যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই জয় অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলার আসামি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পেয়েছেন তিনি। চার বছর আগে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও এবার ট্রাম্পের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে সারাবিশ্ব। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ন্যাটো
নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পকে একাধিকবার বলতে শোনা গেছে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ‘একদিনে বন্ধ’ করে দিতে পারেন। তবে সেটা কীভাবে করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। গত মে মাসে ট্রাম্পের দুই প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের লেখা এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত। তবে কিয়েভের রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রবেশের বিষয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করা উচিত।
রাশিয়াকে ‘প্রলুব্ধ’ করতে, পশ্চিমারা ন্যাটোতে ইউক্রেনের বহু কাঙ্ক্ষিত অন্তর্ভূক্তিকে বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টারা বলেছিলেন, ইউক্রেন যে রাশিয়ার দখল থেকে তাদের সব অঞ্চল ফিরে পেতে পারে, সেই আশা ত্যাগ করা উচিত নয়। তবে এই আলোচনা হওয়া উচিত বর্তমানের ‘ফ্রন্ট লাইনের’ ভিত্তিতে। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কৌশলগত ইস্যুতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি দেশ ন্যাটোর অংশ। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সুযোগ ইউরোপ নিচ্ছে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তবে ন্যাটো থেকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন কি না সেটা একটা বিতর্কের বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্য
ইউক্রেনের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অর্থ হলো তিনি গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ইতি টানবেন। কিন্তু তা তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, জো বাইডেনের পরিবর্তে যদি তিনি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করতো না। অনুমান করা যায়, ক্ষমতায় এসে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প সেই নীতিই মেনে চলার চেষ্টা করবেন যার ভিত্তিতে তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিল। সে সময় ইরানের ওপর বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বয়কট করেছিল। কারণ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় জীবনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেমের প্রতি তাদের (ফিলিস্তিনিদের) দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।
ফিলিস্তিন আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ে যখন ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মধ্যস্থতা করেছিলেন যাকে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসাবে দেখা হয়। এই মধ্যস্থতার সময় শর্ত হিসাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে হয়নি। এর পরিবর্তে, এই চুক্তিতে সামিল দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে আরও কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঝে মাঝে ‘অকার্যকর’ অবস্থারও সম্মুখীন হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।
চীন ও বাণিজ্য
চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সে দেশের বৈদেশিক নীতির কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষমতায় থাকাকালীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সে দেশের ‘কৌশলগত প্রতিযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ক্ষেত্রে চীনা আমদানির ওপর শুল্কও আরোপ করেছিলেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেইজিংও শুল্ক আরোপ করে। এই ‘দ্বন্দ্বের’ অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ততদিনে কোভিড মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয় যখন ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করে, তারা চীন নীতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চীনা আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রশাসনের শুল্ককেই বজায় রেখেছে তারা।
বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, উৎপাদন এবং সেই সংক্রান্ত কাজে মার্কিনদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইস্পাতের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্কিন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ কমে আসার একটা বড় কারণ কারখানার অটোমেশন এবং উত্পাদনগত পরিবর্তন। এর পেছনে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অফ-শোরিংর মতো কারণ তুলনামূলক ভাবে কমই দায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে একই সঙ্গে বিপজ্জনক এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর নেতা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।
যে ৭টি কাজকে প্রাধান্য দিতে চান ট্রাম্প
অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অভিবাসী বের করে দেওয়ার বিষয়টি আইনগত এবং যৌক্তিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।
অর্থনীতি, ট্যাক্স ও শুল্ক: নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যে দুটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার একটি অর্থনীতি। তবে ট্রাম্প আগেই মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।
জলবায়ু নীতিমালা সংস্কার: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শতাধিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রত্যাহার এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত, মার্কিন গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ: ইউক্রেনে টানা আড়াই বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ ইস্যু: প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে সমর্থকদের আপত্তি থাকার পরও কমলা হ্যারিসের বিপরীতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে জাতীয়ভাবে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করবেন না। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের ওপর সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। গর্ভপাতের অধিকার ছিল কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের দিন গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প নিজে বারবার বলেছেন, গর্ভপাত নিয়ে রাজ্যগুলোর নিজেদের আইন করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।
ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় জড়িতদের ক্ষমা: ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনের সময় সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক। ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫ জন প্রাণ হারান। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বরারবই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
জ্যাক স্মিথকে অব্যাহতি: সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা পরিচালনাকারী কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবং গোপনীয় তথ্যের ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ করেছেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে তাকে দায়মুক্তির বাইরে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্তে এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে তালেবান সরকারের দাবি, সংঘর্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষে অন্তত ৩১৪ জন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানে হামলা করে তালেবানের ৭৪টি নিরাপত্তা চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও ১৮টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পোস্টের বিরুদ্ধে পরিচালিত পাল্টা অভিযান শেষ হয়েছে। সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরাতের নির্দেশে স্থানীয় সময় রাত ১২টায় অভিযান সমাপ্ত করা হয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অভিযানে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আফগান বাহিনী কয়েকশ হালকা ও ভারী অস্ত্র জব্দ করেছে এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত আটক করেছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় পাকিস্তান বাহিনীর দুটি সদরদপ্তর ও ১৯টি চেকপোস্ট দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষে আটজন আফগান সেনা নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সীমান্তে চলছে গোলাগুলি
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ে গুলি ও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। সংবাদমাধ্যম এএফপি এমন তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তানের তোরখাম শহর এবং আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশ সংযোগকারী তোরখাম ক্রসিং দুই দেশের মধ্যে বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত বেশিরভাগই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তোরখাম ক্রসিংসহ কয়েকটি এই তালিকায় নেই।
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার জন্য অনেক আফগান নাগরিক এই ক্রসিং ব্যবহার করেন। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহে তাদের অনেকেই ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছেন। জীবনযাত্রার অবনতির কথাও বলেছেন।
একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ক্রসিংয়ের কাছে থাকা শিবিরে বৃহস্পতিবার রাতে চালানো হামলায় বেশ কয়েকজন শরণার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে ফিরেছেন এমন এক ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি রক্ত দেখেছেন। আহত শিশু ও নারীদেরও দেখেছেন। অন্য এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে সবাই পালিয়েছেন।
আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)- এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারশন গজব-লিল হক’ অভিযানে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন।
এনিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬ টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছে ওসিন্ট ইউরোপ। সেখানে বলা হয়েছে, কাবুলে সদরদপ্তর লক্ষ্য করে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাসহ কয়েকজন সিনিয়র তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
তবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এনিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পাকিস্তানের হামলায় নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি আফগানিস্তানের। উল্টো আফগানিস্তান দাবি করেছে, তাদের হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করে তালেবান বাহিনী। এই বাহিনীর শীর্ষনেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তালেবান সরকার তার নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলে।
পাকিস্তানের তিন শহরে আফগানদের হামলা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিনটি শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার বলেন, আফগানিস্তান থেকে অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নোসেরাতে ড্রোন প্রবেশ করেছিল। এসময় ড্রোন বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সবগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে আফগান তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়।
আফগান পক্ষের ভাষ্যমতে, ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ, নোসেরার একটি সেনা ক্যাম্প, জামরুদের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি মিলিটারি কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরপর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয় যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকে।
‘ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে, তারপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি’
কাবুলের ৬ নম্বর জেলার দাশতি বারচি এলাকার একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের হামলার সময় একটি বিস্ফোরণে তার বাড়ি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটা ভূমিকম্প, কারণ কয়েক দিন আগে কাবুলে ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপরই আমরা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো ওই বাসিন্দা বলেন, দাশতি বারচির মানুষ বিস্ফোরণের পরপরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে এবং পুরো রাত জেগে থাকে। এরপর আর কেউ ঘুমায়নি। সবাই ভয় পাচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের অল্প কিছুক্ষণ পর কাবুলের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। যখন আমরা মাথার ওপর জেট উড়তে দেখলাম, বুঝতে পারলাম এগুলো পাকিস্তানের সামরিক বিমান।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তজুড়ে চলমান সংঘর্ষের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে দুই পক্ষকে সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এ কথা জানান।
মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, আফগানিস্তানের দে ফ্যাক্টো নিরাপত্তা বাহিনী এবং পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে সংঘর্ষের যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা মহাসচিব উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি আরও জানান, মহাসচিব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে দুজারিক বলেন, গুতেরেস উভয় পক্ষকে কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক অঘোষিত ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মেয়র মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি বিশাল পরিকল্পনা পেশ করেন। তিনি কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে ১২ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এই প্রকল্পের জন্য ফেডারেল সরকার থেকে ২১ বিলিয়ন ডলার অনুদান চেয়েছেন।
মামদানির মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে গত ৫০ বছরের মধ্যে এটিই হবে নিউইয়র্ক সিটির বৃহত্তম আবাসন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ।
বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ইউনিয়ন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। মেয়র মামদানি ট্রাম্পের সামনে একটি প্রতীকি সংবাদপত্রের পাতা প্রদর্শন করেন, যেখানে ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’ শিরোনাম দেওয়া ছিল। এটি ১৯৭৫ সালের বিখ্যাত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের একটি ইতিবাচক পাল্টা রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মেয়রের এই উদ্ভাবনী উপস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ উৎসাহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন, তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আবাসন প্রকল্প ছাড়াও এই বৈঠকে মানবাধিকার ও অভিবাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু উঠে আসে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আটকের বিষয়ে মেয়রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে দ্রুত মুক্তির আশ্বাস দেন। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আবাসন খাতের এই বিশাল ফেডারেল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হবে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বৈঠক শেষে মামদানি এক্সে লিখেছেন, আজ বিকেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে আরও আবাসন নির্মাণে আমি আশাবাদী। দুই পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রকল্প ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।
বৈঠকের পর মামদানি জানান, ট্রাম্প সেদিন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক এক শিক্ষার্থীর মুক্তির বিষয়েও সম্মতি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে, সঙ্গে সামরিক উপস্থিতিও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরির নাম ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন এই রণতরি ইসরায়েলের উপকূলে পৌঁছেছে।
এর পাশাপাশি বিমান হামলা চালাতে বহুসংখ্যক যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান পাঠানোর প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েল এসব তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ডেটা পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচটি মার্কিন কেসি-৪৬এ রিফুয়েলিং বিমান নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবং আরেকটি ট্যাংকার নর্থ ক্যারোলাইনার সেমুর জনসন বিমানঘাঁটি থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েললে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন এফ-৩৫, এগ-১৫, এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার জন্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দাবি
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। তবে সম্ভাব্য চুক্তি যুদ্ধ এড়াতে পারবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।
বৃহস্পতিবার আলবুসাইদি জানান, নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ শেষে দুই পক্ষ “শিগগিরই” আবার আলোচনায় বসবে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হবে।
ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও অন্য ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে। তিনি ‘ভালো অগ্রগতি’র কথা উল্লেখ করে জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফা বৈঠক হবে।
এই অগ্রগতির সম্ভাবনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়নের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। ট্রাম্প ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে, ইরান যেকোনো হামলার জবাবে পাল্টা শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ইরানই একমাত্র অ-পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ, যারা প্রায় অস্ত্রমানের কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, আলোচনায় তেহরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানির অধিকার দাবি করেছে এবং নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ ও প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে অপ্রকাশিত কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও নাকি রাখা হয়েছে। একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পর আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের অনুমতির কথা আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
চুক্তির বিনিময়ে আরাগচি ইরানি টেলিভিশনকে জানান, দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। বিরোধীরা বলছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে শাসকগোষ্ঠী নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে।
জেনেভায় দুই দফায়—সকালে তিন ঘণ্টা ও সন্ধ্যায় সংক্ষিপ্ত সেশন—পরোক্ষ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকপ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার ( আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিও আলোচনায় যোগ দেন।
গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তখন ট্রাম্প দাবি করেন, স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে। ইরান জানায়, হামলার পর সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্প ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা পারমাণবিক স্থাপনায় প্রাথমিক হামলার কথা বিবেচনা করছিলেন। আলোচনা ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেও বৃহত্তর অভিযান হতে পারে—এমন আভাসও দেয়া হয়েছে।
ইরানে হামলা করার জন্য প্রায় প্রস্তুত মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে নজিরবিহীন সমরাস্ত্র। এবার জানা গেল তারা আরেকটি নতুন অস্ত্র ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে আক্রমণে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে পেন্টাগনের প্রথম কামিকাজি বা আত্মঘাতী ড্রোন ইউনিট তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত।
এই ড্রোন ইউনিটটি ‘টাস্ক ফোর্স স্কর্পিয়ান’ নামে পরিচিত এবং এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি পরীক্ষামূলক ড্রোন ইউনিট থেকে বিকশিত হয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স একটি ইমেইল বিবৃতিতে জানান, এটি এখন অপারেশনের জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যোদ্ধাদের দ্রুত নতুন ড্রোন সক্ষমতায় সজ্জিত করতে আমরা গত বছর এই স্কোয়াড্রন গঠন করেছি, যা ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে।’
এই 'ওয়ান-ওয়ে' অ্যাটাক ড্রোন ইউনিটটি বর্তমানে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশের একটি অংশ। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে বসাতে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্প এ শক্তি বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, দুই পক্ষ ভালো অগ্রগতি করেছে এবং নতুন দফার আলোচনা ‘খুব শিগগির’, সম্ভবত ‘প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে’ হতে পারে।
কামিকাজি ইউনিটের একটি ড্রোন গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পারস্য উপসাগরে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। ড্রোনটি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবহরের অংশ ‘ইউএসএস সান্তা বারবারা’ যুদ্ধজাহাজের ডেক থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।
ডিফেন্স অ্যানালিস্ট আনা মিসকেলি বলেন, এই ইউনিটের মোতায়েন এমকিউ-৯ রিপারের মতো বহু মিলিয়ন ডলারের প্ল্যাটফর্মের ওপর মার্কিন সামরিক নির্ভরতা থেকে সরে আসার একটি ইঙ্গিত। উচ্চ-সংঘাতপূর্ণ এবং ঝাঁক বেঁধে হামলার লড়াইয়ে এই দামি ড্রোনগুলোর ব্যবহার বজায় রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
সেন্টকমের হিসাব অনুযায়ী, এই ‘লো-কস্ট আনম্যান্ড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’ ড্রোনের প্রতিটির খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। অ্যারিজোনা-ভিত্তিক কোম্পানি ‘স্পেকট্রেওয়ার্কস’ এই হালকা ওজনের লুকাশ ড্রোনগুলো তৈরি করেছে।
এগুলো আত্মঘাতী হামলা, নজরদারি এবং সামুদ্রিক হামলাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। সেন্টকমের একটি পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনগুলোর রেঞ্জ অনেক বেশি এবং এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
যদিও ড্রোন ইউনিটটি সামগ্রিক মোতায়েনের একটি ছোট অংশ মাত্র, তবে যে কোনো আসন্ন সামরিক অভিযানে এর অংশগ্রহণ হবে এই নতুন ইউনিটের জন্য প্রথম কোনো ঘটনা। এটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ড্রোন ব্যবহারের গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকেও কার্যকর করতে পারে।
একই সঙ্গে, এই ইউনিটের ড্রোনগুলো যে ইরানের ‘শহীদ-১৩৬’ ড্রোন থেকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করে বানানো হয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে রাশিয়া ও ইরান কর্তৃক ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে কামিকাজি ড্রোন ব্যবহারের পর যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে এখনো ব্যবধান ঘোচানোর চেষ্টা করছে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, ৪০ পাউন্ডের পেলোড নিয়ে এই লুকাশ ড্রোনগুলো ইরানের খুব সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, সড়ক নেটওয়ার্ক এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মতো লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর জন্য এই বাহিনী কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে হামলার প্রয়োজন হয়, যার জন্য সস্তা ড্রোনগুলো উপযুক্ত। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এখন আর আগের মতো নেই, তাই তারা হয়তো খুব বেশি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হবে না।’
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা কত?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শেষ করেছে ইরান। জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার একটি বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠে।
নিচে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো—
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কী?
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো রকেটচালিত অস্ত্র, যা উৎক্ষেপণের প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত থাকে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ পথই মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে নির্দিষ্ট গতিপথে অগ্রসর হয়। এগুলো প্রচলিত বিস্ফোরক বা সম্ভাব্যভাবে জৈব, রাসায়নিক কিংবা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং বিভিন্ন দূরত্বে আঘাত হানতে পারে।
পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি প্রচলিত সামরিক হুমকি এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র বহনের মাধ্যম হিসেবে দেখে। যদিও তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক বোমা তৈরির ইচ্ছাকে অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন ও পাল্লা
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সবচেয়ে বড়। ইরান স্বঘোষিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার (১,২৪০ মাইল) পর্যন্ত সীমিত রেখেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই পাল্লা দেশের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট, কারণ এর মাধ্যমে ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব।
ইরানের বহু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তেহরান এবং এর আশপাশে অবস্থিত। কেরমানশাহ, সেমনান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কাছে অন্তত পাঁচটি ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ রয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) জানায়, ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সেজিল – ২,০০০ কিমি
এমাদ – ১,৭০০ কিমি
গদর – ২,০০০ কিমি
শাহাব-৩ – ১,৩০০ কিমি
খোররামশাহর – ২,০০০ কিমি
হোভেইজেহ – ১,৩৫০ কিমি
২০২৫ সালের এপ্রিলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ একটি গ্রাফিক প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, ইসরাইলে পৌঁছাতে সক্ষম এমন নয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের রয়েছে। এর মধ্যে সেজিলের গতি ঘণ্টায় ১৭,০০০ কিলোমিটারের বেশি এবং পাল্লা ২,৫০০ কিমি; খেইবারের পাল্লা ২,০০০ কিমি; এবং হাজ কাসেমের পাল্লা ১,৪০০ কিমি।
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। খবর আলজাজিরার।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিজস্ব চ্যানেলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন সবসময় সংলাপ ও আলোচনার পক্ষে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পেছনে থাকা উত্তেজনার ইতিহাসও নতুন করে সামনে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তার আগে সীমান্তজুড়ে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, সীমান্তপারের হামলা বাড়ানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইএসআইএল–ঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ১৩৩ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে। অন্যদিকে তালেবান সরকার বলছে, তাদের আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে, তবে পাল্টা হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৯টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, তাদের দুই নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়, যা প্রায় চার ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পর মধ্যরাতে অভিযান বন্ধ করা হয়।
পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ও নিরাপত্তা চৌকিতে আক্রমণের জেরে তারা আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে। কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান বলছে, এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং তারা পাল্টা জবাব দিয়েছে।
সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম ক্রসিংয়ের কাছেও গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এদিকে সামরিক শক্তির দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাসদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, রয়েছে শত শত যুদ্ধবিমান, হাজারো সাঁজোয়া যান এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। বিপরীতে আফগানিস্তানের বিমান শক্তি সীমিত এবং অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম পুরোনো।
সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়াও দ্রুত সীমান্ত হামলা বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর তাগিদ দিয়েছে।
দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি বা লিকার পলিসি মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির একটি আদালত সিবিআইয়ের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দিয়েছে।
কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া ছাড়াও তেলেঙ্গানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা কে. কবিতাসহ আরও ২১ জনকে এই মামলায় ক্লিন চিট দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রায়াল কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তাদের দাবি, তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এই রায়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানি চলাকালীন বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই এবং মনীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধেও প্রাথমিক কোনো মামলা গঠন করার মতো উপাদান পাওয়া যায়নি।
বিচারক জানান, সিবিআইয়ের দাখিল করা বিশাল চার্জশিটে অনেক অসংগতি ও ত্রুটি রয়েছে, যা কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। আদালতের মতে, এই অভিযোগগুলো আইনের শাসনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কেজরিওয়ালকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এছাড়া মনীশ সিসোদিয়ার কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার হয়নি বা তার সম্পৃক্ততার কোনো দালিলিক প্রমাণও নথিতে নেই।
আদালতের এই রায়ের পর রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বাইরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, আদালত আজ প্রমাণ করে দিয়েছে তিনি এবং মনীশ সিসোদিয়া দুজনেই সৎ এবং আম আদমি পার্টি একটি ‘কট্টর ইমানদার’ দল।
কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, যা আজ ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে কে. কবিতাও এই জয়কে সত্যের জয় হিসেবে বর্ণনা করে টুইট করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই অব্যাহতি আপ নেতাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানে বিপুল সংখ্যক তালেবান যোদ্ধা নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের ঘটনাটি ঘটে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের হামলায় ২২৮ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন।
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে সামরিক মুখপাত্র জানান, আফগানিস্তানে চালানো এই হামলায় তালেবান যোদ্ধাদের ৭৪টি চৌকি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১৮টি চৌকি বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও ২৭ জন ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান নিয়ে আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পাকিস্তানের হামলায় ৮ জন আফগান যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় চলমান এই উত্তেজনার ফলে পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ থমথমে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আফগানিস্তানকে বিশ্বের সকল সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিহিত করে দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যেই এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন যে, তালেবান সরকার বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপকে মদত দিয়ে পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। গত রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই অভিযানে অন্তত ৮০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করলেও কাবুল এই সংখ্যা ১৮ বলে জানিয়েছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনীও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার মাত্র দুই জন সেনা নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে খাজা আসিফ বলেন, "তালেবান সরকার পৃথিবীর যাবতীয় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন দেয়। ভারতের বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানে নাশকতা তৈরি করছে তারা। আফগানিস্তান প্রতিবেশী হওয়ায় দেশটিকে খুব ভালোমতো চেনে ইসলামাবাদ। এটি এখন পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে খোলা যুদ্ধ।" এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ইউরোপভিত্তিক একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে এই খবরটি সামনে এসেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক তথ্যে জানা যায়, কাবুলে পরিচালিত পাকিস্তানের বিশেষ সামরিক অভিযানে আখুন্দজাদাসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবানের পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকে আখুন্দজাদা দল ও প্রশাসনের প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে পুরো শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় টিটিপি দমনের লক্ষ্যে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালায়।
ওই অভিযানে আশি জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জেরে তালেবান প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সেনাচৌকি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় আফগান বাহিনী। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক কঠোর বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, "পাকিস্তানের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং এখন থেকে কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।" তালেবান প্রধানের মৃত্যুর এই সংবাদ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নয়ন’ এবং ‘উত্তেজনা কমানোর উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্ত্রণালয়ের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। ইসহাক দার বর্তমানে সরকারি সফরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে। তার ভাষ্য, অভিযানে তালেবানের ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও অস্ত্রবাহী সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, গত বুধবার ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
সূত্রঃ বিবিসি।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে বাড়তে থাকা সংঘর্ষ ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি দুই দেশকে উত্তেজনা প্রশমিত করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আন্তোনিও গুতেরেস সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন।
গুতেরেসের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কয়েক দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালিয়ে সেনা হত্যা ও কয়েকজনকে অপহরণের ঘটনার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদ ডিপোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে পারস্পরিক বিরোধ সংলাপ ও সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মাধ্যমে মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বার্তা দেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
রমজান মাসের সংযম ও ইসলামের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দুই দেশকে উত্তেজনা না বাড়ানোর পরামর্শ দেন। একই পোস্টে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় ইরান পূর্ণ সমর্থন দেবে।
আরাগচি বলেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ এগিয়ে নিতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করতে এবং সহযোগিতা বাড়াতে তেহরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগানিস্তান। আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, এতে কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৩৩ আফগান সেনা নিহত এবং প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আফগান সেনাবাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংসের কথাও বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি।
তিনি লেখেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছেন পিএএফ। অভিযানের আওতায় রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।