুশরা বিবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় রেকর্ড করা জবানবন্দিতে ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এই মামলা ‘বিদ্বেষপূর্ণ, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, দামি ঘড়ি, হীরা এবং সোনার অলঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী তোশাখানায় (রাষ্ট্রীয় উপহার ভাণ্ডার) জমা না দিয়েই এই দম্পতি বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি জিও নিউজকে বলেছেন, উপহারগুলো তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়নি, যা করা তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আইনি কার্যধারায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, অলঙ্কার সেটের প্রকৃত মূল্য ছিল ৭০ মিলিয়ন রুপি; অথচ এর মূল্যায়ন করা হয়েছিল মাত্র ৫.৮-৫.৯ মিলিয়ন রুপি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বুশরা বিবি এবং ইমরান খান পানির দরে সেই সেটটি কেনার চেষ্টা করেছিলেন।’

তোশাখানা হলো ক্যাবিনেট ডিভিশনের অধীনে একটি বিভাগ, যেখানে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে শাসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাওয়া উপহার জমা রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একবার জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই উপহারগুলো পুনরায় কেনা সম্ভব।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বুশরা বিবিকে এই মামলায় জামিন দেয় এবং এক মাস পর ইমরান খানকেও একই মামলায় জামিন দেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে, আদিয়ালা কারাগারে বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যেখানে ইমরান ও তার স্ত্রী আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের শুরুর দিকে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকেই বন্দি ছিলেন। উভয় দণ্ডিত ব্যক্তি এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে একাধিক মামলায় কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তার সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২ ডিসেম্বর, যখন তার বোন উজমা খানকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ইমরান খান ‘সুস্থ’ আছেন।

গত সপ্তাহে, নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস কারাগারে ইমরান খানের ‘অমানবিক ও মর্যাদাহানীকর আটকের অবস্থার’ প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখতে পাকিস্তান সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান খানের নির্জন কারাবাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। এটি কেবল একটি বেআইনি ব্যবস্থাই নয়, দীর্ঘায়িত বিচ্ছিন্নতা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।’

প্রতিবেদন অনুসারে, ইমরান খানকে বাইরের কোনো কার্যক্রম বা অন্য বন্দিদের সঙ্গে মেলামেশার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং তিনি জামাতে নামাজেও অংশ নিতে পারছেন না। আইনজীবী, পরিবারের সদস্য এবং আদালতের অনুমতিপ্রাপ্ত অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাতেও প্রায়ই বাধা দেওয়া হচ্ছে বা সময়ের আগেই শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।

ইমরান খান ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


জুনের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইয়াহোতিন শহরের একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা হওয়ার জন্য উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচক দল যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকে বসবে। সম্ভবত মিয়ামিতে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি।’

ওয়াশিংটন বা মস্কো থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে চলেছে। ফলে তীব্র শীতের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আবুধাবিতে দ্বিতীয় দফা যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘কঠিন বিষয়গুলো আগের মতোই কঠিন’। বিশেষ করে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার মতো ইস্যু নিয়ে চাপ রয়েছে ইউক্রেনের ওপর।

প্রথমবারের মতো শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, ‘প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রয়োজন।’ চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা জুনের মধ্যেই সবকিছু শেষ করতে চায়।’

জেলেনস্কি যোগ করেছেন, ‘গ্রীষ্মের আগেই কেন? যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি-মধ্যবর্তী নির্বাচন-এর প্রভাব ফেলতে পারে।’

রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রুশ অপরাধীরা আরেকটি ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।’ সাবস্টেশন, উচ্চভোল্টেজ লাইন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয়েছে।

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ঘাটতি বেড়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য প্রতিবেশী পোল্যান্ডের কাছে চাওয়া হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের হামলায় ৪০০ এর বেশি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। অন্তত চারটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভে ডোব্রোটভির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলায় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়েছেন। পাশের ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কে বুরশতিন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আঘাত লাগে। ডিটিইকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর এটি তাদের দশম বড় হামলা। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ২২০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

রিভনে একজন নিহত এবং জাপোরিঝিয়ায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভে মানুষ আবারও মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন।


‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপকে ভয় পায় না ইরান’

আব্বাস আরাগচি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপকে ইরান ভয় পায় না। তিনি বলেন, আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কখনোই ত্যাগ করবে না।

তেহরানে একটি ফোরামে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য দিয়েছে।

আব্বাস আরাগচি বলেন, আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও আমরা সমৃদ্ধকরণের ওপর এত জোর দিচ্ছি এবং তা ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি কেন? কারণ আমাদের আচরণ নির্ধারণ করার অধিকার কারো নেই। ওমানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সাক্ষাতের দুদিন পর এ ধরনের মন্তব্য করলেন তিনি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক ঘোষণায় তিনি বলেন, তার দেশ উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনে ভীত নয়। এই অঞ্চলে তাদের সামরিক মোতায়েনে আমরা ভীত নই।

এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দোহায় আল-জাজিরা ফোরামের ১৭তম অধিবেশনের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা করা হবে না। তিনি জানান, এটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক বিষয় এবং আলোচনার আওতার বাইরে।

আরাগচি জানান, একদিন আগে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষভাবে যে আলোচনা হয়েছে, তা ভালোভাবে শুরু হয়েছে। তবে পারস্পরিক আস্থা গড়তে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনা সরাসরি নয় এবং শুধু পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই সীমাবদ্ধ।


banner close