স্বাধীনতার ২০০ বছরে প্রথমবার নারী প্রেসিডেন্ট পেতে চলেছে মেক্সিকো। গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এই দায়িত্ব নিয়েছেন ক্লডিয়া শেইনবম। গত জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন শেইনবম। জলবায়ুবিজ্ঞানী থেকে রাজনীতিতে আসা শেইনবম মেক্সিকো সিটির মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পূর্বসূরির মতো বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দরিদ্রদের হয়ে লড়াই করার অঙ্গীকার করলেও নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্লডিয়ার সামনে রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। ৬২ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে বিরাজমান নৃশংসতা বৃদ্ধি, মন্থরগতির অর্থনীতি ও ঘূর্ণিঝড়ের বিধ্বস্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের আকাপুল্কোর পুনর্গঠন।
এ ছাড়া মাদক কারবারিদের আধিপত্য থাকা উত্তরাঞ্চলীয় কালিকান শহরের আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতিও সামলাতে হবে তাকে। দেশের উত্তরে তিজুয়ানা থেকে দক্ষিণে চিয়াপাস পর্যন্ত তাদের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে।
শপথ নেওয়ার পর শেইনবম বলেন, ‘এখন রূপান্তরের সময়, এখন নারীদের সময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন মা, একজন দাদী, একজন বিজ্ঞানী এবং একজন বিশ্বাসী নারী এবং আজ থেকে মেক্সিকান জনগণের ইচ্ছায় একজন প্রেসিডেন্ট।’
শেইনবম পুনর্ব্যক্ত করেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বায়ত্তশাসিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের তিনি আশ্বস্ত থাকতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে জাতীয় এবং বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ নিরাপদ হবে।’
রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের জেন্ডার অ্যান্ড পলিটিক্সের অধ্যাপক, জেনিফার পিসকোপো, ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। পিসকোপো বলেছেন, প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে নতুন এক বার্তা দিল মেক্সিকোর মানুষ। তারা এটা দেখাল, নারীরাও যোগ্যতায় পিছিয়ে নেই। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আবার অবাস্তব আকাঙ্ক্ষার চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তিনি বলেছেন, ‘নারী নেতৃত্ব একটি শক্তিশালী প্রতীক। কিন্তু তাদের তো কোনো জাদুকরী ক্ষমতা নেই। সরকারের সামনে যদি থাকে দৈত্যাকার চ্যালেঞ্জ, তবে রূপকথার মতো রাতারাতি সমাধানের আকাঙ্ক্ষা বরং গভীর হতাশাই (নারী নেতৃত্বে) সৃষ্টি করতে পারে।’
মেক্সিকোর সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চ অ্যান্ড টিচিংয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কার্লোস পেরেজ রিকার্ট বলেছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লোপেজ ওবরাদোর ছিলেন প্রচণ্ড ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব। এর জেরেই বেশ কিছু রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ চাপা পড়ে যেত। তবে ক্লডিয়া শেইনবমের সে সুযোগ নেই। তাই যেখানে ওবরাদো যেসব চ্যালেঞ্জ ক্যারিশমা দিয়ে উতরে গেছেন, শেইনবমকে সেই বাধা টপকাতে হতে হবে কার্যোদ্ধারে সক্ষম। সূত্র : রয়টার্স
নিজ দেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পূর্বসম্পর্ক নেই—এমন তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে নির্বাসিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের করা গোপনীয় চুক্তির আওতায় এসব অভিবাসীকে এমন দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে তাদের নাগরিকত্ব, পারিবারিক বা পূর্ববর্তী বসবাসের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক ‘ফরবিডেন স্টোরিজ’ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সোমবার এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করতে শুরু করে। এসব চুক্তির মাধ্যমে যেসব অভিবাসীকে সরাসরি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগত বা বাস্তব কারণে সম্ভব নয়, তাদের অন্য দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জনকে এভাবে তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরও ২৭টি দেশে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোট ৩৫টি দেশের এ ধরনের ব্যবস্থা বা চুক্তি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে; এর মধ্যে অন্তত ২৮টি দেশ ইতোমধ্যে অভিবাসী গ্রহণ করেছে এবং আরও সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
ফরবিডেন স্টোরিজের অনুসন্ধান বলছে, এসব তৃতীয় দেশে নির্বাসন কার্যক্রমের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪১ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ রেখেছে। অর্থের একটি অংশ গ্রহণকারী দেশগুলোর সরকারকে এবং বাকি অংশ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত অর্থের প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে দেওয়ার কথা। বাকি অর্থের বড় অংশ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর মাধ্যমে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এ অর্থের পুরোটা ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে—এমন দাবি অনুসন্ধানে করা হয়নি। বরং এটি সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত বা পরিকল্পিত অর্থের পরিমাণ।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে ২০২৫ সালের মে মাসে গঠিত অপেক্ষাকৃত অজ্ঞাত একটি বিভাগ—‘অফিস অব রিইমিগ্রেশন’—এসব চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও অর্থসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভাগটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
চুক্তিগুলোর শর্ত সব দেশের ক্ষেত্রে এক নয়। কোন দেশের নাগরিকদের গ্রহণ করা হবে, অপরাধের অভিযোগ বা রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের গ্রহণ করা হবে কি না—এসব বিষয়ে দেশভেদে আলাদা শর্ত রয়েছে।
ফরবিডেন স্টোরিজের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে অন্তত ৪৯টি দেশের সঙ্গে তৃতীয় দেশের অভিবাসীদের গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন। এ প্রক্রিয়ায় কিছু আফ্রিকান দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এএফপির আগের এক অনুসন্ধানেও এ ধরনের চাপ প্রয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছিল।
আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা এ নীতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এমন দেশে মানুষকে পাঠানো হচ্ছে যেখানে তাদের কোনো সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্ক নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার সুযোগও সীমিত। এএফপির প্রতিবেদনে আইনজীবীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কিছু নির্বাসিত ব্যক্তি এমন পরিস্থিতিতে পড়ছেন যেখানে তাদের আইনি অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।
তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের সহায়তায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সংস্থা দুটির বক্তব্য, তাদের সম্পৃক্ততার উদ্দেশ্য অভিবাসীদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, তারা এসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পক্ষ নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ তাদের নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী শরণার্থী সুরক্ষা ও আশ্রয়ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আইওএমও বলেছে, তাদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে মূল বিবেচনা হলো এতে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জীবনমান ও নিরাপত্তার উন্নতি হচ্ছে কি না।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চুক্তির বড় অংশের বিস্তারিত প্রকাশ্যে না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের মোট সংখ্যা নিয়ে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ফরবিডেন স্টোরিজ ও তাদের সহযোগী সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সরকারি নথি, ফ্লাইটের তথ্য, অধিকার সংগঠনের উপাত্ত এবং সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে সংখ্যাটি নির্ধারণ করেছে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইও চলছে। বিশেষ করে যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা অন্য গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের অন্য তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সেই দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না—এ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছে।
ফরবিডেন স্টোরিজের অনুসন্ধান বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই তৃতীয় দেশে নির্বাসন নীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে এর স্বচ্ছতা, আইনি প্রক্রিয়া ও নির্বাসিতদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কও বাড়ছে।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে সোমবার মধ্যরাত ও ভোরে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান পৃথক হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন। সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ আক্রমণ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেস তালেবান কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার পাটান গ্রামের একটি বসতবাড়ি লক্ষ্য করে প্রথম দফা বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নিরীহ ব্যক্তি প্রাণ হারান এবং অনেকে আহত হন। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় বোমাবর্ষণ করা হয়। সেখানে তোর কান্দি এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকান এবং রাখায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হলেও কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবে আফগান ভূখণ্ডে পরিচালিত এই সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে সোমবার সকাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানে এই বিমান হামলার মাত্র এক দিন আগেই খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন পাকিস্তানি সেনাসদস্য নিহত হন। পাকিস্তানের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)—যাদের দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করে—আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে পাকিস্তানে নিয়মিত নাশকতামূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। কোহাটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার পেছনেও সীমান্তপারের সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাত রয়েছে বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে।
অন্যদিকে তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে দেওয়া হয় না জানিয়ে তালেবান কর্মকর্তারা এই বিমান হামলাকে আফগানিস্তানের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের আস্তানার পরিবর্তে পাকিস্তানি হামলায় বারবার সাধারণ জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় গোটা সীমান্ত অঞ্চলে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক এই বিচারিক ফোরামটির সঙ্গে প্রায় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক তৎপরতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নতুন এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হওয়ার পর ছয় থেকে সাত মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রম করলেই আইসিসির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের চূড়ান্ত বিধান কার্যকর হবে। অতীতে আদালতের নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এবার পুরো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির ওপর সরাসরি ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের নীতিতে একটি বড় ধরনের আগ্রাসী পরিবর্তন। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই অথবা এর অনতিবিলম্বে এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের আওতায় আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেসহ সংস্থাটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। ওই আদেশে আন্তর্জাতিক আদালতটির বিচারিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছিল। মূলত ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই আদালতটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিচারিক এই সংস্থার ওপর সম্ভাব্য নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির অগ্রগতি ও বিস্তারিত বিষয়ে আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
ইয়েমেনের কৌশলগত জ্বালানি অঞ্চল মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে প্রায় ২৪ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৮০ জনেরও বেশি হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। রবিবার সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি। তিনি জানান, সরকারি বাহিনীর তীব্র প্রতিআক্রমণের মুখে হুতিদের নয়টি সামরিক যান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং বহু যোদ্ধা নিজেদের অবস্থান ছেড়ে রণাঙ্গন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত মারিবের দক্ষিণাঞ্চলের হারেরব, মালা ও উম রাইশসহ বিভিন্ন সম্মুখসারিতে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি পদাতিক বাহিনী বিমান ও ড্রোনের কার্যকর সহায়তা নিয়ে হুতিদের অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করে দেয়। এ সময় মারিবের সম্মুখভাগে থাকা হুতিদের সমাবেশস্থল, গোলাবারুদ ও সামরিক রসদবাহী বহর এবং শক্ত ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।
মারিব প্রদেশটি বিপুল তেল-গ্যাস ক্ষেত্র ও বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উপস্থিতির কারণে ইয়েমেনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অর্থনৈতিক অঞ্চল। এছাড়া যুদ্ধ ও সংঘাতের মুখে বাস্তুচ্যুত হওয়া বিশ লাখেরও বেশি মানুষ বিগত এক দশকে এ অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নগরী দখলের উদ্দেশ্যে অতীতে হুতিরা বারবার বড় ধরনের অভিযান চালালেও সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অঞ্চলটিতে বড় আকারের সংঘাত সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়েছিল।
এদিকে তীব্র লড়াইয়ের পর মারিবের বাইরের বেশ কিছু অবস্থান থেকে হুতিরা পিছু হটেছে বলে দাবি করেছেন আল-হাতেমি। বিপরীতে শনিবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদাসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও ছিলেন। আল-হাতেমির অভিযোগ, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মনোবল টিকিয়ে রাখতে হুতি গোষ্ঠী তাদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করে তুলনামূলক কম সংখ্যা প্রকাশ করছে। এছাড়া মারিবের বাইরে সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় সংঘর্ষের পর কৌশলগত ‘নোমান পাহাড়’-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়া থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশিদের স্থানান্তরের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে স্পেনে বিচার শুরু হয়েছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা বলে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৩ হাজার ইউরো আদায় করে নিতো চক্রটি। তবে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার বদলে তাদের আটলান্টিক মহাসাগরে ছোট নৌকা কিংবা রাবারের নৌকায় তুলে দেওয়া হতো।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার মানবপাচার চক্রগুলো তাদের অনিয়মিত অভিবাসন ব্যবসা এশিয়ায় সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। এই প্রবণতা মোকাবিলায় স্পেনের পুলিশ মৌরিতানিয়ার জন্দারমেরি বা আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। কয়েক মাস ধরে ক্যানারির এল হিয়েরো ও লানজারোতে আসা নৌকাগুলোতেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব নৌকায় শুধু মালি, সেনেগাল বা গাম্বিয়ার নাগরিকরাই নন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকরাও ছিলেন। এই ধরনের একটি বড় অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া এক মানবপাচারকারী চক্রের মামলার বিচার বুধবার লাস পালমাস আদালতে শুরু হয়েছে। এই চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ নামে পরিচিত এক বাংলাদেশি নাগরিক। মৌরিতানিয়ায় তার একাধিক রেস্তোরাঁ ছিল।
৫২ বছর বয়সি মোহামেদ এসএসকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৌরিতানিয়ার কর্তৃপক্ষ স্পেনের কাছে হস্তান্তর করে। স্পেনের পুলিশ তাকে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মৌরিতানিয়া, সাহারা ও মরক্কো থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে ৭৩টি নৌযান পাঠানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। এসব নৌযানে প্রায় তিন হাজার ৬০০ মানুষ ছিলেন। এ ছাড়া সমুদ্রে আরও ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৎকালীন পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির হাতে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পর স্পেনের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর সহিংসতা চালাতেন এবং নির্ধারিত অর্থের বাইরে আরও টাকা আদায়ের জন্য তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন। এমনকি বিভিন্ন সময় তাদের অপহরণ করে আটকে রাখা, মারধর করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
দুই দেশের পুলিশের সহযোগিতার ফলে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট মৌরিতানিয়ায় ‘মাস্টারমাইন্ড’কে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলার দায়িত্বে থাকা স্পেনের আদালতের জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয়।
আগামী সপ্তাহে গ্রান কানারিয়ার রাজধানী লাস পালমাসে ওই চক্রের আরেক সহযোগী এসএমের বিচার শুরু হবে। তিনিও বাংলাদেশি নাগরিক। অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তা করার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ করার অভিযোগে তার চার বছর নয় মাসের কারাদণ্ড চেয়েছে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সরকারি কৌঁসুলির দফতর।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২২ সালে ফুয়ের্তেভেনতুরা ও গ্রান কানারিয়ায় পৌঁছানো তিনটি নৌকা সংগঠিত করার সঙ্গে এসএম জড়িত ছিলেন। ওই তিনটি নৌকায় মোট ১৬৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি এবং তিনজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন।
সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, এসএম ‘মাস্টারমাইন্ড’এবং চক্রটির আরেক বাংলাদেশি নেতা এইচএ-র পরিচালিত লজিস্টিক ব্যবস্থার অংশ ছিলেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চক্রটি মৌরিতানিয়ায় সংগ্রহ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাময়িকভাবে থাকার ব্যবস্থা করত। পরে তারা মরক্কো, সাহারা ও মৌরিতানিয়ায় থাকা ‘পাসাদোরেস’ বা পাচারকারীদের কাছ থেকে নৌপথে পাঠানোর সেবা ভাড়া করত।
‘মাস্টারমাইন্ড’-এর একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন এসএম। সরকারি কৌঁসুলির অভিযোগ অনুযায়ী, মৌরিতানিয়ায় পৌঁছানো বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পাঠানোর অপেক্ষায় রাখার জন্য তিনি ‘বাসস্থান খুঁজে বের করা এবং নিজের নামে ভাড়া নেওয়ার’ দায়িত্ব পালন করতেন। প্রত্যেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর কাছ থেকে এর জন্য তিনি ২০০ ইউরো করে নিতেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রথমে মৌরিতানিয়া, আলজেরিয়া বা মরক্কোতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা এবং পরে তাদের স্পেনে পাঠানোর পরিকল্পনা ও সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের অক্টোবরে গ্রান কানারিয়ায় এসএমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনিও একটি ছোট নৌকায় করে ওই দ্বীপে পৌঁছেছিলেন। নৌযাত্রার এক সহযাত্রী এবং দুই বছর আগে দ্বীপটিতে উদ্ধার হওয়া আরেক অভিবাসনপ্রত্যাশী তাকে শনাক্ত করেন। তারা দুজনই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য তারা এসএমের সংগঠনকে অর্থ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া শর্ত না মানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গালিবাফ বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী আগের অবস্থায় ফিরবে না। একই কারণে আলোচনাও আগের পর্যায়ে ফিরবে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ আমাদের শর্তগুলো পূরণ না হবে, ইরানিদের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া হবে এবং মার্কিনিরা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করবে, ততক্ষণ হরমুজ তার পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাবে না।’
গালিবাফ আরও বলেন, একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশটি তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ওই চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত মেনে আগের অবস্থানে ফিরলে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনেই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা নির্মূলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘শিক্ষা ব্যবস্থা : কুমিল্লা কনসেপ্ট’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বড় সমস্যা তৈরি করছে। এই সমস্যা দূর করতে শিক্ষাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রতিটি এলাকার শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদের একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. মিলন।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরম অভিভাবকতুল্য। প্রতিটি শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ ও যত্নে আগলে রাখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা সভায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম ‘কুমিল্লা কনসেপ্ট’-এর মূল রূপরেখা তুলে ধরেন। এ ধারণায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘কুমিল্লা কনসেপ্ট’-এর লক্ষ্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষামুখী না করে বাস্তবজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তোলা এবং কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারসহ ‘কুমিল্লা কনসেপ্ট’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই ক্যাম্প ডেভিডের সফর সংক্ষিপ্ত করে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে মেরিল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে গিয়েছিলেন। সেখানে তার শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাত ৮টার ঠিক আগে ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি এলিপসে অবতরণ করে। পরে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের মেরিন ওয়ানে ওঠার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
কেন তিনি নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ক্যাম্প ডেভিড ছেড়ে ফিরেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার ক্যাম্প ডেভিড থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার কথা ছিল।
ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে ফেরার সময়ের সঙ্গে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা নতুন নিরাপত্তা সতর্কতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। শনিবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ‘বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন’ করার ও সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে নতুন হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই সামরিক সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অঞ্চলটিতে যাওয়া ও সেখান দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যারা মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া বা সেখান থেকে ফেরার জন্য ভ্রমণ করবেন, তাদের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছে, ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর ইয়ানবুতে থাকা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের এই হামলার চেষ্টা চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর রিয়াদকে লক্ষ্য করে তাদের প্রথম হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে এমনিতেই উদ্বেগের মধ্যে হুতিদের নতুন হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা পরিস্থিতির ঝুঁকিকে আরও সামনে এনেছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে ফিরে আসার কারণ হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ করেনি।
রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী পার্লামেন্ট নির্বাচনে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেষদিনের মতো ভোটগ্রহণ চলছিল। এদিন ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকা। এতে দুজন নিহত ও একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় ১ হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানির দাবি, নির্বাচন ব্যাহত করার লক্ষ্যে ইউক্রেন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু শত্রুরা সফল হয়নি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ায় প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। শক্ত কোনো বিরোধী দল না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় ব্যবধানে জয়ী হবে।
দখলকৃত ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলেও ভোটের আয়োজন করেছে মস্কো। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেননি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘গত (গতকাল) রাতে মস্কো অঞ্চলে চালানো দূরপাল্লার হামলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে রাশিয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে যুদ্ধ সচল রেখেছে।’
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল কাপোতনিয়া জেলায় অবস্থিত গাজপ্রমনেফত-মস্কো তেল শোধনাগার। উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার।
মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাশিয়াজুড়ে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০টি রাজধানীর দিকে আসছিল। কয়েকটি ড্রোন মস্কো তেল শোধনাগারের এলাকায় পৌঁছায় এবং একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে করে তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই-তিন বছর বয়সি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ।
জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, একটি বাড়িতে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে মা ও তার দুই শিশুসন্তান নিহত হন। পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় আহত এক কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো।
তিনি জানান, এক দিনের বেশি সময় ধরে কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। পাঁচটি জেলার ৩১টি স্থাপনা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফাস্তিভ জেলা। সেখানে ২৪টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বসতবাড়ি, শিল্প ও ইউটিলিটি স্থাপনা, একটি কৃষি প্রতিষ্ঠানের জায়গা এবং বিভিন্ন যানবাহন।
সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। ইয়েমেনের হুতিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুর্কি সরকার। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত বিষয়ে সহায়তা চাইলে তা দিতে আঙ্কারার কোনো আপত্তি নেই।
ফিদানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব-তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
গত ৭ আগস্ট তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল কথা হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ব্যবস্থা ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সৌদিকে কী সহায়তা দিতে পারে তুরস্ক
গত শনিবার তুর্কি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হুতিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে সৌদি আরব সহায়তা চাইতে পারে।
এসব প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি। তবে তুরস্ক ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি ফিদান। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী তুরস্ক এরই মধ্যে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। হামলা দ্রুত বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে তারাটি।
সৌদি আরবের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মিত্রদেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে বলে দাবি করেছেন কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবেইদ। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, হুথিদের হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়া গড়ে উঠছে।
তার দাবি, এই প্রতিক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোবে। এতে স্থল, নৌ ও আকাশ—তিন ধরনের সামরিক সক্ষমতাই থাকতে পারে। সৌদি আরবে অস্ত্রব্যবস্থা সরানো এবং লোহিত সাগরে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওবেইদ। তিনি তুরস্ককে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। মিশরও সীমিত ভূমিকায় যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা তার।
অন্যদিকে, দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি মনে করেন, সৌদি আরব মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা পেলেও তারা সরাসরি যুদ্ধের অংশ হতে আগ্রহী কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
তার মতে, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র ও রসদসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর বা যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় যুক্ত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থাকে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে পরিচিত করে। ইস্তাম্বুলে বৈঠকের পর তিন দেশ রিয়াদে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রথম পর্যায়ে এর মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যৌথ প্রতিরক্ষা। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তির সময় ফিদান বলেছিলেন, পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই এই জোটের ভিত্তি। অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে।
এদিকে হুতিদের হামলার পর পাকিস্তানও সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, সৌদি আরবের পাশে ‘কূটনৈতিক ও শারীরিকভাবে’ থাকবে পাকিস্তান। ‘শারীরিকভাবে’ থাকার বিষয়টিতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছে, হুতিদের হামলার পর মক্কা চুক্তির আওতায় সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তারপরও চুক্তির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে বলেছিলেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে। তবে কোন পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সৌদিতে বাড়ছে হুতিদের হামলা
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, শনিবার ভোরে হুথিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশা, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ইয়েমেনের ভেতরেও লড়াই তীব্র হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর দাবি, দক্ষিণ মারিবের আল-ফুলিয়াহান এলাকায় হুথিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে ১২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। মারিব ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল। লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখলের পর হুতিরা মারিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম লেভি বা জ্বালানিতে বাড়তি শুল্ক বাতিল করা না হলে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সরকার হটানোর আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। এমনটাই সতর্ক করেছেন দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে জামায়াতের সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি ট্রেনমার্চ নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্দেশে দলটির প্রতিবাদ মিছিলে রওনা হন।
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘মিছিলটি হায়দরাবাদ, লান্ডি, নওয়াবশাহ, রোহরি ও সুক্কুর হয়ে যাবে। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর সেখানে ‘‘আমাদের বোনদের’’ ও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হব’ বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি ও জাতিকে এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তিনি এই বিক্ষোভকে একটি ‘‘বিপ্লবী সংগ্রাম’’ হিসেবে বর্ণনা করেন।’
সমর্থকদের উদ্দেশে নাঈমুর রহমান বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন রুট দিয়ে মানুষ ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই মিছিলের উদ্দেশ হলো সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করা।’ যেসব মানুষ অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না, তারাও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের খারাপ শাসনের মূল্য জাতিকে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি করছি, লেভির নামে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তাহলে পেট্রোলের দাম দ্রুত কমে প্রতি লিটারে প্রায় ২০০ রুপিতে নেমে আসবে। তখন অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারবে।’ নাঈমুর রহমানের দাবি, এই অঞ্চলের অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের তুলনায় পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম বেশি বাড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংকটের সময়ে সরকার সাধারণ মানুষকে লুট করতে চায়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর উচ্চমূল্যের সমালোচনা করে তিনি পেট্রোলিয়াম, গম ও চিনিশিল্পকে ‘মাফিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কার্টেল পাকিস্তানের মানুষকে লুট করছে। আমরা যদি এটা সহ্য করতে থাকি, তাহলে তারা আমাদের আরও লুট করবে।’
নাঈমুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই।’ অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষকে ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান তিনি। নাঈমুর রহমান বলেন, ‘গত ৩৬-৩৭ দিন ধরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে হায়দরাবাদ, সুক্কুর, মিরপুর খাস, লারকানা, নওশাহরো ফিরোজ, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাট এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী পুরো পাকিস্তানকে সংগঠিত করেছে।’
নাঈমুর রহমান আরও বলেন, ‘কোনো বাধাই বিক্ষোভকারীদের থামাতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘লেভি চালু রাখা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে এবং তা শেষ পর্যন্ত সরকারকে হটানোর আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যখন ইসলামাবাদে পৌঁছাব, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ সরকার আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জ্বালানি লেভির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে বিক্ষোভ করে আসছে। বর্তমানে এই লেভির পরিমাণ প্রতি লিটারে ১০০ রুপিরও বেশি।
ইসরায়েলের কাছে অতিমাত্রায় সংহারক ও একেকটি প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০৭ কেজি ওজনের মোট ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কয়েক শ কোটি ডলারের এ সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে প্রাথমিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৮০ কোটি ডলার মূল্যের এ বিশাল অস্ত্র চুক্তির ব্যয়ের সিংহভাগই মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে, যার মূল জোগানদাতা দেশটির সাধারণ করদাতারা। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক সহিংসতা এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের তীব্রতার মধ্যেই এত বিপুলসংখ্যক প্রাণঘাতী বোমার চালান পাঠানোর এই বিতর্কিত উদ্যোগ সামনে এলো।
প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন মূলত তিন ধরনের ভারী যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা এবং ভূগর্ভস্থ শক্ত অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা, যা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত। এর মধ্যে এমকে-৮৪ বোমাটি লক্ষ্যস্থলের শত শত মিটার দূর পর্যন্ত যেকোনো মজবুত স্থাপনা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। বিএলইউ-১১৭ বোমাটি নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এবং সমুদ্রবাহী জাহাজে নিরাপদে সংরক্ষণে বিশেষ তাপপ্রতিরোধী প্রলেপযুক্ত। অপরদিকে আই-২০০০ বোমাটির পুরু ধাতব আবরণ ভূগর্ভস্থ সুদৃঢ় কংক্রিট ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারদর্শী। প্রাতিষ্ঠানিক নীতির কথা উল্লেখ করে প্রস্তাবিত এ অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে বেসামরিক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে জো বাইডেন প্রশাসন ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও হোয়াইট হাউসে ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন এবং কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ছাড়াই শত শত কোটি ডলারের ধারাবাহিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে ইরাকে ‘অপারেশন অপেরা’ অভিযানে এই ভারী বোমা প্রথম ব্যবহারের পর লেবানন, সিরিয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ঘন ঘন এ মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণী সংস্থাগুলোর মতে, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরিত হলে তার ১১৫ ফুটের ভেতরের সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং মাটির গভীরে বিশাল গহ্বর তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, থার্মাল ও রাসায়নিক সংমিশ্রণে প্রস্তুত এসব বোমা বিস্ফোরণের সময় আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা তৈরি করে, যার প্রভাবে গাজায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ বোমার তাপে মুহূর্তে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন।
প্রস্তাবিত ৬০ হাজার বোমার সম্মিলিত ওজন প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন, যা নিউইয়র্কের সুবিশাল এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের কাঠামোগত মোট ইস্পাতের সমান কিংবা আইফেল টাওয়ারের মূল কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ ভারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টোকিওতে চালানো হামলায় ব্যবহৃত মোট বোমার তুলনায় এটি প্রায় ৩৫ গুণ বেশি এবং এটি বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়ে জার্মানির বার্লিনের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের সমপরিমাণ। এমন এক সময়ে ওয়াশিংটন এই বিপুল সমরাস্ত্র সরবরাহ করছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতে টান পড়েছে বলে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক নজরদারি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও মার্কিন অস্ত্রের পর্যাপ্ততা নিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এ আধুনিক অস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
এদিকে করদাতাদের অর্থে ইসরায়েলকে এই বিপুল পরিমাণ বিধ্বংসী বোমা সরবরাহের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার টাকার কার্লসন একে নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের হাতিয়ার বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন প্রস্তাবিত অস্ত্র চালানটি কংগ্রেসে আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন তহবিলের এমন ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সাবেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মার্জোরি টেলর গ্রিনও এই সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে এমন মারণাস্ত্রে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে আনুষ্ঠানিক আলোচনার লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দফা শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন যদি তেহরানের এসব প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে সরাসরি ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ মুখোমুখি হওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছে দেশটি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানান, তাদের দেওয়া শর্তগুলো কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে পৌঁছানো হয়েছে এবং তেহরান এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। মূল প্রস্তাবগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই উল্লেখ করেন যে, আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরানের বার্তা সুস্পষ্ট ও অনড়; নিজ সৃষ্ট জটিল সংকট থেকে ওয়াশিংটন যদি নিষ্কৃতি পেতে চায়, তবে ইরানের ন্যায্য অধিকার ও দেওয়া শর্তগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প নেই।
আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে মহসিন রেজাই আরও সতর্ক করে বলেন, ‘এই শর্তগুলো মেনে নেওয়াই ওয়াশিংটনের স্বার্থে ভালো হবে। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না, আমরা যে কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য শতভাগ প্রস্তুত।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী সমঝোতার মেয়াদ সমাপ্তির পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় সংলাপ শুরুর জন্য কাতার ও পাকিস্তান জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে যে বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা নিরসনে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোও সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে রেজাই জানান, নতুন করে মার্কিন বিমান হামলার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে অতীতের সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে ইরান তাদের সামরিক কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরজুড়ে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যস্থল করে এই নতুন প্রতিরোধ কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি মার্কিন রণতরীর সন্নিকটে একাধিক ওয়ারহেডবাহী দূরপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও তাদের বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা ও স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার নিরিখে যুদ্ধ এখনো চলছে।’ তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে তেহরান কৌশলগত নীতি অনুসরণ করছে। অপরদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি; যদিও ওয়াশিংটনের বৈরী আচরণ তাদের এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য করতে পারে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানের পরমাণু নীতি এখনও আগের জায়গায় বহাল রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের বিষয়ে তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ফতোয়ার বিধান তারা কঠোরভাবে মেনে চলছে।