বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা বিকেলে

নোবেল পদক। ছবি: বাসস
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:১৩

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার।

সুইডেনের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট) পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করবে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

পুরস্কার ঘোষণার সব তথ্য নোবেলপ্রাইজ নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি দেখা যাবে। এ বছরের নোবেল পুরস্কারের সমস্ত ঘোষণা ও নোবেল পুরস্কার কমিটির ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

প্রথা অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সোমবার হিসেবে এবার ৭ অক্টোবর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

যৌথভাবে ২০২৪ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকান।

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কার এবং পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল জিন নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকার জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নোবেল কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি ‘মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কার এবং পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল জিন নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকার জন্য’ ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রাভকানকে সোমবার চিকিৎসা বা ওষুধশাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার-২০২৪ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১৯০১ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান জার্মানির নাগরিক ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন। এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি আবিষ্কার এবং এবং এ ধরনের রশ্মির যথোপযুক্ত ব্যবহারিক প্রয়োগে সফলতা অর্জনের জন্য তিনি এ পুরস্কার পান।


গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উল্লাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। উত্তর গাজা সফরের সময় সেখানকার বর্তমান ধ্বংসলীলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার ইসরাইল কাটজের এই বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।

সফরের সময় গাজার ধ্বংসস্তূপ দেখে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কাটজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভালো লাগছে, তাই না?’ তিনি দাবি করেন, গাজার এই বিধ্বস্ত দশা মূলত ইসরাইলের এক ‘পরিকল্পিত নীতির’ ফল। মূলত নিরাপত্তার জন্য যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি নির্মূল করতেই এমন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, আগের মতো সাময়িক অভিযান চালিয়ে ফিরে আসার কৌশল থেকে এখন পুরোপুরি সরে এসেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

অভিযানের নতুন কৌশল ব্যাখ্যা করে কাটজ বলেন, ‘আগের মতো ঢুকে আবার বেরিয়ে আসা নয়। এখন সেনাবাহিনী ভেতরে রয়েছে, সশস্ত্র যোদ্ধারা বাইরে, আর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ গাজার ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরালো করার অংশ হিসেবে এ সময় তিনি উপত্যকাটিতে সেনাবাহিনীর সরাসরি তদারকিতে তিনটি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন।


মার্কিন নৌবহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাহরাইনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শক্তিশালী এই আক্রমণের ফলে নৌবহরটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

আইআরজিসির দেওয়া একটি বিবৃতি থেকে জানা গেছে, বাহরাইনে মার্কিন এই নৌঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এছাড়া এই অভিযানে নৌবহরের একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, এয়ার কন্ট্রোল রাডার এবং সি-র‍্যাম আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সাথে ড্রোন বা মানববিহীন সারফেস ভেসেল নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কেন্দ্রটিও এই হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

ঘটনার বিষয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি একটি ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই দাবির সত্যতা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই নজিরবিহীন হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কিংবা বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নেবে বাংলাদেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর ভারতের দেয়া ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও বাংলাদেশ ‘বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার্স মিটিং’-এ অংশ নেবে। আগামী ১৬ জুলাই নয়াদিল্লিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতি। এ কারণে বৈঠকটিতে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলাম। তার অংশগ্রহণের বিষয়টি কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারত সরকারকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লী বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যাকে বাংলাদেশ সন্তোষজনক মনে করেনি এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলামের এ সফরকালে আয়োজক দেশ ভারত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতি ও রাষ্ট্রাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করে কি না, বাংলাদেশ তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

তারা বলেন, ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে সফর সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সফর উপলক্ষে ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, এ বিষয়ে ভারতের আচরণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে।


থাইল্যান্ডে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৮ জন।

বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, মধ্যরাতের পর ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। দমকল কর্মীরা সেখানে পৌঁছে দেখতে পান, পানশালার প্রধান দরজাটি দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং সেই আগুনের মাঝখান দিয়েই ভেতরে থাকা মানুষজন বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে বাইরে ছুটে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানশালার স্টেজের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগের বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণ ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সরকারিভাবে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সেগুলোর তেমন কোনো প্রয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ আছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকল কর্মীরা জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক গাড়িচালক পানশালাটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। তিনি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আগুন দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং বারের জানালা ভেঙে দুজনকে বের হতে সাহায্য করেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, আগুন লাগার সময় বারের ভেতরে পারফর্ম করছিলেন এমন একজন সঙ্গীতশিল্পীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ওই শিল্পী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, হঠাৎ কাট-আউট সুইচে আগুন ধরে যায় এবং এর পরপরই সবকিছু চোখের পলকে ঘটে যায়। একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয় এবং ধোঁয়া ও আগুনের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ছোটাছুটি শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভেতরে থাকা অনেকেই বাইরে বের হতে পারেননি। কারণ তারা আগুনের শিখা ও বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভবনের পেছনের দিকে চলে যান এবং টয়লেটের ভেতর আশ্রয় নেন। সেখানেই বেশিরভাগ মরদেহ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, দমকল কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ মোট ২৭ জন প্রাণ হারান। এছাড়া ৬০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে মারা গেছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও তদন্তের প্রয়োজন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ পানশালা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বারের বাইরে সারিবদ্ধভাবে রাখা বহু লাশের ব্যাগ এবং পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। ভেতরে আসবাবপত্র, দেয়াল ও ছাদ পুড়ে সম্পূর্ণ কয়লা হয়ে গেছে। ছাদের কিছু অংশ খসে পড়তেও দেখা গেছে।

থাইল্যান্ডে নাইটক্লাব ও পানশালায় অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাস বেশ পুরোনো। চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণে একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা যান। এছাড়া ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।


১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে’ আপাতত নামাজ আদায় বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত সেখানে নামাজ আদায় হলেও শনিবার (১১ জুলাই) থেকে মসজিদে প্রবেশের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই ফটকটি বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে মসজিদে প্রবেশের একমাত্র পথ।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। সে সময় বিকল্প হিসেবে আরও প্রশস্ত জায়গা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থাপনার ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হতে হয়। কিন্তু বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদটি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর প্রয়োজন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই এলাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সংস্থাটি অতীতেও এ স্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।

ঐতিহাসিক তথ্যে জানা যায়, মসজিদটি ১৮৯০ সালে ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ রাখা হয়। অন্যদিকে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হয় ১৯২৪ সালে, অর্থাৎ বিমানবন্দর নির্মাণের প্রায় ৩৪ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকা থেকেও একসময় মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতেন। বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মুসল্লিরাও নিয়মিত এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

এ ঘটনায় উত্তেজনা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক হলেও কেউ যেন এ নিয়ে রাস্তায় না নামেন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জোরপূর্বক মসজিদের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি।

এ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দসহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।


মাইলফলক অর্জন করল মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আধুনিক বিমানবাহী রণতরীর ইতিহাসে অন্যতম কঠিন অপারেশনাল মাইলফলক অর্জন করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর নিমিটজ শ্রেণির সুপারক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অভিযানে অংশ নিয়ে জাহাজটি টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছে।

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েনের পাশাপাশি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী বহরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টিও উঠে এসেছে মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে বিমানবাহী রণতরীগুলোকে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রাখছে মার্কিন নৌবাহিনী।

ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থ্রি-এর ফ্ল্যাগশিপ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার নৌঘাঁটি সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এটি নিয়মিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন করার কথা ছিল। গত ১১-১২ ডিসেম্বর গুয়ামে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর মাত্র একদিনের মধ্যে জাহাজটি আবার সমুদ্রে ফিরে যায়।

গুয়াম ছাড়ার পর জাহাজটি প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে অভিযান চালায়, এরপর ভারত মহাসাগর হয়ে গত জানুয়ারিতে উত্তর আরব সাগরে আসে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হলে আব্রাহাম লিংকনের এয়ার উইং ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়।

এই রণতরীটি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অংশ নেওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। জাহাজটিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ইতিহাসে টানা সমুদ্রে অবস্থানের দিক থেকে আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে আব্রাহাম লিংকন।

জাহাজটির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার অ্যালেক্সিস ট্রাভিস বলেন, ‘আধুনিক যেকোনো বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে টানা সবচেয়ে বেশি দিন সমুদ্রে থাকার রেকর্ড এখন আমাদের।’

যদিও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড প্রায় ৩২৬ দিনের দীর্ঘতম সামগ্রিক মোতায়েন সম্পন্ন করেছিল। তবে এই সময়ের মধ্যে জাহাজটি ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে একাধিকবার নোঙর করেছিল। ফলে আব্রাহাম লিংকনের মতো টানা সমুদ্রে থাকার নজির গড়তে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আব্রাহাম লিংকনের এই দীর্ঘ মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিফলন। গত এক দশকে বিমানবাহী রণতরীগুলোকে আগের চেয়ে বেশি সময় সমুদ্রে থাকতে হচ্ছে।

ফলে সাগরে রণতরী মোতায়েনের সময়সীমা দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নানা দায়িত্বের কারণে এই বহরের ওপর চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা এখনও ১১টিতেই সীমাবদ্ধ। একই সময়ে পুরোনো নিমিৎজ শ্রেণির জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের চাপও বেড়েই চলেছে। জাহাজগুলোর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত ডিপো রক্ষণাবেক্ষণের সময় দীর্ঘ হচ্ছে এবং নৌ শিপইয়ার্ডে বিলম্বও বাড়ছে।

গত এক দশকে ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যান, ইউএসএস ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এর দীর্ঘ সময় মোতায়েন এই প্রবণতারই উদাহরণ। লোহিত সাগরে হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে অভিযান এবং গাজা যুদ্ধের পর আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় এসব রণতরী দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ছিল।

এ ধরনের দীর্ঘ মোতায়েনের ফলে নাবিকদের ক্লান্তি, মনোবল হ্রাস এবং পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। একই সঙ্গে জাহাজের ইঞ্জিন, ক্যাটাপল্ট, অ্যারেস্টিং গিয়ার, বিমান লিফট, রাডার এবং অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষয়ও দ্রুত বাড়ছে। ফলে বন্দরে ফেরার পর ব্যাপক রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ছে। যুদ্ধবিমানগুলোর ব্যবহারও বেড়ে যাওয়ায় তাদের কাঠামো ও ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত, জর্দান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে থাকা এসব মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে তেহরান। বিবিসির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা কুয়েত, জর্দান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এক সমঝোতা স্মারকে সই করে। অব্যাহত পাল্টাপাল্টি হামলায় এই সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সেটি এখনো উন্মুক্ত।

ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের উসকানি ও হুমকি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই ইরানের সিরিক, কেশম, বন্দর আব্বাস ও জাস্ক অঞ্চলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের চালানো নতুন দফার হামলায় ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত রাতে (রোববার) ওই হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।

গত শনিবার ইরানের ১৪০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর রোববার রাতে আবারও নতুন করে হামলা চালায় সেন্টকম। এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে।

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৫৩ ডলার। গত কয়েক মাস ধরেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের এমন অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সব সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, অস্ত্রের এই ঘাটতি ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যুদ্ধ যেভাবে চলছে, সেটি অব্যাহত থাকলে অস্ত্রের মজুত এতটাই কমে যাবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রথম ধাপে ‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ আওতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী কয়েক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তত অর্ধেক ‘থাড’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর, প্রায় অর্ধেক ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ৩০ শতাংশ ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক গবেষক মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, ‘অস্ত্রের মজুত আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক কমে গেছে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

অস্ত্রের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা বেশ সময়সাপেক্ষ। মার্ক কানসিয়ান জানান, বর্তমানে পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পাচ্ছে। ২০২৬ সালে নতুন কোনো থাড ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সিএসআইএসের মতে, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরতে অন্তত তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে।

সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার জানান, সমরাস্ত্রের মজুত আগের মতো করতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুই থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় বিশেষজ্ঞ জন ফেরারি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বদলানোর জন্যও কংগ্রেস থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ সময়ের ধীরগতির উৎপাদন প্রক্রিয়াই এখন বহাল রয়েছে।’

সম্প্রতি হোয়াইট হাউস ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত তহবিলের জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন করেছে। তবে এই প্রস্তাব পাস হওয়া বেশ কঠিন। অন্যদিকে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানান, সমরাস্ত্র শিল্প সম্প্রসারণে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত জুনে ট্রাম্প ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ প্রস্তাব করেছেন যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা যায়।

পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমেরিকার উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিভাগটি কাজ করে যাচ্ছে যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি আসে।’ তবে মার্ক কানসিয়ান মনে করেন, সরকারের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলেও এর প্রভাব হবে খুবই সীমিত।


ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৪৪৯০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনিজুয়েলার বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, ভূমিকম্পের পর সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

সরকারের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত চার হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন। কতজন মানুষ এখনও নিখোঁজ, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি।

গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি কারাকাস এবং উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরাতে আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য লা গুয়াইরা এবং পার্শ্ববর্তী কারাকাসের স্টেডিয়াম, চত্বর ও ফুটপাথগুলোতে ক্যাম্প বা অস্থায়ী ছাউনি গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯ হাজার ৫৮৩ জন বর্তমানে এসব ক্যাম্পে বসবাস করছেন।

এর আগে শনিবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ভাই ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের আগে যেসব অ্যাপার্টমেন্টের নির্মাণকাজ চলছিল, সেগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বরাদ্দ দেওয়া শুরু করবে সরকার।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে সাহায্যের একটি চালান এসে পৌঁছেছে। মার্কিন দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণের তথ্য জানিয়েছে।

ভেনিজুয়েলায় মানবিক সহায়তা রাশিয়ার

ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। খাদ্য ও জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রাশিয়ার প্রথম মানবিক সহায়তাবাহী বিমান দেশটির রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে। শিগগিরই আরও একটি ত্রাণবাহী বিমান পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক সহায়তা বহনকারী বিমানটি কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই মেলিক-বাগদাসারভ এবং ভেনিজুয়েলার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবেন দারিও মোলিনা পেনা ত্রাণবাহী বিমানটি গ্রহণ করেন।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই মেলিক-বাগদাসারভ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, ‘দুটি ভূমিকম্পের মর্মান্তিক পরিণতিতে ভেনিজুয়েলার ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের শোকের অংশীদার রাশিয়া। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পিছপা হতে পারি না।’ রাষ্ট্রদূত আরও জানান, এটি রাশিয়ার পাঠানো প্রথম মানবিক সহায়তাবাহী বিমান। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণ নিয়ে আরেকটি বিমানও অচিরেই ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে।

ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই চালানে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে এসব সামগ্রী ব্যবহার করা হবে।


ব্রিটেনে তীব্র গরমে আড়াই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গত মে-জুন মাসের তীব্র দাবদাহে গরম-জনিত নানা উপসর্গে দুই হাজার সাতশরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, দেশটির আবহাওয়া দপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের একদল গবেষকের যৌথ মূল্যায়নে এই তথ্য উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট এই আবহাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা সুস্থ-সবল মানুষের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

গবেষকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনুমিত মৃত্যুর সিংহভাগই ঘটেছে গত জুন মাসের তীব্র তাপপ্রবাহের সময়। এটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে উষ্ণতম মাস ছিল। এই সময় নরফোকের লিংউড এলাকায় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (৯৯.৯ ফারেনহাইট) পৌঁছায়, যা ১৯৫৭ সালের পুরোনো রেকর্ডকে ভেঙে দেয়। আবহাওয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সে সময় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বেশ কিছু অংশে সর্বোচ্চ ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ বা লাল সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ থেকে ২৯ মে-র মধ্যবর্তী সময়ে তীব্র গরমে প্রায় ৫৫০ জন এবং ১৮ থেকে ২৮ জুনের প্রচণ্ড দাবদাহে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৬ মে কিউ গার্ডেনসে মে মাসের তাপমাত্রা রেকর্ড ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯২২ সালের আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূলত ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের কারণে এই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে একটি নির্দিষ্ট উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় ধরে অঞ্চলের ওপর তপ্ত বাতাসকে আটকে রাখে। মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই হিট ডোম পরিস্থিতি আরও ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

তীব্র গরমের পাশাপাশি রাতের বেলা ক্রান্তীয় অঞ্চলের মতো ভ্যাপসা গরম থাকায় সাধারণ মানুষের শরীর ঠান্ডা হওয়ার কোনো সুযোগ পায়নি। এর ওপর যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ ঘরবাড়ি শীতকালীন আবহাওয়ার উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার মতো অনুকূল নয়, যা বাসিন্দাদের আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে রক্ত সঞ্চালনের জন্য হৃদ্‌যন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়, ফলে মানবশরীরে প্রচণ্ড শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে। এতে করে শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। এ ছাড়া বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ঘামের মাধ্যমেও শরীর ঠান্ডা হতে পারছিল না।

ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফ্রেডি অটো বলেন, ‘এই চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিকে কেউ যেন অবমূল্যায়ন না করেন। আপনি কেবল ফিট এবং সুস্থ বলেই যে সম্পূর্ণ নিরাপদ, তা ভাবার কোনো কারণ নেই।’ এই সংকটের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক এমিলি শাকবার্গ জানান, গত মাসে তীব্র দাবদাহের মধ্যেই তার বাবা স্ট্রোক করেন। সে সময় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় হাসপাতালে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয় এবং দুর্ভাগ্যবশত তিনি মারা যান।

গবেষকেরা মূলত পূর্ববর্তী বছরগুলোর মৃত্যুর রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের মে ও জুনের এই গাণিতিক মডেল বা সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যাটি বের করেছেন। তবে বাস্তব সংখ্যা এর চেয়ে কমও হতে পারে।

এই গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ডক্টর ক্লেয়ার বার্নস। ডক্টর ক্লেয়ার বলেন, ‘এই পূর্বাভাসের মাধ্যমে যদি আমরা মানুষকে সচেতন করতে পারি এবং তারা যদি পরবর্তী তাপপ্রবাহে নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন করে, তবে আমাদের এই অনুমিত সংখ্যা ভুল প্রমাণিত হবে। কিন্তু এতেও আমরা খুশি হব। কারণ আমরা এত মানুষের মৃত্যু দেখতে চাই না।’


বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ফের আন্দোলন শুরু হয়েছে। যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশাকে কেন্দ্র করে কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আন্দোলন ঘিরে গত ৩ দিনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরো একজন।

জেন-জি নেপাল সংগঠনের দাবি, বালেন শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক বাজেট ও সরকারি নীতিতে যুবকদের কর্মসংস্থান বা আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মতো কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই।

কাঠমান্ডুতে গত সপ্তাহে পুলিশের চাকা লক করার ঘটনায় নিজের শরীরে আগুন দেন ২৫ বছর বয়সী এক রাইড-শেয়ারিং চালক। এতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই নেপালে নতুন করে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গণেশ নেপালি নামের ওই চালক বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পুলিশ এসে হঠাৎ তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদের মরিয়া পদক্ষেপ হিসেবে তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুক্রবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

দেশটির তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z) নাগরিকরা, আবারও কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে ঘটনার জবাবদিহি দাবি করছেন। মাত্র এক বছরেরও কম সময় আগে বিপুল সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হওয়া সরকারের কাছে তারা এর দায় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছেন। রাজধানীর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গরিবের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’। বিক্ষোভকারীরা অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ এবং বালেন শাহ প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুচ্যুত বস্তিবাসীদের জন্য আশ্রয়েরও দাবি জানান।

নেপালি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মহানগর পুলিশের কঠোর অভিযান বেড়েছে। তার প্রশাসন বিশেষ করে ফুটপাত ও অনানুষ্ঠানিক বাজার উচ্ছেদ এবং নদীর তীরবর্তী বস্তি সরিয়ে দেওয়ার নীতির জন্য পরিচিত।

এসব উচ্ছেদ অভিযান বহুবার সহিংস সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রশাসনের আচরণ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানায়, স্থানীয় প্রশাসন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে একটি সহায়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কার্যত জাতীয় পুলিশ বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।


প্যারিসের বনে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক ফনতেনব্লো বনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আগুনে ছাই হয়েছে ৮০০ হেক্টর বা প্রায় ১,৯৮০ একর বনভূমি। ফরাসি কর্মকর্তারা এই আগুনকে ‘অত্যন্ত মারাত্মক’ ও ‘অস্বাভাবিক মাত্রার’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বা বাস্তিল দিবসের ছুটির ঠিক আগে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। রাজধানী প্যারিস থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বিশাল ফনতেনব্লো বনটি একসময় রাজকীয় শিকার ক্ষেত্র ছিল, যার চারপাশে বর্তমানে অসংখ্য শান্ত গ্রাম রয়েছে।

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্যারিস অঞ্চলে চরম বিপর্যয় ও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির প্রশাসন দক্ষিণ অঞ্চল থেকে জরুরি ভিত্তিতে দুটি অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা সোমবার জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতার কারণে দেশের প্রধান উত্তর-দক্ষিণ সংযোগকারী ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘এ৬’ মহাসড়কের একটি অংশ আংশিকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। রাতের অন্ধকার নেমে আসায় আকাশ থেকে পানি বর্ষণকারী অগ্নিনির্বাপক বিমানগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে।

দাবানলের কারণে বনের নিকটবর্তী ভাদোইউ গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই এলাকার আরও বেশ কয়েকটি শহরকে আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আতঙ্কিত বাসিন্দারা গ্রামের যুদ্ধ স্মারকস্তম্ভের কাছে জড়ো হয়ে জরুরি যান চলাচলের দৃশ্য দেখছেন ও তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি এখনও নিরাপদ আছে কি না, তা জানার জন্য অনবরত খোঁজখবর নিচ্ছেন।

ভাদোইউ গ্রামের বাসিন্দা ভ্যালেরি ও তার স্বামী ড্যানিয়েল ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়ার মুহূর্তের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তারা আকাশ থেকে অনবরত ছাই পড়তে দেখছিলেন। তারা তাদের পোষা বিড়াল ও কুকুরগুলোকে দ্রুত গাড়িতে তুলে নেন এবং সে সময় তারা রাস্তার দুই পাশেই আগুন জ্বলতে দেখছিলেন।’

ফ্রান্সের জাতীয় ফায়ারম্যান ফেডারেশনের এরিক ব্রোকার্ডি জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম প্যারিস অঞ্চলের আগুন নেভানোর জন্য সাধারণত শুষ্ক ও উত্তপ্ত হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ অঞ্চল থেকে জলবোমা নিক্ষেপকারী বিমান পাঠাতে হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার ও একটি পর্যবেক্ষণ বিমানও যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে প্যারিস অঞ্চলসহ ফ্রান্সের একটি বড় অংশ গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বনাঞ্চলে আগুনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান এই তাপপ্রবাহের কারণে এরই মধ্যে তাপমাত্রার পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।

বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া গত জুন মাসের এই তীব্র তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হওয়া ‘বাস্তবে অসম্ভব’।

ইউরোপের অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশও রেকর্ড-ভাঙা গড় তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছে। ফ্রান্সে অতিরিক্ত গরমের কারণে কর্মকর্তারা দেশের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি, বিখ্যাত সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’-এর আয়োজকরাও রুটের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর কারণে গত রোববারের রেসের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) কমিয়ে দিয়েছিলেন।

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সোমবার ফনতেনব্লো বন পরিদর্শনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, চলতি বছরে এরই মধ্যে দেশটির ১৭ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও যোগ করেন, চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হলে এই পুড়ে যাওয়া বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার হেক্টরে গিয়ে দাঁড়াবে, যা গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।


গরু জবাইয়ে বাধা নেই তামিলনাড়ুতে, থালাপতির বড় জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারের বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জয় হলো।

আইনি সংবাদমাধ্যম লাইভ ল-এর বরাতে সোমবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুজুড়ে বাকরিদ (ঈদুল আজহা) বা অন্য যে কোনো দিন গরু এবং বাছুর জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করে তামিলনাড়ু সরকার। মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন, হাইকোর্টের রায়ের যে অংশে রাজ্যব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে পুনর্বিবেচনা বা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই লড়েন বিশিষ্ট প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।

সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু সরকার যুক্তি দেয়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই ঢালাও নির্দেশটি রাজ্যে প্রচলিত ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর সরাসরি পরিপন্থি। এই আইন অনুযায়ী, যেসব গরুর বয়স ১০ বছরের বেশি এবং যেগুলো কাজ বা প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত বলে সরকারিভাবে প্রত্যয়িত, সেগুলো জবাই করার আইনি অনুমতি রয়েছে।

রাজ্য আরও জানায়, কসাইখানাসংক্রান্ত অন্যান্য আইনগুলো মূলত পশুপালনের নিয়ম ও জবাইয়ের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু কোনোভাবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। ফলে হাইকোর্টের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা মূলত আদালতের মাধ্যমে নতুন করে আইন তৈরি করার মতো একটি বেআইনি প্রচেষ্টা।

গত ২৭ মে ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ‘হিন্দু মক্কাল কাচি’ নামক সংগঠনের সদস্য কে সূর্য প্রশান্ত একটি আবেদন দায়ের করেছিলেন। মূল আবেদনে কেবল কোয়েম্বাটুর এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে পশু জবাই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু হাইকোর্ট তার চেয়েও একধাপ এগিয়ে দুগ্ধ উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির দোহাই দিয়ে এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরনো কিছু রায়ের সূত্র ধরে পুরো রাজ্যজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে দেয়। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, হাইকোর্টের এই রায়টি অভ্যন্তরীণভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ আদালত এক লাইনে নির্দিষ্ট জায়গায় জবাইয়ের কথা বলে, অন্য লাইনে আবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছে।

তাছাড়া পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, প্রশাসন আগে থেকে খোলামেলা জায়গায় কোরবানি বন্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল, যা হাইকোর্ট পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।


ইউক্রেনকে ৫০ হাজার ড্রোন দিচ্ছে জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোন বা অ্যাটাক ড্রোন কেনার অর্থায়ন করছে জার্মানি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। ইউক্রেনের জন্য কোনো পশ্চিমা সরকারের করা ড্রোন ক্রয়ের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ অর্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেন ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন উড়োজাহাজ বা ড্রোন ব্যবহার করছে। দেশটি প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ড্রোন উৎপাদন করছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিদিন হাজার হাজার ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে।

নতুন এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইফলের তৈরি শ্রাইক ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন সরবরাহ করা হবে। এসব ড্রোনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অটেরিওঁর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, যা উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলমান লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, অনুসরণ এবং আঘাত হানতে সক্ষম।

অটেরিওঁর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেঞ্জ মেয়ার চুক্তির আকার নিশ্চিত করে জানান, এর মূল্য প্রায় ৯ কোটি ইউরো (১০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার) এবং এর অর্থায়ন করেছে একটি ইউরোপীয় দেশ। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ইউক্রেন সরকারকে কিছু ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ড্রোনগুলোও চলতি বছরের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে।’

স্কাইফল জার্মানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ক্রয়সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেনে ব্যবহৃত কম খরচের শ্রাইক ড্রোনটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্কাইফল এবং যুক্তরাজ্যের স্কাইকাটারের যৌথভাবে তৈরি শ্রাইক–১০ এফ সংস্করণটি সম্প্রতি পেন্টাগন পরিচালিত একটি প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে শীর্ষস্থান অর্জন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচির অংশ, যার লক্ষ্য হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন সংগ্রহ করা। অটেরিয়নের সফটওয়্যার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একাধিক ড্রোনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

লরেঞ্জ মেয়ার জানান, বিভিন্ন হার্ডওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এবং একাধিক পশ্চিমা সরকারের অর্থায়নে অটেরিয়ন চলতি বছরে ইউক্রেনের জন্য মোট এক লাখ ড্রোন সরবরাহে সহায়তা করছে। তিনি আরও জানান, এর মধ্যে পেন্টাগনের ৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তির আওতায় ৩৩ হাজার ড্রোন রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত মাসে যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, বৃহত্তর ৭৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১০১ কোটি মার্কিন ডলার) সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে চলতি বছর ইউক্রেনকে ১ লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করবে।


banner close