শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
২৭ চৈত্র ১৪৩২

ট্রাম্পের ঐতিহাসিক জয়ে কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫
খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই জয় অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলার আসামি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পেয়েছেন তিনি। চার বছর আগে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও এবার ট্রাম্পের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে সারাবিশ্ব। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ন্যাটো

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পকে একাধিকবার বলতে শোনা গেছে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ‘একদিনে বন্ধ’ করে দিতে পারেন। তবে সেটা কীভাবে করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। গত মে মাসে ট্রাম্পের দুই প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের লেখা এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত। তবে কিয়েভের রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রবেশের বিষয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করা উচিত।

রাশিয়াকে ‘প্রলুব্ধ’ করতে, পশ্চিমারা ন্যাটোতে ইউক্রেনের বহু কাঙ্ক্ষিত অন্তর্ভূক্তিকে বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টারা বলেছিলেন, ইউক্রেন যে রাশিয়ার দখল থেকে তাদের সব অঞ্চল ফিরে পেতে পারে, সেই আশা ত্যাগ করা উচিত নয়। তবে এই আলোচনা হওয়া উচিত বর্তমানের ‘ফ্রন্ট লাইনের’ ভিত্তিতে। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কৌশলগত ইস্যুতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি দেশ ন্যাটোর অংশ। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সুযোগ ইউরোপ নিচ্ছে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তবে ন্যাটো থেকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন কি না সেটা একটা বিতর্কের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্য

ইউক্রেনের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অর্থ হলো তিনি গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ইতি টানবেন। কিন্তু তা তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, জো বাইডেনের পরিবর্তে যদি তিনি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করতো না। অনুমান করা যায়, ক্ষমতায় এসে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প সেই নীতিই মেনে চলার চেষ্টা করবেন যার ভিত্তিতে তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিল। সে সময় ইরানের ওপর বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বয়কট করেছিল। কারণ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় জীবনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেমের প্রতি তাদের (ফিলিস্তিনিদের) দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।

ফিলিস্তিন আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ে যখন ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মধ্যস্থতা করেছিলেন যাকে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসাবে দেখা হয়। এই মধ্যস্থতার সময় শর্ত হিসাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে হয়নি। এর পরিবর্তে, এই চুক্তিতে সামিল দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে আরও কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঝে মাঝে ‘অকার্যকর’ অবস্থারও সম্মুখীন হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।

চীন ও বাণিজ্য

চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সে দেশের বৈদেশিক নীতির কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষমতায় থাকাকালীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সে দেশের ‘কৌশলগত প্রতিযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ক্ষেত্রে চীনা আমদানির ওপর শুল্কও আরোপ করেছিলেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেইজিংও শুল্ক আরোপ করে। এই ‘দ্বন্দ্বের’ অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ততদিনে কোভিড মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয় যখন ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করে, তারা চীন নীতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চীনা আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রশাসনের শুল্ককেই বজায় রেখেছে তারা।

বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, উৎপাদন এবং সেই সংক্রান্ত কাজে মার্কিনদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইস্পাতের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্কিন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ কমে আসার একটা বড় কারণ কারখানার অটোমেশন এবং উত্পাদনগত পরিবর্তন। এর পেছনে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অফ-শোরিংর মতো কারণ তুলনামূলক ভাবে কমই দায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে একই সঙ্গে বিপজ্জনক এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর নেতা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।

যে ৭টি কাজকে প্রাধান্য দিতে চান ট্রাম্প

অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অভিবাসী বের করে দেওয়ার বিষয়টি আইনগত এবং যৌক্তিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।

অর্থনীতি, ট্যাক্স ও শুল্ক: নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যে দুটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার একটি অর্থনীতি। তবে ট্রাম্প আগেই মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।

জলবায়ু নীতিমালা সংস্কার: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শতাধিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রত্যাহার এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত, মার্কিন গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ: ইউক্রেনে টানা আড়াই বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ ইস্যু: প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে সমর্থকদের আপত্তি থাকার পরও কমলা হ্যারিসের বিপরীতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে জাতীয়ভাবে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করবেন না। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের ওপর সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। গর্ভপাতের অধিকার ছিল কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের দিন গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প নিজে বারবার বলেছেন, গর্ভপাত নিয়ে রাজ্যগুলোর নিজেদের আইন করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।

ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় জড়িতদের ক্ষমা: ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনের সময় সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক। ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫ জন প্রাণ হারান। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বরারবই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

জ্যাক স্মিথকে অব্যাহতি: সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা পরিচালনাকারী কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবং গোপনীয় তথ্যের ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে তাকে দায়মুক্তির বাইরে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন মিন অং হ্লাইং

আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৩৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাঁচ বছর আগে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এখন তিনি বেসামরিক পদমর্যাদায় নিজের কর্তৃত্ব সুসংহত করলেন। আজ শুক্রবার দেশটির রাজধানী নেপিদোর পার্লামেন্টে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

২০২১ সালে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানে মিয়ানমারের নির্বাচিত নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করা হয়। ওই সময় থেকেই দেশজুড়ে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং নেত্রী সু চিকে কারাবন্দী করা হয়। দীর্ঘ শাসনের পর গত জানুয়ারিতে দেশটিতে নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও তাতে প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ নেয়নি। ফলে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদেরা জয়ী হয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মিন অং হ্লাইং শীর্ষ জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। শপথ গ্রহণ শেষে দেওয়া ভাষণে ৬৯ বছর বয়সী হ্লাইং বলেন, ‘মিয়ানমার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তবে তার নতুন মন্ত্রিসভার ৩০ জন সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশই সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, যাদের অনেকের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেপিদোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই উপলক্ষে সু চির প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও সমালোচকরা একে স্রেফ লোক দেখানো পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, তার সরকার ‘সামাজিক পুনর্মিলন, ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন বিবেচনায় সাধারণ ক্ষমা দেবে’।

নিজের ভাষণে হ্লাইং একবারও সু চির নাম উচ্চারণ করেননি, যিনি বর্তমানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের কারাগারগুলোতে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্দী রয়েছেন।


লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়, বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবাননজুড়ে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটিতে নির্বিচার হামলায় শত শত মানুষ হতাহত হওয়ায় বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ১০ এপ্রিল, শুক্রবার ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালিসন ওমান লাউই এক বিবৃতিতে জানান যে, লেবাননে চলমান অস্থিরতার শুরু থেকেই ডব্লিউএফপি ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মিত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। তবে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি ডব্লিউএফপির কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে কেবল গত বুধবারের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ হাজার ১৫০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিকে চরম বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো।


রাশিয়া-ইউক্রেন ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৩৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভ্লাদিমির পুতিন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা থেকে এই বিরতি শুরু হয়ে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এই সময়ে দুই দেশই ইস্টার উদযাপন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনও এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন একই পদক্ষেপ নেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ-কে নির্ধারিত সময়ে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যেকোনো লঙ্ঘনের জবাব দিতে রুশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলেও জানানো হয়।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আগেই এমন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘আমরাও ইস্টারের সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব।’

তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার প্রয়োজন এবং ইস্টারের পর রাশিয়া যেন নতুন করে হামলা শুরু না করে সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

তবে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর জানান, রুশ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। তার দাবি, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে তিনটি জেলায় প্রায় ৩০ বার আঘাত হানা হয়েছে।

এই যুদ্ধবিরতি এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধ অবসানে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে এবং ওয়াশিংটন-এর মনোযোগ ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে যাচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আগাম কোনো আলোচনা হয়নি এবং এটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় তাৎক্ষণিক অগ্রগতির ইঙ্গিতও নয়। তবে মানবিক সহায়তার চ্যানেলগুলো এখনও চালু রয়েছে।

আল জাজিরা-এর মস্কোভিত্তিক সাংবাদিক ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, ‘সম্প্রতি ৪১ জন রুশ সেনার মরদেহের বিনিময়ে মস্কো এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার দেহাবশেষ কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করেছে।’

তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ৫০০ জনের বেশি রুশ সেনা এবং ১৯ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তার মতে, জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধসহ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য বারবার চাপ দিলেও মস্কো সেসব প্রস্তাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে সময় আরও কঠিন হতে পারে। কিয়েভকে একদিকে রাশিয়ার হামলা মোকাবেলা করতে হবে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের চাপও সামলাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের জন্য সময়টা খুব কঠিন হবে।’


যুদ্ধ চাই না, তবে অধিকার রক্ষায় অনড় থাকবে তেহরান: মোজতবা খামেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে চায় তেহরান, তবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক লিখিত বার্তায় তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর দেওয়া এই বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনও চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না। এ ক্ষেত্রে আমরা সমগ্র ‘প্রতিরোধ জোটকে’ একসঙ্গে বিবেচনা করি।’ তার এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করছেন, যেখানে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ-এর সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান, যা ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

মোজতবা খামেনি তার বার্তায় আরও বলেন, ‘জনগণের রাস্তায় নামা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশে আপনাদের কণ্ঠস্বর আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।’

উল্লেখ্য, তার বাবার ওপর হামলার সময় তিনিও আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনো তিনি জনসমক্ষে আসেননি; তার সব বার্তাই লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

এক পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যে জানানো হয়েছে, তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সেগুলোর সময়কাল উল্লেখ করা হয়নি।


ইরান সংঘাতে হতাহতের হিসাব প্রকাশ করল ইসরাইল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল তাদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরাইল এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ইসরাইল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ঝুঁকি কমানো এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। একই সময়ে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালায় এবং পরে তা থামানো হয়।

ইসরাইলি সামরিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে ইরান প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর বড় একটি অংশ ছিল ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত, যা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এই হামলায় ইসরাইলে ২০ জন বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি নিহত হন। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে চার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আহতের সংখ্যা ৭ হাজারেরও বেশি।

মোট নিহত ২৪ জনই বেসামরিক, যাদের বেশিরভাগই হামলার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না। এর মধ্যে ১০ জন ক্লাস্টার বোমায় এবং ১৪ জন প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান।

ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবে অন্তত ৫ হাজার ৫০০ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুদ্ধের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা ছিল বেশি। প্রথম দিনে প্রায় ৮০টি, দ্বিতীয় দিনে ৬০টির কাছাকাছি এবং তৃতীয় দিনে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

এ সময় অন্তত ১৬টি প্রচলিত ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। পাশাপাশি ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রায় ৫০টি হামলা চালানো হয়, যার ফলে শতাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


হরমুজ প্রণালির উপর নিখোঁজ ২০০ মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক মার্কিন ট্রাইটন ড্রোন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালির আকাশ থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’ নিখোঁজ হয়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টার নজরদারি শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে ড্রোনটি জরুরি সংকেত পাঠিয়ে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যে দেখা যায়, ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটির দিকে ফেরার সময় ড্রোনটি হঠাৎ ইরানের দিকে কিছুটা ঘুরে গিয়ে ‘কোড ৭৭০০’ জরুরি সংকেত পাঠাতে থাকে এবং দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে নিখোঁজ হয়। তবে এটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

নর্থরোপ গ্রুম্যান কোম্পানির তৈরি এই ড্রোনটির মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারির দায়িত্বে ছিল।

ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে এবং একবারে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল অতিক্রমে সক্ষম। সমুদ্রভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারিতে এটি মার্কিন বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু হওয়ার পরপরই এমন একটি ব্যয়বহুল ড্রোন নিখোঁজ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুদ্ধ ব্যয়ের হিসাবও সামনে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্যে বলা হয়েছে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে। দৈনিক ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রে। বিমান অভিযানে প্রতিদিন প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং নৌ অভিযানে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে।

এই বিপুল ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে ট্রাইটন ড্রোনের নিখোঁজ হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও লেবানন ইস্যুতে ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে তা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি পেন্টাগন।

সূত্র: এনডিটিভি


ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কার্যত ‘অকার্যকর’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে অন্তত এক ডজন ঘাঁটির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সেগুলো এখন মার্কিন বাহিনীর জন্য সুবিধার বদলে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর গত মাসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার পর অনেক ঘাঁটি প্রায় ‘বসবাসের অনুপযোগী’ অবস্থায় পৌঁছেছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা স্বীকার করেনি।

ওয়াশিংটনের ‘আরব সেন্টার’-এর বার্ষিক সম্মেলনে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের অবকাঠামোগুলো অকেজো করে দিয়েছে। অথচ এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক চিত্র সামনে আসছে না।’

উপসাগরীয় অঞ্চলের বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমানে অবস্থিত এসব ঘাঁটিতে প্রবেশ ও তথ্য প্রকাশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এমনকি আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলায় ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

মার্ক লিঞ্চ আরও বলেন, বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার সেনার অবস্থান থাকা এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে যে, সেখানে নৌবহর পুনরায় মোতায়েনের সম্ভাবনা খুবই কম।

তার মূল্যায়নে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে সংখ্যা নির্ধারণ করে দিল ইরান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করত। সংঘাতের পর ইরান প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।

তেল ছাড়াও সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ নানা পণ্যের জন্যও এই রুট গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির পর এসব খাতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি এবং ইরানের ১০টি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

তাস-এর তথ্যমতে, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের শর্ত আরোপ করেছে। এসব জাহাজের গতিবিধি ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং তা তদারকি করবে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

এ বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘হরমুজ দিয়ে যে কোনো বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখন থেকে কঠোরভাবে ইরানের অনুমোদন এবং একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল কার্যকর করার ওপর নির্ভর করবে। আমাদের এই নতুন সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’


হরমুজ ইস্যুতে ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত বাজেভাবে কাজ করছে। একে অনেকেই অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে দেখছেন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের এমন কার্যক্রম কোনো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার অংশ নয়। তার ভাষায়, ‘আমাদের মধ্যে এমন কোনো চুক্তি হয়নি!’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এনবিসি নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অভিযোগে ইরানকে সরাসরি সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ইরান ফি নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তারা যেন এটি না করে এবং করে থাকলে তা এখনই বন্ধ করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য এসেছে। এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে। তবে এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচলের অনুমতির বিনিময়ে ইরান শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি তেহরান।

অন্য এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমার কারণে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে, এতে ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক।


বিমান হামলায় আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারা গেছেন

কামাল খারাজি। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ইরানের ফরেন রিলেশনস কাউন্সিলের প্রধান কামাল খারাজির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে সস্ত্রীক এক হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছিলেন। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত হন এবং তিনি মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় ছিলেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা ৩৯ দিনের হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ছয়জন উচ্চপর্যায়ের নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, তাদের অভিযানে ৫০ জনের বেশি ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিরা ইরানের শাসন কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সূত্র: আলজাজিরা


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ৩ হাজারের বেশি ইরানির প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে এক মাসের বেশি সময়ের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দেশটিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইরানের ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানজুড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

দেশটির ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ৪০ শতাংশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বিমান হামলায় দেশটির সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক জানমালেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দেশটির সরকারি সূত্র বলেছে, গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। গতকালও লেবাননে ভয়াবহ ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে তেহরান।

এদিকে, এই যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও হাসপাতাল হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় দেশটিতে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইরান-লেবাননে ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ইরানের ফরেনসিক বিভাগ অজ্ঞাত মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।


ভেস্তে যেতে পারে শান্তি চুক্তির আলোচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবাননে হামলার জেরে অনিশ্চয়তায় পড়েছে স্থায়ী শান্তি চুক্তি আলোচনা। ইসরাইল যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না অভিযোগ করে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক খবরে জানিয়েছে, আগামী শনিবার মধ্যস্থাকারী দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি প্রতিনিধি দলের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার তাদের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কিন্তু হিজুবল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত থাকায় এখনো চুক্তির মূল বিষয় হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করেনি ইরান। তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা কোনো ধরনের চুক্তি করবে না।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ফের হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানকে ঘিরে রাখা মার্কিন নৌবহর ও সৈন্যরা সেখানে অবস্থান করবে। এসব ঘটনা প্রবাহের দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অস্থিতিশীলতা যুদ্ধবিরতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। যেকোনো অবস্থাতেই ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে সব পক্ষ।

টানা ৪০ দিন তুমুল সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার) যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান। তবে একদিন না যেতেই বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমসহ আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বৃটেন ও ফ্রান্স হিজবুল্লাহকে চুক্তির আওতায় আনার আহ্বান জানালেও তা অস্বকীর করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার বাহিনী হিজুবল্লাহকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। যাতে প্রাণ হারাচ্ছে বেসামরিক মানুষ।

ইসরায়েলের এমন আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, সামরিক আগ্রাসন গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।


খামেনি হত্যার ৪০ দিন উপলক্ষে ইরানজুড়ে সমাবেশ

ইরানজুড়ে সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্র হয়েছেন। ইরানি সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় অনেক মানুষ একত্র হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন মতাদর্শের ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেক মানুষ ইরানের পতাকা নিয়ে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সবাই সরকারপন্থি নন, তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা একত্র হচ্ছেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ কেউ যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, ইরানি সমাজে যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা শুরুর পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।

সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনায় বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইমাম খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে। সেই শোক পালনে ইরানের রাজধানী তেহরানে জনতার ঢল দেখা গেছে। এই শোকসভা থেকে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে অটল প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী জনতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন মতে, তেহরানের শোক মিছিলগুলো জোমহুরি স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে ইমাম খামেনির হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসব শোকমিছিল বিপ্লবী পথের প্রতি জনতার আনুগত্যের গর্জনময় ঘোষণা এবং শত্রুপক্ষের নৃশংসতার তীব্র নিন্দায় পরিণত হয়। তেহরানের এসব শোকযাত্রায় শোকাহত মানুষ স্লোগান দেয়, শোকগাথা পাঠ করে এবং তার বিপ্লবী আদর্শের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের উসকানিহীন আগ্রাসন শুধু ইরানের নেতৃত্বই নয় বরং বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করে। এর মধ্যে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধ্বংসী হামলায় ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়।

এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্থাপনাগুলোর ওপর ১০০ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা শত্রুপক্ষকে অপমানজনকভাবে পিছু হটতে বাধ্য করে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করার পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। গত বুধবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল (এসএনএসসি) এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যা সংঘাতের সাময়িক অবসান নির্দেশ করে।

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত তার জীবদ্দশার নেতৃত্বের মতোই ইসলামী বিপ্লবকে আরও শক্তিশালী করেছে। জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে শত আঘাতকে তারা তার ত্যাগের ‘ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে।


banner close