শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাইডেন ও হ্যারিস দেশগুলোকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে: ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১৫:২৯

সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেন্ডেন্টের বরাতে জানা যায় তিনি বলেছেন, ‘জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস দেশগুলোকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।’

প্রতিবেদনের তথ্যমতে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব আগুনে জ্বলছে এবং বর্তমান মার্কিন নেতৃত্ব তা প্রতিরোধে কিছুই করছে না, এমন অভিযোগ আনেন ট্রাম্প। তাদের (ডেমোক্রেটিক পার্টি) কোনো নেতৃত্ব নেই, দেশ পরিচালনার কেউ নেই। জো বাইডেন তাদের একজন অস্তিত্বহীন প্রেসিডেন্ট। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও এখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

এদিকে ক্ষমতায় থাকাকালীন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতিতে ইরানের সঙ্গে অনেকটা সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিলো ট্রাম্পের। তার নির্দেশেই হত্যা করা হয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের জনপ্রিয় জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে। ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকেও বের করে এনেছিলেন ট্রাম্প। আবার সম্প্রতি ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর শোনা যাচ্ছে, তাকে হত্যার ছক কষছে ইরান।

উল্লেখ্য, রাতারাতি ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে আবারও সবার নজর নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে যুদ্ধ বাঁধিয়ে রাখা ইসরায়েল, নিজেই এবার হামলার শিকার হয়ে হতভম্ব। গত মঙ্গলবার ইরান থেকে যখন একের পর এক মিসাইল ছোড়া হয় ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে। এতে আশ্রয়ের জন্য দেশটির বাসিন্দাদের এদিক-সেদিক ছুটতে দেখা যায়।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের সমাপ্তি: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, ইরান এ সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তাই যুক্তরাষ্ট্র আসলেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী কি না, সে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনকেই গ্রহণ করতে হবে।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণেও ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো ধরনের মার্কিন চাপের কাছে তেহরান কখনোই নতি স্বীকার বা আত্মসমর্পণ করবে না।

বর্তমানে এই সংঘাত কীভাবে সমাপ্ত হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হতে পারে। তবে একই সঙ্গে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালায়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ বাসিন্দা।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অকার্যকর ও দুর্বল করাই তাদের সামরিক তৎপরতার অন্যতম মূল লক্ষ্য। তবে তেহরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োজনে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং গবেষণার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।


নির্বাচিত

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে তীব্র বিক্ষোভ, আটক শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জোরালো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের দায় নিশ্চিত করা এবং তেল আবিবকে দেওয়া ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে ১০৩ জনকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারী জোসে নামের এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমি নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মেছি ও বড় হয়েছি। এখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি সম্পূর্ণ অসম্মানজনক। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আমরা তা মেনে নিই না।’

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ ভবনের সন্নিকটে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে চার শতাধিক মানুষ সমবেত হন বলে তথ্য দিয়েছে ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি)। রাজনীতিবীদ, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অবস্থান কর্মসূচিতে ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের সড়ক আটকে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। জেভিপি এবং এনওয়াইসি-ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যৌথভাবে এই আন্দোলনের ডাক দেয়। ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য নাস ইসা আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমরা দেখছি, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বিশ্বদর্শন প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাদের সেই বিশ্বব্যবস্থা শক্তি প্রয়োগ ও দায়মুক্তির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোয় স্থানীয় বিমানবন্দর ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সরব হন আন্দোলনকারীরা। এর আগের দিন জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সামরিক সহায়তা ও গোলাবারুদ পাঠানো বন্ধের পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের রাস্তা খালি করার নির্দেশ দিয়ে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ আল জাজিরাকে জানায়, বিশৃঙ্খল আচরণের দায়ে ১০৩ জনকে আটক করা হলেও পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থী ছিলেন। আটক হওয়া ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্থান হেগে, নিউইয়র্কের রাস্তায় নয়। আর অবশ্যই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও তার নয়।’

জেভিপির অন্যতম সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল ক্যারেল জানান, একজন ইহুদি নিউইয়র্কবাসী হিসেবে মার্কিন করদাতাদের অর্থ গাজা যুদ্ধে না পাঠিয়ে দেশের অভ্যন্তরে জনকল্যাণে ব্যয় করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের করের টাকা শিশুদের ওপর বোমা হামলায় ব্যয় হোক। আমরা চাই এই অর্থ এখানকার স্কুলগুলোতে ব্যয় করা হোক।’ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনেক সহযোদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এখানে থাকব। এই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

দিবসটির পরবর্তী অংশে ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্ট ও দ্য পিপলস ফোরামের আহ্বানে আরও কয়েক হাজার মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তর অভিমুখে বিশাল মিছিল বের করেন। সেখানে ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সংগঠক তাহের দাহলেহ আল জাজিরাকে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেন এই শহরে মাত্র ১০ ঘণ্টা থাকতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট। এই শহর আন্তর্জাতিক আইনের পলাতক ব্যক্তি বা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য কখনো নিরাপদ আশ্রয় হবে না।’


নির্বাচিত

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা কলম্বিয়ার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সমস্ত আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

কলম্বিয়ায় নতুন কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার পর থেকেই দেশটির আন্তর্জাতিক মৈত্রী ও কূটনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে। গত ৭ আগস্ট সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে এসপ্রিয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে আসছেন। ক্ষমতায় আসার আগেই তিনি কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বামপন্থি নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক ত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে সেই দুই দেশের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কলম্বীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর রূপ নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বোগোতা উল্লেখ করেছে, মূলত ‘এই অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়া হয়েছে।

কলম্বিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ জনসমক্ষে না এনেই অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনায় ইরানের ভূমিকা, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জলযান চলাচলে বাধা প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তেহরানের অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে কনস্যুলার ও নাগরিক সেবা সংক্রান্ত দাপ্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া।


নির্বাচিত

আদালতের নির্দেশে হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে আদালতের আদেশের পর সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এর আগে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর যৌথ আইনি পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ টিম কেলি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ওপর ১৪ দিনের স্থগিতাদেশ জারি করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশপত্র (প্রেস পাস) বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্ভবত তাদের ‘সাংবিধানিক যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে।’ একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে মার্কিন বিচার বিভাগের তোলা ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’র যুক্তিও নাকচ করে দেন বিচারক।

তবে আদালতের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও গত বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করা হয়। এ সময় পলিটিকোর সাংবাদিকের প্রবেশপত্র জব্দ করা হয় এবং এমএস নাও ও সিএনএনের সংবাদকর্মীদেরও ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে জরুরি শুনানির আবেদন জানায়। এর জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস অপারেশন ডিরেক্টর মিকাহ স্টপারিচ আদালতের কাছে নিশ্চিত করেন যে, সকাল থেকেই প্রেস ব্যাজ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং ‘সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ প্রবেশদ্বারে সাংবাদিকদের জন্য ব্যাজগুলো রেখে আসা হয়েছে’। প্রশাসনিক এই নিশ্চয়তাপত্র পাওয়ার পর বিচারক তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদন নিষ্পত্তি করেন, তবে পরবর্তী সময়ে বাস্তব পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা আদালতকে অবগত করার সুযোগ বহাল রাখেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মূলধারার গণমাধ্যমের এই তীব্র সংঘাত এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংকে আতিথেয়তা প্রদান করছেন। সিএনএনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউস টেলিভিশন প্রেস পুল আগেই তাদের যৌথ কভারেজ স্থগিত রেখেছিল। ফলে গত বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে চীনা প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে কোনো পুল ক্যামেরা উপস্থিত ছিল না এবং ফক্স নিউজ, এমএস নাও ও সিএনএন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকে। ওভাল অফিসে সি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ট্রাম্প আলোকচিত্রীদের সামনে রসিকতা করে মন্তব্য করেন, চীনা সাংবাদিকদের আচরণই সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তার অভিযোগ ছিল, সংবাদমাধ্যমগুলো ‘কল্পকাহিনী ও মিথ্যা’ প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি তোলে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ এবং রিপাবলিকান কনভেনশনের উপস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর ছিল। তবে বিচারক কেলি তার আদেশে স্পষ্ট ভাষায় জানান, সংবাদমাধ্যমগুলোর পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা পাবে—এমন দাবির সপক্ষে নথিপত্রে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি।

আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর কৌঁসুলি থিওডোর বুট্রোস বলেন, ‘এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখার পক্ষে এক জোরালো রায়। আদালতের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’

উল্লেখ্য, বিচারক কেলির এই আদেশের আগের দিনই ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্য একটি আইনি মামলায় ধাক্কা খান। গত বুধবার আইওয়ার একটি আদালত ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে পরিচালিত একটি জনমত জরিপ সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সংবাদপত্র ‘ডেস ময়েস রেজিস্টার’ এবং জরিপকারী জে. অ্যান সেলজারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, বিতর্কিত ওই জরিপটি আইনগতভাবে স্বাধীন মতপ্রকাশের সুরক্ষার আওতায় ছিল।


নির্বাচিত

হুতি ইস্যুতে রিয়াদকে সহায়তায় ‘মক্কা প্যাক্টের’ সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার এবং সৌদি আরবকে সমন্বিত সামরিক সহায়তা প্রদানের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হুতিদের প্রতিহত করতে সেনাদের প্রয়োজনে আত্মাহুতি দেওয়ার আহ্বান জানায়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র হামলার পাশাপাশি সম্প্রতি সৌদি আরবের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। গত বৃহস্পতিবার তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করে। বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হুতিদের ছোড়া অন্তত ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ এর আগেই পবিত্র মক্কা নগরী, জেদ্দা এবং লোহিত সাগরের প্রধান তেল বন্দর ইয়ানবুসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি হুতিদের ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত সেনাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এবং প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এক যৌথ পরামর্শ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে মক্কা ও বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি আত্মরক্ষায় সৌদি আরবের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করা হয়।

সৌদি আরবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার উপায় খতিয়ে দেখতে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করেছেন। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে সব পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাক্তারোগ্লু গতকাল শুক্রবারই সৌদি আরব সফরে গিয়ে সৌদি ও পাকিস্তানি সমকক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। তবে তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হতে পারে বলে আঙ্কারার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুতিদের তৎপরতা থেকে তার দেশকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হুতিরা তাদের নিজস্ব কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।’

অন্যদিকে কাতারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রেখে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাংবাদিকদের জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবের শর্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়সহ তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। আরাগচি উল্লেখ করেন, সব শর্ত পূরণ হলে শেষ দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এরপর পারমাণবিক বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এই সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা হয়। এ যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তাদের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে তৃতীয় দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে লেনদেন করছে তাদের ওপর ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ আরোপ করেছে। এর প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানি বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর আকার ধারণ করেছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের সমাপ্তি: পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, ইরান এ সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তাই যুক্তরাষ্ট্র আসলেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী কি না, সে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনকেই গ্রহণ করতে হবে।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণেও ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো ধরনের মার্কিন চাপের কাছে তেহরান কখনোই নতি স্বীকার বা আত্মসমর্পণ করবে না।

বর্তমানে এই সংঘাত কীভাবে সমাপ্ত হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হতে পারে। তবে একই সঙ্গে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালায়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ বাসিন্দা।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অকার্যকর ও দুর্বল করাই তাদের সামরিক তৎপরতার অন্যতম মূল লক্ষ্য। তবে তেহরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োজনে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং গবেষণার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।


নির্বাচিত

 যুদ্ধের তীব্রতায় ইয়েমেনে শিশুদের অপুষ্টি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে: ইউনিসেফ

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। শুক্রবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

এডেন থেকে জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ইয়েমেনে ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অখিল আইয়ার বলেন, "শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির স্পষ্ট বৃদ্ধিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।"

ইউনিসেফ জানায়, সম্প্রতি সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ পুষ্টি দলগুলো যেসব এলাকায় পৌঁছাতে পেরেছে, সেখানে প্রায় ২ হাজার ৯০০ শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের এক-চতুর্থাংশের বেশি তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও মারাত্মক।

ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত ছিল। তবে সম্প্রতি সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান সমর্থিত হুথিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহর এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় পুরোনো যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে হুথিদের অগ্রযাত্রার কারণে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

এই সংঘাতের ফলে দেশটিতে নতুন মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, কেবল গত তিন সপ্তাহেই প্রায় ৭১ হাজার শিশু গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের নতুন আশ্রয়শিবিরগুলোতে সংস্থাটির কর্মীরা প্রতিদিন শিশুদের অপুষ্টির নতুন নতুন ঘটনা প্রত্যক্ষ করছেন। তবে এটি সামগ্রিক সংকটের একটি ক্ষুদ্র চিত্র মাত্র। চলতি বছরে ইয়েমেনে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৫ লাখেরও বেশি শিশু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছে।


নির্বাচিত

রিয়াদে জরুরি বৈঠকে বসছেন তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদানের উপায় খতিয়ে দেখতে তিন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের (চিফস অব স্টাফ) একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম সৌদি গ্যাজেট-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে এই ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সেনাপ্রধানদের আসন্ন জরুরি বৈঠকের চলমান প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রিয়াদকে কী কী প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে, সেনাপ্রধানদের বৈঠকে তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী—চুক্তির অন্তর্ভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

বৈঠকে তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

এ ছাড়া বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল (মেরিটাইম নেভিগেশন) নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা।

অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উত্তেজনা প্রশমন এবং চলমান সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।


নির্বাচিত

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা কলম্বিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সমস্ত আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

কলম্বিয়ায় নতুন কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার পর থেকেই দেশটির আন্তর্জাতিক মৈত্রী ও কূটনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে। গত ৭ আগস্ট সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে এসপ্রিয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে আসছেন। ক্ষমতায় আসার আগেই তিনি কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বামপন্থী নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক ত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে সেই দুই দেশের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কলম্বীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর রূপ নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বোগোতা উল্লেখ করেছে, মূলত ‘এই অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়া হয়েছে।

কলম্বিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ জনসমক্ষে না এনেই অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ‘মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনায় ইরানের ভূমিকা, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জলযান চলাচলে বাধা প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তেহরানের অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে কনস্যুলার ও নাগরিক সেবা সংক্রান্ত দাপ্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া।


নির্বাচিত

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে তীব্র বিক্ষোভ, আটক শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জোরালো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের দায় নিশ্চিত করা এবং তেল আবিবকে দেওয়া ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে ১০৩ জনকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারী জোসে নামের এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমি নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মেছি ও বড় হয়েছি। এখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি সম্পূর্ণ অসম্মানজনক। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আমরা তা মেনে নিই না।’

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ ভবনের সন্নিকটে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে চার শতাধিক মানুষ সমবেত হন বলে তথ্য দিয়েছে ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি)। রাজনীতিবীদ, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অবস্থান কর্মসূচিতে ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের সড়ক আটকে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। জেভিপি এবং এনওয়াইসি-ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যৌথভাবে এই আন্দোলনের ডাক দেয়। ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য নাস ইসা আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমরা দেখছি, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বিশ্বদর্শন প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাদের সেই বিশ্বব্যবস্থা শক্তি প্রয়োগ ও দায়মুক্তির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোয় স্থানীয় বিমানবন্দর ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সরব হন আন্দোলনকারীরা। এর আগের দিন জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সামরিক সহায়তা ও গোলাবারুদ পাঠানো বন্ধের পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের রাস্তা খালি করার নির্দেশ দিয়ে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ আল জাজিরাকে জানায়, বিশৃঙ্খল আচরণের দায়ে ১০৩ জনকে আটক করা হলেও পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থী ছিলেন। আটক হওয়া ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্থান হেগে, নিউইয়র্কের রাস্তায় নয়। আর অবশ্যই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও তার নয়।’

জেভিপির অন্যতম সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল ক্যারেল জানান, একজন ইহুদি নিউইয়র্কবাসী হিসেবে মার্কিন করদাতাদের অর্থ গাজা যুদ্ধে না পাঠিয়ে দেশের অভ্যন্তরে জনকল্যাণে ব্যয় করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের করের টাকা শিশুদের ওপর বোমা হামলায় ব্যয় হোক। আমরা চাই এই অর্থ এখানকার স্কুলগুলোতে ব্যয় করা হোক।’ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনেক সহযোদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এখানে থাকব। এই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

দিবসটির পরবর্তী অংশে ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্ট ও দ্য পিপলস ফোরামের আহ্বানে আরও কয়েক হাজার মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তর অভিমুখে বিশাল মিছিল বের করেন। সেখানে ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সংগঠক তাহের দাহলেহ আল জাজিরাকে বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেন এই শহরে মাত্র ১০ ঘণ্টা থাকতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট। এই শহর আন্তর্জাতিক আইনের পলাতক ব্যক্তি বা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য কখনো নিরাপদ আশ্রয় হবে না।’


নির্বাচিত

কঙ্গোয় ১০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৪১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্য আফ্রিকার রাষ্ট্র ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর টাঙ্গানিকা হ্রদে পণ্য ও প্রায় একশত আরোহীসহ একটি নৌযান নিমজ্জিত হয়ে কমপক্ষে ৪১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯ জনকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর ছেড়ে ডিআর কঙ্গোর কালেমি শহরের অভিমুখে যাওয়ার পথে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাপেরা গ্রামের সন্নিকটে জলযানটি তলিয়ে যায়। ডিআর কঙ্গোর টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোয়ি এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘ-সমর্থিত রেডিও ওকাপিকে জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে ঘুমন্ত যাত্রীরা হঠাৎ জেগে ওঠেন। এ সময় তারা দেখতে পান নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি পানিতে ডুবে যায়।

নৌযানটি ডুবে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার না হলেও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের চরম ঘাটতিই ডিআর কঙ্গোতে ঘন ঘন নৌদুর্ঘটনার মূল কারণ। দেশটিতে বিগত বছরগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রাণঘাতী নৌবিপর্যয় ঘটে আসছে, যাতে শত শত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।


নির্বাচিত

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনাদের জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকার আহ্বান সৌদির গ্র্যান্ড মুফতির

শেখ সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াইয়ে সৌদি আরবের সেনাসদস্যদের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক বিরল রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিবৃতিতে দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, “এই মহান দেশকে রক্ষা করা এবং যারা এই ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গাতেও অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাদের শাস্তি দেওয়া হরো অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্তব্য এবং অত্যন্ত পূণ্যের ইবাদত। এটি এমন ইবাদত, যেটি পালন করার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।” একই সঙ্গে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাকে বর্তমান পরিস্থিতির ‘জরুরি দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেনাদের সাফল্য কামনা করে তিনি আরও বলেন, “আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আপনাদের সহযোগিতা করেন এবং আমাদের প্রিয় দেশ ও ইয়েমেনকে সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। আমরা আরও দোয়া করি, তিনি যেন হুথি গোষ্ঠী এবং যারা তাদের সহযোগিতা করছে— তাদের সম্পূর্ণ পরাজয় নিশ্চিত করেন।”

রণাঙ্গনে নিয়োজিত সৈন্যদের শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সম্মুখসারিতে দায়িত্বরত ভাইরা, আপনাদের আবশ্যিক কর্তব্য হলো—নিজেদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকা, শাসক ও মাঠপর্যায়ে কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আদেশ পালন করা; ঠিক যেমনটি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার নবীর সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপনারা নবীর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানসমূহ রক্ষা করছেন।” উল্লেখ্য, সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও আইনি পদের অধিকারী এবং পদাধিকারবলে তিনি জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদ ও ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা স্থায়ী কমিটির প্রধান। বাদশাহর সরাসরি ডিক্রির মাধ্যমে মন্ত্রী পদমর্যাদার এই পদে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর নিযুক্ত হওয়া বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি সচরাচর রাজনৈতিক ইস্যুতে মন্তব্য না করায় তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাতের ইতিহাস ২০১৪ সালের ইয়েমেনি গৃহযুদ্ধ থেকে শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে হাদি সরকারকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সীমান্ত পরিস্থিতি প্রায় চার বছর শান্ত ছিল। তবে গত ১৩ জুলাই সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।


নির্বাচিত

হুথি হামলা প্রতিহতে সৌদিতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব ফ্রান্সের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী। হামলার আশঙ্কায় মক্কা, জেদ্দা, তাইফ ও ইয়ানবুসহ দেশটির একাধিক অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়। এদিকে সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো ‘ইয়ানবু’ টার্মিনালের সুরক্ষায় সেনা ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। একই সময়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে লোহিত সাগরের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ইয়ানবু তেল স্থাপনা সুরক্ষায় ফ্রান্সের সহায়তা

লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত সৌদির প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল ইয়ানবুর ওপর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সেখানে সামরিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইয়ানবুকে সুরক্ষিত রাখতে ফ্রান্স সেনা সদস্য, বিশেষ রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করবে।

উল্লেখ্য, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বা ‘পেট্রোলাইন’-এর মাধ্যমে সংযুক্ত ইয়ানবু কেন্দ্রটি সৌদি আরবের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং ইউরোপের বাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অন্যতম প্রধান বিকল্প রুট। এখানে দেশটির বড় বড় তেল শোধনাগার ও সংরক্ষণাগার রয়েছে।

বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই: নিহত ১৫০ ছাড়াল

সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের মাটিতেও তীব্র যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত উঁচু পাহাড়ি এলাকা ‘কাহবুব’ এবং লাহজ ও তাইজ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে।

এএফপির সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫০ জন যোদ্ধা ও সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অন্তত ৯৮ জন নিহত হন। অন্যদিকে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন হুথি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। সদ্য দখল করা উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপদ রাখতে এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও মক্কায় সতর্কতা

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা তাইফ ও ইয়ানবু লক্ষ্য করে ছোড়া হুথিদের ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে উসকানি আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হামলার সময় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ মক্কা, জেদ্দা, তাইফ, ইয়ানবু ও তাবুক অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা সংকেত জারি করে, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে হুথিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে দক্ষিণ সৌদির বিভিন্ন সামরিক কমান্ড সেন্টার, গোলাবারুদের ডিপো, রিয়াদের একটি অজ্ঞাত স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার

এদিকে হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তেহরানের সরাসরি ভূমিকা রাখার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মতো হুথিরাও নিজেদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা তেহরানের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে না।

২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে পুরোপুরি ভেঙে যায়। সৌদির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এরপর থেকে হুথিরা সমুদ্রপথে অবরোধ সৃষ্টি করে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহকারী উপসাগরীয় নৌপথগুলোতে বড় ধরনের অচলাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।


নির্বাচিত

banner close