স্বাধীনতার ২০০ বছরে প্রথমবার নারী প্রেসিডেন্ট পেতে চলেছে মেক্সিকো। গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এই দায়িত্ব নিয়েছেন ক্লডিয়া শেইনবম। গত জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন শেইনবম। জলবায়ুবিজ্ঞানী থেকে রাজনীতিতে আসা শেইনবম মেক্সিকো সিটির মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পূর্বসূরির মতো বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দরিদ্রদের হয়ে লড়াই করার অঙ্গীকার করলেও নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্লডিয়ার সামনে রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। ৬২ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে বিরাজমান নৃশংসতা বৃদ্ধি, মন্থরগতির অর্থনীতি ও ঘূর্ণিঝড়ের বিধ্বস্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের আকাপুল্কোর পুনর্গঠন।
এ ছাড়া মাদক কারবারিদের আধিপত্য থাকা উত্তরাঞ্চলীয় কালিকান শহরের আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতিও সামলাতে হবে তাকে। দেশের উত্তরে তিজুয়ানা থেকে দক্ষিণে চিয়াপাস পর্যন্ত তাদের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে।
শপথ নেওয়ার পর শেইনবম বলেন, ‘এখন রূপান্তরের সময়, এখন নারীদের সময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন মা, একজন দাদী, একজন বিজ্ঞানী এবং একজন বিশ্বাসী নারী এবং আজ থেকে মেক্সিকান জনগণের ইচ্ছায় একজন প্রেসিডেন্ট।’
শেইনবম পুনর্ব্যক্ত করেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বায়ত্তশাসিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের তিনি আশ্বস্ত থাকতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে জাতীয় এবং বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ নিরাপদ হবে।’
রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের জেন্ডার অ্যান্ড পলিটিক্সের অধ্যাপক, জেনিফার পিসকোপো, ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। পিসকোপো বলেছেন, প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে নতুন এক বার্তা দিল মেক্সিকোর মানুষ। তারা এটা দেখাল, নারীরাও যোগ্যতায় পিছিয়ে নেই। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আবার অবাস্তব আকাঙ্ক্ষার চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তিনি বলেছেন, ‘নারী নেতৃত্ব একটি শক্তিশালী প্রতীক। কিন্তু তাদের তো কোনো জাদুকরী ক্ষমতা নেই। সরকারের সামনে যদি থাকে দৈত্যাকার চ্যালেঞ্জ, তবে রূপকথার মতো রাতারাতি সমাধানের আকাঙ্ক্ষা বরং গভীর হতাশাই (নারী নেতৃত্বে) সৃষ্টি করতে পারে।’
মেক্সিকোর সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চ অ্যান্ড টিচিংয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কার্লোস পেরেজ রিকার্ট বলেছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লোপেজ ওবরাদোর ছিলেন প্রচণ্ড ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব। এর জেরেই বেশ কিছু রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ চাপা পড়ে যেত। তবে ক্লডিয়া শেইনবমের সে সুযোগ নেই। তাই যেখানে ওবরাদো যেসব চ্যালেঞ্জ ক্যারিশমা দিয়ে উতরে গেছেন, শেইনবমকে সেই বাধা টপকাতে হতে হবে কার্যোদ্ধারে সক্ষম। সূত্র : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নতুন করে অচলাবস্থায় পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানের দেওয়া সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।
তেহরানের প্রস্তাবের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের শর্ত রাখা হয়েছিল। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার কথা জানিয়েছিল।
তবে শনিবার ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে তেলের দামে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৮ ডলার বা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ১০৮ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৫২ ডলার বা ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে এদিন এশিয়ার বাজারে ব্রেন্টের দাম ১০৮ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল। পরে কিছুটা কমে ১০৭ ডলারের ওপর অবস্থান করে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। সংঘাত শুরুর পর এ পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে ১৩২টি জাহাজ চলাচল করেছে, আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ১১৬। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করত।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর বাজারে আবারও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন করছেন ব্যবসায়ীরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। কাতার, পাকিস্তান ও ওমানসহ কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে।
তবে ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর দুই পক্ষের অবস্থানের দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে। আলজাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই পক্ষই কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে কে আগে ছাড় দেবে—এ প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংঘাত পুনরায় শুরু হলে তাঁর দেশ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কূটনীতির সুযোগ নষ্ট না করার কথাও বলেছেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামো সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন পরিস্থিতি এখন তেলের বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে মূল নজর রয়েছে দুই বিষয়ের ওপর—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবার গতি পায় কি না এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক হয়। এ দুই ক্ষেত্রের অগ্রগতি তেলের দামের পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রবল দমকা হাওয়া, অতিভারী বর্ষণ এবং উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। শক্তিশালী ঝড় ‘নরইস্টার’-এর আঘাতে নিউইয়র্ক, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়াসহ পূর্ব উপকূলের বিশাল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগের কারণে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন লাখো বাসিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, পূর্ব উপকূলে কয়েক দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর রোববার সন্ধ্যার দিকে ঝড়টির গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। ঝড়ের মূল কেন্দ্রটি নিউ জার্সির উপকূলের কাছে অবস্থান করলেও এর মেঘমালা ও বৃষ্টির পরিধি নিউ ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। দুর্যোগ চলাকালে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮১ মাইল) রেকর্ড করা হয়, যা পরবর্তীতে কমে ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটারে নেমে আসে। তীব্র ঝড়ের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগহীন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শনিবার নিউইয়র্ক শহরের একটি পার্কিং এলাকায় হাঁটার সময় ভেঙে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মীর প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলীয় দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে যাওয়া ‘হাইওয়ে ১২’ সড়কটির বড় একটি অংশ পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পিচ উঠে যাওয়ায় মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকটি দ্বীপের বাসিন্দারা। উপকূলীয় এলাকার বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেককে নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, দেশটিতে পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে কেবল বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই নির্ধারিত ফ্লাইটের এক-চতুর্থাংশ বা ১৭২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এছাড়া নানটাকেট ও মার্থাস ভিনইয়ার্ডের স্থানীয় বিমানবন্দরগুলোতেও এক-তৃতীয়াংশ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ইয়েমেনের বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে টানা তিন দিনে মোট ৭৫৬টি সামরিক হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত এই ৭২ ঘণ্টার ব্যাপক অভিযানে আল-বাকা, আলাব, আল-জাউফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহজ এবং তাঈজ এলাকাকে নিশানা করা হয়।
যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন, রকেট উৎক্ষেপক ও ভারী সামরিক কামানের সাহায্যে পরিচালিত এই সমন্বিত হামলায় ২ হাজার ৩১৬ জন হুথি যোদ্ধা নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনায় পারদর্শী চারজন ইরানি বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। সেই সঙ্গে বিদ্রোহীদের বহু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কেন্দ্র, গোলাবারুদের গুদাম, সামরিক যান এবং জমায়েতস্থল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল নুজাইলি জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর লাহজ প্রদেশের আল-ধালেয়া অঞ্চলের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা ও চারজনকে আহত করে হুথিরা। একই সঙ্গে তারা লাহজের সড়কগুলোতে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ল্যান্ডমাইন পুঁতে সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক হুমকি ও শোচনীয় মানবিক সংকট ডেকে এনেছে। মূলত এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জবাবেই তিন দিনব্যাপী এই বিধ্বংসী অভিযান চালানো হয়।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরের বছরই রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। তখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নিলে সাংবিধানিক সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি যৌথ বাহিনী।
বর্তমানে রাজধানী সানা, লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ উত্তরাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি ভূখণ্ড হুথিদের কব্জায় রয়েছে। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চল শাসন করছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল। এই প্রেক্ষাপটে উত্তরাঞ্চলকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে গত জুলাই থেকে নতুন করে জোরালো অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা তুমুল বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের বাইরে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিদায়ী ভাষণে তিনি দাবি করেন, নিজের নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সুযোগ না থাকায়, এই রুশপন্থী নেতা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
মূলত ২০২৪ সালে সার্বিয়ার নোভী সাদ রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কারকৃত ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাই ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের সূচনা করে। সরকার এই স্টেশনকে দেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাকে প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের দুর্নীতি ও অপশাসনের ফল হিসেবে চিহ্নিত করে ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একযোগে রাজপথে নামে। বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেও প্রতিবাদ থামানো যায়নি, বরং পুলিশি দমনপীড়নের কারণে পরিস্থিতি আরও সংঘাতময় রূপ নেয়।
সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু সময় পরই সার্বিয়ার নাগরিকেরা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের বরাতে জানা গেছে, দায়িত্ব ছাড়ার আগমুহূর্তে ভুচিচ তাঁর বিশেষ ক্ষমতাবলে ২৩ জন শিক্ষার্থীসহ ৪৯ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন।
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভুচিচের দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল 'স্টুডেন্টস উইন' এবং পশ্চিমাপন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক মোর্চা 'ইউরোপিয়ান সার্বিয়া'। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারী আলেকজান্ডার ভুচিচ একদিকে দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলতেন, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং চীনা বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত রাখার নীতি অনুসরণ করতেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করা হোক ভারতকে। এই দাবিতে নয়াদিল্লির সমর্থনে এগিয়ে এলো রাশিয়া। শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারত এবং ব্রাজ়িলকে পূর্ণ সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার দাবি, জাতিসংঘে পশ্চিমের দেশগুলির জন্য কোনও অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ করা যাবে না।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময়ে লাভরভ বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জন্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উপর বেশি জোর দেওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে পশ্চিমের দেশগুলির বিরোধিতা করেন। তার দাবি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে পশ্চিমা দেশগুলির জন্য, বিশেষ করে জার্মানি এবং আমেরিকা ঘনিষ্ঠ জাপানের জন্য কোনও অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পক্ষে। আমরা স্থায়ী পদের জন্য ব্রাজ়িল ও ভারতকে সমর্থন করি।’
দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে আগ্রহী ভারত। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারতকে ক্রমাগত সমর্থন করছে রাশিয়া। পর্তুগাল এবং মরিশাসও নয়াদিল্লির সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র হল আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং চিন। তা ছাড়াও ১০টি দেশ পর্যায়ক্রমে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে কিছু সময়ের জন্য নির্বাচিত হয়। ভারত আট বার অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। সম্প্রতি ২০২১ এবং ২০২২ সালে ভারত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয়।
স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে ভারত, ব্রাজ়িল, জার্মানি এবং জাপান জি৪ গোষ্ঠী তৈরি করেছে। এই চার দেশ চায় তাদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। যদিও, জার্মানি এবং জাপানের বিরুদ্ধেই সুর তুললেন রুশ বিদেশমন্ত্রী।
ইরানের পারস্য উপসাগর তীরের বন্দরগুলোর ওপর অব্যাহত রয়েছে মার্কিন নৌঅবরোধ। এই অবস্থায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে বিকল্প পথের দিকে ঝুঁকছে তেহরান। দক্ষিণের বন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ায়, জ্বালানি তেল রপ্তানি এবং জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য ইরানের উত্তর উপকূলের কাস্পিয়ান সাগরের নৌপথ—এখন বহির্বিশ্বের সাথে সংযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক অচলাবস্থায় রয়েছে, যেখানে সংঘাত নিরসনের কোনো আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে না। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের প্রস্তাব—তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকেও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এই সংঘাত নিরসনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে—এই যুদ্ধের সূচনা হয়। কিন্তু সেটি অবসানের কোনো লক্ষণ না থাকায়, তেহরান এখন জ্বালানি তেল রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে। যদিও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনার নিজস্ব কিছু লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বৃহত্তম আবদ্ধ জলাশয় (ল্যান্ডলকড ওয়াটার বডি) কাস্পিয়ান সাগরের সীমানা ভাগাভাগি করছে ইরান, রাশিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্থান ও তুর্কমেনিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায়– এই সাগরে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
গত এপ্রিলে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসেন জানান, ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে কাস্পিয়ান সাগরের পানির স্তর প্রায় ২ মিটার (৬ দশমিক ৬ ফুট) নেমে গেছে। চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সাগরের পানির স্তর আরও ৮ থেকে ২১ মিটার (২৬ থেকে ৬৯ ফুট) হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের পরিবেশবিষয়ক দপ্তরের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কার্যালয়ের মহাপরিচালক শাহরাম ফাদাকার গত সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গত দুই থেকে তিন বছরে (কাস্পিয়ানে) পানির স্তর বার্ষিক ২০ সেন্টিমিটারেরও (৭ দশমিক ৯ ইঞ্চি) বেশি করে কমছে। এটি ইরানসহ কাস্পিয়ান সাগর তীরের সবকটি দেশের বাণিজ্যিক সংযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’
চলতি মাসে শিপিং অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানের মহাসচিব মাসুদ পোলমে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের উত্তরের (কাস্পিয়ান তীরের) বন্দরগুলো একসময় ৬,০০০ টন ওজনের জাহাজ নোঙর করার সক্ষমতা রাখত। কিন্তু পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে, সেখানে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৪,০০০ টনের জাহাজ নোঙর করতে পারছে।
কাস্পিয়ান সাগর হয়ে রাশিয়ার ভলগা নদীতে প্রবেশ করা ইরানি জাহাজগুলো কম পানির কারণে চরায় আটকে পড়ছে। এমনকি ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করার আগপর্যন্ত, এসব জাহাজকে টানা কয়েক দিন ও সপ্তাহ ধরে এক জায়গায় স্থবির হয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে পোলমে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত আমাদের বন্দরগুলোতে এখনো এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’
ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের সিংহভাগই মূলত দক্ষিণের পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর, সেগুলোর ওপর মার্কিন নৌঅবরোধ এবং বন্দরের অবকাঠামোতে—বিমান হামলার কারণে তেহরান এখন কাস্পিয়ান সাগর ও স্থল সীমান্তপথের দিকে বাণিজ্যের প্রবাহ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বর্তমানে উত্তরে (কাস্পিয়ান রুটে) ইরানের বাণিজ্যিক স্বার্থের ওপর সরাসরি কোনো সামরিক হামলা হচ্ছে না। তবে রাশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ককেশাসবিষয়ক ইরানি গবেষক ওয়ালি কালেজি জানান, লজিস্টিক কার্যক্রমের পরিবর্তনের ফলে ইরানের স্থল সীমান্তগুলোতে অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে।
আর্মেনিয়াসংলগ্ন নরদুজ সীমান্ত পয়েন্টে ইরানে প্রবেশের জন্য প্রায় ১,৮০০টি ট্রাককে টানা কয়েক দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যান্য টার্মিনালে প্রবেশের জন্য অপেক্ষার সময় ১০ থেকে ১৫ দিনে গিয়ে ঠেকেছে। তবে কালেজি জানান, এই যানজট কেবল সড়কপথে পণ্য পরিবহনের কারণে হয়নি।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘টার্মিনালের সীমিত সক্ষমতা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, ভঙ্গুর সড়ক অবকাঠামো এবং চলমান উন্নয়ন কাজগুলোও এই দীর্ঘ যানজটের জন্য দায়ী। পাশাপাশি ইরানি বিমানসংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আর্মেনিয়া ও তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এতে সীমান্ত টার্মিনালগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।’
পূর্ব কাস্পিয়ান রেলপথটি তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্থান এবং চীনের সঙ্গে সরাসরি ইরানি পণ্য পরিবহনের সংযোগ সুবিধা দেয়। কিন্তু দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের সঙ্গে ইরানের যে রেলসংযোগ ছিল, তা ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সালের প্রথম নগরনো-কারাবাখ যুদ্ধের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আজও সেটি বন্ধই রয়েছে।
কালেজি জানান, সোভিয়েত যুগের দক্ষিণ ককেশাস রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ ‘জুলফা-নাখচিভান’ রেলপথটির পুনরুজ্জীবন মূলত আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে, বিশেষত ওই অঞ্চলে মার্কিন-সমর্থিত ‘ট্রিপ’ ট্রানজিট করিডোর বাস্তবায়নের ওপর।
‘যেহেতু উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরে—পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটের ট্রানজিট ও বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিচালিত হয়, তাই দক্ষিণ ককেশাসের সাথে রেল সংযোগের অনুপস্থিতি ইরান থেকে পণ্য পরিবহন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা—বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে নৌঅবরোধ জোরদার হওয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপটে,’ বলেন কালেজি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কেবল কূটনীতিই একমাত্র পথ বলে উল্লেখ করেছে ইরান। এর আগে, হরমুজ প্রণালী খোলা এবং সংঘাত বন্ধের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর তেহরান এই প্রতিক্রিয়া জানাল।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি শর্তগুলো পূরণের ওপরই নির্ভর করছে। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।’
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাবের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা করতে ইরান মরিয়া হয়ে উঠেছে, কারণ তারা বর্তমানে চাপে আছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এখনই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে চাইছে, কারণ তারা শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দাবি, ট্রাম্প প্রকাশ্যে এমন কথা বললেও যারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা এখনো জানাননি। আরাগচি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে চূড়ান্ত মতামতের অপেক্ষায় আছি। তাদের বার্তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হামলা বন্ধ করতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদমাধ্যমটি তাদের তথ্যের উৎস হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের কথা উল্লেখ করেছে।
সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের মনে সন্দেহ রয়েছে যে ইরান তার দাবিগুলো আদৌ মানবে কি না। এমনকি ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান বা বোমা হামলার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এদিকে, এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে হওয়া আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ ছিল।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সৌদি আরবের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের আরাগচি জানান, তাদের প্রস্তাবিত চুক্তিতে প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমা এবং আঞ্চলিক লড়াই সাময়িক বন্ধ রাখার শর্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই চুক্তি করতে আগ্রহী হয় এবং প্রণালীটি খুলে দিতে চায়, তবে সবকিছুই প্রস্তুত।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে না থাকলে একশ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বিল গেটস।
রোববার এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই নিয়ন্ত্রণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই মার্কিন ধনকুবের।
গেটস বলেন, ‘এআই নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি কেমন হবে, সে আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও রাজনীতিবিদদের যুক্ত হতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়।’
সাক্ষাৎকারে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তিনি বলেন, ‘ভুল মানুষের হাতে পড়লে এমন ঘটনাও ঘটাতে পারে, যার ফলে বিশ্বে একশ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’
তার মতে, এআই প্রযুক্তির মতো এমন শক্তিশালী কোনো অস্ত্র এর আগে কখনো ছিল না। খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে এমন কোনো মানুষের হাতে এটি পড়লে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গেটস।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আরও অনেক শীর্ষ ব্যক্তি এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি খাতের গেটসের সহকর্মী হিসেবে পরিচিত স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
কিছু বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, জৈব অস্ত্র ও পারমাণবিক যুদ্ধসহ বিভিন্ন উপায়ে এআই ব্যাপক প্রাণহানি বা মানবজাতির ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহুজাতিক প্রতিরক্ষা মহড়া ‘তরঙ্গশক্তি ২০২৬’-তে যোগ দিতে রাজস্থানে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ৬টি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং ২ ফাইটার জেট যুদ্ধবিমান এবং ২ শতাধিক মার্কিন বিমান-সেনা। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও মার্কিন সেনারা বর্তমানে রাজস্থানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর যোধপুরে অবস্থান করছে উল্লেখ করে গত কাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সার্জিও গোর বলেছেন, ‘ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহুজাতিক মহড়া তরঙ্গ শক্তি-তে অংশ নিতে যোধপুরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ২ শতাধিক সেনা। তাদের সঙ্গে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৫ম প্রজন্মের ৬টি এফ-৩৫ লাইটনিং ২ ফাইটার জেটও এসেছে। মার্কিন বিমান বাহিনী এই প্রথম ভারতীয় বিমান বাহিনীর কোনো মহড়ায় অংশ নিচ্ছে এবং নতুন এ যুদ্ধবিমানগুলোর অভিষেক ঘটবে এই মহড়ায়। আমরা খুবই উদ্দীপ্ত বোধ করছি।’
‘তরঙ্গ শক্তি’ ভারতের বিমান বাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত একটি বহুজাতিক বার্ষিক মহড়া। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো এই মহড়ার আয়োজন করে ভারতীয় বিমান বাহিনী। তার পরের বছর ২০২৫ সালে ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়া হয়নি; সেই হিসেবে চলতি ২০২৬ সালে দ্বিতীয় দফা মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শনিবার যোধপুর বিমান ঘাঁটিতে শুরু হয়েছে তরঙ্গ শক্তি মহড়া। চলবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪০টি দেশ এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও সি-১৩০ জে যুদ্ধ বিমান নিয়ে যোগ দিয়েছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর স্টেলথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ লাইটনিং ২ ফাইটার জেট এফ-৩৫ হলো পঞ্চম প্রজন্মের একটি যুদ্ধবিমান যা একাধিক ক্ষেত্রে (ডোমেইন) কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। এর সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আদান-প্রদান; এর ফলে এটি আকাশ, স্থল, সমুদ্র, মহাকাশ এবং সাইবার-ভিত্তিক কার্যক্রমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
এবারের মহড়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এফ-৩৫ লাইটনিং ২ ফাইটার জেট। এছাড়া ফ্রান্সের রাফাল, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির তেজস এবং সুখোই-৩০ এমকেআই-এর মতো যুদ্ধবিমানও মহড়ায় শামিল হয়েছে।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে সৌদি আরবে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এ বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করছেন এবং শুক্রবার আঙ্কারা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করে।
প্রায় দেড় মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র শিল্পের বিকাশ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। জোটটিকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষভাগে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এবার শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে বসেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের সচিবালয় ও বিভিন্ন ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা পবিত্র মক্কা নগরী ও সৌদি আরবের বেসামরিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিশানা করে চালানো হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটিকে ‘সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন কোনো ধারণা সামনে আনা হলে কিংবা নতুন কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে, এমন মানুষ থাকাটাই স্বাভাবিক, যারা তা মেনে নেবে না।’ তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সম্পন্ন হলে তিন দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে—এ বিষয়ে তাঁর ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব রিয়াদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করলে যেকোনো মুহূর্তে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামানো হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য নতুন বিদেশি আগ্রাসনের সমুচিত জবাব ‘নতুন সামরিক প্রযুক্তি’র ব্যবহারের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি। শনিবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, আধুনিক অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল অবলম্বন এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেকারচি উল্লেখ করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও উন্নত। দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শত্রুপক্ষের জন্য তেহরানের হাতে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। বাহিনীর বর্তমান প্রস্তুতি তুলে ধরে শেকারচির ভাষায়, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে।’ তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় গাছপালা ও খুঁটি উপড়ে পড়ে প্রায় এক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ভেঙে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে নগর আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত অপর চারজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে নগরীর ফায়ার সার্ভিস বিভাগ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধীরগতিতে উত্তর-পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নিউ জার্সির সার্ফ সিটিসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়ক উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। নিউ জার্সির সি ব্রাইট এলাকার মেয়র ব্রায়ান কেলি জানান, ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং কিছু সড়কে প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত পানি ওঠার আশঙ্কায় কয়েক শ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউ জার্সি ও ডেলাওয়ারের আটলান্টিক উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং সাগরে সর্বোচ্চ ২০ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
প্রবল বাতাসের মুখে নিউইয়র্ক নগরীতে গাছ ভেঙে পড়া ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৯০০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্ক ও বিনোদন বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণে কাজ করছেন। একই সাথে নিউ ইংল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৬৯ থেকে ৮৯ কিলোমিটার গতিতে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ের কারণে আকাশপথের যোগাযোগে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বোস্টন বিমানবন্দরসহ ম্যাসাচুসেটসের মার্থাস ভিনইয়ার্ড ও নানটাকেটের শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোয় সংগীতশিল্পী এড শিরানের দুটি নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল এবং বোস্টনের গুরুত্বপূর্ণ বেসবল ম্যাচ ফ্লোরিডায় স্থানান্তর করতে হয়েছে। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলাইনার হ্যাটেরাস দ্বীপে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া অন্তত ৪৫ জন অতিথি আটকা পড়েন, যাদের জন্য পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিকল্প ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে—এমন আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন বলে খবর প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো নির্দিষ্ট কোনো মতামত দেয়নি।
নিউ ইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওই ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার কাছে দেশটির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি যে, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বাংলাদেশের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই চমৎকার অবস্থায় রয়েছে।
নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে কাজ চলছে, আমরা তার পাশে রয়েছি। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলাটা সমীচীন মনে করছি না।’
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে না নিয়ে কীভাবে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব? এটাকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিচ্ছে?
জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি জটিল অংশে পড়েছে। আপনার পয়েন্ট হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বড় প্রতিবেশী দেশের পাশে অবস্থিত। আমরা সবসময় উৎসাহ দিই, প্রতিটি দেশ যেন তাদের পরিমণ্ডলে অবস্থান করে। আমরা আপনাদের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত রাখতে সহায়তা দিতে চাই; আপনাদের ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা দিতে চাই। আমরা বিকল্প কিছু তুলে ধরতে চাই। আমরা বলছি না যে, আপনাকে কাউকে বেছে নিতে হবে; আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প হতে চাই।
এ ব্রিফিংয়ের আগে নিউ ইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন।