যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্কের সম্পদ আরও ফুলেফেঁপে উঠেছে। প্রতি মূহুর্তেই বাড়ছে তার সম্পদের পরিমাণ। যার ফলে মাস্কই এখন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ধনী বলে জানিয়েছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। শক্রবার ইলন মাস্ককে ইরিহাসের সেরা ধনী উল্লেখ করে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফোর্বস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে মাস্কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৪০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৩৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি, যা পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহে এক্সএআইয়ের বাজারমূল্য বেড়ে ৫০ বিলিয়নে পৌঁছে গেছে। এই কোম্পানিতে মাস্কের ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস-এক্সও লাভজনক জায়গায় রয়েছে। তাতে মাস্কের শেয়ার ৪২ শতাংশ। এই কোম্পানির বাজারমূল্য ২১০ বিলিয়ন ডলার। আর টেসলায় ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে মাস্কের।
এছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, টেসলার শেয়ার গত নির্বাচনের পর থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শুক্রবার একদিনে ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫২.৫৬ হয়েছে। যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে। টেসলার শেয়ারের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সাফল্যের ফলে এই ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। এবারের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পকে জেতাতে নিজের পকেট থেকে খরচ করেন প্রায় ২০ কোটি ডলার। জানা গেছে, গত ২০ দিনে মাস্কের সম্পত্তিতে আরও ৭০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। যা মিয়ানমারের জিডিপির চেয়েও বেশি। পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ এত ধনী হননি বলে দাবি অর্থনীতিবিদদের একাংশের। ২২ নভেম্বর তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের জয়ই মাস্ককে এত সম্পদ এনে দিয়েছে।
ইলন মাস্কের ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের প্রো-বিজনেস মনোভাবের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। বছরের শুরুতে মাস্ক ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করেন। পরে ট্রাম্প তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজে)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছেন। বিশ্বের সেরা ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ল্যারির সঙ্গে মাস্কের সম্পত্তির ফারাক প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের।
‘মস্তিষ্ক চিপ’ ট্রায়ালের অনুমতি পেলেন ইলন মাস্ক
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন কোম্পানি নিউরালিঙ্ককে তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ‘মস্তিষ্ক চিপে’-এর ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দিয়েছে কানাডার সরকার। নিজেদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে নিউরালিঙ্ক। পৃথক এক বিবৃতিতে কানাডার ইউনিভার্সিটি হেলথ নেটওয়ার্ক হসপিটাল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি টরন্টো শাখায় এই চিপের মেডিকেল ট্রায়াল পরিচালনা করতে পারবে নিউরা লিঙ্ক। কানাডার স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে এ ইস্যুতে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, তবে সংস্থার কোনা কর্মকর্তা মন্তব্য করতে চাননি। বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি টেসলা, মহাকাশ অভিযানের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কোম্পানি স্পেস এক্স এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ক নিউরালিঙ্ক কোম্পাটি প্রতিষ্ঠা করেন ২০১৬ সালে। শুরু থেকে এই কোম্পানির লক্ষ্য মস্তিষ্ক ও প্রযুক্তির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের চ্যানেল তৈরি করা।
সেই লক্ষ্যে বা প্রচেষ্টার একটি ফসল মস্তিষ্ক চিপ; অর্থাৎ মানব মস্তিষ্কে এমন একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ স্থাপন করা, যার মাধ্যমে মানুষ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি, স্মার্ট গাড়ির সঙ্গে হাত-পা না নাড়িয়ে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। এই গবেষণা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বানর এবং শূকরের ওপর ট্রায়াল চালানো হয়েছিল। সেই ট্রায়াল সফল হওয়ার পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইলন মাস্ক ঘোষণা দেন, মানব মস্তিষ্কে এই চিপের ট্রায়াল চালাতে চান তিনি। সে সময় এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেছিলেন, ’যারা শারীরিকভাবে চলাচল কিংবা হাত-পায়ের পেশি সঞ্চালনে অক্ষম, মূলত তাদের সমস্যা বিবেচনা করেই এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তারাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। যদি তারা নিজেদের মস্তিষ্কে নিউরালিংক স্থাপণ করেন, সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে তারা কেবল কম্পিউটার নয়, মোবাইল ফোনেও অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’
ইরানে চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করে ইরান বলেছে, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যই অস্থিতিশীল হবে ও এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলি লারিজানি এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের জানা উচিত, এই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার শামিল হবে এবং এতে আমেরিকার স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ইরানে যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।
এদিকে, একই দিনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানিও যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যেকোনো অজুহাতে ইরানের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করলে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের নিরাপত্তা একটি ‘রেড লাইন’।
শামখানি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপমূলক পদক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না ও দেশটির সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সম্প্রতি ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং তার জবাবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
নিজেকে রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েলি মহলে উদ্বেগ
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ শুরু হলে নিজেকে রক্ষার সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরশীলতার কার্যকারিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট মহলগুলো।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকেরা ক্রমেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হচ্ছেন যে ইরানের সঙ্গে পরবর্তী দফার সংঘাতে ইসরায়েল নিজেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম প্রস্তুত থাকতে পারে। এ উদ্বেগের মূল কারণ হলো, ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি। এটি গত বছরের জুনে হওয়া ১২ দিনের সংঘাতের আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের মাত্রা থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির প্রকৃত ভয়াবহতা পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। তবে এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় বর্তমানে ইসরায়েলের মোতায়েন করা প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে।
তেহরান যখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নের কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে; তখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের (প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র) তীব্র সংকট ও দীর্ঘ উৎপাদন প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি পরবর্তী দফার ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের ধরন মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে এবং সহিংসভাবে হত্যা করে’ তাহলে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে এবং সহিংসভাবে হত্যা করে- যা তাদের রীতি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা লকডাউন এবং লোডে আছি, যেতে প্রস্তুত। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!’
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, ফার্স নিউজ এজেন্সি ও মানবাধিকার গোষ্ঠী হেঙ্গাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে হতাহতের খবর দিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের লর্ডেগান শহরে দুইজন নিহত হয়েছে, আজনাতে তিনজন এবং কুহদাশতে একজন নিহত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জানিয়েছে, চাহারমহল এবং বাখতিয়ারির লর্ডেগান এলাকায় ১৫০ জনেরও বেশি লোক জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল এবং সরকারি ভবনে পাথর নিক্ষেপ করেছিল।
কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ হস্তক্ষেপ করার পর কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়, এতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন। সংঘর্ষের সময় দুইজন নিহত হন।’
তেহরানের বাজারে বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দাম নিম্নমুখী হওয়ার মধ্যে গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জনসাধারণের অসন্তোষ স্বীকার করে বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য সরকার দায়ী। কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহিরাগতদের দোষারোপ না করেন।
গাজা উপত্যকায় আবারও হামলা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-নাজলা শহরে বৃহস্পতিবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু নিশ্চিত করেছে।
নিহত ওই শিশুটির বয়স মাত্র ১১ বছর। এই একই দিনে গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যা চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।
জাবালিয়ায় প্রাণহানির পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের নেমসাউই কবরস্থানের কাছেও ইসরায়েলি বাহিনী বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করেছে। সেখানে এক শিশু ও এক নারীসহ চারজন আহত হলে তাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ হাজার ১১০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে নিহতের মোট সংখ্যা বর্তমানে ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে, যার বিশাল একটি অংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি।
এদিকে ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি গাজার অভ্যন্তরীণ মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তুলছে। গাজা সিটির আল-দারাজ এলাকার আল-ইয়ারমুক আশ্রয়শিবিরে গত রাতে একটি তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ফিলিস্তিনি মা ও তার শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী হামলায় গাজার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন।
তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎহীনতার কারণে রান্নাবান্না বা শীত নিবারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গিয়ে প্রায়ই এসব তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
গাজায় যে কারণে যুদ্ধবিরতি চান না নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ হয়েছে। সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক থেকে নেতানিয়াহু যা চেয়েছিলেন, তা তিনি পেয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে।
গত সোমবারের বৈঠকের পর নেতানিয়াহুকে ‘বীর’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নিজের দেওয়া বিশেষ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনা ‘শতভাগ সফল’ করেছেন।
অথচ গত সপ্তাহেই খবর এসেছিল যে মার্কিন কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত। গত অক্টোবরে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া ২০ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা কার্যকর করতে নেতানিয়াহু ‘ধীরগতি’ নীতি অবলম্বন করছেন বলে তাদের সন্দেহ। হোয়াইট হাউসের ধারণা, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে নিজের সুবিধামতো সময়ে আবার যুদ্ধ শুরু করার পথ খোলা রাখতেই তিনি এমনটি করছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গাজায় জীবিত ও মৃত সব জিম্মি বিনিময়, ত্রাণসহায়তা প্রবেশ ও সম্মুখ সমরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার কথা। এ ধাপে গাজার শাসন পরিচালনায় একটি টেকনোক্র্যাট ‘শান্তি বোর্ড’ গঠন ও উপত্যকাটির নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু এখনো গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। তাঁর শর্ত হলো হামাস শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে নিরস্ত্র করার দাবিও তুলেছেন তিনি, যা সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প সমর্থন করেছেন। হামাস অবশ্য আগে থেকেই বলছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে শুধু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই আলোচনা হতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে, নেতানিয়াহু কি তবে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ এড়াতে চাইছেন? কেন তিনি বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখতেই বেশি আগ্রহী? এর পেছনে সম্ভাব্য চারটি কারণ তুলে ধরা হলো
কট্টর দক্ষিণপন্থীদের চাপ
নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার যেকোনো হিসেবে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর দক্ষিণপন্থি সরকার। গাজা যুদ্ধের সময়জুড়ে এ কট্টরপন্থীরাই তাকে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা সামলে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছেন। এখন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন–গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টরপন্থি ব্যক্তিরা যুদ্ধবিরতির ঘোরবিরোধী।
এই কট্টরপন্থী ব্যক্তিরা ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিপক্ষে ও গাজা দখলের পক্ষে সোচ্চার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও অক্টোবরে যে চুক্তিতে তার দেশ অঙ্গীকার করেছিল, তা সম্মান করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় থেকে যাবে। তার কথায়, শেষ পর্যন্ত এতে সেখানে আরও ইহুদি বসতি স্থাপনের পথ তৈরি হবে। পরে দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কাৎজ তার ওই বক্তব্য থেকে সরে আসেন।
আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতিতে অনাগ্রহ
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হলে ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতার পথ সংকুচিত হবে। তখন সেখানে আবার প্রবেশ করা বা হামলা চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। যুদ্ধবিরতির সম্মতি সত্ত্বেও ১০ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আবার রাজনৈতিকভাবে, কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক শক্তিকে গাজা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া মানে, এ সংঘাতকে আন্তর্জাতিকীকরণ করা, যা নেতানিয়াহু চান না। কারণ, এতে অনেক কৌশলগত, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে দেওয়া একটি ছাড় হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে। এতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে নেতানিয়াহুর বারবার করা দাবিগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গ বলেন, ‘নেতানিয়াহু যদি গাজায় কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেন, তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতার একটি বড় অংশ হারাবেন। আদর্শিকভাবে তিনি চান, পরিস্থিতি ঠিক যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকুক। তবে সেই সঙ্গে তিনি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হন, সেটিও চান।’
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক পাচার ও তেল সংক্রান্ত বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওয়াশিংটন চাইলে তিনি এই সংলাপে বসতে প্রস্তুত আছেন। মাদুরো সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই আলোচনায় মাদক পাচার ছাড়াও তেল সম্পদ ও অভিবাসন ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।
বিবিসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ৩০টিরও বেশি নৌযানকে নিশানা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষিত এই ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’র ফলে এ পর্যন্ত ১১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মাদক বহনের অভিযোগে দুটি নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী, যেখানে পাঁচজন নিহত হন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সিআইএ পরিচালিত একটি ড্রোন হামলায় ভেনিজুয়েলার একটি ডকিং ফ্যাসিলিটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও মাদুরো এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কয়েক দিন পর আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভেনিজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহনে বিভিন্ন ট্যাংকার ব্যবহৃত হচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বর এমনই একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে ভেনিজুয়েলা ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে মাদুরো তার দেশের কারাগার ও মানসিক আশ্রমের বন্দিদের জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তারা মাদক পাচারের রুটগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে, তবে বিবিসি উল্লেখ করেছে যে এখন পর্যন্ত জব্দকৃত বা হামলার শিকার নৌযানগুলোতে মাদক থাকার কোনো অকাট্য প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মোট ১২৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের অর্ধেকেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্যে নিহত হয়েছেন। ব্রাসেলস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
২০২৪ সালের তুলনায় বেড়ে যাওয়া এই মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে আইএফজে মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঞ্জার বলেন, এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের সহকর্মীদের জন্য একটি বৈশ্বিক লাল সতর্কতা।
আইএফজে বিশেষভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধে ৫৬ জন গণমাধ্যমকর্মীর নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
বেলাঞ্জার বলেন, আমরা আগে কখনো দেখিনি— এত অল্প সময়ে, এত ছোট এলাকায় এত মৃত্যু। ইয়েমেন, ইউক্রেন, সুদান, পেরু, ভারত এবং অন্যান্য জায়গাতেও সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
বেলাঞ্জার হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ‘দায়মুক্তির’ নিন্দা জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ন্যায়বিচার না হলেও এটি সাংবাদিক হত্যাকারীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়।
আইএফজে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী বর্তমানে ৫৩৩ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন, যা গত অর্ধ-দশকে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
গণনা পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে সাংবাদিক নিহত হওয়ার বিষয়ে আইএফজের হিসাব সাধারণত রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তুলনায় অনেক বেশি হয়। এ বছরের আইএফজে’র সংখ্যায় ৯টি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স জানিয়েছে, এ বছর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬৭ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আর ইউনেস্কো জানিয়েছে, এ সংখ্যা ৯৩।
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন বছরের বার্তায় নিজেদের জয় নিয়ে আশার কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়া। নতুন বছর শুরুর প্রাক্কালে দেয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাক্ষাতকারে তিনি বলছেন, প্রায় ৪ বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করেন পুতিন। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে ইউক্রেনে লড়াই করা সেনাদের পাশে থাকার জন্য তিনি রুশ নাগরিকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের ওপর বিশ্বাস করি- আমাদের বিজয়ের ওপরেও’। তবে যুদ্ধের ফল এখনও অনিশ্চিত। কারণ একদিকে শান্তি আলোচনা চললেও অন্যদিকে তীব্র লড়াই অর্থাৎ একসঙ্গে দুটোই চলছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ২৬ বছর আগে বরিস ইয়েলৎসিনের নববর্ষের ভাষণের স্মৃতির প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই ভাষণকে দেখা হচ্ছে। সেদিন বরিস ইয়েলৎসিন আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করে ক্ষমতা তুলে দেন পুতিনের হাতে। এরপর থেকে দেশকে নিজের মতো করে বদলে নিয়েছেন পুতিন। কখনও তিনি স্তালিন যুগের ইতিবাচক দিকের কথা বলেছেন, আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার ‘অপমান’ কাটিয়ে ওঠার কথাও তুলে ধরেছেন।
তার শাসনে চেচনিয়ায় অভিযান, জর্জিয়া আক্রমণ, সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারকে সহায়তা- সবকিছুই হয়েছে। এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপরও তীব্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। ইউরোপে আশঙ্কা- যুদ্ধ শেষ না হলে এটি ইউক্রেনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে নববর্ষের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, তারা শান্তি চান- কিন্তু দুর্বল কোনও চুক্তি নয়। তার ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধের শেষ চাই, কিন্তু ইউক্রেনের শেষ না’। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি ‘৯০ শতাংশ প্রস্তুত’, তবে বাকি ১০ শতাংশই সবকিছুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, ইউক্রেন পুতিনের নোভগোরোদ অঞ্চলের এক বাসভবনে হামলা চালাতে চেয়েছিল এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে- এটি বানানো ঘটনা; বরং আক্রমণ বাড়ানোর অজুহাত খুঁজছে মস্কো। রাশিয়া বলছে, ৯১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, কেউ আহত হয়নি এবং পুতিনের বাসভবন অক্ষত আছে।
পুতিনের বাসভবনে হামলার এই দাবি নিয়ে উদ্বেগ জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও পাকিস্তান। তবে কিয়েভ বলেছে, যে ঘটনা ঘটেনি, তা নিয়ে তাদের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। পশ্চিমা মিত্ররাও রুশ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মুখে তাইওয়ান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের দিকে রকেট নিক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন দেখছে—তাইওয়ানের জনগণের নিজেদের রক্ষার দৃঢ়তা কতটা রয়েছে।
তাইপের প্রেসিডেন্সিয়াল কার্যালয় থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে লাই বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার অবস্থান সব সময় স্পষ্ট—জাতীয় সার্বভৌমত্ব দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা।
এ সময় তিনি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন চান। তবে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে প্রস্তাবটি আটকে রয়েছে।
চীনের ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে লাই বলেন, চীন তার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ে অর্জন করতে পারবে কি না, সেটা এক বিষয়। তবে ২০২৬ সাল তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে সেরা ফলের আশাও রাখতে হবে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে লাই বলেন, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতায় তাইওয়ান আগ্রহী। তবে শর্ত হলো—চীনকে তাইওয়ানের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে এবং তাইওয়ানের জনগণের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে হবে।
তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত ভূখণ্ড হলেও চীন এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে আসছে। তাইপে বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট লাইয়ের ভাষণের পর চীন কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, লাই চিং-তে তাইওয়ানের জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন।
মুখপাত্রের ভাষায়, লাই চিং-তের বক্তব্য মিথ্যা, দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি, শত্রুতা ও বিদ্বেষে ভরা।
লাইয়ের ভাষণ আসে চীনের ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বৃহৎ সামরিক মহড়ার মাত্র দুই দিন পর। ওই মহড়ায় চীন তাইওয়ানের দিকে কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করে এবং দ্বীপটির আশপাশে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। এতে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তাইপে এই মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও স্পষ্ট উসকানি বলে নিন্দা জানায়। বুধবার গভীর রাতে বেইজিং জানায়, মহড়া শেষ হয়েছে, তবে চীনা সেনাবাহিনী তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছরের ভাষণে আবারও বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ ঠেকানো যাবে না।
তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূতকরণের অঙ্গীকার শি’র
তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আবার একীভূত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
জিনপিং এমন এক সময় এ অঙ্গীকার করলেন, যার এক দিন আগে তাইওয়ানের চারপাশে দুই দিনব্যাপী বড় ধরনের সামরিক মহড়া শেষ করেছে চীন।
তিনি ভাষণে বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমিকে একীভূত করা এখন সময়ের দাবি, যা কোনোভাবেই থামানো যাবে না।’
চীন স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছে দেশটি। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো এলাকাও নিজের বলে দাবি করে চীন। এ নিয়ে আশপাশের ছোট দেশগুলোর সঙ্গে তার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শি জিন পিংয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
ইতোমধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। শি জিন পিংয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
গত সোম ও মঙ্গলবার তাইওয়ানকে ঘিরে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বড় সামরিক মহড়া চালায় চীনের সেনাবাহিনী। এ সময় তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান ও কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়।
তাইওয়ানের দাবি, মহড়া চলাকালে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ান উপকূলের মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আঘাত হানে।
মহড়া শেষ হলেও তাইওয়ান এখনো উচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। কারণ, এখনো দ্বীপটির চারপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ২৫টি জাহাজ মোতায়েন আছে। দুটি নজরদারি বেলুনও পাঠিয়েছে চীন। এর একটি তাইওয়ানের উত্তর উপকূল দিয়ে উড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের পাল্টা জবাব হিসেবে এ মহড়া চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন কোনও দুর্বল শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়, তবে কোনও মূল্যে নয়। ইউক্রেনে লড়াইরত সেনারা চার বছরের যুদ্ধে ক্লান্ত। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক ইউক্রেনীয় শহরে জার্মান দখলের চেয়েও বেশি সময়। কিন্ত ইউক্রেনীয় সেনারা হাল ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নয়।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়রা কী চায়? শান্তি, কিন্ত যেকোনও মূল্যে নয়। আমরা যুদ্ধের অবসান চাই কিন্তু ইউক্রেনের ধ্বংস চাই না। আমরা খুব ক্লান্ত? এর মানে কি আমরা আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত? যারা এমনটা ভাবছে তারা ভুল করছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্বল চুক্তির উপর স্বাক্ষর কেবল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার ইন্ধন জোগায়। আমি স্বাক্ষর করব একটি শক্তিশালী চুক্তিতে। যা একদিন, এক সপ্তাহ বা দুই মাসের জন্য নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে শান্তি নিশ্চিত করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম যুদ্ধে রূপ নেয় তা। চলমান যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। রুশবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলমান রয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি জনগণের মাঝে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটি ছেড়ে গেছেন ৬৯ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত গবেষণায় সিবিএস জানিয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশটির নাগরিকদের মাঝে এই প্রভাব দেখা গেছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের ইসরায়েলের অভিবাসন ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়েছে।
সিবিএসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে (১০.১৭৮ মিলিয়ন) পৌঁছেছে।
আগের বছরের মতোই এই প্রবৃদ্ধি হার অপরিবর্তিত থাকলেও, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম ধীর বছরগুলোর একটি।
একই দিনে প্রকাশিত টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজ-এর একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যা হবে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে।
সিবিএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ নতুন অভিবাসী ইসরায়েলে এসেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮ হাজার কম। এই হ্রাসের বড় কারণ ছিল রাশিয়া থেকে আগত অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়া।
২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
অনেকে এই প্রবণতা পরিবর্তনের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৩ হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা—যা সমালোচকদের মতে দেশটির গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় বিদেশে বসবাসের পর প্রায় ১৯ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের উদ্দেশে আরও ৫ হাজার ৫০০ জন দেশটিতে প্রবেশ করেছেন।
২০২৪ সালে ৮২ হাজার ৭০০ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছিলেন, যা ওই বছরে আগত মানুষের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার বেশি।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়েই দেশটিতে আগত ইহুদির সংখ্যা দেশত্যাগকারীদের চেয়ে বেশি ছিল। তবে ১৯৫০ ও ১৯৮০–এর দশকের কিছু সময় ছিল এর ব্যতিক্রম।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মোট ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৭৭ লাখ ৭১ হাজার ইহুদি ও অন্যান্য, যা মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩ শতাংশ।
আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার, যা মোটের ২১.১ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ (২.৬ শতাংশ) বিদেশি হিসেবে বাস করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হাইকমিশনে পৌঁছে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং সেখানে রক্ষিত শোক বইয়ে সশরীরে স্বাক্ষর করেন। এই সময় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের এই শীর্ষস্থানীয় নেতার সফরটি প্রতিবেশী দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভারতের সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের এই ধারাটি গত বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ সফরে ঢাকায় আসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তাটি তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে বর্তমানে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং শোক বই খোলা হয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে রাজনাথ সিংয়ের এই উপস্থিতি এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার গুরুত্ব ও তাঁর প্রতি বিভিন্ন দেশের গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও হাইকমিশনে এসে তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন জোহরান মামদানি। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। মামদানির এই শপথ গ্রহণের বিশেষত্ব ছিল স্থান নির্বাচন; সিটি হলের নিচে সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনটিকে তিনি বেছে নিয়েছেন কর্মজীবী মানুষের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী নেতা নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মুহূর্তটিকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
জোহরান মামদানির রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা। যদিও বিশ্লেষকরা তাঁর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন, তবে মামদানি তাঁর লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির বিরুদ্ধে তিনি নিউইয়র্কের অভিবাসীদের সুরক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল, তবে অভিবাসন ইস্যুতে ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণই এখন মামদানির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত একটি জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠানে মামদানি আবারও বড় পরিসরে শপথ নেবেন। সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ বক্তব্য দেবেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ এবং লেখক আরতুরো শোমবার্গের সংগ্রহ থেকে আনা তিনটি বিশেষ কোরআন শরীফ ব্যবহার করা হবে। নিউইয়র্ক সিটির চার বছর মেয়াদী এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মামদানির অভিষেক কেবল আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের অভিবাসী ও কর্মজীবী মানুষের কাছে এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুরনো বছর ২০২৫-এর স্মৃতি পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস আর বর্ণিল আতশবাজির মধ্য দিয়ে নতুন বছর ২০২৬-কে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববাসী। কালপঞ্জির নিয়মে মহাকালের গর্ভে আরও একটি বছর বিলীন হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নত আগামীর প্রত্যাশায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। বরাবরের মতোই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছাকাছি থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র কিরিতিমাতি, টোঙ্গা এবং নিউজিল্যান্ডে সবার আগে মধ্যরাতের ঘণ্টা বাজার মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজি আকাশকে বর্ণিল করে তোলে, যেখানে সাত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৪০ হাজার আতশবাজির খেলা উপভোগ করেন উপস্থিত জনতা। তবে সিডনির এবারের উৎসবে কিছুটা শোকের ছায়াও ছিল; সম্প্রতি এক হামলায় নিহতদের স্মরণে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং হারবার ব্রিজে বিশেষ আলোকচিত্রের মাধ্যমে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ঐতিহ্যবাহী বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে ৩৩ বার ঘণ্টা বাজিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়। অন্যদিকে, চীনে মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে এবং নাচে-গানে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানায় হাজার হাজার মানুষ। ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ায় দুপুর বেলাতেই নতুন বছর উদযাপনের এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য পালিত হয়েছে, যেখানে তীব্র শীত উপেক্ষা করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সাধারণ জনতা। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে এবার বিশ্বের বৃহত্তম নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় ঐতিহ্যবাহী 'বল ড্রপ' দেখার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
উৎসবের এই আবহের মাঝেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কিয়েভে মানুষের চোখেমুখে ছিল শান্তির জন্য গভীর আকুতি। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধে ক্লান্ত এই জাতির কাছে নতুন বছরের একমাত্র চাওয়া হলো একটি নিরাপদ ও যুদ্ধমুক্ত দেশ। কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের সামনে বড়দিনের সাজানো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে শিশুদের কণ্ঠে ছিল নতুন ভোরে শান্তি ফেরার সহজ বিশ্বাস। সব মিলিয়ে আনন্দ, উৎসব এবং বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মাঝে এক বুক নতুন আশা নিয়ে সারা বিশ্বে যাত্রা শুরু হলো ইংরেজি নতুন বছরের।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা ফলাও করে ছেপেছে বিশ্বের খ্যাতনামা কয়েকটি গণমাধ্যম।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা শিরোনাম করেছে, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমাগম, সাবেক নেত্রীকে বিদায়।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকায় আসেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য শোক জানাচ্ছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছেন বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ।
ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়। প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।