শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
১৪ চৈত্র ১৪৩২

ট্রাম্পের ঐতিহাসিক জয়ে কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫
খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই জয় অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলার আসামি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পেয়েছেন তিনি। চার বছর আগে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও এবার ট্রাম্পের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে সারাবিশ্ব। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ন্যাটো

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পকে একাধিকবার বলতে শোনা গেছে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ‘একদিনে বন্ধ’ করে দিতে পারেন। তবে সেটা কীভাবে করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। গত মে মাসে ট্রাম্পের দুই প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের লেখা এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত। তবে কিয়েভের রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রবেশের বিষয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করা উচিত।

রাশিয়াকে ‘প্রলুব্ধ’ করতে, পশ্চিমারা ন্যাটোতে ইউক্রেনের বহু কাঙ্ক্ষিত অন্তর্ভূক্তিকে বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টারা বলেছিলেন, ইউক্রেন যে রাশিয়ার দখল থেকে তাদের সব অঞ্চল ফিরে পেতে পারে, সেই আশা ত্যাগ করা উচিত নয়। তবে এই আলোচনা হওয়া উচিত বর্তমানের ‘ফ্রন্ট লাইনের’ ভিত্তিতে। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কৌশলগত ইস্যুতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি দেশ ন্যাটোর অংশ। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সুযোগ ইউরোপ নিচ্ছে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তবে ন্যাটো থেকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন কি না সেটা একটা বিতর্কের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্য

ইউক্রেনের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অর্থ হলো তিনি গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ইতি টানবেন। কিন্তু তা তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, জো বাইডেনের পরিবর্তে যদি তিনি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করতো না। অনুমান করা যায়, ক্ষমতায় এসে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প সেই নীতিই মেনে চলার চেষ্টা করবেন যার ভিত্তিতে তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিল। সে সময় ইরানের ওপর বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বয়কট করেছিল। কারণ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় জীবনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেমের প্রতি তাদের (ফিলিস্তিনিদের) দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।

ফিলিস্তিন আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ে যখন ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মধ্যস্থতা করেছিলেন যাকে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসাবে দেখা হয়। এই মধ্যস্থতার সময় শর্ত হিসাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে হয়নি। এর পরিবর্তে, এই চুক্তিতে সামিল দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে আরও কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঝে মাঝে ‘অকার্যকর’ অবস্থারও সম্মুখীন হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।

চীন ও বাণিজ্য

চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সে দেশের বৈদেশিক নীতির কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষমতায় থাকাকালীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সে দেশের ‘কৌশলগত প্রতিযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ক্ষেত্রে চীনা আমদানির ওপর শুল্কও আরোপ করেছিলেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেইজিংও শুল্ক আরোপ করে। এই ‘দ্বন্দ্বের’ অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ততদিনে কোভিড মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয় যখন ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করে, তারা চীন নীতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চীনা আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রশাসনের শুল্ককেই বজায় রেখেছে তারা।

বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, উৎপাদন এবং সেই সংক্রান্ত কাজে মার্কিনদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইস্পাতের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্কিন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ কমে আসার একটা বড় কারণ কারখানার অটোমেশন এবং উত্পাদনগত পরিবর্তন। এর পেছনে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অফ-শোরিংর মতো কারণ তুলনামূলক ভাবে কমই দায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে একই সঙ্গে বিপজ্জনক এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর নেতা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।

যে ৭টি কাজকে প্রাধান্য দিতে চান ট্রাম্প

অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অভিবাসী বের করে দেওয়ার বিষয়টি আইনগত এবং যৌক্তিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।

অর্থনীতি, ট্যাক্স ও শুল্ক: নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যে দুটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার একটি অর্থনীতি। তবে ট্রাম্প আগেই মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।

জলবায়ু নীতিমালা সংস্কার: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শতাধিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রত্যাহার এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত, মার্কিন গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ: ইউক্রেনে টানা আড়াই বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ ইস্যু: প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে সমর্থকদের আপত্তি থাকার পরও কমলা হ্যারিসের বিপরীতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে জাতীয়ভাবে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করবেন না। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের ওপর সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। গর্ভপাতের অধিকার ছিল কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের দিন গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প নিজে বারবার বলেছেন, গর্ভপাত নিয়ে রাজ্যগুলোর নিজেদের আইন করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।

ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় জড়িতদের ক্ষমা: ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনের সময় সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক। ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫ জন প্রাণ হারান। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বরারবই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

জ্যাক স্মিথকে অব্যাহতি: সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা পরিচালনাকারী কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবং গোপনীয় তথ্যের ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে তাকে দায়মুক্তির বাইরে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র মূল্যস্ফীতির শঙ্কা, ভাটা পড়বে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও

* সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করছে * বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে আঘাত হানবে * প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ও পর্যটন খাত চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির দিক থেকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন এক বছরের বেশি স্থায়ী হলে ২০২৬-২৭ সময়ে উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট, আর মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এডিবি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার দৃশ্যপটে ২০২৬-২৭ সময়ে এই অঞ্চলের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে, যা তুলনামূলকভাবে মাঝারি হলেও মূল্যস্ফীতির চাপ হবে সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত, যা পুরো অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এডিবির মতে, সংঘাতের প্রভাব মূলত পড়ছে জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন, বাণিজ্য বাধা এবং আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হয়ে ওঠার মাধ্যমে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের আমদানি-নির্ভরতার মাত্রা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণের নীতির ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব ভিন্ন হবে। তবে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করবে। এডিবি ধরে নিয়েছে- জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সাময়িক হবে এবং বাজার স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসবে। কিন্তু উৎপাদক পর্যায়ের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকায় মূল্যস্ফীতির পতন প্রাথমিক বৃদ্ধির তুলনায় কম হবে। অর্থাৎ দাম বাড়ে লিফটে চড়ে, নামে সিঁড়ি দিয়ে, মানব সভ্যতার প্রিয় অর্থনৈতিক রীতি।

যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি হ্রাস পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় কম, তবু উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাস্তবে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করবে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায়, দারিদ্র্য বাড়ায় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেছেন, সরকারগুলোর উচিত বাজারের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা বাড়াতে পারে এমন নীতি গ্রহণ করা।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সরকারগুলোকে দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে, আর্থিক সহায়তা হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে বাজারের অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে সম্ভব জ্বালানির চাহিদা কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।


মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ মার্কিন ঘাঁটি গুড়িয়ে দিল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ মার্কিন ঘাঁটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এ দাবি করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। সেগুলো ইতোমধ্যে ইরানি বাহিনী ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী।

তিনি ২০২৫ সালের ১৩ জুন শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাত প্রসঙ্গে বলেন, ওই যুদ্ধের পর ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক নীতি পরিবর্তন করে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে।

শেখারচি দাবি করেন, গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে কেউ ইরানের ওপর হামলা চালালে পাল্টা আঘাত করে শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে।

তিনি বলেন, শত্রুকে শাস্তি দেওয়া এবং তাদের হুমকি সম্পূর্ণভাবে দূর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল অব্যাহত থাকবে। ইরানের এ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিরাপত্তার নামে প্রভাবিত করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো হবে না এবং যুদ্ধ শেষ হলেও ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে।

তিনি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় না দেয়। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


ইরানকে রাশিয়ার সামরিক সহায়তার অভিযোগ জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল। তার মতে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ইরানকে সরাসরি সহায়তা করছে রাশিয়া। ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ওয়াডেফুলের এই মন্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেন আগ্রাসন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া। পুতিন আশা করছেন যে বিশ্বের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিবদ্ধ থাকলে ইউক্রেনে তার সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ও বাধা কমে আসবে। তবে ওয়াডেফুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পুতিনের এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

এই সংকট নিরসনে জার্মানি সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াডেফুল জানিয়েছেন যে, তিনি ইতিমধেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জার্মানির অনড় অবস্থান তুলে ধরেছেন। জার্মানি কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সংঘাত পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যেকোনো কার্যকর ভূমিকা পালনে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

পরিশেষে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইউক্রেন সংকট এখন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। একটির সমাধান ছাড়া অন্যটির স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে একই সঙ্গে দুই ফ্রন্টে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন শাহের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি জনমনে 'বালেন শাহ' নামেই সমধিক পরিচিত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত তার দল 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (আরএসপি) গত ৫ মার্চের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৮২টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বালেন শাহ তার চিরচেনা নিজস্ব শৈলী বজায় রেখেছিলেন। প্রথাগত নেপালি টুপি ও সানগ্লাস পরে তিনি যখন শপথ নিতে আসেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। কাঠমান্ডুর সাবেক এই মেয়র নেপালের দক্ষিণ সমতলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে প্রথম 'মাধেসি' প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গাওয়া 'জয় মহাকালী' শিরোনামের একটি র‍্যাপ গান প্রকাশের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যের বার্তা দেন। ইউটিউবে মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া সেই গানে তিনি নেপালের প্রতিটি ঘরে হাসি ও সুখ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

বালেন শাহের এই বিজয় নেপালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯০ সাল থেকে দেশটিতে ৩২টি সরকার দায়িত্ব নিলেও কোনোটিই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল-এর মতো পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো তরুণ নেতৃত্বের জোয়ারে ধরাশায়ী হয়েছে। তবে নতুন এই সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও পাহাড়সম। দেশের এক-পঞ্চমাংশ মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রতিদিন কাজের সন্ধানে দেশ ছাড়া দেড় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে বালেন শাহের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে। বালেন্দ্র শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চীন তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা নেপালের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নতুন সরকারের পাশে থাকবে। অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে বালেন শাহ নেপালকে উন্নয়নের পথে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বৈশ্বিক সংকটের শঙ্কা পুতিনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক পর্যায়ে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনই নির্ধারণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি করোনা মহামারীর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মস্কোতে ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

পুতিনের মতে, বর্তমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি (হাইড্রোকার্বন), ধাতু এবং সার উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুতর চাপের মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বৈঠকে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক বিশেষজ্ঞ এই পরিস্থিতিকে করোনা মহামারীর সঙ্গে তুলনা করছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মহামারী যেমন বিশ্বজুড়ে উন্নয়নের গতি মন্থর করে দিয়েছিল, তেমনি চলমান সংঘাতও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একই ধরনের স্থবিরতা তৈরি করতে পারে।

সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে পুতিন বলেন, ‘এই মুহূর্তে এর সঠিক পরিণতি অনুমান করা খুবই কঠিন। এমনকি যারা সরাসরি এই সংঘাতের সাথে জড়িত, তারাও সম্ভবত বুঝতে পারছেন না শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে।’


যুদ্ধের মাঝেও তেল বাণিজ্যে লাভবান ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলমান সংঘাতের মধ্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে অতিরিক্ত শত শত কোটি ডলার আয় করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে সক্ষম একমাত্র বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে ইরানি তেলের চাহিদা ও দাম—দুটোই বেড়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। একদিকে প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে খুব কম ছাড়ে তেল বিক্রি করছে তারা, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করায় আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হলেও ইরানের তেল রপ্তানি আগের মতোই প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থির রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বিশাল ট্যাংকার নোঙর করছে এবং সেখান থেকে পারস্য উপসাগর পেরিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।

অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি যেখানে কার্যত বাধাগ্রস্ত, সেখানে ইরান ঠিক বিপরীত পরিস্থিতিতে রয়েছে। এমনকি বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা তেহরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানকে তেল বিক্রির জন্য তোয়াজ করছে। অথচ ইরানি তেল বিক্রি বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল।

ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ইরান দৈনিক গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে, যেখানে ফেব্রুয়ারিতে এ আয় ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের মূল্য ব্যবধান এখন মাত্র ২ ডলার ১০ সেন্টে নেমে এসেছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে এই ব্যবধান ১০ ডলারেরও বেশি ছিল। বাড়তি এই আয় ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব যখন উৎপাদন কমানো বা বিকল্প রুট খুঁজতে ব্যস্ত, তখন ইরান নির্বিঘ্নে খারগ দ্বীপ ও জাস্ক টার্মিনাল ব্যবহার করে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। জাস্ক টার্মিনালটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে দেশটি। পাশাপাশি প্রণালি অতিক্রম করা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি আদায় করছে তেহরান।

এদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের হামলা থেকে রক্ষা পেলেও কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতের তেল-গ্যাসক্ষেত্র ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে অবস্থান কিছুটা নরম করেন। তবে ইরান কোনো আলোচনার বিষয় অস্বীকার করে আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলেছে।

সুত্র- এনডিটিভি


মার্কিন ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলল ইরানের বিপ্লবী গার্ড

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সাধারণ নাগরিকদের মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ বলেছে, ‘আমরা আপনাদের জোরাল পরামর্শ দিচ্ছি যে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেসব এলাকা আপনারা অবিলম্বে ত্যাগ করুন, যাতে আপনাদের কোনো ক্ষতি না হয়।’ একই বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সেনাদের ‘যেখানেই পাওয়া যাবে’, সেখানেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা আইআরজিসির ‘পবিত্র দায়িত্ব।’

এদিকে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতজুড়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তেহরানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে তারা আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি ইয়াজদে সামুদ্রিক মাইন তৈরির একটি স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের দিকেও পাল্টা হামলা চলতে থাকে। উপকূলীয় শহর নেতানিয়ার আকাশে রকেটের ধোঁয়ার রেখা দেখা গেছে বিভিন্ন ছবিতে। লেবাননের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কুয়েতের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘শত্রুপক্ষের’ ড্রোন হামলায় ‘জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি’ হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরবও একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র: আলজাজিরা


নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহর শপথ গ্রহণ

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহকে শপথবাক্য পাঠ করান নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বালেন্দ্র শাহ। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল শুক্রবার শীতল নিবাসে প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধেসি সম্প্রদায়ের কোনো নেতা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

পেশাগতভাবে র‍্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বালেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে কাঠমান্ডু সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে আলোচনায় আসেন। সে নির্বাচনে তিনি প্রচলিত বড় দলগুলোর প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেখান।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেয়রের পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করেন, যা ওই আসনে তাঁর শক্ত অবস্থান ভেঙে দেয়।

শপথ নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ জন মন্ত্রীকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আরএসপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. স্বর্নিম ওয়াগলে। সুদান গুরুংকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি জেন-জি আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন শিশির কানাল।

সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় পেয়েছেন খড়কা রাজ (গণেশ) পৌডেল এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক সাহকে। শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন শস্মিত পোখরেল। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিক্রম তিমিলসিনা। কেন্দ্রীয় ও ভূমি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সাবেক সাংবাদিক প্রতিভা রাওয়াল। শক্তি ও সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ।

কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন গীতা চৌধুরী। আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় পেয়েছেন সবিতা গৌতম। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সিতা বদি এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় পেয়েছেন সুনীল লামসাল। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশা মেহতাকে।

উল্লেখ্য, নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি গত বছরের সেপ্টেম্বরে হঠাৎ করে ফেসবুকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেন। এতে করে ক্ষিপ হন দেশটির তরুণরা। তারা মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ওলির সরকারের পতন ঘটান। নেপালের তরুণরা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং এলিট শ্রেনির শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যার ফলাফল দেখা যায় সর্বশেষ নির্বাচনে। যেখানে পুরোনো রাজনীতিবিদদের বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন।


মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিকল্প সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি আরও দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে এই মোতায়েনের মধ্যে পদাতিক ইউনিটের পাশাপাশি সাঁজোয়া যানও থাকতে পারে। নতুন সেনারা যুক্ত হবে ইতোমধ্যে মোতায়েনের নির্দেশ পাওয়া ৫ হাজার মেরিন সদস্য এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপারের সঙ্গে, যা পুরো অঞ্চলে একটি শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি তৈরি করবে। তাদের অবস্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ-এর অপারেশনাল রেঞ্জের মধ্যে তাদের রাখা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, মিত্রদের সমর্থন থাকুক বা না থাকুক, তিনি ‘হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত’ করবেনই।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যানা কেলি বলেন, সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত সব ঘোষণা প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকেই আসবে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সব সময় সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা থাকে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ইরান অভিযানে আত্মঘাতী হামলায় সক্ষম চালকবিহীন ‘ড্রোন বোট’ মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

চালকবিহীন ‘ড্রোন বোট’ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৫:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টহল ও সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্যে চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ ব্যবহার শুরু করেছে তারা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির আরও বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এটি প্রথমবার, যখন সক্রিয় কোনো সংঘাতে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল ওয়াশিংটন।

ড্রোন বোটগুলো কেবল নজরদারির জন্য নয়, প্রয়োজন হলে আত্মঘাতী হামলার মতো আক্রমণাত্মক কাজেও ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে বলে জানা গেছে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রয়টার্সের পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, চালকবিহীন নৌবহর গঠনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী। তবে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন এসব নৌযান সরাসরি অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরে আঘাত হানার পর থেকেই এই প্রযুক্তি আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানও পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য সমুদ্র-ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এসব ড্রোন নৌযান ব্যবহার করে সরাসরি কোনো আক্রমণ চালিয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডভিত্তিক ‘ব্ল্যাক-সি’ প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই নৌযানগুলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ বা ‘জিএআরসি’ নামে পরিচিত।

এক বিবৃতিতে হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে জিএআরসির মতো ড্রোন নৌযান ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এ বিশেষ প্ল্যাটফর্মটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে টহল দেওয়ার সময় সফলভাবে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি পানিতে ভেসে থেকে ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।

বর্তমানে ব্যবহৃত অন্য কোনো ড্রোন ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি। একইভাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জীবনের শেষ ছবি জনসমক্ষে

মৃত্যুর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে চলমান শোক ও উত্তেজনার মধ্যেই তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি জনসমক্ষে এসেছে। তেহরান থেকে প্রকাশিত এই চিত্রটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জীবনের শেষ এই ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল মায়াদিন ইংলিশ দাবি করেছে, খামেনির মৃত্যুর ঠিক পূর্বমুহূর্তে এটিই ছিল তাঁর শেষ ছবি।

প্রকাশিত এই ছবিতে তাঁকে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে ছবিটি ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, অভিযানের প্রথম দিনেই সকালে নিজ দপ্তরে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিহত হন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি সেই সময় জানিয়েছিল যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক হামলায় সকালের দিকেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রাণ হারান। সে সময় তিনি তাঁর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যাদি সম্পন্ন করছিলেন।


হরমুজ প্রণালিতে মালয়েশীয় জাহাজ চলাচলে ইরানের বিশেষ অনুমতি

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তেহরানের সাথে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে “দ্রুত ছাড়পত্র” দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ জন্য তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁদের তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বর্তমানে কাজ চলছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সুযোগ পেয়েছে বা এর পেছনে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাধারণত নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণকারী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মালয়েশিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দেশটি অনেক রাষ্ট্রের তুলনায় “ভালো অবস্থায়” আছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের অন্যতম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়াকে তাদের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে মালয়েশিয়া সরকার ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিগত বরাদ্দ হ্রাস এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে বাসা থেকে কাজ করার পদ্ধতি চালুর মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, “খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ছে, দাম বাড়বে সার ও জ্বালানিরও। তাই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক বেশি। তবে তার অর্থ এই নয়, মালযেশিয়া পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত।”

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই এমন জাহাজগুলোর জন্য এই পথ খোলা রাখা হয়েছে, যদিও জলপথটিতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে তেহরান। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টে হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাবিত আইনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে কোনো কোনো জাহাজের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবির অভিযোগও উঠেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত, বর্তমানে সেই সংখ্যাটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরান ও লেবাননে বাস্তুচ্যুত ৪০ লাখ মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। চলমান সংঘাতে দুই দেশে ব্যাপক হারে মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোর ধ্বংসযজ্ঞ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। একই সময়ে লেবাননে ইসরাইলি স্থল অভিযানের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষ, ফলে দুই দেশ মিলিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ লাখে।

প্রায় এক মাসের সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত এক হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ে দেশটির ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শত শত স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল এবং হাজার হাজার বসতবাড়ি। রাজধানী তেহরানেও বিপুলসংখ্যক আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, হামলার পর থেকে ইরানের মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছুটে বেড়াচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও আজারবাইজানের সীমান্ত এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশত্যাগী মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে লেবাননের পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনীর নির্দেশে দক্ষিণাঞ্চলের লিটানি নদী থেকে জাহরানি নদী পর্যন্ত এলাকা খালি হয়ে পড়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড জনশূন্য হয়ে গেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি পাঁচজনের একজন এখন বাস্তুচ্যুত। আশ্রয় সংকটে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় কিংবা যানবাহনে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ লেবানন ছেড়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু।

যুদ্ধের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। কাসমিয়েহ, আল-কানতারা ও খর্দালিসহ একাধিক প্রধান সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির চেষ্টা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদে সরে যাওয়া যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা জোরদার না হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।


banner close