শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩
জলবায়ু পরিবর্তন

বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে

পৃথিবী ইতিমধ্যে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে গলছে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:২৪

পৃথিবীর জলবায়ু খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। এই জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা না হলে, বিশেষ করে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি প্রাক-শিল্প সমাজের গড় তাপমাত্রার চেয়ে (১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়, এই বিলুপ্তি আরও দ্রুত ত্বরান্বিত হবে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে পৃথিবী ইতিমধ্যে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে।

জলবায়ু প্রভাবে বিশেষত উভচর প্রাণীদের জন্য বিলুপ্তির প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। পর্বত, দ্বীপ এবং মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্রের প্রজাতি এবং দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন আসে। আবাসস্থল ও প্রজাতিগুলোর দৈনন্দিন জীবন পরিবর্তন হয়।

কিছু প্রজাতি কঠোর পরিবেশগত পরিবর্তনগুলো থেকে বাঁচতে পারে না, যার ফলে প্রজাতির জনসংখ্যা হ্রাস পায় এবং কখনো কখনো বিলুপ্ত হয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার সায়েন্স জার্নালে নতুন গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ পরিচিত প্রজাতি গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এতে বলা হয়, যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো না যায় বিশ্বব্যাপী বহু প্রজাতির মধ্যে আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকবে।

কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মার্ক আরবান লাইভ সায়েন্সকে বলেন, ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

আরবান বলেন, আমরা যদি প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখি, তাহলে বিলুপ্তির ঝুঁকি তেমন আসবে না। কিন্তু ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বিলুপ্তির গতিপথ ত্বরান্বিত হবে। দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের প্রজাতিগুলো সবচেয়ে বড় হুমকির মুখোমুখি।

আরবান বলেন, উভচর প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে। কেননা উভচরদের জীবনচক্র আবহাওয়ার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে এবং বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন ও খরার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। পর্বত, দ্বীপ এবং মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্রেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি রয়েছে। বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তাদের প্রজাতির জন্য প্রতিকূল। তাদের পক্ষে স্থানান্তর এবং আরও অনুকূল জলবায়ু সন্ধান করা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ধীর করতে পারে। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিলুপ্তির ঝুঁকি থামাতে পারে।

আরবান আশা করছেন, গবেষণার ফলাফলগুলো বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের ওপর প্রভাব ফেলবে। নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল বার্তা হলো, এটি সম্পর্কে আরও বেশি নিশ্চিত করা।


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ জুন, ২০২৬ ১৪:২০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার দেশটির রিসোর্ট এলাকা বুর্গেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত এই আলোচনাটি আপাতত হচ্ছে না। তবে কী কারণে বৈঠকটি বাতিল হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানান, এই আলোচনার ‘লজিস্টিক’ বা ব্যবস্থাপনাগত বিষয়গুলো আগে থেকে চূড়ান্ত ছিল না। তিনি বলেন, “এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না।” মুখপাত্র আরও যোগ করেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি আলোচনা শুরু করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।”

এর আগে বুধবার রাতে এক আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ভার্চ্যুয়ালি একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্স থেকে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরান থেকে এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিতে সই করেন। যদিও আজ জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা ছিল, তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ জানিয়ে দেন যে ওই অনুষ্ঠানটি আর হচ্ছে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তিটি বাস্তবায়ন শুরু করছে কি না, ইরানি আলোচকরা তা আগে নিশ্চিত হতে চান।

চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ করা অর্থ ছাড় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান যত দিন “ঠিকঠাক আচরণ” করবে, তত দিন তিনি এই সময়সীমা নিয়ে ভাববেন না। তবে চুক্তির একটি প্রধান শর্ত—লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়া—এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ইসরায়েল তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখায় তেহরান সতর্ক করে বলেছে, এটি সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তাফা কোসচেশম আল-জাজিরাকে বলেন, “লেবাননে যদি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে। ইসরায়েলকে সামলে রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে চুক্তির পর ইতিবাচক কিছু সংকেতও মিলেছে; হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনার স্থবিরতা কাটানো এখন বিশ্ব শান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ব্রিটেনে আড়াই লাখ নারী ‘গ্রুমিং গ্যাং’এর যৌন নির্যাতনের শিকার, অপরাধীদের বড় অংশ পাকিস্তানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরীদের ওপর পরিচালিত সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের এক লোমহর্ষক চিত্র সামনে আসার পর দেশজুড়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লোর প্রকাশিত ২১৮ পৃষ্ঠার একটি ব্যক্তিগত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক দশকে দেশটিতে অন্তত আড়াই লাখ মেয়ে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্য সরকার বা পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ নয়, তবে এতে উঠে আসা তথ্যাবলি দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাদের একটি বিশাল অংশই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষ। এই ‘গ্রুমিং গ্যাং’ মূলত এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা দারিদ্র্য, পারিবারিক কলহ কিংবা সামাজিক ঝুঁকির মুখে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্বেতাঙ্গ মেয়েদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। অপরাধের প্রথম পর্যায়ে তারা মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্বের ছলে ভালোবাসা ও যত্নের ভান করে গভীর বিশ্বাস অর্জন করে। পরবর্তীতে সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের যৌন নির্যাতনের এক অন্ধ চক্রে আটকে ফেলা হয়। প্রতিবেদনে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, অনেক ভুক্তভোগীকে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পাচার করে বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এমপি লোর এই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের সরকার এই সংকটকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। সমালোচকদের মতে, অপরাধীদের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয় পাকিস্তানি মুসলিম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্ণবাদী তকমা পাওয়ার ভয়ে অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাবোধ করেছে। ফলে যথাযথ অভিযোগ সত্ত্বেও অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে এবং ভুক্তভোগীদের কান্না অরণ্যরোদনে পরিণত হয়েছে।

যদিও ইয়াহু নিউজের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর এই সংখ্যার পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানগত প্রমাণ নেই। তবে সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও লোর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের যে বিস্তারিত জবানবন্দি ও অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। সেখানে নির্যাতিতারা জানিয়েছেন, কীভাবে তারা বছরের পর বছর ধরে হুমকি, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং চরম মানসিক নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে পার করেছেন। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ১৪৯টি প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের অপরাধচক্রের সক্রিয় অস্তিত্বের তথ্য এই নথিতে পাওয়া গেছে।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিবেদনটি সম্পন্ন করতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছে এবং এতে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুপার্ট লো। এই বিশাল ব্যয়ভার কোনো সরকারি তহবিল থেকে নয়, বরং জনসাধারণের অনুদানের মাধ্যমে মেটানো হয়েছে। এর আগেও যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে ‘জে ইনকোয়ারি’ এবং ‘টেলফোর্ড ইনকোয়ারি’-র মতো একাধিক আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়েছে। তবে বর্তমান প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে পুরো যুক্তরাজ্যে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অতীতে অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই পুরনো প্রশ্নটি এখন আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।


শান্তির পথে কলম্বিয়া: নির্বাচনের প্রাক্কালে ১০০ গেরিলার অস্ত্র সমর্পণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় পুতুমায়ো বিভাগের গহীন অরণ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অব দ্য বলিভারিয়ান আর্মি’-র ৯৯ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্ত্র জমা দিয়েছেন। বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ‘টোটাল পিস’ বা ‘পূর্ণ শান্তি’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আগামী রোববার দেশটিতে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটল।

প্রেসিডেন্ট পেট্রোর দীর্ঘদিনের শান্তি প্রচেষ্টার ইতিহাসে এই পদক্ষেপকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অরণ্যের মধ্যে আয়োজিত এই নিরস্ত্রীকরণ অনুষ্ঠানে ছদ্মবেশী পোশাক পরিহিত গেরিলারা একটি বড় কনটেইনারে তাদের ব্যবহৃত রাইফেল ও সমরাস্ত্র জমা দেন। ওই কনটেইনারের গায়ে বড় অক্ষরে লেখা ছিল: “আমি জীবনের পক্ষে, আমি শান্তির অঙ্গীকার পূরণ করছি।” সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিদ্রোহীদের আইনি অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার এটি প্রথম ও প্রধান ধাপ।

অস্ত্র ত্যাগ করা এই গোষ্ঠীটি মূলত ২০১৬ সালের শান্তি চুক্তির পর ফার্ক (FARC) বিদ্রোহী গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত হয়েছিল। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পেট্রো সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এখন পর্যন্ত এই গোষ্ঠীটিই সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। সরকারি শান্তি প্রতিনিধি দলের প্রধান আর্মান্দো নোভোয়া এই পদক্ষেপের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “এটি কলম্বিয়ার সমাজের জন্য একটি খুব শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন যুদ্ধ নিয়ে এত বেশি উত্তেজনা ও আলোচনা চলছে।”

তবে এই ‘পূর্ণ শান্তি’ নীতির ভবিষ্যৎ এখন কলম্বিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ওপর ঝুলে আছে। আগামী রোববারের নির্বাচনে শান্তি নীতির সমর্থক এবং এর ঘোর বিরোধী ডানপন্থী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। ফলে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই শান্তি প্রক্রিয়া কতটুকু বেগবান থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।


ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধীদের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ তৈরিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার কারাকাসে এই সংলাপের রূপরেখা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে এই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় একটি অবাধ ও উন্মুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য যে পরিকল্পিত প্রক্রিয়া শুরু হবে, এ বৈঠক তার প্রথম ধাপ।’

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আট বছরের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা দিনোরাহ ফিগুয়েরা। কারাকাসে পৌঁছানোর পর তিনি জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে মিলিত হন। পেশায় চিকিৎসক ৬৫ বছর বয়সী ফিগুয়েরা ২০১৫ সালে জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিজের এক সহকর্মীর মৃত্যুর পর নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে; বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে নিউইয়র্কে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে।

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিনোরাহ ফিগুয়েরা তার নতুন লক্ষ্য সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে এসব চ্যালেঞ্জ...বিশেষ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার দায়িত্ব নিতে এসেছি।’ যদিও বিরোধীদলীয় আরেক নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নিজস্ব একটি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন, তবে ফিগুয়েরা তার স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে এই সংলাপে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে তিনি মূলত ২০১৫ থেকে ২০২০ মেয়াদের বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, হোর্হে রদ্রিগেজ বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ভাই।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলায় একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ফিগুয়েরা এর আগে গত এপ্রিলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল রূপান্তরের পথ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি মাসের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার কথা স্পষ্ট করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আর চূড়ান্ত অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও বহুদলীয় নির্বাচনই ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ।’ এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে কতটুকু এগোতে পারবে, এখন সেটিই বড় পর্যবেক্ষণ।


ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চুক্তি করেছেন: মোজতবা খামেনি

ছবি কোলাজ- দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত সাম্প্রতিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার খাতিরে ওই অঞ্চলে এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক চুক্তির বিষয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন যে, ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হলেও তা কখনো ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়ার শামিল হবে না’। খামেনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির কিছু ধারায় ব্যক্তিগতভাবে তার আপত্তি থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি এর অনুমোদন দিয়েছেন। মূলত ইরানের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বস্ত করেছেন।

উভয় দেশের মধ্যকার এই সমঝোতার প্রধান স্তম্ভগুলোর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার। এর বিনিময়ে ইরানের পুনর্গঠন ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা হবে। এছাড়া দুই পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা প্রয়োজনে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরও বাড়ানো হতে পারে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে যে, দূরবর্তী পদ্ধতিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে চুক্তির খুঁটিনাটি ও কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফর আপাতত স্থগিত করা হলেও তিনি জানিয়েছেন যে, আলোচনার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে তিনি শীঘ্রই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ দেশটির ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান শিবিরের একাংশ ইরানের জন্য বিশাল আর্থিক তহবিল গঠনের বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারছে না। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই সমঝোতাকে ‘দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে সমালোচনার জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না করলে তেহরান কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা বা আর্থিক ছাড়ের সুযোগ পাবে না।

চুক্তির বিরোধিতা করা ইসরাইলি মন্ত্রীদের কড়া সমালোচনা করে ভ্যান্স মন্তব্য করেন, ‘বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে’। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের বৈরুতে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটানো হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তবে এই উচ্চপর্যায়ের চুক্তি ঘোষণার পরেও রণক্ষেত্রে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।


নাইজারের বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা: সেনাসদস্যসহ ৩৫ প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশটির প্রধান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বন্দুকধারীদের এই আকস্মিক আক্রমণে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিমানবন্দর এলাকা। নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোট ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন; বাকি ২২ জনই হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

পাঁচ মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা। আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গি সংগঠন ‘জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ (জেএনআইএম) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও অবিরাম গুলির শব্দ ভেসে আসতে থাকে। বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে জানান, “ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তারা নামাজ শেষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে তারা কোনো দুর্ঘটনা মনে করলেও দ্রুতই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

হামলা শুরুর পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানে ২২ জন হামলাকারীকে খতম করা হয়েছে এবং চারজন আহত অবস্থায় ধরা পড়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন আরও ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে যার মধ্যে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি রয়েছে।

সংঘর্ষ থামার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, “হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।” ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষও লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন, যদিও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সরাসরি অভিযানে অংশ নিতে নিষেধ করে। বর্তমানে বিমানবন্দর সংলগ্ন রাস্তায় কঠোর নিরাপত্তা ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ এই বর্বরোচিত হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর বীরত্বের প্রশংসা করে তিনি জানান যে, তাদের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেয়েছে। উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দরটি শুধু বেসামরিক চলাচলের জন্যই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর জোটের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

নাইজারে গত এক দশক ধরে চলা জঙ্গি দমনে ব্যর্থতার জেরে সেখানে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী একই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল। ওই সময়ে সামরিক জান্তা প্রধান আবদুরাহামানে তিয়ানি রাশিয়ার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের ওপর হামলাকারীদের ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।

সম্প্রতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের চারপাশের জনবসতি উচ্ছেদ ও ৩৫০টির বেশি উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। তবে এত কড়াকড়ির মধ্যেও এই হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হামলাকারীদের সহযোগীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।


‘পুশইন’ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ–ভারত সংলাপ করা উচিত: মন্তব্য জাতিসংঘের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্তে ‘পুশইন’ সমস্যা সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৭ জুন) নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন দুজারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত প্রসঙ্গে আবারও বলছি—আন্তর্জাতিক মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, লেবানন, দক্ষিণ সুদান এবং হাইতির দিকে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি—এই বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত এবং এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

দ্বিতীয় আরেকটি প্রশ্নে দুজারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (জিএ) নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আর কয়েক মাস পর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্বে কাজ শুরু করবেন। অন্যদিকে, মহাসচিব এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাহলে এখন কি আমরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?

জবাবে তিনি বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গা বিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’


বিশ্বের রাষ্ট্রহীন মানুষের ৪১ শতাংশই রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রহীন মানুষের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪১ শতাংশই রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, সহিংসতা ও বৈষম্যের কারণে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪৫ লাখ মানুষ রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গা, যা মোট রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশ। এসব রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইউএনএইচসিআর বলছে, সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রহীন মানুষের বসবাস রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার কোনো স্বীকৃত নাগরিকত্ব নেই।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো স্থায়ী সমাধান বা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ ছাড়া পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তারা শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জন শরণার্থীর মধ্যে প্রায় ৭ জন দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও এর অন্যতম বড় উদাহরণ।

মিয়ানমার এখনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে। দেশটির চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত রাষ্ট্রহীন মানুষের বড় অংশই রোহিঙ্গা, যারা মিয়ানমারের ভেতরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।


ইউক্রেন পুড়লে, মস্কোও জ্বলবে: জেলেনস্কি

ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার হামলার জবাবে সব ধরনের পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রাখবে ইউক্রেন। এর ধারাবাহিকতায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে সম্পূর্ণ ন্যায্য বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির ভাষায়, যদি পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে না চান এবং তা চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না-আমরা জবাব দেব। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন পুড়লে, মস্কোও জ্বলবে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান, কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভ্রা নামের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর তেল শোধনাগারে এই আঘাত হানা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগেই এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

জেলেনস্কি বলেন, মস্কোর শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে যা উল্লেখযোগ্য সাফল্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, মস্কোর ওই তেল শোধনাগার শহরের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি খাত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অস্ত্র উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানান জেলেনস্কি। তার মতে, এতে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা হারাবে। রুশ জনগণের উচিত তাদের নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে যুদ্ধ বন্ধের পথে অগ্রসর হওয়া যায়।

ইউক্রেনকে ৫২২ মরদেহ ফেরত দিয়েছে রাশিয়া

যুদ্ধবন্দি বিনিময় ও প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ৫২২ জনের মরদেহ ইউক্রেনে ফেরত পাঠিয়েছে রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা ৫২২ জন নিহত ব্যক্তির মরদেহ গ্রহণ করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে নিহতদের ইউক্রেনের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সদস্যরাও রয়েছেন।

ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিবিষয়ক সমন্বয় সদর দপ্তর কোঅর্ডিনেশন হেডকোয়াটার্স ফর দ্য ট্রিটমেন্ট অব প্রিজনার্স অব ওয়ার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার পক্ষ থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে এবং যাচাই–বাছাই ও শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ইউক্রেনিফর্ম।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সময় নিয়মিতভাবে বন্দি বিনিময় ও নিহতদের মরদেহ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রতিবারই হস্তান্তর হওয়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তথ্য যাচাই নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। দেশটির অন্তত ২০ শতাংশ ভূমি এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখল করা ক্রিমিয়ার দক্ষিণাঞ্চলও রয়েছে। ধারণা করা হয়, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লাখ লাখ মানুষ হয় মারা গেছে বা আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একটি বড় অংশই সৈন্য।


তুলে নেওয়া হলো মমতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীদের (পিএসও) গত বুধবার (১৭ জুন) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা।

নতুন করে ৪-৫ জনকে পিএসওর দায়িত্ব দিয়ে মমাতর বাড়িতে পাঠানো হলেও তাদের গ্রহণ করেননি মমতা। ফলে বুধবার (১৭ জুন) রাতে তার বাড়ির বাইরের পুলিশ বক্স পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। রাতে সেখানে কোনো পুলিশ দেখা যায়নি। এর মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি।

বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রবেশ করেন তার অনুগামী সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। পরে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সাংসদ ছিলেন সেই সময় থেকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এই কয়েকজন পিএসও। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিশের পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর যাদের পাঠানো হয়, তাদের কাউকেই চেনেন না মমতা।

ডেরেক বলেন, রাত সাড়ে ৯টায় কয়েকজন অচেনা অফিসারকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আপাতত মমতার বাড়িতে রাষ্ট্রীয় স্তরের কোনো রকমের পুলিশি নিরাপত্তা নেই বলে জানিয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন নিরাপত্তারক্ষী রেখেছি।’ এই কথা বলার পর মেন গেটে তালা দিয়ে ডেরেক ও ব্রায়েনকে বের হতে দেখা যায়।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়। তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা যাতে পুরোপুরি বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই নিয়ম ও প্রোটোকল হিসেবে মমতার জন্য দশজন পিএসও এবং সর্বোচ্চ স্তরের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বরাদ্দ থাকার কথা।

জেড-প্লাস নিরাপত্তা হলো ভারতের কোনো ভিআইপি বা ভিভিআইপি ব্যক্তিকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জীবননাশের হুমকির মুখে থাকা দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অত্যন্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিশেষ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

জেড-প্লাস নিরাপত্তার মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে সর্বমোট ৫৫ জনের একটি সুদক্ষ দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। যার মধ্যে ১০ জনের বেশি ক্ষীপ্রগতির এনএসজি কমান্ডো এবং বাকিরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য হন। এই কমান্ডোরা মার্শাল আর্ট ও বিনা অস্ত্রে লড়াইয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও পারদর্শী হন এবং তাদের কাছে সবসময় আধুনিক এমপি-৫ বন্দুক ও অত্যন্ত উন্নতমানের যোগাযোগের যন্ত্র থাকে। এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা স্তর, যার অবস্থান মূলত স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি নিরাপত্তার ঠিক পরে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে সই করেছে: শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে এ চুক্তিতে সই করেছেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এএফপি ও ডনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

তিনি জানান, পাকিস্তান ও কাতারের সহায়তায় শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ডিজিটালভাবে চুক্তিতে সই করায় সুইজারল্যান্ডে আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না।

শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সই করেছেন। তিনি নিজেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এতে অনুমোদন দিয়েছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প স্মারকটিতে সই করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সবে সই করলাম।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে দলিলটি চূড়ান্ত হয়েছে।

শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ট্রাম্পের অঙ্গীকার এমন একটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে, যা এই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত।

তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

এ ছাড়া, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং দেশটির আলোচক দলের সদস্য মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, আব্বাস আরাগচি ও এসকান্দার মোমেনির ভূমিকাও তুলে ধরেন।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল ছাড়ে সহযোগিতা করবে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা খসড়া অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ঘনত্ব কমাবে। এ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে দেশটির ভেতরেই সম্পন্ন হতে পারে।

চুক্তির লক্ষ্য হলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ওই সংঘাতের জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে।


আমরা ইরানের প্রচুর অর্থ নিয়েছি, সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, ইরানের ‘প্রচুর’ অর্থ আটকে রেখেছে আমেরিকা এবং সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ওদের প্রচুর টাকা নিয়েছি, এবং ওদের সেই টাকা আমাদের কাছেই আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের টাকা নয়, ওদেরই টাকা। একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সেটা আটকে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, এবার টাকাটা আমাদের ফেরত দিতেই হবে। বুঝতেই পারছেন, যদি ফেরত না দিই, ভবিষ্যতে আর কেউ কখনও ডলারে বিনিয়োগ করবে না।’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযানের অবসান ও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া। একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনারও মঞ্চ প্রস্তুত করেছে এই চুক্তি।

চুক্তি অনুযায়ী, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে মিলে আমেরিকা একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রণীত পরিকল্পনা’ করবে। এর লক্ষ্য, ইরানের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিজে থেকে কোনো টাকা দেব না। ওরা যদি ভালোভাবে চলে, তবেই এই প্রশ্ন উঠবে। ওরা সব শর্ত মেনে চললে, কেউ যদি ওদের ওখানে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বিনিয়োগ করতে পারবে...ওদের জন্য এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থাকছে ঠিকই—তবে শর্ত হচ্ছে, ওদের ঠিক পথে চলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা কথা মনে রাখবেন, আমরা যখন ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের’ কথা বলছি, ওদের কিন্তু ইতোমধ্যেই এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে।’ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা ঠিকঠাক আচরণ করা শুরু করলেই দ্রুত নতুন কিছু ঘটবে।’

আমেরিকার প্রকাশ করা ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ইরানের ওপর থেকে ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অভ গভর্নরসের রেজোল্যুশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে চাপানো সমস্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞাও বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।


হরমুজে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এখন থেকে ইরান যখন খুশি হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক মূল্যায়নে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ তথ্যের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ আঘাত হানার এক নতুন ও শক্তিশালী হাতিয়ার হাতে পেয়ে গেছে তেহরান।

পারমাণবিক আলোচনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে দিতে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে খসড়া চুক্তি সই হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই ইরান প্রমাণ করে দিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন তারা অনায়াসে এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত এক সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা এখন কার্যত ইরানের হাতেই এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছি—এ হাতিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী।’ এ যুদ্ধ ভবিষ্যতের কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে তেহরানের চিন্তাভাবনায় আমূল পরিবর্তন এনেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে ওয়াকিবহাল দ্বিতীয় এক সূত্র জানায়, উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়ে ইরান নিজেদের আরেকটি 'অসম সক্ষমতার' শক্তির প্রমাণ পেয়েছে। যুদ্ধের সময় এই কৌশল প্রয়োগ করে তারা অভাবনীয় সফলতা পেয়েছে। ভবিষ্যতে একে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর আরেকটি বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে ইরান।

হরমুজ পুরোপুরি খুলে দিতে ইরানের ব্যাপক আলোচনা চালাতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এটাই প্রমাণ করে এ অঞ্চলে ইরানিদের প্রভাব কতটা প্রবল। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল সিএনএন।

একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, হরমুজ খোলা না রাখলে ও অন্যান্য শর্ত মেনে না চললে খসড়া চুক্তির ‘কোনো সুবিধাই’ ইরান পাবে না। সুবিধাগুলোর বিস্তারিত না জানালেও তিনি বলেন, ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচল যতটা স্বাভাবিক করবে, যুক্তরাষ্ট্রও ঠিক সেই অনুপাতে অবরোধ শিথিল করবে।

খসড়া চুক্তি সম্পর্কে অবগত আরেক সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, হরমুজে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল ইরান। কিন্তু তাদের এই পদক্ষেপে চীনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তির শর্ত নিয়ে ধোঁয়াশা ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।

হরমুজ প্রণালীকে ভবিষ্যতেও ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারবে—ইরানের এই বিশ্বাসের মূল কারণ দেশটির বিশাল অস্ত্রভান্ডার এখনো প্রায় অক্ষত। তাদের মিসাইল, ড্রোন, মিসাইল লাঞ্চার ও শত শত ছোট ফাস্টবোট এখনো হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাড়া করছে। এই নৌযানগুলো দিয়ে সমুদ্রে মাইন পাতা যায়। এছাড়া ওয়াশিংটনের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইরানের সামরিক শিল্প খাত। ইতোমধ্যেই নতুন ড্রোন তৈরিও শুরু করেছে তেহরান।

হরমুজ উন্মুক্ত হওয়ার পর মিত্রবাহিনী কোনোভাবে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল দেবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

আপাতদৃষ্টিতে দুই পক্ষ প্রণালীটি খুলে দেওয়া ও চলমান সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে চুক্তিতে সই করলেও পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি ভিন্ন। একাধিক সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরান একটি অর্থনৈতিক ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে। সেটি হলো—ইয়েমেনে ইরানের প্রধান মিত্র হুথিদের দিয়ে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করা এই প্রণালি বিশ্ববাণিজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ধমনি। ইরান হরমুজ কার্যত বন্ধ করে রাখায় গত কয়েক মাস ধরে বাব-এল-মান্দেবই ছিল আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের মূল লাইফলাইন।

মার্কিন গোয়েন্দাদের এই সামগ্রিক মূল্যায়ন আরেকটি বিষয় সামনে এনেছে। ইরানের হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার জেদকে পাত্তা না দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, এটি তারই দীর্ঘমেয়াদি কুফল। একইসাথে এই ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিকে হাতিরা করতে তেহরানের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যে সংকটের সমাধান দুই দেশের মধ্যকার সাময়িক খসড়া চুক্তি দিয়ে সম্ভব নয়।

ইরান প্রণালীটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়মিত বিরতিতে একটি বিষয় খতিয়ে দেখছে—ভবিষ্যতে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে তেহরান এই একই হাইয়ার ব্যবহার করতে পারে।

গোয়েন্দা মহলে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য না এলেও, মার্কিন মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক বেশি। কারণ, নিজেদের সক্ষমতা তেমন না বাড়িয়েই তারা অনায়াসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে সফলভাবে আঘাত হানতে পেরেছে।

এখন যেহেতু ইরান প্রমাণ করেছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো ইচ্ছা ও ক্ষমতা—দুটোই তাদের আছে, তাই মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই মনে করছেন, ভবিষ্যতে তারা আবারও এই একই পদক্ষেপ নেবে।

সোমবার মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ‘এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ করার কোনো সুযোগই আর না থাকে।’

তবে ইরান চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে তেহরানকে কীভাবে হরমুজ বন্ধ করা থেকে বিরত রাখা যাবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায় নীরবই থেকেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন নৌঅবরোধ তুলে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে, তখন ইরানকে কীভাবে ঠেকানো হবে, সে ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট জবাব মেলেনি।


banner close