মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ মাঘ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন হেলেনের তাণ্ডব, ৬৪ জনের মৃত্যু

হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ফ্লোরিডার বিগ বেন্ড এলাকা । ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:৩৭

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে হারিকেন হেলেনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ঝড়ের পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে উদ্ধার তৎপরতা। এর ফলে মানবেতর অবস্থায় দিন পার করছেন হাজার হাজার মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ফ্লোরিডার বিগ বেন্ড এলাকায় ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ৪ ক্যাটাগরির এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর সেটি জর্জিয়া, ক্যারোলিনা এবং টেনেসির দিকে অগ্রসর হয়। এর প্রভাবে সেসব অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে নদী-খাল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় উত্তর ক্যারোলিনায় রাস্তা ও আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অঞ্চলটি। ফ্লোরিডার স্টিনহ্যাচি শহরের বাসিন্দা জানালিয়া ইংল্যান্ড বলেন, আমি এত মানুষকে গৃহহীন হতে কখনো দেখিনি। জানালিয়া তার বাণিজ্যিক মাছের বাজারকে ত্রাণ সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা সাহায্যের জন্য ভিড় করছেন। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প বলেছেন, ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি দেখে মনে হচ্ছে এখানে ‘বোমা বিস্ফোরিত’ হয়েছে।

ক্যারোলিনার অ্যাশভিল শহরের একটি অংশ প্লাবিত হওয়ায় হেলিকপ্টারে করে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়ে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে, বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলিনার বানকম্ব কাউন্টিতে। এই দুর্যোগে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা এবং ভার্জিনিয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোরিডার পিনেলাস কাউন্টিতে নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব লোক বাধ্যতামূলকভাবে ঘরত্যাগের নির্দেশ পাওয়া সত্ত্বেও বাড়িতে ছিলেন। মুডি’স অ্যানালিটিক্সের অনুমান, এই ঘূর্ণিঝড়ে সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ থেকে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।

আকুওয়েদারের হিসাব মতে, হারিকেন হেলেনের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৯৫০ থেকে ১১শ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হেলেনের ধ্বংসযজ্ঞকে ‘অতিমাত্রায় বিধ্বংসী’বলে অভিহিত করেছেন এবং নর্থ ক্যারোলিনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম হারিকেন হেলেন। উষ্ণ সমুদ্রের কারণে এ ধরনের ঝড় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হচ্ছে, যার প্রভাব এখন আরও ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।


গাজায় ইসরায়েলি নতুন হামলায় নিহত ৯ ফিলিস্তিনি

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের আল-নাসর স্ট্রিটে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য যে, আল-নাসর স্ট্রিট যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা নয়।

এর আগে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস উপকূলে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে একজন ফিলিস্তিনি জেলে আহত হন। আরও তথ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরের আবু তাম্মাম স্কুলের পাশে ইসরায়েলি গুলিতে ৫৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এছাড়া মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে এক কৃষককে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। দক্ষিণ গাজায় আরও চার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতি রাফাহ এলাকায় ডজনখানেক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের দাবি অনুযায়ী, নিহতরা সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে আসছিলেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হয়, যা পরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে স্থগিত হয়। ওই আগ্রাসনে প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। গাজার অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৫৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৫৫৩ জন আহত হয়েছেন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তৎপরতায় উদ্বেগ

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গত সোমবার জর্ডানের রাজধানী আম্মানে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

এক প্রতিবেদনে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু, গতকাল জর্ডান সফরে গিয়েছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। সেখানে জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ (২) এর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক দখলদারিত্ব ও সম্প্রসারণবাদী তৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত সিদ্ধান্ত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে পশ্চিম তীর অঞ্চলে নিজেদের দখলদারিত্ব কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনাকে চিরতরে নস্যাৎ করাই তেল আবিবের উদ্দেশ্য।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বমূলক তৎপরতা শুধু দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং বিশেষ করে এ অঞ্চলের ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।’

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে থামাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ডে যাবতীয় দখলদারিত্ব কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আমি তাকে সেই ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এবং ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের স্বার্থে এ ইস্যুতে তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখলের পদক্ষেপে ট্রাম্পের বিরোধিতা

অধিকৃত পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিষয়ে ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা গত সোমবার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ বলে মনে করেন।

রয়টার্সের বরাতে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন যে একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখে এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এই নীতিতেই অটল রয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারি বাড়ানোর জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের অনুমোদিত এই নতুন নিয়মগুলোর মাধ্যমে অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্য জমি দখল করা সহজ হবে। বিশেষ করে হেব্রনের মতো বড় শহরগুলোতে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সরাসরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি মুসলিম প্রধান দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে একে ‘অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা মনে করে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পশ্চিম তীরের ওপর অবৈধ সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীল’ এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জনগণের নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকারকে খর্ব করছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার এবং স্পেনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরাইয়েলকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বা জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো একতরফা চেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলি মন্ত্রী স্মোট্রিচ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে চিরতরে কবর দেওয়া। তবে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে যে, ইসরায়েলের এই সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং দখলদারিত্ব গাজায় চলমান সহিংসতাকে আরও উসকে দিতে পারে এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।


মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন রণতরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সংলাপের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী চারটি উচ্চমাত্রার বিধ্বংসী বিশালাকৃতির যুদ্ধজাহাজ এবং বেশ কিছু রণতরী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানকে চাপে রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও বেশ কয়েকটি রণতরীর বহর আরব সাগরে পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও এ বহরের অন্যান্য রণতরীগুলো আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আরও ৩টি বিশাল আকৃতির যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এই যুদ্ধজাহাজগুলো হলো— ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসেন জেআর, ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস স্প্রুয়ান্স। এই তিনটি জাহাজই গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং একই সঙ্গে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ।

এই তিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম দু’টি বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে এবং শেষেরটি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এই তিন যুদ্ধজাহাজে আছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫ হাজার ৭০০ সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য।

এছাড়া পারস্য উপসাগর অঞ্চলেও টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে তিনটি উপকূলীয় সামরিক যুদ্ধজাহাজ— ইউএসএস সান্তা বারবারা, ইউএসএস ক্যানবেরা এবং ইউএসএস তুলসা। এই তিন যুদ্ধজাহাজ অবশ্য অপেক্ষাকৃত ছোটো।

বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ চার যুদ্ধজাহাজ ও বেশ কিছু রণতরীর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা ও স্থলভাগের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যেসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম টার্মিনাল হাই অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমও মোতায়েন করা হয়েছে সম্প্রতি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। প্রথম রাউন্ডের আলোচনা ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ‘আমি নিজেও এর কারণ বুঝতে পারছি না। তবে আমরা এতে ভয় পাচ্ছি না।’


থাইল্যান্ডের নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল, হতাশ তরুণ সংস্কারপন্থীরা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের দল ভূমজাইথাই। যদিও নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বেশিরভাগ জরিপে বলা হচ্ছিলো, নির্বাচনে সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টি এগিয়ে থাকবে।

কিন্তু ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, আনুতিনের দল প্রায় ১৯০টির বেশি আসন পেতে পারে এবং জোট সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে। ভূমজাইথাইর এই ভূমিধস বিজয় তরুণ সংস্কারপন্থীদের বড়-সড় এক ধাক্কা দিয়েছে।

থাইল্যান্ডের নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে থাইল্যান্ডের মিশ্র ভোটব্যবস্থা। দেশটির ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেন এবার। একটি নিজের এলাকার প্রার্থীর জন্য, আরেকটি পছন্দের দলের জন্য।

জাতীয় পর্যায়ে দলীয় তালিকার ভোটে পিপলস পার্টি প্রায় এক কোটি ভোট পেয়ে ভূমজাইথাইয়ের চেয়ে এগিয়ে ছিল, এখানে ভূমজাইথাই পেয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ভোট। যদিও ২০২৩ সালের তুলনায় এবার ৪০ লাখ ভোট কম পেয়েছে পিপলস পার্টি। সেই সময় এই দলের নাম ছিল মুভ ফরোয়ার্ড।

এখন এবার দলীয় তালিকার ভোটে ভূমজাইথাইয়ের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সমস্যা হলো, দেশটির সংসদের মোট ৫০০টি আসনের মাত্র ২০ শতাংশ আসে দলীয় তালিকা থেকে, আর বাকি ৮০ শতাংশ আসন নির্ধারিত হয় স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। যে এলাকায় যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন।

এই জায়গাতেই পিপলস পার্টি পিছিয়ে পড়ে। কারণ দলটি তুলনামূলক নতুন এবং শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে তাদের শক্ত সংগঠন নেই। অন্যদিকে, ভূমজাইথাই দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব রাখে, এমন ক্ষমতাশীলদের ধরে রাখতে দক্ষ।

আনুতিন অন্য দল থেকে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের দলে ভিড়িয়ে ২০১৯ সালে মাত্র ৫১ আসন পাওয়া একটি দলকে আজ জাতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী বিজয়ী দলে পরিণত করেছেন। এছাড়া, এবার সংস্কারপন্থীদের জন্য একক কোনো বড় ইস্যুতে আলাদা করে নজর কাড়াও কঠিন ছিল।

২০২৩ সালে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তখন দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। তখন সে সময় মুভ ফরওয়ার্ড পার্টি কারও সাথে আপস না করার ঘোষণা দিয়েছিল। তাদের এই অবস্থানের কারণে তখন তাদের পক্ষে বড় ধরনের জনসমর্থনের ঢেউ ওঠে।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে তেমন কোনো ইস্যু ছিল না। বরং, উল্টো রাজপরিবার অবমাননা আইন পরিবর্তনের যে দাবি তারা তুলেছিল, সেটিই পরে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়। এই আইনকে ভিত্তি করে মুভ ফরওয়ার্ড পার্টি ভেঙে দেওয়া হয় এবং দলের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। ফলে বাধ্য হয়ে সংস্কারপন্থীদের সেই সংস্কারমূলক প্রচারণা বন্ধ করতে হয়, যা আগের নির্বাচনে তাদের বড় শক্তি ছিল।

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া নতুন উত্তেজনা, সরানো হচ্ছে সীমান্তের শত শত বাসিন্দাকেথাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া নতুন উত্তেজনা, সরানো হচ্ছে সীমান্তের শত শত বাসিন্দাকে।

পাশাপাশি আনুতিন রক্ষণশীল ভোটারদের বড় অংশকে নিজের দলে একত্র করতে পেরেছেন। সীমান্ত ইস্যুতে কড়া জাতীয়তাবাদী অবস্থান, সেনাবাহিনীর প্রতি দৃঢ় সমর্থন এবং রাজার প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য তাকে থাইল্যান্ডের রক্ষণশীল রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে।

সব মিলিয়ে, থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে এবারের নির্বাচন একটি অপ্রত্যাশিত মোড় তৈরি করেছে।


অক্সফোর্ডে উন্মোচন হলো মালালার প্রতিকৃতি

মালালা ইউসুফজাই
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতিকৃতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি মার্গারেট হলে উন্মোচন করা হয়েছে। প্রতিকৃতিটি এঁকেছেন খ্যাতনামা প্রতিকৃতি শিল্পী ইসাবেলা ওয়াটলিং।

এই প্রতিকৃতি উন্মোচনের মাধ্যমে মালালার অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হলো। একই সঙ্গে এটি পাকিস্তানের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত, কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর মালালা হলেন দ্বিতীয় পাকিস্তানি নারী যার প্রতিকৃতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পেল।

অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অক্সফোর্ডের সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং মালালার পরিবার—তার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই, মা তূর পেকাই ইউসুফজাই, ভাই খুশাল খান ইউসুফজাই এবং স্বামী আসর মালিক।

জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালালা বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তার জন্য অনুপ্রেরণা। বেনজিরের প্রতিকৃতির পাশেই লেডি মার্গারেট হলে নিজের প্রতিকৃতি স্থান পাওয়াকে তিনি সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখছেন।’

মালালা বলেন, ‘বেনজির শুধু পাকিস্তানের নারীদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমি সব সময় তাকে শ্রদ্ধা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব দেশকে মানবাধিকারভিত্তিক নীতির ওপর কাজ করতে হবে এবং মুসলিম দেশগুলোরও তালেবানের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা করা উচিত।’ তার মতে, জ্ঞান অর্জন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই ধর্মের নামে কোনো মেয়েকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

মালালা বলেন, ‘আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা একটি অত্যন্ত ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তালেবান মেয়েদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তারা স্কুলে যেতে পারছে না।’

তিনি জানান, আফগান নারীরা ও মেয়েরা এখনো হাল ছাড়েনি। গোপন স্কুল ও অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আফগান মেয়েদের পাশে থাকার এবং পাকিস্তানিদেরও তাদের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানান।

মালালা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং ২০২০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষার একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকারকর্মী।


জাতিসংঘের গভীর আর্থিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও শান্তি রক্ষা মিশনের বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সৃষ্ট অচলাবস্থা এখনো নিরসন হয়নি। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, বকেয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও তা পরিশোধের দিনক্ষণ নিয়ে বিশ্ব সংস্থাটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষায় রয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসন বকেয়া অর্থের ‘প্রাথমিক কিস্তি’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সোমবার বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছে জাতিসংঘ। তবে বিপুল পাওনার কতটুকু এবং কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য দেখেছি। মহাসচিব এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আমাদের বাজেট নিয়ন্ত্রকও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা ঠিক কবে আর কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি।”

বকেয়া ফি সময়মতো আদায় না হওয়ায় ১৯৩টি দেশের এই অভিভাবক সংস্থাটি বর্তমানে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চরম হিমশিম খাচ্ছে। গত ২৮ জানুয়ারি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মহাসচিব গুতেরেস আসন্ন ‘আর্থিক ধসের’ বিষয়ে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিয়মিত বাজেটের মোট বকেয়া অর্থের ৯৫ শতাংশই এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু পর্যন্ত নিয়মিত বাজেটে ওয়াশিংটনের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৯ কোটি ডলারে। এর বাইরে শান্তি রক্ষা মিশনের জন্য বকেয়া ২৪০ কোটি ডলার এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য পাওনা ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজ গত শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, খুব দ্রুতই বকেয়া অর্থের একটি প্রাথমিক কিস্তি প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “খুব দ্রুতই আপনারা অর্থের একটি প্রাথমিক কিস্তি দেখতে পাবেন। এটি বার্ষিক পাওনার বিপরীতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ‘ডাউন পেমেন্ট’ হতে যাচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত অংকটি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে এটি কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার মাত্র।” তবে এই অর্থ গত বছরের বকেয়া নাকি ২০২৬ সালের অগ্রিম ফি হিসেবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি। তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন যে, এটি বকেয়া পরিশোধ এবং জাতিসংঘে সংস্কারের স্বীকৃতির অংশ হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর নিয়মিত বাজেটে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্থই পরিশোধ করেনি, যার ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৮২৭ মিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি ২০২৬ সালের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৬৭ মিলিয়ন ডলারও এখন বকেয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার মধ্যে মাত্র ৫৫টি দেশ তাদের নির্ধারিত ফি সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে। বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর এমন অনীহা জাতিসংঘের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।


সৌদি আরব ও সোমালিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও সোমালিয়া। লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত সোমালিয়ার কৌশলগত গুরুত্বকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সোমবার রিয়াদে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সামরিক প্রদর্শনীর পার্শ্ববৈঠকে দেশ দুটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে উপনীত হন। মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই রিয়াদ ও মোগাদিশু এই নতুন সামরিক অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হলো।

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়াল্লিম ফিকি এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এই ‘সামরিক সহযোগিতা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংক্রান্ত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রিয়াদের প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী চলাকালীন তিনি সোমালিয়ার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি দেশের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষে একাধিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। যদিও এই চুক্তির বিস্তারিত সব শর্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুয়েজ খাল ও ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে সোমালিয়ার অবস্থান হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো এই অঞ্চলের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সোমালিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সৌদি আরবের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন। এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক সমীকরণে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে প্রায় দেড় মাস আগে ইসরায়েল কর্তৃক সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি প্রদানের পর সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন মিত্রদের সাথে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে সোমালিল্যান্ড নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করলেও মোগাদিশু এখনো একে সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

সৌদি আরব ও সোমালিয়ার এই নতুন সামরিক জোট লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব দীর্ঘ সময় ধরে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে কাজ করে আসছে এবং সোমালিয়ার সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই একটি অংশ। দুই দেশের মন্ত্রীরা এই চুক্তিকে একটি টেকসই সামরিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং জলপথের নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার পথ প্রশস্ত করবে। রিয়াদের এই কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।


নির্বাচন ঘিরে ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি, ৯০ শতাংশই আসছে ভারত থেকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমন্বিতভাবে ছড়ানো বিপুল পরিমাণ ভুয়া তথ্য, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এই ভুয়া তথ্যের ৯০ শতাংশই একটি অংশের উৎস প্রতিবেশী ভারত।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ। ওই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা; যিনি পরে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে যান এবং তখন থেকে সেখানে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, অনলাইনে তথ্য বিকৃতির মাত্রা; বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি জটিল ছবি ও ভিডিও—এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে ভুয়া কনটেন্টের লাগাম টানতে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করতে হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত জানুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের কাছে ভুয়া তথ্য ঠেকানোর বিষয়ে সহায়তা চেয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন ঘিরে ‘ভুয়া তথ্যের বন্যা’ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভুয়া তথ্য বিদেশি গণমাধ্যম ও স্থানীয়—উভয় উৎস থেকে আসছে।’

এএফপি বলছে, এসব ভুয়া তথ্যের বড় একটি অংশ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশই অমুসলিম; যাদের বেশির ভাগ হিন্দু। এর ফলে অনলাইনে ব্যাপক হারে দাবি করা হচ্ছে, হিন্দুরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এসব পোস্টে ‘Hindu genocide’ (হিন্দু গণহত্যা) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত বাংলাদেশ পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশকে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ভারত থেকে সমন্বিত অপতথ্য প্রচার

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেইট বলেছে, তারা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে ‘হিন্দু গণহত্যা’ দাবি করে করা ৭ লাখের বেশি পোস্ট শনাক্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে এসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সংস্থাটির প্রধান রাকিব নায়েক বলেন, ‘আমরা অনলাইনে ভারত থেকে পরিচালিত সমন্বিত ভুয়া তথ্যের প্রচার শনাক্ত করেছি; যেখানে বাংলাদেশের হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এসব কনটেন্টের ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে ভারত থেকে। বাকিগুলো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা সংশ্লিষ্ট হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’

এএফপির ফ্যাক্ট চেক যেসব তথ্য যাচাই করে ভুয়া প্রমাণ করেছে, তার মধ্যে কিছু কিছু পোস্ট হাজার হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও; যেখানে এক নারী—যার একটি হাত নেই; তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। যেখানে বিএনপিকে নির্বাচনের অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরেকটি কম্পিউটার-জেনারেটেড ভিডিওতে এক হিন্দু নারী অভিযোগ করেন, একই ধর্মের মানুষদের দেশের প্রধান ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে বলা হয়েছে; নতুবা তাদের ভারত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এএফপি ফ্যাক্ট চেক টিম ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে শত শত এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিও শনাক্ত করেছে। এর বেশিরভাগ ভিডিওতেই এআই ব্যবহার কার হয়েছে এমন ডিসক্লেইমার বা সতর্কীকরণ বার্তা দেওয়া আছে।

শেখ হাসিনার অধীনে বছরের পর বছর ধরে চলা দমন-পীড়নের পরও এই অপতথ্যের ঢেউ দেখা দিয়েছে, যখন বিরোধী দলকে দমন করা এবং স্পষ্টবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ডিজিটালি রাইটের প্রধান মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অন্যান্য সময়ের তুলনায় আমরা এখন বিপুল পরিমাণ ভুয়া তথ্য লক্ষ্য করছি। তিনি বলেন, বিনামূল্যের এআই টুল সহজলভ্য হওয়ায় অত্যাধুনিক ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে গেছে’।

এআই দিয়ে তৈরি আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু বাংলাদেশি শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন; যিনি বর্তমানে পলাতক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার অনুপস্থতিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগে— আইপিএল-এ খেলা একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে দেশটির হিন্দুত্ববাদী কট্টরপন্থিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে তার দল কলকাতা নাইট রাইডার তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল চলতি মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোয় এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুয়া তথ্যের বড় অংশ ভারত-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে এলেও এমন কোনও প্রমাণ নেই যে, এসব ব্যাপক আকারের অনলাইন পোস্ট দেশটির সরকারি উদ্যোগে ছড়ানো হচ্ছে।

নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা বাংলাদেশে ‘চরমপন্থীদের’ হাতে সংখ্যালঘুদের ওপর ‘বারবার হামলার উদ্বেগজনক ঘটনা’ নথিভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি জোর দিয়ে বলেছে, ‘আমরা সব সময়ই অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি।’

‘বড় হুমকি’

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, তারা ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে কাজ করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ইউনিট গঠন করেছেন। তবে অনলাইনে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট মোকাবিলা করা একটি অন্তহীন কাজ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইউনিট যদি কোনও কনটেন্টকে ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করে; তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ভুয়া তথ্য হিসেবে ঘোষণা করি।’

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা জেসমিন তুলি বলেন, এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ছবি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে। আর গ্রামাঞ্চলেও এই হার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে অনেক মানুষই এখনও প্রযুক্তির ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে নতুন।

তুলি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য এটি বড় হুমকি। কারণ মানুষের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতা খুব বেশি নেই। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া দৃশ্য ও ভিডিওর কারণে ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হচ্ছে।’


লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবে শিশুসহ ৫৩ প্রাণহানী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে দুই শিশুসহ অন্তত ৫৩ নিখোঁজ হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের সবাই মারা গেছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

আইওএম জানায়, ৫৫ আরোহী বহনকারী নৌকাটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুয়ারার উত্তরে ভূমধ্যসাগরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর মাত্র দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, উদ্ধার হওয়া দুজনকে তীরে নামানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

আইওএম জানায়, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শরণার্থী ও অভিবাসীরা ছিলেন। নৌকাটি ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-জাওইয়া এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সাগরে ডুবে যায়।

আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্টের’ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিপজ্জনক সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুটে অন্তত ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। সর্বশেষ এ দুর্ঘটনায় চলতি বছর এ পথে মৃত বা নিখোঁজ শরণার্থী ও অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৪৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

আইওএমের বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু জানুয়ারিতেই চরম আবহাওয়ার মধ্যে সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ানে একাধিক ‘অদৃশ্য’ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে, কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্তই হয়নি।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এসব দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে থাকা প্রমাণ করে যে, ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় এমন বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে শরণার্থী ও অভিবাসীরা এখনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।


ভারত ও মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে সম্মত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এক নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশ দুটির মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং কৃষিখাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা তাদের বিদ্যমান ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। দুই দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দুই নেতা বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও শিল্প সহযোগিতার সম্ভাবনা সম্প্রসারণে ভারত ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে। মালয়েশিয়া–ইন্ডিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং আসিয়ান–ইন্ডিয়া ট্রেড ইন গুডস অ্যাগ্রিমেন্টের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উভয় দেশের শিল্প খাতকে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের হিসাব ও নিষ্পত্তি বাড়ানোর জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার পাশাপাশি টেকসই পাম তেলের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন এবং সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রায় ২৭.৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


চাঁদে শহর গড়তে চান ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চাঁদে হবে শহর! শুনতে অবাক করার মতো হলেও এমনটি করতে যাচ্ছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তিনি বলেছেন, আমার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স চাঁদে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি শহর’ গড়ে তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, চাঁদে ১০ বছরের কম সময়ের মধ্যে শহর গড়ে তোলা।

গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইলন মাস্ক নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি জানান, ৫-৭ বছরের মধ্যে স্পেসএক্স এখনো মঙ্গল গ্রহে শহর গড়ে তোলার সেই দীর্ঘদিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধরে রেখেছে। তবে আমাদের বর্তমান প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে সভ্যতাকে সুরক্ষিত করা এবং চাঁদে দ্রুত পৌছানো।

এর আগে গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে স্পেসএক্স বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, তারা এখন চাঁদকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা মঙ্গল গ্রহে অভিযান ভবিষ্যতের অন্য কোনো সময়ের জন্য তুলে রাখবে।

রয়টার্স বলছে, ২০২৭ সালের মার্চে চাঁদে মানববিহীন মহাকাশযান অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে এক সপ্তাহ আগে মাস্ক ঘোষণা করেন, স্পেসএক্স তার নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ‘এক্সএআই’কে কিনে নিয়েছে। এই চুক্তিতে রকেট ও স্যাটেলাইট কোম্পানিটির (স্পেসএক্স) মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ডলার। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাটির (এক্সএআই) দাম ২৫ হাজার কোটি ডলার।


ইউক্রেনকে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দু’জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবুধাবির সেই বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনকে দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছেন।

রয়টার্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বলেছি যে আমরা দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাই। আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।’

এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, তবে কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে চাননি

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের মে মাসের নির্বাচনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলেনস্কি। তার সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের মে মাসে।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একের পর এক ডিক্রি জারি করে সামরিক শাসনের মেয়াদ বাড়িয়ে এখনও ক্ষমতায় আছেন তিনি।

৩১৪ বন্দি বিনিময় করল রাশিয়া- ইউক্রেন

তিন মাসেরও বেশি সময় পর আবারও বন্দি বিনিময় করেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার উভয় দেশই ১৫৭ জন করে মোট ৩১৪ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সাধারণ নাগরিকরাও রয়েছেন। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনার দ্বিতীয় দিনে বন্দি বিনিময়ের এই ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরইমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ভেতরে ড্রোন হামলার জন্য রাশিয়া যে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করছিল, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই পরিসংখ্যানের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এর আগে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তখন তিনি নিহতের সংখ্যা ৪৩ হাজার বলে জানিয়েছিলেন।

ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা, পেশাদার কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তসহ ৫৫ হাজার।

শুধু ট্রাম্পই যুদ্ধ থামাতে পারেন’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের মুখোমুখি বৈঠকে বসতে হবে, যাতে শান্তি আলোচনায় বাকি থাকা সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর সমাধান করা যায়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই যুদ্ধে অবসান ঘটাতে পারেন।

সিবিহা বলেন, ইউক্রেন চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান দ্রুত ঘটাতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার গতি কাজে লাগাতে চায়। কারণ, নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় সামনে এলে আলোচনায় প্রভাব পড়তে পারে। সিবিহা বলেন, শুধু ট্রাম্পই যুদ্ধ থামাতে পারেন।

তিনি জানান, শান্তির জন্য তৈরি ২০ দফা পরিকল্পনার মধ্যে এখন মাত্র কয়েকটি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। তবে সেগুলোই সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং কঠিন, যা কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব।

ভূখণ্ড ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি ২০ শতাংশ এলাকা ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে, যা কিয়েভ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ, যা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

এই সপ্তাহে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফায় বড় কোনো অগ্রগতি না হলেও, বৃহস্পতিবার ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দির বিনিময় হয়েছে—গত অক্টোবরের পর এটি প্রথম বন্দিবিনিময়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে মায়ামিতে নতুন দফা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ইউক্রেন এতে সম্মত হয়েছে।

সিবিহা বলেন, আমাদের কাছে গতি আছে, এটা সত্য। এখন শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত ও জোরদার করতে হবে, এবং আমরা দ্রুত এগোতে প্রস্তুত।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া মাত্র প্রায় ১.৩ শতাংশ নতুন এলাকা দখল করতে পেরেছে।

ইউক্রেন চায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলোর শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

সিবিহা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে এবং শান্তিচুক্তিকে সমর্থন দিতে একটি ‘ব্যাকস্টপ’ ব্যবস্থা থাকবে। তবে ইউক্রেনে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, কিছু দেশ এরই মধ্যে ইউক্রেনে প্রতিরোধমূলক বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুতি জানিয়েছে, যদিও তিনি তাদের নাম প্রকাশ করেননি।


জাতীয়তাবাদের জোয়ারে থাইল্যান্ডে ভুমজাইথাই পার্টির বড় জয়

আপডেটেড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল চেতনার অভাবনীয় জয়জয়কার পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশটিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। সেনাবাহিনী সমর্থিত এবং রাজতন্ত্রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই দলটির জয় মূলত থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, তা ভোটারদের রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী শক্তির দিকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করেছে। বিজয়ী দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন এখন একটি শক্তিশালী জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০টি আসনের মধ্যে ভুমজাইথাই পার্টি প্রায় ২০০টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা পায়নি, তবে বৃহত্তম দল হিসেবে জোট গঠনের ক্ষেত্রে তারাই এখন মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী ‘পিপলস পার্টি’ ১২০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফেউ থাই পার্টি’-র নজিরবিহীন বিপর্যয়। গত নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার করলেও এবার তারা তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি এই রাজনৈতিক পতনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের সাধারণ ভোটাররা এবার বড় ধরনের সংস্কারের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পরিচিত অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিরত আলীর ভাষ্যমতে, আগামী কয়েক মাস থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী মেজাজ এবং কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের ভেতরে সক্রিয় থাকা বিশাল সাইবার অপরাধ চক্রকে নির্মূল করা। এছাড়া দুর্নীতির দায়ে বর্তমানে এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করা থাকসিন সিনাওয়াত্রার আগাম মুক্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টিও আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বে থাইল্যান্ডে আবারও একটি স্থিতিশীল কিন্তু রক্ষণশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে রয়েছে।


৩৭ বছরের প্রথা ভেঙে বিমান বাহিনীর সভায় অনুপস্থিত খামেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক অনন্য নজির ভেঙে দেশটির বিমান বাহিনীর বার্ষিক সভায় অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে আসছিলেন খামেনি। এমনকি বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির চরম সংকটের সময়েও তিনি এই ঐতিহ্যবাহী দিবসটি পালন থেকে বিরত থাকেননি। তবে গত রবিবার অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সভায় খামেনির আকস্মিক অনুপস্থিতি এবং তাঁর পরিবর্তে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভির অংশগ্রহণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি দিনটি ইরানি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বিমান বাহিনীর একদল সদস্য ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন, যা দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণে প্রতি বছর বিমান বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ও কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করেন। টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই প্রথায় প্রথমবারের মতো খামেনির অনুপস্থিতি ইরানি প্রশাসনের ভেতরে বড় কোনো পরিবর্তনের বা আসন্ন কোনো সংকটের আভাস দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এই অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে বর্তমানে নানা গুঞ্জন চাউর হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বর্তমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এই জল্পনার মূলে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইরানের ওপর তুমুল হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলও ইরানে সরকার পতনের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খামেনির জনসম্মুখে না আসা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় খামেনিকে হয়তো অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আবার খামেনির বয়স ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই অনুপস্থিতিকে নিছক স্বাস্থ্যগত কারণের চেয়ে কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিষয়ে সরাসরি কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করায় ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। যুদ্ধের দামামা এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে খামেনির এই প্রথাভঙ্গ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সর্বোচ্চ নেতার এমন রহস্যজনক নীরবতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।


banner close