বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সোমবার ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ প্রত্যাবর্তন

আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৬:৫৭

ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সোমবার (২০ জানুয়ারি) দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ৭৮ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা ওয়াশিংটনের ইউএস ক্যাপিটলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নেবেন এবং চার বছর আগে অপমানজনকভাবে ছেড়ে যাওয়া হোয়াইট হাউসে বিজয়ীর বেশে ফিরবেন।

শপথ গ্রহণের আগের দিন তিনি একটি তারকাবহুল ‘মেক আমেরিকা গ্রেট ভিক্টরি ‘র‌্যালি’ আয়োজন করবেন। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনী ইলন মাস্ক এবং ‘ওয়াই.এম.সি.এ.’ গানটির জন্য বিখ্যাত ব্যান্ড ভিলেজ পিপল পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে।

বিলিয়নিয়ার ট্রাম্পের এই প্রত্যাবর্তন একটি অসাধারণ যাত্রার সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি দুইবারের প্রাণনাশের চেষ্টা ও একটি ঐতিহাসিক ফৌজদারি মামলা পেছনে ফেলে প্রেসিডেন্সি পুনরুদ্ধার করেছেন।

তবে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই উদযাপনে বাগড়া দিতে পারে একমাত্র আবহাওয়া। একটি প্রাণঘাতী 'পোলার ভর্টেক্স' তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা আবহাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করলে অনুষ্ঠানটি ঘরের ভেতরে স্থানান্তরিত হতে পারে।

প্রতি চার বছর পরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত বা পুনর্নির্বাচিত যিনিই হোন, এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান নতুন নেতার ব্যক্তিগত ছোঁয়ায় অনন্য হয়ে ওঠে।

এখানে সোমবারের অনুষ্ঠানের এক ঝলক তুলে ধরা হলো।

শপথ অনুষ্ঠান

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শুরু হয় ২০ জানুয়ারি দুপুরে (যদি তা রবিবার পড়ে, তবে পরের দিন)। প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্টরা ক্যাপিটলের পশ্চিম লনে ন্যাশনাল মলের দিকে মুখ করে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে শপথ নিয়েছেন।

সাধারণত, শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। সোমবার এটি হবে জন রবার্টসের দ্বিতীয়বার ট্রাম্পের জন্য শপথ গ্রহণ পরিচালনা। শপথ শেষে ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন।

ক্যাপিটলে ট্রাম্পের এ উদ্বোধনী ভাষণের দিকে তাকিয়ে থাকবে আমেরিকা ও বিশ্ব, যেখানে তিনি তার নতুন মেয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। ২০১৭ সালে তার প্রথম ভাষণ 'আমেরিকান কারনেজ' নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এবারও তিনি সাহসী ও শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই দিন নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই মঞ্চে শপথ নেবেন।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি

ট্রাম্পের এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি জগতের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিদের উপস্থিতি হবে একটি বড় চমক। ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গ এবং টিকটকের সিইও শৌ চিউসহ আরও অনেকে এই অনুষ্ঠানে ভিআইপি আসনে থাকবেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বারাক ওবামা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন। তবে মিশেল ওবামা আসবেন না। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটন এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসও উপস্থিত থাকবেন।

প্রথাগতভাবে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো না হলেও, ট্রাম্প ইতালি ও হাঙ্গেরির ডানপন্থী নেত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ভিক্টর অরবান, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জনসমাগম

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম আশা করা হচ্ছে। ২২০,০০০ এরও বেশি টিকিট বিতরণ করা হয়েছে। যারা টিকিট পাননি, তারা ন্যাশনাল মলে বড় স্ক্রিনে অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। শপথের পর ট্রাম্প ক্যাপিটল থেকে হোয়াইট হাউসে একটি জমকালো প্যারেডের মাধ্যমে যাত্রা করবেন।

নির্বাহী আদেশ ও কর্মসূচি

ট্রাম্প তার দায়িত্বের প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার কর্মসূচি চালু করা, তেল উত্তোলন বৃদ্ধি করা এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলায় অভিযুক্ত কিছু সমর্থককে ক্ষমা করা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত

২০১৭ সালের শপথ অনুষ্ঠানে তারকাদের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু এবার ট্রাম্পের মঞ্চ আলোকিত করবেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা। কান্ট্রি গায়ক ক্যারি আন্ডারউড 'আমেরিকা দ্য বিউটিফুল' পরিবেশন করবেন। লি গ্রিনউড তার বিখ্যাত গান 'গড ব্লেস দ্য ইউএসএ' গাইবেন।

রোববারের প্রাক-উদ্বোধনী র‌্যালিতে ভিলেজ পিপল, কিড রক এবং বিলি রে সাইরাস পারফর্ম করবেন। এছাড়া জেসন অ্যালডিন, রাসকাল ফ্ল্যাটস এবং গ্যাভিন ডিগ্রোসহ আরও অনেক তারকা তিনটি গালা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

গালা ও র‌্যালি

ট্রাম্প সোমবার রাতে তিনটি গালা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি, রোববার রাতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল ওয়ান এরিনায় 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন ভিক্টরি র‌্যালি' অনুষ্ঠিত হবে।


আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ

ভারতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র মিশনগুলোর প্রধান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা আঞ্চলিক বৈঠকের আয়োজন করেন।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর (এসসিএ) আওতাভুক্ত ১১টি দেশে কর্মরত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানরা কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আঞ্চলিক অগ্রাধিকার বিষয়গুলো গুরুত্বারোপ এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করতে এই বৈঠকে অংশ নেন।

ভারতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সহকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, আমাদের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের সব রাষ্ট্রদূতকে ভারতে একসঙ্গে পেয়ে চমৎকার লাগছে!

সম্মেলন চলাকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পরবর্তী সময়ে তিনি এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর আয়োজিত রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক কনফারেন্সে তিনি ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানে দায়িত্বরত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত। এই প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে গর্বের সঙ্গে ভূমিকা রাখছেন।

এর আগে সোমবার রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর অমৃতসরের পবিত্র শিখ উপাসনালয় ‘স্বর্ণ মন্দির’ পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি ঐতিহাসিক জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সফরের ছবি শেয়ার করে গোর এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় হিসেবে বর্ণনা করেন ও উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান।

ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই সার্জিও গোর দেশটির বিভিন্ন স্থান সফর করছেন, যার অংশ হিসেবে তিনি অমৃতসরে যান। এর আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মিরের শ্রীনগর এবং লাদাখের লেহ অঞ্চলে সফর সম্পন্ন করেন।

রাজস্থান সফরকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ ও বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তির’ দ্বিতীয় সংস্করণ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। মহড়াস্থলে পৌঁছে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সর্ববৃহৎ দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা মহড়া দেখার জন্য তিনি রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফাইরিং রেঞ্জে পৌঁছেছেন এবং দুই দেশের সেনাদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে দেখতে উন্মুখ।

মহড়া পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, মহাজন ফিল্ড ফাইরিং রেঞ্জে মার্কিন ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, আস্থা, প্রস্তুতি, আন্তঃকার্যক্ষমতা ও যৌথ উদ্দেশ্যকে আরও মজবুত ও সুদৃঢ় করবে।


কানাডা থেকে বিতাড়িত ৩ শতাধিক বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কানাডায় অবৈধভাবে অবস্থারত বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে দেশটির বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি থেকে ৩৪০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের এই প্রক্রিয়ায় রয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি। কানাডীয় সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হিসাবটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

সিবিএস এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ৮৯৭ বিদেশি নাগরিকের বহিষ্কার করা হয়েছে। এই তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির ৪ হাজার ২২৭ জন নাগরিককে বহিষ্কার করেছে কানাডা। এরপর এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০, হাইতির ৫৩৫ ও রোমানিয়ার ৪৩৩ জন রয়েছেন। ৩৪০ জন নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

অপসারণের কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল অভিবাসন আইন না মানার ঘটনা। আর এই কারণেই আশ্রয়ের আবেদন করা সত্ত্বেও ১২ হাজার ৫ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সিবিএসএ।

আশ্রয়প্রার্থী নন এমন আরও ১ হাজার ৭৯৪ জনের ক্ষেত্রেও একই কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ এবং ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জনের অপসারণ হয়েছে।

বহিষ্কারণ আদেশগুলোর মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭টি ছিল ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপারচার অর্ডার এবং ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার।

এদিকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় ছিলেন মোট ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতের নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন। ১ হাজার ৩৬৮ জন নিয়ে এ তালিকায় বাংলাদেশ অষ্টম।


মিয়ানমার জান্তার বর্বর হামলা, নিহত ৫০

ছবি: রাখাইন রাজ্যে চলমান এ সহিংসতা ও তাণ্ডব
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমার জান্তার বর্বর বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এ নৃশংস বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুকারিজ বলেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান এ সহিংসতা ও তাণ্ডব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। সাম্প্রতিক বিমান হামলা সেই কঠিন বাস্তবতাকে আবারও উন্মোচিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মুখপাত্র বলেন, ‘মহাসচিব এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মিয়ানমারের সব পক্ষকে অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজ নিজ বাধ্যবাধকতা মেনে চলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা কিয়াউকতাও শহরে গত ২৮ সেপ্টেম্বরের বিমান হামলায় ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৫৮ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অং-ও প্রাণহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াই হুন অং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া নিথর মরদেহগুলোর মধ্যে নারী ও ছোট ছোট শিশুদের দেখতে পাওয়া যায়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে সামরিক জান্তার বোমা হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর, কিয়াউকতাওয়ে সোমবারের এই বিমান হামলাটিই রাখাইনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা অভিযোগ করে বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাধারণ বেসামরিক মানুষ এবং আবাসিক ভবনগুলোকে নিশানা বানিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সামরিক বাহিনীর এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের ওপর বোমা হামলায় জড়িত যে কারও বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নিতে আরাকান আর্মি সব ধরনের সামরিক কৌশল গ্রহণ করবে।

তবে এ ভয়াবহ হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে মিয়ানমার জান্তা সরকারের কোনো মুখপাত্র সাড়া দেননি। অবশ্য এর আগে একাধিকবার সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, সামরিক অভিযানে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা নাকি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে থাকে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই পুরো মিয়ানমারজুড়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা বাহিনীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরাকান আর্মিসহ একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। রক্তক্ষয়ী এই গৃহযুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে, চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মালয়েশীয় সরকার এই প্রক্রিয়াকে ‘স্বেচ্ছায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন’ দাবি করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে।


টাইমস র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা ১০০০-এ বাংলাদেশের ৪, ভারতের ৪০ বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের প্রথম ১ হাজারের মধ্যে স্থান পেয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) প্রকাশিত World University Rankings 2027-এ বাংলাদেশের অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এ তালিকায় রয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। THE জানিয়েছে, এটি তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত র‍্যাঙ্কিংগুলোর একটি।

প্রথম ১ হাজারের পরের ব্যান্ড, অর্থাৎ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো—বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিএটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

THE-এর এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে নতুন ও আরও বিস্তৃত ব্যান্ড ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান তুলনা করা হয়েছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন মূল কার্যক্রম মূল্যায়ন করে। এবারের পদ্ধতিতে ১৭টি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার পরিবেশ ও মান, গবেষণার প্রভাব, শিল্প খাতে জ্ঞান হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মতো বিষয় রয়েছে।

THE জানিয়েছে, এবারের র‍্যাঙ্কিং তৈরিতে প্রায় ২ কোটি গবেষণাপত্র, প্রায় ১০ লাখ একাডেমিক রেপুটেশন সার্ভের ভোট এবং ৩ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এবারও বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। টানা ১১তম বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।

তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। পঞ্চম ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ষষ্ঠ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সপ্তম ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অষ্টম ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং নবম স্থানে যৌথভাবে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়।

এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ১১তম অবস্থানে রয়েছে। THE-এর এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ১৫-তে স্থান পেয়েছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স যৌথভাবে ২৫৪তম অবস্থানে রয়েছে। THE-এর হিসাবে ভারত ১৪৩টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী দেশ।

অন্যদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ১ হাজারে অবস্থান এবং আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী ব্যান্ডে থাকা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের বিস্তৃতি তুলে ধরছে।


হঠাৎ সৌদি আরবে নামল ইসরায়েলগামী ফ্লাইট

সৌদি আরবে অবতরণ করা ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপ্রীতিকর ঘটনার পর ফ্লাইটটি নিরাপদে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির পাইলটরা মারামারিতে জড়িয়েছিলেন।

দুবাই থেকে রওনা দেওয়ার পর মাঝপথে ‘এফজেড ১০৭৩’ নম্বর ফ্লাইটটি ওই অপ্রীতিকর ঘটনার মুখে পড়ে। এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব যাত্রী নিরাপদে আছেন। তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম কান ও চ্যানেল টুয়েলভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝপথে উড়োজাহাজের পাইলটরা মারামারিতে জড়ান। এর জেরে ‘ডিস্ট্রেস সিগন্যাল’ বা বিপদ সংকেত চালু হয়। প্রথমে আশঙ্কা করা হয়েছিল, উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের মুখে পড়েছে। তখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দ্রুত যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে। কিন্তু পরে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নাকচ করে দেওয়া হয়।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ইসরায়েলি যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ফ্লাইটের ভেতর আসলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এয়ারলাইন্স বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যমের খবরগুলো খতিয়ে দেখছে।

সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অবতরণ করা ফ্লাইটটির পাইলট ও সহকারী পাইলট দুজনই আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাইলটদের মারামারি থামাতে যাত্রীরা এগিয়ে গিয়েছিলেন। প্রকাশিত ছবিতে এক যাত্রীর পরনে রক্তমাখা টি-শার্ট দেখা গেছে।

চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, পাইলটদের কেউ একজন উড়োজাহাজটি বিধ্বস্তের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। বিধ্বস্তের চেষ্টার সময় অপর পাইলট সম্ভবত বাধা দিয়েছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইটরাডার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মাঝপথে উড়োজাহাজটি হঠাৎ ৩৪ হাজার ফুট ওপর থেকে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।

এই ঘটনাটি ঘটল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে। এ ছাড়া, চলতি অক্টোবরে ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা। গত মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, নির্বাচনের আগে শত্রুরা হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমন মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।


মরক্কোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে এই ফাতিমা জাহরা

ছবি: ফাতিমা জাহরা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন একজন নারী। তার নাম ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি দল ‘পিএএম’ সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে যে দল সর্বোচ্চ আসন পায়, সেই দল থেকেই রাজা সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বোদেনে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

৫০ বছর বয়সি ফাতিমা জাহরা বেশ কয়েক বছর মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি তৎকালীন জোট সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। মরক্কোতে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিদ্যমান থাকলেও, দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণ মূলত রাজার হাতেই কেন্দ্রীভূত।

ফাতিমা জাহরার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একই দলের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও দেশটির ফুটবলপ্রধান ফাউজি লেকজা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাতিমা জাহরাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজা যখন জুমার নামাজ বা ঈদের জামাতে অংশ নেন, তখন নারী-পুরুষ আলাদা সারিতে বসার প্রথা থাকায় তার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না?

তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে রাজাকে ‘নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘রাজার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সরকারপ্রধান হওয়ার দায়িত্ব যদি আমাকে দেওয়া হয়, তবে তা হবে আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়।’

ফাতিমা জাহরা মরক্কোর অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনীতিক। পেশায় আইনজীবী ফাতিমা মরক্কোর রাজধানী রাবাতের মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। পরে তিনি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও করপোরেট আইনের ওপর উচ্চশিক্ষা নেন।

২০০৮ সালে পিএএম গঠিত হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে আসেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মারাকেশের মেয়র হন। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবারও সেই দায়িত্ব পান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুচের সরকারে গৃহায়ন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

অনেকে তাকে ‘লৌহমানবী’ হিসেবে অভিহিত করলেও ফাতিমা জাহরা তা নাকচ করে দিয়েছেন। ২০২১ সালে তার দলের ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেবল একজন স্বাধীন ও সচেতন কর্মী।’

মরক্কোতে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা বা সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও রাজনৈতিক জীবনে ফাতিমা জাহরাকে এসব বিষয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না।

মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলে যে দল শীর্ষে থাকে, সেই দল থেকেই রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তার দল পিএএম কোনো একক নেতার পরিবর্তে সম্মিলিত নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।

গত সপ্তাহে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ফাতিমা জাহরা বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে নাকি ফাউজি লেকজাকে বেছে নেওয়া হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো অধিকার রাজার। আগে প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অনেকটা নিয়মরক্ষার মতো। তখন দলগুলোর একজনই প্রধান থাকতেন, ফলে কে সরকারপ্রধান হবেন, তা আগে থেকেই পরিষ্কার থাকত।

মরক্কোর পার্লামেন্টে ৩৯৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৯৮টি আসনের প্রয়োজন। কিন্তু পিএএম পেয়েছে মাত্র ৯৭টি আসন। তাই সরকার গঠনের জন্য তাদের অন্য দলের সঙ্গে জোট গড়তে হবে।

দলটি কাদের সঙ্গে জোট করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, আগের সরকারের প্রধান দল ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের সঙ্গে পিএএমের সম্পর্ক এখন আর ভালো নেই। অথচ সেই সরকারে পিএএম ছিল শরিক দল।


হাসপাতালে ভর্তি মাহাথির মোহাম্মদ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর এক দিন পরেই শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ (১০১)। মাহাথিরের সহকারী সুফি ইউসুফ এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে ৭ দশকের সংসারজীবন শেষে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পরলোক গমন করেন সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। স্ত্রীর মৃত্যুর একদিন পরেই হাসপাতালে ভর্তি হলেন মাহাথির।

সুফি ইউসুফ জানান, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে মাহাথির মোহাম্মদকে।

উল্লেখ্য, দুই মেয়াদে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা থাকা মাহাথিরের হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। অতীতে তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে; সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

এএফপিকে সুফি বলেন, ‘ডাক্তারি পরীক্ষায় তার দেহে নির্দিষ্ট কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। সোমবার স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারছিলেন না। মঙ্গলবার তিনি ক্লান্তি ও অসুস্থতা বোধ করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।’

সুফি আরও বলেন, ‘মানসিক টানাপোড়েন, গরম আবহাওয়া এবং বিশ্রামের অভাব—সব মিলিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ১০১ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এসব বিষয় মোটেও ভালো নয়।’

পেশায় চিকিৎসক ও মালয়েশিয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিষেবার মুখ্য প্রবক্তা সিতি হাসমাহ ১০০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই দম্পতির সাত জন সন্তান রয়েছেন।

স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন মাহাথির। সিতি হাসমাহর শেষকৃত্যের সময় মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দার উপস্থিত ছিলেন। মাহাথিরের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজাকে অশ্রুসজল চোখে মাহাথির বলছেন, ‘আমি তার মৃত্যু প্রত্যাশা করিনি।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথির শপথ নেন ১৯৮১ সালে। তারপর প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে একনাগাড়ে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তারপর ৯২ বছর বয়সে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।


হরমুজ ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথটি পুনরায় চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দু’পক্ষই।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় তৈরি হওয়া নতুন প্রস্তাব ও ধারণাগুলো কাতারি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

‘পরমাণু প্রশ্নে কিছুটা নমনীয় তেহরান’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। একাধিক পরোক্ষ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এসব আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে। তবে কোন পক্ষ আগে পদক্ষেপ নেবে–তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

শর্ত পূরণ হলে হরমুজ খোলার অঙ্গীকার

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। শর্ত অনুযায়ী, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ বন্ধসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের সমন্বিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে হবে এবং তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। এ ছাড়া ইরানি বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে। পাঁচ দিনের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। এরপর সপ্তম দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচিসহ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হতে পারে।

ছাড় দেওয়ার খবর অস্বীকার ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরানকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান বিপদে পড়েছে বলেই হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। অন্যদিকে সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে নয়। তবে সার্বভৌমত্বের জন্য লড়তে তারা প্রস্তুত আছে।

সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্র গতিতে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।

‘ইরান না পারলে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না’

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের অন্য কাউকেই তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‘দুই পক্ষই অনড় থাকলে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম’

মধ্যপ্রাচ্যে গত সাত মাসের এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে হুতিরা। সম্প্রতি গোষ্ঠিটি লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজ ও সৌদি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে শুরু করেছে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে অনড় থাকে এবং তেহরান যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে অটল থাকে, তবে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম।

হরমুজ থেকে ৫০০ কিমি দূরে সরে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর

হরমুজ প্রণালীতে এতদিন যেসব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিয়ে বেড়াত, সেগুলো দূরে সরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রণালীর মুখ থেকে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো। গতকাল বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনালে হোসেনইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর পুরো হরমুজ প্রণালী এবং প্রণালীর আশপাশে নিয়মিত ৩০-৪০টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিয়ে বেড়াত। কিন্তু সম্প্রতি এই কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথে কিংবা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে একটিও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো প্রণালীর মুখ থেকে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হুমকিগুলো আসলে একটি দৃশ্যমান পরাজয়কে বিজয় হিসেবে তুলে ধরারই অপচেষ্টা মাত্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সাংগঠনিক কাঠামো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই।’

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ওয়াশিংটন পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে যখন ইরান বার বার চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে, ঠিক সে সময়েই এ বিবৃতি দিলেন আইআরজিসির মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালীর একপাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমান অবস্থিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ  শিগগিরই শেষ হবে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন সামরিক অভিযানকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টায় মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরাই জিতব’ এবং পুরো বিষয়টি খুব দ্রুত শেষ হবে। যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আলোচনায় ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের একটি পরিকল্পনা সংশোধিত আকারে সামনে আসতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ ও শত্রুতা বন্ধ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এর আগে তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

অন্যদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ট্রাম্পকে ‘বড় মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে যুদ্ধ থেকে সরে যাওয়ার আগে পরাজয় স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালু হয়েছে—এমন মার্কিন দাবি সঠিক নয়। সংগঠনটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা সত্ত্বেও ইরান এখনো প্রণালীকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছে।

এদিকে সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধের চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সেগুলো পরে ভেঙে যায়।


ইরাকের তেল বিক্রির টাকা যাচ্ছে মার্কিন ব্যাংকে

ইরাকের একটি তেল শোধনাগার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শেষ মার্কিন সেনা সরে গেছে। ইরান এবং ইরানের মিত্রদের কাছে এই ঘটনা এক ধরনের বিজয়। কারণ, ইরাকে তাদের গভীর প্রভাব রয়েছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন চালানোর পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে কয়েক লাখ ইরাকি এবং মাত্র প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসনের পর থেকেই দেশটির তেল বিক্রি থেকে পাওয়া ডলারের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটন অসাধারণ মাত্রার প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। এর প্রভাব ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণেও পড়েছে।

এর মূল ভিত্তি হলো নিউইয়র্কে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের তেল থেকে পাওয়া অর্থ পরিচালনা করা। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রোভিশনাল অথরিটি (সিপিএ) ইরাকের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক (ডিএফআই) নামে একটি তহবিল গঠন করে। এই তহবিল রাখা হয় নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ সংগ্রহ করা এবং তা পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা।

এই তহবিলের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল-সংক্রান্ত মামলা, ঋণদাতাদের দাবি এবং অন্যান্য আইনি দাবির হাত থেকে ইরাকের তেল রাজস্ব সুরক্ষা দেওয়া। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই নির্বাহী আদেশ নবায়ন করে আসছেন।

পরে ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে থাকা ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সিবিআই) একটি হিসাবে পরিণত হয়। আজও সেই ব্যবস্থাই বহাল রয়েছে।

ইরাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস হলো তেল। দেশটির রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে তেল থেকে। ফলে ইরাকের তেল রাজস্ব ও ডলার প্রবাহের ওপর প্রভাব রাখার মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

২০২০ সালে ইরাকি সরকার যখন ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল, তখন ওয়াশিংটন ইরাককে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে থাকা অর্থে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বাগদাদ সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে।

অধিকৃত ইরাকের প্রথম দিকের বছরগুলোর তুলনায় এখন ইরাক তার নিজস্ব আর্থিক বিষয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপরও এই আর্থিক সংযোগটি দেখিয়ে দেয় যে, ইরাক তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনও রয়ে গেছে।

ইরাকি সরকারি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেছেন, এই ব্যবস্থা ইরাকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে।

প্রথমত, এটি ইরাকের তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, এটি ইরাককে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন ডলার সংগ্রহে তুলনামূলক সহজ প্রবেশাধিকার দেয়। তৃতীয়ত, এটি ঋণদাতাদের দাবি, মামলা-মোকদ্দমা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ধাক্কা থেকে ইরাকের তেল রাজস্বকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও বেড়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ দশমিক ৬ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে এই আর্থিক ব্যবস্থা ইরাকের মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং দেশটির অর্থনীতির ওপর আস্থা ধরে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি ইরাকের নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও সহায়তা করে।


চীনের আকাশপথ ব্যবহার করতে চায় ভারত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের আকাশসীমা প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় বিমানগুলো এখন চীনের হোটান এলাকার আকাশপথ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু।

রাম মোহন বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছে। শেষ পর্যন্ত কতটা এগোয়, তা দেখা যাক।’

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার দুই দিন পর পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর ছয় দিন পর ভারতও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। তখন থেকে ভারতীয় বিমানগুলোকে ইউরোপে যেতে-আসতে ঘুরপথ ধরতে হচ্ছে। ফলে সময়ও বেশি লাগছে, জ্বালানি খরচও বেড়ে গেছে।

পাকিস্তান সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকায় এই নিষেধাজ্ঞা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে ভারত চীনের সিনকিয়াং প্রদেশের দিকে নজর দিয়েছে। সিনকিয়াং চীনের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ। উইঘুর মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলটি আটটি দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করেছে। মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত। হোটান সেই প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি মরূদ্যান শহর। প্রাচীন সিল্ক রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এটি।

হিন্দুস্তান টাইমস বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক মানচিত্র প্রকাশ করে দেখিয়েছে, দিল্লি থেকে পাকিস্তান এড়িয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল যেতে সময় লাগছে ৭ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করা গেলে তা কমে দাঁড়াত ৬ ঘণ্টা ৭ মিনিট। হোটানের পথ ব্যবহারের অনুমতি পেলে সময় ও খরচ দুটোই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারাই প্রথম সরকারকে অনুরোধ করেছিল চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে। তাদের হিসাবে, নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ কোটি ডলার। হোটান হয়ে উড়াল চালানো গেলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ রুপি সাশ্রয় হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। এই বাড়তি খরচের চাপেই নিউইয়র্ক ও ভ্যাঙ্কুভার থেকে দিল্লির উড়াল ১৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে। দিল্লি-ওয়াশিংটন রুট বন্ধও করে দিতে হয়েছে।

তবে প্রস্তাব বাস্তবায়ন সহজ নয়। হোটান দিয়ে যেতে হলে ভারতীয় বিমানগুলোকে লাদাখের লেহ হয়ে চীনের আকাশে ঢুকতে হবে। তারপর হোটানের ওপর দিয়ে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশ করতে হবে। এলাকাটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু পর্বতশ্রেণির ওপর অবস্থিত। জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে নামতে হবে উরুমচি বা কাশগরে। সিনকিয়াং চীনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল। একাধিক দেশের সঙ্গে সীমান্ত এবং উইঘুর অধ্যুষিত হওয়ায় চীন এখানকার নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় সতর্ক থাকে।

তবু ভারতের কিছু মহল আশাবাদী। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের পরও দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বাণিজ্যিক স্বার্থে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গত বছর অক্টোবরে ইন্ডিগো কলকাতা-গুয়াংজু সরাসরি উড়াল চালু করে। নভেম্বরে দিল্লি-গুয়াংজু রুট শুরু হয়। এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ছয় বছর পর দিল্লি-সাংহাই উড়াল পুনরায় চালু করেছে। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনের আগে চীনের চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্সও গুয়াংজু-দিল্লি সরাসরি সেবা শুরু করার কথা জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, প্রায় এক বছর ধরে হোটানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ভারত। এ নিয়ে উভয় পক্ষই এখন গঠনমূলক আলোচনা করছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় ভারত-চীন সম্পর্ক এখন বেশ ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘২০২৪ বা ২০২৫ সালের চেয়ে বর্তমান সম্পর্ক অনেক ভালো। মূলত সম্পর্কের এই উন্নতির ওপর ভিত্তি করেই হোটান প্রস্তাব বাস্তবায়নে আশাবাদী হয়ে উঠছে নয়াদিল্লি।’


সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের প্রত্যক্ষ উপস্থিতির সমাপ্তি টেনে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বাহিনীর এই সেনা সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সৈন্যদের চূড়ান্ত বিদায়ের ফলে দেশটিতে নতুন করে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি এবং উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।

তেহরান ও তাদের আঞ্চলিক অক্ষ এই দীর্ঘ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তিকে নিজেদের বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে এ সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখা নির্ধারিত হলেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সিদ্ধান্তটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করল। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগেই পরবর্তীতে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থান ঘটেছিল।

এর আগে ২০১১ সালের শেষ দিকে প্রথম দফায় ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল ওয়াশিংটন। তবে আইএসের তাণ্ডবে তিন বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে ২০১৪ সালে পুনরায় দেশটিতে ফিরে আসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসবিরোধী যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দেয়। দীর্ঘ এই যুদ্ধে আফগানিস্তানের চেয়েও দ্বিগুণ প্রাণহানির শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; ইরাক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এমনকি চলতি বছরেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নিহত ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে সাতজনই ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন, যার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল গত জুলাইয়ে এরবিলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে।

সাধারণ ইরাকিদের মাঝে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক সাড়া ফেললেও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মার্কিন সহায়তা ছাড়া স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এককভাবে উগ্রপন্থী হুমকি ও মিলিশিয়াদের দৌরাত্ম্য কতটা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। কারণ অতীতের ইতিহাস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইরাকের মতো ভূকৌশলগত অঞ্চলে হঠাৎ তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা চরম বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।


মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। দেশটির সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সর্বোচ্চ আসন পাওয়ায় বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাঁকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিউনিসিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজলা বুদেনের পর এল মানসুরি হলেন সমগ্র আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান।

৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি পেশায় একজন অভিজ্ঞ করপোরেট আইনজীবী। রাজধানী রাবাতের মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি দলটির সক্রিয় নেতৃত্বে রয়েছেন এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে ঐতিহাসিক মারাকেশ শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের নির্বাচনের পর দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেন।

মরক্কোয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের কাঠামোর অধীনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা বাদশাহর হাতে থাকলেও সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল থেকেই সরকারপ্রধান মনোনীত করা হয়। তবে ৩৯৫ আসনের মরক্কোর পার্লামেন্টে পিএএম এককভাবে ৯৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের চেয়ে অনেক কম। বিদায়ী সরকারের প্রধান শরিক দল ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে পিএএমের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে নতুন জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমঝোতা ও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বে ইসলামপন্থী দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবারের নির্বাচনে ৫৪টি আসন পেয়ে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেছে, যা আগের নির্বাচনে ছিল মাত্র ১৩টি। তবে দলটির নেতা স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা নতুন সরকারে অংশ নেবেন না এবং সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন। এমন ত্রিমুখী রাজনৈতিক সমীকরণ ও জোট গঠনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়েই মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মন্ত্রিসভা সাজাতে হবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে।


banner close