রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

ট্রাম্পের ঐতিহাসিক জয়ে কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫
খসরু নোমান
প্রকাশিত
খসরু নোমান
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই জয় অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলার আসামি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার জয় পেয়েছেন তিনি। চার বছর আগে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেও এবার ট্রাম্পের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে সারাবিশ্ব। হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ন্যাটো

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্পকে একাধিকবার বলতে শোনা গেছে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ ‘একদিনে বন্ধ’ করে দিতে পারেন। তবে সেটা কীভাবে করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। গত মে মাসে ট্রাম্পের দুই প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের লেখা এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা উচিত। তবে কিয়েভের রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রবেশের বিষয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করা উচিত।

রাশিয়াকে ‘প্রলুব্ধ’ করতে, পশ্চিমারা ন্যাটোতে ইউক্রেনের বহু কাঙ্ক্ষিত অন্তর্ভূক্তিকে বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টারা বলেছিলেন, ইউক্রেন যে রাশিয়ার দখল থেকে তাদের সব অঞ্চল ফিরে পেতে পারে, সেই আশা ত্যাগ করা উচিত নয়। তবে এই আলোচনা হওয়া উচিত বর্তমানের ‘ফ্রন্ট লাইনের’ ভিত্তিতে। যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভবিষ্যত সম্পর্কিত কৌশলগত ইস্যুতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ৩০টিরও বেশি দেশ ন্যাটোর অংশ। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। অন্যদিকে আমেরিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সুযোগ ইউরোপ নিচ্ছে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তবে ন্যাটো থেকে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন কি না সেটা একটা বিতর্কের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্য

ইউক্রেনের মতোই মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অর্থ হলো তিনি গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের ইতি টানবেন। কিন্তু তা তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, জো বাইডেনের পরিবর্তে যদি তিনি ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ইরানের ওপর তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির কারণে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করতো না। অনুমান করা যায়, ক্ষমতায় এসে তার দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প সেই নীতিই মেনে চলার চেষ্টা করবেন যার ভিত্তিতে তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিল। সে সময় ইরানের ওপর বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বয়কট করেছিল। কারণ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় জীবনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেমের প্রতি তাদের (ফিলিস্তিনিদের) দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি ওয়াশিংটন।

ফিলিস্তিন আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ে যখন ট্রাম্প তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মধ্যস্থতা করেছিলেন যাকে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হিসাবে দেখা হয়। এই মধ্যস্থতার সময় শর্ত হিসাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে হয়নি। এর পরিবর্তে, এই চুক্তিতে সামিল দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। এতে ধীরে ধীরে আরও কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে, যা মাঝে মাঝে ‘অকার্যকর’ অবস্থারও সম্মুখীন হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা তার রয়েছে।

চীন ও বাণিজ্য

চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সে দেশের বৈদেশিক নীতির কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষমতায় থাকাকালীন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে সে দেশের ‘কৌশলগত প্রতিযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ক্ষেত্রে চীনা আমদানির ওপর শুল্কও আরোপ করেছিলেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে মার্কিন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেইজিংও শুল্ক আরোপ করে। এই ‘দ্বন্দ্বের’ অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ততদিনে কোভিড মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয় যখন ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেন। সে সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করে, তারা চীন নীতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চীনা আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাম্প-প্রশাসনের শুল্ককেই বজায় রেখেছে তারা।

বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, উৎপাদন এবং সেই সংক্রান্ত কাজে মার্কিনদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জুড়ে দিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইস্পাতের মতো ঐতিহ্যবাহী মার্কিন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ কমে আসার একটা বড় কারণ কারখানার অটোমেশন এবং উত্পাদনগত পরিবর্তন। এর পেছনে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অফ-শোরিংর মতো কারণ তুলনামূলক ভাবে কমই দায়ী। ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে একই সঙ্গে বিপজ্জনক এবং একজন অত্যন্ত কার্যকর নেতা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।

যে ৭টি কাজকে প্রাধান্য দিতে চান ট্রাম্প

অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন: ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অভিবাসী বের করে দেওয়ার বিষয়টি আইনগত এবং যৌক্তিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে।

অর্থনীতি, ট্যাক্স ও শুল্ক: নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যে দুটি ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার একটি অর্থনীতি। তবে ট্রাম্প আগেই মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।

জলবায়ু নীতিমালা সংস্কার: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শতাধিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন প্রত্যাহার এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তিনি পরিবেশ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত, মার্কিন গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার লক্ষ্যে তিনি এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ: ইউক্রেনে টানা আড়াই বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

গর্ভপাত নিষিদ্ধকরণ ইস্যু: প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে সমর্থকদের আপত্তি থাকার পরও কমলা হ্যারিসের বিপরীতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে জাতীয়ভাবে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করবেন না। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের ওপর সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে। গর্ভপাতের অধিকার ছিল কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের দিন গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ বা সম্প্রসারণের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প নিজে বারবার বলেছেন, গর্ভপাত নিয়ে রাজ্যগুলোর নিজেদের আইন করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।

ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় জড়িতদের ক্ষমা: ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনের সময় সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক। ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫ জন প্রাণ হারান। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বরারবই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

জ্যাক স্মিথকে অব্যাহতি: সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতা গ্রহণের ‘দুই সেকেন্ডের মধ্যে’ তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা পরিচালনাকারী কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবং গোপনীয় তথ্যের ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুটি পৃথক অভিযোগ করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কিছু মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ট্রাম্পের আইনজীবী দল এবং মামলা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে তাকে দায়মুক্তির বাইরে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের কৌশল: হলদিয়ায় শক্তিশালী নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

আপডেটেড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:১৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। ভারতীয় নৌবাহিনীর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টু-ডেকে জানিয়েছেন যে, মূলত বাংলাদেশ এবং চীনকে সার্বক্ষণিক নজরের আওতায় রাখাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। এই নতুন নৌঘাঁটিটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হবে। হলদিয়াকে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান, যা হুগলি নদী হয়ে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বেশ কিছু ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা অনুযায়ী, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাদের ঘন ঘন পাকিস্তান সফর এবং চীনের সাথে সামরিক সহযোগিতা চুক্তির বিষয়গুলো ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেই হলদিয়ায় এমন একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে দিল্লি।

অবকাঠামোগত খরচ কমাতে এই নৌঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কমবে এবং দ্রুততর সময়ের মধ্যে ঘাঁটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন ঘাঁটিতে অত্যন্ত দ্রুতগামী বেশ কিছু আধুনিক সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস’ (এফআইসি) এবং ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস’ (এনডব্লিউজেএফএসি)। এসব জলযানগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা দ্রুত সাড়াদানে সক্ষম।

প্রস্তাবিত এই ঘাঁটিটি কেবল জলযান দিয়ে নয়, বরং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রেও সজ্জিত থাকবে। এই রণতরীগুলোকে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘নাগাস্ত্র’ নামক সুইসাইডাল ড্রোন সিস্টেমে সজ্জিত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা ও নাবিক সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন থাকবেন। মূলত বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলসীমায় চীনের প্রভাব খর্ব করা এবং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে এটি ভারতের একটি সতর্কতামূলক সামরিক উদ্যোগ। এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফার সাধারণ নির্বাচন আজ: সেনাসমর্থিত দলের জয়ের পথ পরিষ্কার

আপডেটেড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তীব্র গৃহযুদ্ধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই সেনাশাসিত মিয়ানমারে আজ রবিবার সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটারদের আশানুরূপ উপস্থিতি না থাকা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মুখেও জান্তা সরকার এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনটি একটি একপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। প্রথম ধাপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতেই জয়লাভ করেছে। তবে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা দেশটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৫ ও ২০২০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি এই নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, জান্তা সরকার আইনি মারপ্যাঁচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের আগেভাগেই সরিয়ে দেওয়ায় ইউএসডিপি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভের পথে রয়েছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) প্রধান বিরোধী দলগুলোকে এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘসহ বিশ্বের অনেক মানবাধিকার সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু কিংবা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে প্রথম দফার নির্বাচনকে সফল বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, জনগণের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তারা বর্তমান প্রশাসনের অধীনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে আগ্রহী।

নির্বাচনের পরবর্তী এবং চূড়ান্ত ধাপটি আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে পর্যায়ক্রমে ভোট নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে অনেক এলাকায় সেনাশাসকদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। সেনাশাসকরা দাবি করছে যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সরকারকে আন্তর্জাতিক মহল কখনোই বৈধতা দেবে না। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এই দীর্ঘকালীন গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখেও জান্তা সরকারের নির্বাচনি কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


ইরানে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় এই লাইন কোনোভাবেই পেরোনো যাবে না।

রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলা বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই সময়ে এসেছে এই হুঁশিয়ারি। তবে রেড লাইন বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছে আইআরজিসি, তা জানানো হয়নি।

একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জনসম্পদ ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।

আইআরজিসি জানায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষা ও দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি লাল রেখা। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনো ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে। পশ্চিম ইরানে টেলিফোনে যোগাযোগ করা এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তার এলাকার আশপাশে আইআরজিসি মোতায়েন রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

এই পরিস্থিতির মধ্যে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।’

ইরান সরকার এই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভে ডজনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আছেন।


বাংলাদেশ কেন পাকিস্তানের জেএফ–১৭ কিনতে আগ্রহী?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নতুন বছরের শুরুতেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের বৈঠকের পর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের কাছে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি হতে পারে।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ‘পুরোনো’ বিমানবহর আধুনিকীকরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার একীভূতকরণে সহায়তা চান। একই সঙ্গে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ প্লেন দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেয় পাকিস্তান।

আগ্রহী সৌদি আরব-লিবিয়াও

বাংলাদেশের পাশাপাশি সৌদি আরব ও লিবিয়ায়ও জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান রপ্তানির চেষ্টা করছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও সৌদি আরব প্রায় দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ–১৭ চুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করছে। এর মাধ্যমে দুদেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খবর আসে, লিবিয়ার স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় চার বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের একটি চুক্তিতে পৌছেছে পাকিস্তান। চুক্তিতে এক ডজনের বেশি জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির কথা রয়েছে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখনো এসব চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

জেএফ–১৭ কী ধরনের যুদ্ধবিমান?

জেএফ–১৭ থান্ডার পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি হালকা, সব আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী বহুমুখী যুদ্ধবিমান। পাকিস্তানের কামরায় অবস্থিত পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সে এর পূর্ণাঙ্গ সংযোজন করা হয়, যদিও এর বড় অংশ তৈরি হয় চীনে। সবচেয়ে আধুনিক ব্লক–থ্রি সংস্করণটি ‘চার দশমিক পাঁচ প্রজন্মের’ যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়, যাতে উন্নত অ্যাভিওনিক্স, এএসইএ রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে।

কেন বাড়ছে জেএফ–১৭র কদর?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধ জেএফ–১৭ ও পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ভারত প্রথমে তা অস্বীকার করলেও পরে কিছু ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম দামে উন্নত প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান এখন অনেক দেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রতিটি জেএফ–১৭’র আনুমানিক দাম ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন (আড়াই কোটি থেকে তিন কোটি) ডলারের মধ্যে, যেখানে ফ্রান্সের রাফায়েল বা সুইডেনের গ্রিপেনের মতো যুদ্ধবিমানের দাম ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

ইসলামাবাদভিত্তিক এক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের ভাষায়, কম খরচ, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সংযোজনের নমনীয়তার কারণে জেএফ–১৭ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ‘সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর’ সমাধান।

কোন কোন দেশ কিনেছে জেএফ–১৭?

মিয়ানমার, নাইজেরিয়া এবং আজারবাইজান এরই মধ্যে জেএফ–১৭ তাদের বিমানবহরে যুক্ত করেছে। আজারবাইজান ২০২৪ সালে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে ১৬টি জেট কেনার চুক্তি করে। আরও কয়েকটি দেশ, যেমন- ইরাক, শ্রীলঙ্কা ও সৌদি আরব আগ্রহ দেখালেও এখনো চুক্তি করেনি।

বাংলাদেশের আগ্রহের কারণ কী?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে ঢাকায় সরকার পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। জেএফ–১৭ বা সুপার মুশশাকের মতো প্লেন কেনা মানে কেবল অস্ত্র কেনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক অংশীদারত্বের সূচনা হওয়া।

এক সাবেক পাকিস্তানি বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধবিমান কেনা মানে তিন থেকে চার দশকের অঙ্গীকার। তার কথায়, বাংলাদেশ যদি জেএফ-১৭ বা সুপার মুশশাক প্রশিক্ষক বিমান নেয়, এর মানে তারা প্রশিক্ষণ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। তারা চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমানের প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছে, যার অর্থ কৌশলগতভাবে তারা ভবিষ্যতে কাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় তা নির্ধারণ করেছে।


আরব সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

আরব সাগরে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তর আরব সাগরে একটি বিশাল মহড়া পরিচালনা করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী, যেখানে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মাঝারি পাল্লার একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে তারা। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ‘উত্তর আরব সাগরে একটি বিস্তৃত মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে, যা নৌযুদ্ধের ক্রমবর্ধমান গতিবিধি অনুসারে প্রচলিত এবং মানবহীন উভয় ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন করে।’

এতে বলা হয়েছে, এই মহড়ায় একটি বর্ধিত পরিসরে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থেকে এলওয়াই-৮০ (এন) নামে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল লাইভ ফায়ারিং অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দূরপাল্লার ক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করেছে এবং তা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে, যা পাকিস্তান নৌবাহিনীর নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

রাশিয়ান বুক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে চীনের সাংহাই একাডেমি অব স্পেসফ্লাইট টেকনোলজির তৈরি মাঝারি পাল্লার এলওয়াই-৮০ (এন) ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধজাহাজ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য। এটি ৪ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, তবে কিছু ভেরিয়েন্টের রেঞ্জ ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি। এতে সেমি-অ্যাক্টিভ রাডার হোমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৫ মিটার থেকে ১৮,০০০ মিটার উচ্চতার যেকোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করে। যা মূলত যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান ( ইউএভি) আটকানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ ছাড়া সামুদ্রিক ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই পরীক্ষাগুলো নৌবাহিনীর উচ্চ-গতির কর্মক্ষমতা এবং মিশন-সমালোচনামূলক স্থায়িত্বকে একত্র করার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। প্রদর্শিত মূল ক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে সুশৃঙ্খল গতিবিধি, নির্ভুল নেভিগেশন এবং আবহাওয়ার স্থিতিস্থাপকতা।

আইএসপিআর বলেছে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নৌবাহিনীর অফিসারদের ‘পেশাদারত্ব এবং পরিচালনাগত দক্ষতার’ প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘সকল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সমুদ্র প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর দৃঢ় সংকল্প।’


ওয়াইসির বক্তব্যে বিতর্ক

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভবিষ্যতে কোনো একদিন হিজাব পরা এক মেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি।

ওয়াইসি মনে করেন, মুসলিমদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলটি মুসলিম নারীদের হিজাব পরতে বাধা দিচ্ছে বলেও হায়দ্রাবাদের সাংসদের অভিযোগ। এরপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ওয়াইসি এসব কথা বলেন।

মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ভোটপ্রচারে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ‘এটা পাকিস্তান নয়, এখানে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। তার আশা, বিজেপির এই ঘৃণার রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না।’

ওয়াইসি অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপির বর্তমান সরকার মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরতে দেয় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর প্রচার করেন। তিন তালাক নিষিদ্ধ করেন। অথচ মুসলিম মহিলাদের সম্ভ্রম রক্ষার বিরোধী।

ওয়াইসি বলেন, ‘যে হিজাবকে বিজেপি ঘৃণা করে সেই হিজাব পরা মহিলাই একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধান সেটার অনুমোদন দেয়। এ দেশে বাবাসাহেবের (ভীমরাও রামজি আম্বেদকর) সংবিধান একজন হিজাব পরা মহিলাকে মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি দেয়। আমার আশা একদিন হিজাব পরা মহিলাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভবিষ্যতে সেই দিন আসবে।’

তবে ওয়াইসির এই কথাগুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে বিজেপি। যদিও দলটির একাংশের দাবি এটি স্রেফ ভোট টানার জন্য বলছেন ওয়াইসি। তবে এটিকে ‘গাজাওয়াতুল হিন্দ’-এর অঙ্কুর রূপ হিসেবে দেখছে বিজেপি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের উচিত বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না থাকা। তিনি জানান, লক্ষ্য হলো আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই সহায়তা কমিয়ে আনা।

সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে, এই সহায়তা কি একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে- এর উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, হ্যাঁ।

নেতানিয়াহু জানান, সাম্প্রতিক এক সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে, তার জন্য ইসরায়েল গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তবে তিনি যোগ করেন, এখন ইসরায়েল নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং সামরিক দিক থেকে অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

গত ডিসেম্বর নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এর লক্ষ্য হলো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমানো।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি ১০ বছরের সামরিক সহায়তা চুক্তি সই করে, যা ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য এবং ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির জন্য বড় বড় আন্তর্জাতিক চুক্তিও সই হয়েছে।


বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহত ৬২

ইরানে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। দেশটির চিকিৎসকরা বলছেন, বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার পর হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করলেও বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় দুটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

এক চিকিৎসক বলেন, ‘তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতাল সংকটের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিবিসি অন্য একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন যে, রোগীদের ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই।’

গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ‘বড় সমস্যায়’ পড়েছে’ এবং সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের গুলি চালানো উচিত নয়; কারণ আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে ইরান এই বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুরের’ রূপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।’

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ ইরানে বড় বড় শহরগুলো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

দুটি মানবাধিকার গোষ্ঠীর কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিবিসি এবং অন্যান্য বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে ইরানের অভ্যন্তরে খবর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেটসেবা বন্ধ। ফলে তথ্য পাওয়া এবং যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার রাতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা ইরানের এক চিকিৎসক বলেন, ‘তেহরানের প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল সংকটের মুখে পড়েছে, জরুরি পরিষেবাগুলোও বিপর্যস্ত।’

জরুরি নয় এমন ভর্তি এবং অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ডাকা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিবিসি একটি ভিডিও এবং অডিও বার্তাও পেয়েছে। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত অনেক রোগীকে আনা হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই। তিনি দাবি করেন, ‘আহতদের অনেকের মাথা এবং চোখে গুলি লেগেছে।’

২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৪৭ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংগঠন জানিয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই হাজার ৩১১ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নয় শিশুসহ কমপক্ষে ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ান নিহতদের ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘এসব প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ খুবই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সেই অধিকার রক্ষা করার এবং সেই অধিকারকে সম্মান করার দায়িত্ব রয়েছে।’

ইরানে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে ‘ভেনিজুয়েলা-ধাঁচের’ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকা ছিল, যা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিজেই স্বীকার করেছে।

বৈরুতে সফরকালে লেবানিজ টিভি আলমানারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি ভেনিজুয়েলা-ধাঁচের ষড়যন্ত্র’ ব্যর্থ হয়েছে।’

তার দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষ ভেবেছিল, তিন দিনের মধ্যেই তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানকে লক্ষ্য করে যে ‘ভেনিজুয়েলা-ধাঁচের’ ষড়যন্ত্র ছিল, তা ‘সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ’ ও ভেস্তে গেছে। এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও দৃঢ় অবস্থায় রয়েছে।’

এ সময় তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু লেবানন ও ইরানের মতো দেশগুলো শক্ত প্রতিরোধ দেখিয়েছে।’

আরাগচি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাজনিত নানা সমস্যার পরও ইরানের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেহরান পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি মর্যাদাপূর্ণ চুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও সদিচ্ছা নিয়ে ইরান এখনো নিশ্চিত নয়।’

ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে আহ্বান জানালেন রেজা পাহলভি

ইরানের প্রয়াত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই আবেদন জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটন এলাকায় বসবাসকারী রেজা পাহলভি লেখেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার দৃষ্টি, সমর্থন ও পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। অনুগ্রহ করে ইরানের জনগণকে সহায়তা করতে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’ তিনি কী ধরনের হস্তক্ষেপ চান, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

পাহলভি লেখেন, ‘আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এবং সংখ্যার জোরে নিরাপত্তা বাহিনীকে চাপে ফেলতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছি। গত রাতে তারা সেটাই করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অপরাধী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপনার হুমকি তাদের সন্ত্রাসীদেরও কিছুটা দমিয়ে রেখেছে। কিন্তু সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ আবার রাস্তায় নামবে। আমি আপনাকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করছি।’

গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।


অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের তাণ্ডব, ঘরবাড়ি হারিয়ে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে এক প্রলয়ংকরী দাবানল বিরাজ করছে, যা শতাধিক বাড়িঘর তছনছ করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যে অন্তত ১৩০টিরও বেশি স্থাপনা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে এবং প্রায় ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে এই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুতই তা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি বড় ধরণের আগুন এখনো সক্রিয় রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কয়েক হাজার দমকলকর্মী দিনরাত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ২০১৯-২০২০ সালের সেই কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে এটিই সবচেয়ে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ক্যানবেরা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে চরম ও বিপজ্জনক অগ্নিঝুঁকির মোকাবিলা করছে এবং ভিক্টোরিয়ার একটি বড় অংশকে ইতিমধ্যে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে সরকারের পূর্ণ সমর্থনের নিশ্চয়তা দেন। দাবানলের ঝুঁকিতে থাকা অসংখ্য জনপদ থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পর্যটকদের সুরক্ষায় রাজ্যের প্রধান পার্ক ও ক্যাম্পগ্রাউন্ডগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নিউ সাউথ ওয়েলস এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতেও উচ্চ তাপপ্রবাহ ও অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা বজায় রয়েছে। প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এখন এক থমথমে ও আতঙ্কিত পরিবেশ বিরাজ করছে।


‘বিপ্লবের বিজয় নিকটবর্তী’: ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়াতে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি পাহলভির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে এক বড় ধরণের রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। শনিবার এক বিশেষ বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের আগামী দুই রাত রাজপথে থেকে বড় বড় শহরগুলোর নগরকেন্দ্রগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে আন্দোলনের ধার আরও বৃদ্ধি করতে তিনি দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন খাতের কর্মীদের প্রতি দেশব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করার ডাক দিয়েছেন। পাহলভি মনে করেন, বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর্থিক জীবনরেখা যদি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায়, তবে সরকারের সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এই উত্তাল আন্দোলনের মধ্যেই তিনি নিজে ইরানে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় রেজা পাহলভি তাঁদের সাহস ও অদম্য দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন যে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে যে ঐক্য প্রদর্শন করেছে, তা বর্তমান সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নড়বড়ে রূপ বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি কেবল প্রতীকী প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বড় শহরগুলোর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো দখল করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এখন সময়ের প্রধান দাবি। এজন্য তিনি বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দিক থেকে নগরকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে এবং আলাদা মিছিলগুলোকে একীভূত করে একটি বিশাল জনস্রোত তৈরি করার নির্দেশ দেন।

আন্দোলনকারীদের দীর্ঘ সময় রাজপথে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী আগেভাগেই প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাসিত এই নেতা। এছাড়া তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের সেই সকল সদস্যদের প্রতি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন যারা পরোক্ষভাবে বিরোধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি তাঁদেরকে অনুরোধ করেন যেন তাঁরা সরকারের ‘দমনযন্ত্র’কে ধীর করে দেন অথবা এর কার্যক্রম ব্যাহত করেন যাতে সেটি পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। পাহলভি বিশ্বাস করেন যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোনো স্বৈরাচারী শক্তিই বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না এবং বর্তমানে ইরান সেই সন্ধিক্ষণেই দাঁড়িয়ে আছে।

সবচাইতে আলোচিত বিষয় হলো, রেজা পাহলভি তাঁর এই বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি সশরীরে ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়াতে স্বদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বর্তমান আন্দোলনকে ‘জাতীয় বিপ্লবের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, খুব শীঘ্রই ইরান এক নতুন ভোরে পদার্পণ করবে এবং সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি জনগণের সাথে রাজপথে শামিল হতে চান। তাঁর এই ফেরার ঘোষণা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহলভির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইকে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন তেহরানের রাজপথের দিকে, যেখানে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের এক বুক আশা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।


ইউক্রেনে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনে শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নিক্ষেপ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।খবর রয়টার্স।

বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে গত রাতে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সামরিক ড্রোন নির্মাণ কারখানা এবং দেশটির মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং তা সফল হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ওরেশনিক নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের দুর্বৃত্ত সরকারের প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর রাশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরোদ প্রদেশে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনী ৯১টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে রুশ সেনাবাহিনী দাবি করে, মূল লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সব ড্রোন প্রতিহত করা হয়।

এদিকে লভিভের মেয়র আন্দ্রিয়ে সাদোভয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শহরের একটি ‘জটিল অবকাঠামো’ রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তিনি জানাননি।

রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ নামটি রুশ ভাষায় ‘হ্যাজেল গাছ’ বোঝায়। মাঝারি আকারের ঝোপালো এই গাছের গঠন ও বিস্ফোরণের ধরন ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক সর্বোচ্চ ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নয়, তবে এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গতি। শব্দের গতি যেখানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৩১ মিটার, সেখানে ওরেশনিকের গতি শব্দের চেয়ে ১১ গুণ বেশি বলে দাবি করছে রাশিয়া। তাদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম নয়।

এছাড়া ওরেশনিক সাধারণ বিস্ফোরকের পাশাপাশি পারমাণবিক বিস্ফোরক বহন করতেও সক্ষম। ফলে প্রয়োজনে এটিকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।


ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরানে বিক্ষোভের পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ প্রতিহত করতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সরকার। আর তাতেই বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি। স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির টেলিযোগাযোগও, বাতিল করা হয়েছে বহু ফ্লাইট। এর আগ পর্যন্ত ইরানের কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্বল্প পরিসরে আপডেট তথ্য দিতে পারছিল।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতেই ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে ইরানে ফোন করার চেষ্টা করেও সফল হননি রয়টার্সের সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুবাই ও ইরানের বিভিন্ন শহরের মধ্যে নির্ধারিত অন্তত ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে। খামেনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশিদের ‘ভাড়াটে দালাল’ হিসেবে কাজ করা কাউকেই তেহরান সহ্য করবে না।

গত মাসের শেষ দিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশটির সব প্রদেশেই অস্থিরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এরই মধ্যে বহু মানুষের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

দেশটির বিভিন্ন শহরে আগুন জ্বলতে থাকার দৃশ্যও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে দাবি করা হয়, বাস, গাড়ি ও মোটরবাইক পোড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন ও ব্যাংকেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব সহিংসতার পেছনে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ভেঙে যাওয়া বিরোধী সংগঠন পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন (এমকেও) জড়িত বলে অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি।

ক্যাস্পিয়ান সাগর উপকূলের বন্দর শহর রাশতের শরিয়াতি স্ট্রিটে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে এক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাংবাদিক বলেন, এটা দেখতে পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো লাগছে। সব দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের বাইরে থাকা বিরোধী গোষ্ঠীগুলো শুক্রবার আরও জোরালো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। প্রয়াত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্বের চোখ তোমাদের ওপর। রাস্তায় নেমে আসো।

গত সপ্তাহে তেহরানকে সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। অবশ্য শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাহলভিকে সমর্থন করা উপযুক্ত হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি সন্দিহান।

ইরান এর আগেও আরও বড় আকারের বিক্ষোভ দমন করেছে। তবে বর্তমানে দেশটি আরও গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত সেপ্টেম্বর থেকে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার এক ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র ইরানকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে নারী অধিকার ইস্যুতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল, এবারের আন্দোলন এখনো সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি। তবে সেটির পর থেকে এটিই কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ একদিকে অর্থনৈতিক ইস্যুতে হওয়া বিক্ষোভকে ‘যৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করছে, অন্যদিকে তথাকথিত সহিংস দাঙ্গাকারীদের নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জোগাতে গত রাতে তেহরানে একদল ভাঙচুরকারী ও দাঙ্গাকারী রাষ্ট্রের, অর্থাৎ জনগণের একটি ভবন ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, নিজের দেশ সামলান।

শুরুর দিকে বিক্ষোভ মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক ছিল। গত বছর রিয়ালের বিপরীতে ডলারের মূল্য অর্ধেকে নেমে আসে এবং ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান যুক্ত হয়।

বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ ও ১৯৭৯ সালে উৎখাত হওয়া সাবেক রাজতন্ত্রের প্রশংসা। তবে ইরানের ভেতরে রাজতন্ত্র বা এমকেওর প্রতি প্রকৃত সমর্থনের মাত্রা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, তাদের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী তরুণ পুরুষ। তবে ভিডিওগুলো যাচাই করতে পারেনি সংস্থাটি।

কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে ফেললো বিক্ষোভকারীরা

ইরানের ফার্স প্রদেশে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছেন বিক্ষোভকারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চলমান বিক্ষোভের ১১তম দিন বুধবারে ফার্স প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা সোলাইমানির ভাস্কর্য গুড়িয়ে দিচ্ছেন।

২০২০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক হামলায় নিহত হন কাসেম সোলাইমানি। তার হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ওই সময় একটি পৃথক ঘটনায় ভুলবশত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যরা একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা সব যাত্রী প্রাণ হারান।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও বিক্ষোভ থামেনি। রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

বিক্ষোভের মধ্যে ইস্ফাহান শহরে সরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।


গাজায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চায় না ইসরায়েল

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে গাজায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি চায় না ইসরায়েল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার।

তিনি বলেন, গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী— ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ করেছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না ইসেরায়েল।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে যেখানে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, কিন্তু তার জন্য হামাসকে ভেঙে ফেলতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই।’

তিনি বলেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে তারা সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক কারণ তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ইচ্ছা পোষণ করে না, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল বাহিনীর ধারণাকে অর্থহীন করে তুলেছে।

এনডিটিভি বলছে, উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যোগসূত্রের কারণে গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকায় ইসরায়েল কি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত দৃঢ়ভাবে ‘না’ উত্তর দেন, যা ইঙ্গিত দেয় গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যেকোনো ভূমিকার প্রতি ইসরায়েলের অসম্মতি।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যেকোনো দেশ সাধারণত কেবল তাদেরকেই সহযোগিতা করে যাদের তারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সাথে তাদের যথাযথ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন নয়’।

এনডিটিভির দাবি, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য করে স্পষ্ট করে যে, গাজা স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থায় ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে না।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সেনা নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) নামে বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো বিষয়গুলো থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মার্কিন সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও আজারবাইজানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে তারা এই বহুজাতিক বাহিনীতে অংশ নেয়।


banner close