পাকিস্তানে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পিটিআইয়ের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ সফল করতে মরিয়া ইমরান খানের দল। অন্যদিকে তাদের থামিয়ে দিতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক বাধার মুখেও কিছু পিটিআই কর্মী এরই মধ্যে ডি-চকে পৌঁছে গেছে। সরকার ও বিরোধী দলটির মধ্যে আলোচনায়ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মূলত রোববার দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করে। তবে সরকারি বাধায় তা থমকে যায়। পরে ইসলামাবাদের দিকে ফের যাত্রা শুরু করে তারা।
এর আগে আদিয়ালা কারাগার থেকে এক বিবৃতিতে ইমরান খান বলেছেন, ইসলামাবাদে যে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে তা স্থগিত করা হবে না। কারণ এখন পর্যন্ত তার মুক্তির ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না। ইমরান খান বলেন, আমার দলের নেতাদের মাধ্যমে সমাবেশ বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে নেতাদের মুক্তির বিষয়ে কোনো কথা বলা হচ্ছে না।
ইসলামাবাদের কেন্দ্রস্থলে ইমরান খানের সমর্থকরা
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকরা পুলিশ, রেঞ্জার্স এবং সেনাবাহিনীর সব বাধা অতিক্রম করে রাজধানী ইসলামাবাদের মূল কেন্দ্র ডি-চকে পৌঁছেছেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তারা আবারও তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ডি-চকে ইমরান খানের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া সমর্থকদের অনেককে কনটেইনার বেয়ে প্রতিবন্ধকতা পেরোতে দেখা গেছে। এসময় কনটেইনারের ওপর সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।
রোববার ইমরানের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগসহ সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিলের দাবিতে সমর্থকরা সারা দেশ থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সমর্থকদের দাবি, এই সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে। ইসলামাবাদে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শাহবাজ শরীফের সরকার সংবিধানের ২৪৫ ধারা অনুযায়ী সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবির নেতৃত্বে একটি বিশাল গাড়ি বহর জিরো পয়েন্টে পৌঁছেছে। তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হলে সমর্থকদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় তাদের তিন সদস্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার জানিয়েছে, পিটিআই সমর্থকদের হামলায় রেঞ্জার্স এবং পুলিশের ছয় সদস্য নিহত হয়েছে। সব বাধা সত্ত্বেও ইমরানের সমর্থকদের থামাতে না পেরে প্রশাসন রাওয়ালপিন্ডি থেকে আরও এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে।
দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ, ইন্টারনেটের ধীরগতি
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ডাকা ‘চূড়ান্ত বিক্ষোভে’রাজধানী ইসলামাবাদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ইমরান সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই কঠোর নির্দেশের পরও বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় থাকা ঠেকানো যায়নি। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ইসলামাবাদের ডি চকে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। দলের একটি অংশ ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। প্রশাসন আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, সরকার বারবার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে পিটিআই নেতৃত্ব আলোচনা থেকে শুধু সময় নিয়েছে এবং রাজধানীর দিকে অগ্রসর হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদের আইজিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।
এদিকে, সংঘর্ষের মধ্যেই মুলতান, রাজনপুর, গুজরাটসহ কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। পাঞ্জাব প্রদেশের পুলিশ সোমবার ৪ হাজারের বেশি পিটিআই নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন পার্লামেন্ট সদস্যও রয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহিদ নওয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইমরান খান মাসের শুরুতে কারাগার থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন, যাকে তিনি ‘চূড়ান্ত ডাক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর থেকে তার সমর্থকেরা রাজধানীর দিকে অগ্রসর হন। তাদের দাবি, বন্দি নেতাদের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগ।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদসহ ১৫০টির বেশি মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে পিটিআই এই মামলা ও অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
প্রসঙ্গত, ইমরান খানের গ্রেপ্তার ঘিরে এর আগেও দেশব্যাপী সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। তারমুক্তি এবং দলের ওপর চাপ কমানোর দাবিতে সমর্থকেরা ফের রাস্তায় নেমেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর পরিণতি হবে ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ ক্ষতিকর’। কেবল ইরান নয়, দেশটির প্রতিবেশী ও পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও এই পরিণতি হবে ভয়াবহ।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, ফোনালাপটি ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে এবং এটি ছিল ‘খোলামেলা ও কার্যকর’ আলোচনা।
তিনি বলেন, উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ‘বিশেষভাবে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন’। উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তটি সঠিক। কারণ, এতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে এবং সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।’
তবে পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর অনিবার্য ও ভয়াবহ ক্ষতিকর পরিণতি শুধু ইরান ও তার প্রতিবেশীদের জন্যই নয়, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও হবে।’ উশাকভ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইস্যুতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে রাশিয়া ‘সব ধরনের সম্ভাব্য সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করেছেন। তবে তিনি জানান, ইরানের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ বন্ধে ‘সহায়তা করতে চান’, তবে তিনি রুশ নেতাকে আগে ইউক্রেন আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন ঢেউয়ের পূর্বাভাস। বিধানসভা নির্বাচনের পর অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া নামক প্রতিষ্ঠানের বুথফেরত জরিপ বলছে, অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) তাদের প্রথম নির্বাচনী লড়াইতেই ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। যদি এই জরিপের ফল বাস্তবে মিলে যায়, তাহলে টিভিকে ফলাফলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে ক্ষমতাসীন ডিএমকে ও তাদের জোটকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
বুথফেরত জরিপের সর্বনিম্ন সীমা অনুযায়ী ৯৮টি আসন পেলেও তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের এই অর্জন হবে অসাধারণ। এমনটা হলে দক্ষিণের এই রাজ্য নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করবে।
অন্য বুথফেরত জরিপেও বিজয়ের দলের জন্য মোটামুটি ভালো আসন পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেমন—পিপলস পালসের জরিপ বলছে—ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও তাদের মিত্ররা ১২৫ থেকে ১৪৫টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে অলইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ও তাদের জোট পেতে পারে ৬৫ থেকে ৮০টি আসন।
পিপলস ইনসাইটের জরিপ বলছে, ডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ১২০ থেকে ১৪০টি আসন, আর এআইএডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৭০টি আসন। প্রজা পোল বলছে, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ১৪৮ থেকে ১৬৮টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৬১ থেকে ৮১টি আসন। আর টিভিকে পেতে পারে মাত্র ১ থেকে ৯টি আসন।
পি-মার্কের হিসাবে, ডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪৫টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের জোট ৬৫ থেকে ৮৫টি আসন এবং আর অভিনেতা বিজয়ের টিভিকে পেতে পারে ১৬ থেকে ২৬টি আসন। ম্যাট্রাইজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৮৭ থেকে ১০০টি আসন; আর টিভিকে পেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন।
কামাখ্যা অ্যানালিটিকস জানিয়েছে, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯৫টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৬৮ থেকে ৮৪টি আসন; আর টিভিকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফল মিললে অভিনেতার নতুন দলটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
জেভিসির মতে, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৭৫ থেকে ৯৫টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৪৭টি আসন; আর টিভিকে পেতে পারে ৮ থেকে ১৫টি আসন।
এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (এসপিএ) এবং এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) মধ্যে। এসপিএ জোটে রয়েছে কংগ্রেস, ডিএমডিকে (ডিএমডিকে) এবং ভিসিকে (ভিসিকে)। অন্যদিকে এনডিএ জোটে রয়েছে বিজেপি এবং পিএমকে (পিএমকে)।
তামিলনাড়ুতে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, অনেক অঞ্চলে ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিধানসভার ২৩৪টি আসনেই ভোট গ্রহণ শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। ভোট গণনা হবে সোমবার।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতালের সীমানা দেওয়াল ধসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে শহরের একটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের প্রায় ৮ ফুট উঁচু দেওয়ালটি হঠাৎ ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কয়েক সপ্তাহের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একটি শিশু ও চারজন হকার রয়েছেন। এ ছাড়া কেরালা রাজ্যের দুইজন ব্যক্তিও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের বর্তমানে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কয়েক সপ্তাহের চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর বুধবার হুট করেই বেঙ্গালুরুতে প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। তীব্র গতির বাতাসের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মূলত ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কায় জরাজীর্ণ দেওয়ালটি পথচারীদের ওপর ধসে পড়ে। বৃষ্টির ফলে অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায়।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন। আহতদের মধ্যে এক নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন ওই অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর শহরের অন্যান্য জরাজীর্ণ অবকাঠামোগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক সরকার।
প্রায় ৮০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধায় ভুগছে দক্ষিণ সুদানে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত এবং অবরোধের ফলে দক্ষিণ সুদানে এর প্রকট প্রভাব পরেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটির প্রায় ৫৬ ভাগ মানুষ পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার সম্ভাবনায় ভুগছে।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা(এফএও) এবং জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনিসেফ জরুরি পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।
প্রায় ১ লাখের অধিক শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতার খাতায় নতুন করে নাম লিখিয়েছে। এতে সর্বমোট পুষ্টিহীন শিশুর সংখ্যা দাঁড়াল ২২ লাখে। এদের মধ্যে মৃত্যু ঝুঁকিতে আছে ৭ লাখ শিশু। এ খবর দিযেছে অনলাইন আল জাজিরা। দক্ষিণ সুদানের অনেক শিশু কোনো খাবার পাচ্ছে না।
তারা কোনো চিকিৎসাও পাচ্ছে না। গৃহযুদ্ধ এবং প্রতিবেশি সুদানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ২০১১ সালে স্বাধীন হওয়া এইদেশটি নানান বিপর্যয়ে পর্যদুস্ত হচ্ছে।
দক্ষিণ সুদান বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। দরিদ্রতা এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থার কারনে ফের বৃহৎ আকারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরআগে ২০১৮ সালে ৭ বছরব্যাপি চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান হয় যে যুদ্ধে প্রায় ৪ লাখের মানুষ মারা যায়।
ফের গৃহযুদ্ধের উত্তেজনা শুরু হয় বর্তমান প্রেসিডেন্ট সারভা কির মায়ারাদিত এবং বরখাস্তকৃত ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক মাচারের দ্বন্দের কারণে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি কড়া বার্তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আর কোনো ভদ্রতা নয়! এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের এই বার্তায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি তেহরানকে একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে সেটি প্রত্যাখ্যান করলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরান আলোচনার জন্য নতুন পথ খুঁজছে, অন্যদিকে তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের দেওয়া অনেক বক্তব্যই নাকচ করে দিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন বেশ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং কূটনীতিকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’ বার্তাটি কেবল একটি রাজনৈতিক হুমকি নাকি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপের পূর্বাভাস, তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে। তবে প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা এড়িয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের ইরান কৌশলকে আবারও সবার নজরে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার জনসমর্থন এবারই সবচেয়ে নিচে নেমেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের করা নতুন এক জরিপে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট, যা গত ১৫ থেকে ২০ এপ্রিলের জরিপে ছিল ৩৬ শতাংশ।
মূলত ইরানের সাথে জনপ্রিয়তাহীন যুদ্ধ এবং পরিণামে অসহনীয় হয়ে ওঠা জীবনযাত্রার ব্যয় মার্কিন সাধারণ মানুষকে ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে। গত সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন মার্কিনবাসীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
জরিপের বেশিভাগ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গত শনিবার রাতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ গোলাগুলির আগে। সেই রাতে ট্রাম্পের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এক বন্দুকধারী অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা ওই বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান চিত্র বলছে, ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে যেখানে ৪৭ শতাংশ মানুষের সমর্থন তার সাথে ছিল, সেখান থেকে গ্রাফটা এখন শুধুই নিচের দিকে নামছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে এক তরফা যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামতে শুরু করে। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের পকেটে, বিশেষ করে গ্যাসোলিন বা জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকায় মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ ভরসা রাখতে পারছেন, যা আগের জরিপের তুলনায় আরো তিন শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের উত্তাপে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মার্কিনীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর থেকে দেশটিতে গ্যাসোলিনের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। বর্তমানে এক গ্যালন তেলের জন্য মানুষকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪.১৮ ডলার। ওই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পারস্য উপসাগরের তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। তেলের এই অগ্নিমূল্য মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর বিশাল চাপের সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতি কেবল সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে না, বরং ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে দলের ভেতরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, রিপাবলিকান দলের ভেতর ট্রাম্পের সমর্থন এখনো বেশ শক্ত, প্রায় ৭৮ শতাংশ দলীয় কর্মী তার পাশে আছেন। কিন্তু মুদ্রার উল্টা পিঠ হলো, তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশই আবার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতায় বিরক্ত। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে যারা তুরুপের তাস হতে পারেন সেই স্বতন্ত্র ভোটাররা এখন ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে আছেন।
জরিপ অনুযায়ী, এই দলছুট ভোটারদের ৩৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং মাত্র ২০ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন দিচ্ছেন। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এখনো ঠিক করতে পারেননি তারা কাকে ভোট দেবেন।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হলেও সমস্যার সমাধান এখনো অনেক দূরে। ইরানের হুমকির কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেলের জাহাজগুলো ঠিকমতো বের হতে পারছে না। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যে এই যুদ্ধ মোটেও পছন্দ করছে না তা জরিপের সংখ্যাই বলে দিচ্ছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ ইরানের সাথে এই যুদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা গত মার্চে ছিল ৩৮ শতাংশ। দেশজুড়ে ১ হাজার ২৬৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর চালানো এই জরিপটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে টোল কিংবা কিংবা কোনো প্রকার ফি দিতে রাজি নয় মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং ওমান।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি নামে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট রয়েছে এ ৬ দেশের। মঙ্গলবার সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর জেদ্দায় জিসিসির বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন জিসিসি মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই।
বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরানের টোল আদায়কে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে জিসিসি মহাসচিব বলেন, ‘জিসিসি এবং এই জোটের সদস্যরাষ্ট্ররা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবৈধ টোল আদায়কে প্রত্যাখ্যান করছে।’
উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর একটি। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে দেশটির সরকার জানায়, হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজ চলাচল করতে দেখলেই হামলা চালানো হবে।
এর কয়েক দিন পর তেহরানের পক্ষ থেকে ফের বলা হয়, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে সেক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি নিতে হবে এবং ‘প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার’ হিসেবে টোল দিতে হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে ইরানের সরকারের নতুন এই নিয়মই প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে জিসিসি।
৩ দিনে মার্কিন অবরোধ ভেঙেছে ৫২টি ইরানি জাহাজ
মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ভেঙে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি তুসকা’পার হওয়ার চেষ্টা করলে গত ২০ এপ্রিল আরব সাগরে টহল দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ভেঙে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি তুসকা’ পার হওয়ার চেষ্টা করলে গত ২০ এপ্রিল আরব সাগরে টহল দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ৫২টি জাহাজ দেশটির জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ ভেঙেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। জাহাজগুলোর মধ্যে ৩১টি তেলবাহী ট্যাংকার ও ২১টি পণ্যবাহী জাহাজ।
স্থানীয় সময় গত সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত আগের তিন দিনের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি। পরে ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে; যা ইরানের আলোচনার প্রস্তাব পেশ করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময়কার ট্রেজারি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল ক্রেগ রবার্টস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধগুলো আসলে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’বা ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পেরই একটি সরাসরি অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে এখন যে উত্তাল পরিস্থিতি আর ইরানের সাথে সঙ্ঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ভাবলে ভুল হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রবার্টস মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান ইস্যুতে তেহরানের মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দিতে পেরেছে ইসরায়েল, যা আগের অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে তারা করে উঠতে পারেনি। তার মতে, একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যের যত যুদ্ধ হয়েছে, তার মূলে রয়েছে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের সীমানা বাড়ানোর এই গোপন অ্যাজেন্ডা। এই সঙ্ঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জ্বালানি খাত ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
পল ক্রেগ রবার্টস একটি রাজনৈতিক পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান এই অস্থিরতাকে বুঝতে হলে বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণাটি বোঝা খুব জরুরি। মজার ব্যাপার হলো, ইরান কিংবা মুসলিম বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সময় সরাসরি ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রসঙ্গের কথা খুব একটা তোলে না।
কিন্তু রবার্টস বিশ্বাস করেন, পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের মূল কারণ আসলে এটাই। পর্দার আড়ালে ইসরায়েল তার সীমানা বাড়ানোর যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, ইরান সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই বাধাকে সরাতেই মার্কিন শক্তিকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে রবার্টস আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করানো ইসরায়েলের জন্য সহজ হয়েছে। ইসরায়েলি নেতৃত্ব মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। এটি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয়।
তেল আবিব দীর্ঘদিন ধরেই চাইছিল ওয়াশিংটন যেন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের সেই ইচ্ছারই প্রতিফলন।
রবার্টসের মতে, একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যে যতগুলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর পেছনের কলকাঠি নাড়ছে এই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ তৈরির চিন্তা। এই আগ্রাসী নীতির ফলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, তার রেশ গিয়ে ঠেকছে বিশ্ববাজারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা বর্তমানে বিশ্ব দেখছে, তা মূলত এই ভূ-রাজনৈতিক চালেরই ফল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই সঙ্ঘাতের দায়ভার পুরো বিশ্বকেই বইতে হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক আসলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ছক ছাড়া আর কিছুই নয়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যখন ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তখন জনমনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে ইরানপন্থী এই লেবানিজ গোষ্ঠীটি সম্ভবত তাদের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সেই সময় লেবাননে ইসরায়েলের মারাত্মক আক্রমণে, দীর্ঘকাল ধরে হিজবুল্লাহর মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা হাসান নাসরাল্লাহ-সহ সংগঠনটির প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছিলেন।
একইসঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়েছিল, যে অঞ্চলটি লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়। এর আগে পেজার ডিভাইসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শত শত হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে আহত করে ইসরায়েল।
ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র চাপের মুখে লেবাননের সরকারি পর্যায়ে তখন এই গোষ্ঠীর পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
তবে হিজবুল্লাহ এখন আবারও রণক্ষেত্রে ফিরে এসেছে। দক্ষিণ লেবাননে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে এবং দেখা যাচ্ছে যে তাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা, অনেকে যা ধারণা করেছিলেন তার চেয়ে ঢের বেশি।
বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে বলেছেন, হিজবুল্লাহর ভাগ্যের চাকা হয়তো ঘুরে গেছে। তবে তাদের ভবিষ্যৎ এখনো অস্পষ্ট এবং তা মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসন।
হিজবুল্লাহ এখনো শক্তিশালী
২০২৪ সালের নভেম্বরের ‘যুদ্ধবিরতি’র পর ইসরায়েল পরবর্তী ১৫ মাস ধরে লেবাননে তুলনামূলক কম মাত্রায় আক্রমণ চালিয়ে আসছিল, যদিও তাতে শত শত মানুষ নিহত হয়। হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ পর্যন্ত এর কোনো জবাব দেওয়া থেকে বিরত ছিল। কিন্তু মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক দিন পরই তারা সক্রিয় হয়। উল্লেখ্য খামেনি লেবাননের শিয়া গোষ্ঠীর কাছেও অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।
একই দিনে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সব সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল তাদের হামলা আরও জোরদার করে, যার পরিধি রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বিশাল এলাকাজুড়ে আগ্রাসন চালায়। এই সংঘাতে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হন। ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা পরে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবুও দক্ষিণ লেবাননে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা এবার একতরফা কোনো যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না—যেখানে ইসরায়েল তাদের সদস্য ও অবকাঠামোতে হামলা চালাবে ঠিকই, অথচ তারা কোনো পাল্টা জবাব দিতে পারবে না—আগের মতো এমন বন্দোবস্ত থাকবে।
গত সোমবার হিজবুল্লাহর একজন সামরিক নেতা আল জাজিরাকে বলেছেন, গোষ্ঠীটি আবারও লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর ওপর 'আত্মঘাতী অভিযান' চালানোর পদ্ধতিতে ফিরে আসবে। ১৯৮০-এর দশকে তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক বছরের যুদ্ধগুলোতে তা থেকে দূরে ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর পতন নিয়ে যে দাবি করা হয়েছিল তা ছিল অতিরঞ্জিত। হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ লেবানিজ সাংবাদিক কাসেম কাসির আল জাজিরাকে বলেন, ‘অনেকে হিজবুল্লাহর পরাজয়ের কথা বললেও—এটি স্পষ্ট যে তারা এখনো শক্তিশালী এবং সফলভাবে নিজেদের পুনর্বিন্যাস করতে সক্ষম হয়েছে।’
আলোচনাই নির্ধারণ করবে হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ
যুদ্ধ চললেও বর্তমানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় আলোচনা চলছে, যা লেবানন ও হিজবুল্লাহর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম ধারাটি হলো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা। এপ্রিলের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথম দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লেবানন সরকার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। লেবানিজ প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, এটি ১৯৪৯ সালের দুই দেশের মধ্যকার অস্ত্রবিরতি চুক্তির মতো হতে পারে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি কোনো অপমানজনক চুক্তি মেনে নেব না।’
তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং উচ্চকন্ঠে এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। সোমবার হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সরাসরি আলোচনা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের জানা উচিত, তাদের এই আলোচনার পদ্ধতি লেবানন বা তাদের নিজেদের কোনো উপকারে আসবে না।’
দ্বিতীয় ধারাটি হলো ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান স্থবির আলোচনা।
১৯৭৫-১৯৯০ সালের লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইরান তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরান ও পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে বলেছিল, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত, যদিও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করতে পারেন কিনা—এমন প্রশ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনের পর তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকায় ডেমোক্র্যাট নেতারা সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জো মরেল জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে একটি কমিটি সম্ভাব্য ১৫০টি ভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে—যেখানে ভোটকেন্দ্রে অভিবাসন বাহিনী মোতায়েন, ডাকযোগে ভোট বাতিল বা ব্যালট বাক্স জব্দ করার মতো আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও এসবের অনেক কিছু আগে কখনো ঘটেনি, তবুও তারা প্রস্তুতি রাখছেন।
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের চেষ্টার কারণেই এই সতর্কতা। যদিও এবার ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন, তবে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে হেরে গেলে তার আইনি এজেন্ডাগুলো ভেস্তে যাবে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিশংসনের ঝুঁকি বাড়বে। এই ভয়ে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি’র পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন এবং ফেডারেল সরকারকে ভোট গণনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করার জন্য প্ররোচিত করছেন।
ভোটের আগে ও পরে হস্তক্ষেপের ভয়
ডেমোক্র্যাটরা ভয় পাচ্ছেন যে ট্রাম্প ভোট চলাকালীন এবং ভোট গণনার সময়—উভয় ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করতে পারেন। একটি বড় ভয়ের বিষয় হলো, অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের উপস্থিতি কমাতে তিনি আইসিই বা অভিবাসন কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রে পাঠাতে পারেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন একে গুজব বলছে, কিন্তু মিনেসোটার মতো অঙ্গরাজ্যে এর আগে জালিয়াতির অজুহাতে আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে সৈন্য বা সশস্ত্র লোক পাঠানো বেআইনি এবং আদালত তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেবে। তবে ডেমোক্র্যাটদের ভয় হলো, কয়েক জায়গায় আইসিইর অভিযান ল্যাটিনো ভোটারদের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে পারে, যা ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দিয়ে রিপাবলিকানদের সুবিধা করে দেবে। যদিও এর উল্টোটাও হতে পারে—ভয় পেয়ে ভোটাররা আরও বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে আসতে পারেন।
ভোট গণনা
ভোট গণনার সময় কারচুপি করা বেশি কার্যকর হতে পারে। যদি ভোটের ব্যবধান খুব সামান্য হয়, তবে জালিয়াতির সুযোগ বাড়ে। ২০২০ সালে ট্রাম্প ডাকযোগের ভোট গণনা বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। এবারও তিনি ডাকযোগের ভোটকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি একটি নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন যেন ‘নাগরিক নয়’ এমন কাউকে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো না হয়। যদিও বিচারকরা সম্ভবত এটি আটকে দেবেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ এরই মধ্যে ৩০টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাদের ভোটার তালিকা এবং ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন সোশাল সিকিউরিটি নম্বর) হস্তান্তরের জন্য। সমালোচকরা মনে করেন, ট্রাম্প জালিয়াতির অভিযোগ তোলার সময় এই তথ্যগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
সংবিধান কী বলে?
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রেসিডেন্টকে নির্বাচন পরিচালনার কোনো ক্ষমতা দেয়নি; এই ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর। কংগ্রেস চাইলে রাজ্যগুলোর পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু সম্প্রতি কংগ্রেস ট্রাম্পের চাওয়া ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রাম্পের কিছু সমর্থক চান তিনি যেন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ভোটিং মেশিনগুলো নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানে এমন কোনো সুযোগ নেই। ডেমোক্র্যাটরা আরও ভয় পাচ্ছেন যে, ট্রাম্প এফবিআইকে ব্যবহার করে ব্যালট বাক্স জব্দ করতে পারেন, যা ভোট গণনার ধারাবাহিকতা বা ‘চেইন অব কাস্টডি’ নষ্ট করে দেবে।
আস্থার সংকট
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এসব বিতর্কের ফলে সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। একটি জরিপ বলছে, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের আস্থা ৪৪ শতাংশ থেকে কমে এখন ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনি কর্মীরা এখন নিয়মিত হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচন পাল্টে দেওয়া বা বড় ধরনের জালিয়াতি করে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ২০২০ সালেও তিনি সফল হননি। কিন্তু তিনি যা পেরেছেন তা হলো—গণতান্ত্রিক জয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা। তবে আশার কথা হলো, ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ড ডেমোক্র্যাট ভোটারদের আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তু এবং সমরাস্ত্রের ভাণ্ডার পুরোপুরি নতুন করে সাজিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। ইরানের টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া দেশের সামরিক প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা মাথায় রেখেই সেনাবাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশেষ করে স্থলবাহিনী শুধু সীমান্ত রক্ষাই করেনি, বরং ড্রোন এবং মিসাইল হামলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রস্তুতির কারণেই শত্রু পক্ষ স্থলপথে হামলার সাহস দেখায়নি।
আমির আকরামিনিয়া যুদ্ধের ময়দানের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, যুদ্ধের দিনগুলোতে শত্রুপক্ষের ১৭০টিরও বেশি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি ছিল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ইরানের সেনাবাহিনী বা আরতেশ এবং ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগ যৌথভাবে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের অনেক ড্রোনই সাধারণ যুদ্ধবিমানের চেয়েও বেশি কার্যকর, প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত এবং বেশ দামি ছিল। তা সত্ত্বেও ইরানি বাহিনীর নিশানার সামনে সেগুলো টিকতে পারেনি। এর পাশাপাশি ইরানের বিমানবাহিনী কুয়েত, কাতার এবং ইরাকের এরবিল এলাকায় শত্রু ঘাঁটিগুলোতে সফল অভিযান চালিয়েছে। এমনকি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে তাদের ঘাঁটিগুলোতে ইরানের এফ-ফাইভ যুদ্ধবিমানের সেই দুর্ধর্ষ অভিযানের কথা উঠে এসেছে।
সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্রের মতে, যুদ্ধ থেমে যাওয়া মানেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই। তাই যুদ্ধবিরতি বা রণক্ষেত্রের নীরবতার প্রতিটি মুহূর্তকে তারা প্রস্তুতির কাজে লাগাচ্ছেন। যুদ্ধের অমূল্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং আগের চেয়ে অনেক উন্নত রণকৌশল সাজানো হয়েছে।
আকরামিনিয়া বলেন, আমাদের কাছে পরিস্থিতি এখনো যুদ্ধের মতোই। যদি আবারো কোনো আগ্রাসন চালানো হয়, তবে ইরান এমন সব নতুন হাতিয়ার এবং পদ্ধতি ব্যবহার করবে যা শত্রু কল্পনাও করতে পারবে না। বিশেষ করে গত ১২ থেকে ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানি বাহিনীকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দুশমনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে এমন কিছু তুরুপের তাস আছে যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। ইরানের নিরাপত্তার ওপর যদি কোনো আঘাত আসে, তবে আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী জবাব দেয়া হবে।
একইসাথে তিনি ইরানি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের অকুতোভয় সমর্থনই সেনাবাহিনীর আসল শক্তি। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বীর সেনানিরা রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
মার্কিন কংগ্রেসে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। একই দিন হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে তিনি অংশ নেন। দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজা তৃতীয় চার্লসের চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেন চার্লস। ভাষণে চার্লস বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।
রাজা জানান, তিনি তাদের রাজপরিবারের ১৯তম শাসক, যিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়গুলো নিয়ে খোঁজখবর রাখেন।
চার্লস বলেন, ‘তাই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতি গভীর সম্মান নিয়ে আমি আজ এখানে এসেছি। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব মানুষের কথা তুলে ধরা হয় এবং তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়।’
এ সময় তার মা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কথা স্মরণ করে রাজা বলেন, ১৯৯১ সালে আমার মা একই কক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ হাস্যরস ও ইতিহাসের মিশেলে দেওয়া এই ভাষণের সময় আইনপ্রণেতারা বারবার করতালি দেন এবং দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।
পরে হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে চার্লস এবং তার স্ত্রী কুইন কনসর্ট ক্যামিলা অংশ নেন। হোয়াইট হাউসে পৌঁছালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাদের অভ্যর্থনা জানান। সেখানেও বক্তব্য দেন চার্লস। এ সময় ‘একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন রাজা।
জানা যায়, রাজা তৃতীয় চার্লস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি ঘণ্টা উপহার দেন, যা এইচএমএস সাবমেরিনের অংশ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই সাবমেরিন প্রশান্ত মহাসাগরের যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল।
দীর্ঘমেয়াদী শান্তিচুক্তি কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা চলছে। তবে এখন আর প্রকাশ্যে নেই সবকিছু। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালেই চলছে প্রস্তাব ও আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবটি পাকিস্তানের কাছে জমা দিয়েছে। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস ইরানের প্রস্তাবের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেনি। মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো আলোচনা করবে না’। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু এমন চুক্তি করবে, যা মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে এবং কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রস্তাব নিয়ে তিনি খুশি নন বলে জানিয়েছেন। গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইতিমধ্যেই জানে তাদের কী করতে হবে।
পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর ছাড়াও গত কয়েক দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, মিসর ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি সরাসরি আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্প বলেন, তাদের (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। তা না হলে বৈঠক করার কোনো কারণ নেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেহরান চাইলে যোগাযোগ করতে পারে। আপনারা জানেন, টেলিফোন আছে। আমাদের ভালো, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে।’ সাম্প্রতিক এ কূটনৈতিক তৎপরতা সময়ের চাপের মধ্যেই এগোচ্ছে।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এ পর্যন্ত ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে এলেও তাদের কয়েকজন বলেছেন, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিন অভিযান চালানোর যে এখতিয়ার ট্রাম্পের আছে, তা আর বৃদ্ধি করার মতো সমর্থন তিনি পাবেন না।
এবারও মূল ভূমিকায় পাকিস্তান। পাকিস্তানে দুবারের সফরের প্রথম দফায় গত শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি মাসকট সফর করেন এবং রোববার পাকিস্তানে ফিরে আবারও আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
দেশ ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পন্থা ও অতিরিক্ত দাবির’ কারণে আগের দফার আলোচনা কিছু অগ্রগতি সত্ত্বেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এখনো অনেক দূরের বিষয়। কারণ, ইরানের দাবি শুধু হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তারা পুরো আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের দাবি করছে এবং সাম্প্রতিক হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো এমন কিছু দিতে রাজি নয়।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বার্তা সংস্থা ফারসের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। এসব বার্তায় পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অনড় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি এটিকে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি পরিষ্কার করার জন্য ইরানের একটি উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব আইজাজ চৌধুরী মনে করেন, আলোচনা পরিচালনা করার ধরনটা উল্লেখ করার মতো। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমি গোপনীয়তা রক্ষার এক প্রশংসনীয় নজির দেখেছি। এ ধরনের আলোচনা পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও পেশাদার পদ্ধতি।’
আঞ্চলিক সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টায় ইরান
পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর ছাড়াও গত কয়েক দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, মিসর ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল–থানি সরাসরি আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন। সমুদ্রপথ যেন ‘কোনো দর–কষাকষির হাতিয়ার বা চাপ প্রয়োগের কৌশল’ না হয়ে ওঠে, তা নিয়ে আরাগচিকে সতর্ক করেন তিনি।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল–সৌদকে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরান দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেই কথা বলেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ নোয়েল বারো জোর দিয়ে বলেছেন, এ সংকটে ইউরোপ ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রেখেছে।
মাসকটে আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের পর ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ‘নৌ চলাচলের স্থায়ী স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত সমাধান’ খোঁজার আহ্বান জানান।
গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক দানিয়া থেফার বলেন, ঘনঘন হওয়া এ ফোনালাপগুলো কোনো বড় কৌশলগত জোট পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; বরং এটি সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত কূটনৈতিক যোগাযোগের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
থেফার আল–জাজিরাকে বলেন, ইরানের নেতৃত্ব সরাসরি কাতার বা সৌদি আরব সফর না করলেও টেলিফোনে যোগাযোগ হয়েছে। এতে বোঝা যায়, পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক স্বীকৃতি না দিলেও যোগাযোগ বজায় রাখার একটি আগ্রহ বা ইচ্ছা রয়েছে।