পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় ১০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাজা হতে যাচ্ছে। তবে তাকে কারাদণ্ড বা অন্য সাজা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে শুক্রবার একজন বিচারক জানিয়েছেন।
যৌন সম্পর্কের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্টর্মিকে ঘুষ দেওয়া সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলাটিতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটান আদালতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার চলছে।
বিচারক জুয়ান মার্চানের ওই বক্তব্যের অর্থ হলো, ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার মাত্র ১০ দিন আগে ট্রাম্পকে আদালতে হাজির হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ দৃশ্য বিরল। কেননা, এর আগে দেশটির সাবেক বা ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টই কখনও কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি।
তবে নিউইয়র্কের বিচারক জুয়ান মার্চান ট্রাম্পকে কারাদণ্ড বা জরিমানা না দিয়ে 'শর্তহীন মুক্তি' দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি তার আদেশে লিখেছেন যে, ট্রাম্প সশরীরে কিংবা ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
বিচারক তার আদেশে বলেন, 'ট্রাম্পকে কারাদণ্ড দেওয়ার ইচ্ছা তার নেই। তাকে ‘শর্তহীন মুক্তির’ দণ্ডাদেশ (একধরনের স্থগিত দণ্ডাদেশ) দেওয়া হবে; যার অর্থ তাকে কোনো হেফাজতে থাকার, আর্থিক জরিমানা দেওয়ার কিংবা প্রবেশনের প্রয়োজন হবে না। এটাই হবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।’
এমন রায়ে ট্রাম্প আপিল করার সুযোগ পাবেন। বিচারক জানান, আপিলের বিষয়ে ট্রাম্প তার অভিপ্রায় স্পষ্ট করেছেন।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এ মামলায় নির্দোষ দাবি করেছেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ক্ষতি করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচারকের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, 'অবৈধ রাজনৈতিক হামলা' এবং ওই মামলাটিকে তিনি একটি 'সাজানো পরিহাস' বলে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চিয়াং বলেন, ‘এ মামলায় ট্রাম্পের কোনো কারাদণ্ড হওয়া উচিত নয়। বেআইনি এ মামলা বিবেচনায় নেওয়ারই উপযুক্ত নয়। মামলাটি অবিলম্বে খারিজ করে দেওয়া—এটির সাংবিধানিক দাবি।’
স্টিভেন চিয়াং বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবশ্যই প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং উইচহান্টিংর মাধ্যমে তাকে বাধাগ্রস্ত করা উচিত হবে না।'
তিনি বলেন, 'কোনো দণ্ড হওয়া উচিত নয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার লড়াই অব্যাহত রাখবেন।'
এ মামলার বিরুদ্ধে তার শেষ আবেদনে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে এবং দায়িত্ব পালনে তার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ট্রাম্পের বিবাদীপক্ষের কৌঁসুলিরা যুক্তি দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মেয়াদে মামলাটি জিইয়ে রাখা হলে তা তার শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করবে।
তবে বিচারক এ যুক্তি নাকচ করে বলেন, জুরির রায় পাশ কাটালে তা আইনের শাসন অপরিমেয়ভাবে ক্ষুণ্ন করবে।
প্রসঙ্গত, মামলায় স্টর্মি ড্যানিয়েলস অভিযোগ করেছেন, ২০০৬ সালে নেভাডা অঙ্গরাজ্যে একটি হোটেলে ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়। সে ঘটনা যাতে তিনি কাউকে না বলেন, এ জন্য ব্যক্তিগত আইনজীবীর মাধ্যমে এর ১০ বছর পর ২০১৬ সালে তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেন ট্রাম্প।
সে সময় ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ঘুষ দেওয়ার সেই তথ্য তিনি তার ব্যবসায়িক নথিতেও গোপন করেন।
অবশ্য ট্রাম্প স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, এ সবকিছু রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তার হোয়াইট হাউসে প্রবেশ ঠেকাতে বাইডেন প্রশাসন এসব কিছু করেছে।
ট্রাম্পই হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট, যার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় গত বছরের মে মাসে ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারকেরা তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করার কথা ছিল গত বছরের ১১ জুলাই। কিন্তু কয়েক দফা তা পেছানো হয়। গত বৃহস্পতিবার বিচারক মার্চান বলেন, ট্রাম্প গত আগস্টে তার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ নির্বাচনের পর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বিচারক মার্চান বলেছেন ট্রাম্পের উদ্বেগের বিষয়গুলোতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ তিনি পেয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে তার হাতে যেসব বিকল্প আছে তার একটি হলো দণ্ডাদেশ বাস্তবায়ন ২০২৯ সালে তার হোয়াইট ছাড়া পর্যন্ত বিলম্বিত করা কিংবা দণ্ড দিলেও তার সাথে জেলে থাকার বিষয়টি থাকবে না।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের আদেশে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য তিনি দায়মুক্ত থাকবেন বলে যে আদেশ দিয়েছিল, সেটিকে আদালতের সামনে যুক্তি হিসেবে নিয়ে আসার চেষ্টা করে সফল হননি। গত জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশ দিয়েছিল।
গত মাসে ট্রাম্পের ঘুষের মামলা খারিজ চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছিলেন বিচারক মার্চান।
যুক্তরাষ্ট্রে নথি জালিয়াতির মামলায় চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু ন্যূনতম দণ্ড বা কারাবাস অবশ্য পালনীয় নয়। তাই, ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলে যাবেন না বলেই মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এর কারণ হিসাবে তারা ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং 'ফার্স্ট টাইম অফেন্ডার' অর্থাৎ প্রথমবার কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তাই তাকে কারাগারে পাঠানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও তিনটি রাজ্যে অভিযোগ ও ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলা আছে। এর একটি গোপনীয় নথি বিষয়ক এবং দুটি হলো ২০২০ সালের নির্বাচনি ফল সংক্রান্ত।
এর আগে গত ২৬শে নভেম্বর তার বিরুদ্ধে দণ্ড দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতায় বিচারক তা পিছিয়ে দেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত চার বছরের মধ্যে এটি তেলের সর্বোচ্চ দাম। মূলত জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এমন শঙ্কা থেকে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রাতারাতি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬.৪১ ডলারে পৌঁছায়। তবে পরবর্তীতে লেনদেনের পরিমাণ কমে আসায়— তা কিছুটা নেমে ১১৫.৮ ডলারে থিতু হয়। অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই সূচকের ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলারের আশেপাশে বেচাকেনা হচ্ছিল, যা বর্তমান দামের তুলনায় অনেক কম। তবে এ বছরের শুরুতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগের সময়ের তুলনায় তেলের দাম বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘তেলের সরবরাহে এই বিঘ্ন যদি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার সূত্রপাত করতে পারে। ইতোমধ্যে বেশকিছু দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট হয়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।’
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চড়া দামের প্রভাবে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য যেমন- প্লাস্টিক, কৃত্রিম রাবার ও টেক্সটাইল এবং খাদ্যপণ্যের দামও হু হু করে বাড়ছে। বাজারে তেলের তীব্র সংকটের কারণে ইতোমধ্যেই মেডিকেল গ্লাভস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্রসাধনী সামগ্রীর সরবরাহে টান পড়েছে। বিশেষ করে, এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি, কারণ এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগই আমদানি করে। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ ভোগ্যপণ্য এখানেই উৎপাদিত হয়।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ঠিক কীভাবে এবং কখন সম্ভব হবে, তা বলাও এখন মুশকিল।
বিনিয়োগ ব্যাংক স্যাক্সোর কৌশলবিদ নীল উইলসনের মতে, গতকাল বৃহস্পতিবারের এই আকস্মিক দরবৃদ্ধির পেছনে অয়েল ফিউচার চুক্তির কিছু কৌশলগত কারণও ছিল। জুনের ফিউচার চুক্তির মেয়াদ গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ায়–লেনদেনের চাপ জুলাইয়ের চুক্তিতে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে তেলের দাম আগেই ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের উপরে ছিল।
ডয়েচে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, রাতারাতি দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়, আমেরিকা ইরানের ওপর একগুচ্ছ স্বল্পস্থায়ী কিন্তু শক্তিশালী বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায়, বিশ্ববাজারে টানা আট দিন ধরে তেলের দাম বাড়ছে। ফলে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে আছে, যে পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করা হয়।
নীল উইলসন তার এক নোটে লেখেছেন, ‘তেলের বাজার এখন আর সংকট সমাধানের আশায় বসে নেই, বরং সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি হুমকি এবং তেলের বাস্তব ঘাটতির দিকেই সবার নজর। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখন জনমনে প্রবল হয়ে উঠেছে।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে— হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক তেলবাহী জাহাজের চলাচল এক অঙ্কের সংখ্যায় নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা ব্যবসায়ীদের চরম সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করেছে।’
সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘সংঘাত যদি আরও বাড়ে কিংবা জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তেলের দামে দ্রুত উল্লম্ফন হতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের দস্যুপনায় মানবিক সংকটের মুখে লেবানন ও গাজা। ক্রমাগত হামলা, গণ-উচ্ছেদ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে শুধু লেবাননেই ১২ লাখেরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। আর আগস্ট মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে। এদিকে অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ পরিবহনের জন্য সীমান্ত পুরোপুরি খুলে না দেওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা। খবর রয়টার্সের।
শোকাহত বাবা তার আদরের কন্যাকে শেষবারের মতো কোলে নিয়ে বিদায় জানাচ্ছেন। বাকরুদ্ধ পিতা বারবার আদর করছেন তার ঘুমন্ত পরীকে। লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর হামলায় নিহত হয় চার বছরের কম বয়সি মিলা ও তার মা।
যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ক্ষমতার জানান দিতে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। আর চলমান এ যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে লেবানন। দেশটিতে কমপক্ষে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলে এ বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ক্রমাগত হামলা, গণ-উচ্ছেদ এবং চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এদিকে লেবাননের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়েল জামির। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।’ সেনাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি।
শুধু লেবাননই নয়, মানবিক সংকটে পড়েছে অবরুদ্ধ গাজাও। এখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিউজে দেখা গেছে, তারা সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে; কিন্তু এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুরো পৃথিবী মিথ্যা শুনছে। মাত্র ৫০টি ট্রাক এ সীমান্ত পার করতে পারে। এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। সীমান্ত দিয়ে ট্রাক চলাচলের সংখ্যা কমে যাওয়া মানে হচ্ছে আমাদের সাহায্য ও খাবার কমে যাওয়া। প্রতি মাসে আমরা যে খাবারের পার্সেল পাই তা পুরো মাসের জন্য পর্যাপ্ত না।
তবে, গাজায় ত্রাণ সরবরাহকারী ট্রাকগুলো প্রবেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রার মান আরও বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়বে বলে আশঙ্কা করছে রেডক্রস। এরই মধ্যে গাজা উপত্যকার নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী প্রকাশিত এ মানচিত্রে উপত্যকার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে গোপনে এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই মানচিত্রে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির অবস্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এসব অঞ্চলকে নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে ফেলে কমলা রেখা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এই সীমারেখা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রথমবারের মতো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রায় এক ডজন দেশ নিয়ে বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া করতে যাচ্ছে ভারত। ১৩ দিনের এই মহড়া তত্ত্বাবধান করবে ভারতের সেনাবাহিনী। ‘প্রগতী’ শীর্ষক মহড়াটি আগামী ১৮ মে হয়ে শেষ হবে ৩১ মে। এশিয়ার ১১টি দেশ এই মহড়ায় আমন্ত্রণ পেলেও তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। প্রতিবেশী ঢাকাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য দেশ নিয়ে নয়াদিল্লির আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা কোনো উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার, যৌথ অপারেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আস্থা নির্মাণই এই মহড়ার লক্ষ্য। এতে অংশ নেবে লাওস, মিয়ানমার, সিসিলি, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটান।
টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতেই ভারত এই প্রথম বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত জনসংযোগ পরিদপ্তর (এডিজিপিআই) জানিয়েছে, মেঘালয়ের উমরোহিতে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মহড়াটি হবে।
এক্স পোস্টে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মহড়াটির মূল ফোকাস থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিদ্রোহ দমন অভিযান। একই সঙ্গে এটি ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক সেনাবাহিনীগুলোর সঙ্গে সক্ষমতা উন্নয়ন ও সমন্বিত অপারেশনাল কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘প্রগতী’ শুধু একটি সামরিক মহড়া নয়, এটি ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে দিল্লি যে বহুপাক্ষিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। মহড়ার সঙ্গে দুই দিনের একটি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রদর্শনীরও আয়োজন রাখা হয়েছে। সেখানে ভারত নিজস্ব উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়ার নৌপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে ৯জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্ট ও নিরাপত্তা বাহিনীর এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রয়টার্সের বরাত দিয়ে লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, নৌকা বিকল হওয়ায় আট দিন ধরে সাগরে ভাসছিলেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্ট ও নিরাপত্তা সূত্র গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল হয়ে আট দিন ধরে ভেসে থাকার পর ১৭ জন অভিবাসী মারা গেছেন এবং নিখোঁজ ৯জন মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রেড ক্রিসেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবীরা মিসর সীমান্তের কাছে পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক শহরের উপকূল থেকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৭ জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে। তবে এসব অভিবাসীদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপ গাড়ির পেছনে বোঝাই করছেন।
লিবিয়া অভিবাসীদের জন্য ইউরোপ যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পথ। অনেকেই সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে আসে। তারা যুদ্ধ ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে।
হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। এই প্রণালিতে অবাধে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই জোটের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের দাম চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই মাস পরও এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বেড়েছে।
সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাও অচলাবস্থায় পড়েছে। এই পরিস্থিতি ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নৌঅবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, যাতে ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলা যায়।
তবে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যত দিন তারা হুমকির মুখে থাকবে, তত দিন তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে থাকবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা ‘অভূতপূর্ব সামরিক পদক্ষেপ’ নেবে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে তেহরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই কেব্লে (তারবার্তা) বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা যাবে। এই প্রস্তাবিত জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কন্সট্রাক্ট।’ এটি তথ্য আদান-প্রদান, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ এই জোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, সংঘাত শেষ হওয়ার পরই তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহায়তা করবে।
ইরান চায় শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করুক। বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা আরও সমৃদ্ধ করলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্প ইরানিদের বিভক্ত করতে এবং অবরোধের মাধ্যমে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছেন। টেলিগ্রাম অ্যাপে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘শত্রুর নতুন ষড়যন্ত্র মোকাবিলার একমাত্র উপায় হলো ঐক্য বজায় রাখা, যা সব সময় তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ফলকার তুর্ক জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান অন্তত ২১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অভিযোগে চার হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। যুদ্ধের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতেও স্পষ্ট। গত বুধবার দেশটির মুদ্রা রেকর্ড পরিমাণ দরপতনে পড়ে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মাসিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
ইরান চায় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং নৌচলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হোক। তবে এটি ট্রাম্পের সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা চান। পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবের ওপর নিজেদের ‘পর্যবেক্ষণ’ জানিয়েছে এবং এখন ইরানের জবাবের অপেক্ষা করছে।
লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ধুাতুর কবলে পড়েছে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার জনপদগুলো। এগুলো ‘একবিংশ শতাব্দীর তেল’ হয়ে উঠছে ওই সব অঞ্চলে। এই ধাতুর সন্ধানে বিশ্বজুড়ে যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে, তা অরক্ষিত জনপদে দারিদ্র্যকে আরও গভীর করছে এবং জনস্বাস্থ্যের সংকট তৈরি করছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের পানিবিষয়ক থিঙ্কট্যাঙ্কের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথের (ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচ) অনুসন্ধানে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, ব্যাটারি ও মাইক্রোচিপে ব্যবহৃত লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পানির সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এটি কৃষিকে ধ্বংস করছে এবং বিভিন্ন জনপদকে বিষাক্ত ভারী ধাতুর কবলে ঠেলে দিচ্ছে।
গবেষকরা দেখেছেন, ২০২৪ সালে ২ লাখ ৪০ হাজার টন লিথিয়াম উত্তোলনের জন্য আনুমানিক ৪৫৬ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই সবুজ জ্বালানি রূপান্তর বা এআই বিপ্লব থেকে আসা আর্থিক সুবিধা বা প্রযুক্তিগত উন্নতির খুব সামান্যই ক্ষতিগ্রস্ত জনপদগুলোর কাছে পৌঁছাচ্ছে।
ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচের পরিচালক ও ২০২৬ সালের স্টকহোম ওয়াটার প্রাইজ বিজয়ী কাভেহ মাদানি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলো দ্রুত একবিংশ শতাব্দীর তেল হয়ে উঠছে। টেকসই উন্নয়নের সমাধান হিসেবে আমরা যা বিক্রি করছি, তা বিশ্বের অন্য কোথাও মানুষের সক্রিয় ক্ষতি করছে। তাহলে আমরা কীভাবে এই রূপান্তরকে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন বলতে পারি?
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল জ্বালানি খনিজগুলোর চাহিদা বেশ শক্তিশালী ছিল, যেখানে ২০২৪ সালে লিথিয়ামের চাহিদা প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) এবং শক্তিশালী কম্পিউটার চিপের চাহিদা বাড়ার কারণে ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিরল মৃত্তিকা খনিজের উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইলেকট্রিক গাড়ি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের গ্রাহকদের কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারে। তবে এর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক দূরের আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার খনি অঞ্চলের মানুষদের।
২০২৪ সালে বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা খনিজ উৎপাদন থেকে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন টন বর্জ্য তৈরি হয়েছিল, যা ৫৯ মিলিয়ন আবর্জনা ফেলার ট্রাক ভর্তি করার জন্য যথেষ্ট। আফ্রিকা–যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মজুতের প্রায় ৩০% রয়েছে–এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কোবাল্ট উৎপাদনকারী দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর লুয়ালাবা প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্ব খনি অঞ্চলে পানি দূষণ নিয়ে লেখকরা কথা বলেছেন। তারা জানান, খনিজ উত্তোলনের ফলে পানীয় জল, মাছ ধরা ও সেচের জন্য ব্যবহৃত নদীগুলো ব্যাপকভাবে দূষিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কঙ্গোর প্রায় ৬৪% মানুষের মৌলিক পানির সুব্যবস্থা ছিল না। অন্যদিকে, খনি এলাকার কাছাকাছি বসবাসকারী ৭২% মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত এবং ৫৬% নারী ও মেয়ে গাইনোকোলজিক্যাল বা প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচের গবেষক এবং প্রতিবেদনের প্রধান লেখক আব্রাহাম নুনবোগু বলেন, কিছু মানুষ পানি সংগ্রহের জন্য এক মাইলেরও বেশি পথ হেঁটে সংগ্রাম করে চলেছেন। আবার কেউ কেউ শহর এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের আরও চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
লিথিয়াম উত্তোলনের জন্য প্রায়ই ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত সমভূমি থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি পাম্প করে তা বাষ্পীভূত করতে হয়। অন্যদিকে, অন্যান্য খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ নদী ও ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলোকে দূষিত করতে পারে।
লাতিন আমেরিকার লিথিয়াম ট্রায়াঙ্গেল–আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও চিলিজুড়ে বিস্তৃত উচ্চভূমির লবণাক্ত সমভূমি–বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম মজুতের অন্যতম। এগুলো আবার বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্কতম বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে পড়ে।
বলিভিয়ার উয়ুনি অঞ্চলে কিছু জনপদ এখন আর নির্ভরযোগ্যভাবে কিনোয়া (এক ধরনের শস্য) চাষ করতে পারছে না। চিলির আতাকামা লবণের সমভূমিতে লিথিয়াম ও অন্যান্য খনির কাজে ওই অঞ্চলের পানির প্রায় ৬৫% ব্যবহৃত হয়, যার ফলে সেখানকার হ্রদগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।
আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও চিলিতে লিথিয়াম খনির সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে কাজ করা একটি প্রকল্পের সমন্বয়ক হোসে আইলউইন বলেন, এই লবণাক্ত সমভূমিগুলো বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত এলাকা। ইতোমধ্যে পৃথিবীর শুষ্কতম এই বাস্তুতন্ত্রে লবণের ব্রাইন নিবিড়ভাবে উত্তোলন এবং পানির তীব্র সংকটের কারণে তাদের কৃষি ও গবাদি পশু পালন ভিত্তিক অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যেমনটি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এখন স্বেচ্ছায় মেনে চলার পরিবর্তে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি প্রয়োজন।
জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে নিজেদের ভেতরেই বড় ধরনের সম্পদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে ২২৫টি নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে ১৩টি বড় তেলক্ষেত্র, যেগুলোর মজুত ১০ কোটি টনের বেশি, এবং ২৬টি গ্যাসক্ষেত্র, যেগুলোর সম্ভাব্য মজুত ১০০ বিলিয়ন ঘনমিটারেরও বেশি।
তবে এসব সম্পদের কতটা এখনই উত্তোলনযোগ্য, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবুও দেশটি বলছে, নতুন মজুতের কারণে তাদের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এবং বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন টন তেল উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে।
এই খাতে চীন গত এক দশকে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৬৬ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করেছে, যার মাধ্যমে তাদের জ্বালানি মজুত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা এসেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে চাপ বাড়ছে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত এবং তাদের তেলের একটি অংশ আসে ইরান থেকে।
এই পরিস্থিতিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দেশটির কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন, বাইরের ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে এবং আত্মনির্ভরশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখার অপেক্ষায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, ‘এটি প্রমাণিত যে পারস্য অঞ্চলের মাটিতে মার্কিন বিদেশিদের উপস্থিতি ও তাদের আস্তানাই এখানকার নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরনাতে সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতি প্রচার করা হয়।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী নিয়ে গত কয়েক শতাব্দী ধরে অনেক শয়তানের লোভ তৈরি হয়েছে।’
ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি ১৬২২ সালে পর্তুগিজ সৈন্যদের বিতাড়িত করার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর ইরানিরা এবার নিজেদের চোখে আমাদের বাহিনীর দৃঢ়তা, সতর্কতা ও সাহসী সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হলো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া একটি ভবিষ্যৎ, যা এ অঞ্চলের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি এনে দেবে।’
মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমেরিকার পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শক্তি ও সক্ষমতা নেই। সুতরাং আমেরিকা এ অঞ্চলে তাদের অনুগতদের নিরাপত্তা দেবে—এমন আশা করা বৃথা।’
খামেনি আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষা করে যাবে, কঠোরভাবে পাহারা দেবে। ইরানিরা দেশের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে তাদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে এবং এগুলোকে জল, স্থল ও আকাশসীমার মতো করেই পাহারা দেবে।’
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ‘ব্যর্থতার’ পর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের “লজ্জাজনক ব্যর্থতার” মধ্য দিয়ে আজ এ অঞ্চলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে।’
জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে এ বার্তা প্রচার করা হয়। ১৬২২ সালে হরমুজ প্রণালী থেকে পর্তুগিজ বাহিনীকে বিতাড়িত করার স্মরণে এই দিবস পালন করে ইরান।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ।
এই যুদ্ধের সামরিক ব্যয় নিয়ে এই প্রথম গত বুধবার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করল হোয়াইট হাউজ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এই তথ্য প্রকাশ করা হলো। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারা এখন জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে এই অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী জুলস হার্স্ট হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, এই অর্থের সিংহভাগ গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র কেনায় ব্যয় হয়েছে।
হার্স্ট এই ব্যয়ের হিসাবের বিস্তারিত বিবরণ দেননি। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের সম্ভাব্য খরচ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কি না, তাও স্পষ্ট করেননি।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ হার্স্টকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কারণ, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই হিসাব চেয়ে আসছি। কিন্তু কেউ আমাদের কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি।’
এই ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের খরচ এ বছর দেওয়া মার্কিন মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার পুরো বাজেটের সমান। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অঙ্কে পৌঁছাল, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, গত মাসে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে অনুমান করেছিল।
পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘ইরানের কাছে যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে, তা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সেই তুলনায় এই খরচ যৌক্তিক।’
যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। বর্তমানে দুই পক্ষ ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে। পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে এবং ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে রেখেছে। এই যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকশ আহত হয়েছেন।
গাজা উপত্যকার দিকে যাত্রা করা নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌযানগুলোকে আটকাতে শুরু করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত থেকে এ অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাস নিয়ন্ত্রিত এই উপত্যকার ওপর ইসরায়েল আরোপিত নৌঅবরোধ ভাঙার উদ্দেশেই নৌবহরটি রওনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মী ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় মোট ৫৮টি জাহাজ রয়েছে। এই বহর ইসরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার সময় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এটি ইসরায়েল থেকে কয়েকশ নটিক্যাল মাইল দূরে।
এর আগেও বেশ কয়েকবার সুমুদ ফ্লোটিলা গাজায় আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছে। তখন ইসরায়েল গাজা উপকূলের অনেক কাছাকাছি আসার পর নৌযানগুলোকে আটক করেছিল। তবে বহরটিকে আরও দূরে থাকতেই আটকানো হলো। ফ্লোটিলা আয়োজকদের প্রকাশ করা ভিডিওতে শোনা যায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা কর্মীদের গতিপথ পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চান, তাহলে তা প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত চ্যানেলের মাধ্যমে করতে পারেন। অনুগ্রহ করে আপনার গতিপথ পরিবর্তন করুন এবং যাত্রা শুরুর বন্দরে ফিরে যান। যদি আপনারা মানবিক সহায়তা বহন করে থাকেন, তাহলে আশদোদ বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার আমন্ত্রণ রইল।’ এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, আটক করা জাহাজগুলোর একটিতে ‘কনডম ও মাদকদ্রব্য’ পাওয়া গেছে।
ফ্লোটিলার কর্মীরা চলতি মাসের শুরুতে স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করেন। এর আগে গত বছর সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী নিয়ে একই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রতীকী পরিমাণ মানবিক সহায়তা বহন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাস প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি শক্তির কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও মিসর বিভিন্ন মাত্রায় এই উপত্যকার ওপর অবরোধ আরোপ করে আসছে। ইসরায়েলের দাবি, অস্ত্র চোরাচালান রোধে এই অবরোধ প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর, যা গাজা যুদ্ধের সূচনা করে, এই অবস্থান আরও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। তবে সমালোচকদের মতে, এই অবরোধ গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর সম্মিলিত শাস্তির শামিল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর পরিণতি হবে ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ ক্ষতিকর’। কেবল ইরান নয়, দেশটির প্রতিবেশী ও পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও এই পরিণতি হবে ভয়াবহ।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, ফোনালাপটি ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে এবং এটি ছিল ‘খোলামেলা ও কার্যকর’ আলোচনা।
তিনি বলেন, উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ‘বিশেষভাবে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন’। উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তটি সঠিক। কারণ, এতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে এবং সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।’
তবে পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর অনিবার্য ও ভয়াবহ ক্ষতিকর পরিণতি শুধু ইরান ও তার প্রতিবেশীদের জন্যই নয়, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও হবে।’ উশাকভ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইস্যুতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে রাশিয়া ‘সব ধরনের সম্ভাব্য সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করেছেন। তবে তিনি জানান, ইরানের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ বন্ধে ‘সহায়তা করতে চান’, তবে তিনি রুশ নেতাকে আগে ইউক্রেন আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন ঢেউয়ের পূর্বাভাস। বিধানসভা নির্বাচনের পর অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া নামক প্রতিষ্ঠানের বুথফেরত জরিপ বলছে, অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) তাদের প্রথম নির্বাচনী লড়াইতেই ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। যদি এই জরিপের ফল বাস্তবে মিলে যায়, তাহলে টিভিকে ফলাফলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে ক্ষমতাসীন ডিএমকে ও তাদের জোটকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
বুথফেরত জরিপের সর্বনিম্ন সীমা অনুযায়ী ৯৮টি আসন পেলেও তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের এই অর্জন হবে অসাধারণ। এমনটা হলে দক্ষিণের এই রাজ্য নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করবে।
অন্য বুথফেরত জরিপেও বিজয়ের দলের জন্য মোটামুটি ভালো আসন পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেমন—পিপলস পালসের জরিপ বলছে—ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও তাদের মিত্ররা ১২৫ থেকে ১৪৫টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে অলইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ও তাদের জোট পেতে পারে ৬৫ থেকে ৮০টি আসন।
পিপলস ইনসাইটের জরিপ বলছে, ডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ১২০ থেকে ১৪০টি আসন, আর এআইএডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৭০টি আসন। প্রজা পোল বলছে, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ১৪৮ থেকে ১৬৮টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৬১ থেকে ৮১টি আসন। আর টিভিকে পেতে পারে মাত্র ১ থেকে ৯টি আসন।
পি-মার্কের হিসাবে, ডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪৫টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের জোট ৬৫ থেকে ৮৫টি আসন এবং আর অভিনেতা বিজয়ের টিভিকে পেতে পারে ১৬ থেকে ২৬টি আসন। ম্যাট্রাইজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৮৭ থেকে ১০০টি আসন; আর টিভিকে পেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন।
কামাখ্যা অ্যানালিটিকস জানিয়েছে, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯৫টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৬৮ থেকে ৮৪টি আসন; আর টিভিকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফল মিললে অভিনেতার নতুন দলটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
জেভিসির মতে, ডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ৭৫ থেকে ৯৫টি আসন; এআইএডিএমকে ও তাদের জোট পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৪৭টি আসন; আর টিভিকে পেতে পারে ৮ থেকে ১৫টি আসন।
এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (এসপিএ) এবং এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) মধ্যে। এসপিএ জোটে রয়েছে কংগ্রেস, ডিএমডিকে (ডিএমডিকে) এবং ভিসিকে (ভিসিকে)। অন্যদিকে এনডিএ জোটে রয়েছে বিজেপি এবং পিএমকে (পিএমকে)।
তামিলনাড়ুতে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, অনেক অঞ্চলে ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিধানসভার ২৩৪টি আসনেই ভোট গ্রহণ শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। ভোট গণনা হবে সোমবার।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতালের সীমানা দেওয়াল ধসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে শহরের একটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের প্রায় ৮ ফুট উঁচু দেওয়ালটি হঠাৎ ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কয়েক সপ্তাহের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একটি শিশু ও চারজন হকার রয়েছেন। এ ছাড়া কেরালা রাজ্যের দুইজন ব্যক্তিও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের বর্তমানে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কয়েক সপ্তাহের চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর বুধবার হুট করেই বেঙ্গালুরুতে প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। তীব্র গতির বাতাসের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মূলত ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কায় জরাজীর্ণ দেওয়ালটি পথচারীদের ওপর ধসে পড়ে। বৃষ্টির ফলে অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায়।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন। আহতদের মধ্যে এক নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন ওই অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর শহরের অন্যান্য জরাজীর্ণ অবকাঠামোগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক সরকার।