সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে হেলেনের তাণ্ডব, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় হেলেনের তাণ্ডব। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৫২

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় হেলেনের তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১ জনে পৌঁছেছে। শক্তিশালী এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নর্থ ক্যারোলিনা। সেখানে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরিডার বিগ বেন্ড এলাকায় ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার বেগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আঘাত হানে ৪ ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড় হেলেন। এরপর সেটি জর্জিয়া, ক্যারোলিনা এবং টেনেসির দিকে অগ্রসর হয়। এর প্রভাবে সেসব অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে নদী-খাল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং টেনেসি- এই পাঁচটি রাজ্যের অনেক শহর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির প্রশাসক ডিন ক্রিসওয়েল বলেন, অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির লাইন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুটসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, পাঁচটি রাজ্যজুড়ে উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ঝড়-বন্যায় নর্থ ক্যারোলিনায় ৩৭ জন, সাউথ ক্যারোলিনায় ২৫ জন, জর্জিয়ায় ১৭ জন, ফ্লোরিডায় ১১ জন এবং ভার্জিনিয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুনকোম্ব কাউন্টির শেরিফ কুয়েন্টিন মিলার বলেছেন, আমরা আরও খারাপ খবর পাচ্ছি। আমাদের কাউন্টিতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো বন্যা সতর্কতা জারি রয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবারের আগে আবহাওয়ার উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, প্রায় ২৫ লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আবারো সচল করতে কয়েকদিন পর্যন্ত লেগে যাবে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা করছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সহায়তা বৃদ্ধি এবং দুর্গম এলাকায় সাহায্য পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মুডি’স অ্যানালিটিক্সের অনুমান, এই ঘূর্ণিঝড়ে সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ থেকে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। আকুওয়েদারের হিসাব মতে, হ্যারিকেন হেলেনের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৯৫০ থেকে ১১শ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।


নির্বাচিত

স্পেনে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৪ সালে দেশ ছেড়েছেন ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। এরপর থেকে দুই বছর ধরে ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিসর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া পাড়ি দিয়েছেন। এর অধিকাংশই হেঁটে পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। মরুভূমিতে তৃষ্ণায় প্রাণ হারাতে দেখেছেন অনেক সহযাত্রীকে। এখন তার ঠাঁই হয়েছে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায়। চাচ্ছেন আশ্রয়। সেউতার এক সৈকতে বিক্ষোভ করছেন মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের মতো শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী। মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে তাদের স্পেনে আশ্রয় দিতে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপকভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মাত্র ৮০ হাজার জনগোষ্ঠীর এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডটিতে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ অনধিকার প্রবেশ করে। পরবর্তী কয়েক দিনে তাদের বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও রয়ে গেছেন আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। শহরের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় অধিকাংশ অভিবাসী মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় এল ত্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলআরুদ বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছি। এখানে মারাত্মক ঠান্ডা আর দুর্গন্ধ। আমরা অনেক কষ্টে আছি। পুলিশও শহরে দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।’স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যানারে লেখা, ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। তাঁরা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’ এমন স্লোগানও দেন।

বিক্ষোভকারীদের পেছনে দেখা যায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেউ পাথুরে তীরে কাপড় ধুচ্ছিলেন, আবার কেউ বাঁশের তৈরি ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার বা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।

এদিকে সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা ওন্দা সেরো রেডিওকে জানান, শহরের সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।

রোভিরাল্তা আরও বলেন, ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও হু হু করে বাড়ছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানান, স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ রয়েছে তবে তা ভেঙে পড়েছে এ কথা সত্য নয়। আর অভিবাসনের সঙ্গে রোগব্যাধিকে যুক্ত করা অন্যায্য ও জেনোফোবিক। অভিবাসীদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মাঝারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে তা কম।

সেউতায় অপেক্ষমাণ অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীই মরক্কোর। তারা রয়টার্সকে জানান, তাদের দেশে কাজের পরিবেশ খারাপ হওয়ায় তাঁর ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকেরই উচ্চতর যোগ্যতা রয়েছে।

ফেজ শহরের ৩৯ বছর বয়সী অটোমেশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওয়ানজার বলেন, মাসে গড়ে ৩ হাজার দিরহাম (৩২৪ ডলার) আয় করে তার পক্ষে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মাটিতে পৌঁছানোর পর আমার মনে হয়েছে, আমি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছি। ফিরে যাওয়ার চেয়ে আমি বরং মরতে চাই।’

সংঘাতকবলিত উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ৩০ বছর বয়সী ইমানুয়েল পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। সন্তানদের অপহরণের আশঙ্কায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নাইজার, আলজেরিয়া ও মরক্কো হয়ে চার মাসের একটি ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জন্য আরও ভালো জীবনের লড়াই করছি।’ তিনি আরও জানান, যে কাজই তাকে দেওয়া হোক, তিনি তা করতে প্রস্তুত।

দক্ষিণ সেনেগালের উসমান জানান, তার যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন। তবে তিনি যেসব স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর পাননি। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সারাদিন কিছুই না করে বসে বসে ইমেইল চেক করা এবং উত্তরের অপেক্ষা করা।’


নির্বাচিত

ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ২৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিপাইনে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর পাশাপাশি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লুইস’ ও ‘মায়মে’-র প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রলয়ংকরী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (এনডিআরআরএমসি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় দুটির প্রভাবে ফিলিপাইনের বিস্তৃত অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যা মূলত লুজন দ্বীপ এবং ভিসায়াস অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপকূলীয় ও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে এবং অসংখ্য সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এনডিআরআরএমসি জানিয়েছে, জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক এলাকায় সড়ক, সেতু ও আবাদি জমি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলগুলো বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিচু এলাকা ও ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে কাজ করে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ইসরাইলি মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার উস্কানিমূলক আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, কেবল তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদেরই নয়, বরং আরও অনেক ফিলিস্তিনিকে সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করা উচিত। গত রবিবার প্রকাশ্যে আসা একটি পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভীর এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা পরবর্তীতে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পডকাস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে লক্ষ্য করে নিধন অভিযান চালানো প্রয়োজন। এই অভিযান শুধুমাত্র যারা ওই মুহূর্তে হুমকি তৈরি করছে, তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলে তিনি মত দেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি চরম অবমাননাকর মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, গাজায় এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা তাঁর ভাষায় ‘বেঁচে থাকার যোগ্য নয়’ এবং ‘তারা মানুষও নয়’। বেন-গভীর বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতির আবহে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামরিক হামলা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এর পরিবর্তে পুনরায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বা ‘টার্গেটেড কিলিং’ শুরু করার পক্ষে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা তাঁর নেই, তবে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে তিনি যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের পুলিশ ও কারা ব্যবস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্বরত। আলোচনায় ইসরায়েলে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ড আইন নিয়েও কথা বলেন তিনি, যেখানে ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ব্রাসলাভস্কি যখন তাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন জবাবে বেন-গভীর বলেন, সেই সুযোগ করে দিতে তিনি ‘দুনিয়া উল্টে দেবেন’ এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবেন। এছাড়াও তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করে সেখানে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য উৎসাহ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। নিজের আগ্রাসী মনোভাব ব্যক্ত করে তিনি আবারও দাবি করেন যে, ‘পুরো গাজাই আমাদের’।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে, ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিতভাবে গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বেন-গভীরের এই ধরণের উগ্র বক্তব্য নতুন কিছু নয়; কৈশোরে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত কাহানিস্ট জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তিনি বন্দি ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর এই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।


নির্বাচিত

ওমরাহ ভিসাধারীদের জন্য সৌদি আরবের নতুন নিয়ম জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরব সফরকারী ওমরাহ যাত্রীদের জন্য একাধিকবার প্রবেশের সুবিধাযুক্ত (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ওমরাহ ভিসার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ভিসার মেয়াদ এক বছর বা ৩৬৫ দিন থাকলেও প্রতিবার সৌদি আরবে প্রবেশের পূর্বে অনুমোদিত সার্ভিস প্যাকেজ বুকিং এবং ‘নুসুক’ (Nusuk) অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত রবিবার (১৬ আগস্ট) সৌদি কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

নতুন এই নিয়ম অনুসারে, মাল্টিপল ওমরাহ ভিসাধারীদের প্রতিটি পৃথক সফরের আগে ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনুমোদিত কোনো সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে সার্ভিস প্যাকেজ ক্রয় করতে হবে। একই সাথে সৌদি আরবে পদার্পণের আগেই নুসুক অ্যাপ থেকে একটি ডিজিটাল ওমরাহ পারমিট সংগ্রহ করে সাথে রাখতে হবে। এই পারমিটে উল্লিখিত তারিখের সাথে তাঁদের ক্রয়কৃত সার্ভিস প্যাকেজের তারিখের মিল থাকা আবশ্যক।

উল্লেখ্য যে, গত জুলাই মাসে প্রবর্তিত এই বিশেষ ওমরাহ ভিসা এক বছর মেয়াদী হলেও এর অধীনে একনাগাড়ে বা কিস্তিতে সর্বমোট ৯০ দিনের বেশি সৌদি আরবে অবস্থান করা যাবে না। সৌদি সরকারের দাবি, ওমরাহ পালনকারীদের যাত্রা ও সময়সূচি আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভিসা থাকলেই যখন-তখন সরাসরি প্রবেশের সুযোগ আর থাকছে না; বরং প্রতিবার ভ্রমণের জন্য নতুন করে যোগ্যতা যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

প্রথমবার ওমরাহ পালনকারীদের ক্ষেত্রে শুরুতেই নুসুক প্ল্যাটফর্ম থেকে প্যাকেজ কিনে ভিসার আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় তাঁদের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রস্থানকালে তা হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে পর্যটক বা ওমরাহ পালনকারী তাঁর নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে ঠিক কত দিন ব্যয় করেছেন এবং আরও কত দিন তাঁর কোটা অবশিষ্ট রয়েছে, তা সহজেই ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

ভারতের বিহারে মন্দিরে পদদলিত হয়ে ৭ নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের বিহার রাজ্যের একটি মন্দিরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ার একটি ভিত্তিহীন গুজবকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পদদলিত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে লখিসরাই জেলার ঐতিহ্যবাহী অশোক ধাম মন্দিরে পূজার সময়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মন্দিরের কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ভোরে যখন বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে পূজা দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় হঠাৎ কেউ একজন গুজব ছড়িয়ে দেয় যে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং তারগুলো ভক্তদের ওপর ছিঁড়ে পড়ছে। মুহূর্তেই এই কাল্পনিক ভীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মূলত নারীদের জন্য নির্ধারিত সারিতে থাকা দর্শনার্থীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে একে অপরের নিচে চাপা পড়েন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান।

লখিসরাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গুজব মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


নির্বাচিত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এতে যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা মার্কিন রিপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনও কার্যকর। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা গত মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখানো হয়েছে। ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা এমকিউ–৯ রিপার-এর প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি।

একেকটি এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনের মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এর দাম নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত সেন্সর, রাডার এবং অস্ত্রের বিন্যাসের ওপর। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চালকবিহীন আকাশযান উচ্চ উচ্চতায় থেকে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) গাইডেড বোমাও বহন করা যায়। তবে ড্রোনটি তুলনামূলক ধীরগতির এবং মাঝারি থেকে নিচু উচ্চতায় উড়ে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এলাকায় এ বৈশিষ্ট্যই এটিকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ইরানের আইআরজিসি এবং ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্যও তাই রিপার ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালীর আশপাশে এই ড্রোনটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি জলপথটিতে একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ নৌ অবরোধ কার্যকর করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে যেসব মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে, এমকিউ–৯ রিপার সেই ক্রমবর্ধমান তালিকারই একটি অংশ।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি রিপার ড্রোন ধীরে ধীরে বহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম খরচের এমন সশস্ত্র নজরদারি ড্রোনের একটি নতুন বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন, যেগুলো ঝাঁকবদ্ধভাবে (swarming) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।

যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের মজুতও কমে গেছে। এগুলো হলো এমন সামরিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা পাল্টা আক্রমণের সীমার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে থেকে লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজারটির বেশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর খবর অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং নতুন অস্ত্রও উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। এর মধ্যে ইরানবিরোধী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণের অর্থও রয়েছে।

গত ৬ আগস্ট ক্যাবিনেট বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ঘাটতি ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের নতুন হামলা চালানো থেকে তার প্রশাসনকে বিরত রাখার অন্যতম কারণ।’


নির্বাচিত

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে উভয় পক্ষ। রাশিয়ার মস্কো ও রোস্তভ অঞ্চল থেকে শুরু করে ইউক্রেনের কিয়েভ, ক্রিভি রিহ ও অন্যান্য এলাকায় এসব হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, রাতভর ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে সামরিক ও শিল্প অবকাঠামোও ছিল।

এদিকে মস্কো অঞ্চলেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, রাজধানীমুখী প্রায় ৬০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত করা হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর দেশজুড়ে মোট ৮২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

মস্কোর কাছের পোদোলস্ক এলাকায় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বড় গুদামে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, ওই হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুদামটিতে আগুনের বড় বড় কুণ্ডলী ও ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা গেছে।

রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মস্কো অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলার প্রভাব পড়েছে। একটি গুদাম ও শিল্প স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। হামলার কারণে রাজধানীর আশপাশের বিমান চলাচলেও সাময়িক প্রভাব পড়ে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনেও রাতভর রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ভবনে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

ক্রিভি রিহ শহরে রাশিয়ার হামলায় একটি ইস্পাত কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া সামরিক ও শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের একটি বড় অংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল পর্যন্ত বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব ইউক্রেনের প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশ রোমানিয়াতেও পড়েছে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোনকে স্পেনের একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটির উৎস তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না হলেও ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি রুশ ড্রোন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই সীমান্তের অনেক দূরে লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত জুলাইয়ে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২২ সালের মে মাসের পর ওই মাসেই সবচেয়ে বেশি বেসামরিক হতাহত হয়েছে।


নির্বাচিত

সাবমেরিন নির্মাণ করবে ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘প্রজেক্ট ৭৫ (আই) সাবমেরিন কর্মসূচি’ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৬টি সাবমেরিন নির্মাণ করা হবে ৭০ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির বিনিময়ে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির সামনে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি উন্নতমানের প্রচলিত সাবমেরিন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৭০ হাজার কোটি রুপি। সাবমেরিনগুলো মূলত ভারতে নির্মাণ করা হবে। মুম্বাইভিত্তিক মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (এমডিএল) জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগুলো নির্মাণ করবে।

বাণিজ্যিক শর্ত এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও কয়েক দফায় সেই আলোচনা থমকে গেছে। এখন মন্ত্রিসভার কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেলে চুক্তি স্বাক্ষরের পথ পরিষ্কার হবে এবং সাবমেরিন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস নীরবে ভারতে নিজেদের অংশীদারদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, ভারতের ডুবোজাহাজ যুদ্ধ সক্ষমতার ক্ষেত্রে জার্মান প্রতিষ্ঠানটি স্বল্পমেয়াদি কোনো চুক্তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জার্মান প্রতিষ্ঠানটি হায়দরাবাদভিত্তিক ভিইএম টেকনোলজিসের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় ভারী শ্রেণির টর্পেডো তৈরি, নির্মাণ, সংযোজন এবং ভবিষ্যতে আধুনিকায়নের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস ইলেকট্রনিকও (ATLAS ELEKTRONIK) যুক্ত রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ভিইএম টর্পেডোর সংযোজন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থা একটি টিমিং অ্যাগ্রিমেন্টে রূপ নিয়েছে, যার আওতায় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে টর্পেডো প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টিও রয়েছে।

এ ছাড়া থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস মুম্বাইভিত্তিক সিএফএফ ফ্লুইড কন্ট্রোলের সঙ্গে সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধব্যবস্থা বা অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার নির্মাণেও অংশীদারত্ব করেছে। ভারতীয় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও অংশীদারত্ব গড়ার দিকে নজর রয়েছে থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের। এর মধ্যে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনও (ডিআরডিও) রয়েছে।

ভারতের কাছে এই চুক্তি কখনোই শুধু ছয়টি সাবমেরিন কেনার বিষয় ছিল না। এর বড় লক্ষ্য হলো দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো। অর্থাৎ শুধু সাবমেরিন নির্মাণ নয়, রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব নকশায় সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলোতে এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন ব্যবস্থা থাকার কথা। এর ফলে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় এগুলো অনেক বেশি সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারবে। এ ছাড়া এসব সাবমেরিনে আধুনিক সেন্সর, টর্পেডো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সামনে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থাগুলো এমন পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে কি না, যার মাধ্যমে তারা শুধু যন্ত্রাংশ সংযোজন করবে না, বরং প্রযুক্তিটি ‘বুঝতে, আয়ত্ত করতে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত করতে’ পারবে। কারণ শেষ পর্যন্ত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ যদি শুধু বিদেশি প্রযুক্তির অংশ জোড়া লাগানোর নাম হয়, তাহলে সেটি শিল্পনীতি নয়, বেশ দামি অ্যাসেম্বলি লাইন মাত্র।

প্রকল্পটির বিলম্ব এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ভারতীয় নৌবাহিনী তার প্রচলিত সাবমেরিন বহরে ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। নতুন ছয়টি সাবমেরিনের মাধ্যমে পানির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সক্ষমতা, গোপন চলাচল এবং নজরদারি ও আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এসব সাবমেরিনের এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার সুযোগ দেবে। ভারত মহাসাগরজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি টহল এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ অভিযানের ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচিত

নতুন বিপাকে হাজারো ব্রিটিশ

ব্রিটেনে হাজারো মানুষ সূর্যগ্রহণ দেখেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে গত বুধবারের সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখে ব্যথা ও দৃষ্টিজনিত সমস্যার অভিযোগ বাড়তে শুরু করেছে। গুগলে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের ‘আমার চোখে ব্যথা’ ধরনের অনুসন্ধান এক দিনে দেড় হাজার শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের বাকি অংশে একই ধরনের অনুসন্ধান বেড়েছে পাঁচ হাজার শতাংশ।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকানোর জন্য আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ সুরক্ষা চশমা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। গ্রহণের পর চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সূর্যগ্রহণ দেখার পর চোখের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কেউ চোখে ব্যথা ও মাথাব্যথার কথা বলেছেন, আবার কেউ ঝাপসা দেখার অভিযোগ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী সরাসরি সূর্যগ্রহণ দেখার পর তার চোখে তীব্র ব্যথা হচ্ছে এবং তিনি অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বলে জানান।

এদিকে সূর্যগ্রহণের পর ব্রিটেনসহ বিশ্বজুড়ে চোখের ব্যথা নিয়ে ইন্টারনেটে অনুসন্ধানের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। গুগল সার্চ ট্রেন্ড থেকে জানা যায়, কিছু দর্শক প্রলোভনের কাছে হার মেনে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকিয়েছিলেন। এর প্রমাণস্বরূপ, আগের দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ‘আমার চোখ ব্যথা করছে’ এই ধরনের মন্তব্যের সংখ্যা এক হাজার ৫০০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে স্পেনে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় আকাশ ক্ষণিকের জন্য কালো হয়ে গিয়েছিল, সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় ‘me duelen los ojos’—অর্থাৎ ‘আমার চোখে ব্যথা করছে’—এর অনুসন্ধান পাঁচ হাজার শতাংশ বেড়েছিল। একজন এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন, মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য দেখেছিলাম, আর এখন আমার চোখ ব্যথা করছে।

অন্য একজন বলেছেন, ‘বন্ধুরা, আমি সরাসরি সূর্যগ্রহণের দিকে তাকিয়েছিলাম এবং আমি চোখের সমস্যা অনুভব করতে পারছি। আমার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা করছে এবং দৃষ্টি খুব ঝাপসা হয়ে গেছে।’

চিকিৎসকদের ভাষায়, সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোর ফলে রেটিনার ক্ষতি হলে সেটিকে ‘সোলার রেটিনোপ্যাথি’ বলা হয়। মুরফিল্ডস আই হাসপাতালের পরামর্শক চক্ষু বিষয়ক চিকিৎসক অ্যালেক্স আয়োনিডিস জানান, চোখে ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা বা অস্বস্তি, ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, দৃষ্টির মধ্যে নতুন কালো দাগ এবং হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য আংশিকভাবে ঢাকা পড়লেও সরাসরি তাকানো নিরাপদ নয়। সূর্যের তীব্র আলো ও অতিবেগুনি রশ্মি রেটিনার সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অল্প সময় সরাসরি তাকালেও এ ধরনের ক্ষতি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। কয়েক ঘণ্টা পর দৃষ্টির সমস্যা স্পষ্ট হতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, সোলার রেটিনোপ্যাথির ক্ষেত্রে ঝাপসা বা বিকৃত দেখা, রঙ চেনার ক্ষমতা কমে যাওয়া, পড়তে সমস্যা হওয়া কিংবা দৃষ্টির কেন্দ্রে কালো দাগ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে দৃষ্টির উন্নতি হলেও কোনো কোনো ব্যক্তির স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূর্যগ্রহণের সময় চোখের সুরক্ষার বিষয়ে সতর্কতার নজিরও রয়েছে। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হাসপাতালে স্থাপিত বিশেষ হেল্পলাইনে ১ হাজার ৬০০টি ফোন এসেছিল। প্রথম এক ঘণ্টাতেই চোখের সমস্যার অভিযোগ নিয়ে শতাধিক মানুষ যোগাযোগ করেন। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গ্রহণ-সম্পর্কিত চোখের সমস্যা নিয়ে ২২০ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

তবে গ্রহণ দেখার সময় অনুমোদিত সুরক্ষা চশমা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সামান্য চোখের চাপ বা মাথাব্যথা হওয়া মানেই রেটিনার ক্ষতি হয়েছে—এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে সাময়িক চোখের চাপ তৈরি হতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।


নির্বাচিত

‘মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি মিথ্যাচারের ওপর নির্ভরশীল’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও ইরান কেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি অতিরিক্ত ‘মিথ্যাচারের’ ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। বিখ্যাত রুশ লেখক ফিওদোর দস্তয়েভস্কির উপন্যাস ‘দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ’-এর একটি উক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করে তিনি এই সমালোচনা করেন।

ইসমাইল বাঘেই বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান পরিস্থিতি দস্তয়েভস্কির ওই বিখ্যাত অনুচ্ছেদের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

উপন্যাসের উক্তিটি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের কাছে মিথ্যা বলে এবং নিজের মিথ্যাকেই সত্য মনে করে শোনে, সে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে সে নিজের ভেতরের বা বাইরের কোনো সত্যকেই আর আলাদা করতে পারে না এবং এর ফলে সে নিজের পাশাপাশি অন্যের প্রতিও সমস্ত শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিথ্যাচারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই মার্কিন প্রশাসনকে এই অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার

যেকোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে আটক বা হত্যা করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি। রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা ওয়ানা নিউজ এজেন্সি।

আমির হাতামি বলেন, কোনো ইরানি নাগরিক একজন মার্কিন সেনাসদস্যকে আটক বা হত্যা করতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। এই অর্থ ‘ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে’ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন ইরানের কর্মকর্তারা। গত ১৫ মে ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছিলেন, দেশটির পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত একটি ব্যবস্থায় ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।

নতুন এই ঘোষণার ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

পরিস্থিতি বেগতিক দেখলেই বারবার দায় এড়ান ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত বাণী হলো: 'দ্য বাক স্টপস হিয়ার', অর্থাৎ 'পূর্ণ দায়ভার নিলাম'। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় কথাটি প্রায় কখনোই খাটে না।

দুর্বল অর্থনীতি আর এখনো চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, পূর্বসূরি জো বাইডেন তাকে এই বোঝা দিয়ে গেছেন। অথচ ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন ক্ষমতা ছেড়েছেন ১৮ মাসেরও বেশি সময় আগে। এছাড়া ট্রাম্প নিজেই একসময় ক্ষমতা হাতে পেলেই অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সমস্যাগ্রস্ত সংস্কার কাজের প্রসঙ্গে রিপাবলিকান ট্রাম্পের জোর দাবি, এটি নাশকতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও তারই নিয়োগ দেওয়া এক প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নমানের কাজই এ ক্ষতির কারণ।

ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়েছে। এর জেরে কমেছে ট্রাম্পের জনসমর্থন, বিশ্ব অর্থনীতিতেও তীব্র ধাক্কা এসেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, এসব মূলত তার পূর্ববর্তী ভীরু প্রেসিডেন্টদের ভুলের মাশুল—যারা তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানোর প্রায় ৫০ বছরের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন।

চটুল ও চটকদার স্লোগানগুলোকে সরিয়ে রাখলে দেখা যায়, আধুনিক যুগের সব প্রেসিডেন্টই কোনো না কোনো মাত্রায় দায়ভার অন্যদের কাঁধে চাপান। তারা প্রায়ই পূর্বসূরি কমান্ডার-ইন-চিফ, কংগ্রেস অথবা উভয়কেই দোষারোপ করেন। তবে ট্রাম্প এই প্রবণতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। বাস্তবে তিনি এমন এক রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন, যার মাধ্যমে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে তিনি থাকবেন কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে কোনো কিছুর দায় তিনি নেবেন না।

ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক নিকোল অ্যানস্লোভার বলেন, 'যে প্রেসিডেন্সিয়াল নেতৃত্ব বা যেকোনো ধরনের নেতৃত্বের একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো দায় স্বীকার করা।'

ট্রাম্পের অন্যদের দিকে আঙুল তোলার এই প্রবণতাটি নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্রমাগত আলোচনায় আসছে। ভুল স্বীকার করতে এই অনীহা অনেক সময় তাকে সমস্যাগুলোর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার দিকে ঠেলে দেয়। এটি কঠিন লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান নেতাদের এমন এক পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিচ্ছে, যেখানে ভোটারদের উদ্বেগ নিরসনে তাদের আশ্বস্ত করার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প কেবল হাত গুটিয়ে বসে সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করছেন না, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে কাজ করছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, 'প্রেসিডেন্ট যথাযথভাবেই তার পূর্বসূরিদের ব্যর্থতাগুলোকে মোকাবিলা করছেন এবং একইসাথে আমেরিকান জনগণের জন্য বড় সাফল্য এনে দিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।' তিনি এমন কিছু নীতির কথা উল্লেখ করেন, যা তার মতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনি প্রচারণায় তুলে ধরার মতো। এর মধ্যে রয়েছে কর ছাড়, প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ, অভিবাসন ও মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজার শক্তিশালী করা।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্য মনোনীত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, 'ব্যবস্থাটিকে আমার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না, তাই আমিই এটি ঠিক করতে পারব।' কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি প্রায়ই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমাধান ও দোষ—উভয়ই অন্য কারও।

২০১৯ সালে সরকারের দীর্ঘ শাটডাউনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, 'দায়ভার সবার ওপরই বর্তায় ।' আবার ২০২০ সালে, যেদিন তিনি করোনা মহামারি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন, সেদিন কোভিড পরীক্ষার ঘাটতির প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি এর কোনো দায় নেব না।'


নির্বাচিত

পশ্চিম তীর দখলের পাঁয়তারা করছে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে এক দখলদার ইসরায়েলি সেনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনীর পরিবর্তে বেসামরিক পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেসামরিক বিষয়সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তিনি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। কাৎজের দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার আওতায় পুলিশকে ‘বেসামরিক বিষয়গুলো মোকাবিলা ও সমাধানের জন্য একটি উপযুক্ত বাহিনী প্রতিষ্ঠা’ করতে হবে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী কেবল ‘ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবিলা এবং সীমান্ত ও বসতিগুলোর সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে।

কাৎজ বলেন, পশ্চিম তীরে বেসামরিক বিষয় তদারকির দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়াই যুক্তিসংগত। কারণ, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের অন্য সব জায়গায়’ পুলিশই এ ধরনের দায়িত্ব পালন করে। তবে এই ঘোষণা দেওয়ার আগে সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। যদিও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম শুক্রবার জানিয়েছে, সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুলিশবাহিনীর তত্ত্বাবধানকারী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও জানতেন না যে, এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে যাচ্ছে। বেন-গভির এখনো পরিকল্পনাটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বসতি স্থাপনকারী নেতাদের অন্য কয়েকজন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরের বিনইয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গানজ বলেন, কাৎজের ঘোষণার পর অসলো চুক্তি বাতিল এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ‘পূর্ণ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। গানজ বলেন, ‘অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে এখন ইসরায়েলি আইন পুরোপুরি প্রয়োগের সময় এসেছে।’

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই নেট জানিয়েছে, শুক্রবারের এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে সেনাপ্রধান আইয়াল জামিরের অনুরোধ। পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনীর কাজের চাপ কমানোর জন্য তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভাকে জামির জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। কারণ, ‘শিগগিরই নতুন বসতি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রীদের উদ্দেশে জামির বলেছিলেন, ‘কয়েকজন মানুষ বসতিগুলোর বদনাম করছে বলে তাদের পেছনে ছুটে বেড়ানো আইডিএফের (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) সেনাদের জন্য অসহনীয়।’

এখানে তিনি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোকে সন্ত্রস্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত বসতিস্থাপনকারীদের কথা উল্লেখ করেন। জামির বলেন, সেনাবাহিনী ‘পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করছে’, কিন্তু এ ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরে আসাই যথাযথ।

শুক্রবার ওয়াই নেটকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, পশ্চিম তীরে ‘নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের বিভাজন’ পর্যালোচনার জন্য সেনাবাহিনী ‘অভ্যন্তরীণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের স্টাফ-লেভেলের কাজ’ পরিচালনা করছে।

কাৎজের বিবৃতিতে পুরো পশ্চিম তীরের কথা বলা হয়েছে। সেখানে পশ্চিম তীরের এরিয়া এ ও বি-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। এই দুই এলাকায় অসলো চুক্তির আওতায় বেসামরিক বিষয়গুলো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে। অন্যদিকে এরিয়া সি-তে ইসরায়েল বেসামরিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে। ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীরকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করেনি। ১৯৬৭ সাল থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েলি সামরিক দখলের অধীনে রয়েছে। তবে গত এক বছরে ইসরায়েলি সরকার এমন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে কার্যত বা ‘ডি-ফ্যাক্টো সংযুক্তির’ সমতুল্য।

এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীর পরিচালনায় বেসামরিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং যেসব ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত, সেসব ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কমিয়ে আনা। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে দখলদার কর্তৃপক্ষ হিসেবে সেনাবাহিনীই দায়িত্ব পালন করে এবং বেসামরিক বিষয়সহ সেখানে আইন প্রয়োগের ক্ষমতাও সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে।


নির্বাচিত

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর পুত্রকে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ায় প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর তরুণ পুত্র আবু সুফিয়ানকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বেথুয়াডহরি এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাগাদি রেলগেটের নিকট এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রথমে তাঁদের গাড়িটি পথরোধ করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এই ভয়াবহ ঘটনায় পুরো জেলায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জোড়া হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ রবিবার হরনগর পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর স্বামী এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা জুব্বার শেখ বর্তমানে কারাগারে বন্দি থাকলেও অভিযোগ উঠেছে যে, জেল থেকেই তিনি এই খুনের নীল নকশা চূড়ান্ত করেছেন। ফতেমা বিবির পাশাপাশি তাঁর দুই সহযোগী সাহেব আলি মণ্ডল ও মিঠুন শেখকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রবিবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তিন জনকেই রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিহত ৫০ বছর বয়সী আনিসুর রহমান পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদিয়া জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নাকাশিপাড়া এলাকায় তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর ২৪ বছর বয়সী সন্তান আবু সুফিয়ানও এই অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারান।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন সিনিয়র কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে লিখেছেন, "নদিয়ার কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তার ছেলেকে হত্যার ঘটনাকে আমি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। 'ভয় দূর, আস্থা আনুন'—এই স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বর্তমান সরকার; অথচ স্বাধীনতা দিবসের দিন এমন জঘন্য ঘটনা মানুষের নিরাপত্তা এবং অবাধে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।" প্রবীণ এই নেতা অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close