ফিলিস্তিনের সর্বাধিক প্রচারিত ‘দৈনিক ফেলেস্টিন’ জানিয়েছে, বিশ্ব সেরা সন্ত্রাসী নেতানিয়াহুর বাহিনী শনিবার ভোরে আবারও গাজায় হামলা চালিয়ে ৫০ শিশুসহ ৮৪ জনকে হত্যা করেছে। নেতানিয়াহুর বাহিনী দু’টি আবাসিক বহুতল ভবনে এ হামলা চালায়। ভবন দু’টিতে ১শ’ ৭০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলো।
নেতানিয়াহুর বাহিনী আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ৮৪ জনকে হত্যার ঘটনাকে ‘নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম ‘দৈনিক ফেলেস্টিন’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকাটি অবরুদ্ধ করে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বোমা হামলার কারণে সেখানে উদ্ধারকর্মীরা যেতে পারছেন না। ওই এলাকায় কোনো ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবা কিংবা ত্রাণ সহায়তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে কাতার ভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বালবেক-হেরমেল এলাকায় শনিবার ভোরে ইসরাইল বাহিনীর হামলায় ৫২ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ৭২ জন। এ নিয়ে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে গাজা ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও নেতানিয়াহু বাহিনীর ‘অমানবিক আগ্রাসন’ আরও বেড়েছে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত স্বল্প মেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মানবে না স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধারা। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি শনিবার সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে একথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বন্দিদের মুক্ত করার জন্য স্বল্প মেয়াদ এ চুক্তি ইসরাইলের এক ‘নয়া চল-চাতুরি।’ হামাসের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না করেই বন্দিদেও ফেরত চাওয়ার বিষয়টিকে ও হামাস প্রত্যাখ্যান দিয়েছে। স্বাধীনতাকামী হামাস জানিয়েছে, বন্দিদের মুক্তি দিলেও নেতানিয়াহু বাহিনী আবারও বোমা হামলা শুরু করতে পারে।
গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং এর বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। আজ শুক্রবার ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অগ্রগতির পথে হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে একটি অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
হামাসের আলোচক দলের প্রভাবশালী সদস্য গাজি হামাদ আলজাজিরা-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংগঠনের এই নমনীয় অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, গাজার সাধারণ মানুষকে অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি থেকে রক্ষা করতেই তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক জাতীয় কমিটি মোতায়েন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গাজি হামাদ জোর দিয়ে বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এ দায়িত্ব পালন করবে শুধু জাতীয় কমিটিই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘গাজা প্রশাসনবিষয়ক জাতীয় কমিটি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অস্ত্রের তালিকা তৈরি এবং তা সংরক্ষণের বিষয়টি তদারকি ও বাস্তবায়ন করবে। গাজায় অস্ত্র রাখা, জমা করা বা তা নিয়ন্ত্রণের একক কর্তৃত্ব থাকবে শুধু এ কমিটির হাতে।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাঁর গঠিত বিশেষ শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ঐক্যমতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে গাজার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই সমঝোতা গাজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনিদের কল্যাণে শান্তি পর্ষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে।’ ট্রাম্পের মতে, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই একটি ধারাবাহিকতা, যার মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে গাজায় থাকা অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের পরামর্শে এই সময়কাল বাড়ানো হতে পারে। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) নামের একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবে। মার্কিন প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, এই জাতীয় কমিটি হবে একটি প্রযুক্তি নির্ভর ও অরাজনৈতিক সরকার, যারা শুধুমাত্র জনগণের সেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা হবে। এই বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়া এবং সম্ভবত তুরস্কের মতো দেশগুলো থাকতে পারে, যারা নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
যদিও শান্তি চুক্তির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে, তবে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি এখনও চরম উদ্বেগজনক। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করছে। ইসরায়েলি আক্রমণে গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। হামাস ইতোমধ্যে ৬ জুলাই তাদের দীর্ঘ দুই দশকের প্রশাসনিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকার বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে গাজি হামাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে হামাসও নিরস্ত্রীকরণের কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। বর্তমানে হামাস নেতারা কায়রোতে অবস্থান করে কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউরোপের যেকোনো দেশে গ্রেপ্তার হলে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সহায়তায় নিজেকে মুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি এই মন্তব্য করেন। নিজের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এবং বিশেষ বাহিনীর সক্ষমতার ওপর ভরসা রেখে তিনি এমন একটি অভিযানের সম্ভাবনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের সামরিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ওই বাহিনীতে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এবার চলুন, তাদের একটি নতুন মিশন দেওয়া যাক।’ মূলত বিদেশে গ্রেপ্তার হলে তাঁকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগানো হতে পারে, এমন প্রচ্ছন্ন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মূলত আইসিসির এই পরোয়ানার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই তাঁর এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি নিউইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের রোম সংবিধি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতে এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করতে আইনত বাধ্য। যদিও এই বাধ্যবাধকতা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে পা রাখলে তারা আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তবে সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের অনুমতি ব্যতিরেকে সেই রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাত তৈরির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
গাজায় নির্বিচার প্রাণহানি ও জাতিগত নিধনের অভিযোগে যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু, ঠিক তখনই আইসিসির পদক্ষেপ মোকাবিলায় তাঁর এই কঠোর অবস্থান আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফলে নেতানিয়াহুর বিদেশ সফর বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হয়ে পড়েছে। যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা গ্রেপ্তার এড়াতে এখন তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সফরসূচি নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
আধার কার্ড ভারতের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। সরকারি বিভিন্ন সেবা, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং আর্থিক কার্যক্রমে পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ভারতের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) নাগরিকদের বায়োমেট্রিক ও জনমিতিক তথ্যের ভিত্তিতে ১২ সংখ্যার আধার নম্বর দিয়ে থাকে। আধার প্যান কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিকল্প নয়। তবে পরিচয় যাচাই এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবায় এটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেলিকম সেবায় কেওয়াইসি প্রক্রিয়াতেও আধার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের পর আধার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার ব্যবহারের বিষয়ে আদালত নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে আইন ও সরকারি বিধির আওতায় কিছু নির্দিষ্ট সেবা ও প্রকল্পে আধার চাওয়া হতে পারে।
যেসব সরকারি সুবিধায় আধারের ব্যবহার রয়েছে
আবাসন ও কৃষি সহায়তা:
বিড়ি, লৌহ আকরিক ও চুনাপাথর শ্রমিকদের আবাসন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার ব্যবহারের বিধান রয়েছে। কৃষি ও ফসলবিমা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা, ভর্তুকি এবং কিছু সরকারি কৃষি প্রকল্পেও আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই করা হয়। মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সয়েল হেলথ কার্ড কর্মসূচিতেও আধারের ব্যবহার রয়েছে।
নারী ও শিশু কল্যাণ:
সম্পূরক পুষ্টি কর্মসূচি, ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইসিডিএস), শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন সুবিধা এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তা কর্মসূচিতে আধার সংযুক্তির বিধান রয়েছে। নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঋণ ও সহায়তা কর্মসূচিতেও আধার প্রয়োজন হতে পারে।
শিক্ষা ও বৃত্তি:
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি, জাতীয় মেধাভিত্তিক বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই করা হয়। ই-পঞ্চায়েত প্রশিক্ষণসহ কিছু সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা:
জননী সুরক্ষা যোজনা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য পরিচালিত কিছু প্রকল্পে আধারের ব্যবহার রয়েছে। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পেও আধার সংযুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অতীতে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বিতরণেও আধার ব্যবহারের বিধান করা হয়েছিল।
শ্রমিক ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা:
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, মুক্ত শ্রমিক পুনর্বাসন কর্মসূচি, হর্টিকালচার বিভাগীয় বিভিন্ন সুবিধা এবং ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রমোশন স্কিমের মতো কর্মসূচিতেও আধার ব্যবহারের বিধান রয়েছে।
মিড-ডে মিল ও রেলসেবা:
ভারতের স্কুলগুলোর মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচয় যাচাইয়ে আধার ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায়ও কিছু ক্ষেত্রে আধারভিত্তিক যাচাই চালু করা হয়েছে।
আয়কর ও প্যান কার্ড:
আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং নতুন প্যান কার্ডের আবেদনের ক্ষেত্রে আধারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। প্যানের সঙ্গে আধার সংযুক্ত করার বিধানও রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আধার-প্যান সংযোগ না থাকলে প্যানের কার্যকারিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের রায় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো সরকারি সুবিধা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ইউআইডিএআইয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দমনে সমুদ্র এবং স্থলপথ উভয় দিক থেকেই এক বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ইয়েমেনি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। মূলত লোহিত সাগর পথে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি সচল রাখতে হুথিদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিতেই রিয়াদ এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে সৌদি সেনাদের একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য একটি স্থল অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রিয়াদ একটি বহুজাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা জোট গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে ইতিমধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ প্রায় ১৪টি দেশ তাদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি মালিকানাধীন জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে। তবে হুথিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই তারা এই পদক্ষেপ থেকে সরে আসবে। তাদের মতে, এই বিরোধ ইরান কেন্দ্রিক নয় বরং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যতের সাথে সংশ্লিষ্ট। উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তার জন্য হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সৌদি আরব।
লোহিত সাগরের নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হতে রিয়াদ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ওই অঞ্চলে আগে থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামক একটি নৌ-মিশন টহল দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি যদি লোহিত সাগর পথটিও সৌদি তেলের জন্য রুদ্ধ হয়ে যায়, তবে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে লোহিত সাগর পথের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে হুথি ও সৌদি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়েছে। গত ২৫ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরগামী তেল পরিবহণ অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে। এছাড়া সৌদি আরবের বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার জবাবে সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব গত এক মাসে চরম উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
রাশিয়ায় উদ্ভাবিত ক্যানসার প্রতিষেধক বা টিকার প্রাথমিক কার্যকারিতা নিয়ে আশার আলো দেখছেন দেশটির চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এই টিকার ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, টিকা গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
টিকাটির গবেষণায় যুক্ত গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকসান্দর গিনজবার্গ গত বৃহস্পতিবার রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সেখানে তিনি প্রথম রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান যে, "টিকা গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক আছেন এবং তাঁর শরীরে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, "রোগীর শরীরে এমন সক্রিয় উপাদান তৈরি হচ্ছে, যা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে টিউমার ও এর মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করবে।"
উল্লেখ্য যে, গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্যানসার চিকিৎসার দুটি স্বতন্ত্র পদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছিল। এর একটি হলো উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা চিকিৎসার জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি হলো কলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্ট’। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়, যিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। গিনজবার্গ জানিয়েছেন যে, ওই রোগীকে আরও দুটি ডোজ প্রদান করা হবে এবং পুরো চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় তাঁর রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এছাড়া আরও ১০ জন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর জন্য তাদের ব্যক্তিগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষায়িত মেলানোমা টিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী হবে। রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি কেবল প্রথাগত চিকিৎসা নয় বরং রোগীর প্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও তা ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলে। এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, কলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধটিও রোগীদের শরীরে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। একইসঙ্গে গামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য নতুন ও উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দিলে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর “খুবই হতাশ” হবেন। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে তিনি ইতিবাচক ও ভিন্ন ধরনের আশ্বাস পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সম্প্রতি রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেইজিংয়ের তৈরি অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০টি অত্যাধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা ম্যানপ্যাডস পেতে পারে। প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, “শি জিনপিং আমাকে খুব দৃঢ়ভাবে বলেছেন, তিনি এতে জড়িত থাকবেন না। তিনি জানেন, যদি এমনটি ঘটে, তাহলে আমি খুবই হতাশ হবো।”
এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে সিএনএন জানিয়েছিল, তেহরানকে নতুন প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস সিএনএন-এর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আপাতত চীন বা ইরানের কোনো সরকারি পক্ষই এই সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
মরক্কো থেকে কয়েক হাজার অভিবাসী উত্তাল সমুদ্র সাঁতরে এবং সীমান্ত প্রাচীর অতিক্রম করে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আকস্মিক আগমনে ওই এলাকায় এক চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে এবং স্থলসীমান্তের বাধা ডিঙিয়ে শহরটিতে ঢুকে পড়েছেন, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
সীমান্ত অতিক্রমের এই বিপজ্জনক চেষ্টায় অন্তত নয়জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, গত এক বছরে এই রুটে প্রায় ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস একে ‘মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং সীমান্ত সুরক্ষায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছেন। অনেকে ভূখণ্ডে পা রেখেই ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিচ্ছেন। বর্তমানে সেউতার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তাদের ধারণক্ষমতা হারিয়েছে, যার ফলে শত শত অভিবাসীকে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর রাত কাটাতে হচ্ছে।
এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি নাকচ করলেও সীমান্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০ জন সেনাসদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জাররোকি জানিয়েছেন, মরক্কোর সীমান্ত শহরগুলোতে এখনো অসংখ্য মানুষ ইউরোপে প্রবেশের অপেক্ষায় জড়ো হচ্ছেন। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ের পর থেকে এই চাপ বেড়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর পথে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।
স্পেন সরকারের দাবি, পাচারকারী চক্র আদালতের এই রায়কে কাজে লাগিয়ে মানুষকে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করছে। সেউতা ও মেলিয়া হলো আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত, যা বরাবরই অভিবাসীদের কাছে প্রধান লক্ষ্যবস্তু। উদ্ভূত সংকট পর্যালোচনায় শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সেউতা সফর করার কথা রয়েছে।
জন্মহারের ক্রমাগত পতন এবং বার্ধক্যের কবলে পড়া জনগোষ্ঠীর সংকটে জাপানের নিজস্ব নাগরিকের সংখ্যা গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাপানে স্থায়ী জাপানি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজারে, যা গত বছরের তুলনায় ০.৭৬ শতাংশ কম।
২০০৯ সালে জনসংখ্যার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর থেকে জাপানে গত ১৭ বছর ধরে এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৬৮ সাল থেকে জনসংখ্যা বিষয়ক পরিসংখ্যান সংরক্ষণের পর এই প্রথম নিজস্ব নাগরিকের সংখ্যা ১২ কোটির মাইলফলকের নিচে নামল। বার্ষিক হ্রাসের পরিমাণ এবং শতাংশ—উভয় দিক থেকেই এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি নাগরিকসহ জাপানের সর্বমোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজারে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮ জন কম।
জাপানের এই জনতাত্ত্বিক সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত বছর দেশটিতে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজারের কিছু বেশি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যার বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। ফলে এক বছরেই দেশটির স্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি। জাপানে নারী প্রতি গড় জন্মহার বর্তমানে সর্বকালের সর্বনিম্ন ১.১৪-এ অবস্থান করছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্যমতে, মোনাকোর পর জাপানের জনগোষ্ঠীই বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম, যেখানে নাগরিকদের গড় বয়স প্রায় ৫০ বছর।
তবে জাপানি নাগরিকদের সংখ্যা কমলেও দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি বাসিন্দার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর জাপানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। ভৌগোলিক বিচারে কেবল টোকিও, ওসাকা এবং চিবা—এই তিনটি প্রিফেকচারে জনসংখ্যা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও বাকি ৪৪টি প্রদেশেই জনবসতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জন্মহার বৃদ্ধি এবং তরুণদের বিবাহে আগ্রহী করতে জাপান সরকার বিভিন্ন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার পরিচালিত এআই-ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ ‘টোকিও এনমুসুবি’র মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬৫ জোড়া দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু লালন-পালন সহায়তা, আবাসনে বিশেষ ভর্তুকি এবং ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের খরচে অনুদান দেওয়ার মতো নানামুখী পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে।
লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত এই নৌপথগুলোতে মুক্ত জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিয়ে এই জোটের সূচনা করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে প্রায় ৫০টি দেশকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে রিয়াদ। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিশর, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়ার পাশাপাশি তুরস্ক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বহু দেশকে এতে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়। তালিকায় সৌদি আরব ছাড়াও চূড়ান্তভাবে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস জোটের সনদে স্বাক্ষর করেছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।
গালফ নিউজ ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোট গঠনের প্রাথমিক বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামের একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগেই সক্রিয় থাকায় নতুন এই জোট ঠিক কীভাবে তাদের সাথে সমন্বয় করবে তা এখনো পর্যালোচনাধীন।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শুধু হুথি বিদ্রোহী প্রতিরোধই নয়, লোহিত সাগরে জলদস্যুতা, অস্ত্র ও পণ্য চোরাচালান দমনে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে। জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করা এর উদ্দেশ্য নয়। যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, অভিযানগত পরিকল্পনা ও সমন্বিত নৌ-অভিযানের মাধ্যমে এই জোট কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
আল মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, জোটটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হলে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বাব এল-মান্দেব প্রণালি সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। উদ্ভূত সংকটের মুখে আন্তর্জাতিক বাজার ও নিজেদের তেল সরবরাহ সচল রাখতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহারের পাশাপাশি এই বহুজাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা বলয় গঠনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।
সূত্র: গালফ নিউজ
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘাত এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় কমপক্ষে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার গত শুক্রবারের (৩১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত মার্চে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা না গেলেও বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছেন। ভাষণে তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে “অশান্তির মেঘ সরাতে” ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা বহন করাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিবাদ থেকেই পরবর্তীকালে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল জানান, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুইজন নিহত হন। এছাড়া সান্ধ্য আইন বা কার্ফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ চলাকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে বর্তমানে সুনসারি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কার্ফিউ জারি রেখেছে কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, “আমি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিকভাবে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মুখপাত্র কাফল বলেন, “আমরা মাঠে থাকা সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।”
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করেন।
পাকিস্তানর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ড্রোন হামলা ও অতর্কিত আক্রমণে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে আফগান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলায় এই হামলাটি ঘটে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
হামলার বিষয়ে প্রাদেশিক পুলিশ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা আধুনিক কোয়াডকপ্টার ড্রোনে হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) সংযুক্ত করে তা দিয়ে প্রথমে পুলিশের ওই চেকপোস্টে সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরবর্তীতে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ নিশ্চিত করেছেন, কয়েক ঘণ্টার তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে সাম্প্রতিক এই হামলার দায় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
তবে এর মাত্র কয়েক দিন আগেই নিকটবর্তী টাংক জেলায় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে এই গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে নাশকতা, হামলা পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য আফগানিস্তানের ভূমিকে ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, সীমান্ত সংঘাত ও জেনুইন সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের সম্পূর্ণ নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা।
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ভালো করছেন। এ কারণে তার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দেওয়া উচিত। মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
অভিজিৎ দীপকে এ সময় যুবকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিওগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তার ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি এতে বেশ ভালোই করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি যদি এত ভালো ইনফ্লুয়েন্সারই হন তাহলে তার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং অন্য কাউকে এ কাজ করতে দেওয়া উচিত।’
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কংগ্রেস এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওগুলো নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিও করলেই আপনি জেন-জিদের ভোট পাবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে তার হৃদয়ের অ্যাঙ্গেল বদলাতে হবে।’
গত বুধবার (২৯ জুলাই) প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন নিয়েও মন্তব্য করেন ককরোচ জনতা পার্টির সভাপতি। অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমি মনে করি, এরকম আইন হতেই থাকবে। কিন্তু এদের লক্ষ্য সঠিক না হলে পরিবর্তন সম্ভব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে অনেক ভালো আইন তৈরি হয়েছে। একের পর এক শুধু আইন তৈরি হতেই থাকে।’
অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করলেন অভিজিৎ দীপকে
ভারতে চলমান আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ শাহ’র নির্দেশেই করা হয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দীপকে বলেন, ‘যেভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরানো হয়েছে, তা অমিত শাহের নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়।’
দীপকের এই দাবি আসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একই অভিযোগ তুলে অমিত শাহ’র পদত্যাগ দাবি করার একদিন পর। দীপকে বলেন, ‘আমিও মনে করি, তার (অমিত শাহের) পদত্যাগ করা উচিত।’
সিজেপি বিদেশি অর্থায়ন পেয়েছে— এমন অভিযোগও তিনি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই আমরা বিদেশি অর্থ পেয়ে থাকি, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও অমিত শাহ তা আটকাতে না পারেন, তবে সেটাও তার ব্যর্থতা। তাহলে নিজেকে কী ধরনের ‘চাণক্য’ বলবেন? সেক্ষেত্রেও তার পদত্যাগ করা উচিত।”
দীপকের আরও অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত তৈরি করেছিল। তার দাবি, গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙাচোরা গাড়ি আনা হয়েছিল, যাতে পুলিশি অভিযানের যৌক্তিকতা দেখানো যায়।
তিনি বলেন, ‘পাথর নিক্ষেপের পুরো ঘটনাই দিল্লি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। বিজেপির লোকজন এসে পাথর ছুঁড়ে, অথচ দোষ চাপানো হয় ছাত্রদের ওপর।’ দীপকে আরও অভিযোগ করেন, তাকে এবং তার পরিবারকে বিজেপিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
কিন্তু এবার ট্রাম্পের ঘোর বিপদে আবারও এগিয়ে এসেছেন এই মার্কিন ধনকুবের। ইরান যুদ্ধ শুরু করে ব্যাপক চাপে আছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন মাস্ক।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘আমেরিকা প্যাক’ (America PAC) আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন মাস্ক। সে সময় সংগঠনটি রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারে ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল।
এবারের পরিকল্পনায় রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যাপক প্রচারণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এবং ডাকযোগে প্রচারণা পরিচালনা করবে আমেরিকা প্যাক।
বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়—এমন বছরগুলোতে সাধারণত ভোট দিতে কম আগ্রহী। তাদের ভোটদানে উৎসাহিত করাই হবে এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।
এবার এই উদ্যোগে মাস্ক কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার বড় অঙ্কের অর্থায়নের নজির বিবেচনায় বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের সংগঠিত করে রিপাবলিকানদের প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মাস্কের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।