মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ট্রাম্পের ঐতিহাসিক জয়ে কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫
খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই জয় অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলার আসামি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পেয়েছেন তিনি। চার বছর আগে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও এবার ট্রাম্পের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে সারাবিশ্ব। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ন্যাটো

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পকে একাধিকবার বলতে শোনা গেছে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ‘একদিনে বন্ধ’ করে দিতে পারেন। তবে সেটা কীভাবে করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। গত মে মাসে ট্রাম্পের দুই প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের লেখা এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত। তবে কিয়েভের রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রবেশের বিষয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করা উচিত।

রাশিয়াকে ‘প্রলুব্ধ’ করতে, পশ্চিমারা ন্যাটোতে ইউক্রেনের বহু কাঙ্ক্ষিত অন্তর্ভূক্তিকে বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টারা বলেছিলেন, ইউক্রেন যে রাশিয়ার দখল থেকে তাদের সব অঞ্চল ফিরে পেতে পারে, সেই আশা ত্যাগ করা উচিত নয়। তবে এই আলোচনা হওয়া উচিত বর্তমানের ‘ফ্রন্ট লাইনের’ ভিত্তিতে। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কৌশলগত ইস্যুতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি দেশ ন্যাটোর অংশ। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সুযোগ ইউরোপ নিচ্ছে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তবে ন্যাটো থেকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন কি না সেটা একটা বিতর্কের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্য

ইউক্রেনের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অর্থ হলো তিনি গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ইতি টানবেন। কিন্তু তা তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, জো বাইডেনের পরিবর্তে যদি তিনি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করতো না। অনুমান করা যায়, ক্ষমতায় এসে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প সেই নীতিই মেনে চলার চেষ্টা করবেন যার ভিত্তিতে তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিল। সে সময় ইরানের ওপর বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বয়কট করেছিল। কারণ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় জীবনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেমের প্রতি তাদের (ফিলিস্তিনিদের) দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।

ফিলিস্তিন আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ে যখন ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মধ্যস্থতা করেছিলেন যাকে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসাবে দেখা হয়। এই মধ্যস্থতার সময় শর্ত হিসাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে হয়নি। এর পরিবর্তে, এই চুক্তিতে সামিল দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে আরও কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঝে মাঝে ‘অকার্যকর’ অবস্থারও সম্মুখীন হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।

চীন ও বাণিজ্য

চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সে দেশের বৈদেশিক নীতির কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষমতায় থাকাকালীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সে দেশের ‘কৌশলগত প্রতিযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ক্ষেত্রে চীনা আমদানির ওপর শুল্কও আরোপ করেছিলেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেইজিংও শুল্ক আরোপ করে। এই ‘দ্বন্দ্বের’ অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ততদিনে কোভিড মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয় যখন ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করে, তারা চীন নীতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চীনা আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রশাসনের শুল্ককেই বজায় রেখেছে তারা।

বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, উৎপাদন এবং সেই সংক্রান্ত কাজে মার্কিনদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইস্পাতের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্কিন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ কমে আসার একটা বড় কারণ কারখানার অটোমেশন এবং উত্পাদনগত পরিবর্তন। এর পেছনে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অফ-শোরিংর মতো কারণ তুলনামূলক ভাবে কমই দায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে একই সঙ্গে বিপজ্জনক এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর নেতা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।

যে ৭টি কাজকে প্রাধান্য দিতে চান ট্রাম্প

অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অভিবাসী বের করে দেওয়ার বিষয়টি আইনগত এবং যৌক্তিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।

অর্থনীতি, ট্যাক্স ও শুল্ক: নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যে দুটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার একটি অর্থনীতি। তবে ট্রাম্প আগেই মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।

জলবায়ু নীতিমালা সংস্কার: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শতাধিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রত্যাহার এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত, মার্কিন গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ: ইউক্রেনে টানা আড়াই বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ ইস্যু: প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে সমর্থকদের আপত্তি থাকার পরও কমলা হ্যারিসের বিপরীতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে জাতীয়ভাবে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করবেন না। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের ওপর সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। গর্ভপাতের অধিকার ছিল কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের দিন গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প নিজে বারবার বলেছেন, গর্ভপাত নিয়ে রাজ্যগুলোর নিজেদের আইন করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।

ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় জড়িতদের ক্ষমা: ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনের সময় সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক। ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫ জন প্রাণ হারান। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বরারবই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

জ্যাক স্মিথকে অব্যাহতি: সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা পরিচালনাকারী কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবং গোপনীয় তথ্যের ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে তাকে দায়মুক্তির বাইরে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ১০:৩৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে), পবিত্র ৯ জিলহজ। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন সারা বিশ্ব থেকে আসা ১৫ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। মক্কা, মিনা ও আরাফাতের আকাশ-বাতাস এখন আল্লাহর মেহমানদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির) ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

গতকাল সোমবার (৮ জিলহজ) তাঁবুর শহর মিনায় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকার পর, আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজ আদায় করেই হাজিরা ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। হাজিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ২৪ হাজার বাসের ব্যবস্থা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের মূল খুতবা পাঠ করবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে এই খুতবা বাংলাসহ ৩৫টি ভাষায় সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে।

খুতবা শেষে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানে অবস্থান করে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করবেন তারা। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিব না পড়েই মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশা একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর হাজিরা এই মুজদালিফা থেকেই সংগ্রহ করবেন।

পরদিন বুধবার (১০ জিলহজ) সকালে পুনরায় মিনায় ফিরে হাজিরা ধারাবাহিকভাবে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং কাবা শরিফ তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী দিনগুলোতেও পাথর নিক্ষেপ শেষে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে শেষ হবে হজের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া।

সৌদি আরবে বর্তমানে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে, যার গড় তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই বৈরী আবহাওয়ায় হাজিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আড়াই লাখ সরকারি কর্মকর্তা এবং ৪০টিরও বেশি সংস্থা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ড্রোন ক্যামেরা এবং বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী এই পবিত্র মহাসম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশি হাজিদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও আবাসন সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ হজ মিশন।


যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার মধ্যেই ইরানে মার্কিন বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে আকাশপথে আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।” যুক্তরাষ্ট্রের এই ঝটিকা আক্রমণটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো যখন কাতারর দোহায় দুই দেশের বৈরিতার অবসানে কূটনৈতিক সংলাপ চলছিল বলে মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও বন্দর নগরী আব্বাসের সংলগ্ন এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথ হওয়ার কারণে ভৌগোলিকভাবে এই এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এর আগে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমে ওই এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর প্রচার করা হয়েছিল। মার্কিন মুখপাত্রের দাবি, “চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর পাশাপাশি মার্কিন বাহিনী তাদের সৈন্যদের নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে।” যদিও এই হামলার বিষয়ে তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই পদক্ষেপ দোহা আলোচনার গতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, “অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হলেও চুক্তি স্বাক্ষর এখনই আসন্ন—এমন দাবি কেউ করতে পারে না।” বর্তমানে দুই পক্ষ মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করা এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি আক্রমণে আহত ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে থাকায় প্রতিনিধিদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আলোচনার প্রক্রিয়াকে মন্থর করছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ অবমুক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিষ্পত্তির পথে বড় অন্তরায় হিসেবে রয়ে গেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর প্রসঙ্গে সোমবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, “এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা ইরানের মাটিতেই তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে।” উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে যৌথ হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং এর জেরে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছিল, যা নতুন এই হামলার ফলে এখন বড় ধরনের শঙ্কার মুখে পড়েছে।


লেবানন ও হিজবুল্লাহর পাশে থাকার অঙ্গীকার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ২৩:৪৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লেবাননের ‘প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে দেশটির সরকার, জনগণ এবং হিজবুল্লাহর প্রতি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি এবং হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেমের কাছে পাঠানো পৃথক বার্তায় তিনি হিজবুল্লাহ ও লেবাননের প্রতি তেহরানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০০০ সালে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান সর্বদা পাশে থাকবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করার জন্য হিজবুল্লাহর তীব্র নিন্দা জানান এবং দেশটির সাধারণ জনগণকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৩,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনায় লেবানন যুদ্ধের অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা কাটেনি।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে লেবাননের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত রবিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননসহ সবকটি ফ্রন্ট থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘আত্মরক্ষার অধিকারের’ বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেছেন। তবে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের এই অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা লেবাননকে একা ফেলে যাবে না। যুদ্ধ অবসানের জন্য যেকোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় লেবানন ও হিজবুল্লাহর হাত ইরান শক্ত করে ধরে রাখবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে।


মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে সৌদি আরবে আজ সোমবার (২৫ মে/৮ জিলহজ) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আচার-অনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হজযাত্রীরা মক্কা থেকে তাঁবুর শহর মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ শেষে হজযাত্রীরা বাসে চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে মিনার দিকে রওনা হন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ স্থানীয় নাগরিক। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই হজ পালন সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার আবশ্যিক।

হজের এই আধ্যাত্মিক কার্যক্রম মোট ছয় দিনব্যাপী স্থায়ী হবে। সাধারণত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে শুরু হয়ে ঈদের দুই দিন পর পর্যন্ত এই আনুষ্ঠানিকতা চলে। সৌদি আরবে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেই অনুযায়ী ২৯ মে হবে এবারের হজের শেষ দিন।

হজযাত্রীদের যাত্রা ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবাসন, আতিথেয়তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জিলকদ মাস থেকে এ পর্যন্ত হাজিদের তাঁবু ও সেবাকেন্দ্রগুলোতে ৮৩ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। মিনার ক্যাম্পে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ তদারকি দল মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে।


পাকিস্তানে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ১৭ প্রাণহানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, সোয়াত থেকে পেশোয়ারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে চালক সেটি রাস্তার পাশে থামিয়ে দেন। বাসের মেরামতের অপেক্ষায় যাত্রীরা যখন নিচে অবস্থান করছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাস ও যাত্রীদের সজোরে ধাক্কা দেয়।

উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল আহমাদ ফাইজি হতাহতের তথ্য প্রদান করে বলেন, ‘অন্তত ১৭ জন নিহত হন এবং ১০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।’ এছাড়া চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক মুহাম্মাদ আলিও নিহতের এই সংখ্যাটি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, বাসের যাত্রীদের অধিকাংশই আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সাধারণত পাকিস্তানে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের শিথিলতা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং সড়ক নিরাপত্তার নিম্নমানের কারণে প্রায়ই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।


ইরান যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোকে মিত্রতার আহ্বান ট্রাম্পের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ অবসানের পর আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই বিশেষ অনুরোধ জানান। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফোনালাপে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পর তার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, যা মূলত ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিরই একটি বর্ধিত রূপ। বিশেষ করে একটি সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে এই পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতারা যুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ অন্য নেতারা এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে নেতারা ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’ ফোনালাপ চলাকালীন ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সংকট মিটে যাওয়ার পর তিনি আশা করেন যারা এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেননি, তারা দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। তবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এই অনুরোধটি এতটাই অভাবিত ছিল যে, আলোচনার মাঝে এক পর্যায়ে স্তব্ধতা নেমে আসে। ওই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অনুরোধের পর লাইনে সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল এবং ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তারা এখনও লাইনে আছেন কি না।’ এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী তদারকির দায়িত্ব জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

পরদিন রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিখেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, যা ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিতে তাদের যোগদানের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে।’ তিনি এমনকি সুদূর ভবিষ্যতে ইরানকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও তার পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে আরব নেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের নীতি নিয়ে সন্দিহান এবং তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে অনড় প্রতিশ্রুতি দাবি করে আসছে।


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে: বেইজিংয়ে শাহবাজ শরিফ

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ১৮:৫৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা একদম সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সাথে আয়োজিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে চীন সফরে রয়েছেন।

বেইজিংয়ে চীনা নেতৃত্বের সাথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনার সময় সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাশে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্ব একটি অত্যন্ত সংকটময়, সংবেদনশীল ও জটিল মুহূর্ত অতিক্রম করছে। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন এবং ইরান তাদের ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে রাজি হয়েছে বলেও জানা যায়।

চলমান এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আশার বাণী শুনিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান সমস্ত প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো এখন সঠিক ট্র্যাকেই অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি তা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চীন যেভাবে বরাবর সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, সেজন্য তিনি চীনা নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।


পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আজ সোমবার ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সারা বিশ্ব থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইহরামের সাদা পোশাকে এখন মিনার তাঁবুর নগরীতে অবস্থান করছেন। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হাজিরা ধাপে ধাপে মক্কার পবিত্র কাবা শরীফ থেকে মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো হজ এলাকা, যা বিশ্ব মুসলিমের এক অনন্য ও আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ অর্থাৎ আজ সারা দিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করবেন। সেখানে অবস্থানকালে তারা ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। আগামীকাল ৯ জিলহজ মঙ্গলবার ভোরে হাজিরা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন পালনের জন্য মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।

এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে দোয়া ও মোনাজাতে অবস্থানের পর হাজিরা মুজদালিফার দিকে যাবেন এবং সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ বড় জামরায় শয়তানের উদ্দেশে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হজের প্রাথমিক কার্যাবলি সম্পন্ন করবেন হাজিরা। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান শেষে পুনরায় মক্কায় ফেরার মাধ্যমে হজের সফর শেষ হবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে হজ পালনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার, তবে এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হাজিদের এই বিশাল সমাবেশ সামলাতে সৌদি আরব সরকার মিনায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক তাঁবু ও উন্নত স্যানিটেশনসহ হাজিদের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

পবিত্র হজের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল করতে সৌদি আরব প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটির বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ জানিয়েছেন, হাজিদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতে সব বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থার মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের ফলে এবারের হজ আরও শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মিনা থেকে আরাফাত পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও হাজিদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করে যাচ্ছেন।


ভারতে ১০ দিনে চতুর্থবার বাড়ল জ্বালানির দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। গত দশ দিনে দেশটিতে চতুর্থবারের মতো বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য। গতকাল শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৬১ রুপি এবং ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৭১ রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই দফায় দাম বাড়ার ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম একশ রুপির গণ্ডি ছাড়িয়ে ১০২ দশমিক ১২ রুপিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে, বর্তমানে যা প্রতি লিটার ৯৫ দশমিক ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ভারতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ দশমিক ৮৭ রুপি বেড়ে বর্তমানে ১১৩ দশমিক ৫১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৮০ রুপি বাড়ায় কলকাতায় তা বিক্রি হচ্ছে ৯৯ দশমিক ৮২ রুপিতে। মুম্বাইতে প্রতি লিটার পেট্রোল এখন ১১১ দশমিক ২১ রুপি এবং ডিজেল ৯৭ দশমিক ৮৩ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে। চেন্নাইয়েও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১০৭ দশমিক ৭৭ এবং ৯৯ দশমিক ৫৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত দশ দিনের ব্যবধানে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম মোটের ওপর সাত রুপিরও বেশি বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সংঘাতের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় তেল সরবরাহকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ও ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রেখেছিল। এর ফলে প্রতিদিন সংস্থাগুলোর প্রায় এক হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ বাড়ার সরাসরি প্রভাবে ইতিমধ্যে বাজারে দুধ, রুটিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনগুলোতে ভারতের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য যে, ভারতে গত ১৫ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ১৫ মে এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ রুপি বাড়ার পর ১৯ মে ও ২৩ মে আরও দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেলের এই ঊর্ধ্বগতি কবে নাগাদ স্থিতিশীল হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছে না তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি ‘আজই’ সম্পন্ন হতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তেহরানের সাথে বিদ্যমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা চুক্তি ‘আজই’ সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বর্তমানে ভারত সফরে থাকা রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘গত রাতে কিংবা আজ কোনো অগ্রগতির খবর আসতে পারে বলে আমরা ভেবেছিলাম। তবে এ নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না।‘ একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের আত্মরক্ষার বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, ‘ইসরাইলের নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার সবসময়ই আছে। যদি হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বা হামলা চালায়, তাহলে জবাব দেওয়ার অধিকার তেল আবিবের অবশ্যই রয়েছে।’

দিল্লি ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সাথে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো করবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার (২৪ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প পরিষ্কার করেন যে, সংশ্লিষ্ট চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত ও প্রত্যয়িত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ বলবৎ থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শনিবারের তুলনায় ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান কিছুটা সংহত, যদিও তিনি ইতিপূর্বে দাবি করেছিলেন যে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।


পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সেনাসদস্য বহনকারী একটি ট্রেনে হামলার ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকালে ট্রেনটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। হামলার দায় স্বীকারে বিবৃতি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

ওই কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় সংঘটিত এ হামলায় নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক।

ঘটনার পর প্রকাশিত ছবিতে একটি ট্রেনের বগিকে দুমড়েমুচড়ে পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। লোকজনকে ধ্বংসস্তূপের ওপর উঠে প্রিয়জনদের খুঁজতে দেখা গেছে। রক্তাক্ত আহতদের স্ট্রেচারে করে লাইনচ্যুত বগি থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এ সময় সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পাহারায় ছিলেন।

পরিচয় প্রকাশ না করে আরেক কর্মকর্তার বরাতে এএফপি জানায়, সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বহনকারী ট্রেনটি কোয়েটা থেকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে যাচ্ছিল। কোয়েটার চামান পাটাক এলাকায় একটি সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ট্রেনের একটি বগিতে আঘাত হানে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।

ওই কর্মকতা বলেন, বিস্ফোরণে ট্রেনের জানালার কাচ উড়ে যায় ও আশপাশের কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়। সেনাসদস্যরা আসন্ন ঈদ উদযাপনের জন্য ভ্রমণ করছিলেন।

আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে দেশটিতে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া বিবৃতিতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এটিকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ বলেছে।

বিএলএ বলেছে, সকালে বেলুচ লিবারেশন আর্মির ফিদায়ী (আত্মত্যাগী) ইউনিট মজিদ ব্রিগেড একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিদায়ী হামলায় কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখলদার বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই অভিযানের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি।

বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র ও আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম প্রদেশ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রায় সব সূচকেই এটি দেশের অন্য অংশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, স্থানীয় জনগণকে উপকৃত না করে পাকিস্তান সরকার প্রদেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিপুল খনিজ সম্পদ ব্যবহার করছে।


ভোটের ২০ দিন পর মুখ খুললেন মমতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের ২০ দিন পর মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক লাইভে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। আরও একটি আসনে জিতছে বিজেপি। এদিনই ফেসবুক লাইভে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাংবাদিক সম্মেলন বাদে, ফল প্রকাশের পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি মমতাকে। এবার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেছেন মমতা। তার দাবি, ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের, কিন্তু পাশা উল্টে দেওয়া হয়েছে। খবর টিভি নাইন বাংলার।

ফেসবুক লাইভে এসে তিনি নির্বাচনের ফলাফল, দলীয় পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

লাইভে মমতা বলেন, এটা কি সত্যি নির্বাচন হয়েছে? নাকি প্রহসন হয়েছে? জাতীয় নির্বাচন কমিশন ডেটা হ্যাকিং করেছে। আমাদের কাছে খবর আছে। আমাকে, আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাশাটা উল্টে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১৫০ সিটে। আমরা ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পেতাম। মানুষের কোনও দোষ নেই। এইভাবে কোনও রাজ্য চলতে পারে না। অনেকে ভয় পাচ্ছেন। কেউ ভাবছেন আমার চাকরিটা কী হবে, কেউ ভাবছেন আমার ব্যবসাটা কী হবে!

যুবভারতীর মূর্তি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ছোট ছোট শিশুরা ওখানে সেলফি তুলত। ফিফা অ্যাপ্রিসিয়েট করেছিল। সেটা ভেঙে দিলেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আজান চান না। শব্দের মাত্রা বেঁধে দিন। সবার জন্য একই নিয়ম করুন। কারও অধিকার আপনি কাড়তে পারেন না। যে সুদীপ পোল্লে, পহেলগাঁও-এর ঘটনায় মৃতের পরিবারের দেখাশোনা করেন, তাকে গ্রেপ্তার করলেন। আপনারা ভোট লুট করেছেন। আমাদের দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছেন, হকারদের জীবন-জীবিকা কেড়ে নিয়েছেন। পার্টি অফিস ভেঙে দিয়েছেন।

মমতা বলেন, ইভিএম মেশিনের রিপোর্ট চাই আমাদের। উপরওয়ালা দেখছে। আপনি বাংলাকে লুট করেছেন। আপনার দিল্লি চলে যাবে। আইন সবার জন্য এক। আপনারা সত্যি জিতলে অত্যাচার করতেন না। আমার অস্ত্র আমার ফেসবুক। আমি এখন কোনও মিডিয়ায় কথা বলব না। আগামী দিনে কিছু বলার থাকলে ফেসবুক লাইভেই বলব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ‘জনগণের রায়’ হিসেবে মেনে নিচ্ছি, তবে কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা প্রশাসনিক প্রভাব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভোটের ফলকে প্রভাবিত করেছে।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের পাশে থাকলেই আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি দলীয় স্তরে কিছু পরিবর্তনের আভাস দেন।

মমতা আরও জানান, আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নীতিগত সমালোচনা তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফেসবুক লাইভ ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা— দল পুনর্গঠনের ইঙ্গিত এবং কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা। তবে বিরোধী শিবির মমতার এই বক্তব্যকে ‘পরাজয় ঢাকার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে।


কানাডা থেকে স্বাধীন হয়ে যেতে চায় আলবার্টা প্রদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টার স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, সে বিষয়ে নাগরিকদের মতো জানতে আগামী অক্টোবর মাসে একটি গণভোট হতে যাচ্ছে। এটি শুধু আলবার্টার ভবিষ্যৎই নয়, বরং পুরো কানাডার ঐক্যের জন্যও গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ভোটাভুটিতে ঠিক হবে প্রদেশটি কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চায় নাকি স্বাধীনতা লাভের জন্য একটি চূড়ান্ত আইনি গণভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। গত ২১ মে এক টেলিভিশন ভাষণে আলবার্টার নেতা প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই ভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবিভক্ত কানাডাকে সমর্থন করেন বলে জানিয়েছেন।

কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশটিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আবেগ প্রবল হচ্ছে। স্বাধীনতা নিয়ে একটি গণভোট আয়োজনের দাবিতে অন্তত ৩ লাখ মানুষ একটি পিটিশন সই করার পরই ভোটাভুটির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গণভোটের প্রশ্নটা কী হবে?

ভোটারদের জন্য প্রশ্নটা শুধু সাধারণ কোনো ‘থাকবেন’ নাকি ‘যাবেন’ গোছের হবে না। এর বদলে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে: ‘আলবার্টা কি কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি আলবার্টা সরকারের উচিত কানাডার সংবিধান অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত প্রাদেশিক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা—যাতে ঠিক করা যায় যে আলবার্টা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে কি না?’

প্রিমিয়ারের দপ্তর থেকে বিবিসিকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ভোটাররা মূলত দুটি বিকল্প পাবেন—‘ক’ বিকল্প হলো কানাডার অংশ হিসেবে থাকা, আর ‘খ’ বিকল্প হলো একটি আইনি গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করা।

কেন এই পরিস্থিতি?

এই ভোটাভুটির সূত্রপাত মূলত কিছু আলবার্টাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, কানাডা থেকে আলবার্টার পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যাওয়া উচিত।

গত এক বছর ধরে তারা পুরো প্রদেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মতামত বোঝার জন্য অনেক জনসভার আয়োজন করেছিলেন। এরপর, গত বছরের শুরুতে আলাদা হওয়ার দাবিতে সাধারণ মানুষের সই করা একটি পিটিশন তৈরি করেন তারা। সেখানে তিন লাখেরও বেশি মানুষ সই করেছিলেন।

তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে আলবার্টার একটি আদালত ওই পিটিশনটি আটকে দিয়েছিল। আদালতের রায় ছিল—নাগরিক পিটিশন আইনের অধীনে স্বাধীনতা ভোটের জন্য মানুষের সই জোগাড় করতে সরকার যে অনুমতি দিয়েছিল, তাতে কিছু আদিবাসীদের (ফার্স্ট নেশন্সের) সঙ্গে কোনো কথা বলা হয়নি। যদি আলবার্টা সত্যি সত্যি একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে আদিবাসীদের জায়গাজমি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

এদিকে, আলবার্টার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী টমাস লুকাজুকের নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ ‘ফরেভার কানাডিয়ান’ নামে আলাদা না হওয়ার পক্ষে একটি পিটিশন খুলেছিল। সেখানে প্রদেশটির প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছিলেন।

আলবার্টার বর্তমান জনসংখ্যা মাত্র ৫০ লক্ষের সামান্য বেশি। প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছিলেন যে তিনি ওই আদালতের রায় নিয়ে ‘খুবই চিন্তিত’ এবং কোনো একজন বিচারককে ‘আলবার্টার লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠকে থামিয়ে দিতে’ দেবেন না।

তার সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলেও তিনি জানান। তবে তিনি এও বলেছিলেন যে, ‘এই ইস্যু নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা মানেই এই অত্যন্ত আবেগময় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কটিকে দীর্ঘায়িত করা।’

তাই কোনো আইনি সিদ্ধান্তের পরোয়া না করে স্বাধীনতাকামীদের প্রবল চাপের মুখেই তিনি গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এই স্বাধীনতাকামী কারা এবং তারা আসলে কী চান?

আলবার্টার এই স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের সামনে রয়েছেন মূলত দুজন ব্যক্তি—বনিভিল শহরের একটি অস্ত্রের দোকানের মালিক মিচ সিলভেস্টার এবং ক্যালগেরির একজন আইনজীবী জেফরি রাথ। আন্দোলনের পথ ধরে আরও অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

তারা দুজনেই ‘আলবার্টা প্রোসপারিটি প্রজেক্ট’ বা ‘আলবার্টা সমৃদ্ধি প্রকল্প’ নামের একটি গ্রুপের সাথে যুক্ত। তাদের বিশ্বাস, লিবারেল পার্টির (কানাডার সরকার) দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আলবার্টার অর্থনীতি খুব বেশি সামনে এগোতে পারেনি।

তাদের রাগের মূল কারণ হলো পরিবেশ সংক্রান্ত সরকারি নানা কড়াকড়ি নীতি বা নিয়মকানুন। তাদের মতে, এসব নিয়মের কারণে তেলসমৃদ্ধ আলবার্তায়, যেখানে মানুষ একটু বেশি রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ ভাবাপন্ন, সেখানে পাইপলাইন বানানো এবং নিজেদের তেলের বড়সড় সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


banner close