বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: উভয় পক্ষের দুই লাখ সেনা হতাহত

ইউক্রেনীয় সেনা তারাস-তিমোফি হ্যাভরিলিশিনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গত বুধবার লভিভ শহরে সম্পন্ন হয়। সহযোদ্ধারা তারাসের কফিন বহন করেন। ছবি: এএফপি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের রণাঙ্গনে অন্তত দুই লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন। মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি গত বুধবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় এক লাখ এবং ইউক্রেনের এক লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন। এ ছাড়া সংঘাতের কবলে পড়ে অন্তত ৪০ হাজার সাধারণ বা বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছেন।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো পশ্চিমা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটিই সবচেয়ে বেশি হতাহতের হিসাব। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই রণাঙ্গনে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করতে সতর্ক থাকছে। মস্কো গত সেপ্টেম্বরে দাবি করে, সংঘাতে মাত্র ৫ হাজার ৯৩৭ জন রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু তখন আরও বেশি হতাহতের খবর অস্বীকার করেন। ইউক্রেনও নিজেদের সেনা হতাহতের বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। তবে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের বরাতে গত আগস্টে দেশটির গণমাধ্যম ৯ হাজার সেনার মৃত্যুর খবর জানায়।

জেনারেল মিলি মনে করেন, মস্কোর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসার আভাস দিয়ে কিয়েভ মূলত আলোচনার ‘জানালা’ খুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন আভাস-ইঙ্গিতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ক্ষমতা থেকে না যাওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়া সিদ্ধান্ত থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরে এসেছেন।

জেনারেল মিলি বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ করতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়কেই একটি ‘পারস্পরিক স্বীকৃতিতে’ পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, সম্ভবত অস্ত্রের মাধ্যমে যুদ্ধে বিজয় অর্জন করা যাবে না। তাই আপনাকে অন্য উপায় বেছে নিতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেনারেল মিলি। তিনি বলেন, রণাঙ্গনে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শীত আসার আগেই উভয় পক্ষকেই যুদ্ধ অবসানে আলোচনার বিষয়টি ভাবতে হবে। তীব্র শীতে দুই পক্ষের জন্যই লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ রুশ সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও সংখ্যাটা একই হতে পারে।

খেরসনে রুশ বাহিনীর ফাঁদের আশঙ্কা ইউক্রেনের

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহর থেকে রুশ বাহিনী পিছু হটার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কিয়েভের কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সহজভাবে দেখছে না। তাদের আশঙ্কা, এটি ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্য রাশিয়ার ভয়াবহ কোনো ফাঁদ হতে পারে। বিনা বাধায় ইউক্রেনের ট্যাংকগুলো বিজয়ীর বেশে খেরসনে ঢুকে যাবে বলে কিয়েভ আশা করছে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্তোভিচ বলেছেন, ‘রুশ বাহিনী সরে যাচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার হলে যেমন গতিবিধি দেখা যায়, তা হচ্ছে না।’

আরেস্তোভিচ জানান, রুশ বাহিনী খেরসন ছেড়ে যাওয়ার পথে একাধিক সেতু, রাস্তা ধ্বংস করে যাচ্ছে। রুশ সেনাদের মনে কী আছে তা বোঝা যাচ্ছে না। তারা কী লড়াইয়ে জড়াবে নাকি খেরসন শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করবে- স্পষ্ট নয়। তারা খুবই ধীরগতিতে সরছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ বাদ দিয়ে চলে যাচ্ছে এমন কোনো দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাইনি।’

রাশিয়া গত বুধবার খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু তার সেনাদের দিনিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ইউক্রেন থেকে পিছু হটার ক্ষেত্রে বড় একটি পদক্ষেপ। দুই দেশের যুদ্ধ সমাপ্তির পথেও এটি সম্ভাব্য একটি গতিপথ নির্ধারণী পদক্ষেপ হতে পারে।

ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চল রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইউক্রেন এখনো ওই অঞ্চলের দখল ছাড়েনি। খেরসন পুনঃনিয়ন্ত্রণ নিতে ইউক্রেন ভীষণ তৎপর রয়েছে। কৃষ্ণসাগর উপকূলের কাছে দিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী খেরসন ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের খুব কাছে এটির অবস্থান। সেই হিসেবে খেরসন হলো ক্রিমিয়ার প্রবেশদ্বার। রাশিয়ার কাছ থেকে কোনোভাবে খেরসন পুনরুদ্ধার করতে পারলে ইউক্রেনীয় বাহিনী ক্রিমিয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

অ্যামনেস্টির অভিযোগ

ইউক্রেনের নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে রাশিয়া ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ করেছে বলে মনে করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মানবাধিকার সংস্থাটি গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, রাশিয়া অধিকৃত এলাকা থেকে ইউক্রেনীয়দের জোরপূর্বক স্থানান্তর এবং শিশুদের তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে মস্কো মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। রাশিয়ার এমন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

ইন্দোনেশিয়ায় জি-২০ সম্মেলনে যাচ্ছেন না পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। ইন্দোনেশিয়ার অবকাশ কেন্দ্র বালি দ্বীপে আগামী সপ্তাহে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইন্দোনেশিয়া এবং রাশিয়ার কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় রুশ দূতাবাসের প্রটোকল প্রধান উলিয়া তমস্কায়া বলেন, এবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জি-২০ সম্মেলনে মস্কোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক ও বিনিয়োগবিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রীর মুখপাত্র জোদি মাহার্দি জানান, সম্মেলনের একটি বৈঠকে পুতিন ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এবারের জি-২০ সম্মেলন আয়োজন করতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়াকে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে আমন্ত্রণ না করার জন্য তারা ইন্দোনেশিয়ার সরকারের ওপর অনবরত চাপ দিয়ে গেছে। তারা জি-২০ গ্রুপ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কারের দাবি জানায়। তবে ইন্দোনেশিয়া সরকার জানায়, সব সদস্যের ঐকমত্য ছাড়া এমন কাজ করার এখতিয়ার তাদের নেই। এবারের সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি জানান, সম্মেলনে পুতিন অংশ নিলে তিনি আসবেন না। জেলেনস্কি সম্ভবত ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। েেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জে


আইএমএফের শর্ত কল্পনারও বাইরে, রাজি না হয়ে উপায় নেই: শেহবাজ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ
আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ চুক্তি নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। আসন্ন অক্টোবরে নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে আইএমএফের দাবিকৃত কর বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি হ্রাসের শর্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও এখন এই কঠিন শর্তই মানতে চলেছে শেহবাজ শরিফের সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেছেন, ঋণ পেতে আইএমএফের শর্ত যদিও ‘কল্পনারও বাইরে’। কিন্তু এই কঠিন শর্তেও রাজি না হয়ে উপায় নেই। খবর দ্য ডন ও এনডিটিভির।

অর্থনৈতিক অবস্থার গতি ফেরাতে আইএমএফের কাছ থেকে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নিতে চায় পাকিস্তান। গত মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত আলোচনা সারতে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার শেহবাজ শরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে এতটুকুই বলব, আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অকল্পনীয়। আইএমএফের যেসব শর্তে রাজি হতে হবে, সেটাও কল্পনার বাইরে। তারপরও আইএমএফের এসব শর্তে আমাদের রাজি হতেই হবে।’

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১০ কোটি মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রিজার্ভ দিয়ে আর তিন সপ্তাহেরও কম আমদানির চাহিদা মেটানো যাবে। গত বুধবার পাকিস্তানের বাৎসরিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪৮ বছরের সর্বোচ্চ হয়েছে।

বিষয়:

পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় বাড়ল ৩৫ রুপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানে ফের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এবার এক ধাক্কায় লিটারপ্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৩৫ পাকিস্তানি রুপি বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া কেরোসিন ও হালকা ডিজেলের মূল্য বেড়েছে ১৮ রুপি করে।

রোববার থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির দর রেকর্ড পরিমাণে কমে যায়। এতে গত বৃহস্পতিবার থেকে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি মুদ্রার দর দাঁড়ায় ২৬২ রুপিতে।

এরপরই দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে পাকিস্তান এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

দেশটিতে বর্তমানে লিটারপ্রতি পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ২৪৯.৮০ রুপিতে। হাইস্পিড ডিজেলের মূল্য ২৬২.৬০ রুপি। কেরোসিন তেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮৯ রুপিতে। আর হালকা ডিজেলের দাম ১৮৭ রুপি।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গুজবে দেশটির লোকজন গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল স্টেশনে ভিড় জমাচ্ছিল। তবে সরকার মানুষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে মানা করেছে।

অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, জ্বালানি তেলের অস্থায়ী মজুদ এবং পেট্রোলের ঘাটতি সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবিলম্বে নতুন মূল্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে।

পাকিস্তানি রুপির দরপতনের ফলে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানে খাদ্যপণ্যের দামও ব্যাপক বেড়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। ব্যয় সংকোচনের জন্য মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের সরকার।


মিয়ানমারে সেনাশাসন শুরুর পর আফিম উৎপাদন বেড়েছে

মিয়ানমারের একটি পপিখেতে কাজ করছেন কৃষকরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে উৎপাদন বেড়েছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত এক বছরে দেশটিতে পপির চাষ এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। খবর দ্য গারডিয়ানের।

মাদক ও অপরাধবিষয়ক ওই প্রতিবেদনটি গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে জাতিসংঘ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে আফিম চাষ ও উৎপাদন বেড়েই চলছে। ২০২২ সালে পুরো মৌসুমে মিয়ানমারে আফিম চাষের এলাকা ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪০ হাজার ১০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের আঞ্চলিক প্রতিনিধি জেরেমি ডগলাস বলেছেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাশাসন শুরুর পর মিয়ানমারের জনগণের অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয় ছাড়াও দেশটিতে চলমান অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে কৃষকদের আফিম চাষ ছাড়া তেমন কোনো পথ খোলা ছিল না।

ডগলাস বলেন, দেশটি আফগানিস্তানের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আফিম ও হেরোইন উৎপাদনকারী দেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারে আফিমের চাষ নিম্নমুখী ছিল। ২০২০ সালে দেশটিতে আফিম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪০০ টনের কম। ২০২১ সালে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার পর, ২০২২ সালে এটি আনুমানিক ৭৯০ টনে উন্নীত হয়েছে।

সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত। জাতিসংঘ বলছে, সংঘাত মিয়ানমারের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলায় গ্রামীণ পরিবারগুলো তাদের আয়ের জন্য আফিম চাষের ওপর বেশি নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে।

ডগলাস বলেন, আফিম উৎপাদনের যে সম্প্রসারণ চলছে, তা মূলত দারিদ্র্য এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিক্রিয়ার ফল।


জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, বিদ্যুৎহীন পাকিস্তান

বিদ্যুৎহীন করাচিতে চলছে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশটির বড় অংশ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আল-জাজিরার।

দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টুইটারে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।

চার মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শিকার হলো পাকিস্তান। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় দেশটির বিদ্যুৎখাত। সেসময় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৃহত্তম শহর করাচিসহ পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুৎহীন ছিল।

সোমবার দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী খুররম দস্তগীর একটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, জ্বালানি খরচ বাঁচাতে শীতকালে রাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে জাতীয় গ্রিড।

‘আজ সকাল সাড়ে ৭টায় যখন ইউনিটগুলো এক এক করে চালু করা হচ্ছিল, তখন দেশের দক্ষিণাঞ্চল সিন্ধু প্রদেশের দুটি শহরের (জামশোরো এবং দাদু) মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সির তারতম্যের ঘটনা ঘটে।’

‘এ সময় ভোল্টেজ ওঠানামা করতে করতে একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হতে শুরু করে।’

‘তবে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন ওই মন্ত্রী। দস্তগীর বলেন, ‘কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরেছে। তবে পুরো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে অন্তত ১২ ঘণ্টা।’

আল-জাজিরা জানায়, ২২ কোটি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে বাজার এবং বিপণিবিতানগুলোকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা জারি করে দেশটির সরকার।


নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি যেমন

নেপালের ইয়েতি এয়ারলাইনসের বহরে ছয়টি এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের বিমান ছিল
আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালের পোখারায় ৭২ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ফ্লাইটটিতে ৬৮ যাত্রী ও ৪ ক্রু ছিলেন।

উড়োজাহাজটি এটিআর ৭২ মডেলের

প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ১৫ বছর পুরোনো। সেটি দুই ইঞ্জিনের ‘এটিআর ৭২’ মডেলের। পরিচালনার দায়িত্বে ছিল নেপালের ইয়েতি এয়ারলাইনস। তাদের বহরে মোট ছয়টি ‘এটিআর ৭২-৫০০’ উড়োজাহাজ থাকার কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে। এই সংস্করণ এখন আর তৈরি করে না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটিআর এয়ারক্র্যাফট।

অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে এটিআর ৭২ সিরিজের উড়োজাহাজের চল আছে বিশ্বব্যাপী। ফরাসী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ও ইতালির লেওনার্দোর যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি হয়ে থাকে।

এটিআর এয়ারক্র্যাফটের তথ্য অনুযায়ী, এটিআর ৭২-৫০০ মডেলে যাত্রীদের জন্য সচরাচর ৬৮টি আসন থাকে। দৈর্ঘ্যে ২৭ দশমিক ১৭ মিটার লম্বা হয়, এক পাখা থেকে অপর পাখার প্রান্তের দৈর্ঘ্য ২৭ মিটার। এতে মোট চারটি জরুরি নির্গমন পথ আছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৯ মাইল বেগে চলে এই উড়োজাহাজ।

কী কারণে বিধ্বস্ত হলো

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল প্রচণ্ড সংবাদমাধ্যমে বলেন, বিমানটি রাজধানী কাঠমুন্ডু থেকে পোখারায় যাচ্ছিল।

রোববার দুর্ঘটনার সময় পোখারায় আবহাওয়া বৈরি ছিল না। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এখন পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কথাই বলছে।

এদিকে ইয়েতি ইয়ারলাইনসের মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, বিমানটি ভেঙে কয়েক খণ্ড হয়ে গেছে। ছবিতে বিমান থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

বিমান দুর্ঘটনার পর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি তৈরি করেছে নেপাল সরকার। সোমবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় সেখানে।


বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন যেসব দেশের নাগরিকরা

ঘটনাস্থলে কাজ করছে উদ্ধারকারীরা। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট
আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নেপালের পোখারায় বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭২ আরোহীর মধ্যে ১৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজটিতে মোট ৬৮ যাত্রী ও চার জন ক্রুর ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ৫৩ জন নেপালি ও ১৫ জন বিদেশি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে বিদেশিদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয়, চারজন রুশ, দুজন কোরীয় এবং একজন করে আইরিশ, অস্ট্রেলীয়, আর্জেন্টাইন ও ফ্রান্সের নাগরিক। তাদের উদ্ধারে পোখারা বিমানবন্দর থেকে দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে এবং কাঠমান্ডুতে অতিরিক্ত হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে ছিলেন ১২ বিদেশিও
নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত: ৪০ মরদেহ উদ্ধার, বাকিদেরও মৃত্যুর শঙ্কা

নেপালে ৭২ আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

রোববার সকালে পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পুরোনো বিমানবন্দরের মাঝামাঝি এলাকায় ইয়েতি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নেপালের সংবাদমাধ্যম অনলাইন খবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ এনএএনসি এটিআর৭২ মডেলের এয়ারক্রাফটি রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে পোখারায় যাচ্ছিল।

সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে উড়োজাহাজটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। পোখারার বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এটি সেতি নদীর তীরে বিধ্বস্ত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক শ নেপালি সৈন্য উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। আরও মরদেহ পাওয়া যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনায় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড।

ইয়েতি এয়ারলাইনসের মুখপাত্র সুদর্শন বার্তৌলা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সংস্থার কর্মীরা। উড়োজাহাজটিতে কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হিমালয়ের দেশ নেপালে প্রায়ই উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটে। কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এক হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে দেশটিতে ৩০টির মতো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে।


চীনে ভিড়ের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেয়ায় পাঁচজন নিহত

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা গাড়ির ছবি
আপডেটেড ১২ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেয়ায় চীনের গুয়াংজুতে পাঁচজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করেছে পুলিশ। খবর বিবিসির।

মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে চালক ইচ্ছা করেই পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘ট্রাফিক বাতির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের ওপর ইচ্ছা করেই গাড়ি চালিয়ে দেয় সে। বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব নিয়েই কাজটি করেছে। এরপর ইউটার্ন নিয়ে ফের মানুষকে আঘাত করে।’

ঘটনার পর ওই চালক এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার মোটরসাইকেল উদ্দেশ্য করে গাড়ি চালিয়ে যান। তবে একটুর জন্য বেঁচে যান ওই কর্মকর্তা।

একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার পর গাড়ি থেকে বের হয়ে ২২ বছর বয়সী চালক বাতাসে কাগজী মুদ্রা ছড়াচ্ছেন।

১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের শহর গুয়াংজু। চীনের দক্ষিণের শহরটির এক ব্যস্ত মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি চীনজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

বিবিসি জানায়, চীনে সম্প্রতি এমন ঘটনা আরও ঘটেছে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দেশটির ফুজিয়ান প্রদেশে ভিড়ের ওপর এক চালক মিনি ট্রাক তুলে দিলে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়।


কাবুলে ‘আত্মঘাতী’ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

ওই আত্মঘাতী হামলার পর নিরাপত্তারক্ষীরা রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বুধবার বড় ধরনের বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তালেবান সরকারের একজন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

আলজাজিরা জানায়, সন্দেহভাজন একজন ‘আত্মঘাতী’ হামলাকারী ব্যক্তি ওই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। চলতি বছর কাবুলে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় হামলা। তবে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তালেবানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উস্তাদ ফারিদুন রয়টার্সকে বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি বোমা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের পরিকল্পনা নিলেও ব্যর্থ হয়েছেন।

কাবুলের পুলিশপ্রধান খালিজ জাদরান বলেন, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তথ্য ও সংস্কৃতি উপমন্ত্রী মোহাজের ফারাহি এএফপিকে বলেন, স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তখন চীনের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তবে হামলার সময় তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

তালেবান সরকার আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আরেক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আইএসের জঙ্গিরা মূলত বিদেশিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। রুশ ও পাকিস্তানি দূতাবাস এবং চীনের ব্যবসায়িক কেন্দ্রের মতো স্থানকে তারা নিশানা করছে।


ভারত-চীন আবার উত্তেজনা

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন। ছবি: সংগৃহীত 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘাত ঘিরে দুই শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে শুক্রবার দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে এই ঘটনার কথা গত সোমবার জানাজানি হয়। দুই দেশের সরকার মঙ্গলবার সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে।

গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষের আড়াই বছরের বেশি সময় পর ভারত-চীন সেনাদের মধ্যে নতুন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহত করে ভারতীয় সেনারা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বেঁধে যায়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন সেনা সামান্য আহত হন। তিনি আরও বলেন, চীন সীমান্তে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। সংঘাতের বিষয়টি চীনের কাছে কূটনৈতিক পর্যায়ে তোলা হয়েছে বলে রাজনাথ সিং জানান।

ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশটির পার্লামেন্টে সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলেন। তবে বিরোধী দলগুলো সরকারের বক্তব্যে খুশি নয়। তারা বিতর্কিত সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছে। কংগ্রেস সংসদ সদস্য শক্তি সিং গোহিল বলেন, সরকারের মনোভাবে স্পষ্ট যে, তারা শুধু বিবৃতিতেই কাজ সেরে ফেলতে চাইছে। এর আগে রাজ্যসভায় কংগ্রেস দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেম মুলতবি প্রস্তাব আনেন এবং সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিতর্কের দাবি জানান। তৃণমূল কংগ্রেসও ভারত-চীন সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনার দাবি জানায়।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন মঙ্গলবার দাবি করেন, ভারত-চীন সীমান্তে পরিস্থিতি এখন বলতে গেলে স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে সীমান্ত ইস্যুতে বাধাহীন সংলাপ বজায় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ চীন সীমান্ত সংলগ্ন অরুণাচলের তাইওয়াং অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে বেইজিং।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, প্রায় ৩০০ চীনা সেনা তাদের থাং লা শিবির থেকে নদী পার হয়ে তাওয়াং সেক্টরে অনুপ্রবেশ করেছিল। কিন্তু ভারতীয় সেনা প্রস্তুত থাকায় তারা সুবিধা করতে পারেনি। এরপর সেনাদের ঊর্ধ্বতন স্তরের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পিছিয়ে নেয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। ইতিমধ্যে তা কার্যকরও হয়েছে।

এর আগে লাদাখ অঞ্চলের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে বড় সংঘর্ষ হয়েছিল। ২০২০ সালের ওই সংঘর্ষে ভারতে ২০ সেনা ও চীনের অন্তত চারজন সেনা নিহত হয়। গালওয়ান সংঘাত ঘিরে এশিয়ার শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। উভয় দেশের সেনারা মুখোমুখি অবস্থান নেন। সীমান্তে সেনা সমাবেশ করে দুই দেশ। এরপর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কমান্ডারদের মধ্যে বৈঠক হয়। পরবর্তী সময় বৈঠক হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, দুই দেশই সীমান্ত থেকে সেনা সরাতে শুরু করে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর টহল
এদিকে সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, অরুণাচল প্রদেশের আকাশে ভারতীয় বিমানবাহিনী টহল দেয়া শুরু করেছে। অরুণাচলে চীনের বিমানবাহিনীর তৎপরতা পরিলক্ষিত হওয়ায় ভারত এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্রের দাবি, চীনকে প্রতিহত করতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো অরুণাচলের আকাশে দুই থেকে তিনবার করে টহল দিচ্ছে।


­৫০০ উড়োজাহাজ কিনবে এয়ার ইন্ডিয়া

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ছবি: টাটা ডটকম
আপডেটেড ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিমান কিনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এক সময়ের রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটি চলতি বছর আবার টাটা গ্রুপের হাতে আসে। এরপর থেকেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ব্যবসায়িক দিক থেকে ঘুরে দাঁড় করাতে এবং দেশের প্রথম অবস্থানে আনতে একের পর এক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রোববার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে, এয়ারবাস ও বোয়িং এর কাছ থেকে ৫০০ বা তারও বেশি আকাশযান কিনবে সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চারশর মতো ছোট ও ১০০ বা তারও বেশি বড় জেট বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর মধ্যে কয়েক ডজন এয়ারবাস এ ৩৫০, বোয়িং ৭৮৭ এবং বোয়িং ৭৭৭ ও থাকবে।

ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে আরও বলেন, এসব বিমান অর্ডারের জন্য চুক্তি করতে শেষ পর্যায়ের আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে এয়ারবাস, বোয়িং বা এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খবরে বলা হয়, এই ধরনের চুক্তি ১০০ বিলিয়ন ডলারের উপরে হতে পারে এবং এককভাবে কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে এত উড়োজাহাজ কেনার রেকর্ড হয়ত এটাই প্রথম। এক দশক আগে আমেরিকান এয়ারলাইন্স সম্মিলিতভাবে ৪৬০টি এয়ারবাস এবং বোয়িং জেটের অর্ডার করে।


রাশিয়া পাগল হয়ে যায়নি: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়ছে উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া পাগল হয়ে যায়নি এবং তার দেশ আগ বাড়িয়ে এ ধরনের হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। গত বুধবার রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের বার্ষিক বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন।

পুতিন বলেন, ‘আমরা পাগল হয়ে যাইনি। পরমাণু অস্ত্র কী জিনিস তা আমরা বুঝি। বিশ্বের মধ্যে আমাদের কাছেই সবচেয়ে অত্যাধুনিক পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। তবে এটি নিয়ে আমরা বিশ্বের সামনে আস্ফালন চালাতে যাচ্ছি না।’ পুতিন জোর দিয়ে বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর হামলা চালানো হলেই কেবল এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয়া হবে।’ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা নেই। তবে তুরস্কসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।’
আল-জাজিরা জানায়, পুতিনের এমন বক্তব্যের দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নিড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এমন কথাবার্তা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন।’

মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনে রুশ সেনারা আরও দীর্ঘদিন লড়াই চালাতে পারে। তবে যুদ্ধের জন্য নতুন করে সেনা তলব করা হবে না বলে তিনি জানান। বিবিসি জানায়, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাচ্ছে রাশিয়া। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, পুতিন শুরুতে হয়তো ভেবেছিলেন, তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে জয়লাভ করবেন। তবে পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনের চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার সাফল্য নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। গত সেপ্টেম্বরে বিতর্কিত গণভোটে ইউক্রেনের ঝাপোরিঝিয়া, খেরসন, দোনেৎস্ক ও লুগানস্ক রাশিয়ার অংশ বলে ঘোষণা করে রুশ প্রশাসন। তবে কিয়েভ সরকার ও পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার এমন ঘোষণাকে মেনে নেয়নি।


গুজরাটে জয়ের পথে মোদি

আমদাবাদে বিজেপির রাজ্য সদরদপ্তরে উল্লাস। ছবি: পিটিআই
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:২০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পথে নরেন্দ্র মোদির দল ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী ১৫৪ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কংগ্রেস পেয়েছে ২০টি আসন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ) ৫টি ও অন্যান্য দল পেয়েছে তিনটি আসন।

গুজরাট বিধানসভায় মোট আসন ১৮২টি। সরকার গঠনে দরকার ৯২টি।

১৯৯৮ সাল থেকে এ রাজ্যে টানা ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এর আগে অবশ্য ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসেছিল দলটি। তবে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারেনি। গুজরাটে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি। ফলে প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: গুজরাটে মোদিই বিজেপির বড় শক্তি

গত ১ ডিসেম্বর গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হয়। দ্বিতীয় ধাপের ভোট নেয়া হয় ৫ ডিসেম্বর।

এ নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ৩৯ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। সরকার গঠনে দরকার ৩৫ আসন। হিমাচলে বিজেপি পেয়েছে ২৬টি আসন, অন্যান্য দল ৩টি। তবে আপ এখনো কোনো আসন পায়নি।


বিক্ষোভের দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: এপি
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
    মাহসা আমিনির মৃত্যু

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভে জড়িত একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। চলমান বিক্ষোভের ঘটনায় দোষী হিসেবে দেশটিতে এই প্রথম কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। খবর আল জাজিরার।

বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, লম্বা ছুরি দিয়ে এক নিরাপত্তারক্ষীকে আহত করা এবং তেহরানের একটি রাস্তা বন্ধ করায় ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহসেন শেখারি। তার বিষয়ে আর কিছু জানায়নি সংবাদ সংস্থাটি।

খবরে বলা হয়, বিবাদীর করা আপিল প্রত্যাখ্যান করে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট। তার কর্মকাণ্ড ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অপরাধ’ হিসেবে উপস্থাপন করে এই সাজা দেয়া হয় ।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মাহসা দেশটির ‘নৈতিকতা পুলিশে’র হাতে আটক হওয়ার পর মারা গিয়েছিলেন।

‘শালীনতা এবং হিজাবের সংস্কৃতি’ ছড়িয়ে দিতে ইরানে নৈতিকতা পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। সংস্থাটি দাপ্তরিকভাবে ‘গাশত-ই এরশাদ’ বা ‘গাইডেন্স পেট্রোল’ নামে পরিচিত। ২০০৬ সালে শুরু হয় এই পুলিশের যাত্রা।

সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া মাহসা আমিনি গোটা দেশে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ হেফাজতেই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। ঘটেছে বহু হতাহতের ঘটনাও। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভের পর সম্প্রতি নৈতিকতা পুলিশ বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মনতাজেরির উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, বিচার বিভাগের সঙ্গে নৈতিকতা পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিষয়:

banner close