পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্য সিকিম ও প্রতিবেশী দেশ নেপালে এক নাগাড়ে বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। সে কারণে এরই মধ্যে গজোলডোবা বাঁধ থেকে পানি ছাড়া হয়েছে। পানির স্তর বেড়েছে উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীতেও। নদীর পাড় উপচে বেশ কিছু অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আবারও কেন্দ্রীয় সরকারকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বন্যা পরিস্থিতি দেখতে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, কেউ খবর নেয়নি। কেউ এক পয়সাও দেয়নি। একমাত্র আমরাই বন্যার টাকা থেকে বঞ্চিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অভিযোগ করে বলেন, ডিভিসি কোনো সর্তকতা ছাড়াই ইচ্ছামতো পানি ছাড়ে। ফারাক্কা ব্যারেজে ঠিকমতো ড্রেজিং করে না কেন্দ্র। তাই পলি জমেছে। ফলে ওই ব্যারেজে জলধারণের ক্ষমতা কমছে।
পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির জন্য নেপালকে দায়ী করে মমতা ব্যানার্জী বলেন, নেপাল যে কোশি নদীর পানি ছেড়েছে সেই পানি বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। এর ফলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শুরু করে ইটাহারের কিছু জায়গায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে রাত ১২টা থেকে পুলিশ মাইকিং করেছে এবং সবাইকে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিহারেও বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নেপালে পানিতে বিহারও ভাসবে এবং পশ্চিমবঙ্গও ভাসবে। ফারাক্কায় ড্রেজিং করে না আজ ২০ বছর হয়ে গেছে। যদি ফারাক্কায় এই পানি ধরে রাখতে পারত, তাহলে মালদহে বন্যা হতো না।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক শক্তির মাধ্যমেও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ‘ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়’। গুতেরেস বলেছেন, ‘কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ- তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।’
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়। বরং শান্তির জন্য ‘সংযমের উপস্থিতি’ প্রয়োজন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বক্তব্যে গুতেরেস বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামো তিনটি প্রধান উপায়ে বদলে যাচ্ছে।
প্রথমত, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন নতুন ‘অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র’ গড়ে উঠছে। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা ক্রমেই বেসরকারি করপোরেশন ও ব্যক্তিদের হাতে চলে যাচ্ছে ।
তৃতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে ক্ষমতা মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের হাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর মধ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের’ উন্নয়নও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, এসব পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বিশ্বের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এ ছাড়া বক্তব্যের শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের বিশ্বের বিভাজনরেখাগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে।’
যুদ্ধ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সৃষ্ট নানা ধরনের পরিবর্তন ও সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এগুলো আলাদা আলাদা সংকট নয়।’ তিনি বলেন, ‘এগুলো একই গল্পের বিভিন্ন অধ্যায়। ক্ষমতার গল্প। কার হাতে ক্ষমতা আছে? আর কাকে সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের অনুমোদন বা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর একটি অনুলিপি মঙ্গলবার ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ আলম সিয়ামকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য এক মাসেরও বেশি আগে ভারতের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ হলো কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে গ্রহণে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতি। এই সম্মতি পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগোয়।
বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিতে পারেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
আসাদ আলম সিয়াম একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ২০২৫ সালের ২০ জুন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি অস্ট্রিয়া ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অস্ট্রিয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায়ও তার সমবর্তী দায়িত্ব ছিল। ফিলিপাইনে দায়িত্ব পালনের সময় পালাউসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্বও পালন করেন।
এর আগে তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং জাকার্তা ও ব্যাংককে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশনসের দায়িত্ব উল্লেখযোগ্য।
জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাতে রাজধানী টোকিওর আশপাশের এলাকায় হাজারো বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই প্রবল ঝড়ের কারণে অন্তত দুজনের মৃত্যু ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সকালে টাইফুনটি জাপানের উপকূল থেকে সরে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে চলে যায়। এরপর ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের অধিকাংশ সতর্কতা প্রত্যাহার অথবা শিথিল করে কর্তৃপক্ষ।
দুজুয়ানের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই টোকিও গেম শো ২০২৬ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি একটি ভিডিও গেম সংক্রান্ত বাণিজ্য মেলা। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মেলায় অংশ নিতে এই খাতের সংশ্লিষ্টরা টোকিও আসেন।
গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুতে জাপানে প্রায়ই শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানে। চলতি মৌসুমের অন্যান্য ঝড়ের কারণে দেশটিতে চলমান এশিয়ান গেমসের কিছু আয়োজনও ব্যাহত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, টোকিওর কাছে কানাগাওয়া প্রিফেকচারে একজনের প্রাণহানি হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টোকিওর কাছে অবস্থিত চিবা প্রিফেকচারে ৪৬ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল। উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দুজুয়ান দুর্বল হয়ে পড়লেও টোকিওর কিছু এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
টোকিওর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ওশিমা দ্বীপে ৪৮ ঘণ্টায় ৮৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো সেপ্টেম্বর মাসে দ্বীপটির গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এই পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।
টোকিওর এদোগাওয়া ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টায় ২৮২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারি বৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক সাইডলাইন বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৃথকভাবে এ দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন নেতারা। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ ও কল্যাণকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ, ভুটান ও মালদ্বীপের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। তিন দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবেই ভুটান ও মালদ্বীপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে বিদ্যমান সহযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন নতুন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে নেতারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক সফরে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে দুই পক্ষের অংশীদারত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনাতেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এ সফরে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকটি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও পরবর্তী সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে আটটি যুদ্ধ বন্ধে নিজের ভূমিকার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ‘অসাধারণ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর হস্তক্ষেপে ৩ কোটি বা তারও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে শেহবাজ তাকে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধের মীমাংসায় ভূমিকা রেখেছেন। এসব সংঘাত বন্ধ করা তাঁর জন্য সম্মানের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর ভূমিকার কারণে ৩ কোটি বা তারও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ট্রাম্প শেহবাজকে ‘টেরিফিক ম্যান’ বা ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের সামরিক সংঘাত হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাঁর প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থেমেছিল। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণেও তিনি একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে হয়েছিল; এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ভূমিকার দাবি ভারত স্বীকার করেনি।
ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়লে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন হস্তক্ষেপ সেই পরিস্থিতি এড়াতে সহায়তা করেছে।
জাতিসংঘে ভাষণের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ একাধিকবার টানেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব দেশের সংঘাত নিরসনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন, সেসব দেশের নেতারা তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
শেহবাজ শরিফ বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ছাড়াও অন্যান্য যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসানে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে এসব সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা প্রত্যক্ষ ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যঙ্গ করে অভিনয় করার পর অব্যাহত হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন কমেডিয়ান পুলকিত মণি। এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশের নয়ডা, লখনৌ ও কানপুরে তার নির্ধারিত শো বাতিল হয়েছে। পুলকিতের দাবি, লখনৌ ও কানপুরের অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে ‘বারবার হুমকির’ কারণে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন পুলকিত। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গভঙ্গি ও কথাবলার ধরন নকল করে ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা করেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের পর বিজেপির একাধিক নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতারা পরিবেশনাটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও কৌতুক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
এর মধ্যেই পুলকিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শো বাতিলের ঘোষণা দেন। প্রথমে নয়ডার অনুষ্ঠান ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির’ কারণে বাতিলের কথা জানান তিনি। পরে পৃথক পোস্টে লখনৌ ও কানপুরের শো বাতিলের কারণ হিসেবে ‘বারবার হুমকি’র কথা উল্লেখ করেন। তবে হুমকিদাতাদের পরিচয় বা বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
তিনটি অনুষ্ঠান তিনি নিজে বাতিল করেছেন, নাকি আয়োজকরা বাতিল করেছেন—এ বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনে স্পষ্টতা নেই। তবে পুলকিতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা পরিবেশনাটির সমালোচনা করলেও কংগ্রেসপন্থী নেতারা এটিকে কৌতুক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন। ফলে পুলকিতের শো বাতিলের ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও মতপ্রকাশের পরিসর নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি হবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এবং অন্যটি পূর্ব উপকূলে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে যে এলাকায় নতুন ঘাঁটিটি করা হবে, সেখানে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান নামের একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল।
এ ছাড়া, পূর্ব উপকূলে যে ঘাঁটিটি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে বর্তমানে ডেনমার্কের ডগ স্লেজ টহল বাহিনীর একটি সামরিক ফাঁড়ি রয়েছে। এই দুই ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।
তিনজনের মধ্যে দু’জন জানিয়েছেন, ঘাঁটি দুটির একটি নারসারসুয়াকে। সেখানে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যটি মেস্টারসভিগে। সেখানে বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর ইউনিট সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রলের ফাঁড়ি রয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির মূল খসড়া এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, চুক্তি সই হওয়ার আগ পর্যন্ত এর বিস্তারিত চূড়ান্ত হবে না। এদিকে, রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি আগের একটি বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত ও শক্তিশালী হবে’।
ডেনমার্কের ভাষ্যমতে, এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর না থেকে সামরিক জোট ন্যাটোর আওতায় আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন। ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি মাঝেমধ্যে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষই এমন ধারণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের এমন হুমকির কারণে গত জানুয়ারি মাসে ন্যাটো জোটের ভেতরে এক কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়। সেই চাপ কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকত। বর্তমানে সেখানে শুধু পিটুফিক স্পেস বেস টিকে আছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বাড়ছে এবং সংঘাতগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে মহাসচিব হিসেবে নিজের শেষ ভাষণ দেওয়ার আগের দিন গত সোমবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক সংঘাত এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “যুদ্ধগুলোতে ‘পরাশক্তি’ এবং নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি সংকট তৈরি করেছে।” গুতেরেসের মতে, এর ফলে এমন এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেখানে মাঝারি শক্তির দেশগুলোও মনে করছে যে, তারা যা খুশি করতে পারে এবং এর জন্য তাদের কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে খাদ্যপ্রাপ্তি, জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা তুলে ধরেন গুতেরেস।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষিপণ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানিতে কৃষ্ণসাগরকেন্দ্রিক যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে চলমান সংকট, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সমস্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেল স্থাপনায় হামলা যোগ হয়েছে।’
এসব পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাব বিশ্বের বহু অর্থনীতির ওপর ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, “উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ ক্রমেই ‘মরিয়া পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সারের সংকট তাদের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করছে।”
পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাবেক শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার গুতেরেস ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
তার উত্তরসূরির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গুতেরেসের মতে, একাধিক সংকটে জর্জরিত জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর রাখতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি। গুতেরেস বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এখনো মূলত ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে’।”
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বাস্তবতার সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর সামঞ্জস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের দাবি রয়েছে।
পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন?
গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফের্নান্দা এসপিনোসা।
জাতিসংঘের মহাসচিব পদে কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এর কোনো একটি দেশের ভেটোও এড়াতে হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হন।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই কথা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে, তারা কূটনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তার একটি সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।’
এর আগে গত রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছিল, তারা জানতে পেরেছে—যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জবাবে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘কোনো সীমাবদ্ধতা বা বিবেচনা ছাড়াই’।
ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি পুনরায় শুরুর জন্য নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বর্তমানে ইরানের প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়েছে।
তবে রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা যেতে পারে।’ তেহরানের প্রস্তাব গত বুধবার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফিরে আসার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটি সুবর্ণ সুযোগ।’ তবে তেহরান কূটনীতি পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী হলেও এর জন্য ওয়াশিংটনকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ ও ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। এদিন বিমানে ওঠার আগে তাদের দেশটির সামরিক বাহিনী সম্মান প্রদর্শন করে।
এদিকে ইরানি প্রেসিডেন্টকে ভিসা দিলেও; তার মিডিয়া টিমের অনেককে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। আর এ বিষয়টিকে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। মার্কিনিদের সঙ্গে ইরান এখনো যুদ্ধে লিপ্ত আছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এ যুদ্ধই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের মিডিয়া টিমের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসি বার্তাসংস্থা মেহের নিউজকে জানিয়েছেন, যাওয়া-আসাসহ পেজেশকিয়ানের সফরটি মোট পাঁচদিনের হবে। এ ছাড়া নিউইয়র্কে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানিয়েছেন আব্বাসি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্টের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ভিসা না দেওয়ার ঘটনাটি ঘটল; বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে—যা জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত জলপথ—চলাচলসংক্রান্ত মতপার্থক্যের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।
প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই। গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিন গাজায় কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। সে সময় ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন নিহত হন।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, নিহতদের একজন আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুলেটিন অনুসারে, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত কিশোরটি ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মধ্য গাজায় মৃত্যুর সড়ক নামে পরিচিত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে। গাজার উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌযান থেকে। এতে তিনজন জেলে আহত হন।
যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে গত রোববার রাতেও। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে অন্তত চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এই এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয় এবং এতে মানুষ আহত হন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো পালাক্রমে বক্তব্য দেয়। কেবল প্রয়োজন হলেই কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী, ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে সাধারণ বিতর্কে প্রথম বক্তব্য দেন ব্রাজিলের সরকারপ্রধান। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর শুরুর বিতর্কগুলোতে কোনো দেশ আগে বক্তব্য দিতে চাইত না। তখন ব্রাজিল এগিয়ে আসে। এরপর থেকে তারাই প্রথমে বক্তব্য দিয়ে আসছে।
সংস্থাটির সদরদপ্তর নিউইয়র্কে হওয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বক্তব্য দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বক্তব্য দেওয়ার তালিকা তৈরি হয় পদমর্যাদা ও ‘আগে এলে আগে’ নীতি অনুসরণ করে। সাধারণত নেতাদেরকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়।
প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অধিবেশন শুরুর সময় একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। নেতারা বক্তব্যের শুরুতে সংক্ষেপে প্রতিপাদ্য নিয়ে কথা বলেন। এরপর নিজেদের পছন্দের যেকোনো বিষয়ে বক্তব্য দেন। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য একটি কার্যকর জাতিসংঘ।’
সাধারণ বিতর্ক পর্বের সাইডলাইন বৈঠকে নেতারা যেসব বিষয়ে বক্তব্য ও আলোচনা করতে পারেন, সেগুলো তুলে ধরা হলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
প্রযুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরির দুই সপ্তাহের মাথায় সাধারণ পরিষদে উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক হতে যাচ্ছে। খাতটির শীর্ষ নির্বাহীরা এরইমধ্যে দ্রুত উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এআই শিগগিরই নিজে নিজে উন্নত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা যায় না। তাই বিশ্বনেতাদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিনি আরও বলেন, ‘এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এর মাধ্যমে ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।’
ইরান যুদ্ধ
আজ বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্য দেওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা দেশগুলোর নেতারাও অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন। তবে স্থবির হয়ে পড়া কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদ আরব নেতাদেরকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করতে পারে। সেখানে ইরান যুদ্ধ আলোচনার মূল বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ
দেশটিতে চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার আগ্রাসন চলছে। যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন আরও জোরালো করার চেষ্টা করবেন।
আজ বুধবার জেলেনস্কির বক্তব্য দেওয়ার কথা। অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বক্তব্য দেবেন আগামী শনিবার। দুই দেশের সংঘাত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদও পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় পরিষদ এখনো যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে না পারায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় হতাশা প্রকাশ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। নিউইয়র্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মনে করেন, নেতানিয়াহু শহরটিতে পৌঁছালে গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু গত জুলাইয়ে তিনি আইনি ক্ষমতা না থাকার কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি মামদানি বলেন, ‘নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো বিক্ষোভেও তার অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে নিউইয়র্কবাসীর বিক্ষোভ করার অধিকারকে তিনি সম্মান করেন।’
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সশরীরে বিতর্কে উপস্থিত থাকবেন না। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেয়নি। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন।
নতুন মহাসচিব নির্বাচন
জাতিসংঘ নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখনো কেউ পদটিতে বসার দৌড়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আগামী ৩১ ডিসেম্বর আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে এবারের অধিবেশনে নতুন মহাসচিবের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
সুদানের সংঘাত
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সুদান সংঘাত নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাত চলছে। এতে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অর্জনে বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। তাই ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী দেশগুলো আবারও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে ইরানের নতুন ও অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব ‘অবাক’ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মোহেব্বি বলেছেন, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা কৌশলে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে থাকবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বৃদ্ধি এবং নতুন ধাঁচের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন সক্ষমতার আধুনিক অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নামব, যা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে।’
ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু আগের মতো এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু আগের আক্রমণ করা স্থানগুলোর মতো হবে না। আমরা নতুন কিছু স্থান চিহ্নিত করেছি, যেখানে এখনও হামলা চালানো হয়নি।’
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, “যুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক ও অপমানজনক’ পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।” তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে হেরে গেছে এবং তা অত্যন্ত অপমানজনক এক ঐতিহাসিক পরাজয়। কিন্তু এই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো সাহস ওয়াশিংটনের নেই।’
মার্কিন পরাজয়ের প্রমাণ হিসেবে তিনি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করেও এই জলপথ পুনরায় চালু করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’।”
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যে বিনিয়োগ করা হয়েছিল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে, ইরানি হামলার পর তা উল্টো ‘চরম নিরাপত্তাহীনতার’ কারণ হয়ে উঠেছে।”
মোহেব্বি বলেন, “পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এসব হামলা প্রমাণ করে, ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের হাতের নাগালে রয়েছে এবং এটি ওয়াশিংটনের জন্য ‘বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা’।”
আল জাজিরা বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মধ্যস্থতা করছে কাতার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে বলেছেন, আলোচনা ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
উভয় পক্ষের মতপার্থক্য কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।