শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ক্রিস্টোফার কলম্বাস ইহুদি ছিলেন: গবেষণা

কয়েক শতাব্দীর পুরোনো এই রহস্যের সমাধানে ডিএনএ বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে
১৫ শতকের অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১৮:৫৩

১৫ শতকের অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস পশ্চিম ইউরোপের একজন সেফার্ডিক ইহুদি ছিলেন। স্পেনের বিজ্ঞানীরা এমন তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েক শতাব্দীর পুরোনো এই রহস্যের সমাধানে তারা ডিএনএ বিশ্লেষণ ব্যবহার করেছেন।

কলম্বাসকে নিয়ে নানা বিভেদ-বিভাজন আছে। বিশেষ করে তার জন্মস্থান ও সমাধিস্থল নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশ তর্কবিতর্ক করে আসছে। ১৪৯০-এর দশক থেকে তিনি স্প্যানিশ অর্থায়নে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এর জেরে ইউরোপীয়দের আমেরিকা জয়ের পথ খোলে।

অনেক ইতিহাসবিদ প্রথাগত এই তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে কলম্বাস ইতালির জেনোয়ায় জন্ম নিয়েছিলেন। অন্যান্য তত্ত্বের মধ্যে রয়েছে, তিনি স্পেনের একজন ইহুদি কিংবা গ্রিক থেকে শুরু করে বাস্ক, পর্তুগিজ বা ব্রিটিশ নাগরিক।

রহস্যের সমাধানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মিগুয়েল লোরেন্তের নেতৃত্বে ২২ বছর অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন গবেষকেরা। স্পেনের সেভিল ক্যাথেড্রালে সমাহিত দেহাবশেষের ক্ষুদ্র নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখানে কলম্বাসের দেহাবশেষ আছে বলে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে কর্তৃপক্ষ। যদিও এ বিষয়ে ভিন্ন দাবিও আছে।

গবেষকেরা কলম্বাসের দেহাবশেষের ক্ষুদ্র নমুনা পরিচিত আত্মীয় ও বংশধরদের সঙ্গে তুলনা করেন। গত শনিবার স্পেনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইতে ‘কলম্বাস ডিএনএ: দ্য ট্রু অরিজিন’ শিরোনামের একটি তথ্যচিত্রে (ডকুমেন্টারি) গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

তথ্যচিত্রে মিগুয়েল বলেন, ‘আমাদের কাছে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ডিএনএ আছে, তা খুব আংশিক, কিন্তু যথেষ্ট। আমাদের কাছে তার ছেলে ফার্নান্দো কোলনের ডিএনএ আছে।’

গবেষক মিগুয়েল আরও বলেন, ফার্নান্দোর ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম (পুরুষ) ও মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ (মায়ের কাছ থেকে আসা) উভয়ের ইহুদি উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

রেইস ক্যাটোলিকোসের আগে প্রায় ৩ লাখ ইহুদি স্পেনে বসবাস করত। ক্যাথলিক শাসকেরা ইহুদি ও মুসলমানদের ক্যাথলিক ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে বা দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে অনেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করেন।

মিগুয়েল বলেন, ২৫টি সম্ভাব্য স্থান বিশ্লেষণের পর কলম্বাস পশ্চিম ইউরোপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সে কথা বলা যেতেই পারে। গত বৃহস্পতিবার লরেন্ট বলেছিলেন, তারা আগের তত্ত্বগুলো নিশ্চিত করেছেন যে সেভিল ক্যাথেড্রালে থাকা দেহাবশেষের অবশিষ্টাংশ কলম্বাসের।

মিগুয়েল বলেন, কলম্বাসের জাতীয়তার ওপর গবেষণাটি বেশ কয়েকটি কারণে জটিল ছিল। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ডেটা অন্যতম। কিন্তু গবেষণার ফলাফল প্রায় সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য।

কলম্বাস ১৫০৯ সালে স্পেনের ভ্যালাডোলিডে মারা যান। তিনি হিস্পানিওলা দ্বীপে সমাধিস্থ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এখন এই দ্বীপটির মালিকানা ভাগাভাগি করছে ডমিনিক প্রজাতন্ত্র ও হাইতি।

১৫৪২ সালে কলম্বাসের দেহাবশেষ সেখানে নেওয়া হয়েছিল। এরপর ১৭৯৫ সালে কিউবায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। ১৮৯৮ সালে তা স্পেনের সেভিলে নেওয়া হয় বলে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা রয়েছে।


লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউরোপে পাড়ি জমানের সময় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রায় ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।

পূর্ব লিবিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপকূলীয় শহর তোবরুকের অদূরে বারদা দ্বীপের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ১০ জন অভিবাসী কোনোমতে সাঁতরে দ্বীপে উঠে নিজেদের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। নিখোঁজ বাকি অভিবাসীদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া অন্যতম প্রধান ট্রানজিট ও এক্সিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে ভূমধ্যসাগরের এই বিপদসংকুল রুটে প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মাত্র গত মাসেই পূর্ব লিবিয়ার উপকূলে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫১ জন অভিবাসী মারা যান বা নিখোঁজ হন।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত এক অভ্যুত্থানে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হয়েছিলেন। এরপর থেকেই মূলত দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

তবে এই অরাজক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধস্ত এবং দরিদ্রপীড়িত দেশগুলো থেকে পালিয়ে আস হাজার হাজার মানুষের জন্য লিবিয়া ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার অন্যতম প্রধান রুট হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো সাধারণত ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় গাদাগাদি করে তোলে। ফরে গভীর সমুদ্রে প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে-র মধ্যে কেবল ভূমধ্যসাগারীয় পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ৮ শতাধিক অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর গত বছর একই রুটে প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।


আলজেরিয়ায় এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের একটি এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম বলছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোরের দিকে আলজেরিয়ার রাজধানীর পাশে অবস্থিত এতিমখানায় আগুন লেগে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটেছে।

সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাজধানী আলজিয়ার্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী মোহাম্মদিয়া জেলার এতিমখানায় ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

নিহতদের বয়স কত সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য না জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আগুনে এতিমাখানায় ১১ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে, দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা বলেছে, আহতদের মধ্যে ১০ জন মাঝারি ও গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া উদ্ধারকারী দল এতিমখানা থেকে পাঁচ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও বয়স প্রকাশ করা হয়নি এবং আগুন লাগার কারণও স্পষ্ট করা হয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলজেরিয়াজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস বলেছে, তীব্র গরমের মধ্যে গত ৮ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ৯১৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে; যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।


বিজেপি শাসনের শেষ দেখার ঘোষণা মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ ও দলীয় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের বয়সকে উপেক্ষা করে দল পুনর্গঠন এবং বিজেপি শাসনের শেষ দেখার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় ও দলের একাধিক নেতার দলত্যাগের পর যখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখছেন, ঠিক তখনই তিনি এক ভার্চুয়াল বার্তায় এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

একাত্তর বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান নেত্রী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিশেষ বক্তৃতায় বিরোধীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন যে ‘আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, মন ও মানসিক শক্তিই মানুষের বয়স নির্ধারণ করে’।

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে তিনি কখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে কথা বলেছেন কি না। বিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান যে নির্বাচনের ফলাফলের দিন বিজেপির লোকেরা তার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু কামনা করেছিল, কিন্তু তিনি এই সমস্ত চক্রান্তের শেষ না দেখে মাঠ ছাড়বেন না।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের বর্তমান কোন্দল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন যে যারা দল ছেড়ে চলে যেতে চান, তারা নির্দ্বিধায় চলে যেতে পারেন। দলের বিশ্বস্ত কর্মীদের নিজের ‘স্বর্ণখনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যে ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালের মতো সম্পূর্ণ একা লড়াই করে ২০২৬ সালে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করার সাহস ও ক্ষমতা তার রয়েছে।

তিনি ইতোমধ্যে তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছেন এবং বিপদের দিনে তাদের পাশে ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন বলে জানান। সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী ‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’ স্লোগান দিয়ে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি এখনই রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং দলের নিয়ন্ত্রণ মমতার হাত থেকে অনেকটাই ফসকে গেছে। রাজ্য বিধানসভা এবং দেশের লোকসভা উভয় ক্ষেত্রেই দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্য তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। অধিকাংশ বিধায়ক এখন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং ২০ জন লোকসভা সংসদ সদস্য একটি ক্ষুদ্র দলের সাথে একীভূত হয়ে দিল্লির এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আবেগপূর্ণ বার্তাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যার মাত্র কয়েক দিন পরেই আগামী ২১ জুলাই দলটির ঐতিহাসিক শহীদ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ দিনে এবার দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধানে পৃথক দুটি সমাবেশ করতে যাচ্ছে।

এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট এক বিশেষ রায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের অংশটিকে সেন্ট্রাল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক শহীদ দিবসের সভা করার অনুমতি প্রদান করেছে। উল্লেখ্য যে ১৯৯৩ সালে মমতার যুব কংগ্রেসের সভাপতিত্বের সময়ে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে এই দিবসটি প্রতি বছর পালন করা হয়।


তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পের কফিন, হত্যার হুমকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। বিলবোর্ডটিতে ট্রাম্পকে একটি খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কফিনটির গায়ে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা হয়েছে, ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)।

বিলবোর্ডটির পাশেই রয়েছে আলী খামেনির একটি বিশাল মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় নিহত এই নেতাকে ঘিরে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি কালো রঙের খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তার চুল এলোমেলো, চোখ ও মুখ বন্ধ। লাল টাইয়ের ওপর রাখা দুই হাত এবং কফিনের ওপরে সোজা উঁচু হয়ে থাকা দুই পা ছবিটিকে আরও প্রতীকী করে তুলেছে।

কফিনজুড়ে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’। একই সঙ্গে ফারসি ভাষায় শহীদ আলী খামেনিকে স্মরণ করে বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলবোর্ডে মিনাবের শিশুদের স্মরণে লেখা একটি বার্তাও রয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে যুদ্ধের শুরুতে এক বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু মারা যায়।

ইরানে জনপরিসরকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে যুদ্ধ, শহীদদের স্মরণ এবং বিভিন্ন আদর্শিক বার্তা নিয়ে অসংখ্য বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

এসব বিলবোর্ডকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারকৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পবিরোধী এ ধরনের বিলবোর্ড নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রতীকী চিত্র বসিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট’।

আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের ওপর বিশাল একটি মাছ ধরার জালে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান আটকা পড়ার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

ট্রাম্পকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ ফের উসকে দিতে চেয়েছিল ইসরায়েল! ট্রাম্পকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ ফের উসকে দিতে চেয়েছিল ইসরায়েল! তবে এই বিলবোর্ডটির ভাষা আগেরগুলোর তুলনায় একটু ভিন্ন। অনেক বেশি উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক। এর মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের রক্ষণশীল মহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী খামেনিসহ অন্য নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্র খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত, তাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করে। সে তালিকায় ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ আরও কয়েকজন পশ্চিমা নেতা।

এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন তার ছেলে ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গত বৃহস্পতিবার বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার দুই দিন পর এটি ছিল তার প্রথম বার্তা। লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা কেবল আমার বা আমাদের প্রশাসনের নয়, এটি আমাদের ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ইচ্ছা এবং এই প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবীভাবে বাস্তবায়িত হবে। বাবা হত্যার প্রতিশোধ নেবই।’


যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করলেন নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় নিজের পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত চার দিনের সফরে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার কথা ছিল। সেখানে তিনি সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মৃতিসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তবে স্মরণসভার সময় পেছানোর কারণে আপাতত তিনি এই সফর স্থগিত করেছেন।

ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক ও ইরানের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সম্প্রতি মাত্র ৭১ বছর বয়সে ‘হঠাৎ ও সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার’ পর মারা যান। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী লিন্ডসে গ্রাহামকে তার ‘ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মিত্রতার শক্তিশালী স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি গ্রাহামের আজীবন প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।

নেতানিয়াহুকে সেনা সরিয়ে নিতে বললেন ট্রাম্প

সিরিয়া ও লেবানন থেকে ধীরে ধীরে সেনা সরিয়ে নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথা বলেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওরা সেখানে আপনাদের চায় না। সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত।’ একই বার্তা তিনি লেবাননের ক্ষেত্রেও দেন। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা প্রয়োজন।’

নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে টিকিয়ে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে জনরায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো কোনো বড় পদক্ষেপ নেবেন, কিংবা ইতোমধ্যে যেটুকু পুনর্মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তার বাইরে লেবাননে আরও সেনা পুনর্মোতায়েনের অনুমতি দেবেন, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ট্রাম্পের এই অনুরোধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা রোমে ইসরায়েলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বর্তমানে তাদের দখলে থাকা দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ করে দিতে সম্মত হয়েছে।


‘চিকেনস নেক’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (মাঝে), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (বামে) ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুশ্চিন্তায় দেশটি। কারণ সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সংযোগ করেছে। এখান দিয়েই রাজ্যগুলোতে সব ধরনের রসদ, পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম যায়। ফলে এটি বন্ধ হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তৈরি হবে আঞ্চলিক অখণ্ডতায় হুমকি।

নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন সীমান্তের মিলনস্থল এই করিডরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এ জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে সফরে যাচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (১১ জুলাই) শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’ সচিবালয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন ও অনুপ্রবেশ রোধের মতো বিষয়গুলো এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হতে চলেছে। সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়টিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্য সচিব, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক (ডিএম) এবং পুলিশ সুপারদের (এসপি) উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কয়েক দফায় শিলিগুড়ি করিডর পরিদর্শন করেছেন।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, সুপরিকল্পিত পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করতে শহরটিকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ (এনএসআর) বা জাতীয় কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈরী সম্পর্কের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই জট কেটেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরে গড়িমসি করার অভিযোগ ছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির। তবে নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পেয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজও দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বিএসএফের হাতে ১ হাজার ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করেছে। এই জমির মোট দৈর্ঘ্য ১৭২ দশমিক ৬০৯২২ কিলোমিটার। এই উদ্যোগের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায় ও সবচেয়ে কম দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়িতে। জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের খতিয়ানে দেখা যায়, মালদহ জেলায় ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর, কোচবিহারে ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬ দশমিক ৪১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬ দশমিক ৬১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪ দশমিক ৩১ একর এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ২ দশমিক ১৭ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

উত্তরকন্যার বৈঠকে এই জমি হস্তান্তর ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলা মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে নদী ও জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার সীমান্তে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।

তবে অরক্ষিত এই নদী সীমান্তগুলোতে বিএসএফের টহল অনেক বাড়ানো হয়েছে। উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে কোচবিহারে সবচেয়ে দীর্ঘ অর্থাৎ ৫৫০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এরপর দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৫০ কিলোমিটার এবং উত্তর দিনাজপুরে ২২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি নেপাল ও ভারতের মধ্যকার ১ হাজার ৭৫১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত ইরানের

ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলায় আগুন জ্বলছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে একাধিক স্থানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘাত তীব্র রূপ নিল। এতে আবার নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ইরান আবারও জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

গত শনিবার (১১ জুলাই) ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথেই হতো। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর নয় ঘণ্টা পর তারা ইরানের একাধিক শহরে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়।

মার্কিন বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে, যেখানে ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং হরমুজ প্রণালীতে দেশটির নৌবাহিনী ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি অবস্থিত।

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বৃহত্তম বন্দর শহর বন্দর আব্বাসের নৌবাহিনী ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ঘাঁটিতেও আক্রমণ করা হয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেটার তুনব দ্বীপে টানা ৯০ মিনিট ধরে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বাহরাইন, কুয়েত ও জর্দানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করার কথা জানিয়েছে। তারা কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্সকে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী শত্রুমুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পরবর্তী পর্যায়ের আরও বড় ও জটিল অভিযান শুরুর আগেই ইরানের প্রধান সামরিক শক্তিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের খারগ দ্বীপের দিকে যাওয়ার পথে একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একটি খালি তেলবাহী জাহাজকে অকেজো করে দিয়েছে। জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে থামানো হয়।

গত মঙ্গলবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ পুনরায় শুরু করার পর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দুটি জাহাজকে ভিন্ন পথে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং একটিকে অকেজো করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাসসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। খোন্দাব, আহভাজ শহর, দক্ষিণের কোনারক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আহভাজের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের কাছে মার্কিন হামলায় হাসপাতালটি সাময়িকভাবে খালি করতে হয়েছে। রাস্তায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলোকে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

হামলার প্রথম পর্যায়ের পর তেহরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, ‘এটি আমেরিকার সঙ্গে ইরানের এক অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ।’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। এই যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক সমঝোতা স্মারকে সই করে। তবে এখন নতুন করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান খুব শিগগিরই পরাজিত হবে। তিনি বলেন, ‘ইরান এখন সমঝোতা করতে মরিয়া।’

বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ইরানের

বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দিমেশক শহরের আকাশে একটি ‘শত্রু’ এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে তা ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, তাদের মহাকাশ বাহিনীর নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এরবিলের আকাশে বিস্ফোরক বোঝাই আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। উত্তরাঞ্চলীয় এ শহরেই মার্কিন কনস্যুলেট ও জোট বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এরবিলে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে বাহরাইনে হামলা এবং এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয়ে ইরানের দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ২০০২ সালে এ ধরনের জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত দেখা গেল। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কাছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক বা নেতিবাচক ধারণার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল—এই ছয়টি দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ওঠানামা দেখা গেছে। তবে আগে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমলেও চীন সাধারণত সমপর্যায়ে বা কিছুটা নিচে অবস্থান করত। এবার প্রথমবারের মতো এত বড় ব্যবধানে চীনের পক্ষে জনমত গড়ে উঠেছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি হলেও উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে তুলনামূলকভাবে নেতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মতামতের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে জাপানে এ হার মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার বিষয়েও জরিপে মতামত নেওয়া হয়। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থার মাত্রা যাচাই করা হয়। উভয় নেতার ক্ষেত্রেই আস্থার হার তুলনামূলক কম হলেও অধিকাংশ দেশে শি জিনপিং ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন।

শি জিনপিংয়ের প্রতি সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উত্তরদাতারা। অন্যদিকে জাপানে এ হার মাত্র ৭ শতাংশ। ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে, আর সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সম্মান চীনের তুলনায় বেশি বলে এখনো অনেকের ধারণা রয়েছে। তবে এ ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও রয়েছে। ফলে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়লেও দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়ে গেছে।


পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সংঘর্ষ, নিহত ৯

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রতিবাদী গোষ্ঠীর সমর্থকদের ভয়াবহ সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ওই গোষ্ঠীটির একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভ মিছিলের ঠিক এক দিন আগে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জম্মু ও কাশ্মীরের পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশে ছড়িয়ে পড়া এই চরম সহিংসতার খবর জানানো হয়েছে।

কাশ্মিরের এই উত্তেজনার মূল সূত্রপাত হয়েছে মূলত সেখানকার আঞ্চলিক বিধানসভায় পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত বারোটি আসন নিয়ে চলা বিরোধের জেরে। আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষের দাবি এই বিশেষ সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার কারণে তাদের নিজস্ব স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ ও সংকুচিত হচ্ছে। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই স্থানীয় নাগরিক সমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে।

পুঞ্চের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীরা ওই সেক্টরে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ কনভয় বা গাড়িবহর অবরুদ্ধ করে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সংঘর্ষের ফলে ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যকার এই সহিংসতার বিস্তারিত তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার জানান যে তারারখাল নামক এলাকায় ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর বাইরে রাওলাকোট এলাকায় সংঘটিত পৃথক আরেকটি সহিংস ঘটনায় একজন আন্দোলনকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় রক্ষণশীল হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই চলমান অসন্তোষ ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে গত জুন মাসে নিষিদ্ধ হওয়া যৌথ অ্যাকশন কমিটি বা জেইএএসি নামের নাগরিক সমাজের জোটটি গতকাল বুধবার রাওলাকোটে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। পুঞ্চের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে আন্দোলনকারীদের কোনোভাবেই শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।


ইরানে মার্কিন হামলায় ৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নতুন করে ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলায় দেশজুড়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) পারস্য উপসাগরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানের প্রশাসনিক ও চিকিৎসাবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি থেকে এই খবর জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান যে দেশের দক্ষিণ অংশে চালানো সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোতে ৩০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন যে সরকার তার সমস্ত শক্তি নিয়ে বিপন্ন জনগণের পাশে থাকবে। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরও উল্লেখ করেন যে ‘ইরানের দক্ষিণ অঞ্চল হলো এই ভূখণ্ডের স্পন্দন এবং এটি এই দেশের আত্মা’।

এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মার্কিন বাহিনীর এই সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ২৬০ জনেরও বেশি ইরানি নাগরিক বিভিন্নভাবে জখম ও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেন কেরমানপুর তার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে জানান যে এই আহত ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ছয়জন অবুঝ শিশুও রয়েছে, যাদের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।


লেখিকাকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ট্রাম্পের ৬০ কোটি টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬০ কোটি টাকা জরিমানা গুনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহুল আলোচিত এই মামলায় প্রখ্যাত লেখিকা ই. জিন ক্যারল ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ বুঝে পেয়েছেন। আদালতের নথি ও ক্যারলের আইনজীবীর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এপি।

একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট থেকে এই অর্থ ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া মূল ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার সঙ্গে অতিরিক্ত সুদ যুক্ত হয়ে এই অর্থের পরিমাণ ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ৮২ বছর বয়সি কলাম লেখিকা ই. জিন ক্যারল নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাবস্ট্যাকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে লিখেছেন, ‘ঈগল অবশেষে অবতরণ করেছে।’ এর মাধ্যমে তিনি মূলত টাকা হাতে পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জুরি বোর্ড রায় দেওয়ার পরপর আদালতের নির্দেশে এই অর্থ একটি জরুরি এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই দেওয়ানি রায়টি সম্পূর্ণ বহাল রাখে। এতে বিচারক লুইস এ. কাপলানের জন্য আটকে থাকা অর্থ লেখিকার কাছে ছাড় করার আইনি পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। যদিও ট্রাম্পের আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে এই অর্থ প্রদান ঠেকাতে আদালতে জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন জানিয়েছিলেন।

কিন্তু আদালত এক লাইনের সংক্ষিপ্ত আদেশে ট্রাম্পের সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালত ক্যারলকে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি শর্তও জুড়ে দেয়নি। ক্যারলের আইনজীবীরা আদালতের নথিপত্রে জানিয়েছেন, এই বিশাল অর্থ তিনি তার একটি অবসরকালীন অ্যাকাউন্টে জমা রাখার পরিকল্পনা করছেন। অবশ্য ট্রাম্পের ডিফেন্স টিম এখনও হাল ছাড়েনি। তারা এই অর্থ প্রদান বন্ধ বা সম্পূর্ণ বাতিল করার দাবিতে পুনরায় নতুন করে আপিল দায়ের করেছে।

ঘটনার শুরু যেভাবে

এই মামলা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। জুরি বোর্ডের তদন্ত ও রায়ে প্রমাণিত হয়, সেই বছর নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে ই. জিন ক্যারলকে জোরপূর্বক যৌন আক্রমণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ চলাকালীন ক্যারল তার প্রকাশিত একটি স্মৃতিকথায় বা আত্মজীবনীমূলক বইয়ে এই ভয়ংকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন। ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, ক্যারলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক বা ঘটনা ঘটেনি।

২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আক্রমণাত্মকভাবে বলেন, ক্যারল ‘পুরোপুরি মিথ্যা বলছেন’ এবং তিনি কোনোভাবেই ‘আমার পছন্দের নারী নন।’ এমনকি ১৯৮৭ সালের একটি পার্টিতে তাদের তৎকালীন স্বামী ও স্ত্রীদের সঙ্গে তোলা একটি গ্রুপ ছবিকে সম্পূর্ণ তাৎপর্যহীন ও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। ট্রাম্প উল্টো ক্যারলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং তার নাম ভাঙিয়ে বই বিক্রি করার নোংরা চেষ্টার অভিযোগ আনেন।

বিচার চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিনের জন্যও আদালতে উপস্থিত হননি। অন্যদিকে ক্যারল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সশরীরে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, নিউইয়র্কের সেই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ ও আকস্মিক মোলাকাতটি কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে এক চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।

মূলত নিউইয়র্ক আইন সংশোধন করে দূর অতীতের যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য পুনরায় নতুন করে মামলা করার বিশেষ আইনি সুযোগ দেওয়ার পর ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন।

এই মামলা ছাড়াও ২০২৪ সালের আরেকটি পৃথক বিচারে ম্যানহাটনের একটি জুরি বোর্ড ট্রাম্পকে ক্যারলের মানহানি করার অপরাধে আরও ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানে ট্রাম্প নিজে সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বর্তমানে সেই বিশাল জরিমানার বিরুদ্ধেও উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়া সচল রেখেছেন। সংবাদমাধ্যম যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের নাম গোপন রাখলেও, ক্যারল নিজেই তার নাম প্রকাশে পূর্ণ সম্মতি দিয়েছেন।


চীনে মার্কিন বিজ্ঞানী আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক মার্কিন বিজ্ঞানীকে চীন প্রায় দুই বছর ধরে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। জিম্মি ও বন্দিবিষয়ক মার্কিন অধিকার সংস্থা ‘গ্লোবাল রিচ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ বছর বয়সি চেন ইউলিন নামে ওই ভূকম্পনবিদ ২০২৪ সালের নভেম্বরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বেইজিংয়ে গেলে তাকে আটক করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে চেনকে মুক্তি দেওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখায় শেষ পর্যন্ত তার পরিবার বিষয়টি জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

চেন ইউলিনের স্ত্রী রং ইউফাং নিজেও একজন ভূকম্পনবিদ। তিনি বলেন, তার স্বামী চীনা সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভুল’ এবং তিনি যে উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক পরিবেশে গবেষণা করেছেন, তার সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

চেনের প্রকাশিত গবেষণাগুলোর মূল বিষয় উত্তর কোরিয়া। দেশটি চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

চেনের গবেষণা চীনের নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত ছিল কি না, বা থাকলেও কীভাবে ছিল, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, চীন নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার গড়ে তুলছে এবং গোপনে কিছু পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির ‘বিচারিক কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী মামলা পরিচালনা করছে’। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘তথাকথিত ‘বেআইনি আটকে রাখার’ মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’ উল্লেখ্য, চীনে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

বর্তমানে চেনই একমাত্র মার্কিন নাগরিক, যাকে (যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে) ‘অন্যায়ভাবে আটকে রাখা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবাল রিচের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রং ইউফাং বলেন, ‘৬০০ দিনেরও বেশি সময় হয়ে গেছে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয় না। তার স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষ তার স্বামীকে তার কাজ নিয়ে ১০০ বারেরও বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং আটকের প্রথম ১৩ মাস তাকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। চীনে জন্ম নেওয়া চেন ২০১১ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের বাসিন্দা।

ভূকম্প–সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষা শনাক্ত করায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন চেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক গবেষণা প্রকল্পেও কাজ করেছেন। রং ইউফাং বলেন, চীনের সহকর্মীদের সঙ্গে তার সব ধরনের গবেষণা ‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চীন সরকার জনগণের সঙ্গে জনগণের যে ধরনের যোগাযোগের (পিপল-টু-পিপল এনগেজমেন্ট) কথা বলে, তিনি ঠিক সেই কাজটিই করছিলেন।’

চেনের গবেষণার মধ্যে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণাও রয়েছে। সেখানে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড করা ভূকম্প–সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও বিস্ফোরণের শক্তি নির্ণয়ের পদ্ধতি উন্নত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

গ্লোবাল রিচের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের ভেতরে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (সিটিবিটি) লঙ্ঘন করে চীনের পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর কারণেই চেনকে আটক করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, চেনের এই দক্ষতা চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূকম্পন শনাক্তকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানার সুযোগ করে দেবে, যাতে তারা এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে যা তাদের চুক্তিটি এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে।


ফ্রান্সে পাস হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যু বিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফ্রান্সে পাস হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যু বিল। জীবনাবসানসংক্রান্ত চিকিৎসা বা ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছরের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বুধবার ফ্রান্সের নিম্নকক্ষ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এ সংক্রান্ত বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। এ আইনের ফলে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা কঠোর নিয়মের অধীনে নিজেদের জীবনাবসানের জন্য প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণের আইনি অধিকার পাবেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

তিন বছরেরও বেশি সময় আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এই আইনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নিম্নকক্ষে এর আগে তিনবার বিলটি পাস হওয়ায় এবারও এর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। রক্ষণশীলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা উচ্চকক্ষ বা সিনেট অবশ্য বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

তবে ফ্রান্সের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দুই কক্ষের মধ্যে দ্বিমত থাকলে নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। অবশ্য সিনেট প্রেসিডেন্ট জেরার্ড লার্চার জানিয়েছেন, বিলটি পাসের পর তিনি তা ‘কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল’-এ পাঠাবেন, যা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কি না তা যাচাই করতে এক মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

এই প্রক্রিয়া শেষেই আইনটি কার্যকর হবে। এই আইনের আওতায় সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সি এবং ফ্রান্সের নাগরিক বা দেশটির আইনি বাসিন্দা হতে হবে। রোগীকে এমন কোনো গুরুতর ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হবে যা তার জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং রোগটি এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যেখানে তার শারীরিক কষ্ট অসহনীয় ও কোনো চিকিৎসায় উপশমযোগ্য নয়।

তবে কেবল মানসিক কষ্ট বা বিষন্নতার কারণে এই আবেদন করা যাবে না। তীব্র মানসিক ব্যাধি বা আলঝেইমারের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এই আইনের আওতাভুক্ত হবেন না। পুরো প্রক্রিয়াটিতে রোগীকে সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীন ইচ্ছায় আবেদন করতে হবে। স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের একটি দল ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনটি পর্যালোচনা করবে এবং অনুমোদনের পর রোগীকে অন্তত দুই দিন এটি পুনর্বিবেচনা বা ভাবার সময় দেওয়া হবে।

এটি মূলত চিকিৎসকের সহায়তায় আত্মহত্যা, যেখানে রোগী নিজেই প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণ করবেন। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা যদি ওষুধ নিজে গ্রহণে অক্ষম হয়, কেবল তখনই ডাক্তার বা নার্স তাকে এটি সেবনে সরাসরি সহায়তা করতে পারবেন। অনুমোদন পাওয়ার পর রোগী তার ইচ্ছা অনুযায়ী বাড়ি অথবা চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে যেকোনো সময় এই ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন।

ওষুধ গ্রহণের চূড়ান্ত মুহূর্তেও ডাক্তার বা নার্স রোগীর সম্মতি পুনরায় যাচাই করবেন এবং কোনো জটিলতা এড়াতে কাছাকাছি অবস্থান করবেন। এই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ফ্রান্সের জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থা বহন করবে।

২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ এই জীবনাবসান আইনের পক্ষে এবং বিগত দুই দশকে এর পক্ষে জনসমর্থন আরও বেড়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রাইট টু ডাই উইথ ডিগনিটি’ এই বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি মানুষকে অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তির স্বাধীন অধিকার দেবে।

তবে এর বিরোধিতাকারী সংস্থা ‘অ্যালায়েন্স ভিটা’ প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছে, মৃত্যু কখনোই কষ্টের সমাধান হতে পারে না এবং এটি মানুষের মর্যাদার পরিপন্থী।

তাদের মতে, এর ফলে অসুস্থ, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরোক্ষ চাপের মুখে পড়তে পারেন। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে এই অধিকার না থাকায় অনেক ফরাসি নাগরিক সুইজারল্যান্ড বা বেলজিয়ামের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেতেন যেখানে স্বেচ্ছামৃত্যু আগে থেকেই বৈধ। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ইচ্ছামৃত্যু বা স্বেচ্ছামৃত্যুর আইনি বৈধতা রয়েছে।


banner close