গত ৩ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা থিয়েটারের বাইরে পদদলিত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় তারকা আল্লু অর্জুনকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বহুল প্রতীক্ষিত ছবি 'পুষ্পা ২: দ্য রুল'-এর প্রদর্শনীতে অভিনেতার অনির্ধারিত উপস্থিতির সময় নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল্লু অর্জুনকে জুবিলি হিলসের বাসভবন থেকে হেফাজতে নিয়ে চিক্কাদপল্লি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার বাবা ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা আল্লু অরবিন্দ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাসায় ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেতা সোমবার পর্যন্ত তার আটকাদেশ স্থগিত রাখার আবেদন করেন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে হায়দরাবাদ পুলিশ আল্লু অর্জুন, তার নিরাপত্তা দলের সদস্য এবং সন্ধ্যা থিয়েটারের ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ওই দিন অভিনেতাকে এক পলক দেখার জন্য প্রচুর ভিড় হওয়ায় পদপিষ্টের ঘটনায় তাদের ভূমিকার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই বোর্ডে ফিলিস্তিন কিংবা আরব বিশ্বের কোনো মুসলিম নেতার নাম নেই।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত সদস্যের এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা ও দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বোর্ডের দৈনন্দিন কৌশল ও কার্যক্রম তদারকিতে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আরিয়েহ লাইটস্টোন ও জশ গ্রুয়েনবাউম। গাজার জন্য হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বুলগেরিয়ার রাজনীতিক ও জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ।
এছাড়া গাজার নিরাপত্তা তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এর প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রতিটি সদস্য গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দিষ্ট খাতের দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবে শাসন সক্ষমতা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ তহবিল সংগ্রহ ও মূলধন ব্যবস্থাপনা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অন্তর্বর্তী কাঠামোকে পূর্ণ সমর্থন দেবে এবং ইসরায়েল, গুরুত্বপূর্ণ আরব দেশসমূহ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
এদিকে পিস বোর্ডে টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ইরাক আগ্রাসনে তার ভূমিকার কারণে ব্লেয়ার এখনো আরব বিশ্বে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ‘কোয়ার্টেট’-এর বিশেষ প্রতিনিধি হয়েছিলেন, তবে ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ২০১৫ সালে পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) ‘অপারেশন আয়রন সোর্ড’ পরিচালনা করে গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭১ হাজার ৪১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাদের বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা
গাজায় টানা দুই বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের পর ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ও আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধই এ সংকটের মূল কারণ। খবর ফ্রান্স২৪ এর।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। গাজা ও লেবাননে লড়াই চলমান থাকা এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হলো।
গাজা যুদ্ধ দ্রুতই লেবাননের সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ শুরু হয়। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই সংঘাতে গাজা ও লেবানন সীমান্তে কয়েক লাখ সেনা ও রিজার্ভ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং দক্ষিণ লেবাননে ৪ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ৭ অক্টোবরের পর থেকে তাদের এক হাজার ১০০-এর বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এই যুদ্ধে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে বসবাসকারী প্রায় ২০ লাখ মানুষ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকটে ভুগছেন। ফিলিস্তিনি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজাবাসী এক ধরনের ‘মানসিক আগ্নেয়গিরি’র মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে দুঃস্বপ্ন, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার মতো উপসর্গ ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হামাসকে নির্মূল, জিম্মিদের উদ্ধার এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব পড়েছে। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় যেসব সেনাঘাঁটি আক্রান্ত হয়েছিল, সেখানে থাকা অনেক সেনাও এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে যুদ্ধাহত হিসেবে চিকিৎসাধীন ২২ হাজার ৩০০ জন সেনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর মধ্যে ৬০ শতাংশই পোস্ট–ট্রমার সমস্যায় ভুগছেন।
এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিসর ও বাজেট বাড়ানো হয়েছে। বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহারও প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে তাদের আওতায় থাকা সামরিক সদস্যদের ৩৯ শতাংশ মানসিক সহায়তা নিয়েছেন এবং ২৬ শতাংশ বিষণ্নতার উপসর্গের কথা জানিয়েছেন।
এনজিও হাগাল শেলির মতো কয়েকটি সংগঠন সার্ফিংসহ বিকল্প থেরাপির মাধ্যমে পিটিএসডিতে ভোগা শত শত সেনা ও রিজার্ভ সদস্যকে সহায়তা দিচ্ছে। কেউ কেউ থেরাপি ডগের সহায়তাও নিচ্ছেন।
উত্তর ইসরায়েলের এমেক মেডিকেল সেন্টারের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রোনেন সিদি বলেন, সেনারা মূলত দুই ধরনের মানসিক আঘাতে ভুগছেন। একদিকে রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে ও দেশে অবস্থানকালীন মৃত্যুভয়ের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে রয়েছে ‘নৈতিক আঘাত’। অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তের কারণে নিরীহ মানুষের ক্ষতির দায়বোধ।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নৃশংসতাকে গণহত্যার অভিযোগ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছে মিয়ানমার।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং দাবি করেন, ২০১৭ সালে রাখাইনে পরিচালিত ওই অভিযানটি ছিল মূলত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জবাবে একটি ‘বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’।
তিনি গাম্বিয়ার আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যার সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই শুনানিতে মিয়ানমার সরকার তাদের সামরিক পদক্ষেপকে আইনিভাবে সঠিক বলে প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই আগ্রাসনকে এর আগে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘জাতিগত নির্মূল’ এবং ‘গণহত্যার উদ্দেশে পরিচালিত অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, ওই অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ব্যাপক আকারে যৌন নিপীড়ন ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এই নৃশংসতার মুখে জীবন বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ওআইসির সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে গণহত্যার মামলাটি দায়ের করে।
শুনানি চলাকালীন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জাল্লো আদালতে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সমূলে ধ্বংস করার উদ্দেশেই মিয়ানমার দশকের পর দশক ধরে পরিকল্পিত ও ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। তবে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং গাম্বিয়ার এসব তথ্য প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের প্রতিবেদন অভিযোগ প্রমাণের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নেইপিদোর দাবি অনুযায়ী, গাম্বিয়া যেসব নথি উপস্থাপন করেছে তা অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ। এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার মূলত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৈতিক চাপ থেকে নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় কেবল মিয়ানমারের জন্য নয় বরং বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলার ক্ষেত্রেও আইসিজের এই পর্যবেক্ষণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাম্বিয়া বারবার জোর দিয়ে বলছে, রোহিঙ্গাদের জীবনকে মিয়ানমার দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে এবং এই বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে মিয়ানমার এই মামলাটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে সরে আসার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, অন্য কোনো দেশ বা নেতার প্রভাবে নয়, বরং সম্পূর্ণ নিজের বিচার-বিবেচনা থেকেই তিনি ইরান আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্লোরিডায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাম্প্রতিক গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে এই মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে সম্প্রতি আলোচনা চলছিল যে, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর পরামর্শেই হয়তো ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বিরত থেকেছেন। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউ তাকে বোঝায়নি বা প্রভাবিত করেনি, বরং এই সিদ্ধান্তটি একান্তই তার ব্যক্তিগত।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে ইরানের সাম্প্রতিক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, ইরানে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতা ও আটকের ঘটনার পাশাপাশি শত শত মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের নেতৃত্ব সেই কঠোর পথ থেকে সরে আসায় ট্রাম্পের মনোভাবে পরিবর্তন আসে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, গত বৃহস্পতিবার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল, তা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন। রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো এবং মানবাধিকার রক্ষার এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক মনে হয়েছে। মূলত এই মানবিক দিকটিই তার যুদ্ধবিরোধী সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল। তবে গত বুধবার ট্রাম্প জানতে পারেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এরপরই তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক ও সমঝোতামূলক সুর গ্রহণ করেন।
সিরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কুর্দিদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে একটি ঐতিহাসিক আদেশ জারি করেছেন। এই আদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কুর্দি ভাষাকে দেশটিতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সিরিয়ার সব কুর্দি নাগরিককে তাদের হারানো নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্টের জারি করা নতুন এই আদেশের মাধ্যমে সিরিয়ান কুর্দিদের অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হলো। আদেশে বলা হয়েছে, কুর্দি পরিচয় এখন থেকে সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এতদিন কেবল আরবি ভাষা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত থাকলেও এখন থেকে আরবির পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকেও জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কুর্দি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে, যা কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় সাংস্কৃতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত এক বিতর্কিত আদমশুমারির সময় যেসব কুর্দির সিরীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যারা রাষ্ট্রহীন বা বিদেশি হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন, তারা এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গ পুনরায় সিরিয়ার পূর্ণ নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন। এছাড়া আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত সব ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দিলে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে এই ডিক্রিতে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট এই আদেশ জারি করলেন। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে কুর্দি যোদ্ধারা সরে গেলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে। আলেপ্পোর এই সহিংসতা সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ গভীর বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছিল। ১৪ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের পর দেশকে এক নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্ট শারা দিয়েছিলেন, তা কুর্দি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছিল। শারার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি কুর্দি বাহিনীগুলোর সন্দেহ ও অবিশ্বাস দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর কাছ থেকে এই সম্মান ও স্বীকৃতি কখনো কেড়ে নেওয়া যায় না বা হস্তান্তর করা যায় না। তবে বিজয়ী চাইলে তার প্রাপ্ত পদকটি অন্য কাউকে উপহার হিসেবে দিতে পারেন। গত বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার প্রেক্ষিতে শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই ব্যাখ্যা দিয়েছে নোবেল কমিটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার নোবেল পদকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, মাচাদো একটি সোনার ফ্রেমে বাঁধানো পদকটি ট্রাম্পকে দিচ্ছেন। এই উপহারের জন্য ট্রাম্প তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প পদকটি নিজের কাছে রেখে দিতে চান।
এই ঘটনার পর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, পদক, সম্মাননাপত্র কিংবা পুরস্কারের অর্থের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত যা-ই ঘটুক না কেন, পুরস্কারের প্রাপক হিসেবে প্রকৃত বিজয়ীর নামই আজীবন ইতিহাসের পাতায় নথিভুক্ত থাকবে। বিজয়ী ব্যক্তি তার পদক বা অর্থ দিয়ে কী করবেন, সে বিষয়ে নোবেল ফাউন্ডেশনের কোনো বাধ্যবাধকতা বা নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থাৎ একজন বিজয়ী চাইলে এই স্মারকগুলো নিজের কাছে রাখতে পারেন, কাউকে দান করতে পারেন অথবা বিক্রিও করে দিতে পারেন।
পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, স্বর্ণের পদক ও সম্মাননাপত্র মূলত নোবেল পুরস্কারের বস্তুগত প্রতীক মাত্র। পুরস্কারের প্রকৃত মাহাত্ম্য নিহিত রয়েছে এর সম্মান ও স্বীকৃতির মাঝে, যা বিজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে থাকে। বিবৃতিতে ট্রাম্প বা মাচাদোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও কমিটি জানিয়েছে, পুরস্কার ঘোষণার পর কোনো বিজয়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা সাধারণত কোনো মন্তব্য করে না।
এর আগে গত সপ্তাহে মাচাদো যখন ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তখন কমিটি জানিয়েছিল যে একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল বা ভাগ করা যায় না। তবে উপহার হিসেবে নোবেল পদক হস্তান্তরের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাহিত্যে নোবেলজয়ী ন্যুট হামসুন ১৯৪৩ সালে তার পদক হিটলারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে উপহার দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২২ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ ইউক্রেনের শরণার্থী শিশুদের সহায়তায় নিজের পদক ১০ কোটি ডলারে বিক্রি করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে কফি আনানের স্ত্রী তার স্বামীর পদক জাতিসংঘে দান করেছিলেন।
ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার পর অবশেষে সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে মোবাইল এসএমএস আদান-প্রদান সেবা পুনরায় সচল করা হয়েছে বলে ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। তবে এসএমএস চালু হলেও মোবাইল ব্যবহারকারীরা এখনো ফোনকল করা বা কথা বলার মতো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সুবিধা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবাও এখন পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৪৭ বছরে দেশটি এমন নজিরবিহীন ও ব্যাপক মাত্রার গণবিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেনি। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নকে দায়ী করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে মানের পতনের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় মুদ্রার এই চরম পতনের ফলে সাধারণ মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।
বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সীমিত আকারে নেটওয়ার্ক সচল হলেও দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি এখনো থমথমে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের খারান শহরে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক সন্ত্রাসী হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর এই পাল্টা অভিযানে অন্তত ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। মূলত খারান শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসীরা এই সমন্বিত হামলা চালিয়েছিল।
আইএসপিআরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভারত-পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামক একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী খারান শহরে একযোগে আক্রমণ চালায়। তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড। হামলার একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ব্যাংক দুটি থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করতে সক্ষম হয়। এছাড়া তারা পুলিশ স্টেশনে ঢুকে জিম্মি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টাও চালিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। বর্তমানে খারান ও এর আশপাশের এলাকায় ক্লিন-আপ বা মপ-আপ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যাকে চিকিৎসার জন্য কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, তিনটি স্থানে প্রাথমিক সংঘর্ষেই চার সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযানে বাকিদের নিষ্ক্রিয় করা হয়। তিনি মন্তব্য করেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে সন্ত্রাসীরা এখন কেবল আদর্শিক তৎপরতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং ব্যাংক ডাকাতির মতো সংগঠিত অপরাধের দিকেও ঝুঁকছে।
এদিকে আইএসপিআর জানিয়েছে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বুগতি বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সাঙ্গানের মতো কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন ফোরজি নেটওয়ার্ক সন্ত্রাসীদের যোগাযোগে সহায়তা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে পুরো প্রদেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।
সিরিয়া সীমান্তে দায়িত্বরত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একদল সদস্যের বিরুদ্ধে অদ্ভুত ও গুরুতর এক চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সিরিয়ার অভ্যন্তর থেকে প্রায় ২৫০টি ছাগল চুরি করে তা অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অবৈধ বসতির খামারে পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সেনাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এই ঘটনাটি ইসরায়েলি বাহিনীর চেইন অব কমান্ড এবং নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গোলান মালভূমিতে কর্মরত গোলান ব্রিগেডের একটি ব্যাটালিয়ন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার সীমান্তের ভেতরে একটি অভিযান পরিচালনা করছিল। অভিযানের একপর্যায়ে তারা সিরীয় কৃষকদের মালিকানাধীন একটি বড় ছাগলের পাল দেখতে পায়। এরপর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তারা প্রায় ২৫০টি ছাগল সীমান্ত পার করে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নিয়ে আসে। চুরির পর ক্ষান্ত না হয়ে সেনারা ওই ছাগলগুলোকে ট্রাকে লোড করে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অবৈধ ইহুদি বসতির খামারগুলোতে পাচার করে দেয়।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন গোলান মালভূমির স্থানীয় ইসরায়েলি কৃষকরা তাদের এলাকায় অচেনা ডজন ডজন ছাগল ঘুরে বেড়াতে দেখেন। তারা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে সেনাবাহিনীকে অবহিত করেন। তদন্তে দেখা যায়, পাচার করা ২৫০টি ছাগলের মধ্যে প্রায় ২০০টি বর্তমানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রয়েছে, যেগুলোর শরীরে কোনো চিহ্ন নেই এবং এগুলো রোগ প্রতিরোধের টিকা দেওয়া নয়। বাকি ছাগলগুলো সিরীয় সীমান্তের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আইডিএফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, এই অভিযানটি কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ঘটানো হয়েছিল। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট স্কোয়াড কমান্ডারকে তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কোম্পানির কমান্ডারকে কঠোর তিরস্কার করা হয়েছে। এছাড়া চুরির সঙ্গে জড়িত পুরো স্কোয়াডটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ার বাফার জোনের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তবে সামরিক অভিযানের নামে এমন লুটপাটের ঘটনা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করছে।
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী ন্যুকের রাস্তায় বরফের স্তর ক্রমাগত ঘন হয়ে উঠছে। পাহাড়ের ঢালগুলো মাঝে মাঝে কুয়াশার আড়ালে মিলিয়ে যায় এবং তীব্র আর্কটিক বাতাসে মানুষগুলো কাঁপছে। বছর শেষে এটাই এখানে স্বাভাবিক শীতকালীন চিত্র। কিন্তু এবার শীতের সাথে এসেছে এক নতুন ধরনের উত্তেজনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডকে সহজ বা কঠিন উপায়ে দখল করার হুমকি।
স্থানীয় শিক্ষক সিমোনে বাগাই বলেন, ‘তিনি সংবিধানগত অধিকার ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতি কোনো সম্মান দেখাননি। গ্রিনল্যান্ড আমাদের এবং আমরা চাই না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ জায়গা দখল করুক। আমরা এ বিষয়ে বারবার সভ্যভাবে জানিয়েছি।’
তিনি জানান, ‘বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলা তার জন্যই কঠিন ছিল, কিন্তু ট্রাম্পের রূঢ় বক্তব্যে মানুষের উদ্বেগ প্রকাশ করার প্রয়োজন রয়েছে।
ন্যুকের একজন পৌর প্রকৌশলী লুডভিগ পিটারসেন বলেন, ‘আমরা কখনও চাইনি আমেরিকার অংশ হই। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার বেসরকারীকরণ এখানে মানিয়ে নেওয়ার মতো নয়। ট্রাম্প আমাদের জোর করে দখল করতে চাইলে আমি সত্যিই ভীত।’
গ্রিনল্যান্ডের জীবনযাপনই এমন, কঠোরতা ও বাধ্যবাধকতার সাথে মানিয়ে চলা অপরিহার্য। ন্যুকের এক ইনুইট ট্যাক্সি চালক জানান, তাদের ঐতিহ্যগত জীবন, যেমন সীল শিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ৩৮টি কুকুরও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প এই বাস্তবতা বোঝেন না।
সীলচামড়ার পোশাক ব্যবসায়ী মিয়া কেমনিটজ বলেন, ‘যখন আমরা গ্রিনল্যান্ডের কথা বলি, আমরা আমাদের মানুষ, পরিবার ও সমাজের কথা বলি। কিন্তু বাইরের বিশ্বের আলোচনায় সব সময় এটি শুধু ভূখণ্ড ও সম্পদের ব্যাপার। আমরা একে অপরের কথা বোঝাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপ্রিয়। কখনও যুদ্ধ করিনি। আমাদের কোনো সামরিক বাহিনী নেই। তাই কেউ আমেরিকান সেনা বাহিনীকে প্রতিহত করতে পারবে না। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা জরুরি।’
বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে এবং আগামী দুই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে উন্নীত হবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাবে। এই ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের পেছনে রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ফলে ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী শিল্প কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং নতুন সরকারের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
এছাড়া, এসব কারণে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও পূর্বাভাসের তুলনায় দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের জুন মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধি ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৬ শতাংশে নামবে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে।
তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, বর্তমান পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ২০২০-এর দশকটি ১৯৬০-এর দশকের পর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল দশক হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রত্যাশিত নীতিগত পরিবর্তনের আগে বাণিজ্যে অগ্রিম তৎপরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দ্রুত সমন্বয়ের ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সহায়তা পেয়েছিল। কিন্তু এসব সাময়িক প্রণোদনা ২০২৬ সালে কমে যাবে, কারণ বাণিজ্য গতি শ্লথ হবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হবে।
তবে বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার শিথিলতা এবং কয়েকটি বড় অর্থনীতিতে রাজস্ব সম্প্রসারণ এই মন্দা কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে কমে ২.৬ শতাংশে নামবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে শ্রমবাজারের শীতলতা এবং জ্বালানির দাম কমার ভূমিকা রয়েছে।
বাণিজ্য প্রবাহে সমন্বয় এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমলে ২০২৭ সালে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্ডারমিত গিল বলেন, ‘প্রতিটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি সৃষ্টিতে কম সক্ষম হলেও নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রতি যেন আরও স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ধীরগতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের রেকর্ড উচ্চমাত্রা যুক্ত হলে তা সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ঋণবাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজস্ব চাপ বাড়ছে, যেখানে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রসপেক্টস গ্রুপের পরিচালক এম আয়হান কোসে বলেন, ‘উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সরকারি ঋণ গত অর্ধশতকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় রাজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এখন জরুরি অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, সঠিকভাবে নকশা করা রাজস্ব বিধি ঋণ স্থিতিশীল করতে ও নীতিগত সুরক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়ন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের বৈঠক নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে ভারত। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এই আলাপচারিতাকে সেই নিয়মিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, ভারতীয় দুই কূটনীতিক গত বছর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভারতীয় কূটনীতিকরা সাক্ষাতের বিষয়টি শুরুতে জনসমক্ষে না আনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে রয়টার্সের মাধ্যমে এই খবর সামনে আসলে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
সেসময় শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’
সে সময় জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য চেয়েছিল রয়টার্স। তবে কোনো সাড়া মেলেনি। প্রায় ১৫ দিন পর অবশেষে বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল ভারত।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন দেশটির নির্বাসিত শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন যে, বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উচিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিদায়ঘণ্টা বাজানো। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে পাহলভি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই। এটি হবে নাকি হবে না, প্রশ্ন সেটি নয়। পতন কখন হবে প্রশ্ন হলো সেটি।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং প্রাণহানি কমাতে তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ওপর সরাসরি সার্জিক্যাল হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান, যা তাঁর মতে পরিবর্তনের পথকে আরও সুগম করবে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রেজা পাহলভি ঘোষণা দেন যে, ‘তিনি ইরানে ফিরবেন এবং দেশটির সংবিধান পরিবর্তন করবেন।’ তবে পরবর্তী শাসক কে হবেন—এমন জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি জনগণের সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘এটি ইরানের মানুষ ঠিক করতে। আমি শুধু তাদের স্বাধীন হতে সহায়তা করছি।’ পাহলভি আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তাবাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানানোয় সরকার বিদেশ থেকে মিলিশিয়া বাহিনী এনে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে এতে ২ হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও ইরান সরকার এই সহিংসতার দায় শত্রুদের প্ররোচণায় দাঙ্গাবাজদের ওপর চাপিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সৌদি আরবের ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদকে রিয়াদের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) রাজকীয় আদালতের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই প্রবীণ শাসককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রয়্যাল কোর্টের বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, ‘নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমানকে কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য যে, হাসপাতালে ভর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে গত মঙ্গলবারও তিনি মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
২০২৪ সালেও ফুসফুসে প্রদাহজনিত সমস্যার কারণে উন্নত চিকিৎসা নিতে হয়েছিল সৌদি আরবের এই সপ্তম শাসককে। তবে এবারের পরীক্ষার বিষয়ে বিশদ কোনো তথ্য রাজকীয় আদালত প্রকাশ করেনি। ১৯৩৫ সালে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করা বাদশাহ সালমান তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় অত্যন্ত দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। তিনি ১৯৫৪ সালে রিয়াদের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর এবং ১৯৬৩ সালে পূর্ণাঙ্গ গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হয়ে কয়েক দশক সেই দায়িত্ব পালন করেন।
প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করা সালমান কয়েক দশক ধরে পূর্ববর্তী বাদশাহদেরও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। রিয়াদের প্রিন্সেস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণকালীন তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে সুদক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলেন।