মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
রিয়াদে ৯০টি দেশের বৈঠক

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে মাঠে এবার সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৪ ২২:০৭

মধ্যপ্রাচ্য জয়ের আশা নিয়ে শুরু করা যুদ্ধে এবার সর্বহারা হয়েই ফেরত যেতে হচ্ছে ইসরায়েলের খুনে নেতা নেতানিয়াহুকে। লেবাননে অসম্মানজনক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনার মধ্যেই আরও খারাপ খবর এসেছে ইসরায়েলের জন্য। এত দিন দাবি জানিয়ে এলেও এবার প্রথমবারের মতো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সরাসরি মাঠে নেমেছে সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম দেশ সৌদি আরব। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টি দেশকে এনে এক টেবিলে বসিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান।

মুসলিম দেশগুলোর অন্যতম দুই স্তম্ভ সৌদি ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই ছিল বৈরী সম্পর্ক। আর এই শত্রুতা উস্কে দেওয়ার পেছনে অব্যাহতভাবে কাজ করে গেছে ইসরায়েল ও এর মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনিরা এমন এক সন্দেহ ঢুকিয়েছিল যে, সৌদি আরব মনে করত ফিলিস্তিনকে ব্যবহার করে আসলে ইরান মধ্যপ্রাচ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাচ্ছে। আর এ জন্য ইরান নিয়ন্ত্রিত হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের ছিল তীব্র শত্রুতা। ইরানকে দমনের নামে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক মেরামতে দূতিয়ালীও করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এক বছর ধরে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নির্বিচার গণহত্যায় এবার ভুল ভেঙেছে সৌদি আরবের। মোহাম্মদ বিন সালমান বুঝতে পেরেছেন, ইরানের সঙ্গে বৈরিতা জিইয়ে রেখে এতদিন নিজেদের আগ্রাসন বাড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই শক্তিশালী মুসলিম দেশের বিভেদকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়াকে মুছে ফেলতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

তবে দেরিতে হলেও ঘুম ভেঙেছে সৌদি আরবের। ইরানের বাড়ানোর বন্ধুত্বের হাতে হাত মিলিয়ে এবার মুসলিম বিশ্ব এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। গাজাজুড়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে চালানো গণহত্যায় সৌদির সমর্থন আদায় করা তো দূরের কথা, মুসলিম দেশগুলোর কাছে ইসরায়েল এখন শুধুই ঘৃণার নাম। বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব এত তীব্রতা আগে কখনোই পায়নি।

মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসন চিরতরে বন্ধে উঠেপড়ে লেগেছে সৌদি আরব। গেল সেপ্টেম্বরেই সৌদি যুবরাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনোদিনই সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি আরব। এবার স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে ৯০টির বেশি দেশকে রিয়াদে এক করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদির উদ্যোগে দ্বিরাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের নতুন এই আন্তর্জাতিক জোটটি গেল মাসেই আত্মপ্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আদায়ে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়ার মতো দেশগুলো এক কাতারে সমবেত হয়েছে।

গত বুধবারের এই বৈঠকে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ফিলিস্তিনি জনগণকে নিজেদের ভূমি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করাই ইসরায়েলের যে এই নির্বিচার গণহত্যার উদ্দেশ্য সে কথাটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ওই ৯০ জাতির বৈঠকে। তবে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে বলেছে, সেটা তারা আর হতে দেবে না। ফিলিস্তিনজুড়ে ইসরায়েলের দানবীয় আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রবিরতি কার্যকরে নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর নেতানিয়াহুর আগ্রাসন বন্ধে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো বিকল্প নেই বলেও স্পষ্ট বার্তা দেয় সৌদি।

জাতিসংঘের ১৯৩টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৬টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সব আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ করে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ফিলিস্তিনকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছে নেতানিয়াহু। এক বছরে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর হাতে ৪৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ত্রাণ ও অবরোধে গাজার সব মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘও।


নির্বাচিত

হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সৌদির ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ প্রস্তাবের দাবি

ইরানের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে এই অর্থ হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের ভূখণ্ডে সব ধরনের সশস্ত্র আঘাত বন্ধের শর্তে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এক বিলিয়ন ডলার আর্থিক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। ইরানের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে এই অর্থ হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রকাশিত এই সংবাদের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে অস্ত্রবিরতির শর্তাবলী চূড়ান্ত করতে ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুসারে, তেহরানের মাধ্যমেই ওই অর্থ হুথিদের হাতে পৌঁছানোর কথা। এমনকি একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে 'হারকিউলিস' সামরিক পরিবহন বিমানে করে তেহরানে পৌঁছান, সেটিতে করেই ওই অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের কাছে অর্থ হস্তান্তরের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা।

তেহরানের এই বহুপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এতে তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। স্বাগতিক ইরানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব মোহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোগুলোতে হুথিদের অবিরাম ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। এমন প্রেক্ষাপটেই বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তেহরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছিল।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর চলমান সংকটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহ দেওয়া এবং কাতার ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য জোটের চলমান উদ্যোগের অংশ।'

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই মূলত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের' প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি নীতি-নির্ধারকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সূচনা হলো। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকিয়ে নিজেকে প্রধান কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতেই ইরান এই উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও সৌদি এক কর্মকর্তা জানান, মূলত তিন বছর আগের একটি সমঝোতা বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই নতুন করে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ওই সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনের অংশ হিসেবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে রিয়াদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল; যার বিনিময়ে হুথিরাও আক্রমণ বন্ধ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হুথিরা অভিযোগ তোলে যে রিয়াদ পূর্বের অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে এবং এ কারণে তারা পুনরায় সৌদি আরবে হামলার হুঁশিয়ারি দেয়। এর বিপরীতে রিয়াদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—দেশটি কোনো ধরনের 'সামরিক ব্ল্যাকমেইলের' মুখে নতি স্বীকার করবে না। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে দখলকৃত অঞ্চলগুলো ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত হুথিদের কোনো অর্থ ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব কিংবা সামরিক বিমানে অর্থ বহনের এই দাবির সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো সূত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের ধর্ষণের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে অবস্থানের সময় ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের প্রকাশিত এক তদন্ত নথিতে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ওই নথিতে যৌন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সংশ্লিষ্টতা ও মেলামেশার বিশদ তদন্ত তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কিউল দাবি করেছিলেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। তবে এবার তিনি সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের মুখপাত্র এই অভিযোগকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই বিরোধীরা এমন অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তদন্ত কমিটির ডেমোক্র্যাট কর্মীদের কাছে কিউল বর্ণনা করেন, তাঁর বয়স যখন ২৪ বছর, তখন প্লাজা হোটেলে আয়োজিত একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে তখনকার হোটেল মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করে দেওয়া ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নথিতে ট্রাম্পের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি কিউলকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব।’

কিউল জানান, ট্রাম্প সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরপরই তাঁর কাছে উপস্থিত হন জেফরি এপস্টেইন। তিনি নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে মার-আ-লাগোতে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। নথিতে উদ্ধৃত করা হয়, এপস্টেইন তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমরা ডনের সঙ্গে অনেক পার্টির আয়োজন করি।’ তবে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের দাবি, এপস্টেইনের অপকর্মের গন্ধ পাওয়ার বহু আগেই তিনি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তিনি এপস্টেইনকে ‘বিকৃত রুচির লোক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার-আ-লাগো থেকে বহিষ্কার করার কথাও বারবার বলে আসছেন।

ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের এক সহকারীর আমন্ত্রণে কিউল প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণে নথিতে দাবি করা হয়, ‘সেখানে ঢোকার পর ট্রাম্প পেছন থেকে কিউলকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ দেখা দেয়।’

কিউল সেই ঘটনাকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পরপরই ট্রাম্প তাঁকে বিছানার কিনারে বসিয়ে আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার শর্ত জুড়ে দেন। সেখানে ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখা হয়, ‘যা-ই ঘটুক, সবকিছু আগের মতো চলতে হবে।’

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো মুখ খুলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর কাছে কিউল বলেছিলেন, ‘তিনি আমার ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন। আমার পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। শরীরের যেখানেই পেরেছেন, আমাকে ধরেছেন ও স্পর্শ করেছেন।’

তবে তৎকালীন সাক্ষাৎকারে কিউল দাবি করেছিলেন যে পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ হয়নি। তখন তিনি বলেন, ‘আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি বলেছিলাম, ‘আগে কথা বলি’ বা এ রকম কিছু। এরপর তিনি ধীর-স্থির হয়ে যান।’ ছয় ফুট এক ইঞ্চি লম্বা এই সাবেক মডেলের অনুমান ছিল, তাঁর শারীরিক উচ্চতাই সেদিন সম্ভাব্য বড় ক্ষতি থেকে তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছিল। ডেইলি মেইল-কে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, কিউলের এক পুরোনো বন্ধু নিশ্চিত করেছেন যে প্রায় দুই দশক আগেই কিউল তাঁকে ট্রাম্পের এমন আচরণের কথা জানিয়েছিলেন এবং এত বছর পরও তাঁর সেই বিবরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

২০২৪ সালে কিউলের প্রথম অভিযোগের পর ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট একে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বর্তমান হোয়াইট হাউস মুখপাত্র দাবি করেছেন, এপস্টেইন সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ থেকে ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত করা হয়েছে’। মুখপাত্র ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘এই ‘প্রতিবেদন’ উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের যে সমর্থন বাড়ছে, তা থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এই চেষ্টা।’

প্রকাশিত এই তদন্ত প্রতিবেদনে কিউল বাদেও আরও চারজন নারীর সাক্ষ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা প্রত্যেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া এতে দাবি করা হয়, ট্রাম্প ও এপস্টেইন প্লাজা হোটেলের সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে তরুণীদের ফাঁদে ফেলার ‘শিকার খোঁজার ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন বিবৃতিতে বলেন, ‘পাঁচ নারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে থাকা বা তার উপস্থিতিতে ট্রাম্প তাদের ধর্ষণ করেছেন কিংবা যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন। অন্য নারীরা জানিয়েছেন, এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন।’ রাসকিন আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসায় তা রাজনীতির মাঠে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও এপস্টেইন নথি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার জেরে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ বেকায়দায় ফেলেছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের কারচুপির অভিযোগ

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে তিনি ‘কারচুপিপূর্ণ’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে তিনি ‘কারচুপিপূর্ণ’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) মিসিসিপির করিন্থে রিপাবলিকান পার্টির প্রচার সমাবেশে যাওয়ার পথে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় সাংবাদিকরা ব্রাজিলের নির্বাচনটি তাঁর কাছে "সুষ্ঠু" মনে হয়েছে কি না—তা জানতে চাইলে জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার কাছে এটি অত্যন্ত বাজে মনে হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, পুরো বিষয়টিই ছিল ভয়াবহ।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ নির্বাচনে আমি কোনো পক্ষ নিইনি; তবে সত্যি বলতে, এটি আরও একটি কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের মতো মনে হয়েছে আমার কাছে।”

রোববার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে ৬ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি (৫১.৭৯ শতাংশ) বৈধ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। বিপরীতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো সংগ্রহ করেন ৪৮.২১ শতাংশ ভোট। এর মধ্য দিয়ে লুলা দা সিলভা বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত হলেন।

যেকোনো নির্বাচন সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা আবশ্যক উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নির্বাচন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ব্রাজিলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নির্বাচন হতে হবে প্রশ্নাতীত, কিন্তু আমার কাছে এটি অত্যন্ত খারাপ মনে হয়েছে।”

ভোটগ্রহণের সার্বিক ব্যবস্থাপনার কড়া সমালোচনা করলেও ট্রাম্প পুনরায় স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে অবস্থান নেননি। তিনি বলেন, "আমি নির্বাচনটি দেখেছি। এটি অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভয়াবহ বলে মনে হয়েছে।"

লুলার সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্যের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি ব্রাজিল পরিচালনা করছি না, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টও নই। আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। লুলাকে আমি পছন্দ করি, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বেশ ভালো... তবে যেভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তা ছিল খুবই অদ্ভুত।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই বক্তব্য জানা গেছে।


নির্বাচিত

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের মুখে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। শহরটির মেয়র ইউসেফ আল-জাবারি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪৩ জন ফিলিস্তিনিকে নিজেদের বাড়িঘর থেকে সরে যেতে হয়েছে। চলমান এ অভিযানের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেবরনের মেয়র বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে রেখেছে। ফলে বাসিন্দাদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন গভর্নরেটজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। এ সময় সেনারা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। অভিযানের প্রভাবে একদিকে যেমন বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে এলাকাজুড়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষদের আশ্রয়, নিরাপদ স্থানে যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

হেবরনের মেয়রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে তিন হাজার ছাড়িয়েছে। তবে অভিযান কত দিন চলবে এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা কবে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎহীন ৯০ হাজার পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় বোয়েলোর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্য। ঝড়ের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৯০ হাজার পরিবার। বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াতে বিঘ্নের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ভোগ এখনই কাটছে না। নতুন করে প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং উত্তর ইংল্যান্ডে। এসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে স্বাভাবিক সময়ের এক মাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ঝড়ের সময় গাছপালা উপড়ে পড়ে হতাহতের এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজ এলাকায় উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং উত্তর লন্ডনে একটি চলন্ত গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লে বিশের কোঠার এক তরুণ প্রাণ হারান। এ ছাড়া, গাছচাপা পড়ে আহত অপর দুই নারীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদী ও নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পরিবেশ সংস্থাগুলো একাধিক বন্যা সতর্কতা জারি করেছে।

ঝড় ও রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়ার কারণে দেশটির সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্কটল্যান্ডের বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে বহু বিমানের ফ্লাইট বাতিল কিংবা তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সোমবার আবহাওয়া কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। এই আশঙ্কায় স্কটল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

কুয়েতে মহড়ারত মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এই বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানে ফের হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের ধারণা, নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে তার পরিধি আগের হামলাগুলোর চেয়ে অনেক বড় হবে।

এর আগে ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুর দিকে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে। এসব স্থাপনা ধ্বংস হলেও ইরান দ্রুত সেগুলো পুনর্গঠন করতে পারে।

সামরিক ভাষায় এ ধরনের সীমিত হামলাকে অনেক সময় ‘লন ছাঁটাই করা’ বা মোয়িং দ্য লন বলা হয়। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করে বারবার হামলা চালিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এবার সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্য শুধু এ ধরনের সীমিত হামলা চালানো বা বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি হবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান।’ মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন, এমন আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা একই ধরনের মত দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, এখন প্রশ্নটি আর তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, তিনি কবে সেই নির্দেশ দেবেন। তাদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই যেকোনো সময় সেই নির্দেশ আসতে পারে। তবে সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরের সময়কে দেখছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ। ফলে সম্ভাব্য অভিযানে মার্কিন বাহিনীর পক্ষে সব লক্ষ্যবস্তু কার্যকরভাবে ধ্বংস করা আরও কঠিন হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ইরানে হামলার জন্য একটি বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছেন। এই তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক কেন্দ্র।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তার অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, তিনি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার দিকেই ঝুঁকছেন।

একই সঙ্গে কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, অতীতেও ট্রাম্পকে কোনো কোনো সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ঝুঁকতে দেখা গেছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি পরিকল্পনা প্রণয়নকারী সংস্থা। প্রেসিডেন্ট যে সামরিক বিকল্পগুলোর নির্দেশ দেবেন, সেগুলো তৈরি করা এবং বাস্তবায়ন করাই এই দপ্তরের দায়িত্ব।’

সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর আশঙ্কাকে ইরান ও হুতি বিদ্রোহীরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুই সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে তেহরান এবং হুতিরা সম্ভবত সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা হামলা চালাবে। তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সেনাসদস্য ও সামরিক স্থাপনা। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি স্মারকলিপি পাঠান। প্রকাশ্যে প্রকাশযোগ্য ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দারা দেখেছেন, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে এসব হামলার পরিকল্পনা ‘উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত এক সূত্রের মতে, ইরান ও হুতিরা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আগাম বড় ধরনের হামলা চালাবে, এমন সম্ভাবনা কম। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল প্রথমে ইরানের ওপর হামলা চালালে পাল্টা জবাব দিতে তারা দ্বিধা করবে না। ইরান ও হুতিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য আঞ্চলিক হুমকির আশঙ্কা মার্কিন প্রশাসনকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করছে। আগামী কয়েক দিনেও নীরবে এই প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা, যেখান থেকে কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সিএনএনকে এক সূত্র জানিয়েছে, অন্য দূতাবাসগুলোও শিগগিরই একই ধরনের নির্দেশ পেতে পারে।


নির্বাচিত

তেহরানে মক্কা জোটের শীর্ষ নেতারা

ছবি: সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কোর গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মক্কা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই সূত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও এই বৈঠকে অংশ নেবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলি বাঘেরি কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন। সেখানে তারা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করবেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বৈঠক হতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের তিন দেশের জোটের সব সদস্যের সঙ্গে ইরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সৌদি আরবের ওপর ক্রমেই বাড়তে থাকার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেন। সে সময় তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই সফরে ইরানি কর্মকর্তারা মুনিরকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল, যা গত জুন মাসে কার্যকর হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। এরপর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়।

এদিকে, হুতিদের সঙ্গে লড়াই অব্যাহত থাকার মধ্যেই গত রোববার আরও এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে সৌদি আরব। চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদে মক্কা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা একমত হন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার মধ্যে হুতিদের হামলা ক্রমেই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে বৃহত্তর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও চাপের মুখে পড়েছে। গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রয়টার্সের হাতে আসা চুক্তির পাঠ্য অনুযায়ী, এর প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি হুমকি দূর করতে দেশগুলো ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে গত সপ্তাহে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা এখনো চলছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান গত সপ্তাহেই চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।


নির্বাচিত

ব্রাজিলে পুনরায় ক্ষমতায় বসছেন লুলা দা সিলভা

ছবি: লুলা দা সিলভা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্রাজিলের প্রবীণ বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে জিতে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেছেন। এটি লুলার চতুর্থ নির্বাচনী বিজয়। এর আগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সবশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি ক্ষমতায় ফেরেন।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনের জয়যাত্রা লুলার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলসোনারো। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সেই ফলাফল উল্টে দেওয়া লুলার পক্ষে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন।

পাশাপাশি, ল্যাটিন আমেরিকার বর্তমান রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে এই জয় পেয়েছেন তিনি। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে ভোটাররা ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাখ্যান করে ডানপন্থি দলগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে আর্জেন্টিনা, চিলি ও কলম্বিয়ার মতো বড় দেশগুলোতে রক্ষণশীল নেতারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছেন।

প্রথম দফার পরাজয়ের পর লুলার নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার হয়, যার পেছনে ছিল দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো প্রচারণা। সাবেক এই কারখানা শ্রমিক ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার পর থেকেই ব্রাজিলের বামপন্থি রাজনীতির প্রধান ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় বসার পর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তার জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন মেয়াদে লুলাকে দেশ ও বিদেশের নানা জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী মনোভাব তার জন্য অন্যতম বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কলম্বিয়া বা হন্ডুরাসের মতো অন্যান্য দেশের ডানপন্থি প্রার্থীদের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফ্লাভিও বলসোনারোকে সমর্থন না দিলেও এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ২১ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ট্রাম্প প্রশাসন একজন রক্ষণশীল নেতাই চেয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফ ভোটের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন লিবারেল পার্টির (পিএল) প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: এএফপি

ল্যাটিন আমেরিকাকে নিজেদের প্রভাববলয় মনে করে হোয়াইট হাউস। তাই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের নীতি সমর্থন করে এমন নেতারাই ক্ষমতায় থাকুক, এটিই ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা। এ ছাড়া পশ্চিম গোলার্ধে চীনের প্রভাব কমাতেও তারা বেশ আগ্রহী।

তেলসমৃদ্ধ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরল খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার ব্রাজিলে লুলার জয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ লুলার বিজয়ের পর একমাত্র বড় দেশ হিসেবে ব্রাজিলই এখন ডানপন্থি শাসনের বাইরে থাকল। তা ছাড়া, লুলার চীন-ঘেঁষা নীতিও ওয়াশিংটনের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।

ফ্লাভিও বলসোনারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ব্রাজিলকে ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবেন। বিপরীতে, লুলা কড়া ভাষায় সতর্ক করেন, নির্বাচনে যেন যুক্তরাষ্ট্র নাক না গলায়। হোয়াইট হাউসে লুলার বিজয় নিয়ে হতাশা থাকলেও পরিবেশবাদীরা এই ফলাফলে স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, বলসোনারো জয়ী হলে ব্রাজিলের প্রভাবশালী কৃষি ও খনি ব্যবসায়ীরা আরও বেশি ক্ষমতা পেয়ে যাবে।


নির্বাচিত

সার্বিয়ায় নির্বাচনে ছাত্রদের জয়

বেলগ্রেডে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে ছাত্র আন্দোলন। দুর্নীতির অভিযোগ, সরকারি অব্যবস্থাপনা আর কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভ এবার বড় রাজনৈতিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। সার্বিয়ার আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা আলেকসান্দার ভুসিচ।

এ ফল দেশটির রাজনীতির পাশাপাশি রাশিয়ার প্রভাব ও ইউরোপের সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ বড় জয় পেতে যাচ্ছে বলে প্রাথমিক হিসাব থেকে জানা গেছে। ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে এ তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, ভুসিচের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের আসনসংখ্যা ১০৫-এ নেমে আসতে পারে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই পরাজয় স্বীকার করেন ভুসিচ। বেলগ্রেডসহ বিভিন্ন শহরে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে উল্লাস করেন। গাড়ির হর্ন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, যা ১৯৯২ সালের পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ আন্দোলনের সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর। সেদিন সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। এ ঘটনায় সরকারি অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে, তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে গড়ে ওঠে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নামের নির্বাচনী প্ল্যাটফর্ম। দুর্নীতি দমন, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি। ১৯৭০ সালে বেলগ্রেডে জন্ম নেওয়া ভুসিচ ১৯৯৩ সালে উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা ভয়েস্লাভ শেশেলের সার্বিয়ান র‍্যাডিক্যাল পার্টিতে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন।

পরে, দল ছেড়ে ২০০৮ সালে তোমিস্লাভ নিকোলিচের সঙ্গে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সার্বিয়ার রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। ভুসিচের শাসনামলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ ও মহাসড়ক সম্প্রসারণ ঘটলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, দুর্নীতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নোভি সাদের দুর্ঘটনা সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। পররাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভুসিচ রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।

তবে, ছাত্র আন্দোলনের জয় মানেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। সার্বিয়ার নতুন নেতৃত্ব কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করবে তাদের নীতি ও পদক্ষেপের ওপর। সার্বিয়া এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, শেনজেন অঞ্চল কিংবা ন্যাটোর সদস্য নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের পথে এগোতে হলে দেশটিকে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাতে হবে। ছাত্র আন্দোলনের এই জয় সেই পরিবর্তনের পথ খুলে দেবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


নির্বাচিত

নির্বাসন কাটিয়ে ভেনিজুয়েলায় ফিরলেন মাচাদো

ছবি: মারিয়া কোরিনা মাচাদো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিজ দেশে ফিরেছেন ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশে ফেরার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে নিশ্চিত করেন মাচাদো।

এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক পোস্টে মাচাদো লেখেছেন, ‘আমি এখানে। আপনাদের সঙ্গে।’ তার মিত্র ও নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া দ্রুত পোস্টটি রিশেয়ার করেন।

পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘ভেনিজুয়েলা! অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি, আমাদের নেতা, আমার প্রিয় মারিয়া কোরিনা এখন ভেনিজুয়েলার মাটিতে।’

তিনি আরও লেখেছেন, ‘আজ ভেনিজুয়েলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমাদের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর ফিরে এসেছেন, এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে ও পথ দেখাতে। খুব শিগগিরই আমি আপনাদের ও তার সঙ্গে থাকব, যাতে আমাদের দেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে পারে।’

২০২৫ সালের শেষ দিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য গোপনে ভেনিজুয়েলা ছাড়ার পর থেকে নির্বাসনে ছিলেন মাচাদো। তার দলের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার জন্য তিনি অন্তত সাতবার চেষ্টা করেছেন, তবে ভেনিজুয়েলা কর্তৃপক্ষ তাকে বাধা দিয়েছে।

মাচাদো ভেনিজুয়েলা ছাড়ার পরের মাসে মার্কিন বাহিনী দেশটির দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ ওই অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাচাদো।

তবে ওয়াশিংটন মাদুরোর ডেপুটি দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। রদ্রিগেজের প্রতি ট্রাম্পের বারবার সন্তোষ প্রকাশের কারণে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেছিলেন, মাচাদোর দেশে ফেরার পথে বাধা সৃষ্টিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা ছিল।


নির্বাচিত

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদার মৃত্যু

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, টোকিওর একটি হাসপাতালে ফুকুদা মারা যান।

১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই গুনমা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফুকুদা। তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাকেও ফুকুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি জাপানের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ইয়োশিরো মোরি ও জুনিচিরো কোইজুমির মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হন ফুকুদা। পরের বছর, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে চীন-জাপান সম্পর্কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কাজ করেন ফুকুদা। ২০০৮ সালে দুই দেশ ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কৌশলগত সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নবিষয়ক চীন-জাপান যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করে।

২০১২ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরও চীন-জাপান বন্ধুত্বের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন ফুকুদা। এ সময়ে তিনি বহুবার চীন সফর করেন।


নির্বাচিত

ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প

চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আপাতত তেহরানের ওপর সামরিক আক্রমণ না চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আপাতত তেহরানের ওপর সামরিক আক্রমণ না চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

মিশিগানে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অবস্থান পরিষ্কার করেন। ইরানে হামলা চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ট্রাম্প জানান, আপাতত কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে অবশ্য রবিবারের প্রথম ভাগে ইরানকে সতর্ক করে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার ফলে যেকোনো মুহূর্তে হামলার আশঙ্কা তীব্র রূপ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি সম্পন্ন হবে, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে—মূলত এটিই এখন একমাত্র অমীমাংসিত বিষয়। এ ছাড়া পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দাবি করে তিনি বলেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এখন ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখান থেকে ইরান কোনো সুবিধা আদায় করতে পারছে না।

এর আগে শনিবারও সামরিক আঘাত কিংবা কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ করেছিলেন যে তেহরান কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে তাঁর গভীর সন্দেহ রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের আকাশ হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী এবং পরবর্তীতে জুনে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হতে পারেনি। এমন টানাপোড়েনের মাঝেই নভেম্বরের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে হামলা না চালানোর এই ঘোষণা সামনে এলো।


নির্বাচিত

ফের যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে, ইরানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জ্বালানি কমিশনের প্রধান হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধের সূত্রপাত হলে কিংবা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে জ্বালানির বাজারে এই নজিরবিহীন উল্লম্ফন ঘটবে। রবিবার ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

আহমাদি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার অতিক্রম করেছে এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত মজুতও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট প্রলম্বিত হলে ওয়াশিংটন ছাড়াও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে নিপতিত হবে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির বহুমাত্রিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, জ্বালানির মূল্যস্ফীতি কেবল নির্দিষ্ট খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পরিবহন ও শিল্পোৎপাদনসহ সার্বিক ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করবে। এর ফলে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র আকার ধারণ করবে। নিজ দেশের ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন সরকারকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও নড়বড়ে করে তুলতে পারে।

জ্বালানির বাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংসদীয় এই নেতা দাবি করেন, ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা এবং নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কারণেই তেহরান এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম। এ ছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে দেন যে তেল সরবরাহে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেও তা যুক্তরাষ্ট্র ও গোটা ইউরোপীয় অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close