ভারতে এইচএমপিভি ভাইরাসে ২ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সোমবার জানিয়েছে, তিন ও আট মাস বয়সী দুই শিশুর দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও সোমবারই জরুরি বৈঠকে বসেছেন। তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, তিন মাস বয়সী শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে এবং আট মাস বয়সী শিশুটি কর্ণাটকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। সে-ও ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, চীনে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরে মালয়েশিয়াতেও বাড়ছে হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস বা এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহার এবং বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
কুয়ালালামপুর থেকে এএফপি আজ এই খবর জানিয়েছে।
২০২০ সালের করোনা মহামারির পর এবার চীনে নতুন এক ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
চীনের পর মালয়েশিয়াতেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনোমিক টাইমস।’
ভাইরাসটিকে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস বা এইচএমপিভি নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভাইরাসের কারণে সাধারণত ঠাণ্ডা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। শীতের মৌসুমে ভাইরাসটি বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে চীনের বিভিন্ন প্রদেশে এর দ্রুত বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চীনের স্বাস্থ্য বিভাগ কিছুদিন আগে ফ্লু-জাতীয় রোগের হার বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেয়ায় অনেকেই তথ্য গোপনের আশঙ্কা করছেন।
সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
সিডিসির তথ্যানুসারে, এইচএমপিভি একটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস, যা ওপরের এবং নিচের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়। এটি সব বয়সের ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে। তবে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ভাইরাসটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
এইচএমপিভির উপসর্গগুলো ফ্লু এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতোই। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে কাশি, জ্বর, নাক বন্ধ হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট। গুরুতর ক্ষেত্রে, ভাইরাস ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এইচএমপিভির ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা উন্মেষপর্ব সাধারণত তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে হয়। তবে সংক্রমণের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে লক্ষণগুলো বিভিন্ন সময়কালের জন্য স্থায়ী হয়।
গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চীনে দ্য হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাসের (এইচএমপিভি) প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। যা নিয়ে স্বাস্থ্য সংকটের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তবে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন, এইচএমপিভি ভাইরাস বড় কোনো হুমকি নয়। যদিও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে চীনের রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের শারীরিক সমস্যা অনেকটা ফ্লুর মতো। এর উপসর্গও ফ্লুর মতো। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এটা নিশ্চিত করেছেন, এই ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের সমস্যা হচ্ছে শ্বাস যন্ত্রে।
চীনা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এইচএমপিভি নতুন কোনো হুমকি নয়। চীনা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের গবেষক ঝেং লিশু বলেন, এইচএমপিভি একটি সাধারণ ভাইরাস যা ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও বৃদ্ধির হার কম এবং অস্পষ্ট লক্ষণের কারণে বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এইচএমপিভি ভাইরাস শনাক্ত করতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়।
চীনের চ্যচিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের চিলড্রেনস হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্র রোগ বিভাগের প্রধান থাং লানফাং বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইচএমপিভি সংক্রমণ মৃদু হয়। তবে কিছু শিশুর সংক্রমণের পর নিউমোনিয়া হতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, দুর্বলতা, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্নও হতে হবে।
এই ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা বা টিকা নেই বলে উল্লেখ করেছেন চীনের বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী
চীনের বিশেষজ্ঞরাও যত্নের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্রাম, হালকা খাবার এবং উপযুক্ত পোশাক পরা।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং জনাকীর্ণ স্থান এড়ানোর পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর কড়া বার্তার একদিন পরে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি দেশে ফের হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জর্ডানেই ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানঘাঁটিগুলোতে অবস্থিত ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরেরও ফের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিহত করা ইরানি ড্রোন থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হামাদ শহর এবং রাজধানী মানামায় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী সামান্য আহত হয়েছে এবং এতে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত জানায়, ইরানি হামলার কারণে তারা আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে। এর আগে জিসিসির মন্ত্রিপরিষদ এক বিবৃতিতে বলে, ইরানের এসব হামলা এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার তেহরানের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনো একটির বিরুদ্ধে হামলা মানে তাদের সবার বিরুদ্ধে হামলা।
একইসঙ্গে জিসিসি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
টানা এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত বছর বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হিসেবে অনেক মানুষ অনিরাপদ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার। এক বছর আগের তুলনায় এটি ৫৪ লাখ কম। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে- যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনো অগ্রহণযোগ্যভাবে বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি কমাতে আগামী দশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইউএনএইচসিআর তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হ্রাসের প্রধান কারণ হলো শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) বড় একটি অংশের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছে। এর মধ্যে ৪৪ লাখ শরণার্থী তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রধান বারহাম সালেহ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে আফগানিস্তান, সুদান ও সিরিয়ায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব প্রত্যাবর্তনের অনেকগুলোই নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে হয়নি, বরং চাপের মধ্যে হয়েছে। তিনি বলেন, তারা এমন দেশে ফিরে গেছে যেখানে নিরাপত্তাহীনতা এখনো বিদ্যমান, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং মৌলিক সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত। যেসব প্রত্যাবর্তন নিরাপদ নয়, সেগুলো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি নতুন বাস্তুচ্যুতির চক্র শুরু করতে পারে।
২০২৫ সালের শেষে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ১৬ লাখকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ ওই বছরের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী হয়েছে। নতুন শরণার্থীদের ৬০ শতাংশ এসেছে মাত্র আটটি দেশ থেকে। এর মধ্যে সুদান থেকে প্রায় ১০ লাখ এবং ইউক্রেন থেকে প্রায় ৮ লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি আরও বলেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েকটি বড় সংকট নতুন বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরানে ৩২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া লেবাননে মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। ইরান ও লেবাননের সংঘাতের কারণে সেখানে আশ্রিত অনেক শরণার্থীও বছরের শুরু থেকে নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে সিরিয়া ও আফগানিস্তানও রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর শরণার্থী পুনর্বাসনের সুযোগ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় শরণার্থীর সংখ্যা ২৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে পুনর্বাসনের জন্য স্থান ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০টি, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু গত বছর তা অর্ধেকেরও বেশি কমে ৮১ হাজার ৮০০-এ নেমে আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণ কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত বড় এবং তা আরও বাড়ছে।
বারহাম সালেহ নিজেও একসময় শরণার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এখন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর এমনকি দশকজুড়ে চলতে থাকে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭০ শতাংশ শরণার্থী দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে, যা টেকসই নয়। তিনি দেশগুলোকে একটি নতুন উদ্যোগে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান, যার লক্ষ্য আগামী দশকে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুত শরণার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন এবং মানবিক ভিসার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশগুলো বুঝবে যে একটি আরও টেকসই পরিস্থিতি গড়ে তোলার পথ রয়েছে।
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদের কাছে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালের দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।
দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, উড্ডয়নের সময় হেলিকপ্টারটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আরও জানায়, হেলিকপ্টারে থাকা সব কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য শাহাদাতবরণ করেছেন, কেউই বেঁচে নেই।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর হেলিকপ্টারে থাকা সামরিক সদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সব স্তরের কর্মকর্তা-সদস্যরা হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়াম জেলায় কারিগরি সমস্যার কারণে সেনাবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সৈন্য নিহত হন। একই বছরের আগস্টে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ বৈরী আবহাওয়ার কারণে মোহমান্দ জেলায় বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট ও তিন ক্রু সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
আফগানিস্তানে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে ভারত-সমর্থিত ২৬ জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। বুধবার (১০ জুন) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আতাউল্লাহ তারার লেখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ভারত-সমর্থিত ২৬ জন নিহত হয়েছে।’
পাকিস্তানজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতায় ভারতের কথিত ভূমিকার জন্য নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)-কে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার।
পাক তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে শিবির ও গোপন আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ কমান্ডার আলিম খান খুশালি এবং কমান্ডার আখতার মুহাম্মদ জানি খেলের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি গোপন আস্তানা, এবং একটি গোলাবারুদের ভাণ্ডার ও মারাকিজ (কেন্দ্র) সহ চারটি লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে’।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে, যার মধ্যে মঙ্গলবার পেশোয়ারের মুসা দারায় ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) পোস্টে হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত) রূপকল্পের অধীনে আমাদের নিরলস সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনটি প্রদেশে— কুনার, খোস্ত ও পাকতিকায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ১৪ জন।’
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাই।’
উল্লেখ্য, তালেবানপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) নিয়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের পরোক্ষ মদদে তিক্ততা চলছে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ- আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয়, গোলাবারুদ, অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সহযোগিতা করছে। তালেবান সরকার অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।
উন্নত জীবন ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে গত ৫ মাসে স্পেন উপকূলে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে আফ্রিকা থেকে পারাপারের বিষয়টি নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস। খবর রয়টার্সের।
গত এক দশকে অনিয়মিত অভিবাসন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া স্পেনের দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি দ্বীপে পোপ লিওর সফরের আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি নৌকা সাগর পাড়ি দিয়ে গিয়ে আরোহীসহ নিখোঁজ হয়ে গেছে।’
চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর আচরণের বিষয়ে কথা বলেছেন পোপ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে এমন এক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি; যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ইউরোপের কাছাকাছি থাকা মৌরিতানিয়ার মতো জায়গাগুলোতে পারাপার বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কোস্ট গার্ড বা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়ানো চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে আরও দীর্ঘ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।
সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল)। এ ছাড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যকার প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন পথ দিয়ে সাঁতরে পার হওয়ারও চেষ্টা করে থাকেন।
মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নিজেদের মতো করে বদলে ফেলা যাবে। সেই মানচিত্র আসলেই বদলাচ্ছে, তবে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। ইরানকে পরাজিত করা যায়নি। বরং বর্তমান পরিস্থিতি এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু সংকটের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে পুরোদস্তুর যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
তেহরানের শাসনব্যবস্থা যে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তশালী তা এখন প্রমাণিত। তাদের হিসেব-নিকেশ ভুল ছিল এবং এর ফলাফলের ওপর থেকে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। এর সর্বশেষ প্রমাণ হলো হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। এটি ওয়াশিংটনের জন্য আরও একটি কড়া বার্তা যে, তেহরানের শাসকরা এখনো আমেরিকাকে আঘাত করার ক্ষমতা রাখেন।
একই সঙ্গে এই যুদ্ধে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে তারা যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। ইরানের কাছে বিজয়ের অর্থ হলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শত্রুকে চাপে রাখা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের বাণিজ্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার জেনারেলরা এখন যুদ্ধের সর্বশেষ সংযোজন হরমুজ প্রণালীতে এই হেলিকপ্টার হারানোর ধকল সামলে এমন একটি জবাব খোঁজার চেষ্টা করছেন, যা একই সঙ্গে আমেরিকার শক্তিও প্রদর্শন করবে আবার ধীরগতির নিষ্ফলা কূটনৈতিক পথকেও বাঁচিয়ে রাখবে। এই ঘটনায় কপ্টারের ক্রু সদস্যরা কোনোক্রমে বেঁচে গেছেন। তারা নিহত হলে মার্কিন প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি কঠোর হতো।
ট্রাম্প মূলত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার জন্য মুখিয়ে আছেন। যাতে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেয়া যায় এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ তৈরি হয়। এই যুদ্ধ খোদ আমেরিকার মাটিতেই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। এখন ট্রাম্প এমন একটি উপায় খুঁজছেন যা তিনি নিজ দেশে ‘বিজয়’ হিসেবে প্রদর্শন করতে পারেন। তবে কাজটি মোটেও সহজ হচ্ছে না। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু এখন যুদ্ধের সেই পুরোনো ঐতিহাসিক সত্যেরই মুখোমুখি হয়েছেন, যেকোনো যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, একটি সুনির্দিষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে তা শেষ করা ঠিক ততটাই কঠিন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে যখন তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তখন উভয়ের ভিডিও বার্তাতেই এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছিল। ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইরানের শাসনব্যবস্থা এবার ক্ষমতাচ্যুত হতে যাচ্ছে এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন তারা। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে বসে ট্রাম্প ইরানি জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তাদের মুক্তির সময় সমাগত।
পরদিন সকালে তেল আবিবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাদ থেকে নেতানিয়াহুও ঘোষণা করেন, যে স্বপ্ন তিনি ৪০ বছর ধরে দেখছেন, এবার তা পূরণ হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তি দিয়ে এসেছেন যে, ইসরায়েলের আসল শত্রু ফিলিস্তিন বা আরবরা নয়, বরং ইরান। তিনি পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের রাজি করাতে না পারলেও ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সফল হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের বলেন যে, আমেরিকার সমর্থনে তাদের সামরিক শক্তি শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করবে এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ এনে দেবে। কূটনীতি নয়, সামরিক শক্তিই ছিল তার একমাত্র সমাধান। কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন। গত সোমবার ট্রাম্প যখন তাকে বৈরুতে আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিলের নির্দেশ দেন, তখন ইসরায়েলি কলামিস্ট বেন কাস্পিতের ভাষায়, নেতানিয়াহুকে দেখতে একটি ‘হাওয়া বের হওয়া ফুসকো বেলুনের’ মতো লাগছিল। সামরিক শক্তি দিয়ে পুরো অঞ্চলকে নিজের ইচ্ছাধীন করার যে কৌশল নেতানিয়াহু নিয়েছিলেন, তা স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্প একটি দ্রুত বিজয় আশা করেছিলেন। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যেভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বন্দি করে নিউইয়র্কের জেলে ভরেছে এবং কারাকাসে নিজেদের পছন্দের উত্তরসূরি বসিয়েছে, ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরানের ক্ষেত্রেও সেই একই ফর্মুলা খাটবে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা ও ইসরায়েল আজ ভাবছে কোথায় ভুল হলো? তারা ভেবেছিলেন নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরান হয়তো ভেতর থেকে ভেঙে পড়বে। বিশেষ করে যখন তাদের মিত্র হামাস, হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়েছে, তখন ইরানকে একা ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু তারা এই ইসলামিক শাসনের সহনশীলতা ও নিষ্ঠুরতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন।
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান বাহিনীর নতুন করে চালানো বোমাবর্ষণের পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আকার ধারণ করা সামরিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার সরকারপ্রধানের এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অ্যালবানিজ চলমান এই যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে নিজের তীব্র শঙ্কার কথা জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সমগ্র বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আছড়ে পড়বে।’
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অনুলিপি অনুযায়ী তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে বিশাল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, তা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও বেশি অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।
অ্যালবানিজ এই অঞ্চলের চলমান বৈরিতা হ্রাস করার লক্ষ্যে তার সরকারের পক্ষ থেকে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ক্যানবেরা সর্বদা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী প্রশমন দেখতে চায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও এই যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে অনুভূত হতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ইরানি হামলায় তাদের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনার জবাবেই এই আক্রমণটি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।’ তবে এই পরিস্থিতিতেও একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই বিশ্ববাসীর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি জোর দিয়ে জানান। তিনি বলেন, ‘তারা এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে শান্তি ফিরে আসুক সেটাই চান, কারণ এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি মূলত দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনীর সর্বাত্মক হামলার পরপরই সামনে এল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ইরানের মূল আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও রাডার স্টেশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ বুধবার ভোরে দাবি করেছে, তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে শক্তিশালী প্রতিরোধ হামলা সম্পন্ন করেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে এবার ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের নেটওয়ার্কের ওপর চড়াও হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এই সহিংসতায় অর্থায়ন, সহায়তা ও সরাসরি হামলা পরিচালনাকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স এবং নরওয়ে।
এর আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে মোট ছয়টি দেশ এখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ক, অর্থায়নকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চরম সহিংসতার জন্য দায়ী কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য।’ তারা ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, কয়েকজন বসতি নেতা এবং ২১ জন সহিংস বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে।
যুক্তরাজ্য লক্ষ্য করেছে মূলত অর্থের প্রবাহ বন্ধ করতে। তারা এমন একটি নির্মাণ কোম্পানিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডা আলাদা একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘পশ্চিম তীরে এই সহিংসতা আসলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করার একটি কৌশল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে অধিকৃত এলাকায় লাখ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ বলে বিবেচিত হয়।’
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছেন, ‘যেসব দেশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা নিজ দেশে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা সেই বিদ্বেষকে আরও উসকে দিচ্ছে।’
ইসরায়েলের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলেরে বসতি স্থাপনের অধিকার নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা। পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গান্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের পার্লামেন্টের উচিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করা এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।’
যদিও ইসরায়েল সরকার মাঝে মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা করে, তবে বিদেশি নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তারা সবসময়ই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। যৌথ বিবৃতিতে ছয় দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসরায়েল যদি মাঠপর্যায়ে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ভারত স্বাধীনতার পর থেকে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পুনর্গঠন শুরু করার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে, কারণ নয়াদিল্লি চীন ও পাকিস্তানকে জড়িয়ে সম্ভাব্য দুইমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তার সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় উন্নত করতে চাইছে। এই সংক্রান্ত ‘ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ডস (আইটিসি)’ প্রস্তাবটি গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই সংস্কারের মাধ্যমে ভারতের বিদ্যমান ১৭টি মূলত পরিষেবাভিত্তিক সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কমান্ডগুলোকে প্রতিস্থাপন করে ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত হুমকির ওপর ভিত্তি করে যৌথ কমান্ড গঠন করা হবে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়ার গবেষক গৌরব কুমারের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে দৃশ্যমান সমন্বয় এই পরিকল্পনার পেছনে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, চীনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী একটি নর্দান থিয়েটার কমান্ডের সদর দপ্তর হবে লখনৌয়ে, অন্যদিকে পাকিস্তানের দায়িত্বে থাকা একটি ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জয়পুর থেকে পরিচালিত হবে। তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত একটি মেরিটাইম থিয়েটার কমান্ড ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ভারতের স্বার্থ তদারকি করবে।
কুমার বলেন, ‘আগে চীন ও পাকিস্তানকে মূলত দুটি পৃথক নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ক্রমশই এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে, ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে উভয় দিক থেকেই চাপ আসতে পারে, যা একই সাথে অথবা পরস্পর-সংযুক্ত উপায়ে হতে পারে।’
কুমার আরও বলেন, ‘চীনকে এখন আর শুধু হিমালয় সীমান্ত বিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় না। ভারত মহাসাগরে তাদের নৌ-উপস্থিতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এটি ভারতীয় পরিকল্পনাকারীদের সামুদ্রিক এলাকা এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্কে আরও গুরুত্ব সহকারে ভাবতে বাধ্য করেছে। থিয়েটার কমান্ড সংস্কারের পাশাপাশি ভারত একটি ত্রি-বাহিনী যৌথ অভিযান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ড্রোন পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্র সচেতনতা উন্নত করা যায়।’
কুমার বলেন, ‘ভারত চীনসহ বিভিন্ন বিদেশি সামরিক বাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে, যাদের ২০১৬ সালের ব্যাপক সামরিক সংস্কারে সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড তৈরি করা হয়েছিল। চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড সমগ্র চীন-ভারত সীমান্তের তত্ত্বাবধান করে এবং এটিকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির আধুনিক যৌথ-অপারেশন কাঠামোর একটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়।’
যদিও ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারের এই ধারণাটি ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাতের পর গঠিত কারগিল রিভিউ কমিটির সময় থেকে চলে আসছে, বিশ্লেষকরা বলছেন যে ২০১৯ সালে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদ তৈরির পর এই অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
ভারতের সাবেক এয়ার ভাইস-মার্শাল কপিল কাক বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুরের মতো চীন ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা একটি সাধারণ হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের আজকের প্রস্তুতি প্রয়োজন। যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো যৌথ পরিকল্পনা এবং সমন্বিত ত্রি-বাহিনী অভিযান।’
তবে, এই সংস্কার নিয়ে ভারতের সামরিক বাহিনীতে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। কুমার বলেছেন, ‘ভারতীয় বিমান বাহিনী উদ্বিগ্ন যে থিয়েটার কমান্ডগুলো বিমান শক্তির নমনীয়তাকে সীমিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি ভারত একই সাথে চীন এবং পাকিস্তান উভয়ের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে আবার এক সপ্তাহের মধ্যেও সমঝোতা হতে পারে। বুধবার এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা এমন একটি চুক্তির কাছাকাছি অবস্থানে আছি যা অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো হবে এবং একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু এখন নয়, শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের জন্য নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে এমনভাবে যাতে আমার সন্তানরা বড় হয়ে বলতে পারে-ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এটাই আমাদের নীতির লক্ষ্য এবং আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তবে, এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং আমরা তা চালিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম) হওয়ার আগেই আমরা অনেক কিছু জানতে পারব। চুক্তি আগামী সপ্তাহেই হতে পারে, আবার কয়েক মাস পরেও হতে পারে।’
ভ্যান্সের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দিচ্ছে। তবে, আলোচনার অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি রয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাব দিতে বাহরাইন এবং জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও ব্যাপক ও তীব্র আঘাত হামলা শুরু হবে।’
বুধবার বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটারে) দেওয়া বার্তায় জানায়, ‘সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে বলা হচ্ছে। সবাইকে কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই পাল্টা জবাব দিতে বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি জানায় আইআরজিসি।
এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘মার্কিন হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইরান। এর জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ‘হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে এই হামলা চালানো হয়।’
আইআরজিসি ও ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া পৃথক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।’ তবে বিবৃতিতে শুধু বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শত্রুর কূটচালের জবাবে বাহরাইনেরে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।’
তবে ওই হামলায় কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
খাতাম আল-আম্বিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন বাহিনী হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।’
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ‘মার্কিন বাহিনীর জানা উচিত, তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও আগ্রাসন চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র হামলা চালানো হবে।’ আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘সংঘর্ষ এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না করলে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। তেহরানের মতে, হামলার প্রতিক্রিয়া না দেখালে তা শত্রুদের কাছে দুর্বলতার বার্তা হিসেবে যাবে। এতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে পিছ পা হবে না ইরান।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান।’
জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই হামলায় এফ-৩৫ ফাইটার জেটের হ্যাঙ্গার (বিমান রাখার জায়গা) এবং মার্কিন বাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
গতকাল বুধবার সকালে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘শিশু হত্যাকারী’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুদের অপতৎপরতার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সের সাহসী যোদ্ধারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। জর্ডানের আল-আজরাকে মার্কিন বিমানঘাঁটির এফ-৩৫ ফাইটার জেটের হ্যাঙ্গার এবং শিশু হত্যাকারী মার্কিন বাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।’
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুদের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দিতে আমাদের বাহিনী প্রস্তুত। আর এই নতুন কোনো আগ্রাসনের পরিণতির দায়ভার আমেরিকান শত্রুদেরই নিতে হবে।’
এর আগে বুধবার সকালে এই অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। হরমুজ প্রণালীতে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার অভিযোগে বুধবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত ইরানের
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতের আকস্মিক সামরিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক পথে হাঁটার বিষয়টি তেহরানকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ যেকোনো ফলপ্রসূ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্তত একটি ন্যূনতম স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
টানা ৪ হাজার ৩৯৯ দিন পদে থেকে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহেরুর টানা ৪ হাজার ৩৯৮ দিন দায়িত্ব পালনের রেকর্ডটি ছিল দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি পুরোনো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মোদি। এরপর ২০১৯ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরপর জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
গত বছর ইন্দিরা গান্ধীর একটানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও অতিক্রম করেছিলেন মোদি। এবার তিনি নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন নজির স্থাপন করলেন। এ ছাড়া মোদিই ভারতের একমাত্র অকংগ্রেসীয় নেতা যিনি টানা তিনবার নিরঙ্কুশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা নরেন্দ্র মোদিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিশ্ব মঞ্চে ভারতের অবস্থানের উন্নতির জন্য প্রশংসা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়েকের লেখা একটি চিঠিতে লঙ্কান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেছেন, ‘এই মাইলফলক কেবল আপনার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রমাণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’
ভারতের অসাধারণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির দূরদর্শী চিন্তাধারা ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, ‘এই অর্জন দেশের (ভারত) প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ বছরের সেবা ও অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’ মোদির নেতৃত্ব এবং ভারতের উন্নয়নে তার অবদানেরও প্রশংসা করেন করে তিনি আরও বলেন, ‘এই অর্জনটি তার (মোদির) কয়েক দশকের নিবেদিত জনসেবা এবং নেতৃত্বের এক শক্তিশালী প্রমাণ।’
মার্কিন সিনেটের ইন্ডিয়া ককাসের সহসভাপতি জন কর্নিনও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার মেয়াদকে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন।
এক্স পোস্টে করনিন লেখেছেন, ‘ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। টানা তিনটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ম্যান্ডেটের মাধ্যমে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করে তিনি ৪ হাজার ৩৯৯ দিনের এই নেতৃত্বের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা থেকে শুরু করে ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত করা পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামল ছিল সত্যিই রূপান্তরধর্মী। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অংশীদারত্বও এর আগে কখনো এত শক্তিশালী ছিল না।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও মোদির নেতৃত্বকে ‘দূরদর্শী ও প্রভাবশালী’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারত-ইতালি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে মোদির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই অর্জন ভারতের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে তার দীর্ঘদিনের নিবেদিত জনসেবা ও নেতৃত্বের প্রমাণ।’
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেশেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘বন্ধু ও দূরদর্শী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘ভারতের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মোদির অবদান অনস্বীকার্য।’
হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা পুনরায় চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন হামলার কড়া জবাব দিতে ইরান এবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সাথে তেহরান কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিসম্পন্ন একটি সামরিক ঘাঁটিতেও যৌথভাবে শক্তিশালী আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হওয়ার জন্য ইরানি ড্রোনের আঘাত দায়ী বলে নিশ্চিত করে ওয়াশিংটন। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বেশ কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে তিন দফায় বিমান হামলা পরিচালনা করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই অভিযানকে একটি ‘আনুপাতিক আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কার্যক্রম সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, মার্কিন এই হামলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সিরিক জেলার দুটি পানির ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন বিমান হামলার পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাল্টা এই আঘাত শুরু করে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়া হবে। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সংকল্প ও সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়ার একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরণের বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা হুমকি অনুত্তরিত রাখবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি মার্কিন বাহিনীকে দ্রুত এই অঞ্চল ত্যাগ করার আহ্বান জানান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মূলত ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া পূর্ববর্তী শান্তি প্রচেষ্টাগুলো এই নতুন উত্তজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।