বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
২৪ চৈত্র ১৪৩২

ট্রাম্পের ঐতিহাসিক জয়ে কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫
খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই জয় অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলার আসামি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পেয়েছেন তিনি। চার বছর আগে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও এবার ট্রাম্পের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে সারাবিশ্ব। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ন্যাটো

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পকে একাধিকবার বলতে শোনা গেছে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ‘একদিনে বন্ধ’ করে দিতে পারেন। তবে সেটা কীভাবে করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। গত মে মাসে ট্রাম্পের দুই প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের লেখা এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত। তবে কিয়েভের রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রবেশের বিষয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করা উচিত।

রাশিয়াকে ‘প্রলুব্ধ’ করতে, পশ্চিমারা ন্যাটোতে ইউক্রেনের বহু কাঙ্ক্ষিত অন্তর্ভূক্তিকে বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টারা বলেছিলেন, ইউক্রেন যে রাশিয়ার দখল থেকে তাদের সব অঞ্চল ফিরে পেতে পারে, সেই আশা ত্যাগ করা উচিত নয়। তবে এই আলোচনা হওয়া উচিত বর্তমানের ‘ফ্রন্ট লাইনের’ ভিত্তিতে। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কৌশলগত ইস্যুতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি দেশ ন্যাটোর অংশ। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সুযোগ ইউরোপ নিচ্ছে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তবে ন্যাটো থেকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন কি না সেটা একটা বিতর্কের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্য

ইউক্রেনের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অর্থ হলো তিনি গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ইতি টানবেন। কিন্তু তা তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, জো বাইডেনের পরিবর্তে যদি তিনি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করতো না। অনুমান করা যায়, ক্ষমতায় এসে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প সেই নীতিই মেনে চলার চেষ্টা করবেন যার ভিত্তিতে তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিল। সে সময় ইরানের ওপর বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বয়কট করেছিল। কারণ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় জীবনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেমের প্রতি তাদের (ফিলিস্তিনিদের) দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।

ফিলিস্তিন আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ে যখন ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মধ্যস্থতা করেছিলেন যাকে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসাবে দেখা হয়। এই মধ্যস্থতার সময় শর্ত হিসাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে হয়নি। এর পরিবর্তে, এই চুক্তিতে সামিল দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে আরও কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঝে মাঝে ‘অকার্যকর’ অবস্থারও সম্মুখীন হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।

চীন ও বাণিজ্য

চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সে দেশের বৈদেশিক নীতির কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষমতায় থাকাকালীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সে দেশের ‘কৌশলগত প্রতিযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ক্ষেত্রে চীনা আমদানির ওপর শুল্কও আরোপ করেছিলেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেইজিংও শুল্ক আরোপ করে। এই ‘দ্বন্দ্বের’ অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ততদিনে কোভিড মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয় যখন ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করে, তারা চীন নীতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চীনা আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রশাসনের শুল্ককেই বজায় রেখেছে তারা।

বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, উৎপাদন এবং সেই সংক্রান্ত কাজে মার্কিনদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইস্পাতের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্কিন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ কমে আসার একটা বড় কারণ কারখানার অটোমেশন এবং উত্পাদনগত পরিবর্তন। এর পেছনে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অফ-শোরিংর মতো কারণ তুলনামূলক ভাবে কমই দায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে একই সঙ্গে বিপজ্জনক এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর নেতা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।

যে ৭টি কাজকে প্রাধান্য দিতে চান ট্রাম্প

অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অভিবাসী বের করে দেওয়ার বিষয়টি আইনগত এবং যৌক্তিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।

অর্থনীতি, ট্যাক্স ও শুল্ক: নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যে দুটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার একটি অর্থনীতি। তবে ট্রাম্প আগেই মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।

জলবায়ু নীতিমালা সংস্কার: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শতাধিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রত্যাহার এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত, মার্কিন গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ: ইউক্রেনে টানা আড়াই বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ ইস্যু: প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে সমর্থকদের আপত্তি থাকার পরও কমলা হ্যারিসের বিপরীতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে জাতীয়ভাবে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করবেন না। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের ওপর সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। গর্ভপাতের অধিকার ছিল কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের দিন গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প নিজে বারবার বলেছেন, গর্ভপাত নিয়ে রাজ্যগুলোর নিজেদের আইন করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।

ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় জড়িতদের ক্ষমা: ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনের সময় সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক। ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫ জন প্রাণ হারান। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বরারবই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

জ্যাক স্মিথকে অব্যাহতি: সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা পরিচালনাকারী কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবং গোপনীয় তথ্যের ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে তাকে দায়মুক্তির বাইরে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


‘দেড় কোটি ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত’

আপডেটেড ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশ রক্ষায় ইরানিরা পিছু হটবে না। যত প্রয়োজন তত জীবন দিতে প্রস্তুত তারা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কণ্ঠে এমনই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা শোনা গেছে।

মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‌‌‘১৪ মিলিয়নের বেশি সাহসী ইরানি এখন পর্যন্ত দেশের প্রতিরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করে দেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা দিয়েছেন। আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি আছি এবং ভবিষ্যতেও তা থাকব।’

এদিকে মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করেছে মালয়েশিয়ার একটি ট্যাংকার জাহাজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানি দূতাবাস জানায়, ‘আমরা বলেছিলাম যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের ভুলে যায়নি। প্রথম মালয়েশিয়ান জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে।’

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ওপেনএআই, ওরাকল ও এনভিডিআইএর সহযোগিতায় আবুধাবিতে নির্মাণাধীন ‘স্টারগেট’ এআই কেন্দ্রটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়, এই কেন্দ্রটিকে কৌশলগত স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।


তুরস্কে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের কাছে গুলি, নিহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেট ভবনের কাছে গুলির ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শুনে এক পুলিশ কর্মকর্তা পিস্তল হাতে আড়ালে অবস্থান নিচ্ছেন। সে সময় একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আততায়ী। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হাবেরতুর্ক জানিয়েছে, হামলাকারীদের কাছে লম্বা ব্যারেলের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির সময় দুই হামলাকারী নিহত হন এবং তৃতীয় একজনকে জীবিত আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।

ইসরায়েলি কনস্যুলেট-সংলগ্ন এলাকায় সব সময়ই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি থাকে। টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, গোলাগুলির ঘটনার পর ওই এলাকায় সশস্ত্র পুলিশ টহল দিচ্ছে।

রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তারা অস্ত্র হাতে নিরাপদ অবস্থান গ্রহণ করছেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন হামলাকারী পুলিশের পার্ক করে রাখা বাসের আড়ালে থেকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও হ্যান্ডগান দিয়ে টানা কয়েক মিনিট গুলি ছুড়ছে। সংঘর্ষ শেষে পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও ঘাসের ওপর দুটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ওই টাওয়ারটি, যেখানে ইসরায়েলি কনসুলেট অবস্থিত, তার বাইরেই এই ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তুরস্কে ইসরায়েলের কোনো কূটনীতিক অবস্থান করছেন না। তবে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত বা হামলাকারীদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।


ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে তেহরান কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে মঙ্গলবার রাত (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) থেকেই দেশটির বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে তিনি ইরানের ওপর কিছু শর্ত চাপিয়ে দিয়ে তা মেনে নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রের মোহ ত্যাগ করতে হবে এবং তেলের বিশ্ববাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশটিকে এক রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব এবং সেই রাতটি হতে পারে আগামীকাল (ইরানের সময় বুধবার ভোররাত) রাত।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি আশা করি এমন পদক্ষেপ আমাকে যেন নিতে না হয়। তবে আমাদের হাতে এমন পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে বুধবার মধ্যরাতের মধ্যেই ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনভাবে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে যে, সেগুলো আর কখনোই ব্যবহারের যোগ্য থাকবে না।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা যদি চাই তবে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে পুরো ধ্বংসযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব। যদিও আমরা চাই না এমন কিছু ঘটুক।’

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন সমালোচকরা। তবে সোমবার হোয়াইট হাউসের লনে শিশুদের জন্য আয়োজিত এক ইস্টার অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ নিয়ে চিন্তিত নই। আপনারা জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র থাকাই হলো যুদ্ধাপরাধ।’

একই সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সোমবার সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে এবং মঙ্গলবার এর চেয়েও ভয়াবহ হামলা হতে পারে।

এর আগে ইস্টার অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে যা তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাদের জন্য ‘যথেষ্ট নয়’। তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে হবে। তারা তা জানে এবং আমি মনে করি তারা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করছে।’

কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অসংখ্য ‘ইন্টারসেপ্ট’ বা আড়ি পাতা বার্তা রয়েছে যেখানে সাধারণ ইরানিরা তাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টায় নতি স্বীকার না করার জন্য আরজি জানাচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘মুক্তির স্বাদ পেতে তারা এই কষ্ট সহ্য করতেও রাজি।’


ইরানের রেলসেতুতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২

ইরানের কাশানে বিধ্বস্ত রেলসেতু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্য ইরানের একটি রেলসেতুতে ইসরায়েলের হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ রেলসেতু লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসফাহানের উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় অন্তত দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের জনগণকে ‘নিরাপত্তার’ স্বার্থে স্থানীয় সময় রাত ৯টা (বাংলাদেশ সময় ৫টা ৩০ মিনিট) পর্যন্ত ট্রেন ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দিয়েছিল। সেই সতর্কবার্তার পরপরই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

খারগ দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণ

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বীপটিতে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র, যেখান থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিদেশে পাঠানো হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার এই দ্বীপে হামলা বা দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ট্রাম্প গত ৩০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপ ধ্বংস করতে পারে।

ইরানিদের ট্রেনে ভ্রমণ না করতে সতর্ক করেছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোগুলো গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পর ইরানিদের ট্রেন ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী সামাজিক মাধ্যমে ফার্সিতে দেওয়া এক পোস্টে এদিন ইরানিদের ট্রেনে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের সামাজিক মাধ্যমের ফার্সি ভাষার একাউন্টে ইরানের জনগণকে তাদের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ স্থানীয় সময় ‘রাত ১১টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ট্রেন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে’ বলেছে।

তারা আরও বলেছে, ‘ট্রেনে থাকলে বা রেললাইনের কাছাকাছি থাকলে আপনার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’ একে ‘ইরানের ট্রেন ব্যবহারকারী ও যাত্রীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা’ বলে উল্লেখ করেছে তারা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে বলেন, যদি তাদের শাসকরা একটি চুক্তি করে ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি না হয় তাহলে ‘বুধবার মধ্যরাতের আগেই ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনভাবে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে যে, সেগুলো আর কখনোই ব্যবহারের যোগ্য থাকবে না’।

এরপর ইসরায়েলি বাহিনী এই ‘সতর্ক’ বার্তা দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের রেল নেটওয়ার্কে ইসরায়েলি হামলা আসন্ন। কিন্তু ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর এই পোস্ট সম্ভবত খুব বেশি মানুষ দেখতে পাবে না।

ইরানের রেল নেটওয়ার্ক ব্যাপক ও দেশজুড়ে বিস্তৃত। লোকজন ইতোমধ্যে হয়তো ট্রেনে ভ্রমণ শুরু করে দিয়েছে, তার দূর গন্তব্যে যাচ্ছে আর অনেকেই হয়তো রেল স্টেশন বা লাইনের কাছাকাছি থাকবে। এর আগে ইসরায়েল রাতভর ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে একাধিক হামলা চালায়।


হরমুজ প্রণালি ত্যাগের অনুমতি পেলো মালয়েশীয় জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের অবরোধ করে রাখা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে একটি মালয়েশীয় বাণিজ্যিক জাহাজ। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই প্রণালিতে আটকে পড়া মালয়েশিয়ার সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে একটিকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সেটি এখন গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক আলোচনার পর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানা গেলো। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটির নাম বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিরাপদ ও উন্মুক্ত সমুদ্রপথের প্রতি মালয়েশিয়া তার দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুর।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাল্টাব্যবস্থা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মালয়েশিয়ার সাতটিসহ বহু দেশের জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং মালয়েশীয় জাহাজগুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এই আলোচনার কয়েক দিনের মাথায় প্রথম জাহাজটি ছাড়পত্র পেলো।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাকি জাহাজগুলো সচল করার বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দেশটি মনে করে, সংঘাত নয় বরং কূটনৈতিক তৎপরতাই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলায় তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার দাবি তুলে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত রসিকতার ছলে তাঁর এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে একে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বর্তমান মেয়াদ ও কাজ শেষ হলে তিনি ভেনেজুয়েলায় যাবেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, তিনি ভাষা শেখায় বেশ পারদর্শী এবং খুব দ্রুত স্প্যানিশ ভাষা শিখে ফেলবেন। এরপর তিনি দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি যদি সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে দেশটির অতীতের যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে বেশি জনসমর্থন ও ভোট পেয়ে জয়ী হবেন। তাঁর এমন মন্তব্যের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলেও ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে অনড় ছিলেন।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির কথা জানান। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। এরপর দেশটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগ্রেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারে ‘ভালো মানুষ’ কাজ করছেন।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটিকে ঘিরে যে সংঘাতের আশঙ্কা ছিল তা মার্কিন কৌশলে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এই স্বল্পতম সময়ের অভিযানে অর্জিত সাফল্যকে তিনি তাঁর প্রশাসনের বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি দেশটির তেল সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে কয়েক শত মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে, যা বর্তমানে হিউস্টনের শোধনাগারগুলোতে পরিশোধন করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিপুল পরিমাণ তেলের বাজারমূল্য দিয়েই যুদ্ধের যাবতীয় খরচ বহুবার উঠে এসেছে।

পরিশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে একটি ‘অংশীদারিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তাঁর দেশটিতে নির্বাচন করার বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশ্লেষক একে নিছক হাস্যরস হিসেবে দেখছেন, তবে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান ল্যাটিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


চিফ হুইপের সঙ্গে আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমসের সাক্ষাৎ

গতকাল জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।
গতকাল সেমাবার সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি ও কার্যকর সংসদ বাস্তবায়নে গৃহীত সরকারের ভূমিকার বিষয় নিয়ে স্টুয়ার্ট জেমস'র সঙ্গে আলোচনা হয়।
এ সময় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জয়লাভের পর বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়েছেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেয়ার বিষয়েও ভাবছেন। সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করবেন।
চিফ হুইপ বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে নিতে হলে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি স্বার্থে এই সংবিধান অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। জনগণের স্বার্থে এই সংবিধানকে আবারও জনবান্ধব করতে হবে। তাই বলে বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সব দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছি। সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা সংখ্যায় যথেষ্ট হলেও আমরা চাই সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন। সবাইকে সাথে নিয়েই আমরা পথ চলতে চাই। বর্তমান সরকারের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি যোগ করেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি তার পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা শুধু বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করতে চাই।
স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে গৃহীত জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।


ইরানের বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের অভিজাত বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান সোমবার এক হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহত ওই কর্মকর্তার নাম মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি। আইআরজিসি এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তবে খাদেমি ঠিক কোথায় বা কীভাবে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে রাজধানী তেহরানের আশপাশের বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই হামলাগুলোর কোনও একটির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি।

মজিদ খাদেমি জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন কাজেমি। তার মৃত্যুর পরই গোয়েন্দা বিভাগের হাল ধরেছিলেন খাদেমি।

ইরানের ভেতরে রেভল্যুশনারি গার্ডের এই গোয়েন্দা সংস্থাটি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং এটি সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে। পশ্চিমা নাগরিক বা বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের আটক করার পেছনে প্রায়ই এই সংস্থার নাম জড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া বিদেশের মাটিতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধীদের হত্যা বা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগও এই সংস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।


একযোগে তিন দেশে ইরানের অতর্কিত হামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে করা কড়া ভাষায় সতর্কবার্তার পর, ইরান সোমবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। দেশটি একইসঙ্গে ‘বিধ্বংসী’ প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সোমবার ভোরে ইসরায়েল, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত একযোগে ইরানি মিসাইল ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- সেই সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

এই হামলাগুলো এমন সময়ে চালানো হয়েছে যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেহরান তাদের কড়া অবস্থান আরও জোরদার করছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে ‘আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের চরম হুমকির পরেই জয়শঙ্করকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন ট্রাম্পের চরম হুমকির পরেই জয়শঙ্করকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সতর্কবার্তাটি আসে ট্রাম্পের ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য একটি চুক্তিতে তার দাবি মেনে নিতে তেহরানকে আহ্বান জানান।

ইরান কার্যত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর পর ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে, নইলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে প্রেসিডেন্ট ইরানকে নির্দেশ পালনের জন্য একটি নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তা হলো মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা।


‘গাজা নিরস্ত্রীকরণের দাবি অগ্রহণযোগ্য’

হামাস যোদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের গ্যারান্টি ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো কথা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

হামাসের সশস্ত্র উইং, ইজ্জাদিন আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু উবাইদা রোববার একটি টেলিভিশন বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তারা অস্ত্র ছাড়বে না।’ যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার দাবি আসলে গাজায় বিনা বাধায় ইসরায়েলের গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার একটি কৌশল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার আওতায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়। সম্প্রতি কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

হামাস বলেছে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হলে তারা সেনা প্রত্যাহারে রাজি নয়।

সূত্রগুলো বলছে, এই অবস্থানের কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে হামাস সরাসরি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং তাদের শর্ত পূরণ হলে আলোচনায় অগ্রগতি হতে পারে।

আবু উবাইদা জোর দিয়ে বলেন, ‘এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ইসরায়েল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত অস্ত্রের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। বিষয়টি হামাস মধ্যস্থতাকারীদের আগেই জানিয়ে দিয়েছে।’ আবু উবাইদা সতর্ক করে বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি অমার্জিতভাবে উত্থাপন করা গ্রহণযোগ্য হবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হামাসের অস্ত্র ত্যাগের দাবিটি একটি বড় বাধা। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। আবু উবাইদার রোববারের মন্তব্য এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যান কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গত অক্টোবর থেকে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭০৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ১৭২,০০০ জন আহত হয়েছে।

আবু উবাইদা মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার আগে ইসরায়েলকে প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণে চাপ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলই চুক্তিটি লঙ্ঘন করছে।

লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আবু উবাইদা। লেবানন কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলি হামলায় ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। উবাইদা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের প্রশংসা করেন।

পাশাপাশি, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের জন্য পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনেরও নিন্দা জানান তিনি। পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেন তারা ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যান।


কেন নিজেদের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে

মার্কিন যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে ভূপাতিত এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে চালানো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিজেদেরই অন্তত এক থেকে দুটি উচ্চপ্রযুক্তির বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দ্বিতীয় ক্রু সদস্য—একজন কর্নেল—কে উদ্ধারে ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী রানওয়েতে বিশেষ পরিবহন বিমান মোতায়েন করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি বা নরম মাটিতে আটকে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

এ সময় ইরানি বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে থাকলে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত ফেলে যাওয়া বিমানগুলো শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে মার্কিন সেনারাই সেগুলোতে বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের, বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু মডেলের বিমান হতে পারে।

প্রতিটি বিমানের মূল্য ১০ কোটি ডলারের বেশি এবং এগুলো সাধারণত শত্রু এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ধ্বংসাবশেষে বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টারের অংশও দেখা গেছে, যা অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শত্রু এলাকায় পরিচালিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সংবেদনশীল প্রযুক্তি রক্ষার জন্য নিজেদের সরঞ্জাম ধ্বংস করা একটি প্রচলিত কৌশল। অতীতেও এমন নজির রয়েছে।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ আহত ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অত্যন্ত দুঃসাহসিক অভিযানে কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করে ওই সেনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন বিমানের পাইলটকে উদ্ধারের নামে চালানো অভিযানটি আসলে ছিল দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির একটি গোপন পরিকল্পনা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তেহরানের দাবি, রোববার মার্কিন বাহিনী যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া।

এর আগে গত শনিবার ইরানের ইসফাহান প্রদেশে একটি মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে একটি সাধারণ উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরান একে ‘ছদ্মবেশী অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, উদ্ধার অভিযানের আড়ালে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে ইরানের কৌশলগত পরমাণু ভাণ্ডারে আঘাত হানার ছক কষেছিল ওয়াশিংটন।

এএফপি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সরাসরি সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করছেন, পরমাণু ইস্যুতে ইরানকে চাপে ফেলতেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই নতুন অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিধানসভার ফলাফলের পর হবে তৃণমূলের সব পাপের হিসাব: মোদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তাদের ‘পাপের’ জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার রাস ময়দানে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি।

তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে রাজ্যে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, তোলাবাজি ও ‘জঙ্গলরাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মোদির ভাষায়, ‘তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়।’

মালদায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ। তার মতে, যেখানে বিচারকরা নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ।

মোদি আরও অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে তৃণমূল সরকার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

জনসভায় উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের দিন ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আইনের ওপর আস্থা রাখতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মোদি বলেন, ‘৪ মে’র পর আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। যত বড়ই অপরাধী হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হবে, যা রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পর এটিই ছিল পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির প্রথম বড় নির্বাচনী জনসভা, যা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির প্রচারণা শুরু হয়েছে।


ইরানকে বুধবার পর্যন্ত সময় দিলেন ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে সংঘাত নিরসনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বরাবরই দোটানায় থাকতে দেখা যায়। ইরানকে বারবার ‘শর্ত মেনে নেওয়ার’ আল্টিমেটাম দিয়ে আবার তা বাড়িয়ে দেওয়া এখন যেন তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। রোববারও একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন এই বিশ্বনেতা।

পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের আল্টিমেটাম সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ—অর্থাৎ ঊর্ধ্বে ৪২ দিন চলবে, এমন ঘোষণাও দেন ট্রাম্প। যুদ্ধের ৩৭তম দিন চলছে। খুব শিগগির ওই সময়সীমাও শেষ হতে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে হেলাফেলা করেই যেন তেহরানকে বাড়তি একটি দিন সময় বাড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা (ইরান) দ্রুত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে আমি সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার ও তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা ভাবছি।’ কিন্তু এরপর বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১১টার দিকে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি অস্পষ্ট বার্তা দেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম!’

বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের জন্য নতুন আল্টিমেটাম। এই বার্তা অনুযায়ী, গ্রিনিচ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত ইরান ‘চুক্তিতে আসার’ সময় পাচ্ছে।

এর আগে ট্রুথ সোশালের অপর এক বার্তায় ট্রাম্প হুমকি দেন, 'ইরানে মঙ্গলবার হবে "বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস" ও ‘সেতু দিবস’—সবগুলোই একসঙ্গে ঘটবে। এর মতো ভয়াবহ কিছু আগে কখনো ঘটেনি।’

অশালীন শব্দ ব্যবহার করে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেন। ইরানকে উদ্দেশ্য করে গালি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘...তোমাদের জায়গা হবে নরকে। শুধু অপেক্ষা করো!’ অর্থাৎ, আগের বার্তার সময়সীমা মঙ্গলবার থেকে আল্টিমেটাম একদিন বাড়িয়েছেন ট্রাম্প।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান। যার ফলে, বৈশ্বিক তেল-গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথে কোনো নৌযান চলছে না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন আল্টিমেটামের বিষয়টি পরোক্ষভাবে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প।

রোববার জার্নালকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। সব কিছু পুনর্নির্মাণ করতে ওই দেশটির ২০ বছর সময় লাগবে। যদি দেশটি আদৌ টিকে থাকে এবং তারা সৌভাগ্যবান হয়, তাহলেই তা পারবে।’

‘আর তারা যদি মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু না করে, তাহলে তাদের আর কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বা সেতু থাকবে না’, যোগ করেন তিনি।

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের ঘোষণা দেওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার ‘ভালো সম্ভাবনা’ আছে।


banner close