বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে গেলে কী হতে পারে

কমলার আইকিউ কম : ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৩১

পুরো বিশ্বের নজর এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে। এই নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস। তিনি বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প ও কমলার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দেশ-বিদেশে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে চারদিকে বিস্তর আলোচনা চলছে। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কমতি নেই। ফলাফল উল্টো হলে; অর্থাৎ নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে গেলে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে, বিশেষ করে অনেক মার্কিনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। তবে এই নির্বাচনে নিজের পরাজয়ের বিষয়টি এখন পর্যন্ত মেনে নেননি ট্রাম্প। পরাজয় মেনে নিতে ট্রাম্পের এই অস্বীকৃতি মার্কিন জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিভক্তি তৈরি করে। ট্রাম্পের আহ্বানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি তার উগ্র সমর্থকরা মার্কিন কংগ্রেস ভবনে (ক্যাপিটল হিল) হামলা চালান। এই সহিংস হামলার উদ্দেশ্য ছিল, কংগ্রেসে বাইডেনের জয়ের সত্যায়ন ঠেকানো।

মার্কিন গণতন্ত্রে অবিশ্বাসের বীজ বপনের বিষয়ে ট্রাম্পের অব্যাহত চেষ্টা দেশটির ভোটারদের মনে আশঙ্কা জাগাচ্ছে। আর সেই আশঙ্কা হলো, আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হলে ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডোনাল্ড নেইম্যান বলেন, এবার যদি তিনি (ট্রাম্প) হেরে যান, তাহলে আবার যে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলবেন, সে বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। আর ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে এমন কোনো চেষ্টা নেই, যা তিনি করবেন না। এ ছাড়া কমলা হ্যারিসের অভিষেক অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নেবেন না। তিনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি কখনোই পরাজয় মেনে নেবেন না।

ট্রাম্পের অতীত কর্মকাণ্ডের যে ইতিহাস তা বলছে, আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতারণার চেষ্টা করা কোনো অমূলক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে ট্রাম্প ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের পথ ধরেই তিনি নানা অপচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

প্রাণঘাতী দাঙ্গা : ট্রাম্পের সমালোচকরা ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন। সে সময় ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি তার সমর্থকদের কংগ্রেস ভবনে যেতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিয়ে তার উগ্র সমর্থকরা ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হয়েছিলেন। তারা ক্যাপিটল হিলে প্রাণঘাতী দাঙ্গায় জড়িয়েছিলেন।

সমালোচকদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেননা, গত মাসেই মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যদি হেরে যান, তাহলে তাদের (ডেমোক্র্যাটদের) প্রতারণার কারণেই হারবেন। প্রতারণা ছাড়া তাকে কোনোভাবেই হারানো যাবে না। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা আইনি উপায় ব্যবহার করেও ২০২১ সালে দাঙ্গার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন। ওই সময় তারা ৬০টির বেশি মামলা করেছিলেন। এসব মামলায় এমন অভিযোগও করা হয় যে, মহামারির অজুহাতে ভোটের নিয়ম পরিবর্তন করেছে স্থানীয় নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ। এসব মামলা ধোপে টেকেনি। প্রতিটি মামলায় হেরে যায় ট্রাম্প শিবির। ভোট গ্রহণের আগেই নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা উচিত ছিল বলে রায় দেন বিচারক।

এ জন্য এবার আগেই মাঠে নেমেছেন রিপাবলিকানরা। আগাম ভোট শুরুর আগে তারা ১০০টির বেশি মামলা করেছেন। এসব মামলায় মার্কিনরা কীভাবে নিবন্ধিত হন, কীভাবে ভোট দেন, কারা ভোট দিতে পারেন- এ ধরনের নির্বাচন-সংক্রান্ত নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিক্ষিপ্ত সহিংসতা : যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ-ভিত্তিক পিআর প্রতিষ্ঠান ক্রোনাস কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাড্রিয়েন উথে বলেন, ট্রাম্প হেরে গেলে আইনি লড়াই সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। এর তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে কিছু কিছু এলাকায় বিক্ষোভ, এমনকি বিক্ষিপ্ত সহিংসতাও হতে পারে। স্ক্রিপস নিউজ/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, এবার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে আশঙ্কা করছেন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী (জরিপে)। আর আগামী ৫ নভেম্বর ভোট গ্রহণ শুরুর পর সম্ভাব্য অস্থিরতা দমনে বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী সামরিক বাহিনী ব্যবহারে পক্ষে মত দিয়েছেন।

ইউগভের নতুন একটি জরিপে দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশগ্রহণকারী মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তারা এমন ব্যক্তিদের চেনেন, যারা ট্রাম্প প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করলে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে পারেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের দপ্তর থেকে আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে বিদেশি ক্রীড়নকের হুমকির ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য রক্তপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি ক্রীড়নকের মাধ্যমে বা ইন্ধনে হিংসাত্মক প্রতিবাদ, সহিংসতা বা প্রত্যক্ষ হুমকির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

কমলার আইকিউ কম : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে রোববার নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সমাবেশের শুরুতে ট্রাম্পের মিত্ররা বেশ কিছু অশ্লীল ও বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প সমবেত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘চার বছর আগের চেয়ে কি এখন আপনারা ভালো আছেন?’ এ সময় জনতা সমস্বরে বলে ওঠে, ‘না।’ ৫ নভেম্বরের ভোটে জয়ী হলে অপরাধীদের হামলা থেমে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস খুবই কম আইকিউসম্পন্ন (বুদ্ধির সূচক)।’


নির্বাচিত

ইসলামাবাদে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জন নবজাতকের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার ভোরের দিকে হাসপাতালটির গাইনি ওয়ার্ডে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

ইসলামাবাদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছয়টি গাড়ি এবং চারটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে শিশুদের তৎক্ষণাৎ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ জন শিশু মৃত্যুবরণ করে।

এদিকে পিমসের মুখপাত্র ডক্টর আনিজা জলিল নিশ্চিত করেছেন যে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ওয়ার্ডটিতে মোট ১৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। ডক্টর আনিজা জলিল জানিয়েছেন, "সকাল ৭টার দিকে শর্টসার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।"


নির্বাচিত

গ্রিসের উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসী উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলীয় এলাকা থেকে দুটি পৃথক নৌযান থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দক্ষিণ ক্রিটের কালিলিমেনেস বন্দরের অদূরে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এএফপি এবং টাইমস অব মাল্টা-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গ্রিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নজরদারি ড্রোন সমুদ্রের ওপর ভাসমান অবস্থায় দুটি নৌযানের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে কোস্টগার্ডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিবাসীদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুই নারী ও দুই শিশুসহ বাংলাদেশ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের নাগরিকরা রয়েছেন বলে গ্রিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিকভাবে অভিবাসীর সংখ্যা ৮৫ জন বলে গণমাধ্যমে খবর আসলেও পরে কোস্টগার্ড বিষয়টি স্পষ্ট করে জানায় যে মোট উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৭৯ জন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রিট এবং এর নিকটবর্তী গাভদোস দ্বীপটি লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে প্রবেশের একটি প্রধান করিডোর বা পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লিবিয়া উপকূল থেকে এই দ্বীপটির দূরত্ব মাত্র ৩২০ কিলোমিটার।

তবে গ্রিসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অভিবাসী প্রবেশের হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত যেখানে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ গ্রিসে প্রবেশ করেছিলেন, সেখানে পরবর্তী এক বছরে এই সংখ্যা ৪২ হাজারে নেমে এসেছে—যা প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর সীমান্ত নীতি এবং লিবিয়ার সাথে উন্নত সহযোগিতার ফলে এই নিম্নগামী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানস প্লেভরিস অবৈধ অভিবাসন রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানার বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সাথে আলোচনা চলছে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাঁদের অভিবাসন হেফাজতে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে ইরানিরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার নজিরবিহীন মানহানির ফলে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে ইরানের সাধারণ মানুষ। বিদেশী গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের গভীর হতাশা দেশটির জনমনে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ইরান এক কঠিন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামনে এখন দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী পথ উন্মুক্ত হয়েছে। একদিকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের শঙ্কা প্রবল হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি পুনরুদ্ধারের একটি ক্ষীণ আশাও টিমটিম করে জ্বলছে। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মাঝে দেশটির অর্থনীতি প্রায় পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বেশ কিছু কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই সংলাপে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের সরাসরি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে, যা বিশ্লেষকদের কাছে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এই আশার আলোতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপ চলমান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট এবং গভীর অবিশ্বাস নতুন করে ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষ এখন এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছে। সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত না হলে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

৪ ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে চারটি ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর, বিক্রি এবং রপ্তানিতে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে এই কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায়ই ভারতের চার কোম্পানিকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘ইরানকে চুক্তির জন্য অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি। এখন তাদের বিরুদ্ধে এমন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যার ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে অভূতপূর্বভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের মিত্র দেশগুলোকেও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়, তা তেল চোরাচালান, নগদ লেনদেন, জাহাজ নিবন্ধন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমেই হোক, সেই দেশকেও কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।’


নির্বাচিত

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ: জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এএফপি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। এতে সহিংসতা, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে সামরিক বাহিনী, গণতন্ত্রপন্থি ও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানায়, ভয় ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক কৌশল এখন মিয়ানমারের মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। নজরদারি বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারও এতে সহায়তা করছে।

সাধারণ মানুষের ওপর সামরিক বাহিনীর সহিংসতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। এর মধ্যে নিয়মিত বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা রয়েছে।

বলা হয়, নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক বাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। অবৈধ খনন, মাদক উৎপাদন, মানবপাচার এবং অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্রের কারণেও এই সংকট বাড়ছে বলে জানায় জাতিসংঘ।

সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই প্রতিবেদন পুরো দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের দুর্ভোগ, দুর্দশা ও নিষ্ঠুরতার এমন এক চিত্র তুলে ধরেছে, যা হৃদয়বিদারক।’

তিনি বলেন, ‘আমি সব রাষ্ট্র, কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীর প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন নিজেদের কর্মকাণ্ড বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে আত্মসমালোচনা করেন এবং প্রশ্ন করেন—মিয়ানমারের মানুষের জন্য এ অবস্থা ন্যায়সংগত ও সুবিচারপূর্ণ কি না?’

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। এর মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও মানবিক সংকটে নিমজ্জিত হয় দেশটি। চলতি বছরের এপ্রিলে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশে কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায় করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন মিন অং হ্লাইং।


নির্বাচিত

বেইজিংয়ে ওয়াং ই-অজিত দোভাল বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংকটের সমাধান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পারমাণবিক শক্তিধর এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল এই দুই প্রতিবেশী দেশ তাদের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সম্মত হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ওয়াং ই এবং অজিত দোভালের মধ্যকার এই বৈঠকটি সংক্ষিপ্ত হলেও তা ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক। বৈঠকে ওয়াং ই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, চীন-ভারত সম্পর্ক এখন আর কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বর্তমান বিশ্বপ্রেক্ষাপটে এর ব্যাপক বৈশ্বিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষেরই অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং সীমান্ত সমস্যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে এমন উপযুক্ত স্থানে রাখা প্রয়োজন, যাতে থমকে না গিয়ে বা পথ না হারিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি বজায় থাকে।

হিমালয় অঞ্চলে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অনির্ধারিত ও বিতর্কিত সীমান্ত রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। পরবর্তীতে টানা চার বছরের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সৈন্য ফিরিয়ে নেওয়ার চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছিলেন, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সম্পর্কিত নতুন এক বিতর্ক দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক বাগযুদ্ধ উসকে দিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সেই উত্তেজনা প্রশমিত করে বেইজিংয়ের এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে উভয় দেশই আবারও শান্তির পথে হাঁটার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতারা একমত হয়েছেন যে, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মতপার্থক্য কমিয়ে আনার মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব। সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চীনের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, এই গঠনমূলক আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালে ভারতে সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনার পরবর্তী পর্ব আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশই চূড়ান্তভাবে একমত পোষণ করেছে।


নির্বাচিত

ইরান আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে নিজের এক ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে কথিত এ হত্যাচেষ্টা কখন, কোন স্থানে কিংবা কোন ছেলেকে নিশানা করা হয়েছিল, সেসব নিয়ে কিছুই জানাননি তিনি।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছে তার দল। এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আনলেন নেতানিয়াহু।

ইরান তার এক ছেলেকে নিশানা করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, “বিষয়টি ‘অবিশ্বাস্য’।” এ সময় ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু।

জনমত জরিপের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইজেনকোট আগামী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে রয়েছেন।

ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সংস্থা আইজেনকোটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে কথা বলেন নেতানিয়াহু। এ সময় আইজেনকোটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গত জুলাইয়ে তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছেন। তার নিরাপত্তার ব্যয় ইসরায়েলি করদাতাদের বহন করা নিয়ে দেশটিতে তখন সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি। তবে বাবার শেষকৃত্য উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।


নির্বাচিত

দিল্লিতে টানা ভারী বৃষ্টি, রেড অ্যালার্ট জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জলমগ্ন রাস্তা, কোমর সমান পানি আর ধীরগতির যানবাহনে তীব্র যানজটও দেখা দিয়েছে। তবে দুর্যোগের মেঘ এখন কাটেনি। দিল্লিতে আবারও নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) রাজধানীর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে বজ্রপাত, দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লির শহরজুড়ে বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। মধ্য দিল্লি, পূর্ব দিল্লি, নয়াদিল্লি, উত্তর দিল্লি, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, শাহদারা, দক্ষিণ দিল্লি, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি এবং পশ্চিম দিল্লিসহ প্রায় সব কয়টি জেলাকেই সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।

বিমান চলাচল নিয়ে যাত্রীদের জন্য জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আপাতত বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গত সোমবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট বিকল্প পথ হিসেবে জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে পাঠাতে হয়েছিল।

হঠাৎ এই প্রলয়ংকরী বৃষ্টির কারণ হিসেবে আইএমডির আবহাওয়াবিদ ড. শশীকান্ত জানান, শুষ্ক উত্তরী বাতাস ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতাপূর্ণ পূর্বী বাতাসের সংযোগই এর মূল কারণ।

তিনি বলেন, ‘একদিকে উত্তর দিক থেকে শুষ্ক ঊর্ধ্বগামী বাতাস প্রবেশ করছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতায় ভরা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই তীব্র এই বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড় হচ্ছে।’

এদিকে গত সোমবার (২৪ আগস্ট) মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। রাজীব চক, আইএফএফসিও চক, রেলওয়ে রোড, ওল্ড দিল্লি রোড ও মেহেরৌলি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাস্তায় স্কুলবাস আটকে পড়া ও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় গুরুগ্রাম প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরকে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার পরামর্শ দিয়েছে এবং সব স্কুলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।


নির্বাচিত

চলতি গ্রীষ্মে গতবারের চেয়ে ৩৫ হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে লেকে ঝাঁপ দিচ্ছেন মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে পরপর চারটি রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত বছরের গ্রীষ্মের তুলনায় অন্তত অতিরিক্ত ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মহাদেশটির অর্ধেকেরও কম এলাকার অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনেই এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক জাতীয় হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যোগ হলে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

গত মে মাস থেকে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। শত শত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বকালের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। ফ্রান্সে জাতীয় গড় তাপমাত্রার হিসাবে সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মানিতে গত জুনের শেষ দিকে টানা তিন দিন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। ওই সময় দেশটির ৪৬টি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। স্পেনেও দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলোর তীব্রতাও বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে জার্মানিতে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) গত সপ্তাহের শেষ দিকে জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গেছেন। শুধু গত ২২ থেকে ২৮ জুনের এক সপ্তাহেই ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরকেআই।

২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা ইইউর অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর চলতি বছরের জুনের ওই সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হার দেখা গেছে। তবে ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারি তখনও সক্রিয় ছিল।

রেকর্ড রাখা শুরুর পর জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যুর জন্য ২০২৬ সালই সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। এর আগে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, যখন ৮ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আরকেআই জানিয়েছে, স্বাভাবিক গ্রীষ্মে জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যু সাধারণত ২ হাজারের নিচে থাকে।

স্পেনের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউটের মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে তাপের কারণে ৪ হাজার ৯৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সাল স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হয়ে উঠেছে। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে, যখন ৪ হাজার ৫২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

তবে বিভিন্ন দেশ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব ভিন্ন পদ্ধতিতে করে। স্পেন ও জার্মানি তাৎক্ষণিকভাবে মডেল ব্যবহার করে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে কতজনের মৃত্যু তাপের কারণে হয়েছে, তা অনুমান করা হয়।

এ ধরনের হিসাবের প্রয়োজন হয় কারণ মৃত্যুসনদে খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি ‘তাপ’কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকেই থাকা শ্বাসতন্ত্র বা হৃদরোগের মতো অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, স্ট্রোক করে বা কিডনি বিকল হয়ে মারা যেতে পারেন।

তাই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশ এখনো চলতি আগস্টের শুরুর দিকের মৃত্যুর হিসাবও প্রকাশ করেনি। জার্মানির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখ গত সপ্তাহে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সংখ্যাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় কম বলে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ফ্রান্সে ৫০০টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে দেশটির ৯৮ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় ছিল। ফ্রান্স প্রথমে সব ধরনের মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করে। পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কতজনের মৃত্যু তাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, তা নির্ধারণ করা হয়।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩০০। তবে চলতি আগস্টের তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক এই হিসাব ইলেকট্রনিক মৃত্যুসনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশটির মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের তথ্য ধারণ করে।

ইতালির জাতীয় তাপপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থানীয় পৌরসভাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে। ফলে দেশটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর হিসাব প্রকাশে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। এখন পর্যন্ত ইতালি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করে অসম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক সূচক দিয়েছে।


নির্বাচিত

ভারত সফরে যাবেন শি জিনপিং

শি জিনপিং
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিবেন। তার সঙ্গে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদলও ভারত সফরে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র। সফরটি হলে সাত বছর পর ভারত সফরে যাবেন শি জিনপিং। পাশাপাশি এটি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও চীনের সম্পর্কের বরফ গলার নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে ভারত। সেখানে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি ব্রিকসের নিজস্ব কর্মসূচির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য বার্তার কারণে। বিশেষ করে, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শি জিনপিংয়ের সফর সেই প্রক্রিয়ার নতুন ইঙ্গিত হতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ভারতের একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা এখন হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফর করেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক খুব ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তসংক্রান্ত নতুন একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাক্যবিনিময়ও হয়েছে।

ভারতের আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে আসতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২০০ জনের কম।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় খুঁজবেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় ও এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে এ বছরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে চীন সমর্থন করে।

তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে বর্তমানে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি শি জিনপিং। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীন দুটিই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত নয় ও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ।

দশকের পর দশক সীমান্তে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও ২০২০ সালের সংঘর্ষে সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহত হন। এর পরবর্তী চার বছর সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা চলতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা সরিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নকরণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের সেনা টহলদল মুখোমুখি হয়েছিল বলে খবর প্রকাশের পর গত ১২ আগস্ট ভারত জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল গত সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন।


নির্বাচিত

ইমরান খানের জন্য ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান জেমিমা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ তার সাবেক স্বামীর সঙ্গে কারাগারে ‘কথিত আচরণ’ নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে ট্যাগ করে জেমিমা লেখেন, ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে?

এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, ইমরান খানের পরিবার ও তার দল দীর্ঘদিন ধরে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে আদিয়ালা কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে কারাগারের বাইরে ভিড় জমায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়।

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে আছেন। একাধিক মামলায় তার সাজা হয়েছে। ইমরান ও তার দল এসব মামলাকে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছে।

জেমিমা দাবি করেন, তার দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমানের বাবা ইমরান খান গত তিন বছর ধরে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারণে কঠোর শাস্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (ইমরান খান) তিন বছর ধরে একাকী বন্দিত্ব সহ্য করছেন।’

তার অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস ধরে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তাকে বই, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের কাছ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের কথা উল্লেখ করে জেমিমা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ এবং এটি নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে।’ অথচ ইমরানকে ১৫ দিন নয়, তিন বছর ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জেমিমা বলেন, ‘পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে ইমরানের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ, নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং সপ্তাহে দুইবার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন।’ কিন্তু এসব নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইমরান খানের সাবেক স্ত্রীর মতে, এটি আর শুধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি এখন মানবাধিকার সংকট।

জেমিমা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং ইংল্যান্ডে বহু বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন।’

তার মতে, ব্রিটেনের সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক পাঁচ দশকেরও বেশি পুরোনো। পাকিস্তানে বিনামূল্যে ক্যানসার হাসপাতাল এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ তার দাতব্য কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জেমিমা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে তিনি এর আগেও একাধিকবার হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।’

জেমিমার দাবি, এখন যুক্তরাজ্যকে প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। পাকিস্তানকে নিজেদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে হবে—ইমরানের চিকিৎসাসেবা ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, দীর্ঘদিনের একাকীত্বের অবসান ঘটাতে হবে এবং তার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


নির্বাচিত

ইরানি ড্রোন ধ্বংসকারী অস্ত্র তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে কম খরচের ইন্টারসেপ্টর তৈরি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারআস’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কারখানায় থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে ঘণ্টায় ২০০ মাইল গতিসম্পন্ন এসব ড্রোন ধ্বংসকারী অস্ত্র তৈরি হচ্ছে।

পাওয়ারআসের মুখপাত্র জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারখানায় বর্তমানে মাসে প্রায় তিন হাজার ইন্টারসেপ্টর তৈরি হচ্ছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ১৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র রপ্তানি না করে স্থানীয়দের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদন জোরদার করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরব আমিরাতের ওপর ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে ১৫ জন নিহত, শত শত মানুষ আহত, একটি তেল শোধনাগার বন্ধ এবং দুটি আমাজন ডেটা সেন্টার ধ্বংস হয়।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট অস্ত্রের সংকট দেখা দেওয়ায় পাওয়ারআসের তৈরি ‘গার্জিয়ান’ নামের এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর চাহিদা বেড়েছে, যা মাত্র পাঁচ হাজার ডলারে লেগোর মতো সহজে জোড়া দেওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল সিনেনস্কি জানান, আমিরাতের কারখানায় দিনে ৩০টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই তা ১০০টিতে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় তারা ২২ মিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে এবং ভারতের মুম্বাইয়ের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারআস সম্প্রতি একটি গলফ কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা কিথ কেলগ এই কোম্পানির পরামর্শক বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন এবং মার্কিন বিমান বাহিনীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ৯০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে মাইকেল সিনেনস্কি, রোমান ভিনফেল্ড এবং ব্রেট ভেলিকোভিক যৌথভাবে পাওয়ারআস গঠন করেন। তারা ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি ও একাধিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষার নতুন মডেল তৈরি করেন। সেন্টারের গবেষণা কর্মকর্তা স্ট্যাসি পেটিজন ও আলবার্ট ভিডালের মতে, এসব সাধারণ অস্ত্র মূল মিসাইল ব্যবস্থার বিকল্প না হলেও সাশ্রয়ী মূল্যে ইরানি ড্রোনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরক্ষা দেবে।


নির্বাচিত

ভিসা ফি এক লাখ ডলারের বেশি করার উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলারের বেশি করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি নেওয়া হতে পারে। প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এখনই নতুন ফি কার্যকর হচ্ছে না। প্রস্তাবটির ওপর আগামী ৩০ দিন জনগণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এটি কার্যকর করতে পারবে।

এইচ-১বি ভিসা মূলত প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে। নতুন ফি কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করেছিল। তবে আদালতের রায়ে সেই ফি আদায় বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে একটি ফেডারেল আদালত ওই ফি অবৈধ বলে রায় দেয় এবং প্রশাসনকে তা আদায় থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়। বিষয়টি এখন আপিল আদালতে পর্যালোচনাধীন। একই সঙ্গে অন্য একটি আদালতে এই ফি নিয়ে পৃথক আইনি লড়াই চলছে।

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গত বছরের সাময়িক ১ লাখ ডলারের ফি-এর পরিবর্তে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের স্থায়ী ফি চালু হতে পারে। ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা মনে করেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে এবং এর ফলে মার্কিন নাগরিকরা চাকরির সুযোগ হারান।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, কিছু বিশেষায়িত পেশায় যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা প্রয়োজন। তাদের মতে, এই ভিসা ব্যবস্থা বন্ধ বা কঠিন হয়ে গেলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মী নিয়োগে সমস্যায় পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স, কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ফি-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।

মামলাকারীদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ডিএইচএস এ ধরনের ফি বা কর আরোপ করতে পারে না। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যবহার করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মূল আইনকে পাশ কাটানো যায় না।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই ফি কোনো সাধারণ কর নয়। বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে এইচ-১বি ভিসার চাহিদাও কমেছে। মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার জন্য নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করেছিলেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এটি ২৫ শতাংশের বেশি কম।

২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, গত বছরের সংখ্যা ছিল তার অর্ধেকেরও কম।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি নতুন নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে বেশি দক্ষ এবং বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আগস্টের শুরুতে ডিএইচএস আরও একটি পৃথক নিয়ম প্রস্তাব করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এইচ-১বি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা বিদেশে থাকা কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের আবেদনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি যোগ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তবে এর আগে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হতে হবে এবং আদালতে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জগুলোরও নিষ্পত্তি হতে হবে।


নির্বাচিত

banner close